ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

হলফনামায় মিথ্যা তথ্য

অপরাধ করেছেন শেখ হাসিনা, ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই ইসির

অনলাইন ডেস্ক
১৮ জুলাই, ২০২৫ ১৭:৪৮
অনলাইন ডেস্ক
অপরাধ করেছেন শেখ হাসিনা, ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই ইসির

হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দেওয়ায় সুস্পষ্ট অপরাধ করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে তার বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই বলে দুর্নীতি দমন কমিশনকে জানিয়েছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি।

শুক্রবার (১৮ জুলাই) নির্বাচন কমিশনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দেওয়ায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুস্পষ্টভাবে অপরাধ করেছেন। তার বিরুদ্ধে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মামলা করার সুযোগ আছে। তবে সময় অতিক্রান্ত হওয়ায় এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সচিবকে এক চিঠিতে এ বিষয় অবহিত করেছে নির্বাচন কমিশন।

দুদককে চিঠিতে আরও জানানো হয়, ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জমা দেওয়া হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দেওয়ায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুস্পষ্টভাবে অপরাধ করেছেন। হলফনামায় মিথ্যা তথ্যের বিষয়টি মনোনয়নপত্র গ্রহণ বা বাতিলসহ হলফনামা যাচাই-বাছাইয়ের সময় বা পর্যায় অতিক্রান্তে উত্থাপিত হওয়ায় এই বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ নেই ইসির। 

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা সম্পদের মিথ্যা বর্ণনা দিয়েছেন মর্মে অভিযোগে তিনি দণ্ডবিধির ১৮১ ধারার অপরাধ সংঘটন করেছেন। ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ১৯৫(১) অনুযায়ী যে ম্যাজিস্ট্রেট বা নোটারি পাবলিকের নিকট সাবেক প্রধানমন্ত্রী মিথ্যা হলফনামা প্রদান করেছেন, সেই ম্যাজিস্ট্রেট বা তার ঊর্ধ্বতন কোনো সরকারি কর্মচারী কর্তৃক জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট লিখিত অভিযোগ দায়েরের মাধ্যমে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার সুযোগ আছে।

এর আগে ২২ মে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাখিলকৃত হলফনামায় সম্পদের ঘোষণায় অসত্য তথ্য প্রদান করায় গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর আওতায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে চিঠি দিয়েছিল দুর্নীতি দমন কমিশন।

গত ১৮ মে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে নতুন করে অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। সংস্থাটির উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমানকে প্রধান করে গঠিত টিম অনুসন্ধানের দায়িত্ব পালন করেন।

এর আগে, প্লট জালিয়াতি, বিদেশে অর্থ পাচার, প্রকল্পের অর্থ লুটপাটের একাধিক অনুসন্ধান দুদকে চলমান রয়েছে। এরইমধ্যে পূর্বাচলে প্লট জালিয়াতির মামলায় চার্জশিট দাখিল করলে আদালত শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

গত ১০ মার্চ পূর্বাচলে ৬০ কাঠা প্লট বরাদ্দ নেওয়ার প্রমাণ পাওয়ায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানার পরিবারের সদস্য, সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব সালাউদ্দিন এবং জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ১৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পৃথক ৬টি অভিযোগপত্র বা চার্জশিট দিয়েছে সংস্থাটি। যা আমলে নিয়েই আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

অন্যদিকে বিগত ১৫ বছরে দেশের বিভিন্ন বিমান বন্দরের উন্নয়ন কাজের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ অনুসন্ধানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী এবং একই মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মোকাম্মেল হককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছিল দুদক।

প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য

ঢাকায় জাতিসংঘের মানবাধিকার মিশনের কার্যক্রম শুরু

অনলাইন ডেস্ক
১৮ জুলাই, ২০২৫ ১৭:১৩
অনলাইন ডেস্ক
ঢাকায় জাতিসংঘের মানবাধিকার মিশনের কার্যক্রম শুরু

ঢাকায় তিন বছরের জন্য জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের একটি মিশন আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে। চলতি সপ্তাহে এ নিয়ে একটি চুক্তি সই করেছে বাংলাদেশ সরকার ও জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশন।

