শিরোনাম
সাড়ে ১১ ঘণ্টা পর সেই বহুতল ভবনের আগুন নিয়ন্ত্রণে
ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আগানগর এলাকায় ‘জাবালে নূর টাওয়ার’ নামে একটি ১০ তলা আবাসিক ভবনে আগুন লেগে পুড়ে গেছে বেইজমেন্টে থাকা কাপড় ও ঝুট।
শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) ভোর ৫টার দিকে আগুনের ধোঁয়ায় ঘুম ভাঙে ভবনের ২য় তলা থেকে ৮ম তলায় থাকা লোকজনের। কিছু বুঝে ওঠার আগে ধোঁয়ার কুণ্ডলী ছড়িয়ে পড়ে ভবনের সব কামরায়। ছেলে মেয়ে আর নিজেরা তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে অনেকেই আটকা পড়ে ভবনে।
খবর পেয়ে আগুন নেভাতে প্রথমে কেরানীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস এরপর পোস্তগোলা ও সদরঘাট ফায়ার সার্ভিস যোগ দেয়। তবে আগুনের পরিমাণ সামাল দিতে না পেরে মোট ২০টি ইউনিট যুক্ত হয়। প্রায় সাড়ে ১১ ঘণ্টা পরে আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। এ সময়ভবনটির ভেতরে আটকা পড়া ৪৫ জনকে উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস। আগুনে ভবনটির বেসমেন্টের গোডাউনে থাকা কয়েক লক্ষাধিক টাকার ঝুট ও শীতের জন্য আমদানি করা কাপড় পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
ভবনে বসবাসকারী বাসিন্দাদের অভিযোগ, আবাসিক ভবন হলেও এটাকে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। কোনো ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না।
আগুনের খবরে ছুটে আসা কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উমর ফারুক বলেন, ‘ভবনটি রাজউকের অনুমোদন আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হবে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।’
ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন ও মেনটেনেন্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী আগুনের বিষয়ে শনিবার বিকেলে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আগুনটা আমাদের নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় সাড়ে এগারো ঘণ্টা লেগেছে। নিয়ন্ত্রণে এলেও আমাদের এই আগুনটা পুরোপুরি নির্বাপনে আমাদের আগামীকাল পর্যন্ত সময় লাগবে। কারণ ভবনে থাকা মালামাল গুলো ধাপে ধাপে বের করা হচ্ছে। এটা বের করা হলেই আস্তে আস্তে আগুনের তাপমাত্রা কমতে থাকবে কারণ এখানে কাটার দিয়ে কেটে কেটে ওপেন করে আমাদের কাজ করতে হচ্ছে। যখনই শাটার খোলা হচ্ছে তখনই কালো ধোঁয়া আসছে, সুতরাং পুরা এরিয়াটাই আচ্ছন্ন হয়ে যায়। বেইসমেন্ট ও গ্রাউন্ড ফ্লোরের আগুন প্রায় নিয়ন্ত্রণে। আশা করছি আর বড় কোনো দুর্যোগ ঘটবে না।’
কিভাবে আগুন লাগলো ও হতাহত আছে কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা আগুন লাগার কারণ খুঁজে বের করতে পারিনি। আগুনের ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আগুন নির্বাপন আমাদের প্রথম প্রায়োরিটি, যেহেতু নিয়ন্ত্রণ হয়েছে; আগুন লাগার কারণ তদন্ত করে বলতে পারব। ভবনটিতে আমরা নোটিশ দিয়ে গিয়েছে অফিশিয়ালি দুইবার এবং আলাদা করে প্রায় পাঁচবার বলে এসেছি। মালিকের সঙ্গে দেখা করে তখন নোটিশ করা হয়েছিল। সে সময় ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ বলা হয়েছিল। এই ভবনটি অপরিকল্পিতভাবে তোলা হয়েছে। এটি অনেক আগের ভবন। অতএব আমরা বলতে পারি এটি সব দিক থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ একটি ভবন।’
বর্তমানে ভবনটি বসবাসের উপযোগী কি না এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক জানান, আগুনের তাপে এটি অতিমাত্রায় গরম হয়ে যাওয়ায় এটি বসবাসের উপযোগী কি না তা ইঞ্জিনিয়ার দ্বারা পরীক্ষা করানোর পর বোঝা যাবে।
