শিরোনাম
ফ্যাসিবাদী অপশাসনের বিরুদ্ধে ৫ আগস্ট চূড়ান্ত বিজয়: রাষ্ট্রপতি
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, ‘মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস। বৈষম্যমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও ফ্যাসিবাদী অপশাসনের বিরুদ্ধে ছাত্র-শ্রমিক-জনতা সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তুলে ২০২৪ সালের এ দিনে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে। ঐতিহাসিক এ অর্জনের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আমি দেশের মুক্তিকামী ছাত্র-জনতাকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।’
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি একথা বলেন।
বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমি গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব শহীদকে, যারা দেশকে স্বৈরাচারমুক্ত করতে গিয়ে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন। আমি তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। এ গণঅভ্যুত্থানে আহত, পঙ্গুত্ব বরণ করা ও দৃষ্টিশক্তি হারানো বীর জুলাই যোদ্ধাদের ত্যাগ ও অবদানকে আমি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবার ও আহতদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের পবিত্র দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্র অঙ্গীকারবদ্ধ।’
তিনি বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, দুঃশাসন, দুর্নীতি, লুটপাট, গুম, খুন, অপহরণ, ভোটাধিকার হরণসহ সব ধরনের অত্যাচার, নিপীড়নের বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্ম ও আপামর জনতার ক্ষোভের বিস্ফোরণ। এ বৈষম্যমূলক ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা বিলোপ করে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, জনগণের ক্ষমতায়ন এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে সুনিশ্চিত করাই ছিল এর মূল লক্ষ্য। একটি সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ফ্যাসিবাদের মূলোৎপাটন করে জুলাইয়ের চেতনার পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র একটি ব্যাপক সংস্কার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। এ সংস্কারের মধ্য দিয়ে গণঅভ্যুত্থানের আশা-আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হবে, প্রকৃত গণতান্ত্রিক উত্তরণের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠবে একটি ন্যায় ও সাম্যভিত্তিক নতুন বাংলাদেশ– এ আমার একান্ত প্রত্যাশা।’
রাষ্ট্রপতি বলেন, আমি ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে নেওয়া সব কর্মসূচির সাফল্য কামনা করি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস : যেসব সড়ক এড়িয়ে চলতে বললো ডিএমপি
আগামীকাল মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষ্যে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ড্রোন শো অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষ্যে ওই এলাকার আশপাশের সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করবে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এ বিষয়ে আজ গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।
ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী স্বাক্ষরিত গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঢাকা মহানগরবাসীর অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, আগামীকাল ৫ আগস্ট মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষ্যে দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ড্রোন শো অনুষ্ঠিত হবে। যা বেলা ১১টায় শুরু হয়ে রাত প্রায় ১২টা পর্যন্ত চলবে। অনুষ্ঠানমালার উল্লেখযোগ্য অংশ হলো- ১১টা থেকে ৪টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত বিভিন্ন শিল্পীগোষ্ঠীর সংগীত পরিবেশনা, ২টা ২৫ মিনিট থেকে ফ্যাসিস্টের পলায়ন উদযাপন, ৫টায় ঐতিহাসিক জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় স্পেশাল ড্রোন শো এবং রাত ৮টায় আর্টসেল পরিবেশনা।
