বড় শয়তান এখনো কাঁধে শ্বাস ফেলছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। রবিবার সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এ মন্তব্য করেন তিনি।
মাহফুজ আলম তার পোস্টে বলেন, ‘এখনো ঐক্যই দরকার। হঠকারীদের স্পেস দিলে বরং দেশের ক্ষতি হবে।
বড় শয়তান এখনো কাঁধে শ্বাস ফেলছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। রবিবার সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এ মন্তব্য করেন তিনি।
মাহফুজ আলম তার পোস্টে বলেন, ‘এখনো ঐক্যই দরকার। হঠকারীদের স্পেস দিলে বরং দেশের ক্ষতি হবে।
তিনি আরো বলেন, ‘বড় শয়তান এখনো আমাদের কাঁধে শ্বাস ফেলছে। তবে সবারই রেকনিং দরকার আছে।’
বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় বরখাস্ত হয়েছেন পুলিশের আরো চার কর্মকর্তা। তাদের মধ্যে দুজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও দুজন সহকারী পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তা রয়েছেন।
রবিবার (১৩ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত পৃথক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. তৌহিদুল ইসলাম বিনা অনুমতিতে গত বছরের ১০ সেপ্টেম্বর থেকে অনুপস্থিত রয়েছেন।
এদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার গোলাম রুহানী গত বছরের ১১ আগস্ট থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন।
এ বছর হজে বাড়ি ভাড়া কমানোর কারণে বেঁচে যাওয়া টাকা ফেরত পাচ্ছেন সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ করা হাজিরা।
সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ করা পাঁচ হাজার হাজির মধ্যে ৪ হাজার ৯৭৮ জন হাজিকে ৮ কোটি ২৮ লাখ ৯০ হাজার ১৮৩ টাকা ফেরত দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন।
রোববার (১৩ জুলাই) সচিবালয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ২০২৫ সালের হজ ব্যবস্থাপনা, অর্জন ও আগামী হজ মৌসুমের পরিকল্পনা ইস্যুতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, একজন হাজি কমপক্ষে ৫ হাজার ৩১৫ টাকা ফেরত পাবেন। সর্বোচ্চ ফেরত পাবেন ৫৩ হাজার ৬২৪ টাকা।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, কিছু মৌলিক বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানোর মাধ্যমে একটি জাতীয় সনদে উপনীত হতে হবে। সেটার লক্ষ্য ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে যেকোনো প্রক্রিয়ায়। বড়জোর ৩১ জুলাইয়ে যেতে পারি।
রোববার (১৩ জুলাই) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দ্বিতীয় ধাপের সংলাপের ১২তম দিনের আলোচনার সূচনা বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। সংলাপের আলোচ্য সূচিতে রয়েছে জরুরি অবস্থা ঘোষণা, প্রধান বিচারপতি নিয়োগ এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, আমরা চেষ্টা করছি জুলাই মাসের মধ্যে যেভাবে হোক একটি যৌক্তিক জায়গায় আসতে। যা হবে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে শহীদদের প্রতি আমাদের দায়িত্ব পালনের পদক্ষেপ।
চলতি সপ্তাহে আলোচনা দ্রুততার সঙ্গে অগ্রসর হবে বলে মনে করেন কমিশনের সহ সভাপতি। জনগণ সংলাপ দেখছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দ্রুততার সঙ্গে অগ্রসর হয়ে জাতীয় সনদের জায়গায় পৌঁছাতে পারলে আমাদের দিক থেকে, আপনাদের দিক থেকে- সর্বোপরি নাগরিকদের থেকে সবাই প্রত্যাশায় আছেন, দেখছেন এবং তারা নিঃসন্দেহে প্রত্যাশা করছেন আমরা খুব দ্রুততার সঙ্গে যেতে পারব।
সংলাপে অংশ নেওয়ায় রাজনৈতিক দলগুলোকে ধন্যবাদ জানিয়ে আলী রীয়াজ বলেন, আপনারা নিয়মিত আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন। এতে বারবার প্রমাণ হচ্ছে আপনারা আন্তরিকভাবে সংস্কার প্রক্রিয়া এবং তার এজেন্ডা তৈরি করার ব্যাপারে, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পথরেখা তৈরি করার ব্যাপারে আন্তরিক।
