শিরোনাম
দেশে ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৪৯২
রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত (একদিনে) ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরো ৪৯২ জন রোগী। এসব রোগীর মধ্যে সর্বোচ্চ ১৫৪ জন ভর্তি হয়েছেন বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে।
সোমবার (৭ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়েছে, হাসপাতালে নতুন করে বরিশাল বিভাগে ১৫৪ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৫১ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে) ৬৯ জন, ঢাকা উত্তর সিটিতে (ডিএনসিসি) ৩৬ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে (ডিএসসিসি) ৫৩ জন, খুলনা বিভাগে ৫৪ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১০ জন, রাজশাহী বিভাগে ৬১ জন, রংপুর বিভাগে ৩ জন এবং সিলেট বিভাগে একজন ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ১২ হাজার ৭৬৩ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১১ হাজার ৪০৯ জন।
প্রসঙ্গত, গত বছর (২০২৪) জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট এক লাখ এক হাজার ২১৪ জন রোগী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। মারা যান ৫৭৫ জন। এর আগে ২০২৩ সালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট এক হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়। ওই বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন মোট তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন।
কাকরাইলে চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদের ছত্রভঙ্গে জলকামান-সাউন্ড গ্রেনেড
তিন দফা দাবিতে রাজধানীর কাকরাইল মসজিদ মোড়ে অবস্থান নেওয়া চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করেছে পুলিশ।
সোমবার (৭ জুলাই) দুপুরে চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যরা যমুনা অভিমুখে যাওয়ার চেষ্টা করলে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, কাকররাইল মসজিদ মোড়ে অবস্থান নেওয়া চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদে সরে যাওয়ার আহ্বান জানায় পুলিশ। কিন্তু সেই আহ্বানে তারা সাড়া না দিলে বেলা সোয়া ১২টার দিকে পুলিশ জলকামানের পানি ও কমপক্ষে ৬টি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এসময় পুলিশসহ আন্দোলনকারীদের বেশ কয়েকজন আহত হয়। পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের বেশ কয়েকজনকে আটকও করতে দেখা যায়। পরে পুলিশ ধীরে ধীরে আন্দোলনকারীদের মৎস্যভবনের দিকে নিয়ে যায়।

আন্দোলনে অংশ নেওয়া এক সাবেক বিডিআরের সদস্য বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ড সম্পূর্ণ ঘটিয়েছে শেখ হাসিনা ভারতের সৈনিক দিয়ে। আর দোষ চাপানো হয়েছে নির্দোষ বিডিআর সদস্যদের ওপর। আমরা আমাদের দাবিতে অনড়। আমাদের দাবি না মানা হলে আন্দোলন থেকে সরে আসবো না।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া সাবেক বিডিআর সদস্যের এক স্বজন বলেন, আমরা চাই অন্যায়ভাবে যাদের জেলখানায় আটকে রাখা হয়েছে তাদের ছেড়ে দেওয়া হোক। অনেকের সাজা শেষ হয়ে গেছে তারপরও তাদের ছাড়া হচ্ছে না। যাদের এখনো চাকরির বয়স রয়েছে তাদের যেন যথাযথ সম্মানে চাকরি ফিরিয়ে দেওয়া হোক। আর পিলখানা হত্যাকাণ্ড কেন ঘটল এর সুষ্ঠু একটি বিচার হোক এর পেছনে কারা কারা রয়েছে তা বের করে আনা হোক জাতির সামনে।
আন্দোলনে অংশ নেওয়ার আরেক আন্দোলনকারী বলেন, বাহিনীর কিছু মাথাকে সঙ্গে নিয়ে স্বৈরাচার শেখ হাসিনা এই হত্যাকাণ্ডের নীল নকশা আঁকেন। এই হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে একদিকে ধ্বংস করা হয়েছে সেনাবাহিনীকে অন্যদিকে ধ্বংস করা হয়েছে বিডিআরকে। আমাদের চাকরি পূর্ণবহাল না করা হলে আমরা আন্দোলন থেকে সরে আসবো না। সাজাপ্রাপ্ত বিডিআর সদস্যদের নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া এক সাবেক বিডিআরের সদস্য বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ড সম্পূর্ণ ঘটিয়েছে শেখ হাসিনা ভারতের সৈনিক দিয়ে। আর দোষ চাপানো হয়েছে নির্দোষ বিডিআর সদস্যদের ওপর। আমরা আমাদের দাবিতে অনড়। আমাদের দাবি না মানা হলে আন্দোলন থেকে সরে আসবো না।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া সাবেক বিডিআর সদস্যের এক স্বজন বলেন, আমরা চাই অন্যায়ভাবে যাদের জেলখানায় আটকে রাখা হয়েছে তাদের ছেড়ে দেওয়া হোক। অনেকের সাজা শেষ হয়ে গেছে তারপরও তাদের ছাড়া হচ্ছে না। যাদের এখনো চাকরির বয়স রয়েছে তাদের যেন যথাযথ সম্মানে চাকরি ফিরিয়ে দেওয়া হোক। আর পিলখানা হত্যাকাণ্ড কেন ঘটল এর সুষ্ঠু একটি বিচার হোক এর পেছনে কারা কারা রয়েছে তা বের করে আনা হোক জাতির সামনে।
