শিরোনাম
১০টির বেশি সিম রাখলে ডি-রেজিস্ট্রার করতে হবে ৩০ অক্টোবরের মধ্যে: বিটিআরসি
একজন গ্রাহকের নামে ১০টির বেশি মোবাইল সিম নিবন্ধিত থাকলে অতিরিক্ত সিমগুলো আগামী ৩০ অক্টোবরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট অপারেটরের মাধ্যমে ডি-রেজিস্টার করার নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।
সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের এ বিষয়ে সতর্ক করে বিটিআরসির বার্তায় বলা হয়েছে, “এক ব্যক্তির নামে ১০টির অধিক সিম থাকলে অতিরিক্ত সিমসমূহ ৩০ অক্টোবরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট অপারেটরের মাধ্যমে ডি-রেজিস্টার করুন। *16001# ডায়াল করে নিবন্ধিত সিমের তথ্য জানুন।”
বিটিআরসির নির্দেশনা অনুযায়ী, একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ ১০টি সিম রাখতে পারবেন।
নির্ধারিত সংখ্যার বেশি সিম থাকলে তা অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে এবং সেগুলো যেকোনো সময় বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।
বিটিআরসি জানিয়েছে, অবৈধ সিম ব্যবহার রোধ, সাইবার অপরাধ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গ্রাহকদের নিজ উদ্যোগে সিম যাচাই করে অপ্রয়োজনীয় বা অতিরিক্ত সিম নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বন্ধ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। সময়মতো ডি-রেজিস্ট্রেশন না করলে গ্রাহককে আইনগত জটিলতায় পড়তে হতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সিম যাচাইয়ের সহজ উপায়
নিজ নামে কয়টি সিম চালু রয়েছে তা জানতে *16001# ডায়াল করে সহজেই যাচাই করা যাবে। ফিরতি এসএমএসে সকল সিম নম্বরের তালিকা পাঠানো হবে।
আজই জুলাই সনদের খসড়া চূড়ান্ত করতে চায় কমিশন
প্রস্তাবিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫’-এর খসড়া প্রণয়নে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতার প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। গুরুত্বপূর্ণ ১২টি বিষয়ে একমত হলেও বাকি আটটি বিষয় নিয়ে ভেতরে-বাইরে দেনদরবার অব্যাহত আছে। সর্বশেষ সংরক্ষিত নারী আসন প্রশ্নে বিদ্যমান ৫০টি আসন বহাল রেখে আগামী সংসদ নির্বাচনে ৫ শতাংশ আসনে নারী প্রার্থী মনোনয়নের প্রস্তাবে সম্মত হয়েছে দলগুলো, যা ক্রমান্বয়ে বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। আলোচনা শেষ করে আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সনদের খসড়া চূড়ান্ত করতে চায় জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।
তবে আইনি ভিত্তি নিশ্চিত না করলে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করবে না বলে জানিয়েছে জামায়াত ও এনসিপি।
গতকাল বুধবার বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঐকমত্য কমিশনের দ্বিতীয় ধাপের ২২তম দিনের আলোচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংলাপে সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও দায়িত্ব (অনুচ্ছেদ ৪৮-৩), রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পদ্ধতি, ইলেকটোরাল কলেজ, উচ্চকক্ষের গঠন ও সদস্য নির্বাচনের পদ্ধতি, এখতিয়ার, নাগরিকের মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ সম্পর্কিত প্রস্তাব এবং রাষ্ট্রের মূলনীতি নিয়ে আলোচনা হয়। ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজের সভাপতিত্বে এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দারের সঞ্চালনায় সংলাপে উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সদস্য বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. বদিউল আলম মজুমদার, সফর রাজ হোসেন ও ড. মো. আইয়ুব মিয়া।
সংলাপে ৩০টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সংলাপে সূচনা বক্তব্যে অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য একটি গ্রহণযোগ্য ঐকমত্যের খসড়া সনদ চূড়ান্তভাবে সবার হাতে তুলে দেওয়া। এ জন্য প্রতিটি অনুচ্ছেদ ধরে আলোচনা করার সুযোগ না থাকলেও সংশোধনী ও সংযোজনীগুলো দলগুলোর কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে, তা রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
আর প্রাথমিক পর্য়ায়ের প্রস্তাবিত ১৬৬টি বিষয়ের মধ্যে যে শতাধিক বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য হয়েছিল, সেই আলোচিত ইস্যুগুলো দলগুলোর কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া রাজনৈতিক দলগুলো কিছু বিষয় আলোচনার দায়িত্ব দিয়েছে, যার মধ্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয় আছে। সেগুলো নিয়ে আলোচনা অব্যাহত আছে এবং আমরা আশা করছি, সিদ্ধান্তগুলো আগামীকালের (বৃহস্পতিবার) মধ্যেই গ্রহণ করতে পারব।’
