ঢাকা, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

তালাবদ্ধ মাইলস্টোন স্কুল, গেটের বাইরে জনতার ভিড়

অনলাইন ডেস্ক
২৩ জুলাই, ২০২৫ ১২:৩১
অনলাইন ডেস্ক
তালাবদ্ধ মাইলস্টোন স্কুল, গেটের বাইরে জনতার ভিড়

উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের মূল ফটক বুধবারেও বন্ধ। দ্বিতীয় দিনের মতো প্রতিষ্ঠানটির সব ধরনের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ক্যাম্পাসে কোনো শিক্ষার্থীর উপস্থিতি ছিল না। তবে গেটের বাইরে জড়ো হয়েছিল উৎসুক মানুষ ও সংবাদকর্মীরা।


সকালে জায়গাটি ছিল বেশ ফাঁকা। কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে গেটের সামনের সড়কে বাড়তে থাকে মানুষের ভিড়। অনেকেই মোবাইলে ছবি ও ভিডিও ধারণ করছিলেন। সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরাগুলো ছিল মূল গেটের দিকেই স্থির। মাঝে মধ্যে কেউ বের হলেই সাংবাদিকরা দৌড়ে ছুটে যাচ্ছিলেন মাইক্রোফোন ও ক্যামেরা নিয়ে।


বড়াইগ্রামে ট্রাক-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে প্রাণ গেল ৫ জনেরবড়াইগ্রামে ট্রাক-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে প্রাণ গেল ৫ জনের

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘দুই দিন আগেও যেখানে বাচ্চারা হাসিখুশি খেলছিল, এখন সেখানে তালা ঝুলছে। কেউ ভেতরে ঢুকতে পারছে না, কিন্তু মন মানছে না।’


অভ্যন্তরে দেখা গেছে পুলিশের পাশাপাশি বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মীদের কঠোর অবস্থান। কেউ গেটের ভেতরে ঢুকতে গেলে সঙ্গে সঙ্গেই বাধা দেওয়া হচ্ছিল। গণমাধ্যমকর্মীদের অধিকাংশই প্রবেশের অনুমতি না পেয়ে বাইরে থেকেই রিপোর্টিং চালিয়ে যাচ্ছিলেন।


এদিকে, ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় হতাহতদের প্রকৃত সংখ্যা নিরূপণ এবং সংশ্লিষ্টদের নাম-ঠিকানাসহ পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুতের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ একটি ছয় সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জিয়াউল আলমকে প্রধান করে গঠিত এই কমিটিকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।


গোপালগঞ্জে রেল লাইনের ওপর থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধারগোপালগঞ্জে রেল লাইনের ওপর থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার

কমিটির সদস্যরা হলেন—উপাধ্যক্ষ (প্রশাসন) মো. মাসুদ আলম, প্রধান শিক্ষিকা খাদিজা আক্তার, কো-অর্ডিনেটর লুৎফুন্নেসা লোপা, অভিভাবক প্রতিনিধি মনিরুজ্জামান মোল্লা (যার কন্যা যাইমা জাহান চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী), এবং দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মারুফ বিন জিয়াউর রহমান ও মো. ভাসনিম ভূঁইয়া প্রতিক।


তদন্ত কমিটিকে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা যেন সরাসরি দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে এবং যাচাইকৃত তথ্যের ভিত্তিতে নির্ভরযোগ্য তালিকা প্রস্তুত করে।


উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই (সোমবার) দুপুরে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনে বিধ্বস্ত হয়। এতে বহু শিক্ষার্থী হতাহত হন। মর্মান্তিক এ ঘটনার পরদিন দেশব্যাপী রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক পালন করা হয় এবং মানবিক কারণে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করা হয়।


প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    বিমান বিধ্বস্ত

    তদন্ত কমিটি গঠন করেছে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ

    অনলাইন ডেস্ক
    ২৩ জুলাই, ২০২৫ ১১:৫৮
    অনলাইন ডেস্ক
    তদন্ত কমিটি গঠন করেছে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ

    রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় হতাহতদের প্রকৃত সংখ্যা তৈরি এবং আহত ও নিখোঁজদের তালিকা করার জন্য ছয় সদস্যের কমিটি গঠন করেছে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষ। বুধবার সকালে কমিটি গঠন করার খবর জানা গেছে।


    অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জিয়াউল আলমকে সভাপতি করে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটিকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।


    কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- উপাধ্যক্ষ (প্রশাসন) মো. মাসুদ আলম, প্রধান শিক্ষিকা খাদিজা আক্তার, কো-অর্ডিনেটর লুৎফুন্নেসা লোপা, অভিভাবক প্রতিনিধি মনিরুজ্জামান মোল্লা (শিক্ষার্থী: যাইমা জাহান, চতুর্থ শ্রেণি) এবং দ্বাদশ শ্রেণির দুই শিক্ষার্থী মারুফ বিন জিয়াউর রহমান ও মো. ভাসনিম ভূঁইয়া প্রতিক।


    এ কমিটিকে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সরাসরি ঘটনাস্থল পরিদর্শন, সংশ্লিষ্ট পরিবারদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং নিশ্চিত তথ্য যাচাই করে তালিকা প্রস্তুত করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।


    মন্তব্য

    বিধ্বস্তের আগে কন্ট্রোল রুমে কী বার্তা দিয়েছিলেন পাইলট তৌকির

    অনলাইন ডেস্ক
    ২৩ জুলাই, ২০২৫ ১০:৪৮
    অনলাইন ডেস্ক
    বিধ্বস্তের আগে কন্ট্রোল রুমে কী বার্তা দিয়েছিলেন পাইলট তৌকির
    তৌকির ইসলাম সাগর। ছবি : সংগৃহীত

    মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিধ্বস্ত হওয়ার আগমুহূর্তেও কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন যুদ্ধবিমানের পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলাম সাগর। কন্ট্রোল রুমকে তিনি বলেছিলেন, ‘বিমান ভাসছে না...মনে হচ্ছে নিচে পড়ছে।’


    সোমবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে এফটি-৭ যুদ্ধবিমান নিয়ে একক উড্ডয়ন (সোলো ফ্লাইট) করেন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলাম। এটি ছিল তার প্রথম সোলো ফ্লাইট, যা বৈমানিক প্রশিক্ষণের সর্বশেষ ও সবচেয়ে জটিল ধাপ। এ পর্যায়ে পাইলটকে কোনো সহকারী, নেভিগেটর বা প্রশিক্ষক ছাড়াই একা বিমান পরিচালনা করতে হয়। রাজধানীর কুর্মিটোলা পুরাতন বিমানঘাঁটি থেকে এটি উড্ডয়ন করা হয়েছিল।


    একাধিক সূত্রে জানা গেছে, উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানটি উত্তরা, দিয়াবাড়ি, বাড্ডা, হাতিরঝিল ও রামপুরার আকাশসীমায় প্রবেশ করে। এর মধ্যে হঠাৎই বিমানটির আচরণ অস্বাভাবিক হয়ে ওঠে। তখন পাইলট কন্ট্রোল রুমে জানান, ‘বিমান ভাসছে না...মনে হচ্ছে নিচে পড়ছে।’


    তাকে কন্ট্রোল রুম থেকে ইজেক্ট (বিমান থেকে বের হয়ে যাওয়া) করার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বিমানটিকে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালিয়ে যান। সর্বোচ্চ গতিতে তিনি বিমানটি বেসে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন। এর মধ্যেই কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে তার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। মাত্র এক থেকে দেড় মিনিটের মধ্যে বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাইলস্টোন স্কুল ভবনের ওপর আছড়ে পড়ে।


    বিমানবাহিনীর সাবেক একাধিক কর্মকর্তা জানান, যে কোনো ধরনের প্রশিক্ষণ ফ্লাইট জনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে দূরেই হয়ে থাকে। তবে সোলো ফ্লাইট সাধারণত নগরাঞ্চলেই হয়ে থাকে। এ ধরনের ফ্লাইটের জন্য পাইলটকে যথেষ্ট দক্ষ ও যোগ্যতাসম্পন্ন হতে হয়। ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির তেমনই একজন পাইলট ছিলেন।


    প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    সেই শিক্ষক মাহরিন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ভাতিজি

