ঢাকা, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে তরুণ-তরুণীদের কাছে আইডিয়া চেয়েছে ঢাকা জেলা পরিষদ

অনলাইন ডেস্ক
৫ জুলাই, ২০২৫ ১৬:২
অনলাইন ডেস্ক
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে তরুণ-তরুণীদের কাছে আইডিয়া চেয়েছে ঢাকা জেলা পরিষদ

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে ১৫ থেকে ৩০ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীদের কাছ থেকে অংশগ্রহণমূলক আইডিয়া চেয়েছে ঢাকা জেলা পরিষদ। 

গত ২ জুলাই বুধবার ঢাকা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুন খন্দকার স্বাক্ষরিত এক সংশোধনী বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় সরকার বিভাগের উদ্যোগে ২০২৪ সালের জুলাই আগস্টে সংঘটিত ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে জুলাইয়ের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্য নিয়ে জাতি গঠনে তরুণদের সরাসরি অংশগ্রহণে একটি ‘আইডিয়া প্রতিযোগিতা’র আয়োজন করা হয়েছে। 

এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় হল- ‘আমার চোখে জুলাই বিপ্লব।’

প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণের জন্য ১৫ থেকে ৩০ বছর বয়সী হতে হবে। শিক্ষার ক্ষেত্রে মাধ্যমিক ও উচ্চ-মাধ্যমিক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হতে হবে। 

পাশাপাশি ক্লাব, ডিবেট, স্কাউট, রোভার ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যগণ শুধুমাত্র দলীয়ভাবে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন। 

এছাড়া নারী সদস্যের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

আইডিয়া তৈরীর সময় নিম্নলিখিত মানদণ্ডগুলো অনুসরণ করতে হবে-

১) ১-২ পৃষ্ঠার একটি ধারণাপত্র (বাংলা বা ইরেজিতে) অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে: ২) আইডিয়ার শিরোনাম: ৩) আইডিয়ার ভূমিকা। ৪) আইডিয়ার বিবরণ (স্থান উল্লেখসহ), উদ্দেশ্য ও প্রত্যাশিত প্রভাব: ৫) আইডিয়া বাস্তবায়নের দলের সদস্যদের সুনির্দিষ্ট ভূমিকা উল্লেখ করতে হবে। ৬) সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনের ক্ষমতা: ৭) প্রস্তাবের স্বতন্ত্রতা: ৮) কাঙ্ক্ষিত ফলাফল। ৯) গণঅভ্যুত্থানের সাথে সামঞ্জস্যতা: ১০) দেশীয় সংস্কৃতিক সাথে সামঞ্জস্যতা।

আইডিয়া প্রস্তাব দাখিলের সময়সীমা ০১-১০ জুলাই পর্যন্ত, ১১ জুলাই প্রস্তাব মূল্যায়ন, ১২ জুলাই চূড়ান্তভাবে প্রকল্প নির্বাচন, ১৩-৩১ জুলাই প্রস্তাব বাস্তবায়ন, ০৫ আইডিয়া প্রদর্শনী।

আইডিয়া জমাদানের স্থান জেলা পরিষদ, ঢাকা। অস্থায়ী কার্যালয়: সেক্টর নং ৬, আজমপুর, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০ ঠিকানায় (সকাল ৯:০০ টা থেকে বিকাল ৫:০০ ঘটিকা পর্যন্ত) সরাসরি অথবা অনলাইনের মাধ্যমে ই-মেইল-zpdhaka@gmail.com-তে প্রেরণ করা যাবে।

আইডিয়া সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জেলা পরিষদ, ঢাকার ওয়েবসাইটে www.zpdhaka.gov.bd-তে পাওয়া যাবে।

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    কারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না, জানালেন অ্যাটর্নি জেনারেল

