ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্তে দেরির কারণ ব্যাখ্যা দিলেন শিক্ষা উপদেষ্টা

অনলাইন ডেস্ক
২৩ জুলাই, ২০২৫ ১৫:৪২
অনলাইন ডেস্ক
পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্তে দেরির কারণ ব্যাখ্যা দিলেন শিক্ষা উপদেষ্টা
সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন শিক্ষা উপদেষ্টা। ছবি : সংগৃহীত

এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্তে বিলম্ব হওয়ার ব্যাখ্যা দিয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল আবরার (সি আর আবরার)।


বুধবার (২৩ জুলাই) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, আমি নিজেই আপনাদের ডাকতাম এই বিষয়টা নিয়ে কথা বলার জন্য। আপনারা যখন এসেই পড়েছেন সেটি আপনাদের জানায়।


তিনি বলেন, আমরা মাইলস্টোন কলেজ পরিদর্শন শেষে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) যাই। সেখান থেকে আমরা বার্ন ইউনিটে যাই। সেখানে দেখলাম যতটুকু সম্ভব তারা সিঙ্গাপুরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে যাচ্ছেন। রাত দশটা পর্যন্ত সেখানেই ছিলাম।


শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, যখন ঘরে ফিরছি তখন এই পরীক্ষার বিষয়টি সামনে আসলো। কেউ কেউ চাচ্ছিলেন পরীক্ষা হোক, আবার কেউ কেউ চাচ্ছিলেন পরীক্ষা পেছানো হোক। সেই প্রক্রিয়ায় প্রসেসের মাধ্যমে আমাদের কয়েকজন উপদেষ্টার সঙ্গেও কথা হয়। এইটা একটা সিদ্ধান্ত যেটা হুট করে নেওয়া যায় না। হুট করে নেওয়ার এখতিয়ারও কারও নেই এককভাবে।


তিনি বলেন, যেটা করার জন্য একটা রোলডাউন করতে হয়, আবার পরীক্ষা না হলে রোলব্যাক করার একটা বিষয় রয়েছে। প্রশ্নপত্র চলে গিয়ে থাকলে এক বিষয় হবে। লোকাল প্রশাসনকে জানাতে হবে। এই বিষয়গুলো নিশ্চিত করেই নির্দিষ্ট সময়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরবর্তীতে এই বিষয় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।


তিনি আরও বলেন, অনেকের মধ্যেই হয়তো একটা ধারণা হয়েছে, অনেক আগেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারতো। এই ধারণাটা একেবারেই সঠিক না। প্রসেস ফলো করেই পরীক্ষা পেছানো হয়েছে।


এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনে কোনো অনিয়ম হয়নি। তিনি বলেন, তার পদত্যাগের কোনো ইচ্ছে নেই। তবে নিয়োগকর্তা চাইলে চলে যাবো।


শিক্ষা উপদেষ্টা আরও বলেন, শিক্ষা সচিবকে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে অপসারণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি অবগত নন। এইচএসসি পরীক্ষার পরবর্তী তারিখগুলো পর্যায়ক্রমে জানিয়ে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।


মন্তব্য

এইচএসসি

২২ ও ২৪ জুলাইয়ের স্থগিত পরীক্ষা একই দিনে সকাল-বিকেল হবে : শিক্ষা উপদেষ্টা

অনলাইন ডেস্ক
২৩ জুলাই, ২০২৫ ১৫:২৩
অনলাইন ডেস্ক
২২ ও ২৪ জুলাইয়ের স্থগিত পরীক্ষা একই দিনে সকাল-বিকেল হবে : শিক্ষা উপদেষ্টা

রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় স্থগিত হওয়া এইচএসসি ও সমমানের দুটি পরীক্ষা একই দিনে নেওয়া হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অন্তবর্তীকালীন সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার।


বুধবার শিক্ষা উপদেষ্টা জানান, ২২ জুলাইয়ের পরীক্ষা সকালে এবং ২৪ জুলাইয়ের পরীক্ষা বিকেলে নেওয়া হবে। তবে দুই দিনের স্থগিত পরীক্ষা নেওয়া হবে এখনো সেই সিদ্ধান্ত হয়নি।


সি আর আবরার বলেন, ‘এইচএসসি ও সমমানের ২২ ও ২৪ জুলাইয়ের পরীক্ষা কবে নেওয়া হবে, তা বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে। ২২ জুলাইয়ের পরীক্ষা সকালে এবং ২৪ জুলাইয়ের পরীক্ষা একই দিন বিকেলে নেওয়া হবে।’


