ঢাকা, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬ ৬ চৈত্র ১৪৩৩
 
শিরোনাম

বছরে সাশ্রয় হবে ৪২০ কোটি টাকা

অনলাইন ডেস্ক
১০ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০:১০
অনলাইন ডেস্ক
বছরে সাশ্রয় হবে ৪২০ কোটি টাকা

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেছেন, সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কম শুল্কে বেশ কয়েকটি সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পের শুল্ক প্রস্তাব অনুমোদন করার পর বছরে প্রায় ৪২০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে বলে আশা করছে সরকার।

মঙ্গলবার (০৯ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকের পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ সভায় সভাপতিত্ব করেন।

উপদেষ্টা বলেন, ‘পূর্বের চুক্তিগুলো বাতিল করা হয়েছিল কারণ মূল্য অতিরিক্ত ধরা হয়েছিল। যেকারনে সরকার একটি স্বচ্ছ পদ্ধতিতে সেগুলোর পুনঃদরপত্রের আহ্বান করেছে।’

বিদ্যুৎ উপদেষ্টা বলেন, ‘১২টি প্রকল্পের প্রতিটিতেই আমরা আগের তুলনায় প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম দুই থেকে তিন সেন্ট কম দরে পেয়েছি। শুধু এই কারণেই বছরে ৪২০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।’

তিনি বলেন, আমদানি করা এলএনজির ওপর নির্ভরতা আর্থিকভাবে বোঝা হয়ে দাঁড়াচ্ছে, তাই বাংলাদেশকে অবশ্যই ধীরে ধীরে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে যেতে হবে।

তিনি অভিযোগ করেন, সৌর খাতে পূর্বের অনিয়মের সাথে জড়িত সুবিধাভোগী মহল এই পরিবর্তনে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে।

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় সৌর প্রকল্পের অতীতের দুর্নীতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পূর্বে সরবরাহ করা সৌর প্যানেলগুলো প্রায়শই মাঠ পর্যায়ে খুঁজে পাওয়া যেত না।

উপদেষ্টা বলেন, ‘যারা আগে দুর্নীতির মাধ্যমে লাভবান হয়েছিল, তারা এখন উন্মুক্ত দরপত্রে অংশগ্রহণ থেকে দরদাতাদের নিরুৎসাহিত করছে। এ কারনে কিছু ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত দরপত্র পাওয়া যায়নি।’

সরকারের রুফটপ সোলার প্রকল্পের উদাহরণ দিয়ে ফাওজুল কবির খান বলেন, ‘বিদ্যুৎ খাতের সবাই সহযোগিতা করছে না।’

তিনি বলেন, বেশিরভাগ সংস্থায় দরপত্র জমা পড়লেও পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডে (আরইবি) কোনো দরপত্র জমা পড়েনি বলে জানা গেছে। অভিযোগ উঠেছে, মাঠ পর্যায়ে অংশগ্রহণকে নিরুৎসাহিত করার জন্য অতিরিক্ত শর্ত আরোপ করা হয়েছে-যেমন বাধ্যতামূলক ট্রান্সফরমার স্থাপন।

তিনি সম্প্রতি বরিশাল সফরের সময় দেখেছেন যে ওয়েস্টার্ন জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি তার প্রকল্পের জন্য দরপত্র পেয়েছে, কিন্তু স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলো পায়নি।

তিনি বলেন, নবায়নযোগ্য উদ্যোগে বাধা সৃষ্টিকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আরইবি চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা একটি দুর্নীতিগ্রস্ত প্রক্রিয়া থেকে দুর্নীতিমুক্ত প্রক্রিয়ার দিকে যাচ্ছি। এই পরিবর্তনে যেকোনো বাধা অবশ্যই মোকাবেলা করতে হবে।’

ফাওজুল কবির খান জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের জ্বালানির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে নবায়নযোগ্য জ্বালানি দ্রুত সম্প্রসারণের ওপর। কারণ দেশে বৃহৎ আকারের এলএনজি আমদানি চালিয়ে যাওয়ার মতো আর্থিক সক্ষমতা নেই।

