ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

সুন্দরবন স্কয়ার মার্কেটের আগুন নিয়ন্ত্রণে

অনলাইন ডেস্ক
২ আগস্ট, ২০২৫ ১২:১
অনলাইন ডেস্ক
সুন্দরবন স্কয়ার মার্কেটের আগুন নিয়ন্ত্রণে

রাজধানীর গুলিস্তানের প্রাণকেন্দ্রের সুন্দরবন স্কয়ার মার্কেটের ৫ম তলায় লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ফায়ার সার্ভিসের ১১টি ইউনিট চেষ্টায় বেলা ১১টা ১২ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।


এর আগে শনিবার (২ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে আগুনের খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। 


জানা গেছে, ভবনের ৫ম তলার একটি গোডাউন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। এতে ভবনের অন্যান্য ফ্লোরে থাকা দোকানিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সেনাবহিনী, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে মাইকিং করে দোকানদারদের ভবন থেকে নেমে আসার আহ্বান জানানো হয়। তারা যাতে অগ্নি নির্বাপন কাজ সহজে করতে পারে সেজন্য সহযোগিতা চাওয়া হয়।   


ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেল এর কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন বলেন, আমাদের ১১টি ইউনিট কাজ করে বেলা ১১টা ১২ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণ এনেছে। প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ জানা যায়নি এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও জানা যায়নি। এছাড়া আগুনে কেউ হতাহত হয়েছে এমন কোনো সংবাদ আমাদের কাছে আসেনি।

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    ১৫ শতাংশ কমিয়ে বাংলাদেশি পণ্যে ২০% শুল্ক নির্ধারণ যুক্তরাষ্ট্রের

    অনলাইন ডেস্ক
    ১ আগস্ট, ২০২৫ ১৪:৩
    অনলাইন ডেস্ক
    ১৫ শতাংশ কমিয়ে বাংলাদেশি পণ্যে ২০% শুল্ক নির্ধারণ যুক্তরাষ্ট্রের

    বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।শুল্ক ১৫ শতাংশ কমিয়ে ২০ শতাংশ নির্ধারণ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। দেশটির স্থানীয় সময় শুক্রবার (১ আগস্ট) শুল্ক নিয়ে হোয়াইট হাউস থেকে এ তথ্য জানানো হয়। খবর রয়টার্সের।


    ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থাটি জানিয়েছে, শুল্ক আরোপ নিয়ে নতুন করে সিদ্ধান্তের কথা জানায় হোয়াইট হাউস। বাংলাদেশি পণ্যে শুল্ক ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হয়েছে। আফগানিস্তান, আঙ্গোলা, বোসতনিয়া, ক্যামেরুন, চাঁদ, কেস্টিারিকা, কোতে দি আইভোরে, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব দ্য কঙ্গো, ইকুয়েডর ও গিনিয়ার পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্ক আরোপ করা হয়েছে ১৫ শতাংশ। 


    অন্যদিকে, আলজেরিয়ার পণ্যের ৩০ শতাংশ, কানাডার ওপর ৩৫ শতাংশ, ভারতের ওপর ২৫ শতাংশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।


    ইইউভুক্ত দেশগুলোর জন্য শুল্ক শূন্য শতাংশ করা হয়েছে। এছাড়া থাইল্যান্ডের ওপর ১৯ শতাংশ ও ব্রাজিলের পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।


    গত ২ এপ্রিল বাণিজ্য ঘাটতির কথা উল্লেখ করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর উচ্চহারে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওই দিন রোজ গার্ডেনে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প কোন দেশের ওপর কত পারস্পরিক শুল্ক (রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ) আরোপ করছেন, তার একটি তালিকা তুলে ধরেন। প্রদর্শিত তালিকায় কোন দেশ যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর কত শতাংশ শুল্ক আরোপ করে, সে তথ্যও ছিল।


    তালিকার তথ্যানুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর বাংলাদেশের আরোপকৃত শুল্কের হার ৭৪ শতাংশ। এজন্য বাংলাদেশের ওপর আরোপ করা হয় পালটা ৩৭ শতাংশ শুল্ক। পরে ৯ এপ্রিল বিভিন্ন দেশের ওপর ওই শুল্ক তিন মাসের জন্য স্থগিত করা হয়। এ সময় শুল্ক নিয়ে আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিভিন্ন দেশকে আলোচনার সুযোগ দেয় ওয়াশিংটন।


