শিরোনাম
আলোচিত সোহাগ হত্যা মামলার অন্যতম আসামি নান্নু গ্রেপ্তার
পুরান ঢাকায় মিটফোর্ড হাসপাতাল চত্বরে লাল চাঁদ সোহাগ (৩৯) হত্যা মামলার অন্যতম আসামি নান্নুকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) সকালে র্যাব-১১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল এইচএম সাজ্জাদ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে গতকাল সোমবার দিবাগত রাত ১টার দিকে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থেকে র্যাব তাকে গ্রেপ্তার করে।
র্যাব জানায়, বন্দরের কলাগাছিয়া ইউনিয়নের বালিয়া গ্রামে নান্নু তার মামা বাড়িতে আত্মগোপনে ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যাকাণ্ডে তার জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। আসামিকে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থার জন্য র্যাব-১০ এর নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত বুধবার হাসপাতালের সামনে প্রকাশ্যে নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। হত্যার আগে সোহাগকে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে এবং ইট-পাথরের টুকরা দিয়ে আঘাত করে মাথা ও শরীরের বিভিন্ন অংশ থেঁতলে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তাকে বিবস্ত্র করা হয়। তার শরীরের ওপর উঠে উন্মাদ নৃত্য করেন কেউ কেউ।
সোহাগকে হত্যার ঘটনায় রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় গত বৃহস্পতিবার একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের বোন মঞ্জুয়ারা বেগম (৪২) মামলাটি করেন। মামলায় ১৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে ১৫-২০ জনকে।
আজ ১৫ জুলাই : কোটা সংস্কার আন্দোলনে ছাত্রলীগের হামলা, রণক্ষেত্র হয় ঢাবি
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে ২০২৪ সালে সোমবার (১৫ জুলাই) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর দফায় দফায় হামলা চালায় ছাত্রলীগ। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।
ছাত্রলীগের এই হামলায় সারা দেশে চার শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। এর মধ্যে শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আহত হন ২৯৭ জন শিক্ষার্থী। তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। এদিন হাসপাতালে গিয়েও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগ।
আগের দিন ১৪ জুলাই বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকারের নাতিপুতি’ বলে কটূক্তি করেন। এ কটূক্তির প্রতিবাদে রাতে উত্তাল হয়ে ওঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। রাত ১১টার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের হলসহ প্রায় প্রতিটি আবাসিক হল থেকে ‘তুমি কে আমি কে, রাজাকার রাজাকার’ স্লোগানে মিছিল নিয়ে টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের সামনে জড়ো হন শত শত শিক্ষার্থী।
পরের দিন ১৫ জুলাই ধানমন্ডিতে দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তার আত্মস্বীকৃত রাজাকার, গত রাতে নিজেদের ঔদ্ধত্যপূর্ণ মানসিকতার প্রকাশ ঘটিয়েছে। এর জবাব ছাত্রলীগই দেবে।’
সেদিন কোটা সংস্কার আন্দোলনে যারা নিজেদের ‘রাজাকার’ বলে স্লোগান দিয়েছে, তাদের শেষ দেখে ছাড়বেন বলে হুমকি দেন ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন।
এই দুজনের এমন বক্তব্যের পর দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
১৫ জুলাই দুপুর ১২টার পর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও এর অধিভুক্ত সাত কলেজ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজসহ রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে রাজু ভাস্কর্যের সামনে জড়ো হন। বিকেল ৩টার দিকে আন্দোলনকারীদের একটি অংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের হলপাড়ার দিকে মিছিল নিয়ে যান। সেখানে ছাত্রলীগের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বাধে। বিজয় একাত্তর হলের সামনে সংঘর্ষের সূচনা হয়। তখন আশপাশের হল ও মধুর ক্যানটিন থেকে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা এসে মল চত্বরে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করে। ছাত্রলীগের হামলার মুখে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে ভিসি চত্বর এলাকায় যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা রড, হকিস্টিক, রামদাসহ অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করে। বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসের ভেতর আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু সেখানেও তাদের মারধর করে রক্তাক্ত করা হয়।
