শিরোনাম
৬ জুলাই : বিক্ষোভে উত্তাল দেশ, বাংলা ব্লকেড কর্মসূচি ঘোষণা
২০২৪ সালের জুলাইয়ের শুরুতে কয়েকদিন ধরেই কোটা বিরোধী আন্দোলনে উত্তাল হয়ে ওঠে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়।
৬ জুলাই রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে ওই দিন অবরোধ তুলে নেওয়ার আগে কোটা বিরোধী আন্দোলনকারীরা ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। সারা বাংলাদেশ অবরোধ করার পরিকল্পনা থেকেই সেদিন এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। একই দাবিতে এইদিন সারাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অধিকাংশ বিভাগে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা।
২০২৪ সালের ৬ জুলাই আন্দোলনকারীরা শাহবাগ মোড় এক ঘণ্টার মতো অবরোধ করে রাখেন। পরে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে সেখান থেকে সরে যান তারা। এরপর শাহবাগ মোড় দিয়ে যান চলাচল শুরু হয়।
৬ জুলাই পর্যন্ত আন্দোলনকারীদের কর্মসূচি ছিল শুধুমাত্র বিক্ষোভ মিছিল। ৪ জুলাই কোটা সংক্রান্ত হাইকোর্টের শুনানি পিছিয়ে দেওয়া হয়। এ রায়ের ক্ষেত্রে আদালতের দীর্ঘসূত্রতা পরিলক্ষিত হচ্ছিল। আন্দোলন ও শিক্ষার্থীদের মতামতকে গুরুত্ব না দিয়ে তা অবজ্ঞার চোখে দেখা হচ্ছিল। এছাড়াও শাহবাগে অবরোধ চলাকালে গাড়িগুলো পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছিল। তাতে আন্দোলনের প্রভাব প্রত্যাশা অনুযায়ী পূরণ হচ্ছিল না। তখন আন্দোলনকারীরা চিন্তা করেন আরেকটু বড় পরিসরে কিছু করতে হবে। এমন চিন্তা থেকে ‘বাংলা ব¬কেড’ কর্মসূচি ঘোষণা করেন আন্দোলনকারীরা। ইতোমধ্যে রাজধানী ঢাকার অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও আন্দোলনে যুক্ত হয়ে যান।
অবরোধ তুলে নিয়ে ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আগামীকাল বিকাল তিনটা থেকে ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি ঘোষণা করা হলো। শুধু শাহবাগ মোড় নয়, শাহবাগ ও ঢাকা শহরের সায়েন্সল্যাব, চানখাঁরপুল, নীলক্ষেত, মতিঝিলসহ প্রতিটি পয়েন্টে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোর শিক্ষার্থীরা নেমে এসে কর্মসূচি সফল করবেন। ঢাকার বাইরের জেলা ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক অবরোধ করবেন।’
তিনি বলেন, ‘সরকার মনে করছে আমরা দুই-তিনদিন রাস্তা অবরোধ করে ক্লান্ত হয়ে ঘরে ফিরে যাব। সরকারের এই ধারণা যে ভুল সেটি আমাদের প্রমাণ করে দিতে হবে।
আমরা এখন পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছি প্রয়োজনে আমরা হরতাল দিতে বাধ্য হব। ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী যেখানে আমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, কোটা থাকবে না, সেই কোটা এখন কেন ফিরে আসল এর জবাব আমরা চাই। শুধু প্রথম এবং দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতেই নয় তৃতীয় এবং চতুর্থ শ্রেণির চাকরিতেও কোটার বৈষম্য দূর করতে হবে।’
ছাত্র ধর্মঘট ও ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচিতে ইতোমধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘শিক্ষকরা ক্লাসে ফিরে গেলেও দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা ক্লাসে ফিরে যাব না।’
‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি ঘোষণার আগের রাতে কার্জন হলের হোয়াইট হাউসের সিঁড়িতে বসে আন্দোলনের সংগঠকরা বৈঠক করে ‘বাংলা ব্লকেড’ নাম চূড়ান্ত করেন। এই কর্মসূচি কীভাবে সফল করা যায়, কোন কোন পয়েন্টে কোন কোন প্রতিষ্ঠান থাকবে, কোন পয়েন্টে কোন হল থাকবে, তা নিয়েও সেখানে আলোচনা হয়। বৈঠক থেকে প্রতিটি হলের প্রতিনিধিদের দায়িত্বও ভাগ করা হয়।
ঢাকা ও ইডেন কলেজের শিক্ষার্থীরা নীলক্ষেত-সায়েন্সল্যাবে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জিরো পয়েন্টে এবং বোরহানুদ্দীন কলেজের শিক্ষর্থীরা চানখাঁরপুলে ব্লকেড কর্মসূচি পালন করবে। এদিকে আন্দোলনকারীরা চিন্তা করেন যে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আন্দোলনে যুক্ত হয়েছে তাদের সবাইকে শাহবাগে নিয়ে আসার প্রয়োজন নেই।
ইতোমধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমাগমও যথেষ্ট বড় হচ্ছিল।
ওইদিন বিকাল সোয়া তিনটার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ ব্যানারে মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের শ্যাডো ও মল চত্বর প্রদক্ষিণ করে মাস্টারদা সূর্যসেন হল ও হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের সামনে দিয়ে স্মৃতি চিরন্তন চত্বর, টিএসসি ও বকশী বাজার হয়ে বুয়েট ক্যাম্পাসের ভেতর দিয়ে পলাশী ও আজিমপুর এলাকা ঘুরে ফের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভেতর দিয়ে শাহবাগ মোড়ে এসে বিক্ষোভ করেন।
এর আগেই আন্দোলনকারীদের একটি অংশ শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনের সড়কে মূল মিছিল আসার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। মূল মিছিলটি চারুকলা অনুষদের সামনে আসতেই জাদুঘরের সামনে অপেক্ষমান শিক্ষার্থীরা ৪টা ৩৭ মিনিটে শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন। এরপর তারা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে ৫০ মিনিট এ অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন।
একই দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সবগুলো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটাবিরোধী শিক্ষার্থী ও চাকরি প্রত্যাশীরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন। এর পাশাপাশি বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ঢাকা, টাঙ্গাইল, রাজশাহী, রংপুর, কুষ্টিয়া ও চট্টগ্রামে সড়ক ও মহাসড়ক অবরোধ করেন।
২০২৪ সালের ৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত থাকা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কোটা আন্দোলন নিয়ে পোস্ট দেওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সমাজবিজ্ঞান ডিবেটিং ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। মোশাররফ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী।
ওইদিন রাজধানীর তাঁতিবাজার মোড় অবরোধ করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। দুই ঘণ্টা পর বিকেল পাঁচটায় শিক্ষার্থীরা তাঁতিবাজার মোড় ত্যাগ করে মিছিল নিয়ে জবি ক্যাম্পাসে ফিরে যান।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’—এর ব্যানারে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে আন্দোলনের বার্তা পৌঁছে দেন বিক্ষোভকারীরা। এ সময় তারা বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধের ঘোষণা দেন।
এইদিন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজন উপেক্ষা করে কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোড থেকে মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করেন তারা। বিক্ষোভ চলে দুপুর ১২টা পর্যন্ত।
এদিকে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা কোটা ব্যবস্থা বাতিলের দাবিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন।
দুপুর ১২টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টাব্যাপী তারা এ বিক্ষোভ সমাবেশ করেন।
৬ জুলাই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বেলা ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করেন। অবরোধ চলাকালে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হলেও শিক্ষার্থীরা বৃষ্টি উপেক্ষা করে অবরোধ চালিয়ে যান। এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ ভবনসংলগ্ন বটতলা থেকে পদযাত্রা শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।