অনুষ্ঠানমালা উপলক্ষ্যে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে প্রচুর জনসমাগম হবে। অনুষ্ঠান চলাকালে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে (খেজুর বাগান ক্রসিং থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের পশ্চিম প্রান্ত পর্যন্ত) যানবাহন চলাচল করানো সম্ভব হবে না। এমতাবস্থায় ঢাকা মহানগরবাসীকে উল্লিখিত এলাকার নিকটবর্তী সড়কগুলো এড়িয়ে চলাচল করার জন্য এবং কিছু পয়েন্টে ডাইভারশন মেনে বিকল্প পথে চলাচলের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করছে ডিএমপি।
ডাইভারশন পয়েন্ট এবং বিকল্প সড়ক
১. আড়ং ক্রসিং (মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের পশ্চিম প্রান্ত) : মিরপুর রোড হয়ে উত্তর দিক থেকে আগত অথবা মোহাম্মদপুর থেকে আসাদগেট হয়ে আগত খেজুর বাগান/ফার্মগেট অভিমুখী যানবাহন আড়ং ক্রসিংয়ে বামে মোড় না নিয়ে সোজা দক্ষিণ দিকে ধানমন্ডি-২৭ এর পূর্ব প্রান্ত হয়ে মিরপুর রোডে চলাচল করবে।
এছাড়া মিরপুর রোডের দক্ষিণ দিক থেকে (সায়েন্সল্যাব ক্রসিং থেকে) আগত খেজুর বাগান/ফার্মগেট অভিমুখী যানবাহন আড়ং ক্রসিংয়ে ডান দিকে মোড় না নিয়ে সোজা উত্তরে গিয়ে গণভবন ক্রসিংয়ে ডানে মোড় নিয়ে লেক রোড-উড়োজাহাজ ক্রসিং-বিজয় সরণি ক্রসিং হয়ে গমনাগমন করবে।
২. খেজুর বাগান ক্রসিং (মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের পূর্ব প্রান্ত) : এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে ইন্দিরা রোড হয়ে আগত ধানমন্ডিগামী যানবাহন খেজুর বাগান ক্রসিংয়ে সোজা মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে না গিয়ে ডানে মোড় নিয়ে উড়োজাহাজ ক্রসিংয়ে, এরপর বামে মোড় নিয়ে লেক রোড হয়ে গণভবন ক্রসিংয়ের বামে মোড় নিয়ে মিরপুর রোড হয়ে সোজা দক্ষিণে ধানমন্ডির দিকে গমন করবে।
তবে, অনুষ্ঠান চলাকালে যানজট/দুর্ভোগ এড়াতে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে ধানমন্ডি/মোহাম্মদপুরগামী যানবাহনকে ফার্মগেট এক্সিট র্যাম্প ব্যবহারের পরিবর্তে এফডিসি (হাতিরঝিল) র্যাম্প ব্যবহারের জন্য অনুরোধ করা হলো।
৩. ফার্মগেট ক্রসিং : ফার্মগেট থেকে খেজুর বাগান/মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ/মিরপুর অভিমুখী যানবাহন ফার্মগেট থেকে বামে মোড় না নিয়ে সোজা বিজয় সরণি গিয়ে বামে মোড় নিয়ে উড়োজাহাজ ক্রসিং/লেক রোড হয়ে চলাচল করবে।
৪. গণভবন ক্রসিং : মিরপুর রোড হয়ে উত্তর দিক থেকে আগত ফার্মগেট/সোনারগাঁও অভিমুখী যানবাহন গণভবন ক্রসিংয়ে সোজা দক্ষিণ দিকে যাওয়ার পরিবর্তে বামে মোড় নিয়ে লেকরোড-উড়োজাহাজ ক্রসিং-বিজয় সরণি ক্রসিংয়ে ডানে মোড় নিয়ে ফার্মগেটের দিকে গমন করবে।
এছাড়া মোহাম্মদপুর থেকে আসাদগেট হয়ে খেজুর বাগান/ফার্মগেট অভিমুখী যানবাহন আসাদগেট ক্রসিংয়ে ডানে মোড় না নিয়ে বামে মোড় নিয়ে এবং গণভবন ক্রসিংয়ে ডানে মোড় নিয়ে লেক রোড-উড়োজাহাজ ক্রসিং-বিজয় সরণি ক্রসিং হয়ে চলাচল করবে।
৫. আগারগাঁও থেকে শিশু মেলা পর্যন্ত সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ সড়কের ব্যবহার : মানিক মিয়া এভিনিউ হয়ে চলাচলকারী যানবাহনকে আগারগাঁও থেকে শিশু মেলা পর্যন্ত সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ সড়ক ব্যবহার করে চলাচল করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।
পার্কিং সংক্রান্ত নির্দেশনা : ৫ আগস্ট অনুষ্ঠানে নিজস্ব/ভাড়া করা যানবাহনসহ আগত দর্শনার্থীদের যানবাহনগুলো আগারগাঁও পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে পার্কিং করার জন্য অনুরোধ করা হলো।
গণবিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সব যানবাহন চালকদের ৫ আগস্ট যানজট এড়ানোর লক্ষ্যে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের নিকটবর্তী সড়ক এড়িয়ে উল্লিখিত নির্দেশনা অনুযায়ী চলাচলের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। যানজট নিরসনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ নগরবাসীর সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করছে।
জুলাই ঘোষণাপত্র : ৮ জোড়া ট্রেন যখন-যেখান থেকে ছাড়বে
জাতীয় সংসদের সামনে মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) আয়োজিত ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ পাঠ অনুষ্ঠানে দেশজুড়ে ছাত্র-জনতার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ৮ জোড়া (১৬টি) বিশেষ ট্রেন ভাড়া করেছে সরকার। এসব ট্রেনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারও মানুষ আসবেন ঢাকায়। অনুষ্ঠান শেষে আবার একই ট্রেনে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যাবেন তারা।