    অনলাইন ডেস্ক
    ৫ জুলাই, ২০২৫ ১৫:৪৩
    অনলাইন ডেস্ক
    কারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না, জানালেন অ্যাটর্নি জেনারেল
    অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যারা দণ্ডিত হবেন, তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। শনিবার (৫ জুলাই) ‘জুলাই আন্দোলনের চেতনা বাস্তবায়নে করণীয়’ শীর্ষক এক বিতর্ক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

    অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে যারা জড়িত তাদেরও আইনের আওতার আনার সুযোগ আছে। রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব থাকলেও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সব দল ঐক্যবদ্ধ। মানবতাবিরোধী অপরাধে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার করা যাবে।

    মব ইস্যু নিয়ে আসাদুজ্জামান বলেন, এটা বিচার বিভাগের প্রতি অনাস্থা নয়। বরং, গত ১৭ বছরের ক্রোধ। তবে, এই ক্রোধ সমীচীন নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণ করে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আবু সাইদ কোন রাজনৈতিক দলের না। জুলাইয়ের শহীদরা কোন রাজনীতির কেউ না। তারা স্বৈরাচার আমলের ভুক্তভোগী হয়ে রাস্তায় নেমেছিল। তারা সবাই নাগরিক প্রতিনিধি।

    তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের মূল চেতনা বাংলাদেশের সুশাসন। দেশে সুশাসন ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করাই এর প্রধান লক্ষ্য।

    মন্তব্য

    সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার শামসুল হুদা মারা গেছেন

    অনলাইন ডেস্ক
    ৫ জুলাই, ২০২৫ ১৫:৩৫
    অনলাইন ডেস্ক
    সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার শামসুল হুদা মারা গেছেন
    সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এটিএম শামসুল হুদা

    সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এটিএম শামসুল হুদা (৮৩) মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্নইলাহি রাজিউন)।

    শনিবার (৫ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে রাজধানীর গুলশানের নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

    ইউনাইটেড হসপিটাল লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার (কমিউনিকেশন অ্যান্ড বিজনেস ডেভেলপমেন্ট) ডা. মো. ফজলেরাব্বী খান জানান, সকাল দশটার দিকে তাকে ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এখানে আসার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান তিনি আগেই মারা গিয়েছেন। অর্থাৎ আমরা তাকে ব্রটডেথ অবস্থায় পেয়েছি। এখন পর্যন্ত তার মরদেহ হাসপাতালেই রয়েছে। 

    জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী একমাত্র মেয়ে দেশে ফিরলে জানাজা ও দাফনের সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে।

    এটিএম শামসুল হুদা ২০০৭ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাঁচ বছর মেয়াদে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন। একাধিক রাজনৈতিক সংকটময় সময়ে দায়িত্ব পালন করা এই প্রশাসক তখনকার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা ও গ্রহণযোগ্যতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      চানখাঁরপুলে হত্যাকাণ্ড

      যার নির্দেশে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে উল্লাস করে পুলিশ

      অনলাইন ডেস্ক
      ৪ জুলাই, ২০২৫ ১৯:৪৬
      অনলাইন ডেস্ক
      যার নির্দেশে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে উল্লাস করে পুলিশ

      ৫ আগস্ট চানখাঁরপুলে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে নির্বিচারে গুলি চালায় পুলিশ। ঘটনাস্থলে উপস্থিত রমনা জোনের সাবেক এডিসির নির্দেশে পুলিশ একের পর এক গুলি চালিয়ে আন্দোলনকারীদের হত্যা করে। গুলিতে শহীদ হন আন্দোলনকারীরা। 

      হত্যার পর পুলিশ সদস্যরা উচ্চৈঃস্বরে বলেন- ‘গুলি লাগছে, লাগছে’ ‘শেষ’ ‘মরছে, মরছে’ বলে মৃত্যু নিশ্চিতের পর উল্লাস করেন। এদিন চানখাঁরপুল এলাকায় শহীদ হন শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ মাহদি হাসান জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া। এ মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্রে গুলি করে হত্যার ভয়াবহ সব তথ্য উঠে এসেছে। মামলায় কনস্টেবল অজয় ঘোষকে অন্যতম সাক্ষী করা হয়েছে।