চট্টগ্রামের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা দ্বিতীয় দিনের মতো নগরীর সড়ক অবরোধ করেন। এইদিন বিকাল ৫টার দিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শাটল ট্রেনে এসে নগরীর ষোলশহর স্টেশনে অবস্থান নেন। এর সাথে যুক্ত হন চট্টগ্রামের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দুপুর ১২টায় রংপুরের মডার্ন মোড়ে রংপুর-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করেন। দেড় ঘণ্টা অবরোধ শেষে দুপুর পৌনে ২টার দিকে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়ে অবরোধ তুলে নেন শিক্ষার্থীরা।
প্রটেস্ট বা মার্চ করতে চাইলে বলা হয় মব হচ্ছে: প্রেস সচিব
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, শেখ হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরে টিভি বা নিউজমিডিয়া ব্যর্থ ছিল। এটা নিয়ে অনেকে অনেক কথা বলছে। নতুন করে যখন আবার কেউ ব্যর্থ হয়, সেই মেমোরি চাঙ্গা দিয়ে উঠে। এর ফলে অনেকে প্রটেস্ট করেন, অনেকে মার্চ করেন। আপনারা তখন বলেন— মব তৈরি হচ্ছে।
শনিবার (৫ জুলাই) রাজধানীর ডেইলি স্টার ভবনে আয়োজিত ‘গণমাধ্যম সংস্কার প্রতিবেদন পর্যালোচনা’ এক সেমিনারে এ কথা বলেন তিনি।
শফিকুল আলম বলেন, কথা হলো যারা সাড়ে ১৫ বছরে এফেক্টেড হয়েছে তার তো প্রটেস্ট করার অধিকার আছে। এই সাড়ে ১৫ বছরে সংবাদমাধ্যমের যে ব্যর্থতা ছিল, তা চিহ্নিত করার কোনো ব্যবস্থা করেছি? কোনো পত্রিকা বা টিভি স্টেশন বলেছে কি না?
আজকে যারা দোসর বলে প্রটেস্ট করছে, তা আগের ব্যর্থতার কারণে বলে মনে করেন তিনি। প্রেস সচিব বলেন, আমরা কিন্তু গত ১৫ বছরের জার্নালিজম নিয়ে আলাপ করছি না। সেটা নিয়ে আলাপ হওয়া উচিত।
মিডিয়াকে চাপ না দিতে গোয়েন্দা সংস্থাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। ‘তবে ভুল তথ্য প্রচার করলে তা অবগত করতে পারে,’ বলেন প্রেস সচিব।
তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকতা এক সময় অনেক বেশি সরকার নিয়ন্ত্রিত ছিল। সেখান থেকে বেরিয়ে এসে আমরা একটি মুক্ত এবং ভয়ডরহীন পরিবেশ গড়ে তুলতে চাইছি। সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট বাতিল করে নতুন যে আইন এসেছে, তা কোনোভাবেই প্রেস ফ্রিডমে হস্তক্ষেপ করে না। এই কয়মাসে সরকার চেয়েছে কোনো সিক্রেট এজেন্সি যেন সাংবাদিকদের ফোন না দেয়। ভুল সংবাদ হলে তা বলার আলাদা উপায় রয়েছে, হুমকি বা গুমের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসাই লক্ষ্য।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে তরুণ-তরুণীদের কাছে আইডিয়া চেয়েছে ঢাকা জেলা পরিষদ
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে ১৫ থেকে ৩০ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীদের কাছ থেকে অংশগ্রহণমূলক আইডিয়া চেয়েছে ঢাকা জেলা পরিষদ।
গত ২ জুলাই বুধবার ঢাকা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুন খন্দকার স্বাক্ষরিত এক সংশোধনী বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় সরকার বিভাগের উদ্যোগে ২০২৪ সালের জুলাই আগস্টে সংঘটিত ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে জুলাইয়ের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্য নিয়ে জাতি গঠনে তরুণদের সরাসরি অংশগ্রহণে একটি ‘আইডিয়া প্রতিযোগিতা’র আয়োজন করা হয়েছে।
এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় হল- ‘আমার চোখে জুলাই বিপ্লব।’
প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণের জন্য ১৫ থেকে ৩০ বছর বয়সী হতে হবে। শিক্ষার ক্ষেত্রে মাধ্যমিক ও উচ্চ-মাধ্যমিক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হতে হবে।
পাশাপাশি ক্লাব, ডিবেট, স্কাউট, রোভার ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যগণ শুধুমাত্র দলীয়ভাবে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন।
এছাড়া নারী সদস্যের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
আইডিয়া তৈরীর সময় নিম্নলিখিত মানদণ্ডগুলো অনুসরণ করতে হবে-