আগুন নিভাতে সময় লাগার কারণ কি প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ভবনটিতে প্রচুর পরিমাণ ঝুট ও শীতের কাপড় থাকায় এগুলো সরাতে গেলে বারবার আগুন জ্বলে উঠছে ও কালো ধোয়া সৃষ্টি করছে। এজন্য আগুন নিভাতে আরও সময় প্রয়োজন। ভবনটির পাশে আরও ১০তলা ১টি, ২টি পাঁচতলা ও ১টি তিনতলা ভবনসহ ৭টি ভবনের বেইজমেন্ট একসঙ্গে তাই এই আগুন পুরোপুরি নেভাতে সময় লাগছে। অর্থাৎ রোববার পর্যন্ত সময় লাগবে।
গুলিবিদ্ধ হাদি, হামলাকারীদের ধরতে কড়া নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার
রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদি দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।
পাশাপাশি, হাদির ওপর হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) বিকালে এক বিবৃতিতে এ নির্দেশনা দেন প্রধান উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, নির্বাচনি পরিবেশে এমন সহিংস হামলা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য এবং দেশের শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক অঙ্গনের জন্য এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা।
এ সময় আহত ওসমান হাদির সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
এছাড়াও চিকিৎসা কার্যক্রম নিবিড়ভাবে তদারকি করার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন ড. ইউনূস।
একই সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দ্রুত ও ব্যাপক তদন্ত চালিয়ে হামলায় জড়িত সবাইকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ, প্রত্যক্ষদর্শীর তথ্য গ্রহণ, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা এবং হামলার পেছনে কোনো সংগঠিত পরিকল্পনা থাকলে তা উন্মোচনের জন্য তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিতে বলেছেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে কোনো ধরনের সহিংসতা বরদাশত করা হবে না। জনগণের নিরাপত্তা এবং প্রার্থীদের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। দোষীরা যে-ই হোক, আইনের আওতায় আনা হবে।’
তিনি এ সময় দেশের সব রাজনৈতিক পক্ষ, কর্মী-সমর্থক এবং নাগরিকদের প্রতি শান্তি ও সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানান, যাতে আসন্ন নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, অংশগ্রহণমূলক ও নিরাপদ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হতে পারে।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরের দিকে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ১৩ নভেম্বর হত্যার হুমকি পেয়েছেন বলে অভিযোগ করেছিলেন ওসমান হাদী। তার মোবাইল নম্বরে বিদেশি নম্বর থেকে কল করে ও টেক্সট দিয়ে এসব হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।
ওইদিন রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে ওসমান হাদী লেখেন, গত তিন ঘণ্টায় আমার নম্বরে লীগের খুনিরা অন্তত ৩০টি বিদেশি নম্বর থেকে কল ও টেক্সট করেছে।
তিনি লেখেন, যার সামারি হলো—আমাকে সর্বক্ষণ নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। তারা আমার বাড়িতে আগুন দেবে। আমার মা, বোন ও স্ত্রীকে ধর্ষণ করবে। এবং আমাকে হত্যা করবে।
তিনি আরও লেখেন, ১৭ তারিখ খুনি হাসিনার রায় হবে। ১৪০০ শহীদের রক্তের ঋণ মেটাতে কেবল আমার বাড়ি-ঘর না, যদি আমাকেও জ্বালিয়ে দেওয়া হয়, ইনসাফের এই লড়াই হতে আমি এক চুলও নড়ব না, ইনশাআল্লাহ।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র লেখেন, এক আবরারকে হত্যার মধ্য দিয়ে হাজারো আবরার জন্মেছে এদেশে। এক হাদীকে হত্যা করা হলে তাওহিদের এই জমিনে আল্লাহ লক্ষ হাদী তৈরি করে দেবেন। স্বাধীনতার এই ক্রুদ্ধ স্বরকে কোনোদিন রুদ্ধ করা যাবে না।
