শিরোনাম
ঐকমত্যে পৌঁছানোর মাধ্যমে ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে জাতীয় সনদ : আলী রীয়াজ
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, কিছু মৌলিক বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানোর মাধ্যমে একটি জাতীয় সনদে উপনীত হতে হবে। সেটার লক্ষ্য ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে যেকোনো প্রক্রিয়ায়। বড়জোর ৩১ জুলাইয়ে যেতে পারি।
রোববার (১৩ জুলাই) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দ্বিতীয় ধাপের সংলাপের ১২তম দিনের আলোচনার সূচনা বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। সংলাপের আলোচ্য সূচিতে রয়েছে জরুরি অবস্থা ঘোষণা, প্রধান বিচারপতি নিয়োগ এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, আমরা চেষ্টা করছি জুলাই মাসের মধ্যে যেভাবে হোক একটি যৌক্তিক জায়গায় আসতে। যা হবে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে শহীদদের প্রতি আমাদের দায়িত্ব পালনের পদক্ষেপ।
চলতি সপ্তাহে আলোচনা দ্রুততার সঙ্গে অগ্রসর হবে বলে মনে করেন কমিশনের সহ সভাপতি। জনগণ সংলাপ দেখছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দ্রুততার সঙ্গে অগ্রসর হয়ে জাতীয় সনদের জায়গায় পৌঁছাতে পারলে আমাদের দিক থেকে, আপনাদের দিক থেকে- সর্বোপরি নাগরিকদের থেকে সবাই প্রত্যাশায় আছেন, দেখছেন এবং তারা নিঃসন্দেহে প্রত্যাশা করছেন আমরা খুব দ্রুততার সঙ্গে যেতে পারব।
সংলাপে অংশ নেওয়ায় রাজনৈতিক দলগুলোকে ধন্যবাদ জানিয়ে আলী রীয়াজ বলেন, আপনারা নিয়মিত আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন। এতে বারবার প্রমাণ হচ্ছে আপনারা আন্তরিকভাবে সংস্কার প্রক্রিয়া এবং তার এজেন্ডা তৈরি করার ব্যাপারে, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পথরেখা তৈরি করার ব্যাপারে আন্তরিক।
তিনি আরও বলেন, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে যেকোনোভাবেই হোক ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে প্রক্রিয়া শেষ করতে চাই। কারণ প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করা, অন্যান্য সাংগঠনিক কাজ, নির্বাচন প্রক্রিয়ার মধ্যে আপনাদের অংশগ্রহণ বিলম্বিত হচ্ছে, তা আমরা চাই না। সেদিক থেকে বিবেচনা করে আমরা যে মৌলিক বিষয়গুলোর ব্যাপারে আলোচনা করছি সেগুলো নিয়ে দ্রুত ঐকমত্যের জায়গায় আসতে পারলে আমাদের পক্ষে এ পর্বের যৌক্তিক সমাপ্তি এবং জাতীয় সনদ তৈরি করা সম্ভব হবে।
কমিশনের সহ সভাপতি বলেন, মৌলিক কিছু বিষয়ে আমরা একমত হতে পেরেছি, কিছু বিষয়ে কাছাকাছি অবস্থানে আছি। আজকের (এজেন্ডার) দুটো বিষয়ে গত কয়েকদিনের আলোচনায় আমরা খুব কাছাকাছি আছি। সেদিক থেকে আমরা বিবেচনা করছি প্রধান বিচারপতি নিয়োগ এবং জরুরি অবস্থা ঘোষণার বিষয়ে আলোচনার সমাপ্তি টানতে পারব।
প্রস্তাবে একমত রাজনৈতিক দলগুলো
জরুরি অবস্থা আর প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছায় নয়, লাগবে মন্ত্রিসভার অনুমোদন
জরুরি অবস্থা যেন আর রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না হয়, সে লক্ষ্যে নতুন বিধান সংযোজনের বিষয়ে একমতে পৌঁছেছে রাজনৈতিক দলগুলো। আজ রবিবার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার সংলাপের ১২তম দিনে এ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছায় অংশগ্রহণকারী দলগুলো।
সংলাপে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের পক্ষ থেকে সংবিধানের ১৪১ অনুচ্ছেদ সংশোধনের প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে বলা হয়, ‘১৪১ ক (১) ধারা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির কাছে যদি সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হয় যে যুদ্ধ, বহিরাক্রমণ বা অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহের ফলে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কিংবা অর্থনৈতিক জীবনে সংকট সৃষ্টি হয়েছে, সেক্ষেত্রে তিনি অনধিক নব্বই দিনের জন্য জরুরি অবস্থা জারি করতে পারবেন। তবে শর্ত থাকছে, এই ঘোষণার আগে মন্ত্রিসভার লিখিত অনুমোদন প্রয়োজন হবে।’
বর্তমান সংবিধানে যেখানে ১২০ দিনের কথা বলা আছে, সেখানে নতুন প্রস্তাবে সময়সীমা ৯০ দিন নির্ধারণের প্রস্তাব এসেছে। পাশাপাশি, পূর্বে যেখানে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিস্বাক্ষর প্রয়োজন ছিল, সেখানে এখন মন্ত্রিসভার অনুমোদনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে বলা হয়েছে।
