ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি

ডিএনএ টেস্টে ৫ জনের পরিচয় শনাক্ত

অনলাইন ডেস্ক
২৪ জুলাই, ২০২৫ ১৭:৪০
অনলাইন ডেস্ক
ডিএনএ টেস্টে ৫ জনের পরিচয় শনাক্ত

রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় পুড়ে অঙ্গার হয়ে যাওয়া ৫ মরদেহের পরিচয় ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।


জসীম উদ্দিন খান জানান, মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিমান দুর্ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ ৫ জনের পরিচয় শনাক্ত করেছে সিআইডির ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাব। এরা হলো, ওকিয়া ফেরদৌস নিধি, লামিয়া আক্তার সোনিয়া, আফসানা আক্তার প্রিয়া, রাইসা মনি, মারিয়াম উম্মে আফিয়া।


এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সিআইডি জানায়, উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিমান বিধ্বস্তের কারণে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে গত ২২ জুলাই সিআইডির ডিএনএ ল্যাবের সদস্যরা ঢাকা সিএমএইচ-এ রক্ষিত অশনাক্ত মরদেহ ও দেহাংশ থেকে মোট ১১টি ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করেন। এই নমুনাগুলো বিশ্লেষণ করে মোট ৫ নারীর ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া যায়। নমুনা থেকে প্রস্তুত করা প্রোফাইল ও ঘটনার পর থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৫টি পরিবারের মোট ১১ জন সদস্যের প্রোফাইল বিশ্লেষণ করে ৫টি মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।


সিআইডি আরও জানায়, গৃহীত ১টি নমুনা থেকে একজন নারীর ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া যায়, যার দাবিদার মো. ফারুক হোসেন ও সালমা আক্তার দম্পতির কন্যাসন্তান (ওকিয়া ফেরদৌস নিধি) প্রমাণিত হয়। গৃহীত ৬টি নমুনা থেকে একজন নারীর ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া যায়, যার দাবিদার মো. বাবুল ও মাজেদা দম্পতির কন্যাসন্তান (লামিয়া আক্তার সোনিয়া) প্রমাণিত হয়।


বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গৃহীত ২টি নমুনা থেকে একজন নারীর ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া যায়, যার দাবিদার মো. আব্বাস উদ্দিন ও মিনু আক্তার দম্পতির কন্যাসন্তান (আফসানা আক্তার প্রিয়া) প্রমাণিত হয়। গৃহীত আরও একটি নমুনা থেকে একজন নারীর ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া যায়, যার দাবিদার মো. শাহাবুল শেখ ও মিম দম্পতির কন্যাসন্তান (রাইসা মনি) প্রমাণিত হয়।


এ ছাড়া সর্বশেষ গৃহীত ১টি নমুনা থেকে একজন নারীর ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া যায়, যার দাবিদার আব্দুল কাদির ও উম্মে তামিমা আক্তার দম্পতির কন্যাসন্তান (মারিয়াম উম্মে আফিয়া) প্রমাণিত হয়।


এদিকে বিমান দুর্ঘটনায় উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ৩টি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বার্তায় এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।


প্রেস উইং জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের নিয়মিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকের শুরুতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে। তাদের আত্মার প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়েছে এবং নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়েছে।


এতে আরও বলা হয়, মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবার এবং আহতদের চিকিৎসাসেবায় সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এ লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে। উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে স্কুলের নিহত দুজন শিক্ষককে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদানের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই সম্মাননার বিস্তারিত অতিদ্রুত নির্ধারণ করা হবে।


প্রেস উইং আরও জানায়, নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে ও আহতদের সুস্থতা কামনা করে আগামীকাল শুক্রবার সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ প্রার্থনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ধর্ম মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করবে।


বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ জনে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, এ দুর্ঘটনায় এখনো ১৬৫ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।


প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    স্বাধীনতার ঘোষক জিয়ার নাম থাকায় সব প্রকাশনা বাজেয়াপ্ত করেছিলেন খায়রুল

    অনলাইন ডেস্ক
    ২৪ জুলাই, ২০২৫ ১৭:৩৮
    অনলাইন ডেস্ক
    স্বাধীনতার ঘোষক জিয়ার নাম থাকায় সব প্রকাশনা বাজেয়াপ্ত করেছিলেন খায়রুল

