ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

ত্রাণের টাকা মেরে দিয়েছিলেন খায়রুল হক

অনলাইন ডেস্ক
২৪ জুলাই, ২০২৫ ২০:১৭
অনলাইন ডেস্ক
ত্রাণের টাকা মেরে দিয়েছিলেন খায়রুল হক

ত্রাণের টাকাও ছাড়েননি সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে নিয়েছিলেন ১০ লাখ ৩৭ হাজার ২৫০ টাকা। আইনজীবীদের দাবি, তিনি গরিবের হক মেরেছেন। সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা উঠিয়ে দিয়ে নানা সুবিধা ভোগের অংশ হিসেবে তিনি ত্রাণের টাকাও নেন। 


অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সোনালি ব্যাংক সুপ্রিমকোর্ট শাখায় বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টের হিসাবে ২০০৯ সালের ২৭ জুলাই অ্যাকাউন্ট পে চেকের মাধ্যমে ১০ লাখ ৩৭ হাজার ২৫০ টাকা জমা হয়। ওদিনই তিনি (বিচারপতি খায়রুল হক) নগদ ৯ লাখ টাকা ওঠান। এর পরের দিন ২৮ জুলাই নগদ ২০ হাজার টাকা নগদ উঠানো হয়েছে। এবং একই দিন অপর একটি অ্যাকাউন্ট পে চেকের মাধ্যমে ৩৮ হাজার ৬০০ টাকা তার হিসাব থেকে বিয়োগ হয়েছে। 


আইন মন্ত্রণালয়ের বিচার শাখা থেকে প্রাপ্ত নথি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বিচারপতি খায়রুল হক ১৯৯৮ সালের এপ্রিলে হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান। এর দুই বছর পর তিনি হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন। হাইকোর্টের বিচারপতির পদে থাকা অবস্থায় তিনি সরকারের কাছে আর্থিক সহযোগিতা চেয়ে আবেদন করেন। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে সরকার ‘প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল’ থেকে বিচারপতি খায়রুল হককে একটি চেকের মাধ্যমে ১০ লাখ ৩৭ হাজার ২৫০ টাকা দেয়া হয়। 


বিচারপতি খায়রুল হককে ত্রাণের টাকা দেয়ার বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করা হলে আইন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও সংবাদ সম্মেলন করে একটি ব্যাখ্যা দেয়। এতে বলা হয়, বিচারপতি খায়রুল হক সরকারের কাছে আর্থিক সহযোগিতা চেয়েছিলেন। তবে, সরকারের তহবিলে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। 


ত্রাণের টাকার বিষয়ে যা বলেছিলেন খায়রুল হক : প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে টাকা নেয়ার বিষয়ে ওই সময় দৈনিক আমার দেশ একটি অনুসন্ধানি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ত্রাণের টাকার বিষয়ে আমার দেশের পক্ষ থেকে বিচারপতি খায়রুল হকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছুই বলব না। আপনারা প্রধানমন্ত্রীর অফিসকেই জিজ্ঞাসা করুন। আমাকে অস্বস্তিতে ফেলছেন কেন?


বিচারপতি খায়রুল হকের বিচার দাবি: সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও জ্যৈষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক ২০০৯ সালে একজন রানিং বিচারপতি থাকাকালীন প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে টাকা নিয়ে অনৈতিকতার পরিচয় দিয়েছেন। কেননা এই টাকা এতিম ও গরিবের জন্য, তিনি তাদের হক মেরেছেন। তিনি এ টাকা নেওয়া খুবই নীচুতা ও নৈতিকতাহীনতার পরিচয়। এ ছাড়া সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী নিয়ে সংক্ষিপ্ত রায়ে এক ধরণের রায় দেওয়ার পর সরকারের চাহিদা অনুযায়ী তিনি ১৬ মাস পর পূর্ণাঙ্গ রায়ে জাতিকে ধোকা দিয়েছেন। অবিচারকসুলভ আচরণ করেছেন।


