শিরোনাম
দিনভর উৎসবমুখর আয়োজন
আজ ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ পাঠ করবেন প্রধান উপদেষ্টা
বহুলপ্রতীক্ষিত ঐতিহাসিক ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ আনুষ্ঠানিকভাবে আজ প্রকাশ করবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে বিকাল ৫টায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ঘোষণাপত্র পাঠ করবেন। অনুষ্ঠানে সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, জুলাই শহীদপরিবারের প্রতিনিধি এবং আহত যোদ্ধারা উপস্থিত থাকবেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
পাশাপাশি জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে দিনভর থাকছে উৎসবমুখর নানা আয়োজন। অনুষ্ঠান শুরু হবে বেলা ১১টা ২০ মিনিটে। নানা অনুষ্ঠানের ধারাবাহিকতায় বিকালে ঐতিহাসিক জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করা হবে। সবশেষ আয়োজন হিসাবে রাত ৮টায় থাকছে আর্টসেল-এর গান। এই দিবস উদ্যাপনে দেশের শিশু, কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী, বয়োজ্যেষ্ঠ নারী-পুরুষ সবাইকে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
এদিকে সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করে জুলাই ঘোষণাপত্র চূড়ান্ত করেছে। ঘোষণাপত্র পাঠ অনুষ্ঠানে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), এবি পার্টিসহ ফ্যাসিবাদবিরোধী সব রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সূত্রমতে, সব দল এ অনুষ্ঠানে প্রতিনিধি পাঠাবে। তবে ঘোষণাপত্রের খসড়ায় ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের ইতিহাস যুক্ত করার জন্য সংশোধনী দিয়েছিল বিএনপি। এটি না থাকলে ঘোষণাপত্র পাঠের পর প্রতিক্রিয়া জানাবে দলটি।
জানা যায়, ঘোষণাপত্রে রয়েছে ২৬টি দফা। প্রথম ২১ দফায় মহান মুক্তিযুদ্ধসহ বাংলাদেশের মানুষের অতীতের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও গণতান্ত্রিক সংগ্রাম থেকে শুরু করে জুলাই অভ্যুত্থানের পটভূমি বর্ণনা করা হয়েছে। পরের ৫টি দফায় রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা, আওয়ামী লীগ শাসনামলে গুম-খুন, গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও সব ধরনের নির্যাতন-নিপীড়ন ও রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি লুণ্ঠনের অপরাধের দ্রুত উপযুক্ত বিচার, আইনের শাসন ও মানবাধিকার, দুর্নীতি, শোষণমুক্ত বৈষম্যহীন সমাজ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে। একটি দফায় বলা হয়েছে, ছাত্র-গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এর উপযুক্ত রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান করা হবে। যুক্তিসংগত সময়ে আয়োজিতব্য নির্বাচনে নির্বাচিত সরকারের সংস্কারকৃত সংবিধানের প্রস্তাবনায় এর উল্লেখ থাকবে এবং তফশিলে এ ঘোষণাপত্র সংযুক্ত থাকবে। এ ঘোষণাপত্র ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে কার্যকর বলে ধরে নেওয়া হবে।
তবে ঘোষণাপত্রে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের কথা উল্লেখ না থাকায় বিএনপির পক্ষ থেকে পাঠানো খসড়ায় সংশোধনী দিয়ে এদিনকে সঠিকভাবে উল্লেখ করার জন্য বলা হয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, দুদফায় অন্তর্বর্তী সরকার বিএনপিকে জুলাই ঘোষণাপত্র সংবলিত যে খসড়া দিয়েছে তাতে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চকে সঠিকভাবে উল্লেখ করা হয়নি। আমরা বলেছি, এই জাতির শুরুই হলো ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধের মধ্য দিয়ে, রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে, স্বাধীনতা অর্জনের মধ্য দিয়ে। তাকে যথাযথভাবে উপস্থাপন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবে ২৬ মার্চকে উপস্থাপন করতে চাননি, এর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছে বিএনপি। এছাড়াও রাষ্ট্রীয় এবং সাংবিধানিক স্বীকৃতি চতুর্থ তফশিলের মাধ্যমে দেওয়া হবে। জুলাই ঘোষণাপত্রের ক্ষেত্রে বিএনপি যে সংশোধনী দিয়েছে, তা মেনে না নেওয়া হলে ঘোষণাপত্র পাঠের পর পরবর্তী প্রতিক্রিয়া জানাবে বিএনপি।
