শিরোনাম
গ্রেপ্তারের ১২ ঘণ্টার মধ্যে পরিবারকে জানাতে হবে
কাউকে গ্রেপ্তারের ১২ ঘণ্টার মধ্যে তার পরিবারের সদস্যদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানাতে হবে। এমন বিধান রেখে ফৌজদারি কার্যবিধি (সিআরপিসি) সংশোধন করছে সরকার।
প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে আজ বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) তার কার্যালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে সিআরপিসি সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সভা শেষে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এসব তথ্য জানান।
আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘এখন থেকে যে পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার করতে যাবেন, তাঁর যথাযথ আইডেনটিটি থাকতে হবে। নেমপ্লেট থাকতে হবে, আইডি কার্ড সঙ্গে থাকতে হবে এবং চাওয়ামাত্রই এসব দেখাতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘কাউকে গ্রেপ্তারের পর থানায় এনে পরিবারকে জানাতে হবে। কোনো অবস্থাতেই ১২ ঘণ্টার বেশি সময় নেওয়া যাবে না। গ্রেপ্তার ব্যক্তি অসুস্থ বোধ করলে তার চিকিৎসা ব্যবস্থা করতে হবে।’
আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘কেন গ্রেপ্তার করা হয়েছে, কে গ্রেপ্তার করেছে, গ্রেপ্তারের পর পরিবারের কার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে—সেসব তথ্য লিখিত থাকতে হবে। এ ছাড়া গ্রেপ্তারকৃতদের তালিকা পুলিশ সদর দপ্তরে থাকতে হবে।’
৫৪ ধারায় পরিবর্তন আনা হয়েছে জানিয়ে আইন উপদেষ্টা বলেন, পুলিশের সামনে অপরাধ করেছে, এমন হয়ে থাকলে সে ক্ষেত্রে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারবে। অথবা পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলে তাকেও গ্রেপ্তার করতে পারবে। অনলাইনে বেইল বন্ড এবং ডিজিটাল সমনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
সংশোধিত অধ্যাদেশ জারি :
সরকারি কর্মচারীরা আন্দোলন করলে বাধ্যতামূলক অবসর
সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এর দ্বিতীয় সংশোধিত অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে।
গতকাল ২৩ জুলাই আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব ড. হাফিজ আহমেদ চৌধুরীর স্বাক্ষরে অধ্যাদেশটি জারি করা হয়।
সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এর অধিকতর সংশোধনকল্পে প্রণীত এই অধ্যাদেশ সরকারি চাকরি (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ নামে অভিহিত হবে।
নতুন সংশোধিত অধ্যাদেশ অনুযায়ী কোন সরকারি কর্মচারী আন্দোলনে গেলে, অর্থাৎ নিজে নিয়ম লঙ্ঘন করে একজন সরকারি কর্মচারী আরেকজন সরকারি কর্মচারীর কাজে বাধা দিলে বা তাকে তার কাজ থেকে বিরত রাখলে, তাকে বাধ্যতামূলক অবসরসহ চাকরি থেকে বরখাস্ত করা যাবে।
সাধারণত সরকারি কর্মচারীরা নিজেরা কোন আন্দোলন করলে নিজেও কাজ থেকে বিরত থাকে এবং অন্যজনকেও কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য চাপ দেয়।
অধ্যাদেশে সরাসরি আন্দোলনের কথা বলা না হলেও যেভাবে ইঙ্গিত করা হয়েছে, তাতে আন্দোলনকে বুঝায় বলে আইনজীবীদের অভিমত।
নতুন অধ্যাদেশের ৩৭ এর (গ) তে বলা হয়েছে, যে কোনো সরকারি কর্মচারীকে তাহার কর্মে উপস্থিত হতে বা কর্তব্য সম্পাদনে বাধাগ্রস্ত করেন, তাহলে তা হবে সরকারি কর্মে বিঘ্ন সৃষ্টিকারী অসদাচরণ এবং তজ্জন্য তিনি উপ-ধারা (২) এ বর্ণিত যেকোনো দণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন।
আর উপ-ধারা (২) এ বলা হয়েছে, (২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত কোনো কর্মের জন্য কোনো সরকারি কর্মচারীকে নিম্নবর্ণিত যেকোনো দণ্ড প্রদান করা যাবে, যথা:- (ক) নিম্নপদ বা নিম্নবেতন গ্রেডে অবনমিতকরণ; (খ) বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান; এবং (গ) চাকরি হতে বরখাস্ত।
অধ্যাদেশে বলা হয়, যেহেতু নিম্নবর্ণিত উদ্দেশ্যসমূহ পূরণকল্পে, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ (২০১৮ সনের ৫৭ নং আইন) এর অধিকতর সংশোধন সমীচীন ও প্রয়োজনীয় এবং যেহেতু সংসদ ভেঙ্গে যাওয়া অবস্থায় আছে এবং রাষ্ট্রপতির নিকট তা সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে যে, আশু ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বিদ্যমান আছে; সেহেতু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৩ (১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি নিম্নরূপ অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারি করলেন।