জরুরি অবস্থার সংজ্ঞা নিয়েও সংশোধন প্রস্তাব এসেছে। বিদ্যমান ভাষায় থাকা ‘অভ্যন্তরীণ গোলযোগ’ শব্দের জায়গায় ‘রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতার প্রতি হুমকি বা মহামারি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ’—এসব শব্দ অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া জরুরি অবস্থার সময় নাগরিকদের মৌলিক কিছু অধিকার অক্ষুণ্ণ রাখতে সংবিধানের ৪৭ (৩) অনুচ্ছেদের আলোকে বলা হয়েছে, ‘কোনো নাগরিকের জীবন অধিকার, নির্যাতন ও নিষ্ঠুর, অমানবিক বা মর্যাদাহানিকর আচরণ বা শাস্তি থেকে রক্ষা পাওয়ার অধিকার খর্ব করা যাবে না।’
তবে, জরুরি অবস্থা ঘোষণার আগে মন্ত্রিসভার অনুমোদনের বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কিছু মতানৈক্য দেখা যায়। বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক প্রস্তাব দেন, মন্ত্রিসভার পরিবর্তে সর্বদলীয় বৈঠকের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের আহমদ আবদুল কাদের বলেন, মন্ত্রিসভার পাশাপাশি বিরোধীদলকেও সম্পৃক্ত করতে হবে।
জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের প্রস্তাব করেন, ‘জরুরি অবস্থা নিয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিরোধীদলীয় নেতা বা নেত্রীর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।’ এ প্রস্তাবে সমর্থন জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। পরে ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা উপস্থিত না থাকলে উপনেতাকে অংশগ্রহণের সুযোগ রাখতে হবে। তখন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার জানান, ‘বিরোধীদলীয় উপনেতাও মন্ত্রী পদমর্যাদার।’
সবশেষে সিদ্ধান্ত হয়, ‘জরুরি অবস্থা ঘোষণার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতিস্বাক্ষরের পরিবর্তে মন্ত্রিসভার অনুমোদনের বিধান যুক্ত করা হবে। সেই বৈঠকে সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা অথবা তাঁর অনুপস্থিতিতে বিরোধীদলীয় উপনেতাকে উপস্থিত রাখতে হবে।’
প্রধান বিচারপতির নিয়োগসহ ৩টি বিষয়ে আলোচনায় ঐকমত্য কমিশন
রাষ্ট্র সংস্কারের বিভিন্ন বিষয়ে একমত হয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ‘জুলাই সনদ’ তৈরির লক্ষ্যে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আজ আলোচনায় বসেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।
রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমির দোয়েল হলে আজ সকাল সাড়ে ১১টায় দ্বিতীয় দফার দ্বাদশ দিনের মত আনুষ্ঠানিকভাবে এ আলোচনা শুরু হয়েছে।
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আজকের আলোচনার সূচিতে প্রাধান্য পাচ্ছে- তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা, প্রধান বিচারপতি নিয়োগবিধি ও জরুরি অবস্থা ঘোষণা।
এর আগে, উল্লেখ্য তিনটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। পূর্বের অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে আজ অধিকতর আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
বরাবরের মতো আজকেও আলোচনায় সভাপতিত্ব করছেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ।
এছাড়া, কমিশনের সদস্য হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন- বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ড. বদিউল আলম মজুমদার, সফর রাজ হোসেন, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. মো. আইয়ুব মিয়া ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার।
সংলাপ শুরু হওয়ার আগে সূচনা বক্তব্যে কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশ্যে বলেন, যেহেতু আপনারা রাজনৈতিক দল করেন, সেহেতু সব বিষয়ে আপনাদের একটি নির্দিষ্ট অবস্থান থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। তবে আপনাদের প্রতি অনুরোধ, একটি মাঝামাঝি স্থানে এসে আমাদের দাঁড়াতে হবে। পরবর্তীতে যদি জনগণের কাছ থেকে আপনারা প্রতিনিধিত্ব লাভ করতে পারেন, তাহলে সেটি পরিবর্তন করতে পারেন এবং সেটি জনগণের রায়ের ওপর নির্ভরশীল থাকবে। কিন্তু কমিশন মনে করছে, একটি পর্যায়ে আসা ভালো।
তিনি আরো বলেন, আমরা আপনাদের বক্তব্যকে গুরুত্বহীন মনে করছি না, বরং আমরা চাচ্ছি সকলে একটি ঐকমত্যে পৌঁছাক। চাইলেই এ আলোচনা বাদ দেওয়া যেতে পারে, কিন্তু তাতে বিদ্যমান পরিস্থিতিই থেকে যাবে। আমাদের একটি জায়গায় আসতে হবে- এই বিবেচনাটা যদি আপনারা করেন, তাহলে আমাদের পক্ষে ঐকমত্য গঠন করা সম্ভব।