এদিকে প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুকে এ বিষয়ে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। পোস্টে লেখা হয়, ছত্রিশ জুলাই-গত বছর এই দিনে পৃথিবী দেখেছিল এক অভাবনীয় গণ-অভ্যুত্থান। যার ফলে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে গিয়েছিল ফ্যাসিস্ট। বহু শহীদের রক্ত এবং যোদ্ধাদের ত্যাগের পথ ধরে পুরো বাংলাদেশ এক হয়েছিল। পথে পথে ছিল উল্লাসমুখর জনতার জোয়ার। এতে আরও বলা হয়, এক বছর পর আবার ফিরে এসেছে ছত্রিশ জুলাই। এই দিনে ঘোষিত হতে যাচ্ছে জাতির কাঙ্ক্ষিত ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’। এ উপলক্ষ্যে দিনব্যাপী আয়োজন থাকছে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউজুড়ে। আসুন আমরা সবাই পরিবার-পরিজন নিয়ে যোগ দিই ‘ছত্রিশ জুলাই’ উদ্যাপনে। ‘আমাদের ইতিহাস, আমাদের গৌরব’, লেখা হয় পোস্টে।
প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুক পোস্টে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ৫ আগস্ট ‘৩৬ জুলাই উদ্যাপন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানসূচি যুক্ত করা হয়। সূচি অনুযায়ী, অনুষ্ঠান শুরু হবে বেলা ১১টা ২০ মিনিটে। সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠীর গান দিয়ে শুরু হবে অনুষ্ঠান। এরপর পর্যায়ক্রমে কলরব শিল্পীগোষ্ঠীর পরিবেশনা থাকছে। দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে হবে ফ্যাসিস্টের পলায়ন উদ্যাপন, এরপর যথাক্রমে সায়ান, ইথুন বাবু ও মৌসুমি গান পরিবেশন করবেন। বিকাল ৫টায় ঐতিহাসিক জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করা হবে। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে ৮টা পর্যন্ত স্পেশাল ড্রোন ড্রামাও থাকছে। অনুষ্ঠানের আয়োজক সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়। অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপনায় থাকছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। আর সহযোগিতায় থাকছে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়। বাংলাদেশ টেলিভিশন অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করবে।
গত বছরের ডিসেম্বরের শেষদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে ঘোষণাপত্রের দাবি জানানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এদিকে জুলাই ঘোষণাপত্র অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য সারা দেশ থেকে ছাত্র-জনতা আনতে ৮ জোড়া বিশেষ ট্রেন ভাড়া করেছে সরকার। কর্মসূচি শেষে এসব ট্রেনে তাদের গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হবে।
জানা যায়, জুলাই ঘোষণাপত্রে ২৬টি দফা রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-যেহেতু এই ভূখণ্ডের মানুষ দীর্ঘ ২৩ বছর পাকিস্তানের স্বৈরশাসকদের বঞ্চনা ও শোষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল এবং নির্বিচার গণহত্যার বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে জাতীয় মুক্তির জন্য রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিল। যেহেতু স্বাধীন বাংলাদেশের ১৯৭২ সালের সংবিধানের পদ্ধতি ও কাঠামোগত দুর্বলতা ও অপপ্রয়োগের ফলে স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকার মুক্তিযুদ্ধের জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয়েছিল এবং গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা ক্ষুণ্ন করেছিল। যেহেতু, স্বাধীনতা পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকার স্বাধীনতার মূলমন্ত্র গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার বিপরীতে বাকশালের নামে সাংবিধানিকভাবে একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করে এবং মতপ্রকাশ ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা হরণ করে, যার প্রতিক্রিয়ায় ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর দেশে সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লব সংঘটিত হয়। যেহেতু, আশির দশকে সামরিক স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ নয় বছর ছাত্র-জনতার অবিরাম সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ১৯৯০ সালের গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হয় এবং ১৯৯১ সালে পুনরায় সংসদীয় গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। যেহেতু, দেশি-বিদেশি চক্রান্তে সরকার পরিবর্তনের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ায় ১-১১-এর ষড়যন্ত্রমূলক বন্দোবস্তের মাধ্যমে বাংলাদেশে শেখ হাসিনার একচ্ছত্র ক্ষমতা, আধিপত্য ও ফ্যাসিবাদের পথ সুগম করা হয়। যেহেতু, গত দীর্ঘ ষোলো বছরের ফ্যাসিবাদী, অগণতান্ত্রিক এবং গণবিরোধী শাসনব্যবস্থা কায়েমের লক্ষ্যে এবং একদলীয় রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অতি উগ্র বাসনা চরিতার্থ করার অভিপ্রায়ে সংবিধানের অবৈধ ও অগণতান্ত্রিক পরিবর্তন করা হয় এবং যার ফলে একদলীয় একচ্ছত্র ক্ষমতা ও আধিপত্য প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়। যেহেতু, বিগত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকারের দুঃশাসন, গুম-খুন, আইনবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ এবং একদলীয় স্বার্থে সংবিধান সংশোধন ও পরিবর্তন বাংলাদেশের সব রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করে। যেহেতু, অবৈধভাবে ক্ষমতা অব্যাহত রাখতে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকার তিনটি প্রহসনের নির্বাচনে (২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪-এর জাতীয় সংসদ নির্বাচন) এদেশের মানুষকে ভোটাধিকার ও প্রতিনিধিত্ব থেকে বঞ্চিত করে। যেহেতু, সরকারি চাকরিতে বৈষম্যবিলোপ ও দুর্নীতি প্রতিরোধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকার ব্যাপক দমন-পীড়ন, বর্বর অত্যাচার ও মানবতাবিরোধী হত্যাকাণ্ড চালানো হয়, যার ফলে সারা দেশে দলমতনির্বিশেষে ছাত্র-জনতার উত্তাল গণবিক্ষোভ গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। যেহেতু, ফ্যাসিস্ট শক্তির বিরুদ্ধে অদম্য ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক দল, ধর্মীয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী, শ্রমিক সংগঠনসহ সমাজের সব স্তরের মানুষ যোগদান করে এবং আওয়ামী ফ্যাসিবাদী বাহিনী রাজপথে নারী-শিশুসহ প্রায় দুই সহস্র মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করে, অগণিত মানুষ পঙ্গুত্ব ও অন্ধত্ববরণ করে এবং আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে সামরিক বাহিনীর সদস্যরা জনগণের গণতান্ত্রিক লড়াইকে সমর্থন প্রদান করে। জনসাধারণের তীব্র আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে গণভবনমুখী জনতার উত্তাল যাত্রার মুখে অবৈধ, অনির্বাচিত, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। যেহেতু, বাংলাদেশর রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকট মোকাবিলায় গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ব্যক্ত জনগণের সার্বভৌমত্বের প্রত্যয় ও প্রয়োগ রাজনৈতিক ও আইনি উভয় দিক থেকে যুক্তিসংগত, বৈধ ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। সেহেতু, বাংলাদেশের জনগণ যুক্তিসংগত সময়ে আয়োজিতব্য একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত জাতীয় সংসদে প্রতিশ্রুত প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংস্কারের মাধ্যমে দেশের মানুষের প্রত্যাশা, বিশেষত তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী আইনের শাসন ও মানবাধিকার, দুর্নীতি ও শোষণমুক্ত বৈষম্যহীন সমাজ এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে। বাংলাদেশের জনগণ এই অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে যে, ছাত্র-গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এর উপযুক্ত রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান করা হবে। বিশেষত, যুক্তিসংগত সময়ে আয়োজিতব্য নির্বাচনে নির্বাচিত সরকারের সংস্কারকৃত সংবিধানের প্রস্তাবনায় এর উল্লেখ থাকবে এবং তফশিলে এ ঘোষণাপত্র সংযুক্ত থাকবে। এ ঘোষণাপত্র ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে কার্যকর বলে ধরে নেওয়া হবে।
ফ্যাসিবাদী অপশাসনের বিরুদ্ধে ৫ আগস্ট চূড়ান্ত বিজয়: রাষ্ট্রপতি
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, ‘মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস। বৈষম্যমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও ফ্যাসিবাদী অপশাসনের বিরুদ্ধে ছাত্র-শ্রমিক-জনতা সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তুলে ২০২৪ সালের এ দিনে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে। ঐতিহাসিক এ অর্জনের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আমি দেশের মুক্তিকামী ছাত্র-জনতাকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।’
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি একথা বলেন।
বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমি গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব শহীদকে, যারা দেশকে স্বৈরাচারমুক্ত করতে গিয়ে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন। আমি তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। এ গণঅভ্যুত্থানে আহত, পঙ্গুত্ব বরণ করা ও দৃষ্টিশক্তি হারানো বীর জুলাই যোদ্ধাদের ত্যাগ ও অবদানকে আমি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবার ও আহতদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের পবিত্র দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্র অঙ্গীকারবদ্ধ।’
তিনি বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, দুঃশাসন, দুর্নীতি, লুটপাট, গুম, খুন, অপহরণ, ভোটাধিকার হরণসহ সব ধরনের অত্যাচার, নিপীড়নের বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্ম ও আপামর জনতার ক্ষোভের বিস্ফোরণ। এ বৈষম্যমূলক ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা বিলোপ করে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, জনগণের ক্ষমতায়ন এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে সুনিশ্চিত করাই ছিল এর মূল লক্ষ্য। একটি সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ফ্যাসিবাদের মূলোৎপাটন করে জুলাইয়ের চেতনার পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র একটি ব্যাপক সংস্কার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। এ সংস্কারের মধ্য দিয়ে গণঅভ্যুত্থানের আশা-আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হবে, প্রকৃত গণতান্ত্রিক উত্তরণের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠবে একটি ন্যায় ও সাম্যভিত্তিক নতুন বাংলাদেশ– এ আমার একান্ত প্রত্যাশা।’
রাষ্ট্রপতি বলেন, আমি ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে নেওয়া সব কর্মসূচির সাফল্য কামনা করি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস : যেসব সড়ক এড়িয়ে চলতে বললো ডিএমপি
আগামীকাল মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষ্যে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ড্রোন শো অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষ্যে ওই এলাকার আশপাশের সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করবে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এ বিষয়ে আজ গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।
ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী স্বাক্ষরিত গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঢাকা মহানগরবাসীর অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, আগামীকাল ৫ আগস্ট মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষ্যে দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ড্রোন শো অনুষ্ঠিত হবে। যা বেলা ১১টায় শুরু হয়ে রাত প্রায় ১২টা পর্যন্ত চলবে। অনুষ্ঠানমালার উল্লেখযোগ্য অংশ হলো- ১১টা থেকে ৪টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত বিভিন্ন শিল্পীগোষ্ঠীর সংগীত পরিবেশনা, ২টা ২৫ মিনিট থেকে ফ্যাসিস্টের পলায়ন উদযাপন, ৫টায় ঐতিহাসিক জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় স্পেশাল ড্রোন শো এবং রাত ৮টায় আর্টসেল পরিবেশনা।
অনুষ্ঠানমালা উপলক্ষ্যে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে প্রচুর জনসমাগম হবে। অনুষ্ঠান চলাকালে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে (খেজুর বাগান ক্রসিং থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের পশ্চিম প্রান্ত পর্যন্ত) যানবাহন চলাচল করানো সম্ভব হবে না। এমতাবস্থায় ঢাকা মহানগরবাসীকে উল্লিখিত এলাকার নিকটবর্তী সড়কগুলো এড়িয়ে চলাচল করার জন্য এবং কিছু পয়েন্টে ডাইভারশন মেনে বিকল্প পথে চলাচলের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করছে ডিএমপি।
ডাইভারশন পয়েন্ট এবং বিকল্প সড়ক
১. আড়ং ক্রসিং (মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের পশ্চিম প্রান্ত) : মিরপুর রোড হয়ে উত্তর দিক থেকে আগত অথবা মোহাম্মদপুর থেকে আসাদগেট হয়ে আগত খেজুর বাগান/ফার্মগেট অভিমুখী যানবাহন আড়ং ক্রসিংয়ে বামে মোড় না নিয়ে সোজা দক্ষিণ দিকে ধানমন্ডি-২৭ এর পূর্ব প্রান্ত হয়ে মিরপুর রোডে চলাচল করবে।
এছাড়া মিরপুর রোডের দক্ষিণ দিক থেকে (সায়েন্সল্যাব ক্রসিং থেকে) আগত খেজুর বাগান/ফার্মগেট অভিমুখী যানবাহন আড়ং ক্রসিংয়ে ডান দিকে মোড় না নিয়ে সোজা উত্তরে গিয়ে গণভবন ক্রসিংয়ে ডানে মোড় নিয়ে লেক রোড-উড়োজাহাজ ক্রসিং-বিজয় সরণি ক্রসিং হয়ে গমনাগমন করবে।
২. খেজুর বাগান ক্রসিং (মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের পূর্ব প্রান্ত) : এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে ইন্দিরা রোড হয়ে আগত ধানমন্ডিগামী যানবাহন খেজুর বাগান ক্রসিংয়ে সোজা মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে না গিয়ে ডানে মোড় নিয়ে উড়োজাহাজ ক্রসিংয়ে, এরপর বামে মোড় নিয়ে লেক রোড হয়ে গণভবন ক্রসিংয়ের বামে মোড় নিয়ে মিরপুর রোড হয়ে সোজা দক্ষিণে ধানমন্ডির দিকে গমন করবে।
তবে, অনুষ্ঠান চলাকালে যানজট/দুর্ভোগ এড়াতে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে ধানমন্ডি/মোহাম্মদপুরগামী যানবাহনকে ফার্মগেট এক্সিট র্যাম্প ব্যবহারের পরিবর্তে এফডিসি (হাতিরঝিল) র্যাম্প ব্যবহারের জন্য অনুরোধ করা হলো।
৩. ফার্মগেট ক্রসিং : ফার্মগেট থেকে খেজুর বাগান/মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ/মিরপুর অভিমুখী যানবাহন ফার্মগেট থেকে বামে মোড় না নিয়ে সোজা বিজয় সরণি গিয়ে বামে মোড় নিয়ে উড়োজাহাজ ক্রসিং/লেক রোড হয়ে চলাচল করবে।
৪. গণভবন ক্রসিং : মিরপুর রোড হয়ে উত্তর দিক থেকে আগত ফার্মগেট/সোনারগাঁও অভিমুখী যানবাহন গণভবন ক্রসিংয়ে সোজা দক্ষিণ দিকে যাওয়ার পরিবর্তে বামে মোড় নিয়ে লেকরোড-উড়োজাহাজ ক্রসিং-বিজয় সরণি ক্রসিংয়ে ডানে মোড় নিয়ে ফার্মগেটের দিকে গমন করবে।
এছাড়া মোহাম্মদপুর থেকে আসাদগেট হয়ে খেজুর বাগান/ফার্মগেট অভিমুখী যানবাহন আসাদগেট ক্রসিংয়ে ডানে মোড় না নিয়ে বামে মোড় নিয়ে এবং গণভবন ক্রসিংয়ে ডানে মোড় নিয়ে লেক রোড-উড়োজাহাজ ক্রসিং-বিজয় সরণি ক্রসিং হয়ে চলাচল করবে।
৫. আগারগাঁও থেকে শিশু মেলা পর্যন্ত সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ সড়কের ব্যবহার : মানিক মিয়া এভিনিউ হয়ে চলাচলকারী যানবাহনকে আগারগাঁও থেকে শিশু মেলা পর্যন্ত সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ সড়ক ব্যবহার করে চলাচল করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।