জ্যেষ্ঠ এ আইনজীবী বলেন, এ বি এম খায়রুল হক প্রধান বিচারপতি থেকে অবসরে যাওয়ার পর তিনি আইন কমিশনের চেয়ারম্যান ও একটি ব্যাংকের দায়িত্ব পালন করেন, যা খুবই অনৈতিক।


বিচারপতি খায়রুল হকের ‘বিচারিক প্রতারণা’র বিষয়ে সুপ্রমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক বলেন, প্রধান বিচারপতি থাকাকালীন সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী নিয়ে রায় দিয়েছেন খায়রুল হক। সংক্ষিপ্ত রায়ে তিনি পরবর্তী দু'টি নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে রাখার কথা বললেও ১৬ মাস পর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়। পূর্ণাঙ্গ রায়ে তিনি সেটি পরিবর্তন করেন।


সংক্ষিপ্ত এই রায়ের ১৬ মাস পর ২০১২ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর যখন পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়, তখন এ বি এম খায়রুল হক প্রধান বিচারপতির পদ থেকে অবসর নেন। তিনি যে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন তাতে পরবর্তী দুই মেয়াদে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা থাকার বিষয়টি ছিল না। এমনকি, সরকারের মেয়াদ শেষ হলেও সংসদ বহাল থাকার কথাও যুক্ত হয় পূর্ণাঙ্গ রায়ে। সংক্ষিপ্ত রায়ের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ রায়ের এই বিশাল অসংগতি নিয়ে তখন জোরাল বিতর্ক ওঠে।


প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    বিমান দুর্ঘটনায় উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত

    অনলাইন ডেস্ক
    ২৪ জুলাই, ২০২৫ ১৯:৫৭
    অনলাইন ডেস্ক
    বিমান দুর্ঘটনায় উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত

    প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের নিয়মিত বৈঠক মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনায় বিষয়ে কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।


    বৈঠকের শুরুতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে, তাঁদের আত্মার প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়।


    মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবার এবং আহতদের চিকিৎসাসেবায় সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সকল সহায়তা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় স্কুল কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।


    উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে স্কুলের নিহত দুজন শিক্ষককে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এই সম্মাননার বিস্তারিত অতিদ্রুত নির্ধারণ করা হবে।


    নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে ও আহতদের সুস্থতা কামনা করে শুক্রবার সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ প্রার্থনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ধর্ম মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করবে।


    মন্তব্য

    সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের যত অপকর্ম

    অনলাইন ডেস্ক
    ২৪ জুলাই, ২০২৫ ১৯:৪
    অনলাইন ডেস্ক
    সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের যত অপকর্ম

    ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত বছরের ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। এরপরই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও হাসিনার আশীর্বাদ পুষ্ট অনেক আমলাও দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। আবার অনেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন।


    তবে বহুল আলোচিত সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা ছিল।


    অবশেষে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে ধানমন্ডির বাসা থেকে সাবেক এই প্রধান বিচারপতিকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ । ডিবির যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।


    গ্রেফতারের আগে কেউ বলছিলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অবৈধভাবে ভারতে গেছেন। সেখানেই নিরাপদে আছেন দেশের বিচারব্যবস্থা ও গণতন্ত্র ধ্বংসের এই কারিগর। কেউ বলছেন, ভারত থেকে তিনি ব্রিটিশ পাসপোর্ট ব্যবহার করে ইংল্যান্ডে গেছেন। সেখানে মেয়ের কাছে অবস্থান করছেন। আবার অনেকে বলছেন, স্বাস্থ্যগত কারণে তিনি কোথাও ট্রাভেল করছেন না। দেশেই অবস্থান করছেন তিনি।