    গত ৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের তিন মাসের সময়সীমা শেষ হয়। এর আগের দিন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে চিঠি দিয়ে ট্রাম্প জানান, বাংলাদেশের পাল্টা শুল্ক ২ শতাংশ কমিয়ে ৩৫ শতাংশ করা হয়েছে। যদিও ৯ জুলাইয়ের পর পাল্টা শুল্ক কার্যকর করেনি মার্কিন প্রশাসন। শুল্কের হার কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তির জন্য ৩১ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন দেশকে সময় দেওয়া হয়, যে তালিকায় বাংলাদেও ছিল। 


    শুল্ক কমানো নিয়ে আলোচনা জন্য বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র সফরে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির (ইউএসটিআর) সঙ্গে টানা তিন দিন আলোচনা করেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। মঙ্গলবার ও বুধবারের পর বৃহস্পতিবার তৃতীয় দিনের মতো আলোচনা হয়।


    আলোচনায় বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। এতে আরও রয়েছেন— জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নাজনীন কাউসার চৌধুরী। বৈঠকে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের শীর্ষ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের কর্মকর্তারা ভার্চুয়ালি অংশ নিয়েছেন।

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক কমানোর চুক্তি কূটনৈতিক বিজয় : ড. ইউনূস

      অনলাইন ডেস্ক
      ১ আগস্ট, ২০২৫ ১২:২২
      অনলাইন ডেস্ক
      যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক কমানোর চুক্তি কূটনৈতিক বিজয় : ড. ইউনূস

      প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক কমানোর যে চুক্তি হয়েছে সেটি আমাদের কূটনৈতিক বিজয়।


      শুক্রবার (০১ আগস্ট) গণমাধ্যমে প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বার্তায় এ কথা জানানো হয়।


      এতে বলা হয়, আমেরিকার শুল্ক কমানো আমাদের কূটনৈতিক বিজয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সফল এই চুক্তি নিশ্চিত করতে যারা আলোচনায় অংশ নিয়েছেন তাদের আন্তরিকভাবে অভিনন্দন।


      এতে আরও বলা হয়, শুল্ক হার প্রত্যাশিতের চেয়ে ১৭ পয়েন্ট কমিয়ে ২০ শতাংশে নামিয়ে এনে আমাদের আলোচকরা অসাধারণ কৌশলগত দক্ষতা দেখিয়েছেন। এটি দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা ও অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতির একটি উজ্জ্বল প্রমাণ।


      এতে বলা হয়, গত ফেব্রুয়ারি থেকে তারা নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন এবং শুল্ক, অ-শুল্ক ও জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত জটিল আলোচনার মধ্য দিয়ে অত্যন্ত সফলভাবে এগিয়ে গেছেন। এই চুক্তি বাংলাদেশের তুলনামূলক সুবিধা ধরে রেখেছে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভোক্তা বাজারে আমাদের প্রবেশাধিকার বাড়িয়েছে এবং জাতীয় স্বার্থ সুদৃঢ়ভাবে সংরক্ষণ করেছে।


      প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এই সাফল্য কেবল বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্রমবর্ধমান শক্তির স্বীকৃতি নয়, এটি আমাদের সামনে আরও বড় সুযোগ, দ্রুততর উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদি সমৃদ্ধির দ্বার উন্মোচন করেছে। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ এখন নিঃসন্দেহে উজ্জ্বল। আজকের এই সাফল্য আমাদের জাতীয় দৃঢ়তা ও একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের সাহসী দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিচ্ছবি।’


      এর আগে, হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে শুক্রবার দেওয়া এক ঘোষণায় জানানো হয়, আজ ১ আগস্ট থেকে নতুন শুল্ক কার্যকর হচ্ছে। ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।


      এই ঘোষণায় আরও জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্র একইসঙ্গে একাধিক দেশের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে। এর মধ্যে ভারতের ওপর ২৫ শতাংশ, পাকিস্তান, ভিয়েতনাম, শ্রীলঙ্কা ও ফিলিপাইনের ওপর ২০ শতাংশ, কম্বোডিয়া, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার ওপর ১৯ শতাংশ, আফগানিস্তানের ওপর ১৫ শতাংশ এবং মিয়ানমারের ওপর সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।


      ঘোষণার পরপরই তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। এ সময় তিনি জানান, বাংলাদেশের ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করায় আমরা প্রতিযোগিতামূলক অবস্থায় থাকব। যুক্তরাষ্ট্রে আমাদের রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে আমরা ২০ শতাংশের নিচে প্রত‍্যাশা করেছিলাম।