    অনলাইন ডেস্ক
    ২৩ জুলাই, ২০২৫ ১০:৪১
    অনলাইন ডেস্ক
    সেই শিক্ষক মাহরিন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ভাতিজি
    মাহরিন চৌধুরী। ছবি : সংগৃহীত

    নীলফামারীতে বাবা-মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহত স্কুলশিক্ষক মাহরিন চৌধুরী (৪২)। জানা গেছে, শিক্ষক মাহরিন সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাতিজি। তিনি জিয়াউর রহমানের আপন খালাতো ভাই এমআর চৌধুরীর মেয়ে।


    ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহ্বায়ক এবং বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।


    সোমবার (২১ জুলাই) বিমান বিধ্বস্তের পর আগুনের মধ্যে ক্লাসরুমের ভেতর থেকে শিশু শিক্ষার্থীদের একে একে বাইরে নিয়ে আসেন মাহরিন চৌধুরী। প্রায় ২০ শিক্ষার্থীকে বাইরে বের করে আনতে পারলেও নিজে সময়মতো বের হতে পারেননি। মারাত্মকভাবে দগ্ধ হন তিনি।


    এ ঘটনায় উদ্ধার করে তাকে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে রাতে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান। তার শরীরের ১০০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল বলে জানান চিকিৎসক।


    শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগের আগে স্বামী মনছুর হেলালের সঙ্গে কথা বলেন এই সাহসী শিক্ষিকা।


    মঙ্গলবার (২২ জুলাই) সাংবাদিকের সঙ্গে আলাপকালে মনছুর হেলাল বলেন, ‘বাচ্চারা যেদিক দিয়ে বের হবে, ওখানে সরাসরি এসে বিমানটি ক্রাশ করছে, তারপরে এক্সপ্লোশন হয়ে ভেতরে ঢুকে গেছে। ঘটনার পর মাহরিন কিছু বাচ্চাকে বের করে নিয়ে আসে।’


    আইসিউতে মাহরিনের শেষ কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আইসিইউতে আমি তাকে বললাম, তুমি কেন এ কাজ করতে গেলা? সে বলল, আমার বাচ্চারা আমার সামনে সব পুড়ে মারা যাচ্ছে, আমি এটা কীভাবে সহ্য করি। ও (মাহরীন) সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে, কিছু বাচ্চা বের করছে, আরও কিছু বাচ্চা বের করার চেষ্টায় ছিল। ঠিক এমন সময় বিকট শব্দে আরেকটি বিস্ফোরণ হয়। আর তাতেই তার পুরো শরীর পুড়ে যায়।’


    মনছুর হেলাল বলেন, ‘লাইফ সাপোর্টে নেওয়ার আগে আমাকে আগে বলল, আমার ডান হাতটা শক্ত করে ধরো। হাত ধরা যায় না, সব পুড়ে শেষ। ও বলল, তোমার সঙ্গে আর দেখা হবে না।’


    স্বামীর হাত ধরে মাহরীন তখন বলছিলেন, ‘আমার বাচ্চাদের দেখো।’ জবাবে মনছুর হেলাল বলেন, ‘তোমার বাচ্চাদের এতিম করে গেলা। জবাবে সে বলে, কী করব, ওরাও তো আমার বাচ্চা, সবাই পুড়ে মারা যাচ্ছে, আমি কীভাবে সহ্য করব?’


    মনসুর হেলাল আরও বলেন, ওকে বাঁচাতে পারিনি। আমার দুটি ছোট ছোট বাচ্চা এতিম হয়ে গেল।


    মাহরিন চৌধুরীর বাবার বাড়ি নীলফামারী জলঢাকা উপজেলা বগুলাগাড়ী চৌধুরীপাড়ায়। মহিতুর রহমান চৌধুরী ও সাবেরা খাতুন দম্পতির বড় মেয়ে তিনি। শিক্ষাজীবন শেষে ২০০২-০৩ সালের দিকে রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষকতার পেশায় নিয়োজিত হন মাহরিন চৌধুরী। মৃত্যুর আগ পযন্ত মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বাংলা মিডিয়াম শাখার তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির কো-অর্ডিনেটর ছিলেন।