আন্দোলনে অংশ নেওয়ার আরেক আন্দোলনকারী বলেন, বাহিনীর কিছু মাথাকে সঙ্গে নিয়ে স্বৈরাচার শেখ হাসিনা এই হত্যাকাণ্ডের নীল নকশা আঁকেন। এই হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে একদিকে ধ্বংস করা হয়েছে সেনাবাহিনীকে অন্যদিকে ধ্বংস করা হয়েছে বিডিআরকে। আমাদের চাকরি পূর্ণবহাল না করা হলে আমরা আন্দোলন থেকে সরে আসবো না। সাজাপ্রাপ্ত বিডিআর সদস্যদের নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে।
এদিকে চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদের ছত্রভঙ্গ করার আগে ডিএমপির রমানা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধি যমুনায় পাঠানোর আহ্বান জানান। পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের কাকরাইল মসজিদ থেকে সরে যেতে ১০ মিনিটের আল্টিমেটাম দেন। কিন্তু আন্দোলনকারীরা তাতে সাড়া না দিয়ে একই জায়গায় আবস্থানের ঘোষণা দিলে পুলিশ বল প্রয়োগ শুরু করে।
এর আগে বেলা পৌনে ১২টায় শাহবাগ মোড় থেকে যমুনা অভিমুখে মিছিল নিয়ে আসেন চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যরা। মিছিলটি কাকরকাইল মসজিদ মোড়ে এলে সেখানে তাদের বাধা দেয় পুলিশ। পরে তারা সেখানে অবস্থান নেন।
তাদের তিন দফা দাবি হলো- চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদের ক্ষতিপূরণ দিয়ে চাকরিতে পুর্নবহাল, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গঠিত স্বাধীন তদন্ত কমিশনের বিভিন্ন ধারা বাতিল এবং বিডিআর নাম পুর্নবহাল ও কারাগারে বন্দি থাকা বিডিআর সদস্যদের মুক্তি।
গণহত্যা মামলায় শেখ হাসিনাকে অব্যাহতির আবেদন স্টেট ডিফেন্সের
জুলাই-আগস্ট গণহত্যায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেওয়া প্রতিবেদন থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী আমির হোসেন।
সোমবার (৭ জুলাই) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত ৩ সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানিতে এ আবেদন করেন তিনি।
এ সময় স্টেট ডিফেন্স আরও বলেন, শেখ হাসিনা আন্দোলনকারীদের “রাজাকারের বাচ্চা” বলেননি। অপব্যাখ্যা করা হয়েছে।
শেখ হাসিনা ছাড়াও এ মামলার অপর দুই আসামি হলেন, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন।
এদিকে অভিযোগ গঠনের শুনানিকে ঘিরে ইতোমধ্যে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। আজ সকালে তাকে প্রিজন ভ্যানে করে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
পালানোর দুদিন আগে স্বজনদের যা করতে বলেন শেখ হাসিনা
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত বছরের ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার দুই দিন আগেই আত্মীয়স্বজনদের দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বলেছিলেন তিনি।
রোববার (৬ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবের মিলনায়তনে এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠানে এ দাবি করেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।
আত্মীয়স্বজন কেন গ্রেপ্তার হয়নি, তা জানিয়ে আলাল বলেন, শেখ হাসিনা ২ আগস্ট তার আত্মীয়স্বজনদের খুদে বার্তা পাঠিয়েছিলেন। সেখানে তিনি বলেন, তোমরা যে যেভাবে পারো দেশ ছেড়ে চলে যাও। দেশ থেকে বিদেশে পালাও। যে কারণে তার কোনো আত্মীয়স্বজন গ্রেপ্তার হয়নি। সবাই নিরাপদে দেশ থেকে পালিয়ে গেছে।
আন্দোলনের নেতৃত্ব নিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, যারা আন্দোলনের সঙ্গে ছিল এবং যে যুবকরা নতুন দল গঠন করেছে, তাদের সংশোধন হওয়ার জন্য বলি, এটা শুধু ছাত্রদের আন্দোলন ছিল না। এ আন্দোলনের সঙ্গে ছাত্রীরা ও তাদের মায়েরাও জড়িত ছিলেন। এটা হবে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। শুধু ছাত্রদের আন্দোলন না। এর পেছনে বিএনপির নেতৃত্বে যে জোট, সেই জোট প্রেরণা ও শক্তি দিয়েছে।
সবচেয়ে বেশি শহীদের সংখ্যা বিএনপির, এমন দাবি করে মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, আন্দোলনে সবচেয়ে বেশি শহীদের সংখ্যা ও আহতের সংখ্যা বিএনপির। সবচেয়ে বেশি গুমের সংখ্যা বিএনপিতে কিন্তু আমরা এই কৃতিত্বের দাবি করি না। আমরা মনে করি বিএনপির এটা করা উচিত ছিল, করেছে।
তিনি আরও বলেন, দেশে নতুন আরেকটা রঙিলা বাক্স নিয়ে হাজির হয়েছে। এই রঙিলা বাক্সটা হচ্ছে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন। পিআর পদ্ধতি যেসব দেশে আছে, সেসব দেশের একটিতেও স্থিতিশীল সরকার নেই। স্বাভাবিক গতির সরকার নেই।
ড. ইউনূস-মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ফোনালাপ