ছাত্রলীগের হামলায় শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে দিগ্বিদিক চলে যান। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সাত কলেজ, মহানগর শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মহড়া দেয়। এ হামলায় অনেক নারী শিক্ষার্থীসহ প্রায় তিনশ’ শিক্ষার্থী আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসা নেন। বেশ কয়েকজন সাংবাদিকও আহত হন।
এদিন সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটেও আহত শিক্ষার্থীদের ওপর কয়েক দফা হামলা চালায় ছাত্রলীগ। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ্ হলের সামনে কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
ছাত্রলীগের হামলার বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘৫ শতাধিক শিক্ষার্থীর ওপর হামলা করা হয়েছে। আহতদের মেডিকেলে নিয়ে যাওয়ার পরও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হামলা করেছে। ককটেল নিক্ষেপ করেছে। পুলিশ কোনো ধরনের সহযোগিতা করেনি। আমাদের ওপর এ হামলা পরিকল্পিত। এ হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’
ক্যাম্পাসের সহিংসতার ঘটনায় করণীয় ঠিক করতে এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সব হলের প্রাধ্যক্ষদের নিয়ে বৈঠক করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল।
বৈঠক শেষে উপাচার্য বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য আমাদের প্রাধ্যক্ষরা রাতভর হলে অবস্থান করবেন।’
সংঘর্ষের পর ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান নেয় পুলিশ। সন্ধ্যার পরপরই ক্যাম্পাসে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
১৫ জুলাই রাত ১০টার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মোবাইল তল্লাশি ও মারধর করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। স্যার এ এফ রহমান হল, বিজয় একাত্তর হল, মাস্টারদা সূর্য সেন হল ও শহীদ সার্জেন্ট জহরুল হক হলে এমন ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীরা কোটা আন্দোলন যুক্ত কি না, তা যাচাই করতে শিক্ষার্থীদের মোবাইল তল্লাশি করা হয়। আন্দোলনে সম্পৃক্ততা পেলেই মারধর করা হয়।
এদিন রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে যেতে বাধা ও মারধর করে কলেজ ছাত্রলীগের নেত্রীরা। শিক্ষার্থীরা যাতে আন্দোলনে যেতে না পারে, সে জন্য কলেজের গেটে তালা দেওয়া হয়। কিন্তু শিক্ষার্থীদের একটি অংশ তালা ভেঙে মিছিল নিয়ে রাজু ভাস্কর্যের সামনে যান।
কোটা আন্দোলনকারীদের নিয়ে শেখ হাসিনার কটূক্তির প্রতিবাদে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পুলিশি বাধা অতিক্রম করে পুরান ঢাকা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে এসে বিক্ষোভে যোগ দেন। এর আগে জবি ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ ও কোটা আন্দোলনকারীদের পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষে পাঁচ শিক্ষার্থী আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ মিছিলে দফায় দফায় হামলা করে শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ছাত্রলীগের হামলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জাবি শাখার সমন্বয়ক আবদুর রশিদ জিতুসহ ১৫ জন আহত হন।
এর আগে ১৪ জুলাই মধ্যরাতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। রাত সাড়ে ১২টার দিকে শতাধিক বহিরাগত নিয়ে এ হামলা চালানো হয়। এতে অর্ধশত শিক্ষার্থী আহত হন। পরে তারা ভিসির বাসভবনে আশ্রয় নেন।
১৫ জুলাই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর দুই দফায় হামলা চালায় ছাত্রলীগ। এতে ১০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার ও কাটাপাহাড় সড়কে আন্দোলনকারীদের ওপর এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম শহরেও কোটাবিরোধী আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের সংঘর্ষ হয়। এতে সাংবাদিক ও পুলিশসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।
এদিন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ বাম ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে কয়েকজন আহত হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের মমতাজ উদ্দিন কলাভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে। যশোরে এম এম কলেজের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিলে হামলা করে ছাত্রলীগ। দুপুুরে আন্দোলনকারীরা মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কাছাকাছি পৌঁছালে ছাত্রলীগ তাদের ওপর হামলা চালায়। এদিন শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় জড়িত ছাত্রলীগ নেতাদের বিচারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর বরাবর স্মারকলিপি দেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
এদিকে কোটা সংস্কারের দাবিতে রাজধানীর নতুন বাজার, কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এদিন দুপুর থেকে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।
এ ছাড়া রাজধানীর বাইরে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি), কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি), খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুবি), খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন।
১৫ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ‘তুমি কে? আমি কে? রাজাকার, রাজাকার’ স্লোগান দেওয়াকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, ‘নিজেদের রাজাকার বলতে তাদের লজ্জাও লাগে না।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, ‘রাজাকারের পক্ষে স্লোগান রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান। এটি সরকারবিরোধী নয়, এটি রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান।’
এদিকে কোটা আন্দোলনে যারা নিজেদেরকে রাজাকার বলে স্লোগান দিচ্ছে, তাদেরকে ‘এ যুগের রাজাকার’ বলে অভিহিত করেন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। তিনি বলেন, ‘এ যুগের রাজাকারদের পরিণতি, ওই যুগের রাজাকারদের মতোই হবে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগের ন্যক্কারজনক হামলার প্রতিবাদে ১৬ জুলাই (মঙ্গলবার) বিকেল ৩টায় দেশব্যাপী কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল এবং এই আন্দোলনে দেশের সাধারণ মানুষকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম।
এদিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা দিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য আমরা প্রত্যাখ্যান করছি এবং নিন্দা জানাই। তার এমন বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করতে হবে।’
মাধ্যমিকের পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে ‘জুলাই অভ্যুত্থানে’র ইতিহাস
২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই অভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহ এবার স্থান পেতে যাচ্ছে মাধ্যমিক স্তরের সব শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্রে জানা গেছে, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির ইতিহাস, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ে এই গণআন্দোলনের সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরার পরিকল্পনা চলছে।