তিনি আরও বলেন, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে যেকোনোভাবেই হোক ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে প্রক্রিয়া শেষ করতে চাই। কারণ প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করা, অন্যান্য সাংগঠনিক কাজ, নির্বাচন প্রক্রিয়ার মধ্যে আপনাদের অংশগ্রহণ বিলম্বিত হচ্ছে, তা আমরা চাই না। সেদিক থেকে বিবেচনা করে আমরা যে মৌলিক বিষয়গুলোর ব্যাপারে আলোচনা করছি সেগুলো নিয়ে দ্রুত ঐকমত্যের জায়গায় আসতে পারলে আমাদের পক্ষে এ পর্বের যৌক্তিক সমাপ্তি এবং জাতীয় সনদ তৈরি করা সম্ভব হবে।
কমিশনের সহ সভাপতি বলেন, মৌলিক কিছু বিষয়ে আমরা একমত হতে পেরেছি, কিছু বিষয়ে কাছাকাছি অবস্থানে আছি। আজকের (এজেন্ডার) দুটো বিষয়ে গত কয়েকদিনের আলোচনায় আমরা খুব কাছাকাছি আছি। সেদিক থেকে আমরা বিবেচনা করছি প্রধান বিচারপতি নিয়োগ এবং জরুরি অবস্থা ঘোষণার বিষয়ে আলোচনার সমাপ্তি টানতে পারব।
জরুরি অবস্থা যেন আর রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না হয়, সে লক্ষ্যে নতুন বিধান সংযোজনের বিষয়ে একমতে পৌঁছেছে রাজনৈতিক দলগুলো। আজ রবিবার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার সংলাপের ১২তম দিনে এ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছায় অংশগ্রহণকারী দলগুলো।
সংলাপে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের পক্ষ থেকে সংবিধানের ১৪১ অনুচ্ছেদ সংশোধনের প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে বলা হয়, ‘১৪১ ক (১) ধারা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির কাছে যদি সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হয় যে যুদ্ধ, বহিরাক্রমণ বা অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহের ফলে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কিংবা অর্থনৈতিক জীবনে সংকট সৃষ্টি হয়েছে, সেক্ষেত্রে তিনি অনধিক নব্বই দিনের জন্য জরুরি অবস্থা জারি করতে পারবেন। তবে শর্ত থাকছে, এই ঘোষণার আগে মন্ত্রিসভার লিখিত অনুমোদন প্রয়োজন হবে।’
বর্তমান সংবিধানে যেখানে ১২০ দিনের কথা বলা আছে, সেখানে নতুন প্রস্তাবে সময়সীমা ৯০ দিন নির্ধারণের প্রস্তাব এসেছে। পাশাপাশি, পূর্বে যেখানে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিস্বাক্ষর প্রয়োজন ছিল, সেখানে এখন মন্ত্রিসভার অনুমোদনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে বলা হয়েছে।
জরুরি অবস্থার সংজ্ঞা নিয়েও সংশোধন প্রস্তাব এসেছে। বিদ্যমান ভাষায় থাকা ‘অভ্যন্তরীণ গোলযোগ’ শব্দের জায়গায় ‘রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতার প্রতি হুমকি বা মহামারি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ’—এসব শব্দ অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া জরুরি অবস্থার সময় নাগরিকদের মৌলিক কিছু অধিকার অক্ষুণ্ণ রাখতে সংবিধানের ৪৭ (৩) অনুচ্ছেদের আলোকে বলা হয়েছে, ‘কোনো নাগরিকের জীবন অধিকার, নির্যাতন ও নিষ্ঠুর, অমানবিক বা মর্যাদাহানিকর আচরণ বা শাস্তি থেকে রক্ষা পাওয়ার অধিকার খর্ব করা যাবে না।’
তবে, জরুরি অবস্থা ঘোষণার আগে মন্ত্রিসভার অনুমোদনের বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কিছু মতানৈক্য দেখা যায়। বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক প্রস্তাব দেন, মন্ত্রিসভার পরিবর্তে সর্বদলীয় বৈঠকের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের আহমদ আবদুল কাদের বলেন, মন্ত্রিসভার পাশাপাশি বিরোধীদলকেও সম্পৃক্ত করতে হবে।
জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের প্রস্তাব করেন, ‘জরুরি অবস্থা নিয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিরোধীদলীয় নেতা বা নেত্রীর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।’ এ প্রস্তাবে সমর্থন জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। পরে ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা উপস্থিত না থাকলে উপনেতাকে অংশগ্রহণের সুযোগ রাখতে হবে। তখন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার জানান, ‘বিরোধীদলীয় উপনেতাও মন্ত্রী পদমর্যাদার।’
সবশেষে সিদ্ধান্ত হয়, ‘জরুরি অবস্থা ঘোষণার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতিস্বাক্ষরের পরিবর্তে মন্ত্রিসভার অনুমোদনের বিধান যুক্ত করা হবে। সেই বৈঠকে সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা অথবা তাঁর অনুপস্থিতিতে বিরোধীদলীয় উপনেতাকে উপস্থিত রাখতে হবে।’
মন্তব্য