শুক্রবার (১৮ জুলাই) জেনেভার জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মানবাধিকারের প্রচার ও সুরক্ষায় সহায়তায় জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিস এবং বাংলাদেশ সরকার চলতি সপ্তাহে একটি মিশন খোলার জন্য তিন বছরের একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক এ সংক্রান্ত চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে।

dhakapost

হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক বলেন, এই স্মারকলিপি স্বাক্ষর মানবাধিকারের প্রতি অঙ্গীকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা, যা উত্তরণের ভিত্তিপ্রস্তর হিসেবে কাজ করবে।

‘এটি আমার অফিসকে আমাদের তথ্য-অনুসন্ধান প্রতিবেদনে প্রদত্ত সুপারিশ বাস্তবায়নে আরও ভালোভাবে সহায়তা করতে সক্ষম করবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ যে মৌলিক সংস্কারগুলো এগিয়ে নিচ্ছে তাতে আমাদের দক্ষতা এবং সহায়তার মাধ্যমে সরকার, নাগরিক সমাজ এবং অন্যান্যদের সঙ্গে সরাসরি মাঠে যুক্ত হতে সহায়তা করবে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, এই চুক্তিটা আনুষ্ঠানিকভাবে বসে হয়নি। বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম চুক্তি সই করেছেন এবং সেটি জেনেভায় পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন।

তিন বছরের চুক্তি পরে নবায়ন করা সুযোগ রয়েছে জানিয়ে এ কর্মকর্তা বলেন, আপাতত তিন বছরের জন্য করা হয়েছে। পরে চাইলে চুক্তি নবায়ন করা সম্ভব।

মানবাধিকারবিষয়ক অফিস বলছে, নতুন মিশনটি বাংলাদেশের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার প্রতিশ্রুতি পূরণের লক্ষ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষকে প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে। পাশাপাশি সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং নাগরিক সমাজের কর্মীদের সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজ করবে।

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    ঢাকায় স্পেসএক্স প্রতিনিধিদল, স্টারলিংকের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে আজ

    অনলাইন ডেস্ক
    ১৮ জুলাই, ২০২৫ ১৪:৫৪
    অনলাইন ডেস্ক
    ঢাকায় স্পেসএক্স প্রতিনিধিদল, স্টারলিংকের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে আজ

    বিশ্বখ্যাত স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান স্টারলিংক আজ (শুক্রবার) আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দিতে পারে। এরই অংশ হিসেবে স্পেসএক্স-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট লরেন ড্রেয়ারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন।

    প্রতিনিধিদলটি আজ (শুক্রবার) বিকেল ৫টায় রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে একটি প্রেস কনফারেন্স আয়োজন করেছে। যেখানে স্টারলিংকের সেবার ধরন, প্যাকেজ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।

    সূত্র জানায়, স্টারলিংক আজই বাংলাদেশে অফিসিয়াল যাত্রা শুরুর ঘোষণা দিতে পারে। এর আগে তারা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) থেকে দুটি গুরুত্বপূর্ণ লাইসেন্স যেমন- স্যাটেলাইট অপারেটর লাইসেন্স ও রেডিও কমিউনিকেশন অ্যাপারেটার্স লাইসেন্স পেয়েছে, যার মেয়াদ ১০ বছর।

    বাংলাদেশে স্টারলিংকের সেবা চালু হলে দুর্গম, সীমান্তবর্তী ও ব্রডব্যান্ডবিহীন এলাকাগুলোতে উচ্চগতির স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। ইতোমধ্যে জানা গেছে, স্টারলিংক তাদের গ্রাহকদের জন্য দুটি প্যাকেজ চালু করেছে—একটি মাসে ৬,০০০ টাকায়, অন্যটি ৪,২০০ টাকায়। তবে সেবা নিতে হলে এককালীন ৪২ হাজার টাকা দিয়ে সেটআপ কিট কিনতে হবে।

    অন্যদিকে, সফরসূচি অনুযায়ী স্পেসএক্সের প্রতিনিধি দল আজ প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এবং বিকেলে উত্তরা দিয়াবাড়িতে গ্রামীণ ক্যালেডোনিয়ান কলেজ অব নার্সিং (জিসিসিএন) পরিদর্শন করার কথা রয়েছে। এরপর বিকেল ৫টায় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে একটি প্রেস কনফারেন্সে অংশ নেবেন।