    স্বাধীনতার প্রথম ঘোষক হিসেবে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমানের নাম থাকায় সব প্রকাশনা বাজেয়াপ্ত করতে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক ও বিচারপতি মমতাজ উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ। রায় ঘোষণা করা হয়েছিল ২০০৯ সালের ২১ জুন। পরের বছর ৭ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট বেঞ্চের দু’জন বিচারক পূর্ণাঙ্গ রায়ে সাক্ষর করেন।


    ২০০৯ সালের জুনে হাইকোর্টের রায়ের পরপরই সরকার মুক্তিযুদ্ধের দলিল (তৃতীয় খণ্ড) প্রত্যাহার এবং তা বিক্রি বন্ধের উদ্যোগ নেয়া হয়। ২০১০ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পরদিন ৮ ফেব্রুয়ারি সেটার অনুলিপি হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় পাঠানো হয়। এতে রায় তামিলে ‘অবিলম্বে’ কথাটি ব্যবহার করা হয়।


    বিচারপতি খায়রুল হক তার ৩২০ পৃষ্ঠার রায়ে জিয়াউর রহমান সম্পর্কে বলেন, ‘ক্ষমতার সর্বোচ্চ অবস্থানে থেকেও কখনো তিনি নিজেকে স্বাধীনতার ঘোষক বলে দাবি করেননি। এমনকি ১৯৭৭ সালে ভারতের রাষ্ট্রপতি তাঁকে স্বাধীনতার ঘোষক বলে প্রশংসা করার পরও তিনি এরূপ কোনো দাবি করেননি। এটা তাঁর সততার নিশ্চিত পরিচায়ক।’ রায়ে জিয়াকে ‘সুদক্ষ সেনা কর্মকর্তা’ এবং ‘চাকরিজীবনে অত্যন্ত সাফল্যের অধিকারী’ হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়, ‘২৭ মার্চ সন্ধ্যায় চট্টগ্রামে স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র থেকে তিনি যে একটি ঘোষণা পাঠ করেছিলেন, তাও ঐতিহাসিকভাবে স্বীকৃত।’


    উল্লেখ্য, জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার প্রথম ঘোষক এমন বক্তব্যসংবলিত বইপত্র এখনো দেশে রয়েছে। ওই সব বইপত্র সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়, ‘মেজর জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের প্রথম স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন’-২০০৪ সালে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র গ্রন্থাবলী সিরিজের তৃতীয় খণ্ডসহ যেসব পুস্তক-পুস্তিকা, গ্রন্থে এমন বক্তব্য মুদ্রিত বা বিবৃত হয়েছে, অবিলম্বে তা বাজেয়াপ্ত করতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হলো।


    রায়ের উপসংহারে বলা হয়, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণাসংক্রান্ত বিষয়ে ২০০৪ সালে প্রত্যয়ন কমিটির অভিমত তথ্যভিত্তিক নয়। এটা প্রকৃত সত্যের পরিপন্থী। তাছাড়া, ওই অভিমত ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিলের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। সে কারণে তা সংবিধানের ১৫০ অনুচ্ছেদের সঙ্গেও সরাসরি সাংঘর্ষিক। তাই তা বাতিলযোগ্য।


    রায়ে আরো বলা হয়, ২০০৪ সালে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পুনর্মুদ্রিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র-এর তৃতীয় খণ্ডের প্রথম পৃষ্ঠায় ‘মেজর জিয়ার প্রথম স্বাধীনতা ঘোষণা’ শিরোনামে মুদ্রিত বর্ণনা স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের পরিপন্থী তথা সংবিধান পরিপন্থী। তাই এটা অবৈধ ঘোষণা করা হলো। তা ছাড়া ওই তৃতীয় খণ্ডের প্রথম পৃষ্ঠার পাদটীকায় ১৯৭১-এর ২৬ মার্চ জিয়াউর রহমান অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ব্যাটালিয়ন অফিসার, জেসিও এবং জওয়ানদের একত্রিত করে 'স্বাধীনতার ঘোষণা দেন' ইত্যাদি বক্তব্যও সংবিধান পরিপন্থী বলে তা অবৈধ ঘোষণা করা হলো।


