শিরোনাম
পানি লাগবে, কারও পানি— অগ্নিঝরা যে দুপুর অমর হয় এক শ্রাবণে
সেদিন ছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এক উত্তাল দিন, যখন ঢাকার রাজপথ কাঁপছিল ন্যায় আর মুক্তির দাবিতে। সেই তপ্ত দুপুরে, যখন হাজারো কণ্ঠ স্লোগানে মুখর, ঠিক তখনই এক তরুণ প্রাণ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ, হাতে পানি আর বিস্কুট নিয়ে ছুটে বেড়াচ্ছিলেন আন্দোলনকারীদের তৃষ্ণা মেটাতে। কিন্তু নিয়তির কী নির্মম পরিহাস!
মানুষের সেবায় নিবেদিত সেই হাতগুলোই হয়ে উঠলো সহিংসতার শিকার। গুলিবিদ্ধ হয়ে লুটিয়ে পড়ার পর তার গলায় ঝোলানো রক্তমাখা আইডি কার্ডটি যেন চিৎকার করে বলছিল এক অকথিত আত্মত্যাগের গল্প, যা আজও সেই গণঅভ্যুত্থানের প্রতিটি রক্তবিন্দুকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
গত বছরের (২০২৪ সাল) এই দিনে (১৮ জুলাই) আন্দোলনের সময় খাবার পানি এবং বিস্কুট বিতরণ করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন মুগ্ধ। মুগ্ধর মৃত্যু জুলাই আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছে।
যদিও সেই দিনের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, পুলিশের গুলিতে রাস্তায় লুটিয়ে পড়ছেন তিনি। এই সুস্পষ্ট প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত কাউকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি।
কী ঘটেছিল সেদিন
ঘটনার দিন, যখন আন্দোলন এক চরম পর্যায়ে পৌঁছায় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সংঘর্ষ শুরু হয়, ঠিক তখনই গুলিবিদ্ধ হন মুগ্ধ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তিনি তখনো হাতে পানির বোতল নিয়ে আন্দোলনকারীদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। গুলি লাগার পর তিনি লুটিয়ে পড়েন রাজপথে। তার গলায় ঝোলানো আইডি কার্ডটি রক্তে ভিজে একাকার হয়ে যায়, যা তার পরিচয় বহন করার পাশাপাশি সেদিনের বর্বরতার সাক্ষী হয়ে থাকে।

মুগ্ধের এই আত্মত্যাগ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে আছে। তার রক্তমাখা আইডি কার্ডটি শুধু একটি পরিচয়পত্র ছিল না, বরং তা ছিল সেদিনের আন্দোলনের এক নীরব দলিল, যা স্মরণ করিয়ে দেয় কত শত তরুণ তাদের জীবন বাজি রেখেছিলেন একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজের জন্য। তার মতো অসংখ্য তরুণ-তরুণীর আত্মত্যাগই এই গণঅভ্যুত্থানকে সফলতার দিকে নিয়ে গিয়েছিল।
প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে পরিবারে শোকের ছায়া
গত বছরের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত তরুণ স্বেচ্ছাসেবক মুগ্ধর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ শুক্রবার (১৮ জুলাই)। এই দিনে তার পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। মুগ্ধর যমজ ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ ভাইয়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং বিচার প্রক্রিয়ার ধীরগতি নিয়ে তীব্র হতাশা প্রকাশ করেন।
স্নিগ্ধ বলেন, এক বছর হয়ে গেল, আমরা নিজেরাই ফুটেজ সংগ্রহ করে দিলাম, কিন্তু পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারল না। এটা মেনে নেওয়া যায় না।
শহিদ মুগ্ধর বাবা মীর মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শেষবার যখন দেখা হয়, ওর সাথে কথা বলতে চেয়েও পারিনি। সেই আফসোস আজও আমাকে তাড়া করে বেড়ায়। বিচারের এই ধীরগতি আমাদের হতাশ করেছে। সরকারের এই ব্যর্থতা মেনে নেওয়ার মতো নয়।
মুগ্ধের মৃত্যু জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম আলোচিত ও মর্মান্তিক ঘটনা ছিল। তার রক্তমাখা আইডি কার্ডসহ গুলিবিদ্ধ দেহের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। মুগ্ধর পরিবার এবং সাধারণ মানুষ আশা করেছিল, এই ঘটনার দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার হবে। কিন্তু এক বছর পেরিয়ে গেলেও বিচার প্রক্রিয়া থমকে থাকায় তাদের হতাশা আরও বাড়ছে।
দেশজুড়ে টানা পাঁচ দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস
ভারতের পূর্ব উত্তর প্রদেশ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি ঘণীভূত হয়ে নিম্নচাপে রূপ নিয়েছে। এটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে উত্তর প্রদেশের মধ্যাঞ্চল ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় অবস্থান করছে। এর প্রভাবে মৌসুমী বায়ুর অক্ষ ভারতের রাজস্থান, হরিয়ানা, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত প্রসারিত।
আবার বাংলাদেশের ওপর মৌসুমী বায়ুও বর্তমানে মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে তা মাঝারি অবস্থায় রয়েছে। এমন অবস্থায় আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে আগামী পাঁচ দিন দেশের বেশিরভাগ এলাকায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামীকাল সকাল ৯টার মধ্যে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।
শনিবার (১৯ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশালের কিছু কিছু জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একইসাথে রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেটের কিছু এলাকায় ভারী বর্ষণ হতে পারে। দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে আর রাতের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকবে।