    আর দিনের শেষে প্রতিনিধিদলটি ঢাকার হাতিরঝিলে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান পুনর্জন্ম’ ইভেন্টে অংশগ্রহণ করবেন এবং সেখানে অনুষ্ঠিতব্য ড্রোন শো উপভোগ করবেন। সফর শেষে ১৯ জুলাই তারা বাংলাদেশ ত্যাগ করবেন বলেও জানানো হয়েছে। 

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      আসিফ মাহমুদ

      ‘যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, ততদিন উচ্চারিত হবে জুলাই যোদ্ধাদের নাম’

      অনলাইন ডেস্ক
      ১৮ জুলাই, ২০২৫ ১৪:৪৮
      অনলাইন ডেস্ক
      ‘যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, ততদিন উচ্চারিত হবে জুলাই যোদ্ধাদের নাম’

      যতদিন বাংলাদেশের নাম থাকবে, জুলাই আন্দোলনের শহীদ, আহত ও যোদ্ধাদের নামও ততদিন উচ্চারিত হবে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

      শুক্রবার (১৮ জুলাই) সকালে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের সামনে অনুষ্ঠিত প্রতীকী ম্যারাথনে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

      আসিফ মাহমুদ বলেন, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি শুধু ইতিহাস নয়, তা হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের জাতীয় চেতনার অবিচ্ছেদ্য অংশ। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, ততদিন উচ্চারিত হবে জুলাই আন্দোলনের শহীদ, আহত ও সংগ্রামীদের নাম।

      জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের স্বপ্ন বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে যুব উপদেষ্টা বলেন, জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের স্বপ্ন বাস্তবায়ন একটি ম্যারাথনের মতো। সময় যতই লাগুক, দেশপ্রেম আর সংগ্রামের শক্তিতে আমরা সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করবই।

      তিনি আরও বলেন, আজকের এই প্রতীকী ম্যারাথনে যেমন কারো আলাদা ট্রেনিং ছিল না, তেমনি জুলাইয়ের লড়াকুরাও কোনো প্রশিক্ষণ ছাড়াই লেথেল ওয়েপনের বিরুদ্ধে সাহসিকতা নিয়ে দাঁড়িয়েছিল।

      উপদেষ্টা বলেন, স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশে নাগরিক মর্যাদা ও সাম্যের জন্য যে লড়াই জুলাই মাসে হয়েছিল, তা কেবল একটি সময়ের আন্দোলন ছিল না। বরং ছিল একটি নতুন রাষ্ট্রকাঠামোর স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন আজও অসম্পূর্ণ এবং সেই কাজ শেষ করতে সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে ভূমিকা রাখতে হবে।

      এদিন জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত প্রতীকী ম্যারাথনে অংশ নেন শহীদ পরিবার, আহত মুক্তিযোদ্ধা এবং তরুণ প্রজন্মের প্রায় সাত শতাধিক প্রতিযোগী। 

      এ সময় ম্যারাথন শেষে শহীদ পরিবারের সদস্যদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। আহতদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল একটি আবেগঘন পরিবেশ এবং ‘জুলাই চেতনাকে’ আগামীর প্রজন্মে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয়।

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        পানি লাগবে, কারও পানি— অগ্নিঝরা যে দুপুর অমর হয় এক শ্রাবণে

        অনলাইন ডেস্ক
        ১৮ জুলাই, ২০২৫ ১৪:১৬
        অনলাইন ডেস্ক
        পানি লাগবে, কারও পানি— অগ্নিঝরা যে দুপুর অমর হয় এক শ্রাবণে

        সেদিন ছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এক উত্তাল দিন, যখন ঢাকার রাজপথ কাঁপছিল ন্যায় আর মুক্তির দাবিতে। সেই তপ্ত দুপুরে, যখন হাজারো কণ্ঠ স্লোগানে মুখর, ঠিক তখনই এক তরুণ প্রাণ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ, হাতে পানি আর বিস্কুট নিয়ে ছুটে বেড়াচ্ছিলেন আন্দোলনকারীদের তৃষ্ণা মেটাতে। কিন্তু নিয়তির কী নির্মম পরিহাস!

