শিরোনাম
সরকার গঠন ও নির্বাচন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়: চীনা রাষ্ট্রদূত
ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেছেন—বাংলাদেশে জাতীয় সরকার গঠন হওয়া না হওয়ার বিষয়টি অভ্যন্তরীণ বিষয়। বাংলাদেশের নির্বাচন কখন হবে এটিও অভ্যন্তরীণ বিষয়। অন্তর্বর্তী সরকার সফলভাবে অংশগ্রহণমূলক সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করবে-এটা চীন বিশ্বাস করে।
মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) আয়োজিত ডিক্যাব টকে এ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন রাষ্ট্রদূত।
বিএনপি ও জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত বলেন, বিগত সরকারের সময় চীন কেন বিএনপি ও জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন করতে পারেনি তা সবারই জানা।
মাইলস্টোনে চীনা যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনার বিষয়ে ইয়াও ওয়েন বলেন, এ দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে চীন কাজ করবে এবং খুব শিগগিরই কারিগরি বিশেষজ্ঞদের একটি দল ঢাকা আসবে।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়ে তিনি বলেন, তাদেরকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোই একমাত্র টেকসই সমাধান। এ বিষয়ে চীন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমার উভয় পক্ষের সঙ্গেই যোগাযোগ রাখছে।
তবে রাখাইনের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে এখনই প্রত্যাবাসন সম্ভব নয় বলেও অভিমত ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রদূত।
ডিক্যাব সভাপতি এ কে এম মঈনুদ্দিনের সভাপতিত্বে ডিক্যাব টকে বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান মামুন।
পোস্টে উপদেষ্টা আসিফ
‘মেয়র হতে না পেরে ইশরাক ভাই দখল করা টিভি দিয়ে প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছেন’
বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণ করতে না পেরে প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন যুব ও ক্রীড়া এবং স্থানীয় সরকার; পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
মঙ্গলবার নিজের ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে তিনি এ অভিযোগ করেন।
উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো—
‘থানায় হামলা করায় পুলিশবাদী মামলায় কেন অ্যারেস্ট করা হলো এই দায়ও আসিফ মাহমুদের। মুরাদনগরে ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় প্রত্যক্ষভাবে জড়িত শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের ভাই শাহ জুন্নুন বুশরী। এমনকি এই ঘটনা ঘটার পর তাকে সোশ্যাল মিডিয়ায়ও উল্লাসে মেতে উঠতে দেখা যায়। সেখানেও আমার নাম জড়ানো হলো। অথচ গত তিনমাস ধরে আমি বা আমার পরিবারের কেউ এলাকায়ই যায় না। ভিক্টিম প্রথমদিকের কোন সাক্ষাৎকারেই (আর্কাইভ আছে) আমাদের কথা বলেনি। কায়কোবাদ সাহেবের লোকেরা তাকে কনভিন্স করে একমাস পর এসব বলাচ্ছে।
এদিকে কোর্টের মারপ্যাঁচে এবং সরকারি সিদ্ধান্তে মেয়াদ শেষ হবার পরও মেয়র হতে না পেরে ইশরাক ভাইও কায়কোবাদ সাহেবের সাথে জোট বেঁধে তার দখলকৃত টিভি দিয়ে এসব প্রোপাগান্ডা ছড়ানোতে নেমেছে। সেখানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হত্যা মামলার এক আসামিকে নিয়ে এসে ভিক্টিম হিসেবে উত্থাপন করা হচ্ছে, সেলুকাস।

এই মাফিয়া, সন্ত্রাসী এস্টাবলিশমেন্টের কাছে আমরা অসহায়। মুরাদনগরে আমি এমপি ইলেকশন করতে পারি এই এক অজানা ভয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে কায়কোবাদ পরিবার। দীর্ঘদিন ধরে নিপীড়িত এলাকার মানুষকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি থেকে মুক্তি দিতে চেয়েছি। এলাকা থেকে এমপি হবার কোন খায়েশ নেই আমার। নিজের সক্ষমতার মধ্যে শুধু মানুষের জন্য কাজ করতে চেয়েছি, তাও করা সম্ভব হবে বলে মনে হচ্ছে না৷ মাফিয়াদের জয়জয়কারই চলুক।কিন্তু তা করতে গিয়ে একজন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান (যার না আছে এস্টাবলিশমেন্টের ব্যাকআপ, না আছে ফাইনানশিয়াল ব্যাকআপ) মহা ক্ষমতাশালীদের শত্রু বানিয়েছি।