আলী রীয়াজ বলেন, ‘প্রাথমিক পর্যায়ে আলোচনার সময় নাগরিকের মৌলিক অধিকারগুলো সম্প্রসারিত করার বিষয়ে সব দলই একমত হয়েছিল। সেই নীতিগত অবস্থান থেকেই সংবিধানে পরিবর্তন ও সংশোধনের প্রস্তাব এসেছে।
কমিশনের পক্ষ থেকে যে পাঁচটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে দলগুলোর মধ্যে পূর্ণ ঐকমত্য হয়নি। বিএনপি তাদের সুস্পষ্ট পরামর্শ ও অবস্থান জানিয়ে দিয়েছে; যেখানে একমত, সেখানে সেটা বলা হয়েছে এবং যেখানে নয়, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছে। এখন প্রশ্ন হলো, এসব বিষয়কে তৃতীয়ভাবে কিভাবে সংবিধানে সন্নিবেশিত করা যায়, সেটা আমরা বিবেচনায় এনেছি।’
কমিশন সূত্র জানায়, সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবে ১০০ আসনে সরাসরি নারীদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিধান রাখার কথা বলা হয়। নির্বাচন সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবে ঘূর্ণায়মান পদ্ধতিতে ১০০ নারী আসনে সরাসরি ভোটের কথা বলা হয়। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ঘূর্ণায়মান পদ্ধতিতে ১০০ আসনে সরাসরি ভোটের কথা বলে। সিপিবি, বাসদ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বাসদ (মার্ক্সবাদী), গণফোরাম, বাংলাদেশ জাসদ ও জেএসডি সরাসরি ভোটের কথা বলে। তবে জামায়াতসহ ইসলামী দলগুলো সংখ্যানুপাতিক হারে ১০০ আসনে নারীদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিধান রাখার কথা বলে। বিএনপিসহ সমমনা দলগুলো বিদ্যমান পদ্ধতিতে ১০০ সংরক্ষিত আসনের কথা বলে। এমন অবস্থায় কমিশন ১৪ জুলাই সংশোধিত একটি প্রস্তাব উপস্থাপন করে। সেখানে বলা হয়, যে দল ২৫টির বেশি আসনে প্রার্থী মনোনয়ন দেবে, তাদের ন্যূনতম এক-তৃতীয়াংশ আসনে নারী প্রার্থী মনোনয়ন দিতে হবে। ওই দিন এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করে বেশির ভাগ দল। সর্বশেষ বিদ্যমান সংরক্ষিত ৫০ নারী আসন বহাল রেখে ৫ থেকে ৭ শতাংশ আসনে সরাসরি প্রার্থী করার সংশোধিত প্রস্তাব করে কমিশন। আলোচনা শেষে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব গৃহীত হয়।
সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব বিষয়ে বিএনপির প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে বলে জানান দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রথম ধাপে প্রস্তাব করেছি, আগামী নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ৫ শতাংশ, অর্থাৎ ১৫টি আসনে নারীদের সরাসরি মনোনয়ন দেওয়া হবে। পরবর্তী নির্বাচনে তা ১২ শতাংশ, অর্থাৎ ৩৬টি হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা চাই, নারীরা সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত হোক। কিন্তু সমাজের বাস্তবতা বিবেচনায় আমরা ধাপে ধাপে অগ্রসর হতে চাই।’
এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, ‘১০০ আসনের মধ্যে ৫০টিতে সরাসরি ভোটের প্রস্তাব দিয়েছে কমিশন। তবে রাজনৈতিক দলগুলো কেউ কেউ ত্রয়োদশ নির্বাচন থেকে ৫ শতাংশ করে মনোনয়ন দেওয়ার কথা বলেছে। আমরা চাই, তা সংসদের নিম্নকক্ষের আনুপাতিক হারে বণ্টন হবে।’ তবে নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে হলেও এ বিষয়ে একটি ঐকমত্যে আসা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা করেন।
জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন : আলোচনা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে দলগুলো। জামায়াত নেতা ডা. মোহাম্মদ তাহের বলেন, সংস্কার প্রস্তাবগুলোর যদি আইনগত ভিত্তি না থাকে, তাহলে সেগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না এবং জনগণের কাছেও এর কোনো মূল্য থাকবে না।
ডা. তাহের বলেন, ‘আমরা শুরু থেকেই ধরে নিয়েছিলাম, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রস্তাবিত সংস্কারগুলো আইনগত ভিত্তি পাবে এবং তা বাস্তবায়ন বাধ্যতামূলক হবে। কিন্তু যদি আইনগত ভিত্তি না থাকে, তাহলে এটি কেবল কথার কথা থেকে যাবে।’
তিনি বলেন, ‘এই সনদের প্রস্তাব যদি বাস্তবায়নযোগ্য না হয়, আইনগত ভিত্তি না থাকে, তাহলে তা শুধু একটি প্রতীকী দলিল হয়ে থাকবে। তাতে আমরা সই করব না। জনগণের কাছে যার কোনো বাস্তব মূল্য নেই, এমন প্রস্তাবে সই করে লাভ কী?’