পাঠকদের জন্য নিচে ৮ জোড়া (১৬টি) ট্রেনের সময়সূচি দেওয়া হলো—
১. চট্টগ্রাম-ঢাকা-চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম থেকে বিশেষ ট্রেনটি ৫ আগস্ট সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছাবে দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে। একই দিন ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন থেকে ট্রেনটি সন্ধ্যা ৭টায় ছেড়ে চট্টগ্রামে পৌঁছাবে রাত ১টায়।
২. জয়দেবপুর-ঢাকা-জয়দেবপুর
জয়দেবপুর থেকে বিশেষ ট্রেনটি ৫ আগস্ট দুপুর সাড়ে ১২টায় ছেড়ে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছাবে দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে। একই দিন ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন থেকে ট্রেনটি রাত ৮টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে জয়দেবপুর পৌঁছাবে রাত ৯টা ১৫ মিনিটে।
৩. নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জ থেকে বিশেষ ট্রেনটি ৫ আগস্ট সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে ছেড়ে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছাবে বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে। একই দিন ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন থেকে ট্রেনটি সন্ধ্যা ৭টা ৩৫ মিনিটে ছেড়ে নারায়ণগঞ্জ পৌঁছাবে রাত ৮টা ২৫ মিনিটে।
৪. নরসিংদী-ঢাকা-নরসিংদী
নরসিংদী থেকে বিশেষ ট্রেনটি ৫ আগস্ট বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছাবে দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে। একই দিন ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন থেকে ট্রেনটি রাত ৮টায় ছেড়ে চট্টগ্রামে পৌঁছাবে রাত ৯টা ১০ মিনিটে।
৫. সিলেট-ঢাকা-সিলেট
সিলেট থেকে বিশেষ ট্রেনটি ৫ আগস্ট ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটে ছেড়ে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছাবে দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে। একই দিন ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন থেকে ট্রেনটি রাত ৯টায় ছেড়ে সিলেট পৌঁছাবে ৬ আগস্ট ভোর ৪টা ৩০ মিনিটে।
৬. রাজশাহী-ঢাকা-রাজশাহী
রাজশাহী থেকে বিশেষ ট্রেনটি ৫ আগস্ট সকাল ৭টা ২০ মিনিটে ছেড়ে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছাবে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে। একই দিন ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন থেকে ট্রেনটি রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে ছেড়ে রাজশাহী পৌঁছাবে ৬ আগস্ট ভোট ৪টায়।
৭. রংপুর-ঢাকা-রংপুর
রংপুর থেকে বিশেষ ট্রেনটি ৪ আগস্ট রাত ১১টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছাবে ৫ আগস্ট সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে। একই দিন ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন থেকে ট্রেনটি রাত ৮টায় ছেড়ে রংপুর পৌঁছাবে ৬ আগস্ট ভোর ৫টায়।
৮. ভাঙ্গা-ঢাকা-ভাঙ্গা
ভাঙ্গা থেকে বিশেষ ট্রেনটি ৫ আগস্ট বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছাবে দুপুর ১টায়। একই দিন ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন থেকে ট্রেনটি সন্ধ্যা ৭টায় ছেড়ে ভাঙা পৌঁছাবে রাত ৮টা ৩০ মিনিটে।
এই সময়সূচি অনুযায়ী যাত্রা নিশ্চিত করতে যাত্রীদের যথাসময়ে স্টেশনে উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
হার্টের রিং-এর দাম কমালো সরকার
হার্টের স্টেন্টের (রিং) দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, ৩ থেকে ৮৮ হাজার টাকা কমবে একেকটির দাম।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমানের স্বাক্ষর করা এক আদেশে তিন কোম্পানির ১১ ধরনের স্টেন্টের দাম কমিয়ে নতুন করে নির্ধারণ করা হয়। স্টেন্ট আমদানি প্রতিষ্ঠানভেদে খুচরা মূল্য সর্বনিম্ন ৫০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে স্টেন্টভেদে দাম কমানো হয়েছে ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা।
