শিরোনাম
পরিবারের সিদ্ধান্ত
ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন করা হবে সাবেক সেনাপ্রধান হারুনের লাশ
ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন করা হবে সাবেক সেনাপ্রধান হারুন-অর-রশিদের লাশ। সোমবার হারুন-অর-রশিদের ফুফাতো বোন ও চিকিৎসক ডা. নজিবুন নাহার এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, প্রথমে সাবেক এই সেনাপ্রধানের লাশ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পরিকল্পনা করা হয়। পরে পরিবার লাশ ময়নাতদন্ত না করার সিদ্ধান্ত নেয়।
সাবেক সেনাপ্রধান হারুন-অর-রশিদ ডেসটিনি গ্রুপ সংশ্লিষ্ট ২০২৩ সালের এক মামলায় হাজিরা দিতে রোববার বিকেলে ঢাকায় নিজ বাসা থেকে চট্টগ্রাম আসেন। বিকেল পাঁচটায় কাজির দেউড়ির চট্টগ্রাম ক্লাবে গিয়ে উঠেছিলেন তিনি। আদালতে হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল সোমবার সকাল ১১টায়। কিন্তু সেই হাজিরা আর দেওয়া হলো না।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের উপকমিশনার মো. আলমগীর হোসেন বলেন, রোববার বিকেল ৫টার দিকে হারুন-অর-রশিদ চট্টগ্রাম ক্লাবে ওঠেন। সকালে ক্লাব কর্তৃপক্ষ তার সাড়া না পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ গিয়ে দরজা ভেঙে তার লাশ উদ্ধার করে। তার লাশ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
১৯৭০ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তিনি পদাতিক কোরে কমিশন লাভ করেন। তবে শুরুতে ইঞ্জিনিয়ার কোরে যেতে চাইলেও কোম্পানি কমান্ডারের পরামর্শে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দেন। মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সেনা ক্যারিয়ারে তিনি কুমিল্লার ৪র্থ ইবিআর-এ প্রথম পোস্টিং পান।
পরবর্তীতে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে তিনি জর্জিয়ায় বাহিনীর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেনাবাহিনীতে তিনি অ্যাকাডেমিক মনোভাবের জন্য পরিচিত ছিলেন। আর্মি স্টাফ কলেজ এবং পদাতিক ও কৌশল স্কুলে শিক্ষকতা করেছেন।
১০ জেলায় বন্যার পূর্বাভাস
ধেয়ে আসছে শক্তিশালী বৃষ্টিবলয় ‘ঈশান’। শনিবার (২ আগস্ট) বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (বিডব্লিউওটি) ফেসবুক পেজে এমন তথ্য জানায়। টানা ভারি বৃষ্টিপাতের ফলে দেশের অধিকাংশ নদীর পানি বাড়ছে এবং আগামী ২৪ ঘণ্টায় কিছু নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। ফলে ১০ জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। সোমবার (৪ আগস্ট) দুপুরে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
পূর্বাভাস বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের অভ্যন্তরে ঢাকা ও রংপুর বিভাগে মাঝারি থেকে ভারি এবং সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত পরিলক্ষিত হয়েছে। সেইসঙ্গে দেশের উজানে ভারতের মেঘালয় ও অরুণাচল প্রদেশে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত পরিলক্ষিত হয়েছে। দেশের রাজশাহী, রংপুর বিভাগসমূহে ও তৎসংলগ্ন উজানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশে আগামী দুইদিন এবং সিলেট ময়মনসিংহ বিভাগসমূহে ও তৎসংলগ্ন উজানে ভারতের আসাম, মেঘালয় ও ত্রিপুরা প্রদেশে আগামী তিনদিন ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
এ অবস্থায় রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীসমূহের পানি সমতল গত ২৪ ঘণ্টায় বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী দুদিন নদীসমূহের পানি সমতল বৃদ্ধি পেতে পারে এবং পরবর্তী একদিন স্থিতিশীল থাকতে পারে। আগামী দুইদিনে তিস্তা নদীর পানি সমতল বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে এবং ধরলা ও দুধকুমার নদীসমূহের পানি সমতল সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। এর ফলে লালমনিরহাট, নীলফামারি, রংপুর, কুড়িগ্রাম জেলার তিস্তা উক্ত নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে এবং গাইবান্ধা জেলার সংলগ্ন উক্ত নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