ঐকমত্য কমিশনের একমত হওয়া বিষয়গুলো নিয়ে জুলাই সনদ আইনিভাবে হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন। তিনি বলেন, ৩৬ জুলাইয়ের মধ্যে জুলাই ঘোষণাপত্র দিতে হবে। এ নিয়ে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। এর আইনি ভিত্তি দিতে হবে। এর ব্যত্যয় হলে ফ্যাসিবাদবিরোধী সব শক্তিকে নিয়ে ঐকবদ্ধভাবে আদায় করা হবে।
তিনি বলেন, আরেকটি বিষয় হলো, অনেকে জুলাই ঘোষণাপত্র ও জুলাই সনদকে গুলিয়ে ফেলেন। অথচ দুটি বিষয় আলাদা। সনদের মাধ্যমে রাষ্ট্র কাঠামোর বিষয়গুলো সন্নিবেশিত হবে। আর ঘোষণাপত্রে জুলাই আন্দোলনের ঘটনাপ্রবাহ। আখতার হোসেন বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোর একমত হওয়া বিষয়গুলোকে আইনি ভিত্তি দিতে হবে। অন্যথায় এর কোনো মূল্য থাকবে না। একটি ঐতিহাসিক দলিল হিসেবেই থাকবে। আর এটি দুই বছরের প্রস্তাবকে এনসিপি নাকচ করছে। এমনটি হলে আমরা সই করব না। কারণ পরবর্তী সরকার এর স্বীকৃতি দেবে—এমন কথা ফাঁকিবাজি ছাড়া আর কিছুই নয়।’ জুলাই সনদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দাবি করেন তিনি।
তিন বাহিনীর প্রধান নিয়োগ রাষ্ট্রপতির হাতে রাখার প্রস্তাব : তিন বাহিনীর প্রধান নিয়োগ রাষ্ট্রপতির হাতে রাখার প্রস্তাব করেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ‘আমরা রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও দায়িত্ব নিয়ে একটি ধারণাপত্র রাজনৈতিক দলগুলোকে দিয়েছি। বর্তমানে সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ব্যতিরেকে কেবল দুটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা নিয়োগ। তবে আমরা প্রস্তাব করেছি, আরো কিছু নিয়োগে রাষ্ট্রপতির স্বাধীন ক্ষমতা থাকা উচিত।
গতকাল ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দ্বিতীয় ধাপের সংলাপের ২২ দিনের সংলাপ শেষে এসব কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, প্রস্তাবগুলো রাজনৈতিক দলগুলোর বিবেচনার জন্য দেওয়া হয়েছে। যদি এ বিষয়ে ঐকমত্য হয়, তাহলে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে তা কার্যকর করতে হবে।
কমিশন প্রস্তাবিত নিয়োগের মধ্যে রয়েছে : অ্যাটর্নি জেনারেল, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্য, তথ্য কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্য, বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্য, এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্য, টেলিকম নিয়ন্ত্রক কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্য, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রধান এবং ডিজিএফআই ও এনএসআই মহাপরিচালক।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানান, নারী প্রতিনিধিত্ব এবং রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাসংক্রান্ত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অগ্রগতি হয়েছে। তবে এখনো কিছু বিষয়ে আলোচনা বাকি রয়েছে, যেগুলো ৩১ জুলাই (আজ) চূড়ান্ত করা হবে বলে আশা করি। তিনি বলেন, আলোচনায় জাতীয় সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। প্রায় সব দল একমত হয়েছে যে জাতীয় সংসদে নারী আসনের সংখ্যা পর্যায়ক্রমে ১০০-তে উন্নীত করা হবে। যদিও কয়েকটি দল ভিন্নমত বা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছে, তবু বেশির ভাগ দলের মধ্যে এ বিষয়ে একটি কার্যকর ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
নারী প্রতিনিধিত্ব বিষয়ে সিদ্ধান্তগুলো হচ্ছে—বিদ্যমান ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন বহাল রেখে সংবিধানের ৬৫(৩) অনুচ্ছেদ সংশোধন করা হবে। জুলাই সনদ স্বাক্ষরের পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে ন্যূনতম ৫ শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে দলগুলো ন্যূনতম ১০ শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেবে, এই প্রত্যাশা সংবিধানে যুক্ত হবে। ৩৩ শতাংশ নারী প্রার্থিতার লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত প্রতি নির্বাচনে নারী প্রার্থীর হার ৫ শতাংশ করে বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলগুলো।
