ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

দেশজুড়ে টানা পাঁচ দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস

অনলাইন ডেস্ক
১৮ জুলাই, ২০২৫ ১২:৩৪
অনলাইন ডেস্ক
দেশজুড়ে টানা পাঁচ দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস

ভারতের পূর্ব উত্তর প্রদেশ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি ঘণীভূত হয়ে নিম্নচাপে রূপ নিয়েছে। এটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে উত্তর প্রদেশের মধ্যাঞ্চল ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় অবস্থান করছে। এর প্রভাবে মৌসুমী বায়ুর অক্ষ ভারতের রাজস্থান, হরিয়ানা, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত প্রসারিত।

আবার বাংলাদেশের ওপর মৌসুমী বায়ুও বর্তমানে মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে তা মাঝারি অবস্থায় রয়েছে। এমন অবস্থায় আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে আগামী পাঁচ দিন দেশের বেশিরভাগ এলাকায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামীকাল সকাল ৯টার মধ্যে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

শনিবার (১৯ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশালের কিছু কিছু জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একইসাথে রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেটের কিছু এলাকায় ভারী বর্ষণ হতে পারে। দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে আর রাতের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকবে।

২০ জুলাই (রোববার) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় আগের দিনের মতোই দেশের চারটি বিভাগের অনেক জায়গায় এবং বাকি বিভাগের কিছু কিছু এলাকায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আর রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেটে মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। আর দিন ও রাতের তাপমাত্রাও সামান্য কমে যেতে পারে।

২১ জুলাই (সোমবার) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টাতেও বৃষ্টির ধারা অব্যাহত থাকবে। রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে অনেক জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। অন্যান্য বিভাগে থাকবে বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টির প্রবণতা। 

এ ছাড়া বর্ধিত ৫ দিনের আবহাওয়ার অবস্থা পর্যালোচনায় বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে বলেও জানানো হয়েছে। 

মন্তব্য

গোপালগঞ্জে কারফিউর সময় বাড়ল

অনলাইন ডেস্ক
১৭ জুলাই, ২০২৫ ২০:১৮
অনলাইন ডেস্ক
গোপালগঞ্জে কারফিউর সময় বাড়ল

গোপালগঞ্জে কারফিউর সময় বাড়ানো হয়েছে। আগামীকাল শুক্রবার (১৮ জুলাই) বেলা ১১টা পর্যন্ত কারফিউ বহাল থাকবে। তিন ঘণ্টা শিথিলের পর বেলা ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে এ কারফিউ।

বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ নির্দেশনা জারি করা হয়।

নির্দেশনায় বলা হয়, গতকাল বুধবার (১৬ জুলাই) রাত ৮টা থেকে আজ (১৭ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গোপালগঞ্জে চলমান কারফিউ আগামীকাল শুক্রবার (১৮ জুলাই) সকাল ১১টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টার জন্য কারফিউ বন্ধ থাকবে। দুপুর ২টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কারফিউ চলমান থাকবে।

এর আগে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপির) পদযাত্রা কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গতকাল বুধবার (১৭ জুলাই) গোপালগঞ্জে হামলা, সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরে সন্ধ্যায় পুরো জেলায় কারফিউ জারি করে জেলা প্রশাসন; যা রাত ৮টা থেকে শুরু হয়ে আজ বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলমান ছিল।

চলমান কারফিউয়ে জেলায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। গতকাল রাত থেকে সড়কে সীমিত আকারে রিকশা চলাচল করলেও অন্য কোনো যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়নি। বন্ধ ছিল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। একান্ত প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হয়নি কেউ।

কারফিউ চলমান থাকায় বেশির ভাগ মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। তবে সড়কের পাশের বা গলির ভেতর দু-একটি করে দোকান খোলা ছিল। উৎসুক অনেক মানুষকেও শহরে দেখা গেছে।

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    গোপালগঞ্জে কারফিউ জারি

    অনলাইন ডেস্ক
    ১৬ জুলাই, ২০২৫ ১৮:৫৩
    অনলাইন ডেস্ক
    গোপালগঞ্জে কারফিউ জারি

    আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আজ বুধবার (১৬ জুলাই) রাত ৮টা থেকে পরদিন (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গোপালগঞ্জে কারফিউ জারি করা হয়েছে।

    বিস্তারিত আসছে...