এ ছাড়া সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের সারিপোয়াইন, সোমেশ্বরী, জিঞ্জিরাম, ভুলাই ও কংস নদীসমূহের পানি সমতল গত ২৪ ঘণ্টায় বৃদ্ধি পেয়েছে। অপরদিকে যাদুকাটা নদীর পানি সমতল গত ২৪ ঘণ্টায় হ্রাস পেয়েছে এবং লুবাছড়া ও ঝালুখালি নদীসমূহের পানি সমতল স্থিতিশীল আছে। উক্ত নদীসমূহের পানি সমতল আগামী তিনদিন বৃদ্ধি পেতে পারে এবং এ সময়ে উক্ত নদীসমূহের পানি সমতল সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। এর ফলে সিলেট, সুনামগঞ্জ, শেরপুর, নেত্রকোনা ও ময়মনসিংহ জেলার উক্ত নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
পূর্বাভাসে আরও বলা হয়, সিলেট বিভাগের মনু, ধলাই ও খোয়াই নদীসমূহের পানি সমতল গত ২৪ ঘণ্টায় হ্রাস পেয়েছে। আগামী একদিন নদীসমূহের পানি সমতল স্থিতিশীল থাকতে পারে ও পরবর্তী দুইদিন বৃদ্ধি পেতে পারে। সুরমা ও কুশিয়ারা নদীসমূহের পানি সমতল গত ২৪ ঘণ্টায় বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগামী তিনদিন অব্যাহত থাকতে পারে।
রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের মহানন্দা, করতোয়া, আপার আত্রাই, যমুনেশ্বরি, পুনর্ভবা, ঘাঘট ও টাঙ্গন নদীসমূহের পানি সমতল গত ২৪ ঘণ্টায় বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগামী দুইদিন অব্যাহত থাকতে পারে এবং পরবর্তী একদিন স্থিতিশীল থাকতে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে আরও বলা হয়, চট্টগ্রাম বিভাগের ফেনী, মুহুরী, সেলোনিয়া ও রহমতখালি খাল নদীসমূহের পানি সমতল গত ২৪ ঘণ্টায় বৃদ্ধি পেয়েছে। অপরদিকে গোমতী নদীর পানি সমতল গত ২৪ ঘণ্টায় হ্রাস পেয়েছে এবং নোয়াখালী খাল নদীর পানি সমতল স্থিতিশীল আছে। আগামী তিনদিন নদীসমূহের পানি সমতল বৃদ্ধি পেতে পারে।
এ ছাড়া গঙ্গা ও পদ্মা নদীসমূহের পানি সমতল গত ২৪ ঘণ্টায় বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগামী পাঁচদিন অব্যাহত থাকতে পারে। তবে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদ-নদীসমূহের পানি সমতল গত ২৪ ঘণ্টায় বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগামী তিনদিন অব্যাহত থাকতে পারে এবং পরবর্তী দুইদিন স্থিতিশীল থাকতে পারে। তবে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে।
বিডব্লিউওটির ফেসবুক পোস্টে আরও বলা হয়েছে, ‘ঈশান’ বৃষ্টিবলয়টি দেশের উত্তর অঞ্চলের জেলাগুলোতে বেশি প্রভাব ফেলবে ও দেশের উজানে বৃষ্টির ফলে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অতি বন্যা প্রবণ নিচু এলাকা প্লাবিত হতে পারে।
এটি একটি প্রায় পূর্ণাঙ্গ বৃষ্টিবলয়। এ বৃষ্টিবলয়ে দেশের প্রায় সব এলাকায় যথেষ্ট বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে এবং এ বৃষ্টিবলয়ের কারণে দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ এলাকায় কম-বেশি বৃষ্টি হতে পারে।
এটি চলতি বছরের ১০ম বৃষ্টিবলয় ও ৬ষ্ঠ মৌসুমী বৃষ্টিবলয়, যা রাজশাহী, রংপুর ও ময়মনসিংহ হয়ে দেশে প্রবেশ করবে ও ৯ আগস্ট রংপুর হয়ে দেশ ত্যাগ করতে পারে।
এ বৃষ্টিবলয় সর্বাধিক সক্রিয় থাকবে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে। বেশ সক্রিয় থাকবে রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও ঢাকা বিভাগে। মাঝারি সক্রিয় থাকবে বরিশাল ও খুলনা বিভাগে।
বিডব্লিউওটি জানিয়েছে, বৃষ্টিবলয় সর্বাধিক সক্রিয় থাকবে ৪ থেকে ৮ আগস্ট। দেশের ৪০-৬০ ভাগ এলাকায় ভিন্ন ভিন্ন সময়ে বৃষ্টি হবে। (উত্তরাঞ্চলে বেশি)
বজ্রপাত: অপেক্ষাকৃত বেশি