    রায়ে বলা হয়, প্রতীয়মান হয় যে পুনর্মুদ্রিত স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রের প্রত্যয়ন কমিটির সভাপতি ও সদস্যরা ইতিহাস বিকৃত করেছেন। তাঁরা সংবিধান পরিপন্থী ইতিহাস লিপিবদ্ধ করেছেন এবং সমগ্র বাঙালি জাতিকে বিভ্রান্ত করেছেন। রায়ে বাংলাদেশ সরকারকে স্বাধীনতার ঘোষণা ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে সব ধরনের ইতিহাস বিকৃতি দূর করে সঠিক ইতিহাস লিপিবদ্ধ করতে পদক্ষেপ নিতেও নির্দেশ দেওয়া হয়।


    রায় ঘোষণার পর ২০০৯ সালের ২৪ জুন হাইকোর্টের ওই বেঞ্চ আদালত অবমাননার দায়ে অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদের বিরুদ্ধে রুল জারি করেন। তিনিসহ প্রত্যয়ন কমিটির ছয়জন সদস্য একই দিনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে তথ্য বিকৃতির অভিযোগ অস্বীকার করেন। এমাজউদ্দীন দাবি করেন, তিনিসহ কয়েকজন সদস্য মুক্তিযুদ্ধের দলিলপত্রে অনাকাঙ্ক্ষিত সংযোজনের’ প্রতিবাদ করেছিলেন।


    উল্লেখ্য, স্বাধীনতার প্রথম ঘোষক হিসাবে জিয়াউর রহমানের নাম সম্বলিত সবপত্র বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেয়ার বছরই ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর এবিএম খায়রুল হক বাংলাদেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।


    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      নিহত, আহত ও নিখোঁজদের সংখ্যা জানাল মাইলস্টোন কলেজ

      অনলাইন ডেস্ক
      ২৪ জুলাই, ২০২৫ ১৬:৫২
      অনলাইন ডেস্ক
      নিহত, আহত ও নিখোঁজদের সংখ্যা জানাল মাইলস্টোন কলেজ

      রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের তিন দিন পার হলেও তিন শিক্ষার্থী ও দুই অভিভাবক এখনো নিখোঁজ রয়েছে।


      আজ বৃহস্পতিবার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জিয়াউল আলমের সই করা এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।


      এতে বলা হয়, গত ২১ জুলাই দুপুর ১টা ১২ মিনিট থেকে ১টা ১৪ মিনিটের মধ্যে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসের একটি দোতলা ভবনে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর এফটি-৭ বিজিআই যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। দুপুর ১টায় স্কুল ছুটি হয়ে যাওয়ায় স্বল্পসংখ্যক শিক্ষার্থী অপেক্ষারত অবস্থায় ছিল।


      বিবৃতিতে বলা হয়, প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী, পুলিশ ও র‍্যাবের প্রশিক্ষিত জনবল সম্মিলিতভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উদ্ধারকাজে অংশ নেয়।


      মাইলস্টোন কর্তৃপক্ষ জানায়, এ দুর্ঘটনায় স্কুল শাখার ১৮ শিক্ষার্থী, ২ শিক্ষক ও ২ অভিভাবক মারা যান। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন ৫১ জন। তাদের মধ্যে ৪০ শিক্ষার্থী, ৭ শিক্ষক, একজন অভিভাবক, একজন আয়া ও একজন জন পিয়ন আহত আছেন।


      বিবৃতিতে বলা হয়, দুর্ঘটনার পর এখন পর্যন্ত নিখোঁজ আছে পাঁচজন, তাদের মধ্যে তিনজন শিক্ষার্থী ও দুজন অভিভাবক। 


      এ ঘটনায় গত ২২ জুলাই মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষ শুধু প্রতিষ্ঠানের নিহত, আহত ও নিখোঁজের তথ্য তুলে ধরছে। কর্তৃপক্ষের তথ্য হালনাগাদকরণের কাজ চলছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

       

      এদিকে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় নিহত ছয়জনের মরদেহ এখনো শনাক্ত করা যায়নি। ইতিমধ্যে তাদের পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে পরীক্ষার জন্য ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। বর্তমানে অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহগুলো সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) মর্গে রাখা হয়েছে।


      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        আল জাজিরার অনুসন্ধানী প্রতিবেদন