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      গোপালগঞ্জের ঘটনায় সরকারের বিবৃতি, শক্ত পদক্ষেপের বার্তা

      অনলাইন ডেস্ক
      ১৬ জুলাই, ২০২৫ ১৮:২৬
      অনলাইন ডেস্ক
      গোপালগঞ্জের ঘটনায় সরকারের বিবৃতি, শক্ত পদক্ষেপের বার্তা

      গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শান্তিপূর্ণ সমাবেশে হামলার বিষয়ে বিবৃতি প্রকাশ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এতে বলা হয়েছে, অপরাধীদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

      বুধবার বিকালে গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গোপালগঞ্জে আজ সহিংসতার ঘটনা সম্পূর্ণরূপে অগ্রহণযোগ্য। ছাত্র-জনতার বিপ্লবের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে তরুণদের শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করতে বাধা সৃষ্টি করা তাদের মৌলিক অধিকারের লজ্জাজনক লঙ্ঘন। জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতাকর্মী, পুলিশ এবং গণমাধ্যমের ওপর নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে, তাদের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে এবং বিভিন্ন ব্যক্তির ওপর সহিংসভাবে আক্রমণ করা হয়েছে।

      নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ এবং আওয়ামী লীগের কর্মীদের চালানো হামলার এই জঘন্য ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধীদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। বাংলাদেশের কোনো নাগরিকের বিরুদ্ধে এই ধরনের সহিংসতার কোনো সুযোগ নেই।

      বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমরা সেনাবাহিনী এবং পুলিশের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপের জন্য তাদের প্রশংসা করি। সেই সঙ্গে বিদ্বেষপূর্ণ হুমকি সত্ত্বেও যারা তাদের সমাবেশ পরিচালনা করেছে তাদের সাহসের প্রশংসা করছি।

      এটি সম্পূর্ণরূপে স্পষ্ট যে, আমাদের দেশে সহিংসতার কোনো স্থান নেই। এই বর্বরতার জন্য দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি হতে হবে, ন্যায়বিচার অবশ্যই নিশ্চিত করা হবে।

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        ফিরে দেখা জুলাই

        ১৭ জুলাই গায়েবানা জানাজায় পুলিশের বাধা, ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা

        অনলাইন ডেস্ক
        ১৬ জুলাই, ২০২৫ ১৩:৪৮
        অনলাইন ডেস্ক
        ১৭ জুলাই গায়েবানা জানাজায় পুলিশের বাধা, ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা
        ১৭ জুলাই ২০২৪, সারাদেশে নিহতদের মাগফেরাত কামনায় ঢাবি’র ভিসি চত্বরে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে গায়েবানা জানাজা আদায়ের চিত্র। ছবি: সংগৃহীত

        ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই (বুধবার) চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারাদেশে নিহতদের মাগফেরাত কামনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে গায়েবানা জানাজা আদায় করেন আন্দোলনকারীরা।

        এদিন ভোরে আন্দোলনকারীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন ক্যাম্পাস থেকে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের তাড়িয়ে দেয় এবং ক্যাম্পাসকে ‘রাজনীতিমুক্ত’ ঘোষণা করে। এ ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের আবাসিক হল খালি করার নির্দেশ দেয়। সরকার কোম্পানিগুলোকে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়।

        ১৭ জুলাই পবিত্র আশুরা উপলক্ষে সরকারি ছুটির দিনেও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ, সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ, গায়েবানা জানাজা, কফিন মিছিল এবং দফায় দফায় সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা।  

        রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আহতের সংখ্যা বাড়তে থাকে।

        এদিন আন্দোলকারীরা রাজধানীতে মেয়র হানিফ উড়াল সড়কের কাজলা অংশের টোল প্লজায় আগুন ধরিয়ে দেন। ওই সড়কের শনির আখড়া ও কাজলার মধ্যবর্তী স্থানে অন্তত ২০টি জায়গায় মধ্যরাত পর্যন্ত আগুন জ্বলে।

        ১৬ জুলাই আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগ ও পুলিশের হামলায় রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ সারাদেশে অন্তত ছয়জন নিহত হন। তাদের মধ্যে দুজন ঢাকায় সায়েন্সল্যাব এলাকায় এবং চট্টগ্রামে ছাত্রদলের নেতা ওয়াসিম আকরামসহ আরও তিন জন নিহত হন।

        নিহতদের মাগফেরাত কামনায় ১৭ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে গায়েবানা জানাজার আয়োজন করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। গায়েবানা জানাজার শুরু হওয়ার আগেই পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে বিকেল চারটার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বাসভবনের সামনে জানাজা পড়েন আন্দোলনকারীরা।

        জানাজা শেষে শিক্ষার্থীরা প্রতীকী কফিন ধরে শপথ করেন এবং সমস্বরে বলেন, ‘এই আন্দোলন আমরা বৃথা যেতে দেব না। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা এই আন্দোলন থেকে সরে যাব না।’

        গায়েবানা জানাজা শেষে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে আন্দোনকারীরা টিএসসি অভিমুখে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পুলিশ তাদের বাধা দেয় এবং কয়েক রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এ সময় আন্দোলনকারীরা সেখানেই অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