অনুমোদিত প্রস্তাবগুলোর মধ্যে ১০ মেগাওয়াট থেকে ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার এক ডজনেরও বেশি গ্রিড-সংযুক্ত সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের শুল্ক প্রস্তাব এবং একটি ২১০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড-সাইকেল প্ল্যান্টের সংশোধিত শুল্ক অন্তর্ভুক্ত ছিল।

সরকারি নথি অনুযায়ী সরকারের নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিপিডিবি কর্তৃক দাখিল করা ফটিকছড়ি, পাবনা, নোয়াখালী, হাটাজারী, মৌলভীবাজার, চকরিয়া, নীলফামারী, রামু, বিবিয়ানা, মংলা এবং হেমায়েতপুরের সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রস্তাবগুলো কমিটি বিবেচনা করেছে।

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ

    অনলাইন ডেস্ক
    ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ ২০:২৯
    অনলাইন ডেস্ক
    জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ

    জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন সকলের অবগতির জন্য প্রকাশ করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (০৯ ডিসেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    ৮ খণ্ডের এই প্রতিবেদনে কমিশনের সুপারিশ, জুলাই জাতীয় সনদ ছাড়াও ঐকমত্য গঠন প্রক্রিয়ার সময় রাজনৈতিক দল ও জোটসমূহের দেওয়া মতামত, দল ও জোটসমূহের সাথে আলোচনার সারসংক্ষেপ, কমিশনের অন্যান্য নথিপত্র এবং কমিশনের করা জনমত জরিপের ফলাফল রয়েছে। প্রতিবেদনের সবগুলো খণ্ড ওয়েব পেইজে দেয়া হয়েছে।

    জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ছাড়াও এর আগে ও পরে গঠিত মোট ১১টি সংস্কার কমিশনের সকল প্রতিবেদনও এই ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

    প্রসঙ্গত, প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর গত বছরের অক্টোবর মাসে এবং পরবর্তী বিভিন্ন সময়ে সর্বমোট ১১টি সংস্কার কমিশন গঠন করে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে গঠিত ৬টি সংস্কার কমিশনের কার্যক্রমের সমাপ্তিলগ্নে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সভাপতি এবং সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান প্রফেসর আলী রীয়াজকে সহ-সভাপতি করে গঠন করা হয় জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। অপর ৫টি কমিশনের প্রধানদেরকে এই কমিশনের সদস্য হিসেবে রাখা হয়। যদিও পরবর্তী সময়ে বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন ও জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রধানগণের অপারগতার কারণে দুই কমিশনের দুজন জ্যেষ্ঠ সদস্যকে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরুর পর রাজনৈতিক দলসমূহ ও নাগরিক সমাজের সঙ্গে বিভিন্ন ধাপের ধারাবাহিক আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে গত ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে চূড়ান্ত করা হয় জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫। এরপর গত ১৭ অক্টোবর রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণে আনুষ্ঠানিকভাবে জুলাই সনদ স্বাক্ষরিত হয়। ইতোমধ্যেই জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশের আলোকে সরকার জুলাই ‘জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন (সংবিধান) আদেশ’ জারি করেছে।

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      এসেছেন যুক্তরাজ্যের চিকিৎসক বিল

      খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য বিষয়ে নিয়ে দুপুরে ব্রিফ

      অনলাইন ডেস্ক
      ৪ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:২৯
      অনলাইন ডেস্ক
      খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য বিষয়ে নিয়ে দুপুরে ব্রিফ

      রাজধানীর বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে এসেছেন যুক্তরাজ্যের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রিচার্ড বিল।

      বৃহস্প‌তিবার (৪ ডি‌সেম্বর) বেলা ১১টায় এভারকেয়ার হাসপাতালে প্রবেশ ক‌রেন রিচার্ড। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, যুক্তরাজ্যের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রিচার্ড বিল বর্তমানে এভারকেয়ার হাসপাতালে র‌য়ে‌ছেন। তি‌নি খালেদা জিয়ার সর্বশেষ পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রতিবেদনগুলো দেখেছেন।