রুটিন অনুযায়ী ২২ জুলাই রসায়ন (তত্ত্বীয়) দ্বিতীয় পত্র/ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি দ্বিতীয় পত্র (মানবিক শাখা)/ইতিহাস দ্বিতীয় পত্র/গৃহ ব্যবস্থাপনা ও পারিবারিক জীবন দ্বিতীয় পত্র/উত্পাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা ছিল। ২৪ জুলাই অর্থনীতি প্রথম পত্র/প্রকৌশল অঙ্কন ও ওয়ার্কশপ প্র্যাকটিস প্রথম পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।


প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    মাইলস্টোনে ‘কন্ট্রোল রুম’ স্থাপনের নির্দেশ

    অনলাইন ডেস্ক
    ২৩ জুলাই, ২০২৫ ১৪:৫৩
    অনলাইন ডেস্ক
    মাইলস্টোনে ‘কন্ট্রোল রুম’ স্থাপনের নির্দেশ

    প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, ঘটনার প্রকৃত তথ্য নিশ্চিত করতে দুজন উপদেষ্টা মাইলস্টোন কলেজ কর্তৃপক্ষকে ক্যাম্পাসেই একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ (কন্ট্রোল রুম) স্থাপন করার নির্দেশ দিয়েছেন। এই নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে আহত ও মৃতের সংখ্যা জানানো হবে এবং তা কলেজের রেজিস্ট্রারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে।


    বুধবার (২৩ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান তিনি।


    প্রেস সচিব জানান, গতকাল তিনি মাইলস্টোন কলেজ পরিদর্শন করেছেন শোকাহত পরিবার, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে দেখা করতে। তিনি বলেন, এখনো সবাই ভয়াবহ ওই ঘটনার শোক ও আতঙ্কে ভুগছেন। পুরো কলেজ চত্বরেই বিরাজ করছিল এক বিষণ্ণ ও উত্তপ্ত পরিবেশ। অনেক শিক্ষার্থী নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছে এবং নিহতের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য প্রকাশ হওয়ায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।


    প্রেস সচিব আরও বলেন, ২০০২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশে ঘটে যাওয়া বহু বড় দুর্ঘটনার সংবাদ তিনি সরাসরি কভার করেছেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকে তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, বাংলাদেশে প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা গোপন রাখা প্রায় অসম্ভব। সাধারণত দুর্ঘটনার পরপরই পরিবারগুলো প্রিয়জনদের নিখোঁজ বলে জানায়। তবে হাসপাতাল ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার পর অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তারা স্বজনদের খুঁজে পায়।


    তিনি বলেন, মাইলস্টোন কলেজ চাইলে প্রতিদিনের উপস্থিতি খাতা বিশ্লেষণ করে সহজেই শনাক্ত করতে পারে কারা এখনো অনুপস্থিত রয়েছেন। সঠিক তথ্য নিশ্চিত করতে দুজন উপদেষ্টা কলেজ কর্তৃপক্ষকে একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ (কন্ট্রোল রুম) স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন। এই নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে আহত ও নিহতের সংখ্যা নিয়মিতভাবে প্রকাশ করা হবে এবং কলেজের রেজিস্ট্রারের তালিকার সঙ্গে এসব তথ্য মিলিয়ে দেখা হবে। উপদেষ্টারা বিশেষভাবে পরামর্শ দিয়েছেন, কক্ষটির কার্যক্রমে বর্তমান শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি প্রাক্তন শিক্ষার্থীদেরও সম্পৃক্ত করতে।


    প্রেস সচিব জানান, আজকের মধ্যেই নিয়ন্ত্রণ কক্ষটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ ছাড়া, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীনদের অবস্থা নিয়ে নিয়মিত তথ্য দিচ্ছে এবং সেনাবাহিনীও এই উদ্যোগে সহায়তা করছে।


    প্রেস সচিব জোর দিয়ে বলেন, সরকার নিহত বা আহতের প্রকৃত সংখ্যা গোপন করার কোনো কারণ বা উদ্দেশ্য রাখে না। তিনি জানান, গতকাল উপদেষ্টারা প্রায় নয় ঘণ্টা কলেজে অবস্থান করেছেন। পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের লক্ষ্যে তারা কখনোই বলপ্রয়োগের পথ নেননি। যতক্ষণ প্রয়োজন ছিল, ততক্ষণ তারা ছিলেন, এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তারা বিদায় নেন।