তিনি সকলের প্রতি কিছুটা ছাড় দিয়ে ও কিছুটা অবস্থান পরিবর্তন করে একটি জায়গায় আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আপনারা অবস্থার পরিবর্তন করে হলেও এগিয়ে আসুন। না হলে আমরা যেখানে আছি, সেখানেই থেকে যাব। গ্রহণযোগ্যতার দিক থেকে এইটুকু বিবেচনা করুন যে, এটা সম্ভব কি-না।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে আলোচনায় অংশগ্রহণ করছে- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ও আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টিসহ ৩০টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা।
এর আগে, দফায় দফায় বৈঠকে কমিশন প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পদ্ধতি, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি ও সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণকল্পে স্বতন্ত্র কমিটি গঠন করাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেছে।
কমিশন সূত্রে জানা যায়, আলোচনা শেষে ব্রিফ করবেন রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিরা।
আলোচনা অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করছে বাংলাদেশ টেলিভিশন।
এনআইডি কীভাবে পাবেন, কারা পাবেন?
বাংলাদেশের প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) একটি অপরিহার্য দলিল। এটি শুধু একজন নাগরিকের পরিচয়ই বহন করে না, বরং বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সেবা গ্রহণের জন্যও এটি অত্যাবশ্যক।
কারা জাতীয় পরিচয়পত্র পাবেন? জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ার জন্য নিম্নলিখিত যোগ্যতাগুলো থাকতে হবে–
ক. বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে : আবেদনকারীকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে।
খ. বয়স ১৮ বছর বা তার বেশি হতে হবে : বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ঘোষিত জন্ম তারিখ অনুযায়ী বয়স ১৮ বছর বা তার বেশি হতে হবে।
গ. পূর্বে নিবন্ধিত হননি : যিনি পূর্বে জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য নিবন্ধিত হননি। অর্থাৎ বাংলাদেশের যেসব নাগরিকের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয়েছে এবং যারা পূর্বে ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হননি, তারাই নতুন জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ার প্রক্রিয়া : জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ার প্রক্রিয়াকে কয়েকটি ধাপে ভাগ করা যায়–
১. অনলাইন আবেদন ফরম পূরণ : প্রথমে নির্বাচন কমিশনের এনআইডিডব্লিউ সেবাগুলোর ওয়েবসাইটে (https://services.nidw.gov.bd) প্রবেশ করতে হবে। ‘নতুন ভোটার নিবন্ধনের জন্য আবেদন করুন’ অপশনটিতে ক্লিক করে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে একটি অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। এরপর ফরম-২ (নতুন ভোটার নিবন্ধন ফরম) সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে। ফরম পূরণের সময় সব তথ্য নির্ভুলভাবে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। ফরম পূরণ সম্পন্ন হলে পূরণ করা ফরমটি ডাউনলোড করে উভয় পৃষ্ঠায় প্রিন্ট করতে হবে।
২. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ ও সত্যায়ন : আবেদন ফরমের সঙ্গে নিম্নলিখিত কাগজপত্রগুলো সংযুক্ত করতে হবে এবং ক্ষেত্রবিশেষে সত্যায়িত করতে হতে পারে।
অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ : অবশ্যই ১৭ ডিজিটের অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদের ফটোকপি দিতে হবে।
পিতামাতার জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি (সত্যায়িত, পিতা-মাতা মৃত হলে অনলাইন মৃত্যু সনদ)।
স্বামী/স্ত্রীর জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও বিবাহের কাবিননামা/নিকাহনামা (বিবাহিতদের ক্ষেত্রে সত্যায়িত)।
শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ (যদি থাকে, যেমন– এসএসসি/জেএসসি/পিইসি সনদের ফটোকপি)।
নাগরিকত্ব সনদ : ইউনিয়ন পরিষদ/পৌরসভা কর্তৃক প্রদত্ত নাগরিকত্ব সনদের ফটোকপি।
ঠিকানার প্রমাণপত্র : চৌকিদারি/হোল্ডিং ট্যাক্স/বাড়ি ভাড়ার রশিদ অথবা বিদ্যুৎ/গ্যাস/পানি বিলের ফটোকপি। যদি নিজের নামে বিল না থাকে, তবে পিতামাতার নামে বিলের কপি ও তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি এবং প্রত্যয়নপত্র (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)।