সূত্র বলছে, বিষয়টি ইতোমধ্যেই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব আকারে পাঠানো হয়েছে। চলতি বছর বাংলা ও ইংরেজি সাহিত্য বইয়ের কিছু অধ্যায়ে প্রাসঙ্গিকভাবে ‘জুলাই আন্দোলন’ এর প্রাথমিক ইতিহাস যুক্ত করা হয়েছে। তবে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে নতুন পাঠ্যপুস্তকে ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞানভিত্তিক বইয়েও তা অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এনসিটিবির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আমাদের ইতিহাস বইগুলোতে এখন পর্যন্ত মূলত ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্তই ঘটনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ইতিহাসের একটি ধারাবাহিকতা রক্ষার নীতিমালাও অনুসরণ করা হয়। তাই যদি এই আন্দোলনকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়, তাহলে তা অবশ্যই ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান এবং সাম্প্রতিক ২০২৪ সালের আন্দোলনের ধারাবাহিকতার প্রেক্ষাপটে সংযোজন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, এখনো বিষয়টি চূড়ান্ত নয়। তবে পাঠ্যক্রম উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় নতুন প্রজন্মকে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে সাম্প্রতিক ইতিহাস সংযোজনের চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। নতুন প্রজন্ম যেন তাদের সমসাময়িক সময়ের বড় ঘটনাগুলো সম্পর্কে জানে এবং তা থেকে শিক্ষা নিতে পারে, সেজন্যই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মূলত, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে সংঘটিত এই অভ্যুত্থানকে অনেকেই নতুন প্রজন্মের ‘প্রতিবাদ রাজনীতির’ এক যুগান্তকারী মাইলফলক হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং নাগরিক সমাজের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে গড়ে ওঠা এ আন্দোলন সমগ্র দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোড়ন তোলে।
ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, শাহবাগ, টিএসসি, নীলক্ষেত ও প্রেস ক্লাব এলাকা বিক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। ছাত্ররা ব্যানার, পোস্টার ও স্লোগানের মাধ্যমে দুর্নীতি, রাজনৈতিক নিপীড়ন, শিক্ষা খাতে বৈষম্য এবং নাগরিক অধিকার হরণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে এ আন্দোলন গণজাগরণে রূপ নেয় এবং চলমান সরকারের পতনের দাবিতে লক্ষাধিক মানুষ রাজপথে নেমে আসে।
একই বছরের ৫ আগস্ট তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে এই অভ্যুত্থান চূড়ান্ত পরিণতি লাভ করে। বিশ্লেষক ও শিক্ষাবিদদের মতে, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের পর ছাত্র সমাজের এটিই ছিল সবচেয়ে বড় এবং সংগঠিত ভূমিকা।
এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রও জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে এবং চূড়ান্ত অনুমোদনের পর পাঠ্যক্রম উন্নয়ন কমিটি প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে।
চাঁদার জন্যই পরিকল্পিতভাবে হত্যা
‘মব’ সাজাতে সোহাগের দেহ টেনে এনে উল্লাস করে খুনিরা
রাজনৈতিক বিভিন্ন অনুষ্ঠান বা অন্য যেকোনো প্রয়োজনে সোহাগের কাছ থেকে টাকা (চাঁদা) চাইতেন মাহমুদুল হাসান মহিন। নিয়মিত টাকা দিতেন সোহাগও। প্রায় বন্ধুত্বের মতো এই সম্পর্ক শত্রুতায় রূপ নেয় গত জুন থেকে। চাঁদা ‘ফিক্সড’ করে দেওয়ায় তাদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হয়। চূড়ান্ত তর্কাতর্কি ও হাতাহাতি হয় গত ৭ জুলাই।
বড় অঙ্কের চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানো সোহাগকে সোজা করতে মহিন ও টিটন গাজী পরিকল্পনা করেন তাকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার। চাঁদা না দিলে পুরো ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ হারাবেন সোহাগ- এমন হুমকি দেন তারা।
ওইদিন সোহাগকে হত্যার ঘটনায় মামলা থেকে বাঁচতে ‘মব’ তৈরির চেষ্টা করেন খুনিরা। তাই সোহাগকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে টেনে-হিঁচড়ে মিটফোর্ড হাসপাতালের তিন নম্বর গেটের সামনে নিয়ে আসেন এবং প্রকাশ্যে উল্লাসে মাতেন। উপস্থিত লোকজনকেও হামলায় অংশ নিতে ডাক দেন তারা, যাতে এটিকে মব বলে চালিয়ে দেওয়া যায়।
সোহাগ হত্যার ঘটনায় পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত এবং সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে এসব তথ্য জানা গেছে।
কোতয়ালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) নাসির উদ্দিন বলেন, সোহাগ হত্যার ঘটনায় হত্যা ও অস্ত্র আইনে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।