      জানা গেছে, সেদিন ছাত্র-জনতার মিছিল আটকাতে চানখাঁরপুল এলাকায় পুলিশ ব্যারিকেড দেয়। তখন চাইনিজ রাইফেল হাতে অন্যদের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছিলেন কনস্টেবল অজয় ঘোষ। ঊর্ধ্বতনের নির্দেশ সত্ত্বেও তিনি অপ্রয়োজনে গুলি চালাতে অস্বীকার করেন। এতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশের রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ্ আলম আখতারুল ইসলাম কনস্টেবল অজয় ঘোষকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন এবং হুমকি দেন। এরপরও কনস্টেবল অজয় ঘোষ আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি না করলে, তার কাছ থেকে চাইনিজ রাইফেলটি কেড়ে নেন আখতারুল। তিনি সেই রাইফেল কনস্টেবল সুজন হোসেনের হাতে দিয়ে তাকে গুলির নির্দেশ দেন। তারপর কনস্টেবল সুজন হোসেন সেই রাইফেল দিয়ে কখনো শুয়ে, কখনো বসে, কখনো দাঁড়িয়ে একের পর এক গুলি করে আন্দোলনকারীদের হত্যা করে। একই ভাবে আখতারুল ইসলাম অন্যান্য পুলিশ সদস্যদেরকেও হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণের নির্দেশ দেন।

      বৃহস্পতিবার এই মামলার চার আসামিকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি চেয়ে (ডিসচার্জ) পৃথক আবেদনের ওপর উভয়পক্ষের শুনানি হয়। শুনানি শেষে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশের জন্য ১৪ জুলাই তারিখ ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশ দেন। 

      ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন-বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

      জানতে চাইলে প্রসিকিউটর বিএম সুলতান মাহমুদ যুগান্তরকে বলেন, ৫ আগস্ট চানখাঁরপুল এলাকায় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য কনস্টেবল অজয় ঘোষ তার হাতে চাইনিজ রাইফেল দিয়ে অপ্রয়োজনে গুলি করতে অস্বীকার করেন। তার হাতে থাকা রাইফেলটি পুলিশের রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ্ আলম আখতারুল ইসলাম কনস্টেবল সুজন হোসেনকে দেন। সেই রাইফেল দিয়ে গুলি করে আন্দোলনকারীদের হত্যা করে সুজন। এই মামলায় অজয় ঘোষকে সাক্ষী করা হয়েছে। তিনি বলেন, একইভাবে আখতারুল ইসলাম অন্যান্য পুলিশ সদস্যদেরকেও হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণ করার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন।

      আনুষ্ঠানিক অভিযোগে (ফরমাল চার্জ) উঠে এসেছে সেদিনের মানবতাবিরোধী অপরাধের বর্ণনা। এতে বলা হয়, ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার অভিমুখে ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির শান্তিপূর্ণ মিছিল ছিল। বৈষম্যবিরোধী নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার অভিমুখে ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির শান্তিপূর্ণ মিছিল প্রতিহত করতে রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় ব্যারিকেড দেয় পুলিশ। দুপুর অনুমান আড়াইটার দিকে কনস্টেবল সুজন হোসেন, কনস্টেবল ইমাজ হোসেন ইমন ও কনস্টেবল মো. নাসিরুল ইসলাম প্রাণঘাতী চাইনিজ রাইফেল দিয়ে সুনির্দিষ্টভাবে নিরস্ত্র নিরীহ শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থানরত আন্দোলনকারীদের ওপর বিনা প্ররোচনায় গুলি করে হত্যা করে।

      তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানের নির্দেশে মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করতে গিয়ে ৬ জনকে হত্যা করেন আসামিরা। চানখাঁরপুলে ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালেরও ‘সম্পৃক্ততা’ রয়েছে। যেহেতু তাদের বিরুদ্ধে সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটির তদন্ত চলছে, সেজন্য এই মামলায় তাদের আসামি করা হয়নি। তবে নির্দেশদাতা ও পরিকল্পনায় যে তাদের ভূমিকা আছে, সেটার বর্ণনা এই চার্জশিটে রয়েছে।