পাসপোর্টের ফটোকপি : (প্রবাসী পাসপোর্টধারীদের ক্ষেত্রে)।
অঙ্গীকারনামা : (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)।
চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে : সার্ভিস বহি/পেনশন বহির ফটোকপি (সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে)।
রক্তের গ্রুপ পরীক্ষার প্রতিবেদন : (যদি থাকে)।
৩. শনাক্তকারী ও যাচাইকারীর স্বাক্ষর : প্রিন্ট করা ফরম-২ এর শনাক্তকারীর ক্রমিকে নিকটাত্মীয় (পিতা-মাতা, ভাই-বোন) এর এনআইডি নম্বর ও স্বাক্ষর নিতে হবে। যাচাইকারীর ক্রমিকে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড মেম্বার অথবা ওয়ার্ড কমিশনারের নাম, আইডি নম্বর, স্বাক্ষর ও সিল নিশ্চিত করতে হবে।
৪. ছবি তোলা ও বায়োমেট্রিক তথ্য প্রদান : পূরণ করা ফরম ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সংশ্লিষ্ট উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিসে সশরীরে উপস্থিত হতে হবে। সেখানে ছবি, আঙুলের ছাপ এবং চোখের আইরিশ স্ক্যান করা হবে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর একটি প্রাপ্তি স্বীকার স্লিপ দেওয়া হবে।
৫. জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ : প্রাপ্তি স্বীকার স্লিপে উল্লিখিত তারিখে অথবা এসএমএস পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিস থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করা যাবে। অনেক সময় এনআইডি ওয়ালেট অ্যাপ বা এনআইডিডব্লিউ ওয়েবসাইট থেকেও ভার্চুয়াল এনআইডি ডাউনলোড করে ব্যবহার করা যায়।
গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় : আবেদন করার সময় সব তথ্য সঠিক ও নির্ভুলভাবে দিতে হবে। ভুল তথ্য দিলে শাস্তির বিধান রয়েছে। সব কাগজপত্রের মূল কপি সঙ্গে রাখুন, প্রয়োজন হতে পারে। প্রবাসীরা বাংলাদেশের হাইকমিশন/দূতাবাসের মাধ্যমেও জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য আবেদন করতে পারেন। এক্ষেত্রে কিছু ভিন্ন কাগজপত্র ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হতে পারে। জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য সংশোধনের জন্যও নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত প্রক্রিয়া ও ফরম রয়েছে। জাতীয় পরিচয়পত্র প্রাপ্তি নাগরিক অধিকার এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। তাই সব ধাপ অনুসরণ করে নির্ভুলভাবে আবেদন করা উচিত।
সতর্কতা : কোনো ধরনের দালাল বা মধ্যস্থতাকারীর সাহায্য না নিয়ে সরাসরি নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করুন। এছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত যেকোনো তথ্যের জন্য বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের হেল্পলাইন ১০৫ নম্বরে ফোন করতে পারেন অথবা তাদের ওয়েবসাইটে ভিজিট করতে পারেন।
সশস্ত্র বাহিনীর বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা বাড়ল আরও ২ মাস
বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন ও তদূর্ধ্ব সমপদমর্যাদার কমিশন্ড কর্মকর্তাদের বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা আরও ৬০ দিন বাড়িয়েছে সরকার।
রোববার (১৩ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
এতে জানানো হয়, বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন ও তদূর্ধ্ব সমপদমর্যাদার কমিশন্ড কর্মকর্তাদের (কোস্টগার্ড ও বিজিবিতে প্রেষণে নিয়োজিত সমপদমর্যাদার কর্মকর্তারাসহ) ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা ১৪ জুলাই থেকে ৬০ দিন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
এর আগে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গত ১৭ সেপ্টেম্বর সেনা কর্মকর্তাদের ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেওয়া হয়। এর কয়েকদিন পর ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে এ ক্ষমতা দেওয়া হয় নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর কর্মকর্তাদের।
এরপর ১৫ নভেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আরেক প্রজ্ঞাপনে এ মেয়াদ ৬০ দিন বাড়ান হয়েছিল। ওইদিনের প্রজ্ঞাপনে কোস্টগার্ড ও বিজিবিতে প্রেষণে কর্মরত সামরিক কর্মকর্তাদেরও একই ক্ষমতা দেওয়া হয়।
এরপর আরও কয়েক ধাপে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা বাড়ানো হয়। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে আবারও ৬০ দিন বাড়ানো হলো।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য