    তার শ্বশুরবাড়ি শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার চরআত্রাই গ্রামে। স্বামী মনছুর হেলাল একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জেনারেল ম্যানেজার। বৈবাহিক জীবনে দুই ছেলে সন্তান আয়ান রশীদ ও আদেল রশীদের মা ছিলেন মাহরিন। তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ভাতিজি। জিয়াউর রহমানের মা জাহানারা বেগম এবং মাহরিন চৌধুরীর দাদি রওশনারা বেগম ছিলেন আপন বোন।


    জলঢাকার বগুলাগাড়ি স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মহুবার রহমান বলেন, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে মাহরিন চৌধুরী কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন। গত ২২ জুন তিনি প্রতিষ্ঠানে এসেছিলেন। প্রতিদিনই তিনি একবার করে হলেও ফোনে আমার কাছ থেকে প্রতিষ্ঠানের সার্বিক বিষয়ে খোঁজখবর নিতেন। সোমবার দুপুর ১২টার দিকে প্রতিষ্ঠানে অভিভাবক সমাবেশ আহ্বান করা নিয়ে ম্যাডামের সঙ্গে সবশেষ কথা হয়। এরপর খবর পাই তিনি বিমান দুর্ঘটনায় দগ্ধ হয়েছেন এবং রাতে মৃত্যুবরণ করেছেন।


    তিনি আরও বলেন, একজন শিক্ষক ও একজন মা হিসেবে মাহরিন নিজের জীবনবাজি রেখে অনেক শিক্ষার্থীর প্রাণ বাঁচিয়ে আজ না ফেরার দেশে। তিনি যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন তা পুরো জাতি মনে রাখবে।


    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি

      একসঙ্গে খেলতো তিনজন, এখন শুয়ে আছে পাশাপাশি কবরে

      অনলাইন ডেস্ক
      ২৩ জুলাই, ২০২৫ ১০:২৯
      অনলাইন ডেস্ক
      একসঙ্গে খেলতো তিনজন, এখন শুয়ে আছে পাশাপাশি কবরে
      ছেলেকে হারিয়ে অঝোরে কাঁদছেন বাপ্পির বাবা। ছবি : সংগৃহীত

      প্রতিদিনের মতোই সোমবার (২১ জুলাই) সকালে একসঙ্গে স্কুলে গিয়েছিল আরিয়ান, বাপ্পি ও উমায়ের। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া এই শিক্ষার্থীদের স্কুল শেষে চলছিল কোচিংয়ের ক্লাস। ক্লাস শেষে আবারও ঘরে ফেরার কথা ছিল। ঘরে ফিরেছে তারা, কিন্তু এবারের ফেরাটা ভিন্ন।


      হাশিখুশি মুখগুলো নিথর দেহ হয়ে পৌঁছেছে স্বজনদের কাছে।


      ঢাকার উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুলে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় ঝরেছে এই তিন শিশুর প্রাণ। তারা একই বংশের সদস্য। দিয়াবাড়ির তারারটেক মসজিদ এলাকায় একসঙ্গেই বেড়ে উঠছিল, তাদের মৃত্যুও ঘটল একই ঘটনায়।


      মঙ্গলবার (২২ জুলাই) ওই এলাকায় সরেজমিনে পরিদর্শনে মিলল শোকের আবহ। দুদিন আগেও যে আঙিনায় একসঙ্গে খেলাধুলায় মেতে থাকত এই শিশুরা, সেখানেই আজ পাশাপাশি কবরে শায়িত।


      চোখের জলে পরিবারের কনিষ্ঠ তিন সদস্যকে বিদায় জানালেন স্বজনরা। পুরো এলাকা যেন শোকস্তব্ধ। অঝোরে কেঁদেছেন বন্ধু, সহপাঠী আর প্রতিবেশীরাও।


      তারা বলছেন, ‘এ বিদায় কষ্টের, এ বিদায় মেনে নেওয়ার মতো নয়।’