    তিনি বলেন, যেসব শিক্ষক-শিক্ষার্থী এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের জন্য জাতি গভীরভাবে শোকাহত। তাদের ‘শহীদ’ আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, এটি একটি জাতীয় ট্র্যাজেডি। আমরা চাই, সবাই মিলে একযোগে কাজ করি যেন ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে। আমাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও উন্নত করতে হবে। সরকার জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার এবং আকাশপথে দুর্ঘটনার সংখ্যা শূন্যে নামিয়ে আনার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।


    মন্তব্য

    শক্তিশালী পাসপোর্টের র‍্যাংকিংয়ে তিন ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ

    অনলাইন ডেস্ক
    ২৩ জুলাই, ২০২৫ ১৪:৪৬
    অনলাইন ডেস্ক
    শক্তিশালী পাসপোর্টের র‍্যাংকিংয়ে তিন ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ

    বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের র‍্যাংকিংয়ে তিন ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্সের সাম্প্রতিক ত্রৈমাসিক হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশ রয়েছে ৯৪তম অবস্থানে। গত বছর এ অবস্থান ছিল ৯৭তম।


    পাসপোর্ট ইনডেক্সের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা এখন বিশ্বের ৩৯টি দেশে ভিসা ছাড়া ভ্রমণ করতে পারেন।


    প্রকাশিত হেনলি অ্যান্ড পার্টনারসের এই ইনডেক্স বৈশ্বিক ভিসামুক্ত ভ্রমণের সুযোগের ভিত্তিতে র‍্যাংকিং তৈরি করা হয়েছে।


    পাসপোর্ট র‌্যাংকিংয়ে এবার এককভাবে শীর্ষে রয়েছে সিঙ্গাপুর। দেশটির পাসপোর্টধারীরা বিশ্বের ১৯৩টি দেশে ভিসা ছাড়া প্রবেশ করতে পারেন। গত বছর যৌথভাবে শীর্ষ স্থানে ছিল ছয়টি দেশ– ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান, সিঙ্গাপুর ও স্পেন।


    র‌্যাংকিংয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া। এসব দেশের পাসপোর্টধারীরা বিশ্বের ১৯০টি দেশে ভিসা ছাড়া প্রবেশ করতে পারেন।


    তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে সাতটি দেশ– ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, ইতালি ও স্পেন। এসব দেশের পাসপোর্টধারীরা বিশ্বের ১৮৯টি দেশে ভিসা ছাড়া প্রবেশ করতে পারেন।


    চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, লুক্সেমবার্গ, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, পর্তুগাল ও সুইডেন। এসব দেশের পাসপোর্টধারীরা বিশ্বের ১৮৮টি দেশে ভিসা ছাড়া প্রবেশ করতে পারেন।


    পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে গ্রিস, নিউজিল্যান্ড ও সুইজারল্যান্ড। এসব দেশের পাসপোর্টধারীরা বিশ্বের ১৮৭টি দেশে ভিসা ছাড়া প্রবেশ করতে পারেন।


    ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্য। দেশটির পাসপোর্টধারীরা বিশ্বের ১৮৬টি দেশে ভিসা ছাড়া প্রবেশ করতে পারেন।


    সপ্তম অবস্থানে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, চেক রিপাবলিক, হাঙ্গেরি, মাল্টা, পোল্যান্ড। এসব দেশের পাসপোর্টধারীরা বিশ্বের ১৮৫টি দেশে ভিসা ছাড়া প্রবেশ করতে পারেন।


    অষ্টম অবস্থানে রয়েছে কানাডা, এস্তোনিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এসব দেশের পাসপোর্টধারীরা বিশ্বের ১৮৪টি দেশে ভিসা ছাড়া প্রবেশ করতে পারেন।


    নবম অবস্থানে রয়েছে ক্রোয়েশিয়া, লাটভিয়া, স্লোভাকিয়া ও স্লোভেনিয়া। এসব দেশের পাসপোর্টধারীরা বিশ্বের ১৮৩টি দেশে ভিসা ছাড়া প্রবেশ করতে পারেন।


    দশম অবস্থানে রয়েছে আইসল্যান্ড, লিথুনিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র। এসব দেশের পাসপোর্টধারীরা বিশ্বের ১৮২টি দেশে ভিসা ছাড়া প্রবেশ করতে পারেন।


    হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্সে ১৯৯টি পাসপোর্ট ও ২২৭টি গন্তব্য বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। 


