শিরোনাম
মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি
একসঙ্গে খেলতো তিনজন, এখন শুয়ে আছে পাশাপাশি কবরে
প্রতিদিনের মতোই সোমবার (২১ জুলাই) সকালে একসঙ্গে স্কুলে গিয়েছিল আরিয়ান, বাপ্পি ও উমায়ের। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া এই শিক্ষার্থীদের স্কুল শেষে চলছিল কোচিংয়ের ক্লাস। ক্লাস শেষে আবারও ঘরে ফেরার কথা ছিল। ঘরে ফিরেছে তারা, কিন্তু এবারের ফেরাটা ভিন্ন।
হাশিখুশি মুখগুলো নিথর দেহ হয়ে পৌঁছেছে স্বজনদের কাছে।
ঢাকার উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুলে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় ঝরেছে এই তিন শিশুর প্রাণ। তারা একই বংশের সদস্য। দিয়াবাড়ির তারারটেক মসজিদ এলাকায় একসঙ্গেই বেড়ে উঠছিল, তাদের মৃত্যুও ঘটল একই ঘটনায়।
মঙ্গলবার (২২ জুলাই) ওই এলাকায় সরেজমিনে পরিদর্শনে মিলল শোকের আবহ। দুদিন আগেও যে আঙিনায় একসঙ্গে খেলাধুলায় মেতে থাকত এই শিশুরা, সেখানেই আজ পাশাপাশি কবরে শায়িত।
চোখের জলে পরিবারের কনিষ্ঠ তিন সদস্যকে বিদায় জানালেন স্বজনরা। পুরো এলাকা যেন শোকস্তব্ধ। অঝোরে কেঁদেছেন বন্ধু, সহপাঠী আর প্রতিবেশীরাও।
তারা বলছেন, ‘এ বিদায় কষ্টের, এ বিদায় মেনে নেওয়ার মতো নয়।’
সরেজমিনে দেখা গেল, মাইলস্টোন স্কুল থেকে কিছুটা দূরেই দিয়াবাড়ির তারারটেক মসজিদ। যেখানে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করত ১০ বছরের শিশু আরিয়ান এবং ৯ বছরের বাপ্পি ও হুমায়ের। সম্পর্কে চাচা-ভাতিজা হলেও কাছাকাছি বয়স হওয়ায় তারা ছিল বন্ধু, সহপাঠী, খেলার সাথী। সোমবারের দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায় তিনজনই। দুর্ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তাদের।
তারারটেক মসজিদের পাশেই পরিবারের সঙ্গে বসবাস করত আরিয়ান, বাপ্পি ও হুমায়ের। আলাদা তিনটি বাড়িতে থাকলেও তারা একই পরিবারের সদস্য, সম্পর্কে চাচা-ভাতিজা।
তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী বাপ্পি ওই এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আবু শাহিনের সন্তান এবং একই ক্লাসের হুমায়ের তার ভাইয়ের ছেলে। এছাড়া চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া ১০ বছরের আরিয়ান শাহিনের চাচাতো ভাই। সন্তানের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে অঝোরে কাঁদছিলেন শোকার্ত এই মানুষটি। পাশে দাঁড়িয়ে তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন প্রতিবেশী আর স্বজনরা।
ঘটনার দিন সকালে প্রতিদিনের মতো একসঙ্গেই স্কুলে গিয়েছিল এই তিনজন। বেলা ১১টায় স্কুল শেষে অংশ নিয়েছিল কোচিংয়ের ক্লাসে। দুপুর দেড়টায় ক্লাস শেষ হওয়ার কথা ছিল। ওই দিন জোহরের নামাজ শেষে বাপ্পিকে আনতে স্কুলের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন শাহিন। একসঙ্গে ফেরার কথা ছিল তার ভাই আরিয়ান ও ভাতিজা হুমায়েরও।
কিন্তু পথেই শুনতে পান বিকট আওয়াজ। কিছুটা এগোতেই ধোঁয়ার কুণ্ডুলী দেখে দৌড়ে পৌঁছান স্কুল প্রাঙ্গণে। ‘কিন্তু ততোক্ষণে সব শেষ’, বলছিলেন শাহিন। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে যে ক্লাসে পড়ে তার আগের ক্লাসটায় বিমানডা ঢুকছে। দেখে তহনি বুঝজি যে আমার ছেলে আর নাই।’
আহত হলেও দুর্ঘটনাস্থল থেকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছিল তার সন্তান বাপ্পি এবং ভাই আরিয়ান। তবে এর কিছুক্ষণ পরে মারা যায় হুমায়ের।
শাহিন বললেন, গত রাত তিনটা বাজে হাসপাতালে আমার ভাইটা মারা গেছে। আমার ছেলে বাপ্পি মারা গেছে সবার পরে।