এ ঘটনায় পুলিশ ও র্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া সাতজন হলেন মূলহোতা মাহমুদুল হাসান মহিন, তারেক রহমান রবিন, মো. টিটন গাজী, আলমগীর ও লম্বা মনির, সজিব বেপারি ও রাজিব বেপারি।
গ্রেপ্তার হওয়ার পর মূলহোতা মাহমুদুল হাসান মহিন রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার পরিকল্পনা, সোহাগকে ভাঙারি দোকানে হত্যা না করে মিটফোর্ড চত্বরে ধরে এনে প্রকাশ্যে হত্যা, তারেক রহমান রবিন ও টিটনের সঙ্গে কিলিং মিশন বাস্তবায়নের পরিকল্পনা, অস্ত্র সংগ্রহের পরও নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা এবং হত্যার পর উল্লাস করার কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেছেন।
ইতোমধ্যে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন তারেক রহমান রহমান রবিন। গ্রেপ্তার টিটনসহ অন্য আসামিরাও পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কারণ ও বিস্তারিত বর্ণনা তুলে ধরছেন।
খোঁজ নিয়ে ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পুরান ঢাকার রজনী বোস লেনের কিছুটা ভেতরে সোহাগের দোকান। গত ৭ জুলাই চাঁদা নেওয়ার বিষয়ে সোহাগ ও মহিনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। বিষয়টি জানতে যোগাযোগ করলে সোহাগ পুলিশকে জানান মহিনের সঙ্গে ঝামেলা হয়েছিল, মিটে গেছে। কিন্তু মহিন চুপ থাকেননি, টিটনের সঙ্গে পরামর্শ করে সোহাগকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তিনি।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে মহিন জানিয়েছেন, সোহাগ খুবই একরোখা স্বভাবের ছিল। এলাকার অনেকে সোহাগের ওপর ছিল ক্ষিপ্ত। দুইয়ে দুইয়ে চার মিলিয়ে চিরতরে সোহাগকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। শুরুতে তাকে দোকানেই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, সোহাগকে খুন করার জন্য অস্ত্র সংগ্রহ করা হয়েছিল ছোট মনিরের মাধ্যমে। কিন্তু তারা সেটি ব্যবহার করেনি। তারা সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত বিভিন্ন মবের ঘটনা দেখে উৎসাহিত হয়। তাদের ধারণা ছিল, সোহাগকে মিটফোর্ডের ৩ নম্বর গেটের সামনে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে যদি অনেকে মিলে উল্লাস করা যায়, তাহলে ঘটনাটি মব হিসেবে চালিয়ে দেওয়া যাবে।
পাশাপাশি ওই এলাকার ভাঙারি ব্যবসায়ী, অন্যান্য ব্যবসায়ী, অ্যাম্বুলেন্স চালক, রেস্টুরেন্ট, ফার্মেসি ও ফুটপাতের দোকানগুলোতে কড়া বার্তা দেওয়া যাবে যে, মহিন গ্রুপের কথা না শুনলে পরিণতি হবে এমনই ভয়াবহ। এই চিন্তা থেকেই ঘটনার দিন সোহাগ দোকানে আসার পরপরই ৭টি বাইকে করে ১৯ জন মিলে রজনী বোস লেনে প্রবেশ করেন। এরপর সোহাগকে মারধর করতে করতে মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে এনে ইট-বালু-সিমেন্টের তৈরি পাথর সদৃশ কনক্রিট দিয়ে বার বার আঘাত করে হত্যা করেন তারা।
এরপর ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াতে মরদেহ টেনে-হিঁচড়ে গেটের বাইরে এনে তার ওপর লাফিয়ে লাফিয়ে উল্লাস করা হয়।
‘সোহাগ বাঁচলে আমরা শেষ’ বলে হামলায় সবাইকে ডাকে মহিন
প্রত্যক্ষদর্শী অ্যাম্বুলেন্স চালক জানান, সোহাগকে মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে মারতে দেখি। আশপাশে অনেকেই ছিল। সবাই প্রথমে মারেনি। মহিন সবাইকে বলতে থাকে- ‘ও (সোহাগ) বাঁচলে আমরা শেষ’। এরপর সোহাগকে শেষ করতে সবাই মিলেই হামলে পড়ে। এরপর তাকে মিটফোর্ডের ৩ নম্বর গেটের ভেতরে নিয়ে যায়।
ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করা ডিবির এক এডিসি পদমর্যাদার কর্মকর্তা বলেন, মহিন, টিটন ও রবিন গেঞ্জাম লাগছে বলে সবাইকে ডাকেন। বাকি সবাই জানতেন না সোহাগ হত্যার প্ল্যান আছে।
তিনি বলেন, আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে এ ঘটনায় জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
অস্ত্র মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতয়ালী থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) মনির হোসেন জীবন বলেন, অস্ত্রসহ রবিনকে গ্রেপ্তারের পর সে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তার দেওয়া তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