    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      মাইলস্টোনে ৯ ঘণ্টা থাকার কারণ জানালেন প্রেস সচিব

      অনলাইন ডেস্ক
      ২৩ জুলাই, ২০২৫ ১৩:৫৮
      অনলাইন ডেস্ক
      মাইলস্টোনে ৯ ঘণ্টা থাকার কারণ জানালেন প্রেস সচিব
      প্রেস সচিব শফিকুল আলম। ছবি : সংগৃহীত

      মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ পরিদর্শনে গিয়ে অবরুদ্ধ থাকার কারণ জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।


      বুধবার (২৩ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে লেখেন, গতকাল আমরা ৯ ঘণ্টা ধরে স্কুলে ছিলাম। চাইলে তার আগেও চলে আসতে পারতাম, কিন্তু উপদেষ্টারা সংকট সমাধানে শান্তিপূর্ণ পন্থা অবলম্বন করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছিলেন। তারা বলেছিলেন, যতক্ষণ দরকার, ততক্ষণ থাকবেন। আমরা কেবল তখনই স্কুল ত্যাগ করেছি, যখন সেটি প্রাসঙ্গিক ছিল।


      তিনি লেখেন, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে মাইলস্টোন কলেজে একটি ‘কন্ট্রোল রুম’ স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই উপদেষ্টা। এই কন্ট্রোল রুমে প্রতিদিন নিহত ও আহতের সংখ্যা হালনাগাদ করা হবে এবং তা কলেজ রেজিস্ট্রার বইয়ের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে। উপদেষ্টারা পরামর্শ দিয়েছেন, এই প্রক্রিয়ায় কলেজের বর্তমান শিক্ষার্থী ও প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীদেরও সম্পৃক্ত করতে হবে। কন্ট্রোল রুমটি আজ বুধবার থেকেই পুরোপুরি চালু হওয়ার কথা রয়েছে।


      শফিকুল আলম লেখেন, গতকাল আপনাদের প্রার্থনা ও সহানুভূতির জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমরা মাইলস্টোন কলেজ পরিদর্শন করেছি। আমরা শোকাহত পরিবারগুলোর সঙ্গে দেখা করতে এবং সেইসব শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলতে, যারা এখনো এই মর্মান্তিক ঘটনার ধাক্কা সামলে উঠতে পারেননি। পুরো পরিবেশ ছিল শোক ও ক্ষোভে ভারাক্রান্ত। অনেক শিক্ষার্থী নিজের চোখে দেখা ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন এবং মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন তথ্যভ্রান্তির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।


      তিনি লেখেন, ২০০২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আমি অসংখ্য বড় দুর্ঘটনার সংবাদ কভার করেছি। সেই অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, বাংলাদেশে প্রাণহানির প্রকৃত সংখ্যা গোপন রাখা প্রায় অসম্ভব। সাধারণত দুর্ঘটনার পরপরই পরিবারগুলো প্রিয়জনকে নিখোঁজ হিসেবে জানায়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতাল ও প্রশাসনিক সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নিখোঁজদের অবস্থান শনাক্ত করা যায়। এ ঘটনাতেও মাইলস্টোন কলেজ কর্তৃপক্ষ চাইলে প্রতিদিনের উপস্থিতি তালিকা (অ্যাটেনডেন্স রেকর্ড) বিশ্লেষণ করে এখনো যাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, তাদের সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করতে পারবে।


      তিনি আরও লেখেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ব্যক্তিদের অবস্থা সম্পর্কে নিয়মিত তথ্য দিচ্ছে। সামরিক বাহিনীও এই প্রচেষ্টায় সহায়তা করছে। আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, সরকারের পক্ষ থেকে প্রাণহানির সংখ্যা গোপন বা কম দেখানোর কোনো কারণ নেই।


      দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণ করে প্রেস সচিব লেখেন, যারা এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন তাদের প্রতি সহমর্মিতা জানাচ্ছি। এটি একটি জাতীয় ট্র্যাজেডি, এবং তারা সবাই শহীদ। আসুন, ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা এড়াতে আমাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করি। সরকার জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং আকাশপথে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।


      উল্লেখ্য, আইএসপিআর মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৩১ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হালনাগাদ তালিকায় ২৭ জন নিহতের কথা বলা হয়, যাদের মধ্যে ২৩ জন শিশু। রাতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩২-এ পৌঁছায়।

      মন্তব্য
      সর্বশেষ সংবাদ
        সর্বাধিক পঠিত