মিডিয়া দখলে থাকলে কী না করা যায়? থানা ভাঙচুর করা, জুলাইয়ের হত্যার আসামিরা, মার্ডার করে উল্লাসকারীরা এখন ভিক্টিম আর আসিফ মাহমুদ ভিলেন।’
নির্বাচনে সেনাবাহিনীর ৬০ হাজার ট্রুপস থাকবে : প্রেস সচিব
নির্বাচনের সময় স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে ৬০ হাজার সেনা সদস্য নিয়োজিত থাকবেন বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
সোমবার (২৮ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান তিনি। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন স্টেক হোল্ডাদের সঙ্গে দ্বিতীয়বারের মতো বৈঠক করেন প্রধান উপদেষ্টা। বৈঠক শেষে এ বিষয়ে ব্রিফ করেন প্রেস সচিব।
ব্রিফিংয়ে শফিকুল আলম বলেন, বৈঠকে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে প্রায় ৬০ হাজারের মতো ট্রুপস নির্বাচনী ডিউটিতে থাকবেন। আপনারা জানেন, ৫ আগস্টের পর থেকে তারা মাঠে ডিউটিতে রয়েছেন। তাদের ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার আছে। আমরা আশা করছি নির্বাচনের সময় তাদের বলিষ্ঠ ভূমিকা থাকবে। তারা স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে থাকবেন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য।
এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমাদের ইন্টেলিজেন্স এজেন্সিগুলো যেন কাজ জোরদারভাবে করতে পারে এবং নির্বাচনের সময় যেন আমাদের ইন্টেলিজেন্সের কোনো দুর্বলতা না থাকে সেজন্য বলা হয়েছে। এক্ষেত্রেও আমাদের কো-অর্ডিনেশন যেন ভালো হয়, সেটির কথাও বলা হয়েছে।
শফিকুল আলম বলেন, ইলেকশনের আগে পুলিশের প্রস্তুতির কথা বলা হয়েছে। পুলিশের আইজি মহোদয় বলেছেন, সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে দেড় লাখ পুলিশের ট্রেনিং হবে নির্বাচন উপলক্ষ্যে। নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচুর মিস ইনফরমেশন অলরেডি সার্কুলেট হয়েছে। সামনে এটা আরও বাড়তে পারে। এটাকে সামনে রেখে ন্যাশনাল ইনফরমেশন সেন্টার হবে যেখানে এই মিস-ইনফরমেশনগুলোকে আমরা ডিফাইন করতে পারব। সেটি ক্রিয়েট করার চিন্তাভাবনা করা হয়েছে। এটা নিয়ে অনেক বিশদ আলোচনা হয়েছে।
ঝুঁকি নিয়ে আহতদের সেবা দেওয়া চিকিৎসকরা ‘জুলাই নায়ক’ : প্রধান উপদেষ্টা
চিকিৎসকদের উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘আপনারা শুধু চিকিৎসক নন, এই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম নায়ক। এই দুঃসময়ে আপনারা যে সেবা দিয়েছেন, যা আমরা কোনোদিন ভুলবো না।’
সোমবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে আহত জুলাই যোদ্ধাদের সেবায় নিয়োজিত স্বাস্থ্যকর্মীদের নিয়ে জুলাই স্মরণ অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যকর্মীদের উদ্দেশে এক ভিডিও বার্তায় একথা বলেন।
শুরুতেই প্রধান উপদেষ্টা মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, ‘জাতির জন্য এটি গভীর বেদনাদায়ক। আমি এই ঘটনায় নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করছি। যারা এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন তাদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা আমাদের আরেকবার স্মরণ করিয়ে দিয়েছে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীদের অবদান, তাদের পেশার মাহাত্ম্য। যখন চারপাশে কান্না, আতঙ্ক এবং অজানা আশঙ্কা, তখন আপনারাই আমাদের আশার আলো। এই কঠিন সময়ে যারা ক্লান্তি ভুলে আহতদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন আমি জাতির পক্ষ থেকে আপনাদের কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।’