      সরেজমিনে দেখা গেল, মাইলস্টোন স্কুল থেকে কিছুটা দূরেই দিয়াবাড়ির তারারটেক মসজিদ। যেখানে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করত ১০ বছরের শিশু আরিয়ান এবং ৯ বছরের বাপ্পি ও হুমায়ের। সম্পর্কে চাচা-ভাতিজা হলেও কাছাকাছি বয়স হওয়ায় তারা ছিল বন্ধু, সহপাঠী, খেলার সাথী। সোমবারের দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায় তিনজনই। দুর্ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তাদের।


      তারারটেক মসজিদের পাশেই পরিবারের সঙ্গে বসবাস করত আরিয়ান, বাপ্পি ও হুমায়ের। আলাদা তিনটি বাড়িতে থাকলেও তারা একই পরিবারের সদস্য, সম্পর্কে চাচা-ভাতিজা।


      তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী বাপ্পি ওই এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আবু শাহিনের সন্তান এবং একই ক্লাসের হুমায়ের তার ভাইয়ের ছেলে। এছাড়া চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া ১০ বছরের আরিয়ান শাহিনের চাচাতো ভাই। সন্তানের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে অঝোরে কাঁদছিলেন শোকার্ত এই মানুষটি। পাশে দাঁড়িয়ে তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন প্রতিবেশী আর স্বজনরা।


      ঘটনার দিন সকালে প্রতিদিনের মতো একসঙ্গেই স্কুলে গিয়েছিল এই তিনজন। বেলা ১১টায় স্কুল শেষে অংশ নিয়েছিল কোচিংয়ের ক্লাসে। দুপুর দেড়টায় ক্লাস শেষ হওয়ার কথা ছিল। ওই দিন জোহরের নামাজ শেষে বাপ্পিকে আনতে স্কুলের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন শাহিন। একসঙ্গে ফেরার কথা ছিল তার ভাই আরিয়ান ও ভাতিজা হুমায়েরও।


      কিন্তু পথেই শুনতে পান বিকট আওয়াজ। কিছুটা এগোতেই ধোঁয়ার কুণ্ডুলী দেখে দৌড়ে পৌঁছান স্কুল প্রাঙ্গণে। ‘কিন্তু ততোক্ষণে সব শেষ’, বলছিলেন শাহিন। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে যে ক্লাসে পড়ে তার আগের ক্লাসটায় বিমানডা ঢুকছে। দেখে তহনি বুঝজি যে আমার ছেলে আর নাই।’


      আহত হলেও দুর্ঘটনাস্থল থেকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছিল তার সন্তান বাপ্পি এবং ভাই আরিয়ান। তবে এর কিছুক্ষণ পরে মারা যায় হুমায়ের।


      শাহিন বললেন, গত রাত তিনটা বাজে হাসপাতালে আমার ভাইটা মারা গেছে। আমার ছেলে বাপ্পি মারা গেছে সবার পরে।


      নিহত তিন শিশুর জানাজায় অংশ নেন অনেক মানুষ। দূর থেকে এক নজর দেখতে এসেছিলেন স্বজন, প্রতিবেশী আর সহপাঠীরাও।


      দুর্ঘটনার সময় ক্লাসে না থাকায় প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন আরিয়ানের সহপাঠী রাইয়ান আফনান। বন্ধুকে শেষ বিদায় জানাতে বাবার সঙ্গে জানাজায় অংশ নিয়েছিল সে।


      আফনান জানায়, ‘ওই দিন আমিও স্কুলে ছিলাম। কিন্তু ওই সময় বাইরের লাইব্রেরিতে গেছিলাম। আমি যখন মেইন গেট পার হইছি তখনই বিস্ফোরণের শব্দ শুনলাম।’


      মাইলস্টোন স্কুলে বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় ওই এলাকায় আরও দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। যাদের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে গেছেন পরিবারের সদস্যরা।


      হঠাৎ এমন ভয়াবহ ঘটনায় হতবাক এলাকার বাসিন্দারা।


      ওই এলাকার বাসিন্দা মোতালেব হোসেন বলেন, ‘মাত্র একদিন আগে যে শিশুদের একসাথে স্কুলে যেতে অথবা খেলে বেড়াতে দেখলাম, তারা আজ নেই।’


      সূত্র : বিবিসি বাংলা


      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য
        সর্বশেষ সংবাদ
          সর্বাধিক পঠিত