এটা অবিলম্বে কার্যকর হবে।
সংশোধিত অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, ২০১৮ সনের ৫৭ নং আইনের ধারা ৩৭ক এর সংশোধন। সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ সনের ৫৭ নং আইনের এর ধারা ৩৭ক এর পরিবর্তে নিম্নরূপ ধারা ৩৭ক প্রতিস্থাপিত হবে।
৩৭(ক) তে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারীদের আচরণ ও দণ্ড সংক্রান্ত বিশেষ বিধান। (১) এই আইন বা এই আইনের অধীন প্রণীত বিধিমালায় যা কিছুই থাকুক না কেন, যদি কোনো সরকারি কর্মচারী (ক) ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বৈধ আদেশ অমান্য করেন, আইনসংগত কারণ ছাড়া সরকারের কোনো আদেশ, পরিপত্র এবং নির্দেশ অমান্য করেন বা তা বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত করেন বা এই সকল কার্যে অন্য কোনো সরকারি কর্মচারীকে প্ররোচিত করেন, অথবা (খ) ছুটি বা যুক্তিসংগত কোনো কারণ ব্যতীত অন্যান্য কর্মচারীদের সহিত সমবেতভাবে নিজ কর্ম হইতে অনুপস্থিত থাকেন বা বিরত থাকেন, অথবা
(গ) যেকোনো সরকারি কর্মচারীকে তাহার কর্মে উপস্থিত হইতে বা কর্তব্য সম্পাদনে বাধাগ্রস্ত করেন, তাহলে তা হবে সরকারি কাজে বিঘ্ন সৃষ্টিকারী অসদাচরণ এবং তজ্জন্য তিনি উপ-ধারা (২) এ বর্ণিত যেকোনো দণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন।
অধ্যাদেশের ৩ এ বলা হয়েছে, (৩) যেক্ষেত্রে কোনো সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত কোনো অসদাচরণের জন্য কার্যধারা গ্রহণ করা হয়, সেক্ষেত্রে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ অথবা এতদুদ্দেশ্যে তৎকর্তৃক, সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি, অভিযোগ গঠন করবেন এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মচারীকে, অতঃপর অভিযুক্ত ব্যক্তি বলে অভিহিত, কেন এই ধারার অধীন দোষী সাব্যস্তপূর্বক দণ্ড আরোপ করা হবে না এই মর্মে ৭ (সাত) কার্যদিবসের মধ্যে যথাযথভাবে কারণ দর্শাইবার নোটিশ প্রদান করবেন এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হয়ে শুনানি করতে ইচ্ছুক কি-না ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি তাও উক্ত নোটিশে উল্লেখ করবেন।
অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রদত্ত আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে না। তবে এরূপ ক্ষেত্রে দণ্ডপ্রাপ্ত কর্মচারী দণ্ড আরোপের আদেশ প্রাপ্তির ৩০ (ত্রিশ) কার্যদিবসের মধ্যে ধারা ৩৬ অনুযায়ী উক্ত আদেশ পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) জন্য রাষ্ট্রপতির নিকট আবেদন করতে পারবেন এবং রাষ্ট্রপতি যেরূপ উপযুক্ত মনে করবেন, সেইরূপ আদেশ প্রদান করবেন।
অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, অধ্যাদেশের (১২) উপ-ধারা (১০) ও (১১) এর অধীন, যথাক্রমে, আপিল ও রিভিউ এ প্রদত্ত আদেশ চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।
ত্রাণের টাকা মেরে দিয়েছিলেন খায়রুল হক
ত্রাণের টাকাও ছাড়েননি সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে নিয়েছিলেন ১০ লাখ ৩৭ হাজার ২৫০ টাকা। আইনজীবীদের দাবি, তিনি গরিবের হক মেরেছেন। সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা উঠিয়ে দিয়ে নানা সুবিধা ভোগের অংশ হিসেবে তিনি ত্রাণের টাকাও নেন।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সোনালি ব্যাংক সুপ্রিমকোর্ট শাখায় বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টের হিসাবে ২০০৯ সালের ২৭ জুলাই অ্যাকাউন্ট পে চেকের মাধ্যমে ১০ লাখ ৩৭ হাজার ২৫০ টাকা জমা হয়। ওদিনই তিনি (বিচারপতি খায়রুল হক) নগদ ৯ লাখ টাকা ওঠান। এর পরের দিন ২৮ জুলাই নগদ ২০ হাজার টাকা নগদ উঠানো হয়েছে। এবং একই দিন অপর একটি অ্যাকাউন্ট পে চেকের মাধ্যমে ৩৮ হাজার ৬০০ টাকা তার হিসাব থেকে বিয়োগ হয়েছে।