    এবিএম খায়রুল হকের যত অপকর্ম


    আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়ে খায়রুল হক ছিলেন আইন কমিশনের চেয়ারম্যান। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পতন ঘটলে ১৩ আগস্ট তিনি আইন কমিশন থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর তাকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। বিচারাঙ্গনে তুমুলভাবে আলোচিত-সমালোচিত এই বিচারপতির বেশ কয়েকটি রায় চরম বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল। তিনি নিজে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নানাভাবে সুবিধাপ্রাপ্ত হয়েছেন। তাকে প্রধান বিচারপতি করা হয়েছিল কয়েকজন জ্যেষ্ঠ বিচারপতিকে ডিঙিয়ে। প্রধান বিচারপতি থাকাকালে ত্রাণ তহবিলের টাকা গ্রহণ করে নিজের চিকিৎসা করে সমালোচিত হয়েছিলেন। অবসর গ্রহণ করার কয়েকদিন আগে তিনি ত্রয়োদশ সংশোধনী মামলায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করেন। এতে দেশে রাজনৈতিক সংঘাতের পথ উন্মুক্ত হয়। পাশাপাশি শেখ হাসিনার ভোট ডাকাতির চূড়ান্ত সুযোগ তৈরি হয়। রাজনৈতিক একটি বিষয়কে আদালতের আওতাধীন করে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক নন বলে রায় দিয়েছিলেন তিনি।


    এছাড়া বিতর্কিত একাধিক বিচারপতিকে শপথ পড়ানো, আগাম জামিনের এখতিয়ার কেড়ে নেওয়া, খালেদা জিয়াকে ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা এবং ক্ষমতার অপব্যবহারসহ নানা অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। খায়রুল হকের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকটি মামলা হয়েছে। শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর গত ১৮ আগস্ট ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য ইমরুল হাসান বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় খায়রুল হকের বিরুদ্ধে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায় পরিবর্তন এবং জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়। ২৮ আগস্ট দুর্নীতি ও রায় জালিয়াতির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় মামলা করেন আরেক আইনজীবী। এর আগে ২৫ আগস্ট খায়রুল হকের বিরুদ্ধে একই বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানায় আরেকটি মামলা হয়।


    দেশের ১৯-তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে এবিএম খায়রুল হক শপথ নেন ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর। পরের বছর (২০১১ সাল) ১৭ মে ৬৭ বছর পূর্ণ হওয়ায় তিনি অবসর গ্রহণ করেন।


    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি

      ডিএনএ টেস্টে ৫ জনের পরিচয় শনাক্ত

      অনলাইন ডেস্ক
      ২৪ জুলাই, ২০২৫ ১৭:৪০
      অনলাইন ডেস্ক
      ডিএনএ টেস্টে ৫ জনের পরিচয় শনাক্ত

      রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় পুড়ে অঙ্গার হয়ে যাওয়া ৫ মরদেহের পরিচয় ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।


      জসীম উদ্দিন খান জানান, মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিমান দুর্ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ ৫ জনের পরিচয় শনাক্ত করেছে সিআইডির ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাব। এরা হলো, ওকিয়া ফেরদৌস নিধি, লামিয়া আক্তার সোনিয়া, আফসানা আক্তার প্রিয়া, রাইসা মনি, মারিয়াম উম্মে আফিয়া।


      এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সিআইডি জানায়, উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিমান বিধ্বস্তের কারণে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে গত ২২ জুলাই সিআইডির ডিএনএ ল্যাবের সদস্যরা ঢাকা সিএমএইচ-এ রক্ষিত অশনাক্ত মরদেহ ও দেহাংশ থেকে মোট ১১টি ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করেন। এই নমুনাগুলো বিশ্লেষণ করে মোট ৫ নারীর ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া যায়। নমুনা থেকে প্রস্তুত করা প্রোফাইল ও ঘটনার পর থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৫টি পরিবারের মোট ১১ জন সদস্যের প্রোফাইল বিশ্লেষণ করে ৫টি মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।


      সিআইডি আরও জানায়, গৃহীত ১টি নমুনা থেকে একজন নারীর ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া যায়, যার দাবিদার মো. ফারুক হোসেন ও সালমা আক্তার দম্পতির কন্যাসন্তান (ওকিয়া ফেরদৌস নিধি) প্রমাণিত হয়। গৃহীত ৬টি নমুনা থেকে একজন নারীর ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া যায়, যার দাবিদার মো. বাবুল ও মাজেদা দম্পতির কন্যাসন্তান (লামিয়া আক্তার সোনিয়া) প্রমাণিত হয়।


      বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গৃহীত ২টি নমুনা থেকে একজন নারীর ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া যায়, যার দাবিদার মো. আব্বাস উদ্দিন ও মিনু আক্তার দম্পতির কন্যাসন্তান (আফসানা আক্তার প্রিয়া) প্রমাণিত হয়। গৃহীত আরও একটি নমুনা থেকে একজন নারীর ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া যায়, যার দাবিদার মো. শাহাবুল শেখ ও মিম দম্পতির কন্যাসন্তান (রাইসা মনি) প্রমাণিত হয়।


      এ ছাড়া সর্বশেষ গৃহীত ১টি নমুনা থেকে একজন নারীর ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া যায়, যার দাবিদার আব্দুল কাদির ও উম্মে তামিমা আক্তার দম্পতির কন্যাসন্তান (মারিয়াম উম্মে আফিয়া) প্রমাণিত হয়।


      এদিকে বিমান দুর্ঘটনায় উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ৩টি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বার্তায় এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।


      প্রেস উইং জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের নিয়মিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকের শুরুতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে। তাদের আত্মার প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়েছে এবং নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়েছে।


      এতে আরও বলা হয়, মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবার এবং আহতদের চিকিৎসাসেবায় সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এ লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে। উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে স্কুলের নিহত দুজন শিক্ষককে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদানের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই সম্মাননার বিস্তারিত অতিদ্রুত নির্ধারণ করা হবে।


      প্রেস উইং আরও জানায়, নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে ও আহতদের সুস্থতা কামনা করে আগামীকাল শুক্রবার সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ প্রার্থনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ধর্ম মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করবে।


      বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ জনে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, এ দুর্ঘটনায় এখনো ১৬৫ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।


      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        স্বাধীনতার ঘোষক জিয়ার নাম থাকায় সব প্রকাশনা বাজেয়াপ্ত করেছিলেন খায়রুল

        অনলাইন ডেস্ক
        ২৪ জুলাই, ২০২৫ ১৭:৩৮
        অনলাইন ডেস্ক
        স্বাধীনতার ঘোষক জিয়ার নাম থাকায় সব প্রকাশনা বাজেয়াপ্ত করেছিলেন খায়রুল

        স্বাধীনতার প্রথম ঘোষক হিসেবে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমানের নাম থাকায় সব প্রকাশনা বাজেয়াপ্ত করতে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক ও বিচারপতি মমতাজ উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ। রায় ঘোষণা করা হয়েছিল ২০০৯ সালের ২১ জুন। পরের বছর ৭ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট বেঞ্চের দু’জন বিচারক পূর্ণাঙ্গ রায়ে সাক্ষর করেন।


        ২০০৯ সালের জুনে হাইকোর্টের রায়ের পরপরই সরকার মুক্তিযুদ্ধের দলিল (তৃতীয় খণ্ড) প্রত্যাহার এবং তা বিক্রি বন্ধের উদ্যোগ নেয়া হয়। ২০১০ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পরদিন ৮ ফেব্রুয়ারি সেটার অনুলিপি হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় পাঠানো হয়। এতে রায় তামিলে ‘অবিলম্বে’ কথাটি ব্যবহার করা হয়।


        বিচারপতি খায়রুল হক তার ৩২০ পৃষ্ঠার রায়ে জিয়াউর রহমান সম্পর্কে বলেন, ‘ক্ষমতার সর্বোচ্চ অবস্থানে থেকেও কখনো তিনি নিজেকে স্বাধীনতার ঘোষক বলে দাবি করেননি। এমনকি ১৯৭৭ সালে ভারতের রাষ্ট্রপতি তাঁকে স্বাধীনতার ঘোষক বলে প্রশংসা করার পরও তিনি এরূপ কোনো দাবি করেননি। এটা তাঁর সততার নিশ্চিত পরিচায়ক।’ রায়ে জিয়াকে ‘সুদক্ষ সেনা কর্মকর্তা’ এবং ‘চাকরিজীবনে অত্যন্ত সাফল্যের অধিকারী’ হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়, ‘২৭ মার্চ সন্ধ্যায় চট্টগ্রামে স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র থেকে তিনি যে একটি ঘোষণা পাঠ করেছিলেন, তাও ঐতিহাসিকভাবে স্বীকৃত।’