অধ্যাপক রীয়াজ বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য, ৩১ জুলাই জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলোতে পূর্ণাঙ্গ ঐকমত্য অর্জন। এরই মধ্যে ১৪টি বিষয়ে আমরা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্যে পৌঁছেছি, যার মধ্যে নারী আসন বিষয়ে সিদ্ধান্ত অন্যতম। রাজনৈতিক দলগুলোকে আমরা লিখিত সংশোধনী ও সংযোজনীর তালিকা দিতে বলেছিলাম, অনেকেই এরই মধ্যে তা দিয়েছে। আগামীকাল (আজ) কমিশন তা পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সংশোধনী গৃহীত করবে।’ তিনি আরো বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও উচ্চপদে নিয়োগ সম্পর্কিত বিষয়ে কমিশনকেই সিদ্ধান্ত দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমরা বৃহস্পতিবার সে বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানাব।’
উল্লেখ্য, সংলাপের এক পর্যায়ে কমিশনের পক্ষ থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা হয় এবং আলোচনার অগ্রগতি ও মতভেদগুলো তাঁকে জানানো হয়।
‘অন্তর্বর্তী সরকার, জুলাই সনদ দরকার’ – স্লোগান দিয়ে শাহবাগ অবরোধ
জুলাই সনদের ঘোষণার দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন ‘জুলাইযোদ্ধারা’।
বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) বেলা ১১টা থেকে শুরু হওয়া এ অবরোধে অংশ নিয়ে তারা সড়কে অবস্থান নেন।
বিক্ষোভকারীরা ‘রক্ত লাগলে রক্ত নে, জুলাই সনদ দিয়ে দে’, ‘আমার ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেব না’, ‘২৪-এর চেতনা বৃথা হতে দেব না’, ‘অন্তর্বর্তী সরকার, জুলাই সনদ দরকার’, ‘আবু সাঈদ মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ’—এমন অনেক স্লোগান দিতে থাকেন।
আন্দোলনকারীরা বলেন, ‘আমাদের জুলাই সনদ দিতেই হবে। এটি সংবিধানে লিপিবদ্ধ করতে হবে। নাহলে আমরা জীবন দেব, কিন্তু রাজপথ ছাড়ব না। আমরা শুধু গাছের ফুল দেখতে চাই না, ফল হাতে নিয়েই ঘরে ফিরতে চাই।’
তারা আরও বলেন, ‘আমরা এর আগেও বারবার এখানে দাঁড়িয়েছি। কিন্তু সরকার শুধু আশ্বাস দিয়েছে, কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এবার আর পেছনে ফেরার পথ নেই।’
বিক্ষোভের কারণে শাহবাগে এলাকায় যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট। দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী ও পথচারীরা।
৩০ কাঠা প্লট জালিয়াতি হাসিনা-জয়-পুতুলের বিচার শুরু, গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা পৃথক তিন মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়েছে। পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ৩০ কাঠা প্লট বরাদ্দে জালিয়াতির ঘটনায় মামলাগুলো করে দুদক।
বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। তবে আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে দুদকের প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম বলেন, 'তিন মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এসব মামলার একটিতে শেখ হাসিনাসহ ১২ জন, দ্বিতীয়টিতে শেখ হাসিনা ও সজীব ওয়াজেদ জয়সহ ১৭ এবং তৃতীয়টিতে শেখ হাসিনাও সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ আসামি ১৮ জন।'
আসামিরা আদালতে উপস্থিত না থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। একইসঙ্গে সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য ১১ আগস্ট দিন ধার্য করা হয়েছে বলেও জানান মীর আহমেদ আলী সালাম।
লাইসেন্স বাতিল
তিন কোম্পানির ইন্টারনেট ব্যবহার করলে মিলবে শাস্তি
দেশের তিনটি উপজেলা বা থানা পর্যায়ের ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের আইএসপি লাইসেন্স বাতিল করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।
সম্প্রতি বিটিআরসির লাইসেন্সিং শাখার পরিচালক (প্রশাসন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ মো. তৌফিকুল ইসলামের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— ঢাকার সূত্রাপুরে অবস্থিত র্যাবি কমিউনিকেশন, কদমতলির জেজি অনলাইন এবং ধানমন্ডির বেস্ট কমিউনিকেশন লিমিটেড। ২৯৬তম কমিশন সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এসব প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এসব প্রতিষ্ঠান এখন থেকে সংশ্লিষ্ট ক্যাটাগরির অধীনে কোনো টেলিযোগাযোগ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না। কেউ এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে টেলিযোগাযোগ সেবা গ্রহণ, চুক্তি সম্পাদন বা আর্থিক লেনদেন করলে তা আইনবিরোধী হিসেবে গণ্য হবে এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০০১ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।
এ ছাড়া, প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে আবেদন অনুযায়ী সমর্পণযোগ্য লাইসেন্সপত্র চলতি মাসের মধ্যেই কমিশনে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য