বন্যা: রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অতি বন্যা প্রবণ নিচু এলাকায় বন্যা হতে পারে।
এ বৃষ্টিবলয়ে দেশের ওপর বড় কোনো ঝড়ের আশঙ্কা নেই তবে দমকা হাওয়া থাকতে পারে বৃষ্টিবাহী এলাকায়।
সাগর: বেশিরভাগ সময়েই সাগর নিরাপদ থাকতে পারে।
পাহাড় ধস: এসময় চট্টগ্রাম এবং সিলেট বিভাগের পাহাড়ি এলাকাতে পাহাড় ধসের বেশ আশঙ্কা রয়েছে।
বৃষ্টিবলয় ‘ঈশান’ চলাকালীন সময়ে দেশের আকাশ অধিকাংশ এলাকায় আংশিক থেকে মূলত মেঘলা থাকতে পারে। অধিক সক্রিয় এলাকায় মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে।
বৃষ্টিবলয় ঈশান চলাকালীন সময়ে দেশের আবহাওয়া উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের অধিকাংশ এলাকায় আরামদায়ক থাকতে পারে, তবে বৃষ্টি বিরতির সময় অল্প কিছুটা ভ্যাপসা গরম পড়তে পারে কিছু কিছু এলাকায়। দক্ষিণাঞ্চলে ভ্যাপসা গরম অনুভূতি থাকতে পারে। ‘ঈশান’ চলাকালীন সময়ে বেশি সক্রিয় স্থানে রোদের উপস্থিতি তেমন পাওয়া যাবে না।
‘মব ভায়োলেন্স’ আগের থেকে কমেছে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
‘মব ভায়োলেন্স’ আগের থেকে কমেছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। আজ সোমবার দুপুরে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য জানান তিনি।
মব নিয়ে পুলিশ কেন এখনও কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারছে না এমন এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, মব ভায়োলেন্স আগের থেকে কমেছে। আস্তে আস্তে আরও কমে যাবে। মবের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় আমরা দেই নাই।
নির্বাচন নিয়ে পুলিশের প্রস্তুতি কেমন এবং আওয়ামী লীগ অংশ নেবে কি নেবে না তা নিয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনে কে অংশ নেবে আর কে অংশ নেবে না সেটা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিষয় না। আমার হলো নির্বাচন যে সময় হবে; সে সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেন ভালো থাকে সেজন্য আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি। এরআগেও আমরা বলেছি যে আমরা এজন্য প্রশিক্ষণ দিচ্ছি।
অভিযোগ আছে আপনারা কোনো দলকে বেশি প্রোটেকশন দিচ্ছেন; কোনো দলকে কম দিচ্ছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা সবাইরে সমান সুরক্ষা দিচ্ছি। তবে যে বেশি ভালনারেবল তারে একটু বেশি সুরক্ষা দেওয়া হয়, আর যে একটু কম তারে একটু কম দেওয়া হয়। আপনারা তো ভালনারেবল না, এজন্য আপনাদের সুরক্ষার দরকার হয় না।
ভালনারেবলটা কীভাবে নির্ধারণ করেন জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, আমাদের বিভিন্ন এজেন্সি আছে ও আপনাদের থেকে এই তথ্য পাই।
এই বাহিনী দিয়ে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে সেই কনফিডেন্সে আছে কি? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই বাহিনী দিয়েই নির্বাচন হবে আল্লাহ দিলে। খুব ভালো নির্বাচন হবে এবং ভালোভাবে হবে।
ইমরানের জবানবন্দিতে
হাসপাতালে ‘নো ট্রিটমেন্ট নো রিলিজ’ নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় আসামি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে জবানবন্দি দিয়েছেন শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল ইমরান।
সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এ মামলার দ্বিতীয় সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন তিনি।
জবানবন্দিতে আবদুল্লাহ আল ইমরান বলেন, রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্র (পঙ্গু হাসপাতাল) পরিদর্শনে গিয়ে শেখ হাসিনা ‘নো ট্রিটমেন্ট নো রিলিজ’ নির্দেশ দিয়েছিলেন।
জবানবন্দিতে শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল ইমরান বলেন, গত বছরের ১৯ জুলাই রাজধানীর বিজয়নগর পানির ট্যাংক এলাকায় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। তার বাঁ হাঁটুর নিচে গুলি লাগে।
