শিরোনাম
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে থাকবে না দলীয় প্রতীক
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে থাকছে না দলীয় প্রতীক। উপদেষ্টা পরিষদ বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক উত্থাপিত এ সংক্রান্ত ৪টি আইনের সংশোধনী অনুমোদন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

এদিকে জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
গত ২৮ জুন রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দলটির মহাসমাবেশ থেকে এ দাবি জানানো হয়। এ মহাসমাবেশে যোগ দিয়ে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), এবি পার্টি, গণ অধিকার পরিষদের নেতারাও একই দাবি জানান।
বিমান বিধ্বস্তের সময় কত শিক্ষার্থী ছিল মাইলস্টোনে, জানালেন শিক্ষক
রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ জনে। বিমানটি স্কুলের একটি দোতলা ভবন আছড়ে পড়ে।
সম্প্রতি বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় মাইলস্টোন স্কুল ও কলেজের প্রভাষক মো. রেজাউল হক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘দোতলা ভবনের প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে ৩০ জনের মতো শিক্ষার্থীর ক্লাস হতো। যারা দোতলায় ছিল, তাদের উদ্ধার করা গেছে। আর যারা নিচতলায় ছিল তাদের অনেকেই দগ্ধ হয়েছে।
তিনি জানান, বিমানটি একেবারেই ভবনের মাঝ বরাবর নিচের অংশে আঘাত করেছে। যে কারণে নিচতলার দুই পাশের কক্ষগুলোই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুই তলা মিলে ২০০-এর ওপরে শিক্ষার্থী ছিল। আর নিচতলায় ছিল ১০০-১২০ শিক্ষার্থী। তবে নিচতলার শিক্ষার্থীরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে’।
তিনি আরও জানান, ক্লাস চলাকালীন হলে সাধারণত ২০০ থেকে ২২০ শিক্ষার্থী থাকার কথা। যেহেতু বিরতি চলছিল এজন্য এই সংখ্যা কমবেশি হতে পারে। যদিও স্কুলটির পক্ষ থেকে আহত বা নিহতদের সঠিক সংখ্যা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে আইএসপিআর মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৩১ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হালনাগাদ তালিকায় ২৭ জন নিহতের কথা বলা হয়, যাদের মধ্যে ২৩ জন শিশু। রাতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩২-এ পৌঁছায়।
স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম সাংবাদিকদের জানান, নিহতদের মধ্যে অনেকের পরিচয় শনাক্ত করা হয়নি। ২০টি মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে, ৬টি রাখা হয়েছে সিএমএইচের মর্গে। নিহত বৈমানিক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলামের মরদেহ রাজশাহীতে দাফন করা হয়েছে।
আইএসপিআরের তালিকা অনুযায়ী এ ঘটনায় মোট আহত হয়েছেন ১৬৫ জন। তাদের মধ্যে কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালে ৮, বার্ন ইনস্টিটিউটে ৪৬, ঢাকা মেডিকেলে ৩, সিএমএইচে ২৮, লুবনা জেনারেল হাসপাতালে ১৩, উত্তরা আধুনিক হাসপাতালে ৬০, উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতালে ১, শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১, ইউনাইটেড হাসপাতালে ২ এবং কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ৩ জন চিকিৎসাধীন।
পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্তে দেরির কারণ ব্যাখ্যা দিলেন শিক্ষা উপদেষ্টা
এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্তে বিলম্ব হওয়ার ব্যাখ্যা দিয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল আবরার (সি আর আবরার)।