নিহত তিন শিশুর জানাজায় অংশ নেন অনেক মানুষ। দূর থেকে এক নজর দেখতে এসেছিলেন স্বজন, প্রতিবেশী আর সহপাঠীরাও।
দুর্ঘটনার সময় ক্লাসে না থাকায় প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন আরিয়ানের সহপাঠী রাইয়ান আফনান। বন্ধুকে শেষ বিদায় জানাতে বাবার সঙ্গে জানাজায় অংশ নিয়েছিল সে।
আফনান জানায়, ‘ওই দিন আমিও স্কুলে ছিলাম। কিন্তু ওই সময় বাইরের লাইব্রেরিতে গেছিলাম। আমি যখন মেইন গেট পার হইছি তখনই বিস্ফোরণের শব্দ শুনলাম।’
মাইলস্টোন স্কুলে বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় ওই এলাকায় আরও দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। যাদের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে গেছেন পরিবারের সদস্যরা।
হঠাৎ এমন ভয়াবহ ঘটনায় হতবাক এলাকার বাসিন্দারা।
ওই এলাকার বাসিন্দা মোতালেব হোসেন বলেন, ‘মাত্র একদিন আগে যে শিশুদের একসাথে স্কুলে যেতে অথবা খেলে বেড়াতে দেখলাম, তারা আজ নেই।’
সূত্র : বিবিসি বাংলা
উত্তরায় বিমান বিধ্বস্ত
বোনের পর স্মৃতি হয়ে গেল ভাই নাফিও
উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুলে বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় বোন নাজিয়ার পর মৃত্যু হয়েছে তার ভাই নাফির (৯)। সে উত্তরা মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজের প্রথম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিল।
মঙ্গলবার(২২ জুলাই)দিবাগত রাত সোয়া ১২ টার দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে(আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সে।
নাজিয়া ও নাফি বাবা-মায়ের সঙ্গে উত্তরার কামারপাড়া এলাকায় থাকত। নাজিয়া তৃতীয় শ্রেণীতে আর নাফি প্রথম শ্রেণীতে পড়ত।
রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাতীয় বার্ন প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান। তিনি বলেন, “উত্তরা বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় দগ্ধ নাফি রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আইসিইউতে মারা যায়। তার শরীরের ৯৫ শতাংশ ফ্লেইম বার্ন হয়েছিল। এর আগে গতকাল রাত তিনটার দিকে তার বোন নাজিয়া মারা যায়। তার শরীরের ৯০ শতাংশ বার্ন হয়েছিল। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত আমাদের এখানে ১১ জন শিক্ষার্থী-শিক্ষক মারা গেলো। এছাড়া ঢাকা মেডিকেলের বার্নে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়।
উল্লেখ্য, উত্তরায় বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় সোমবার দিবাগত রাতে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান শিক্ষিকা মাসুকা। ভোর রাতের দিকে ৯ বছরের শিশু বাপ্পি চিকিৎসাধীন অবস্থায় আইসিইতে মারা যায়। তার শরীরের ৩৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। মধ্যরাতে আরও চার শিক্ষার্থী মারা যায়। এই চারজনের মধ্যে এরিকসন শরীরের ১০০ শতাংশ, আরিয়ানের শরীরের ৮৫ শতাংশ, নাজিয়ার শরীরের ৯০ শতাংশ এবং সায়ান ইউসুফ এর শরীরের ৯৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।
এর আগে অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী তানভীর আহমেদ, সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী আফনান ফাইয়াজ, মাইলস্টোনের প্রাইমারি সেকশনের হেড কো-অর্ডিনেটর মাহেরীন চৌধুরী ও ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ সামিন মারা যায়।