      এতে আরও বলা হয়, আন্দোলন দমন করতে ব্যবহার করা হয় আগ্নেয়াস্ত্র, এপিসি কার, হেলিকপ্টার, ড্রোন ও বিপুল পরিমাণ বুলেট। পুলিশের এই অভিযানে নিহত হন শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ মাহদী হাসান জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া। পলাতক আসামি হাবিবুর রহমানসহ অন্য অভিযুক্তরা সেদিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং অধীনস্তদের গুলি চালানোর নির্দেশ দেন। তাদের সহযোগিতা ও নির্দেশেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। 

      এ মামলায় আট আসামির মধ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ্ আলম মো. আখতারুল ইসলাম ও রমনা অঞ্চলের সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুল পলাতক। মামলার অপর চার আসামি গ্রেফতার আছেন। 

      তারা হলেন শাহবাগ থানার সাবেক পরিদর্শক মো. আরশাদ হোসেন, সাবেক কনস্টেবল মো. সুজন হোসেন, ইমাজ হোসেন ইমন ও মো. নাসিরুল ইসলাম।

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        আল-জাজিরার প্রতিবেদন

        বাংলাদেশে ‘এক কিডনির গ্রাম’,

        অনলাইন ডেস্ক
        ৪ জুলাই, ২০২৫ ১৯:৩৩
        অনলাইন ডেস্ক
        বাংলাদেশে ‘এক কিডনির গ্রাম’,

        বাংলাদেশের জয়পুরহাট জেলার কালাই উপজেলার বাইগুনি গ্রাম। নিজের অসম্পূর্ণ ইটের বাড়ির সামনে বসে আছেন ৪৫ বছর বয়সী সফিরুদ্দিন। পেটের নিক্সের অংশে ডান পাশটা চাপলে এখনও ব্যথা অনুভব করেন তিনি। পরিবারকে অনটন থেকে মুক্ত করতে এবং তিন সন্তানের জন্য একটি বাড়ি তৈরি করতে ২০২৪ সালে নিজের একটি কিডনি বিক্রি করে দেন ভারতের এক ব্যক্তির কাছে। বিনিময়ে তিনি পান সাড়ে ৩ লাখ টাকা।

        কিন্তু সেই টাকা অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। বাড়ির নির্মাণকাজ থেমে আছে। আর শরীরের এই অসহ্য ব্যথা প্রতিনিয়ত মনে করিয়ে দেয়—সেই সিদ্ধান্তের মূল্য কতটা চড়া ছিল।

        সফিরুদ্দিন এখন একটি হিমাগারে দিনমজুর হিসেবে কাজ করেন। ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়া শরীর নিয়ে দিন পার করছেন কষ্টে। নিয়মিত কাজে অংশ নেওয়াটাও হয়ে উঠছে দুঃসাধ্য। তিনি বলেন, ‘আমি আমার স্ত্রী আর সন্তানদের জন্যই সব করেছি।’ 

        শুরুতে ভয় থাকলেও দালালের কথায় পরে রাজি হয়ে যান তিনি। ভিসা, ফ্লাইট, হাসপাতাল সংক্রান্ত সব কাগজপত্রই ঠিক করে দেয় তারা। মেডিকেল ভিসায় ভারতে যাওয়ার সময় পাসপোর্ট ছিল নিজেরই, কিন্তু হাসপাতালের কাগজপত্রে তাকে রোগীর আত্মীয় হিসেবে দেখানো হয়। এমনকি, ভুয়া আইডি, নকল জন্মসনদ বা নোটারি সার্টিফিকেটও বানানো হয়। অথচ যাকে কিডনি দিয়েছেন, তিনি কে—সেটাও জানেন না সফিরুদ্দিন।