২০ জুলাই (রোববার) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় আগের দিনের মতোই দেশের চারটি বিভাগের অনেক জায়গায় এবং বাকি বিভাগের কিছু কিছু এলাকায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আর রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেটে মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। আর দিন ও রাতের তাপমাত্রাও সামান্য কমে যেতে পারে।
২১ জুলাই (সোমবার) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টাতেও বৃষ্টির ধারা অব্যাহত থাকবে। রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে অনেক জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। অন্যান্য বিভাগে থাকবে বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টির প্রবণতা।
এ ছাড়া বর্ধিত ৫ দিনের আবহাওয়ার অবস্থা পর্যালোচনায় বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে বলেও জানানো হয়েছে।
গোপালগঞ্জে কারফিউর সময় বাড়ল
গোপালগঞ্জে কারফিউর সময় বাড়ানো হয়েছে। আগামীকাল শুক্রবার (১৮ জুলাই) বেলা ১১টা পর্যন্ত কারফিউ বহাল থাকবে। তিন ঘণ্টা শিথিলের পর বেলা ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে এ কারফিউ।
বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ নির্দেশনা জারি করা হয়।
নির্দেশনায় বলা হয়, গতকাল বুধবার (১৬ জুলাই) রাত ৮টা থেকে আজ (১৭ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গোপালগঞ্জে চলমান কারফিউ আগামীকাল শুক্রবার (১৮ জুলাই) সকাল ১১টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টার জন্য কারফিউ বন্ধ থাকবে। দুপুর ২টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কারফিউ চলমান থাকবে।
এর আগে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপির) পদযাত্রা কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গতকাল বুধবার (১৭ জুলাই) গোপালগঞ্জে হামলা, সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরে সন্ধ্যায় পুরো জেলায় কারফিউ জারি করে জেলা প্রশাসন; যা রাত ৮টা থেকে শুরু হয়ে আজ বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলমান ছিল।
চলমান কারফিউয়ে জেলায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। গতকাল রাত থেকে সড়কে সীমিত আকারে রিকশা চলাচল করলেও অন্য কোনো যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়নি। বন্ধ ছিল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। একান্ত প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হয়নি কেউ।
কারফিউ চলমান থাকায় বেশির ভাগ মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। তবে সড়কের পাশের বা গলির ভেতর দু-একটি করে দোকান খোলা ছিল। উৎসুক অনেক মানুষকেও শহরে দেখা গেছে।
গোপালগঞ্জে কারফিউ জারি
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আজ বুধবার (১৬ জুলাই) রাত ৮টা থেকে পরদিন (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গোপালগঞ্জে কারফিউ জারি করা হয়েছে।
বিস্তারিত আসছে...
গোপালগঞ্জের ঘটনায় সরকারের বিবৃতি, শক্ত পদক্ষেপের বার্তা
গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শান্তিপূর্ণ সমাবেশে হামলার বিষয়ে বিবৃতি প্রকাশ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এতে বলা হয়েছে, অপরাধীদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
বুধবার বিকালে গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গোপালগঞ্জে আজ সহিংসতার ঘটনা সম্পূর্ণরূপে অগ্রহণযোগ্য। ছাত্র-জনতার বিপ্লবের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে তরুণদের শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করতে বাধা সৃষ্টি করা তাদের মৌলিক অধিকারের লজ্জাজনক লঙ্ঘন। জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতাকর্মী, পুলিশ এবং গণমাধ্যমের ওপর নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে, তাদের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে এবং বিভিন্ন ব্যক্তির ওপর সহিংসভাবে আক্রমণ করা হয়েছে।
নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ এবং আওয়ামী লীগের কর্মীদের চালানো হামলার এই জঘন্য ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধীদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। বাংলাদেশের কোনো নাগরিকের বিরুদ্ধে এই ধরনের সহিংসতার কোনো সুযোগ নেই।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমরা সেনাবাহিনী এবং পুলিশের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপের জন্য তাদের প্রশংসা করি। সেই সঙ্গে বিদ্বেষপূর্ণ হুমকি সত্ত্বেও যারা তাদের সমাবেশ পরিচালনা করেছে তাদের সাহসের প্রশংসা করছি।
এটি সম্পূর্ণরূপে স্পষ্ট যে, আমাদের দেশে সহিংসতার কোনো স্থান নেই। এই বর্বরতার জন্য দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি হতে হবে, ন্যায়বিচার অবশ্যই নিশ্চিত করা হবে।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য