বুধবার (২৩ জুলাই) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, আমি নিজেই আপনাদের ডাকতাম এই বিষয়টা নিয়ে কথা বলার জন্য। আপনারা যখন এসেই পড়েছেন সেটি আপনাদের জানায়।
তিনি বলেন, আমরা মাইলস্টোন কলেজ পরিদর্শন শেষে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) যাই। সেখান থেকে আমরা বার্ন ইউনিটে যাই। সেখানে দেখলাম যতটুকু সম্ভব তারা সিঙ্গাপুরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে যাচ্ছেন। রাত দশটা পর্যন্ত সেখানেই ছিলাম।
শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, যখন ঘরে ফিরছি তখন এই পরীক্ষার বিষয়টি সামনে আসলো। কেউ কেউ চাচ্ছিলেন পরীক্ষা হোক, আবার কেউ কেউ চাচ্ছিলেন পরীক্ষা পেছানো হোক। সেই প্রক্রিয়ায় প্রসেসের মাধ্যমে আমাদের কয়েকজন উপদেষ্টার সঙ্গেও কথা হয়। এইটা একটা সিদ্ধান্ত যেটা হুট করে নেওয়া যায় না। হুট করে নেওয়ার এখতিয়ারও কারও নেই এককভাবে।
তিনি বলেন, যেটা করার জন্য একটা রোলডাউন করতে হয়, আবার পরীক্ষা না হলে রোলব্যাক করার একটা বিষয় রয়েছে। প্রশ্নপত্র চলে গিয়ে থাকলে এক বিষয় হবে। লোকাল প্রশাসনকে জানাতে হবে। এই বিষয়গুলো নিশ্চিত করেই নির্দিষ্ট সময়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরবর্তীতে এই বিষয় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অনেকের মধ্যেই হয়তো একটা ধারণা হয়েছে, অনেক আগেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারতো। এই ধারণাটা একেবারেই সঠিক না। প্রসেস ফলো করেই পরীক্ষা পেছানো হয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনে কোনো অনিয়ম হয়নি। তিনি বলেন, তার পদত্যাগের কোনো ইচ্ছে নেই। তবে নিয়োগকর্তা চাইলে চলে যাবো।
শিক্ষা উপদেষ্টা আরও বলেন, শিক্ষা সচিবকে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে অপসারণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি অবগত নন। এইচএসসি পরীক্ষার পরবর্তী তারিখগুলো পর্যায়ক্রমে জানিয়ে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এইচএসসি
২২ ও ২৪ জুলাইয়ের স্থগিত পরীক্ষা একই দিনে সকাল-বিকেল হবে : শিক্ষা উপদেষ্টা
রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় স্থগিত হওয়া এইচএসসি ও সমমানের দুটি পরীক্ষা একই দিনে নেওয়া হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অন্তবর্তীকালীন সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার।
বুধবার শিক্ষা উপদেষ্টা জানান, ২২ জুলাইয়ের পরীক্ষা সকালে এবং ২৪ জুলাইয়ের পরীক্ষা বিকেলে নেওয়া হবে। তবে দুই দিনের স্থগিত পরীক্ষা নেওয়া হবে এখনো সেই সিদ্ধান্ত হয়নি।
সি আর আবরার বলেন, ‘এইচএসসি ও সমমানের ২২ ও ২৪ জুলাইয়ের পরীক্ষা কবে নেওয়া হবে, তা বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে। ২২ জুলাইয়ের পরীক্ষা সকালে এবং ২৪ জুলাইয়ের পরীক্ষা একই দিন বিকেলে নেওয়া হবে।’
রুটিন অনুযায়ী ২২ জুলাই রসায়ন (তত্ত্বীয়) দ্বিতীয় পত্র/ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি দ্বিতীয় পত্র (মানবিক শাখা)/ইতিহাস দ্বিতীয় পত্র/গৃহ ব্যবস্থাপনা ও পারিবারিক জীবন দ্বিতীয় পত্র/উত্পাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা ছিল। ২৪ জুলাই অর্থনীতি প্রথম পত্র/প্রকৌশল অঙ্কন ও ওয়ার্কশপ প্র্যাকটিস প্রথম পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
মাইলস্টোনে ‘কন্ট্রোল রুম’ স্থাপনের নির্দেশ
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, ঘটনার প্রকৃত তথ্য নিশ্চিত করতে দুজন উপদেষ্টা মাইলস্টোন কলেজ কর্তৃপক্ষকে ক্যাম্পাসেই একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ (কন্ট্রোল রুম) স্থাপন করার নির্দেশ দিয়েছেন। এই নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে আহত ও মৃতের সংখ্যা জানানো হবে এবং তা কলেজের রেজিস্ট্রারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে।