        জুলাই অভ্যুত্থান দমনে গুলি ছোড়া হয়েছিল ৩০ লাখের বেশি

        অনলাইন ডেস্ক
        ২৪ জুলাই, ২০২৫ ১৬:৩৪
        অনলাইন ডেস্ক
        জুলাই অভ্যুত্থান দমনে গুলি ছোড়া হয়েছিল ৩০ লাখের বেশি

        কাতার ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরার অনুসন্ধানী ইউনিট ‘হাসিনা-জুলাইয়ের ৩৬ দিন’ শীর্ষক একটি অনুসন্ধানী প্রামাণ্যচিত্রে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরাসরি নির্দেশে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ছাত্র আন্দোলনে প্রাণঘাতী হামলা চালানোর প্রমাণ প্রকাশ করেছে।


        গোপনে রেকর্ড করা একাধিক ফোনালাপ তাদের হাতে এসেছে বলে দাবি করেছে আল জাজিরা। ফোনালাপে শেখ হাসিনা নিজেই ছাত্রদের ওপর গুলি চালাতে সরাসরি নির্দেশ দেন। শুধু তাই নয়, হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালানোর ঘটনাও উঠে এসেছে রেকর্ডিংয়ে। প্রামাণ্যচিত্রটিতে ২০২৪ সালের ওই আন্দোলনের সময় শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ মহলের ভেতরের আলোচনা, সিদ্ধান্ত ও দমননীতির বিস্তৃত বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে।


        তিন সপ্তাহব্যাপী চলা আন্দোলনে ১৫০০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছে ২৫ হাজারের বেশি। সরকার দলীয় নিরাপত্তা বাহিনী ৩০ লাখেরও বেশি রাউন্ড গুলি ছোড়ে বলে দাবি করেছে আল জাজিরা।


        শেখ হাসিনার করা ফোনগুলো তার নিজস্ব গোয়েন্দা সংস্থা রেকর্ড করেছিল। প্রকাশিত একটি ফোনালাপে, ১৮ জুলাই ২০২৪ তারিখে শেখ হাসিনা ঢাকার দক্ষিণের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপশকে বলেন- ‘আমার নির্দেশ তো আগেই দেয়া হয়ে গেছে। আমি তো পুরোপুরি ওপেন অর্ডার দিয়ে দিয়েছি। এখন ওরা মারবে, যেখানে পাবে সেখানে গুলি করবে... আমি তো এতদিন থামিয়ে রেখেছিলাম। আমি ছাত্রদের নিরাপত্তা নিয়ে ভাবছিলাম।’


        অন্য এক রেকর্ডিংয়ে তিনি বলেন- ‘যেখানে তারা কোনো জটলা দেখছে, সেটা উপর থেকে- এখন তো উপর থেকেই হচ্ছে এরই মধ্যে কয়েক জায়গায় শুরু হয়ে গেছে। শুরু হয়ে গেছে। কিছু সরেছে।’


        প্রামাণ্যচিত্রে একজন চিকিৎসক নিশ্চিত করেন, বহু আন্দোলনকারী হেলিকপ্টার থেকে চালানো গুলিতে নিহত ও আহত হয়েছেন।


        আন্দোলনের মুখ হয়ে ওঠা ছাত্র আবু সাঈদের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। প্রামাণ্যচিত্রে দাবি করা হয়, সরকার হুমকি ও ঘুষের মাধ্যমে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে চেয়েছিল। শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ফোনে আবু সাঈদের ময়নাতদন্ত রিপোর্ট সংগ্রহে তৎপর ছিলেন।


        তদন্তে জানা গেছে, রিপোর্টটি পাঁচবার পরিবর্তন করে গুলির কোনো উল্লেখ মুছে ফেলা হয়। পরে আতঙ্কে থাকা আবু সাঈদের পরিবারকে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করানো হয়।


        আল জাজিরার দাবি, তারা ফাঁস হওয়া গোপন নথিপত্রে দেখেছে কীভাবে শেখ হাসিনার সরকার ইন্টারনেট বন্ধ করে সহিংসতার ছবি বিশ্ববাসীর কাছ থেকে গোপন রেখেছিল।