৯ ঘণ্টা পর পুলিশ পাহারায় মাইলস্টোন ছাড়লেন দুই উপদেষ্টা
উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার এবং প্রেস সচিব শফিকুল আলম। প্রায় ৯ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর বিকেল ৭টা ৩৫ মিনিটের দিকে তারা ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন।
সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দুই উপদেষ্টা মাইলস্টোন কলেজে আসেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, তারা ক্যাম্পাসে ঢুকে দুর্ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেন। এরপর বের হয়ে আসার সময় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন তারা। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা তাদের ঘিরে ফেলেন।
ডিএমপির বিমানবন্দর জোনের পেট্রল ইন্সপেক্টর রফিকুল ইসলাম লিটন জানান, সন্ধ্যা ৭টা ৩৫ মিনিটের দিকে মাইলস্টোন স্কুলের পেছনের গেট দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাকে গাড়িতে তুলে দেন। দুই উপদেষ্টা দিয়াবাড়ি বেড়িবাদ সড়ক দিয়ে চলে গেছেন।
এর আগে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে বের হওয়ার পর দিয়াবাড়ি গোলচত্বরে শিক্ষার্থীদের বাধার মুখে পড়েন দুই উপদেষ্টা ও প্রেস সচিব। পরে সেখান থেকে তাঁদের গাড়ি ঘুরিয়ে আবার কলেজ ক্যাম্পাসে নেওয়া হয়।
বিকেল সাড়ে তিনটায় গোলচত্বর এলাকায় খবর রটে, ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে থাকা দুই উপদেষ্টা গাড়িতে করে বের হয়ে আসছেন। মুহূর্তের মধ্যে সেখানে আগে থেকে বিক্ষোভরত মাইলস্টোন স্কুলের শতশত শিক্ষার্থী স্কুল সংলগ্ন সড়কটি আটকে দিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন। সেখানে উপস্থিত পুলিশ ও র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা শিক্ষার্থীদের বাধা দিলে তারা ভুয়া ভুয়া স্লোগান দিতে থাকেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সাড়ে তিনটার কিছু আগে কলেজ থেকে বের হন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার ও প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। উপদেষ্টাদের গাড়ি দিয়াবাড়ি মোড়ে গেলে বিকেল পৌনে চারটার দিকে বাধা দেন শিক্ষার্থীরা।
পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা দুইবার ধাওয়া দিয়ে শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দেয়। এরপরও বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী সেখানে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন। তাদের সঙ্গে রাজউক উত্তরা মডেল কলেজসহ অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী এবং কিছুসংখ্যক এলাকাবাসী ও যোগ দিয়েছেন।
এর আগে বেলা পৌনে ১টার দিকে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের সব দাবি মেনে নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবি অত্যন্ত যৌক্তিক। সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস দিচ্ছি, আমরা প্রতিটা দাবি পূরণ করব। বিশ্বাস রাখেন।
তবে উপদেষ্টার বক্তব্যের পরও বিভিন্ন দাবিতে বিক্ষোভ করতে থাকেন শিক্ষার্থীরা।
সচিবালয়ের সামনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষ, আহত ৯১
এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি রাত ৩টায় পরিবর্তনের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে সচিবালয়ের সামনে আন্দোলন করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ৯১ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুইজনকে ভর্তি করা হয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। তারা হলেন, নাফিসা (১৬) ও সামির (১৯)।