যুদ্ধের সময় আক্রান্ত ও আহতদের চিকিৎসা বন্ধ করা যায় না উল্লেখ করে প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘এটা আন্তর্জাতিক আইনে স্বীকৃত। এর ব্যতিক্রম দেখেছি আমরা বাংলাদেশে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে গণঅভ্যুত্থানের দিনগুলোতে ফ্যাসিস্ট সরকার শুধু এ দেশের ছাত্র-জনতার বুকে গুলি চালিয়ে থেমে থাকেনি। তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে যাতে কেউ হাসপাতালে চিকিৎসা না পায়। জুলাইয়ের আমাদের চিকিৎসকদের গল্প কোনও যুদ্ধ ক্ষেত্রের ডাক্তারদের গল্পকেও হার মানায়। রাস্তায় ছাত্রদের পিটিয়ে রক্তাক্ত করে মেডিক্যালে ঢুকেও তাদের ওপর হামলা করেছিল। ডাক্তার নার্সদের হুমকি-ধামকি দিয়ে নানারকম বাধা দেওয়া হয়েছিল। শতশত ছেলে-মেয়ে অন্ধত্ব বরণ করেছে, কারণ তারা সঠিক সময়ে চিকিৎসা পায়নি। নির্দেশ ছিল— আন্দোলনে আহত কাউকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া যাবে না।’
তিনি বলেন, ‘আপনারা আহতদের গোপনে চিকিৎসা দিয়েছেন। হাসপাতালে হাসপাতালে নিজের জীবন বিপন্ন করে জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসায় নিজেদের সর্বোচ্চ দিয়েছেন। রোগীর কোনও তথ্য তারা নথিভুক্ত করে রাখেনি, কারণ এই নথির সূত্র ধরে আহতদের গ্রেফতার করা হচ্ছিল। বিনামূল্যে দিনরাত গুলিবিদ্ধ আন্দোলনকারীদের জীবন বাঁচাতে আপনারা সর্বোচ্চ চিকিৎসা দিয়েছেন। দুই চিকিৎসক বোনকে আমরা দেখেছি নিজ উদ্যোগে গ্যারেজের মধ্যে অস্থায়ী ক্লিনিক তৈরি করে চিকিৎসা দিয়েছেন। অনেকেই নিজের ঘরের মধ্যে অস্থায়ী ক্লিনিক তৈরি করে চিকিৎসা দিয়েছেন। আপনারা নিজেরা ঝুঁকির মধ্যে ছিলেন, আপনাদের পরিবার ঝুঁকির মধ্যে ছিল। তবুও পাহাড়সম বাধা পার করে আপনারা মানুষের জীবন বাঁচাতে এগিয়ে এসেছিলেন।’
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আহতদের জন্য রক্তের সংকট ছিল, প্রশাসনের রক্তচক্ষু এড়িয়ে আপনারা রক্তের ব্যবস্থা করেছেন। আহতদের পরিচয় গোপন রাখতে ব্যবস্থাপত্রে অন্য নাম, অন্য রোগ লিখে তাদের পুলিশের কাছ থেকে আড়াল করেছেন। প্রাইভেট ডাক্তাররা প্রশাসনের চোখ এড়িয়ে হাসপাতালে গিয়ে গোপনে চিকিৎসা দিয়েছেন। রক্ত দেওয়ার সরঞ্জামের সরবরাহ ছিল না, আপনারা নিজেরাই এগুলো ব্যবস্থা করেছেন। এন্টিবায়োটিক, ব্যথানাশক ওষুধ আপনারা নিজেরাই সরবরাহ করেছেন।’
বিমান বিধ্বস্ত : মৃতের সংখ্যা কমার কারণ জানাল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়
রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী মৃতের সংখ্যা একজন কমেছে। নিহতের সংখ্যা ৩৫ হওয়ার কথা থাকলেও আজ রবিবার তা ৩৪ জন দেখিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে প্রশ্ন তোলায় নিহতের সংখ্যা কমার কারণ জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আগের হিসাবে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ১৫ জন দেখানো হয়েছে।
আজ সেটি ১৪ বলা হচ্ছে।
কারণ ব্যাখ্যা করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, সিএমএইচে ১৫ মরদেহ দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম দুই দিনে ৯টি মরদেহ অভিভাবকরা শনাক্ত করে নিয়ে গেছেন। বাকি ছয়টি মরদেহ ও আংশিক মরদেহের ব্যাগ ছিল।
শনাক্ত করা যাচ্ছিল না। ডিএনএ টেস্ট করে সেখানে ছয়টির পরিবর্তে পাঁচটি মরদেহ পাওয়া গেছে। যার কারণে সেই ১৫ সংখ্যা এখন ১৪ তে দাঁড়িয়েছে।
ডিএনএ টেস্টের পর শনাক্ত পাঁচজনের মরদেহ গত ২৪ জুলাই তুরাগ থানা পুলিশ কর্তৃক দাবিদারদের নিকট হস্তান্তর করা হয় বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণলায়।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য