১) ১-২ পৃষ্ঠার একটি ধারণাপত্র (বাংলা বা ইরেজিতে) অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে: ২) আইডিয়ার শিরোনাম: ৩) আইডিয়ার ভূমিকা। ৪) আইডিয়ার বিবরণ (স্থান উল্লেখসহ), উদ্দেশ্য ও প্রত্যাশিত প্রভাব: ৫) আইডিয়া বাস্তবায়নের দলের সদস্যদের সুনির্দিষ্ট ভূমিকা উল্লেখ করতে হবে। ৬) সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনের ক্ষমতা: ৭) প্রস্তাবের স্বতন্ত্রতা: ৮) কাঙ্ক্ষিত ফলাফল। ৯) গণঅভ্যুত্থানের সাথে সামঞ্জস্যতা: ১০) দেশীয় সংস্কৃতিক সাথে সামঞ্জস্যতা।
আইডিয়া প্রস্তাব দাখিলের সময়সীমা ০১-১০ জুলাই পর্যন্ত, ১১ জুলাই প্রস্তাব মূল্যায়ন, ১২ জুলাই চূড়ান্তভাবে প্রকল্প নির্বাচন, ১৩-৩১ জুলাই প্রস্তাব বাস্তবায়ন, ০৫ আইডিয়া প্রদর্শনী।
আইডিয়া জমাদানের স্থান জেলা পরিষদ, ঢাকা। অস্থায়ী কার্যালয়: সেক্টর নং ৬, আজমপুর, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০ ঠিকানায় (সকাল ৯:০০ টা থেকে বিকাল ৫:০০ ঘটিকা পর্যন্ত) সরাসরি অথবা অনলাইনের মাধ্যমে ই-মেইল-zpdhaka@gmail.com-তে প্রেরণ করা যাবে।
আইডিয়া সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জেলা পরিষদ, ঢাকার ওয়েবসাইটে www.zpdhaka.gov.bd-তে পাওয়া যাবে।
কারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না, জানালেন অ্যাটর্নি জেনারেল
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যারা দণ্ডিত হবেন, তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। শনিবার (৫ জুলাই) ‘জুলাই আন্দোলনের চেতনা বাস্তবায়নে করণীয়’ শীর্ষক এক বিতর্ক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে যারা জড়িত তাদেরও আইনের আওতার আনার সুযোগ আছে। রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব থাকলেও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সব দল ঐক্যবদ্ধ। মানবতাবিরোধী অপরাধে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার করা যাবে।
মব ইস্যু নিয়ে আসাদুজ্জামান বলেন, এটা বিচার বিভাগের প্রতি অনাস্থা নয়। বরং, গত ১৭ বছরের ক্রোধ। তবে, এই ক্রোধ সমীচীন নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণ করে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আবু সাইদ কোন রাজনৈতিক দলের না। জুলাইয়ের শহীদরা কোন রাজনীতির কেউ না। তারা স্বৈরাচার আমলের ভুক্তভোগী হয়ে রাস্তায় নেমেছিল। তারা সবাই নাগরিক প্রতিনিধি।
তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের মূল চেতনা বাংলাদেশের সুশাসন। দেশে সুশাসন ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করাই এর প্রধান লক্ষ্য।
সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার শামসুল হুদা মারা গেছেন
সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এটিএম শামসুল হুদা (৮৩) মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্নইলাহি রাজিউন)।
শনিবার (৫ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে রাজধানীর গুলশানের নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
ইউনাইটেড হসপিটাল লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার (কমিউনিকেশন অ্যান্ড বিজনেস ডেভেলপমেন্ট) ডা. মো. ফজলেরাব্বী খান জানান, সকাল দশটার দিকে তাকে ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এখানে আসার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান তিনি আগেই মারা গিয়েছেন। অর্থাৎ আমরা তাকে ব্রটডেথ অবস্থায় পেয়েছি। এখন পর্যন্ত তার মরদেহ হাসপাতালেই রয়েছে।
জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী একমাত্র মেয়ে দেশে ফিরলে জানাজা ও দাফনের সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে।
এটিএম শামসুল হুদা ২০০৭ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাঁচ বছর মেয়াদে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন। একাধিক রাজনৈতিক সংকটময় সময়ে দায়িত্ব পালন করা এই প্রশাসক তখনকার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা ও গ্রহণযোগ্যতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য