মঙ্গলবার (২২ জুলাই) বিকেল পৌনে ৫টার পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়।
আহতরা হলেন— হাসান (১৮), সেরাতুল (২২), সাকিব (১৯), তানভীর (১৯), রিফাত (১৯), রিজন (২০), সামিয়া (১৮), তামিম (১৯), ইমন (২০), সিয়াম (১৮), সাকিল (২০), মেহেদী (২০), সাদমান (১৮), মারুফ (২২), মাহিন (১৯), রোহান (২০), মুগ্ধ (১৯), মাহিম (২০), সায়েম (১৮), জিদান (২০), নিহার (২০), রায়হান (২০), রোমান (১৮), প্রান্ত (১৯), নাহিদ (২০), অন্তু (২০), বিশাল (২০), ইমরান (২০), আহনাদ (১৮), মাহি (২০), নাঈম (১৮), সামি (১৮), স্বাধীন (২০), তাসিন (১৮), ধ্রুব (১৯), শান্ত (২০), তানিম (২০), আজহারুল (২০), তন্ময় (১৯), জিসান (১৯), রাসেকুন (২০), পারভেজ (২০), বিজয় (১৭), আসাদ (২০), নাফিজ (১৮), সাহিন (২০), কিশোর (১৮), ফারদিন (১৯), শাহরিয়ার (২০), সাঞ্জু (১৯), রাইয়ান (১৯), কনা (২১), আব্দুল খালেক (৬৫), সিনান (১৮), তাসফি (২২), মামুন (২০), আসাদ (২১), আতিক (১৮), হাবিব হাসান (সাংবাদিক মানবজমিন), রাশেদ (১৮), আরাফাত (২০), আলামিন (২০), ফয়সাল (১৭), ফাহাদ (১৮), ইয়াসিন আরাফাত শান্ত (২০), শাকিল (২০) এবং বেশ কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় শিক্ষার্থী।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক। তিনি জানান, আজ বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সচিবালয়ের সামনে সংঘর্ষে আহত হয়ে আনুমানিক ৯০ জন শিক্ষার্থী এবং একজন সাংবাদিককে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুইজনকে ভর্তি করা হয়েছে।
সায়মাকে পাওয়া গেল সিএমএইচে, জীবিত নয় মৃত
রাজধানীর উত্তরায় মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনার ঘটনায় নিখোঁজ মাইলস্টোন স্কুলের নিহত ছাত্রী গাজীপুরের সায়মা আক্তারের সন্ধান পাওয়া গেছে। বিভিন্ন হাসপাতালে খোঁজাখুঁজির পর রাত ৮ টার দিকে সিএমএইচ হাসপাতালে তার লাশের সন্ধান পাওয়া যায়।
আজ গাজীপুর মহানগরীর ২১ নম্বর ওয়ার্ডের বিপ্লবর্থা গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহ আলমের মেয়ে সায়মা আক্তার উত্তরার দিয়া বাড়িতে মাইলস্টোন স্কুলে তৃতীয় শ্রেণীতে পড়তো।
সোমবারের দুর্ঘটনায় সায়মার মৃত্যুর পর তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না।
স্বজনরা রাত ৩ টার দিকে সায়মার লাশ নিয়ে আসে গ্রামের বাড়িতে। লাশ গভীর রাতে গ্রামের বাড়িতে আনা হলে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
মাইলস্টোন স্কুলের শিক্ষার্থী সায়মা তার মা ভাইয়ের সঙ্গে উত্তরায় নিজস্ব ফ্ল্যাটে বসবাস করত। গতকাল সকালে সায়মাকে অন্য দিনের মতো তার মা লীনা আক্তার স্কুলে নামিয়ে দিয়ে এসেছিল। তার বাবা শাহ আলম বর্তমানে ফেনীতে চাকরি করেন প্রাণ-আরএফএল কোম্পানিতে।
এদিকে রাতে সায়মার লাশ তার গ্রামের বাড়ি গাজীপুর মহানগর ২১ নম্বর ওয়ার্ডের বিপ্লবর্থা গ্রামে এসে পৌঁছলে এলাকায় এক শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
নিহতের স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ সময় স্থানীয়দের চোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়ে। খবর শুনে এলাকার শত শত মানুষ ওই বাড়িতে ভিড় জমায়। প্রতিবেশীরা নিহতের স্বজনদের নানাভাবে সান্তনা দিতে থাকেন।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য