        আল জাজিরাকে পাঠানো বিবৃতিতে আওয়ামী লীগ বলেছে, শেখ হাসিনা কখনও ‘প্রাণঘাতী অস্ত্র’ ব্যবহারের নির্দেশ দেননি এবং ১৮ জুলাইয়ের রেকর্ডিংকে ভুয়া বলেছে তারা। একইসঙ্গে, আবু সাঈদের পরিবারের আতঙ্ক নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করলেও, সরকার বাহিনীর অসদাচরণ তদন্তে শেখ হাসিনার আগ্রহ ছিল বলেও দাবি করেছে।


        তারা আরো জানায়, আন্দোলনকারীদের ‘ভাঙচুরে’ ইন্টারনেট অবকাঠামোর ক্ষতি হওয়ায় ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে যায়।


        মন্তব্য

        সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক গ্রেপ্তার

        অনলাইন ডেস্ক
        ২৪ জুলাই, ২০২৫ ১৬:২৫
        অনলাইন ডেস্ক
        সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক গ্রেপ্তার

        সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে ডিবি পুলিশ ধানমন্ডির বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। ডিবির যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।


        নাসিরুল ইসলাম জানান, তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। বর্তমানে তাকে ডিবি কার্যালয়ে রাখা হয়েছে।


        ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পতন ঘটলে ১৩ আগস্ট তিনি আইন কমিশন থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর তাকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।


        এদিকে সম্প্রতি সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হককে গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম। ‘দেশের বিচার বিভাগ ও গণতন্ত্র ধ্বংসের মূল কারিগর’ উল্লেখ করে তাকে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানায় সংগঠনটি।


        খায়রুল হকের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকটি মামলা হয়েছে। শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর গত ১৮ আগস্ট ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য ইমরুল হাসান বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় খায়রুল হকের বিরুদ্ধে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায় পরিবর্তন ও জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়।


        আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়ে খায়রুল হক ছিলেন আইন কমিশনের চেয়ারম্যান। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পতন ঘটলে ১৩ আগস্ট তিনি আইন কমিশন থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর তাকে আর প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছিল না।


        রাজনৈতিক একটি বিষয়কে আদালতের আওতাধীন করে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক নন বলে রায় দিয়েছিলেন এবিএম খায়রুল হক। এছাড়া বিতর্কিত একাধিক বিচারপতিকে শপথ পড়ানো, আগাম জামিনের এখতিয়ার কেড়ে নেওয়া, খালেদা জিয়াকে ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা এবং ক্ষমতার অপব্যবহারসহ নানা অভিযোগ তার বিরুদ্ধে।


        ১৩ বছর আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অসাংবিধানিক ঘোষণা করে রায় দেওয়ার ঘটনায় সাবেক প্রধান বিচারপতি ও সদ্য পদত্যাগ করা আইন কমিশনের চেয়ারম্যান এ বি এম খায়রুল হকের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জে মামলা হয়েছে। ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী ভূঁইয়া মামলাটি করেন বলে জানান ফতুল্লা মডেল থানার ওসি নূরে আযম।


        নারায়ণগঞ্জে করা মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামি বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি থাকা অবস্থায় সংবিধানের ত্রয়োদশ মামলার শুনানিকালে সুপ্রিম কোর্টের আটজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবীকে অ্যামিকাস কিউরি নিযুক্ত করা হয়। তাদের মধ্যে একজন বাদে বাকি সবাই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহাল রাখার পক্ষে মতামত দেন।


        ত্রয়োদশ সংশোধনী মামলায় বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হক, বিচারপতি এস কে সিনহা ও সৈয়দ মাহমুদ হোসেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের পক্ষে রায় দেন। অন্যদিকে বিচারপতি আব্দুল ওয়াহাব মিঞা, নাজমুন আরা সুলতানা ও ঈমান আলী তত্ত্বাবধায়ক সরকার বহাল রাখার পক্ষে রায় দেন।


        বাদী অভিযোগ করেন, বিষয়টি সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক আগেই বুঝতে পেরে সরকারের কর্তা-ব্যক্তিদের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের পক্ষে কাস্টিং ভোট দেন।


        দেশের ১৯-তম প্রধান বিচারপতি হিসাবে এবিএম খায়রুল হক শপথ নেন ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর। পরের বছর (২০১১ সাল) ১৭ মে ৬৭ বছর পূর্ণ হওয়ায় তিনি অবসর গ্রহণ করেন।


        প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য
        সর্বশেষ সংবাদ
          সর্বাধিক পঠিত