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাব

        ৩ বাহিনীর প্রধান, ডিজিএফআই ও এনএসআইয়ের ডিজি নিয়োগ দেবেন রাষ্ট্রপতি

        অনলাইন ডেস্ক
        ৩১ জুলাই, ২০২৫ ১৯:৪৫
        অনলাইন ডেস্ক
        ৩ বাহিনীর প্রধান, ডিজিএফআই ও এনএসআইয়ের ডিজি নিয়োগ দেবেন রাষ্ট্রপতি

        তিন বাহিনীর প্রধান এবং প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই) ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দার (এনএসআই) মহাপরিচালক নিয়োগের ক্ষমতা সরাসরি রাষ্ট্রপতির হাতে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। এ প্রস্তাবের ওপর বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঐকমত্য কমিশনের আলোচনা হয়।


        এর আগে বুধবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক শেষে ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানান, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও দায়িত্ব নিয়ে একটি ধারণাপত্র তাঁরা রাজনৈতিক দলগুলোকে দিয়েছেন।


        বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়া কেবল প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তবে ঐকমত্য কমিশন আরও কিছু নিয়োগে রাষ্ট্রপতির স্বাধীন ক্ষমতার বিষয়ে প্রস্তাব দিয়েছে।


        তিন বাহিনীর প্রধান ও দুই গোয়েন্দাপ্রধান নিয়োগের ক্ষমতার বিষয়টির পাশাপাশি আরও ৯টি নিয়োগের ক্ষমতা সরাসরি রাষ্ট্রপতির হাতে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে ঐকমত্য কমিশন। অ্যাটর্নি জেনারেল, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্য, তথ্য কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্য, বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান, আইন কমিশনের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান ও সদস্য, এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্য এবং বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস রেগুলেটরি কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান ও সদস্য।


        ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি আলী রীয়াজ বলেন, এসব প্রস্তাব রাজনৈতিক দলগুলোর বিবেচনার জন্য দেওয়া হয়েছে। যদি এসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়, তাহলে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে তা কার্যকর করতে হবে। রাজনৈতিক দলের মধ্যে সব আলোচনা শেষ করতে চায় বলে বৃহস্পতিবার ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি আলী রীয়াজ জানিয়েছেন।

        মন্তব্য

        জুলাই ডায়েরি

        ‘হারুনের ভাতের হোটেল’ বন্ধ হওয়ার দিন আজ

        অনলাইন ডেস্ক
        ৩১ জুলাই, ২০২৫ ১৮:২১
        অনলাইন ডেস্ক
        ‘হারুনের ভাতের হোটেল’ বন্ধ হওয়ার দিন আজ

        রাজধানীর মিন্টো রোডের গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কার্যালয়ে আসা বিভিন্ন ব্যক্তিকে ভাত খাওয়ানোর ভিডিও করে আলোচনায় এসেছিলেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ। তার এমন কার্যক্রমকে অনেকেই রসিকতা করে বলতেন ‘হারুনের ভাতের হোটেল’। এ নামকরণকে তিনি উপভোগ করতেন বলেও একাধিক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন।


        কিন্তু ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর 'ভাতের হোটেলের' সেই হারুনও পলাতক হয়ে পড়েন। গত বছর এই দিনে, ৩১ জুলাই সরকার পতনের আন্দোলনের উত্তাল সময়ে হারুনকে ডিবি কার্যালয় থেকে সরিয়ে দিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। বর্তমানে ডিবির কর্মকর্তারা ‘হারুনের ভাতের হোটেল’ প্রসঙ্গে কথা বলতে বিব্রতবোধ করেন।


        হারুনের বিরুদ্ধে বিতর্কিত কার্যক্রমের দীর্ঘ তালিকা রয়েছে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছয় সমন্বয়ককে নিরাপত্তা দেওয়ার কথা বলে ডিবি কার্যালয়ে আটকে রাখার ঘটনায় শুরু হয় তীব্র আলোচনা-সমালোচনা। বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালতও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এমনকি তার কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ১৪ দলীয় জোটের রুদ্ধদ্বার বৈঠকেও আলোচনা হয়। এরপরই তাকে ডিবি থেকে সরিয়ে ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স শাখার দায়িত্ব দেওয়া হয়।