      তিনি আরো জানান, খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের সর্বশেষ খবর জানাতে দুপুর সা‌ড়ে ১২টায় হাসপাতালের সামনে ব্রিফ করবেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

      এ‌দিকে, খালেদা জিয়াকে দেখতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে ভিড় করছেন দলীয় নেতা-কর্মীরা। সকাল থে‌কে এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে নেতা-কর্মীদের উপ‌স্থি‌তি দেখা যায়। দুপুর ১১টার পর থে‌কে হাসপাতা‌লের সাম‌নে নেতা-কর্মীদের ভিড় বাড়‌‌তে থা‌কে।

      এভারকেয়ার হাসপাতা‌লের সাম‌নে কথা হয় বিএন‌পির কর্মী মা‌হিদুল ইসলা‌মের স‌ঙ্গে। তি‌নি ব‌লেন, কু‌মিল্লা থে‌কে আস‌ছি। নেত্রীর জন‌্য খ‌ুব খারাপ লাগ‌তে‌ছিল, তাই ঢাকায় চ‌লে আস‌ছি। নেত্রী সুস্থ হ‌য়ে যা‌বে-এটাই আমা‌দের দোয়া।

      উন্নত চিকিৎসার জন্য গত জানুয়ারিতে লন্ডনে গিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। সেখানে প্রথমে হাসপাতালে, পরে ছেলে তারেক রহমানের বাসায় থেকে তিনি চিকিৎসা নেন। প্রায় চার মাস পর গত ৬ মে তিনি দেশে ফেরেন।

      গত ২৩ নভেম্বর রাতে শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরীক্ষায় ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়ায় তাকে ভর্তি করা হয়। গত রোববার ভোরের দিকে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে এসডিইউ থেকে সিসিইউতে নেওয়া হয়।

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        খালেদা জিয়াকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে প্রধান উপদেষ্টা

        অনলাইন ডেস্ক
        ৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ ২০:৩৪
        অনলাইন ডেস্ক
        খালেদা জিয়াকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে প্রধান উপদেষ্টা

        বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে গেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।বুধবার সন্ধ্যা সাতটার পর হাসপাতালে পৌঁছান তিনি।

        বিষয়টি নিশ্চিত করে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর হাসপাতালের নিচ থেকে সন্ধ্যা ৭টা ৭ মিনিটে প্রধান উপদেষ্টাকে স্বাগতম জানিয়েছেন। প্রধান উপদেষ্টাকে সরাসরি চেয়ারপারসনের কাছে নিয়ে গেছেন অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন ও অধ্যাপক ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদার।

        সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার আগমন উপলক্ষে হাসপাতাল এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ), প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তা জোরদার করেন। এ সময় কাঁটাতারের ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলা হয় হাসপাতালের প্রধান ফটক।

        এর আগে গতকাল (২ ডিসেম্বর) রাত আটটার পর খালেদা জিয়াকে দেখতে তিন বাহিনীর প্রধানরা এভারকেয়ারে গিয়েছিলেন। তারা মেডিকেল বোর্ড সদস্যদের কাছ থেকে বিএনপি চেয়ারপারসনের স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন এবং রাত ৯টা ২০ মিনিটে হাসপাতাল থেকে বিদায় নেন।

        ৭৯ বছর বয়সী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস, কিডনির জটিলতাসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে গত ২৩ নভেম্বর দ্রুত তাঁকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা জানান, তাঁর হৃদ্‌যন্ত্র ও ফুসফুসে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে।

        চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন তার শারীরিক অবস্থা ‘সপ্রয়োজন। লন্ডন থেকে বড় ছেলে তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছে। এছাড়া হাসপাতালে খালেদা জিয়ার পাশেই রয়েছেন ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শর্মিলা রহমান সিঁথি।

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য

          গুম-খুনের মামলা

          দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে এই বিচার নয় : চিফ প্রসিকিউটর