        ভারতের আইন অনুযায়ী, শুধুমাত্র নিকটাত্মীয়দের মধ্যে কিডনি প্রতিস্থাপন করা বৈধ। তবে সরকারি অনুমোদন থাকলে অন্য কেউ দান করতেও পারেন। কিন্তু দালালরা এসব আইন পাশ কাটিয়ে ভুয়া পরিবারিক সম্পর্ক তৈরি করে, এমনকি কখনও কখনও ভুয়া ডিএনএ রিপোর্টও বানিয়ে দেয়। 

        মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অঙ্গসংগঠন ‘অর্গান ট্রান্সপ্লান্টেশন টাস্কফোর্স’-এর সদস্য মনির মোনিরুজ্জামান জানান, ‘প্রতারণার নিয়মটা মোটামুটি একই—নাম বদল, ভুয়া নোটারি সার্টিফিকেট, আত্মীয় প্রমাণের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্রের জাল কপি ইত্যাদি।’

        বাইগুনি গ্রামে সফিরুদ্দিনের অভিজ্ঞতা আলাদা কিছু নয়। প্রায় ছয় হাজার মানুষের এই গ্রামে এত বেশি মানুষ কিডনি বিক্রি করেছেন যে জায়গাটিকে অনেকে বলেন ‘এক কিডনির গ্রাম’। ২০২৩ সালে ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নাল গ্লোবাল হেলথে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, কালাই উপজেলায় প্রতি ৩৫ জন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মধ্যে একজন কিডনি বিক্রি করেছেন। বেশিরভাগ বিক্রেতাই ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়সী পুরুষ, যারা দারিদ্র্যের কারণে এই পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন। কেউবা ঋণের বোঝা, মাদকাসক্তি কিংবা জুয়ার আসক্তি থেকেও এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

        সফিরুদ্দিন জানান, অপারেশনের পর তার পাসপোর্ট, প্রেসক্রিপশন কিছুই ফেরত দেয়নি দালালরা। এমনকি ওষুধটুকুও জোটেনি। অপারেশনের পরে পর্যাপ্ত চিকিৎসা বা পর্যবেক্ষণ ছাড়াই তাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এমন অনেক সময় দালালরা কিডনি বিক্রেতাদের কাগজপত্র কেড়ে নিয়ে কোনো প্রমাণ রাখে না, যাতে তাদের কোনো চিকিৎসা দাবি বা অভিযোগ করাও সম্ভব না হয়।

        এই অঙ্গগুলো মূলত বিক্রি হয় ভারতের ধনী রোগীদের কাছে, যারা বৈধ প্রক্রিয়ায় কিডনি প্রতিস্থাপনের অপেক্ষায় থাকতে চান না। ভারতে ২০২৩ সালে মাত্র ১৩,৬০০টি কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল, অথচ বছরে প্রায় ২ লাখ মানুষ শেষ ধাপের কিডনি রোগে আক্রান্ত হন।

        ব্র্যাকের অভিবাসন প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, ‘কিছু মানুষ জানাশোনা সত্ত্বেও বিক্রি করেন, তবে অনেকেই প্রতারিত হন।’ 

        এমনকি কেউ কেউ কিডনি বিক্রির টাকাও পুরোপুরি পান না। যেমন, মোহাম্মদ সাজল (ছদ্মনাম) ২০২২ সালে দিল্লির ভেঙ্কটেশ্বর হাসপাতালে নিজের কিডনি বিক্রি করেন ১০ লাখ টাকা চুক্তিতে, কিন্তু তিনি পান মাত্র সাড়ে ৩ লাখ টাকা। প্রতারিত হয়ে পরে তিনিও এই চক্রে যুক্ত হন, বাংলাদেশ থেকে কিডনি বিক্রেতা খুঁজে বের করে ভারতে পাঠাতে থাকেন।  টাকা ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্ব হওয়ায় কিছুদিন পর তিনি এ চক্র থেকে বেরিয়ে আসেন। এখন ঢাকায় রাইড শেয়ারিং ড্রাইভার হিসেবে কাজ করেন তিনি, কিন্তু সেই অতীতের ক্ষত তাকে আজও তাড়িয়ে ফেরে।

