ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

রাজনীতিতে যোগ দেবেন কিনা, জানালেন প্রেস সচিব

অনলাইন ডেস্ক
২ জুলাই, ২০২৫ ১৫:১০
অনলাইন ডেস্ক
রাজনীতিতে যোগ দেবেন কিনা, জানালেন প্রেস সচিব

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। গণ-অভ্যুত্থানের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান হাসিনা।এর তিন দিন পর ৮ আগস্ট দায়িত্ব নেয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হন শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রেস সচিব হিসেবে দায়িত্ব পান সাংবাদিক শফিকুল আলম, ওই সময় যিনি আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপির বাংলাদেশ ব্যুরো প্রধান ছিলেন। শফিকুল আলম দুই দশক ধরে এএফপিতে কাজ করেছেন।

সরকারের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন ১০ মাস হলো। এরমধ্যে নিজের অর্জন ও কাজ করতে গিয়ে নানান অভিজ্ঞতার কথা সামাজিক মাধ্যমে তুলে ধরেছেন তিনি। 

এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (২ জুলাই) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট দেন প্রেস সচিব। সেখানে তিনি জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের পরবর্তীতে কোনো রাজনৈতিক দলে তিনি যোগ দেবেন না, বরং সাংবাদিকতা ও লেখালেখির জীবনেই ফিরে যেতে চান।

প্রেস সচিব বলেন, “আমার কিছু বন্ধু বলেছেন আমি নাকি কোনো বড় রাজনৈতিক দলে বা সদ্য গঠিত একটি দলে যোগ দিতে যাচ্ছি। কিন্তু সোজা কথায় বলি— আমি কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি আসক্ত নই। একজন এমপি বা রাজনৈতিক ‘বিগ শট’ হয়ে যে ধরনের জীবনযাপন করতে হয়, তাতে আমার কোনো আগ্রহ নেই।”

তিনি আরও বলেন, ‘সিঙ্গাপুর বা ইউরোপের মতো দেশে রাজনৈতিক নেতৃত্বে ভালো আর্থিক সুবিধা থাকে। কিন্তু আমাদের দেশে রাজনীতি করে ভালো থাকা মানেই দুর্নীতির পথে যাওয়া। আমি সে পথে হাঁটতে চাই না।’

প্রেস সচিব জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব শেষ হলে তিনি সাংবাদিকতা ও লেখালেখির জগতে পূর্ণভাবে ফিরে আসতে চান।

তার ভাষায়, “আমার কিছু বই লেখার পরিকল্পনা আছে। আমি চাইলে সারা জীবন শুধু জুলাই বিপ্লব নিয়েই লিখে যেতে পারি। আমি জীবনে এত স্বতঃস্ফূর্ত, সাহসী ও ব্যাপক রাজনৈতিক সংগ্রাম আর দেখিনি। রবার্ট কেরো যেমন তার জীবন উৎসর্গ করেছেন লিন্ডন জনসনের ওপর লেখালেখিতে, আমিও তেমনি ‘জুলাই বিপ্লব’ নিয়ে কাজ করে যেতে পারি। যদিও কেউ কেউ ‘বিপ্লব’ শব্দটা পছন্দ করেন না।”

 

শফিকুল আলম লেখেন, আমার জীবনের শেষের দিকে নতুন রূপান্তরের পর কি আমি নিরাপদ থাকব? গত কয়েক মাসে আওয়ামী লীগের কিছু কর্মীর কাছ থেকে হুমকি পেয়েছি। তবে এগুলো হয়তো তাদের হতাশার বহিঃপ্রকাশ। যারা দেশের মানুষের কাছে জনপ্রিয়তার শেষ আশ্রয়টুকুও হারিয়েছে।

সবশেষে প্রেস সচিব বলেন, আমার পূর্ণ বিশ্বাস আছে সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর। তিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন এবং যার কাছে আমরা ফিরে যাব। আমি আমার অন্তর্বর্তীকালীন জীবনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    জুলাই ঘোষণাপত্র দেবে অন্তর্বর্তী সরকার, কোনো দল বা ব্যক্তি নয় : জুলাই ঐক্য