তিনি লেখেন, লড়াইয়ের ময়দানে আমি আমার আল্লাহর কাছে আরও সাহস ও শক্তি চাই। আরশওয়ালার কাছে আমি হাসিমুখে শহিদি মৃত্যু চাই।
পরিশেষে হাদী লেখেন, আমার পরিবার ও আমার কলিজার সহযোদ্ধাদের আল্লাহতায়ালার কুদরতি কদমে সোপর্দ করলাম। শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত আমাদের লড়াই চলবে। হাসবিয়াল্লাহ।
মেগা প্রকল্প মানেই মেগা দুর্নীতি, বিএনপি মেগা প্রকল্পে যাবে না : তারেক রহমান
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আমাদের দল ক্ষমতায় গেলে কোনো মেগা প্রকল্প হাতে নেওয়া হবে না, কারণ অতীতে দেখা গেছে, মেগা প্রকল্প মানেই মেগা দুর্নীতি। রাষ্ট্রের অর্থ জনগণের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানবাধিকার উন্নয়নে ব্যয় করাই হবে বিএনপির লক্ষ্য।
বুধবার (১০ ডিসেম্বর) বিকেলে ঢাকার ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে লন্ডন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে যুবদল ও কৃষক দলের নেতারা অংশ নেন।
তারেক রহমান বলেন, বিগত স্বৈরাচারের সময়ে উন্নয়নের নামে বহু অবকাঠামো হয়েছে। আইটি পার্কের নামে অনেক স্থাপনা হয়েছে—কিন্তু সেগুলো এখন বিয়ে–শাদির অনুষ্ঠানের স্থানে পরিণত হয়েছে। উদ্দেশ্য সফল হয়নি। বিএনপির নতুন কোনো আইটি পার্ক করার পরিকল্পনা নেই। আমরা চাই বিদ্যমান স্থাপনাগুলো সংস্কার করে প্রকৃত তরুণ উদ্ভাবকদের সুযোগ করে দিতে।
তিনি বলেন, মানুষ জানতে চায় বিএনপি কী করবে। আমরা সবচেয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরেছি। পরিকল্পনার ৪০ শতাংশও বাস্তবায়ন করতে পারলে দেশের বড় পরিবর্তন হবে।
নির্বাচন সামনে রেখে দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, দেশ রক্ষার জন্য আগামী নির্বাচনে ধানের শীষকে জেতাতেই হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। নো কম্প্রোমাইজ। বিএনপি সব সময় দেশকে রক্ষা করেছে। এবারও দায়িত্ব আমাদের কাঁধে। এজন্য এখনই মাঠে নামতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রুহুল কবির রিজভী, সঞ্চালনা করেন যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল।
পদত্যাগের পর আসিফ ও মাহফুজকে যা বললেন প্রধান উপদেষ্টা
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন যুব ও ক্রীড়া, সমবায়, স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। এ সময় তাদেরকেপ্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার সবসময় তোমাদের অবদান স্মরণ করবে। তোমাদের সুন্দর ও শুভ ভবিষ্যৎ কামনা করি। এত অল্প সময়ে তোমরা জাতিকে যা দিয়েছ তা জাতি কখনো ভুলবে না। এটি একটি রূপান্তর মাত্র। আগামীতে বৃহত্তর পরিমণ্ডলে তোমরা আরও বড় অবদান রাখবে।
বুধবার (১০ ডিসেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় দুই ছাত্র উপদেষ্টার পদত্যাগপত্র গ্রহণের সময় এ কথা বলেন তিনি। এক বিজ্ঞপ্তিতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এই তথ্য জানায়।
প্রধান উপদেষ্টা তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়ে তোমরা যেভাবে জাতিকে ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে মুক্তির পথে অবদান রেখেছ তা জাতি মনে রাখবে। আমি বিশ্বাস করি ভবিষ্যতেও গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও বিকাশে তোমরা একইভাবে সক্রিয় ভূমিকা রাখবে। সরকারে থেকে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছ, তা ভবিষ্যৎ জীবনে অবশ্যই কাজে লাগাতে হবে।
প্রসঙ্গত, বুধবার বিকেল ৫টার দিকে প্রধান উপদেষ্টার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন আসিফ মাহমুদ ও মাহফুজ আলম। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে এই পদত্যাগপত্র কার্যকর হবে বলে জানায় প্রেস উইং।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য