গণতন্ত্র নিয়ে আগ্রহ কম যুক্তরাষ্ট্রের, ৩৭% শুল্কের চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বাংলাদেশের গণতন্ত্র নিয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছে কম, বরং বাণিজ্য ও ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাই তাদের কাছে এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ— এমনটাই জানিয়েছেন ওয়াশিংটনভিত্তিক নীতি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান উইলসন সেন্টারের সাউথ এশিয়া ইনস্টিটিউটের পরিচালক মাইকেল কুগেলম্যান। বিশেষ করে যখন বাংলাদেশকে ৩৭ শতাংশ শুল্কের মতো কঠিন বাণিজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে, তখন যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থান নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
ট্রাম্প প্রশাসন ব্যাপকভাবে বিদেশি সহায়তা কমিয়েছে উল্লেখ করে সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে কুগেলম্যান বলেছেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে এগিয়ে নেওয়া কিংবা রাষ্ট্রগঠনে অর্থব্যয়ে তাদের আগ্রহ ‘নিতান্তই কম’।
এ সময়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর মধ্যকার সাম্প্রতিক ফোনালাপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘উভয় দেশের পক্ষ থেকে ওই ফোনালাপের যে বিবরণ প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে স্পষ্ট হয়েছে যে ওয়াশিংটনের কাছে এখন ঢাকার সঙ্গে সম্পর্কের গুরুত্ব বাণিজ্য ও আঞ্চলিক বৃহৎ শক্তিগুলোর সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার ক্ষেত্রে।’
ওয়াশিংটনভিত্তিক আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও কূটনীতি বিষয়ক সাময়িকী ফরেন পলিসির উইকলি সাউথ এশিয়া ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
কুগেলম্যান লিখেছেন, দুই নেতা অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার ও ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের (ইন্দো-প্যাসিফিক) নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে অংশীদারিত্বের বিষয়ে আলোচনা করেন। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইন্দো-প্যাসিফিক নিরাপত্তার অর্থ হলো চীনের প্রভাব মোকাবিলা।
কিন্তু এ দুটো লক্ষ্যই বাংলাদেশের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে বলে মনে করেন এই এই দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক বিশেষজ্ঞ। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি না হলে বাংলাদেশকে ৩৭ শতাংশ শুল্কের মুখে পড়তে হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ঐতিহ্যগতভাবেই জোট নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতিতে অটুট রয়েছে, এতে কোনো বড় শক্তির পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান না নেওয়ার কৌশল অনুসরণ করা হয়।
এর আগে ৩০ জুন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর ফোনালাপে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। এটি ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের ক্ষমতা নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সর্বোচ্চ পর্যায়ের আলোচনাগুলোর একটি।
কুগেলম্যান বলেন, ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশ নীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। বাইডেন প্রশাসনের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র শেখ হাসিনার দেশ থেকে পলায়নের পর গণতন্ত্র পুনর্গঠনের লক্ষ্যে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারকে উন্নয়ন সহায়তা ও কারিগরি সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
ফোনালাপের পর মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ট্যামি ব্রুস বলেন, ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধান উপদেষ্টা উভয়েই যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছেন।’
ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষিত শুল্ক নীতিমালার আওতায় যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। এ সংকট মোকাবিলায় গত এপ্রিলে জরুরি বৈঠক করে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। এরই অংশ হিসেবে নতুন শুল্ক ও সম্পূরক শুল্ক কাঠামো ঘোষণা করেছেন অর্থ উপদেষ্টা, যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাঙ্ক্ষিত বাণিজ্য চুক্তি সহজ করার চেষ্টা চলছে।
চলমান আলোচনা থেকে শুল্ক সংকটের সমাধান আসবে বলে আশাবাদী সরকার। আগামী ৮ জুলাই এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রে দ্বিতীয় দফা বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
সূত্র- ইউএনবি
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য