        জানা যায়, বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের ২০তম ব্যাচের কর্মকর্তা মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ কিশোরগঞ্জের বাসিন্দা। আলোচনায় আসেন ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগে অতিরিক্ত উপ-কমিশনার থাকার সময়। ২০১১ সালে সংসদ ভবন এলাকায় তৎকালীন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নাল আবেদীন ফারুককে মারধরের অভিযোগ উঠে তাঁর বিরুদ্ধে। এরপরও নানা বিতর্কে জড়িয়ে আলোচনায় থাকেন তিনি।


        পুলিশ সুপার হিসেবে গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে দায়িত্ব পালন করেন হারুন। ২০১৬ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের দুই দিন আগে নির্বাচন কমিশন তাঁকে গাজীপুর থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিলেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরে আবারও তাঁকে সেখানে এসপি হিসেবে পদায়ন করে। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জে দায়িত্ব পালনকালে পারটেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান এম এ হাশেমের ছেলে ও আম্বার গ্রুপের চেয়ারম্যান শওকত আজিজ রাসেলের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন তিনি। রাসেলের গাড়ি, চালক এবং পরদিন স্ত্রী-সন্তানকে আটক করেন তিনি। পরে গাড়ি থেকে ইয়াবা, মদ ও গুলি উদ্ধারের দাবি করেন হারুন। তবে সিসিটিভি ফুটেজে বাসা থেকে তুলে নেওয়ার প্রমাণ ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন। ফলে ২০১৯ সালের নভেম্বরে তাঁকে প্রত্যাহার করে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে বদলি করা হয়।


        ২০২১ সালে তিনি অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে ডিবি উত্তর, সাইবার ও স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের যুগ্ম কমিশনার হন এবং এক বছরের মধ্যে ডিআইজি পদে পদোন্নতি পান। পরবর্তীতে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে ডিবির দায়িত্ব পান এবং তখন থেকেই ‘ভাতের হোটেল’ নামে ডিবির কর্মকাণ্ড নতুন বিতর্কের জন্ম দেয়।


        ডিবিতে দায়িত্ব পালনকালে বিকৃত সুরে রবীন্দ্রসংগীত গাওয়ায় হিরো আলমকে আটক করে আবারও সমালোচনায় আসেন হারুন। এ ঘটনা আন্তর্জাতিক মিডিয়াতেও প্রচারিত হয় এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও বিব্রত হন।


        বিএনপি নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে সড়কে পিটিয়ে আহত করার পর ডিবিতে এনে ভাত খাওয়ানোর ভিডিও প্রচার করে ফের সমালোচনায় আসেন তিনি। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন তারকাসহ অভিযোগ নিয়ে আসা সাধারণ নাগরিকদের ভাত খাইয়ে ছবি ও ভিডিও প্রচার করা ছিল তাঁর নিত্যদিনের কাজ। এমনকি ব্লগার ও টিকটকারদের দিয়েও নিজের প্রচারণামূলক ভ্লগ বানান তিনি।


        হারুনের এসব কর্মকাণ্ডে অনেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিব্রত হলেও তার প্রভাবের কারণে প্রকাশ্যে কেউ কিছু বলতেন না। ডিবির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আলোচিত এমপি আনার হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটনকারী কর্মকর্তাকেও ডিবি থেকে সরিয়ে দিতে হারুন ইন্ধন দিয়েছিলেন। ডিবিতে যাঁরা নিয়মিত তাঁর কাছে উপস্থিত হতেন না, তাঁদের তিনি অপছন্দ করতেন।


        ডিবির একটি সূত্র জানায়, সরকারের বিশেষ আনুকূল্য লাভের আশায় হারুনের নির্দেশেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছয় নেতাকে তুলে আনা হয়। তাদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজির না করে ‘নিরাপত্তা দেওয়ার’ কথা বলে ডিবি হেফাজতে রাখেন তিনি। পরবর্তীতে আন্দোলন প্রত্যাহারের ভিডিও ধারণ করে প্রচার করেন এবং নিজের সামাজিক মাধ্যমে ছয় সমন্বয়কের সঙ্গে ভাত খাওয়ার ছবিও প্রকাশ করেন। বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।


        এক রিট আবেদনের শুনানিতে উচ্চ আদালত বলেন, ‘জাতিকে নিয়ে মশকরা কইরেন না, যাকে ধরেন, খাবার টেবিলে বসিয়ে দেন।’ এরপরই সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে উল্লেখ করে ১৪ দলীয় জোটের নেতারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে অভিযোগ করেন। তাঁর নির্দেশেই হারুনকে ডিবির দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।


        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য
          সর্বশেষ সংবাদ
            সর্বাধিক পঠিত