নতুন তালিকা অনুযায়ী, মেডট্রনিক কোম্পানির ‘রিজলিউট অনিক্স’ স্টেন্টের আগের দাম ছিল ১ লাখ ৪০ হাজার ৫০০ টাকা, যা কমিয়ে ৯০ হাজার টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে।
বোস্টন সায়েন্টিফিক কোম্পানির ‘প্রোমাস এলিট’ স্টেন্টটি আগে ৭৯ হাজার টাকায় বিক্রি হতো, এখন তা ৭২ হাজার টাকা। একই কোম্পানির ‘প্রোমাস প্রিমিয়ার ’ স্টেন্টের দাম ৭৩ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ৭০ হাজার টাকা করা হয়েছে।
সিনার্জি সিরিজের তিনটি স্টেন্টের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে ‘সিনার্জি এক্সডি’ স্টেন্টে, যার আগের দাম ছিল ১ লাখ ৮৮ হাজার টাকা। নতুন দামে এটি এখন বিক্রি হবে ১ লাখ টাকায়। অন্যদিকে ‘সিনার্জি’ ও ‘সিনার্জি শিল্ড’ স্টেন্ট দুটির দাম কমিয়ে যথাক্রমে ৯০ হাজার টাকা করা হয়েছে, যা আগে ছিল ১ লাখ ১৭ হাজার ও ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।
অ্যাবট কোম্পানির ‘জায়েন্স প্রাইম’ স্টেন্টের দাম ছিল ৬৬ হাজার ৬০০ টাকা, যা কমিয়ে ৫০ হাজার টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে। ‘জায়েন্স এক্সপেডিশন’ স্টেন্টের দামে কোনো পরিবর্তন আসেনি, এটি আগের মতোই ৭১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হবে।
তবে ‘জায়েন্স আলপাইন’ এবং ‘জায়েন্স সিয়েরা’ স্টেন্ট দুটির দাম ছিল যথাক্রমে ১ লাখ ৪০ হাজার ৫০০ এবং ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা, যা কমিয়ে ৯০ হাজার টাকায় আনা হয়েছে।
এছাড়া মেডট্রনিক কোম্পানির আরেকটি স্টেন্ট ‘অনিক্স ট্রুকর’ আগে বিক্রি হতো ৭২ হাজার ৫০০ টাকায়। এখন সেটি পাওয়া যাবে ৫০ হাজার টাকায়।
প্রসঙ্গত, স্টেন্ট বা রিং পরানোই বাংলাদেশে হার্টের চিকিৎসায় বহুল ব্যবহৃত পদ্ধতি। কারো হৃদপিন্ডে রক্ত সঞ্চালনে ব্লক বা বাধার সৃষ্টি হলে ডাক্তার তাকে এক বা একাধিক রিং পরানোর পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
হার্টে রিং পরানোর পদ্ধতিকে অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি বলা হয়। এই পদ্ধতিতে, একটি সরু ক্যাথেটার ব্যবহার করে ধমনীতে একটি ছোট, জাল আকৃতির নল (স্টেন্ট) স্থাপন করা হয়। এটি রক্তনালীকে খোলা রাখতে সাহায্য করে এবং হৃদপিণ্ডে রকা কমবে একেকটির দাম।
বিস্তারিত আসছে....
পরিবারের সিদ্ধান্ত
ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন করা হবে সাবেক সেনাপ্রধান হারুনের লাশ
ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন করা হবে সাবেক সেনাপ্রধান হারুন-অর-রশিদের লাশ। সোমবার হারুন-অর-রশিদের ফুফাতো বোন ও চিকিৎসক ডা. নজিবুন নাহার এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, প্রথমে সাবেক এই সেনাপ্রধানের লাশ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পরিকল্পনা করা হয়। পরে পরিবার লাশ ময়নাতদন্ত না করার সিদ্ধান্ত নেয়।
সাবেক সেনাপ্রধান হারুন-অর-রশিদ ডেসটিনি গ্রুপ সংশ্লিষ্ট ২০২৩ সালের এক মামলায় হাজিরা দিতে রোববার বিকেলে ঢাকায় নিজ বাসা থেকে চট্টগ্রাম আসেন। বিকেল পাঁচটায় কাজির দেউড়ির চট্টগ্রাম ক্লাবে গিয়ে উঠেছিলেন তিনি। আদালতে হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল সোমবার সকাল ১১টায়। কিন্তু সেই হাজিরা আর দেওয়া হলো না।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের উপকমিশনার মো. আলমগীর হোসেন বলেন, রোববার বিকেল ৫টার দিকে হারুন-অর-রশিদ চট্টগ্রাম ক্লাবে ওঠেন। সকালে ক্লাব কর্তৃপক্ষ তার সাড়া না পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ গিয়ে দরজা ভেঙে তার লাশ উদ্ধার করে। তার লাশ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
১৯৭০ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তিনি পদাতিক কোরে কমিশন লাভ করেন। তবে শুরুতে ইঞ্জিনিয়ার কোরে যেতে চাইলেও কোম্পানি কমান্ডারের পরামর্শে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দেন। মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সেনা ক্যারিয়ারে তিনি কুমিল্লার ৪র্থ ইবিআর-এ প্রথম পোস্টিং পান।
পরবর্তীতে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে তিনি জর্জিয়ায় বাহিনীর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেনাবাহিনীতে তিনি অ্যাকাডেমিক মনোভাবের জন্য পরিচিত ছিলেন। আর্মি স্টাফ কলেজ এবং পদাতিক ও কৌশল স্কুলে শিক্ষকতা করেছেন।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য