        মানুষের সেবায় নিবেদিত সেই হাতগুলোই হয়ে উঠলো সহিংসতার শিকার। গুলিবিদ্ধ হয়ে লুটিয়ে পড়ার পর তার গলায় ঝোলানো রক্তমাখা আইডি কার্ডটি যেন চিৎকার করে বলছিল এক অকথিত আত্মত্যাগের গল্প, যা আজও সেই গণঅভ্যুত্থানের প্রতিটি রক্তবিন্দুকে স্মরণ করিয়ে দেয়।

        গত বছরের (২০২৪ সাল) এই দিনে (১৮ জুলাই) আন্দোলনের সময় খাবার পানি এবং বিস্কুট বিতরণ করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন মুগ্ধ। মুগ্ধর মৃত্যু জুলাই আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছে।

        যদিও সেই দিনের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, পুলিশের গুলিতে রাস্তায় লুটিয়ে পড়ছেন তিনি। এই সুস্পষ্ট প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত কাউকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি।

        কী ঘটেছিল সেদিন

        ঘটনার দিন, যখন আন্দোলন এক চরম পর্যায়ে পৌঁছায় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সংঘর্ষ শুরু হয়, ঠিক তখনই গুলিবিদ্ধ হন মুগ্ধ।

        প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তিনি তখনো হাতে পানির বোতল নিয়ে আন্দোলনকারীদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। গুলি লাগার পর তিনি লুটিয়ে পড়েন রাজপথে। তার গলায় ঝোলানো আইডি কার্ডটি রক্তে ভিজে একাকার হয়ে যায়, যা তার পরিচয় বহন করার পাশাপাশি সেদিনের বর্বরতার সাক্ষী হয়ে থাকে।

        মুগ্ধকে পুলিশই গুলি করেছিল : স্নিগ্ধ

        মুগ্ধের এই আত্মত্যাগ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে আছে। তার রক্তমাখা আইডি কার্ডটি শুধু একটি পরিচয়পত্র ছিল না, বরং তা ছিল সেদিনের আন্দোলনের এক নীরব দলিল, যা স্মরণ করিয়ে দেয় কত শত তরুণ তাদের জীবন বাজি রেখেছিলেন একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজের জন্য। তার মতো অসংখ্য তরুণ-তরুণীর আত্মত্যাগই এই গণঅভ্যুত্থানকে সফলতার দিকে নিয়ে গিয়েছিল।

        প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে পরিবারে শোকের ছায়া

        গত বছরের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত তরুণ স্বেচ্ছাসেবক মুগ্ধর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ শুক্রবার (১৮ জুলাই)। এই দিনে তার পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। মুগ্ধর যমজ ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ ভাইয়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং বিচার প্রক্রিয়ার ধীরগতি নিয়ে তীব্র হতাশা প্রকাশ করেন।

        স্নিগ্ধ বলেন, এক বছর হয়ে গেল, আমরা নিজেরাই ফুটেজ সংগ্রহ করে দিলাম, কিন্তু পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারল না। এটা মেনে নেওয়া যায় না।

        শহিদ মুগ্ধর বাবা মীর মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শেষবার যখন দেখা হয়, ওর সাথে কথা বলতে চেয়েও পারিনি। সেই আফসোস আজও আমাকে তাড়া করে বেড়ায়। বিচারের এই ধীরগতি আমাদের হতাশ করেছে। সরকারের এই ব্যর্থতা মেনে নেওয়ার মতো নয়।

        মুগ্ধের মৃত্যু জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম আলোচিত ও মর্মান্তিক ঘটনা ছিল। তার রক্তমাখা আইডি কার্ডসহ গুলিবিদ্ধ দেহের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। মুগ্ধর পরিবার এবং সাধারণ মানুষ আশা করেছিল, এই ঘটনার দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার হবে। কিন্তু এক বছর পেরিয়ে গেলেও বিচার প্রক্রিয়া থমকে থাকায় তাদের হতাশা আরও বাড়ছে।

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য
          সর্বশেষ সংবাদ
            সর্বাধিক পঠিত