আবদুল্লাহ আল ইমরান বলেন, রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুর্নবাসন কেন্দ্রে (পঙ্গু হাসপাতাল) তার চিকিৎসা চলছিল। গত বছরের ২৬ অথবা ২৭ জুলাই সকাল ৯টা-১০টার দিকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পঙ্গু হাসপাতাল পরিদর্শনে যান। একপর্যায়ে শেখ হাসিনা তার কাছে যান। শেখ হাসিনাকে তিনি ‘ম্যাডাম’ বলে সম্বোধন করেন। শেখ হাসিনা তাকে ‘আপা’ বলে ডাকতে বলেন।
আবদুল্লাহ আল ইমরান আরও বলেন, তিনি কোথায় পড়াশোনা করেন, হলে থাকেন কি না, কেন থাকেন না, সে সম্পর্কে শেখ হাসিনা জানতে চান।
তিনি বলেন, ‘একপর্যায়ে শেখ হাসিনা বুঝতে পারেন, আমি আন্দোলনকারী। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করেন, পুলিশ তোমাকে গুলি করেছে? আমি বলি, পুলিশ আমাকে সরাসরি গুলি করে। পুলিশের পোশাকে কারা ছিল, সেটা আমি জানি না। আমার পর আরও চার থেকে পাঁচজনের সঙ্গে তিনি কথা বলেন। পরে শেখ হাসিনা যখন চলে যাচ্ছিলেন, তখন হেল্পডেস্কের কাছে গিয়ে “নো ট্রিটমেন্ট নো রিলিজ” অর্ডার দিয়ে যান, যা আমি শুনতে পাই।’
তবে ‘নো ট্রিটমেন্ট নো রিলিজ’ মানে কী, তখন বুঝতে পারেননি বলেও জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন আবদুল্লাহ আল ইমরান।
তিনি বলেন, একপর্যায়ে তিনি দেখেন, যথাসময়ে তার অস্ত্রোপচার হচ্ছে না। বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে পারছেন না। তার বাবা হাসপাতাল থেকে নিয়ে যেতে চাইলেও নিতে পারছিলেন না। তখন তিনি বুঝতে পারেন ‘নো ট্রিটমেন্ট নো রিলিজ’–এর মানে। তার পা কেটে তাকে কারাগারে নিতে চেয়েছিল।
এ ঘটনার জন্য শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে দায়ী করেন আবদুল্লাহ আল ইমরান।
গতকাল রোববার এই মামলার প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন মাইক্রোবাসচালক খোকন চন্দ্র বর্মণ।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় গতকাল ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন ও সাক্ষ্য গ্রহণের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়।
গত বছরের জুলাই ও আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে যে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছিল, তার এক বছরের মাথায় এই মামলার মাধ্যমে সেই অপরাধের আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হলো।
চট্টগ্রামে সাবেক সেনাপ্রধান হারুন-অর-রশীদের মরদেহ উদ্ধার
চট্টগ্রাম ক্লাবের গেস্ট হাউজ থেকে সাবেক সেনাপ্রধান এম হারুন-অর-রশীদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার (৪ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় মরদেহের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী ও পুলিশ অবস্থান করছে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) দক্ষিণ জোনের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. আলমগীর হোসেন ঢাকা পোস্টকে বলেন, রাতে তিনি একটি বিয়ের দাওয়াতে অংশগ্রহণ করেছিলেন। এরপর ক্লাবের ৩০৮ রুমে রাত্রিযাপন করেছিলেন তিনি। সকালে তার একটা মিটিং ছিল। তার মোবাইলে বার বার কল দেওয়া হলেও তিনি রেসপন্স করছিলেন না। এরপর দরজায় নক করা হলেও কোনো সাড়া শব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরবর্তীতে বারান্দায় গ্লাসের দরজা ভেঙে বিছানায় তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।
তিনি আরও বলেন, আপাতত তার মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। বর্তমানে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কর্মকর্তা ক্রাইম সিন ইউনিটসহ বিভিন্ন সংস্থার লোকজন উপস্থিত রয়েছেন। পরিবারের অনুমতি সাপেক্ষে মরদেহ ময়নাতদন্ত করা হবে। এরপর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য