        এ সময়ে সেখানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেন, পুলিশ ক্যাম্পাসের প্রত্যেকটি প্রবেশ পথে শিক্ষার্থীদের আটকে দিয়েছে। ক্যাম্পাসের ভেতরের শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে টিয়ার গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড ও গুলি নিক্ষেপ করে ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে।’

        এছাড়া এদিন দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গায়েবানা জানাজায় পুলিশ, ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা বাধা দেয় এবং কোথাও কোথাও হামলা চালায়।

        ১৭ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) সকল বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা এবং নিরাপত্তার স্বার্থে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়তে নির্দেশ দেয়। জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্যাম্পাস ও আবাসিক হল বন্ধ ঘোষণা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে সব আবাসিক শিক্ষার্থীদের হল ছাড়তে নির্দেশ দেওয়া হয়।

        বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হল বন্ধের ঘোষণা ও পুলিশের তৎপরতার মুখে অনেক শিক্ষার্থী সন্ধ্যা নাগাদ ক্যাম্পাস ছেড়ে যান। তবে হল বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে রাতেও অনেক ছাত্রছাত্রী হল ও ক্যাম্পাসে অবস্থান করেন।

        এদিন বিকেলে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) হারুন অর রশীদ টিএসসি এলাকায় গিয়ে বলেন, ‘পুলিশ হল খালি করার অনুমতি পেয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হল না ছাড়লে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’

        এর আগে, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) রাতভর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি আবাসিক হলে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ওপর চড়াও হন আন্দোলনকারীরা। এ সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের কক্ষ ভাঙচুর করা হয়। পাশাপাশি বিশ্বিবদ্যালয়ের ১৪টি হলে ‘ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ’ মর্মে অঙ্গীকারনামায় প্রাধ্যক্ষদের স্বাক্ষর আদায় করেন শিক্ষার্থীরা।

        এদিকে শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশ-বিজিবি-র‌্যাব ও সোয়াটের ন্যক্কারজনক হামলা, খুনের প্রতিবাদ, খুনিদের বিচার, সন্ত্রাসমুক্ত ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা এবং কোটাব্যবস্থার যৌক্তিক সংস্কারের দাবিতে’ ১৮ জুলাই বৃহস্পতিবার সারাদেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ (সর্বাত্মক অবরোধ) কর্মসূচি ঘোষণা করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। এই কর্মসূচিতে হাসপাতাল ও জরুরি সেবা ছাড়া সবকিছু বন্ধ রাখার আহ্বান জানানো হয়।

        এদিন রাত ৮টার দিকে ফেসবুকে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি সারাদেশে প্রতিটি স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের এই কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানান।

        এদিন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে আন্দোলনকারীদের সর্বোচ্চ আদালতের রায় আসা পর্যন্ত ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান।

        তিনি বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, আমাদের ছাত্র সমাজ সর্বোচ্চ আদালত থেকে ন্যায় বিচার পাবে। তাদের হতাশ হতে হবে না।’

        মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘কোটা সংস্কার আন্দোলন এখন স্বাধীনতা বিরোধীদের হাতে চলে গেছে। কাজেই আর বসে থাকার সময় নেই।’

        দলীয় নেতাকর্মীদের প্রস্তুত হওয়ার নির্দেশ দিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমাদের অস্তিত্বের প্রতি হামলা এসেছে, হুমকি এসেছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা আমাদের করতেই হবে। 

        কাজেই আপনারা ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে প্রস্তুত হয়ে যান।’

        ১৭ জুলাই শহীদ আবু সাঈদকে রংপুরের পীরগঞ্জে তার গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়। এদিন আবু সাঈদের বাড়ির পাশে জাফরপাড়া কামিল মাদ্রাসা মাঠে সকাল সোয়া নয়টায় প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে সোয়া ১০টার দিকে তার  লাশ দাফন করা হয়।

        এদিন কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সারাদেশে নিহতদের স্মরণে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেইটে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো গায়েবানা জানাজার আয়োজন করে। তাদের এই কর্মসূচিতে পুলিশ বাধা দেয়।

        গায়েবানা জানাজা শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘গায়েবানা জানাজায় অংশ নিতে মুসল্লিদের বাধা দেওয়া হয়েছে। সরকার ইচ্ছা করলে আলোচনার মাধ্যমে কোটা সমস্যার সমাধান করতে পারত। তা না করে বর্বরভাবে হামলা করে মানুষ হত্যা করা হয়েছে।’

        এদিন চট্টগ্রামেও কোটা সংস্কার আন্দোলনে নিহতদের জন্য গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল ৪টায় নগরের লালদীঘি ময়দানে অনুষ্ঠিত এ গায়েবানা জানাজায় হাজার হাজার ছাত্র-জনতা অংশ নেন। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ১০ জায়গায় সড়ক-মহাসড়ক এবং দুই জায়গায় রেলপথ অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা।

        /বাসস

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য
          সর্বশেষ সংবাদ
            সর্বাধিক পঠিত