পার্কিং সংক্রান্ত নির্দেশনা : ৫ আগস্ট অনুষ্ঠানে নিজস্ব/ভাড়া করা যানবাহনসহ আগত দর্শনার্থীদের যানবাহনগুলো আগারগাঁও পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে পার্কিং করার জন্য অনুরোধ করা হলো।
গণবিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সব যানবাহন চালকদের ৫ আগস্ট যানজট এড়ানোর লক্ষ্যে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের নিকটবর্তী সড়ক এড়িয়ে উল্লিখিত নির্দেশনা অনুযায়ী চলাচলের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। যানজট নিরসনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ নগরবাসীর সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করছে।
জুলাই ঘোষণাপত্র : ৮ জোড়া ট্রেন যখন-যেখান থেকে ছাড়বে
জাতীয় সংসদের সামনে মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) আয়োজিত ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ পাঠ অনুষ্ঠানে দেশজুড়ে ছাত্র-জনতার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ৮ জোড়া (১৬টি) বিশেষ ট্রেন ভাড়া করেছে সরকার। এসব ট্রেনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারও মানুষ আসবেন ঢাকায়। অনুষ্ঠান শেষে আবার একই ট্রেনে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যাবেন তারা।
পাঠকদের জন্য নিচে ৮ জোড়া (১৬টি) ট্রেনের সময়সূচি দেওয়া হলো—
১. চট্টগ্রাম-ঢাকা-চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম থেকে বিশেষ ট্রেনটি ৫ আগস্ট সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছাবে দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে। একই দিন ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন থেকে ট্রেনটি সন্ধ্যা ৭টায় ছেড়ে চট্টগ্রামে পৌঁছাবে রাত ১টায়।
২. জয়দেবপুর-ঢাকা-জয়দেবপুর
জয়দেবপুর থেকে বিশেষ ট্রেনটি ৫ আগস্ট দুপুর সাড়ে ১২টায় ছেড়ে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছাবে দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে। একই দিন ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন থেকে ট্রেনটি রাত ৮টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে জয়দেবপুর পৌঁছাবে রাত ৯টা ১৫ মিনিটে।
৩. নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জ থেকে বিশেষ ট্রেনটি ৫ আগস্ট সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে ছেড়ে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছাবে বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে। একই দিন ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন থেকে ট্রেনটি সন্ধ্যা ৭টা ৩৫ মিনিটে ছেড়ে নারায়ণগঞ্জ পৌঁছাবে রাত ৮টা ২৫ মিনিটে।
৪. নরসিংদী-ঢাকা-নরসিংদী
নরসিংদী থেকে বিশেষ ট্রেনটি ৫ আগস্ট বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছাবে দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে। একই দিন ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন থেকে ট্রেনটি রাত ৮টায় ছেড়ে চট্টগ্রামে পৌঁছাবে রাত ৯টা ১০ মিনিটে।
৫. সিলেট-ঢাকা-সিলেট
সিলেট থেকে বিশেষ ট্রেনটি ৫ আগস্ট ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটে ছেড়ে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছাবে দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে। একই দিন ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন থেকে ট্রেনটি রাত ৯টায় ছেড়ে সিলেট পৌঁছাবে ৬ আগস্ট ভোর ৪টা ৩০ মিনিটে।
৬. রাজশাহী-ঢাকা-রাজশাহী
রাজশাহী থেকে বিশেষ ট্রেনটি ৫ আগস্ট সকাল ৭টা ২০ মিনিটে ছেড়ে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছাবে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে। একই দিন ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন থেকে ট্রেনটি রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে ছেড়ে রাজশাহী পৌঁছাবে ৬ আগস্ট ভোট ৪টায়।