আইন মন্ত্রণালয়ের বিচার শাখা থেকে প্রাপ্ত নথি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বিচারপতি খায়রুল হক ১৯৯৮ সালের এপ্রিলে হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান। এর দুই বছর পর তিনি হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন। হাইকোর্টের বিচারপতির পদে থাকা অবস্থায় তিনি সরকারের কাছে আর্থিক সহযোগিতা চেয়ে আবেদন করেন। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে সরকার ‘প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল’ থেকে বিচারপতি খায়রুল হককে একটি চেকের মাধ্যমে ১০ লাখ ৩৭ হাজার ২৫০ টাকা দেয়া হয়।
বিচারপতি খায়রুল হককে ত্রাণের টাকা দেয়ার বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করা হলে আইন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও সংবাদ সম্মেলন করে একটি ব্যাখ্যা দেয়। এতে বলা হয়, বিচারপতি খায়রুল হক সরকারের কাছে আর্থিক সহযোগিতা চেয়েছিলেন। তবে, সরকারের তহবিলে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
ত্রাণের টাকার বিষয়ে যা বলেছিলেন খায়রুল হক : প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে টাকা নেয়ার বিষয়ে ওই সময় দৈনিক আমার দেশ একটি অনুসন্ধানি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ত্রাণের টাকার বিষয়ে আমার দেশের পক্ষ থেকে বিচারপতি খায়রুল হকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছুই বলব না। আপনারা প্রধানমন্ত্রীর অফিসকেই জিজ্ঞাসা করুন। আমাকে অস্বস্তিতে ফেলছেন কেন?
বিচারপতি খায়রুল হকের বিচার দাবি: সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও জ্যৈষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক ২০০৯ সালে একজন রানিং বিচারপতি থাকাকালীন প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে টাকা নিয়ে অনৈতিকতার পরিচয় দিয়েছেন। কেননা এই টাকা এতিম ও গরিবের জন্য, তিনি তাদের হক মেরেছেন। তিনি এ টাকা নেওয়া খুবই নীচুতা ও নৈতিকতাহীনতার পরিচয়। এ ছাড়া সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী নিয়ে সংক্ষিপ্ত রায়ে এক ধরণের রায় দেওয়ার পর সরকারের চাহিদা অনুযায়ী তিনি ১৬ মাস পর পূর্ণাঙ্গ রায়ে জাতিকে ধোকা দিয়েছেন। অবিচারকসুলভ আচরণ করেছেন।
জ্যেষ্ঠ এ আইনজীবী বলেন, এ বি এম খায়রুল হক প্রধান বিচারপতি থেকে অবসরে যাওয়ার পর তিনি আইন কমিশনের চেয়ারম্যান ও একটি ব্যাংকের দায়িত্ব পালন করেন, যা খুবই অনৈতিক।
বিচারপতি খায়রুল হকের ‘বিচারিক প্রতারণা’র বিষয়ে সুপ্রমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক বলেন, প্রধান বিচারপতি থাকাকালীন সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী নিয়ে রায় দিয়েছেন খায়রুল হক। সংক্ষিপ্ত রায়ে তিনি পরবর্তী দু'টি নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে রাখার কথা বললেও ১৬ মাস পর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়। পূর্ণাঙ্গ রায়ে তিনি সেটি পরিবর্তন করেন।
সংক্ষিপ্ত এই রায়ের ১৬ মাস পর ২০১২ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর যখন পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়, তখন এ বি এম খায়রুল হক প্রধান বিচারপতির পদ থেকে অবসর নেন। তিনি যে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন তাতে পরবর্তী দুই মেয়াদে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা থাকার বিষয়টি ছিল না। এমনকি, সরকারের মেয়াদ শেষ হলেও সংসদ বহাল থাকার কথাও যুক্ত হয় পূর্ণাঙ্গ রায়ে। সংক্ষিপ্ত রায়ের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ রায়ের এই বিশাল অসংগতি নিয়ে তখন জোরাল বিতর্ক ওঠে।
বিমান দুর্ঘটনায় উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের নিয়মিত বৈঠক মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনায় বিষয়ে কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
বৈঠকের শুরুতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে, তাঁদের আত্মার প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়।
মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবার এবং আহতদের চিকিৎসাসেবায় সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সকল সহায়তা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় স্কুল কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।
উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে স্কুলের নিহত দুজন শিক্ষককে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এই সম্মাননার বিস্তারিত অতিদ্রুত নির্ধারণ করা হবে।
নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে ও আহতদের সুস্থতা কামনা করে শুক্রবার সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ প্রার্থনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ধর্ম মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করবে।
সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের যত অপকর্ম
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত বছরের ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। এরপরই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও হাসিনার আশীর্বাদ পুষ্ট অনেক আমলাও দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। আবার অনেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন।
তবে বহুল আলোচিত সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা ছিল।
অবশেষে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে ধানমন্ডির বাসা থেকে সাবেক এই প্রধান বিচারপতিকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ । ডিবির যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেফতারের আগে কেউ বলছিলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অবৈধভাবে ভারতে গেছেন। সেখানেই নিরাপদে আছেন দেশের বিচারব্যবস্থা ও গণতন্ত্র ধ্বংসের এই কারিগর। কেউ বলছেন, ভারত থেকে তিনি ব্রিটিশ পাসপোর্ট ব্যবহার করে ইংল্যান্ডে গেছেন। সেখানে মেয়ের কাছে অবস্থান করছেন। আবার অনেকে বলছেন, স্বাস্থ্যগত কারণে তিনি কোথাও ট্রাভেল করছেন না। দেশেই অবস্থান করছেন তিনি।
এবিএম খায়রুল হকের যত অপকর্ম
আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়ে খায়রুল হক ছিলেন আইন কমিশনের চেয়ারম্যান। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পতন ঘটলে ১৩ আগস্ট তিনি আইন কমিশন থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর তাকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। বিচারাঙ্গনে তুমুলভাবে আলোচিত-সমালোচিত এই বিচারপতির বেশ কয়েকটি রায় চরম বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল। তিনি নিজে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নানাভাবে সুবিধাপ্রাপ্ত হয়েছেন। তাকে প্রধান বিচারপতি করা হয়েছিল কয়েকজন জ্যেষ্ঠ বিচারপতিকে ডিঙিয়ে। প্রধান বিচারপতি থাকাকালে ত্রাণ তহবিলের টাকা গ্রহণ করে নিজের চিকিৎসা করে সমালোচিত হয়েছিলেন। অবসর গ্রহণ করার কয়েকদিন আগে তিনি ত্রয়োদশ সংশোধনী মামলায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করেন। এতে দেশে রাজনৈতিক সংঘাতের পথ উন্মুক্ত হয়। পাশাপাশি শেখ হাসিনার ভোট ডাকাতির চূড়ান্ত সুযোগ তৈরি হয়। রাজনৈতিক একটি বিষয়কে আদালতের আওতাধীন করে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক নন বলে রায় দিয়েছিলেন তিনি।
এছাড়া বিতর্কিত একাধিক বিচারপতিকে শপথ পড়ানো, আগাম জামিনের এখতিয়ার কেড়ে নেওয়া, খালেদা জিয়াকে ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা এবং ক্ষমতার অপব্যবহারসহ নানা অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। খায়রুল হকের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকটি মামলা হয়েছে। শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর গত ১৮ আগস্ট ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য ইমরুল হাসান বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় খায়রুল হকের বিরুদ্ধে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায় পরিবর্তন এবং জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়। ২৮ আগস্ট দুর্নীতি ও রায় জালিয়াতির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় মামলা করেন আরেক আইনজীবী। এর আগে ২৫ আগস্ট খায়রুল হকের বিরুদ্ধে একই বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানায় আরেকটি মামলা হয়।
দেশের ১৯-তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে এবিএম খায়রুল হক শপথ নেন ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর। পরের বছর (২০১১ সাল) ১৭ মে ৬৭ বছর পূর্ণ হওয়ায় তিনি অবসর গ্রহণ করেন।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য