        অন্যদিকে যেসব হাসপাতাল এসব অবৈধ প্রতিস্থাপন করে, তাদের বিরুদ্ধে ভারত বা বাংলাদেশ দুই দেশেরই কোনো সমন্বিত তথ্য বা ব্যবস্থা নেই বলে জানান ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কনসুলার বিভাগের মহাপরিচালক শাহ মুহাম্মদ তানভির মনসুর। ভারতের হাসপাতালগুলো মাঝেমধ্যে দায় এড়িয়ে চলে এই বলে যে, কাগজপত্র যাচাই করে তবেই অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।

        তবে মনিরুজ্জামান বলেন, অনেক হাসপাতালই জেনে-বুঝেই জাল কাগজ গ্রহণ করে কারণ ‘অধিক কিডনি প্রতিস্থাপন মানে অধিক আয়’। ভারতের হাসপাতালগুলো বছরে কয়েক হাজার বিদেশি রোগীকে চিকিৎসা দেয়, যা দেশটির ৭.৬ বিলিয়ন ডলারের মেডিকেল ট্যুরিজম শিল্পের অংশ।

        ২০১৯ সালে ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কিডনি চক্র নিয়ে তদন্তের পর কিছু চিকিৎসক ও হাসপাতালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়। ২০২৪ সালে দিল্লিতে ড. বিজয়া রাজাকুমারিকে গ্রেপ্তার করা হয়, যিনি ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ১৫ জন বাংলাদেশির কিডনি প্রতিস্থাপন করেন। তবে এই তদন্তগুলো এতটাই বিচ্ছিন্ন যে পুরো ব্যবস্থায় বড় কোনো পরিবর্তন আনা যায়নি।

        দালাল মিজানুর রহমান জানান, প্রতিটি কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্টে খরচ হয় প্রায় ২৫ থেকে ৩৫ লাখ টাকা। কিন্তু বিক্রেতারা পান মাত্র ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা। বাকি টাকা দালাল, কাগজপত্র তৈরি করা কর্মকর্তা, চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট অনেকের পকেটে যায়। কখনও কখনও কাজের প্রলোভন দেখিয়েও মানুষকে কিডনি বিক্রির ফাঁদে ফেলা হয়। অনেকেই কাজের সন্ধানে ভারতে গিয়ে সেখানে অপারেশনের পর ফেলে রাখা হন।

        ভারতের কিডনি ওয়ারিয়ার্স ফাউন্ডেশনের প্রধান বাসুন্ধরা রঘুবংশ বলেন, ‘আইন থাকলেও বাস্তবতা হলো, এটা এক কালোবাজারে পরিণত হয়েছে। যেহেতু চাহিদা থেমে নেই, সেহেতু এ ব্যবসাও চলছেই।’ তিনি মনে করেন, অঙ্গ দান পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব না হলে একটি সুশৃঙ্খল ও মানবিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলাই হতে পারে একমাত্র সমাধান। যেখানে কিডনি বিক্রেতাদের জন্য বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্য পরীক্ষা, অস্ত্রোপচারের পর দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা এবং আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

        আর বাইগুনি গ্রামে, সফিরুদ্দিন এখনো অর্ধনির্মিত ঘরের বারান্দায় বসে ভাবেন, কবে শেষ হবে তার স্বপ্নের ঘর। তিনি ভেবেছিলেন, এই পথ হয়তো পরিবারকে একটু স্বস্তি এনে দেবে। কিন্তু এখন তিনি একজন অসুস্থ বাবা, যার পাশে দাঁড়ানোর কেউ নেই। তার কণ্ঠে শুধু তিক্ততা—‘তারা কিডনি নিলো আর আমাকে ফেলে চলে গেল।’

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য
          সর্বশেষ সংবাদ
            সর্বাধিক পঠিত