          অনলাইন ডেস্ক
          ৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১৭:৫৯
          অনলাইন ডেস্ক
          দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে এই বিচার নয় : চিফ প্রসিকিউটর

          আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে র‍্যাবের টিএফআই সেলে বিরোধী মতাদর্শের লোকদের গুম-নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের যে বিচার চলছে সেটি দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নয় বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

          বুধবার (৩ ডিসেম্বর) দুপুরে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে প্রেস ব্রিফিংয়ে গুমের মামলায় সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষে এ মন্তব্য করেন তিনি।

          চিফ প্রসিকিউটর বলেন, র‍্যাবের যেসব কর্মকর্তাকে এখানে আসামি করা হয়েছে তাদের ভার্চ্যুয়ালি শুনানির সুযোগ দিতে একটি আবেদন করেছিলেন একজন আইনজীবী। কিন্তু আদালত তা নামঞ্জুর করেছেন। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা সেনাবাহিনীর সঙ্গে এই বিচারকে মুখোমুখি করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। যা এই শুনানির সময় আমরা লক্ষ্য করেছি।

          তাজুল ইসলাম বলেন, তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত বলেছেন যে এই বিচার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নয়। আমরাও সুস্পষ্টভাবে বলেছি, এটি দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিচার নয়। কারণ, সামরিক শৃঙ্খলার বাইরে থাকা অবস্থায় আসামিরা এসব মারাত্মক অপরাধ করেছেন। তখন তারা র‍্যাবে ছিলেন। এ সব অপরাধকে মানবতাবিরোধী অপরাধ বলা হয়। সুতরাং তাদের পক্ষে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার প্রার্থনা খারিজ করেছেন আদালত।

          আদালত বলেন, আইনের দৃষ্টিতে সব নাগরিকই সমান। এছাড়া তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো গুরুতর। তাই সবাইকে সমান সুবিধা দেওয়া হবে। বিচারের সাজাপ্রাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত তারা ইনোসেন্ট বিবেচিত হবেন। কিন্তু আসামি হিসেবে অন্যরা যে ধরনের সুবিধা ভোগ করেন, এর বাইরে নতুন কিছু পাবেন না তারা।

          আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে র‍্যাবের টিএফআই সেলে বিরোধী মতাদর্শের লোকদের গুম-নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানি শেষ করেছে প্রসিকিউশন। তবে আসামিপক্ষে অব্যাহতির আবেদন করা হয়েছে। সময় চাওয়ার প্রেক্ষিতে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৪ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।

          এর আগে সকাল ১০টার পর ঢাকার সেনানিবাসের বিশেষ কারাগার থেকে বাংলাদেশ জেল-প্রিজন ভ্যান লেখা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সবুজ রঙের গাড়িতে করে গ্রেপ্তার ১০ সেনা কর্মকর্তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করে পুলিশ। তারা হলেন- র‍্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, কর্নেল কেএম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (অবসরকালীন ছুটিতে), র‍্যাবের গোয়েন্দা শাখার সাবেক পরিচালক কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম।

          পলাতকরা হলেন- সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার প্রতিরক্ষাবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদ, র‍্যাবের সাবেক ডিজি এম খুরশিদ হোসেন, র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক ব্যারিস্টার হারুন অর রশিদ ও র‍্যাবের সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মো. খায়রুল ইসলাম।

          এর আগে, ২৩ নভেম্বর এ মামলার অভিযোগ গঠন নিয়ে শুনানির জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়। ২২ অক্টোবর সেনা হেফাজতে থাকা ১০ কর্মকর্তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১।

          একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের হাজিরের জন্য সাতদিনের মধ্যে দুটি জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত তারিখে হাজির না হওয়ায় তাদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স নিয়োগ দেন আদালত। ৮ অক্টোবর এ মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। পরে অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল।

          প্রাসঙ্গিক
            মন্তব্য
            সর্বশেষ সংবাদ
              সর্বাধিক পঠিত