৭. রংপুর-ঢাকা-রংপুর
রংপুর থেকে বিশেষ ট্রেনটি ৪ আগস্ট রাত ১১টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছাবে ৫ আগস্ট সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে। একই দিন ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন থেকে ট্রেনটি রাত ৮টায় ছেড়ে রংপুর পৌঁছাবে ৬ আগস্ট ভোর ৫টায়।
৮. ভাঙ্গা-ঢাকা-ভাঙ্গা
ভাঙ্গা থেকে বিশেষ ট্রেনটি ৫ আগস্ট বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছাবে দুপুর ১টায়। একই দিন ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন থেকে ট্রেনটি সন্ধ্যা ৭টায় ছেড়ে ভাঙা পৌঁছাবে রাত ৮টা ৩০ মিনিটে।
এই সময়সূচি অনুযায়ী যাত্রা নিশ্চিত করতে যাত্রীদের যথাসময়ে স্টেশনে উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
হার্টের রিং-এর দাম কমালো সরকার
হার্টের স্টেন্টের (রিং) দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, ৩ থেকে ৮৮ হাজার টাকা কমবে একেকটির দাম।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমানের স্বাক্ষর করা এক আদেশে তিন কোম্পানির ১১ ধরনের স্টেন্টের দাম কমিয়ে নতুন করে নির্ধারণ করা হয়। স্টেন্ট আমদানি প্রতিষ্ঠানভেদে খুচরা মূল্য সর্বনিম্ন ৫০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে স্টেন্টভেদে দাম কমানো হয়েছে ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা।
নতুন তালিকা অনুযায়ী, মেডট্রনিক কোম্পানির ‘রিজলিউট অনিক্স’ স্টেন্টের আগের দাম ছিল ১ লাখ ৪০ হাজার ৫০০ টাকা, যা কমিয়ে ৯০ হাজার টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে।
বোস্টন সায়েন্টিফিক কোম্পানির ‘প্রোমাস এলিট’ স্টেন্টটি আগে ৭৯ হাজার টাকায় বিক্রি হতো, এখন তা ৭২ হাজার টাকা। একই কোম্পানির ‘প্রোমাস প্রিমিয়ার ’ স্টেন্টের দাম ৭৩ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ৭০ হাজার টাকা করা হয়েছে।
সিনার্জি সিরিজের তিনটি স্টেন্টের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে ‘সিনার্জি এক্সডি’ স্টেন্টে, যার আগের দাম ছিল ১ লাখ ৮৮ হাজার টাকা। নতুন দামে এটি এখন বিক্রি হবে ১ লাখ টাকায়। অন্যদিকে ‘সিনার্জি’ ও ‘সিনার্জি শিল্ড’ স্টেন্ট দুটির দাম কমিয়ে যথাক্রমে ৯০ হাজার টাকা করা হয়েছে, যা আগে ছিল ১ লাখ ১৭ হাজার ও ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।
অ্যাবট কোম্পানির ‘জায়েন্স প্রাইম’ স্টেন্টের দাম ছিল ৬৬ হাজার ৬০০ টাকা, যা কমিয়ে ৫০ হাজার টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে। ‘জায়েন্স এক্সপেডিশন’ স্টেন্টের দামে কোনো পরিবর্তন আসেনি, এটি আগের মতোই ৭১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হবে।
তবে ‘জায়েন্স আলপাইন’ এবং ‘জায়েন্স সিয়েরা’ স্টেন্ট দুটির দাম ছিল যথাক্রমে ১ লাখ ৪০ হাজার ৫০০ এবং ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা, যা কমিয়ে ৯০ হাজার টাকায় আনা হয়েছে।
এছাড়া মেডট্রনিক কোম্পানির আরেকটি স্টেন্ট ‘অনিক্স ট্রুকর’ আগে বিক্রি হতো ৭২ হাজার ৫০০ টাকায়। এখন সেটি পাওয়া যাবে ৫০ হাজার টাকায়।
প্রসঙ্গত, স্টেন্ট বা রিং পরানোই বাংলাদেশে হার্টের চিকিৎসায় বহুল ব্যবহৃত পদ্ধতি। কারো হৃদপিন্ডে রক্ত সঞ্চালনে ব্লক বা বাধার সৃষ্টি হলে ডাক্তার তাকে এক বা একাধিক রিং পরানোর পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
হার্টে রিং পরানোর পদ্ধতিকে অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি বলা হয়। এই পদ্ধতিতে, একটি সরু ক্যাথেটার ব্যবহার করে ধমনীতে একটি ছোট, জাল আকৃতির নল (স্টেন্ট) স্থাপন করা হয়। এটি রক্তনালীকে খোলা রাখতে সাহায্য করে এবং হৃদপিণ্ডে রকা কমবে একেকটির দাম।
বিস্তারিত আসছে....
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য