        উল্লেখ্য, জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার প্রথম ঘোষক এমন বক্তব্যসংবলিত বইপত্র এখনো দেশে রয়েছে। ওই সব বইপত্র সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়, ‘মেজর জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের প্রথম স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন’-২০০৪ সালে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র গ্রন্থাবলী সিরিজের তৃতীয় খণ্ডসহ যেসব পুস্তক-পুস্তিকা, গ্রন্থে এমন বক্তব্য মুদ্রিত বা বিবৃত হয়েছে, অবিলম্বে তা বাজেয়াপ্ত করতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হলো।


        রায়ের উপসংহারে বলা হয়, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণাসংক্রান্ত বিষয়ে ২০০৪ সালে প্রত্যয়ন কমিটির অভিমত তথ্যভিত্তিক নয়। এটা প্রকৃত সত্যের পরিপন্থী। তাছাড়া, ওই অভিমত ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিলের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। সে কারণে তা সংবিধানের ১৫০ অনুচ্ছেদের সঙ্গেও সরাসরি সাংঘর্ষিক। তাই তা বাতিলযোগ্য।


        রায়ে আরো বলা হয়, ২০০৪ সালে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পুনর্মুদ্রিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র-এর তৃতীয় খণ্ডের প্রথম পৃষ্ঠায় ‘মেজর জিয়ার প্রথম স্বাধীনতা ঘোষণা’ শিরোনামে মুদ্রিত বর্ণনা স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের পরিপন্থী তথা সংবিধান পরিপন্থী। তাই এটা অবৈধ ঘোষণা করা হলো। তা ছাড়া ওই তৃতীয় খণ্ডের প্রথম পৃষ্ঠার পাদটীকায় ১৯৭১-এর ২৬ মার্চ জিয়াউর রহমান অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ব্যাটালিয়ন অফিসার, জেসিও এবং জওয়ানদের একত্রিত করে 'স্বাধীনতার ঘোষণা দেন' ইত্যাদি বক্তব্যও সংবিধান পরিপন্থী বলে তা অবৈধ ঘোষণা করা হলো।


        রায়ে বলা হয়, প্রতীয়মান হয় যে পুনর্মুদ্রিত স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রের প্রত্যয়ন কমিটির সভাপতি ও সদস্যরা ইতিহাস বিকৃত করেছেন। তাঁরা সংবিধান পরিপন্থী ইতিহাস লিপিবদ্ধ করেছেন এবং সমগ্র বাঙালি জাতিকে বিভ্রান্ত করেছেন। রায়ে বাংলাদেশ সরকারকে স্বাধীনতার ঘোষণা ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে সব ধরনের ইতিহাস বিকৃতি দূর করে সঠিক ইতিহাস লিপিবদ্ধ করতে পদক্ষেপ নিতেও নির্দেশ দেওয়া হয়।


        রায় ঘোষণার পর ২০০৯ সালের ২৪ জুন হাইকোর্টের ওই বেঞ্চ আদালত অবমাননার দায়ে অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদের বিরুদ্ধে রুল জারি করেন। তিনিসহ প্রত্যয়ন কমিটির ছয়জন সদস্য একই দিনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে তথ্য বিকৃতির অভিযোগ অস্বীকার করেন। এমাজউদ্দীন দাবি করেন, তিনিসহ কয়েকজন সদস্য মুক্তিযুদ্ধের দলিলপত্রে অনাকাঙ্ক্ষিত সংযোজনের’ প্রতিবাদ করেছিলেন।


        উল্লেখ্য, স্বাধীনতার প্রথম ঘোষক হিসাবে জিয়াউর রহমানের নাম সম্বলিত সবপত্র বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেয়ার বছরই ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর এবিএম খায়রুল হক বাংলাদেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।


        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য
          সর্বশেষ সংবাদ
            সর্বাধিক পঠিত