অস্ত্র মামলার তথ্য : সোহাগ হত্যায় অস্ত্র সাপ্লাই দেয় ছোট মনির
অস্ত্র আইনে দায়ের করা মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, সোহাগকে হত্যা করতে রবিন অস্ত্রটি ছোট মনিরের কাছ থেকে সংগ্রহ করেছিলেন। অস্ত্র দেওয়ার সময় ছোট মনির বলেছিলেন, কাজ শেষ হলে সেটি ফেরত দিয়ে আসতে। তবে ফেরতের আগেই ধরা পড়েন রবিন। হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার রবিনকে অস্ত্র মামলার বিষয়ে মহিন ও টিটনের সঙ্গে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করবে পুলিশ।
সোহাগ হত্যায় জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এ মামলার তদন্ত কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে। তদন্তে যদি বড় কোনো মাফিয়া, প্রভাবশালী বা কোনো নেতার সংশ্লেষ পাই তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মামলার প্রত্যেক আসামিকেই গ্রেপ্তার করা হবে।
বন্ধ সোহাগের ‘সোহানা মেটাল’ দোকানটি
মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনের এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, রজনী বোস লেনের পুরোটা জুড়েই ভাঙারি দোকান। অধিকাংশই খোলা দেখা গেলেও বন্ধ সোহাগের সেই ‘সোহানা মেটাল’ নামে দোকানটি।
হাসপাতালের ৩ নম্বর গেট এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রহরা, সেনাবাহিনীর টহল আছে। রাজনৈতিক সংশ্লেষ আর চাঁদাবাজির হিসাব-নিকাশ সব ছাপিয়ে এখনো স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা- হত্যার নৃশংসতা নিয়ে।
সোহাগের কয়েক দোকান পরের এক ভাঙারি ব্যবসায়ী বলেন, এলাকাটিতে মহিনের মতো আরও ৫-৬টি গ্রুপ রয়েছে। মহিন গ্রেপ্তার হলেও অনুসারী ওই গ্রুপগুলো তাদের জন্য হুমকির। যেভাবে সোহাগকে ধরে এনে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে, তাতে আতঙ্ক ছড়িয়েছে ভাঙারিসহ সাধারণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে।
ব্যবসায়ীদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই, পুলিশের পক্ষ থেকে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে জানিয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার নজরুল ইসলাম বলেন, সোহাগকে যে নৃশংসতার মধ্য দিয়ে হত্যা করা হয়েছে তাতে যে কেউ আতঙ্কিত হতে পারেন। তবে আমরা আশ্বস্ত করতে চাই, ব্যবসায়ীদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আমরা বৈঠক করে কথা বলেছি। নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
থানার পাশাপাশি তদন্তে সহযোগিতা করছে ডিবি
ডিএমপির যুগ্ম-কমিশনার (ডিবি-দক্ষিণ) মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম জানান, চাঞ্চল্যকর সোহাগ হত্যা মামলার তদন্ত করছে ক্রাইম ডিভিশন। তবে আসামিদের শনাক্ত, গ্রেপ্তারসহ সার্বিক তদন্তে সহযোগিতা করছে ডিবি পুলিশ।
আনসার সদস্যদের দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ ভিত্তিহীন : ডিজি
এদিকে, ওই ঘটনায় আনসার সদস্যরা নির্বিকার ছিলেন বলে যে অভিযোগ উঠেছে তার প্রতিবাদ জানিয়েছে বাহিনীটি।
গতকাল রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ বলেন, মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর গেটের সামনে ভাঙারি ব্যবসায়ী সোহাগকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় আনসার সদস্যদের দায়িত্ব পালনে অবহেলা বা দায় ছিল না। ঘটনার দিন আনসার সদস্যরা হাসপাতালের নির্ধারিত রোস্টার অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেছেন। রোস্টারের বাইরে হাসপাতালের গেটের বাইরে স্বপ্রণোদিত হয়ে আনসার সদস্যদের দায়িত্ব পালনের সুযোগ ছিল না।
তিনি বলেন, হাসপাতালের কোথায় কীভাবে আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন সেটা নির্ধারণ করেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সোহাগ হত্যার ঘটনা ঘটে বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে। তখন ঘটনাস্থল ৩ নম্বর গেটে কোনো আনসার সদস্যকে রাখেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সুতরাং সোহাগ হত্যার ঘটনায় আনসার সদস্যদের অবহেলা বা ব্যত্যয় দেখার কোনো সুযোগ নেই।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
















মন্তব্য