বুধবার (২৩ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান তিনি।
প্রেস সচিব জানান, গতকাল তিনি মাইলস্টোন কলেজ পরিদর্শন করেছেন শোকাহত পরিবার, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে দেখা করতে। তিনি বলেন, এখনো সবাই ভয়াবহ ওই ঘটনার শোক ও আতঙ্কে ভুগছেন। পুরো কলেজ চত্বরেই বিরাজ করছিল এক বিষণ্ণ ও উত্তপ্ত পরিবেশ। অনেক শিক্ষার্থী নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছে এবং নিহতের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য প্রকাশ হওয়ায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
প্রেস সচিব আরও বলেন, ২০০২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশে ঘটে যাওয়া বহু বড় দুর্ঘটনার সংবাদ তিনি সরাসরি কভার করেছেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকে তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, বাংলাদেশে প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা গোপন রাখা প্রায় অসম্ভব। সাধারণত দুর্ঘটনার পরপরই পরিবারগুলো প্রিয়জনদের নিখোঁজ বলে জানায়। তবে হাসপাতাল ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার পর অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তারা স্বজনদের খুঁজে পায়।
তিনি বলেন, মাইলস্টোন কলেজ চাইলে প্রতিদিনের উপস্থিতি খাতা বিশ্লেষণ করে সহজেই শনাক্ত করতে পারে কারা এখনো অনুপস্থিত রয়েছেন। সঠিক তথ্য নিশ্চিত করতে দুজন উপদেষ্টা কলেজ কর্তৃপক্ষকে একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ (কন্ট্রোল রুম) স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন। এই নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে আহত ও নিহতের সংখ্যা নিয়মিতভাবে প্রকাশ করা হবে এবং কলেজের রেজিস্ট্রারের তালিকার সঙ্গে এসব তথ্য মিলিয়ে দেখা হবে। উপদেষ্টারা বিশেষভাবে পরামর্শ দিয়েছেন, কক্ষটির কার্যক্রমে বর্তমান শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি প্রাক্তন শিক্ষার্থীদেরও সম্পৃক্ত করতে।
প্রেস সচিব জানান, আজকের মধ্যেই নিয়ন্ত্রণ কক্ষটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ ছাড়া, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীনদের অবস্থা নিয়ে নিয়মিত তথ্য দিচ্ছে এবং সেনাবাহিনীও এই উদ্যোগে সহায়তা করছে।
প্রেস সচিব জোর দিয়ে বলেন, সরকার নিহত বা আহতের প্রকৃত সংখ্যা গোপন করার কোনো কারণ বা উদ্দেশ্য রাখে না। তিনি জানান, গতকাল উপদেষ্টারা প্রায় নয় ঘণ্টা কলেজে অবস্থান করেছেন। পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের লক্ষ্যে তারা কখনোই বলপ্রয়োগের পথ নেননি। যতক্ষণ প্রয়োজন ছিল, ততক্ষণ তারা ছিলেন, এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তারা বিদায় নেন।
তিনি বলেন, যেসব শিক্ষক-শিক্ষার্থী এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের জন্য জাতি গভীরভাবে শোকাহত। তাদের ‘শহীদ’ আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, এটি একটি জাতীয় ট্র্যাজেডি। আমরা চাই, সবাই মিলে একযোগে কাজ করি যেন ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে। আমাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও উন্নত করতে হবে। সরকার জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার এবং আকাশপথে দুর্ঘটনার সংখ্যা শূন্যে নামিয়ে আনার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য