    অনলাইন ডেস্ক
    ১ জুলাই, ২০২৫ ২১:৫৩
    অনলাইন ডেস্ক
    জুলাই ঘোষণাপত্র দেবে অন্তর্বর্তী সরকার, কোনো দল বা ব্যক্তি নয় : জুলাই ঐক্য
    জাতীয় জাদুঘরের সামনে ‘মার্চ ফর জুলাই রিভাইভস’ কর্মসূচি পালন করে জুলাই ঐক্য। ছবি : সংগৃহীত

    জুলাই ঘোষণাপত্র এবং সনদ সরকারকে দিতে হবে। কোনো দল বা ব্যক্তি এখন আর জুলাই ঘোষণাপত্র দেওয়ার এখতিয়ার রাখে না বলে মন্তব্য করেছে গণঅভ্যুত্থানের ঐক্যবদ্ধ শক্তির প্ল্যাটফর্ম জুলাই ঐক্য।

    মঙ্গলবার (০১ জুলাই) দুপুর ১২টায় জাতীয় জাদুঘরের সামনে ‘মার্চ ফর জুলাই রিভাইভস’ কর্মসূচি শেষে এ মন্তব্য করেন সংগঠনটির নেতারা।

    জুলাই ঐক্যের সংগঠক এবি জুবায়ের বলেন, ১১ মাসেও আমরা জুলাই সনদ পাইনি। কোনো একক দল জুলাই সনদ দেওয়ার এখতিয়ার নাই। এই সরকারকেই জুলাই সনদ ও ঘোষণাপত্র দিতে হবে। সরকার যদি ব্যর্থ হয় তাহলে উচিত হবে দ্রুত নির্বাচন দিয়ে ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়া। তা না হলে জুলাইয়ের ছাত্রজনতা আদায় করে নিবে। কোনো ব্যক্তি বা দল যদি জুলাই ঘোষণাপত্র দিতে চায় তাহলে ছাত্র-জনতা তা কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করবে।

    জুলাই ঐক্যের সংগঠক মুসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, আমরা অনেক অপেক্ষা করেছি। অবিলম্বে জুলাই সনদ ও ঘোষণাপত্র দিতে হবে। জুলাই যোদ্ধাদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে হবে। জুলাই ঘোষণাপত্র না হলে ৫০ বছর পর জুলাইয়ের এই আন্দোলনকে সন্ত্রাসী বলে ঘোষণা দেওয়া হবে। তাই সরকারকে বলব অবিলম্বে কালক্ষেপণ না করে জুলাই ঘোষণাপত্র দিন।

    জুলাই ঐক্যের সংগঠক ইসরাফিল ফরাজী বলেন, ১১ মাসে সরকার ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। দুজন ছাত্র উপদেষ্টা তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা অবস্থায়ও গণমাধ্যমে কোনো সংস্কার হয়নি। সচিবালয় থেকে শুরু করে সরকারের কোনো জায়গায় সংস্কার হয়নি। আজ এনাআরবি থেকে শুরু করে প্রতিটি স্থানে বিশৃঙ্খলা তৈরি করে রেখেছে ফ্যাসিবাদের দোসররা। ৩২ সাংবাদিকের নামে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় মামলা হয়েছে। অথচ সরকার সে সকল কথিত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কেনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। হয় তাদের বিচার করুন অথবা তাদের দায়মুক্তি দিন। অন্যথায় ছাত্র-জনতাকে নিয়ে প্রতিটি সেক্টর থেকে ফ্যাসিবাদ মুক্ত করা হবে।

    কর্মসূচি শেষে নতুন বাংলাদেশের বর্ষপূর্তি উদযাপন উপলক্ষে কর্মসূচি ঘোষণা করেন জুলাই ঐক্যের সংগঠক মুসাদ্দেক আলী ঐবনে মোহাম্মদ।

    কর্মসূচি :

    ০১। ১ জুলাই : সকাল ১০.৪৫ মি. ফ্যাসিবাদমুক্ত গণমাধ্যম, গণহত্যাকারী ভারতীয় প্রক্সি হাসিনার বিচার, জুলাই সনদ ও ঘোষণাপত্রের দাবিতে ‘মার্চ ফর জুলাই রিভাইভস’ (প্রেস ক্লাব থেকে শাহবাগে পদযাত্রা)

    ০২। জুলাইয়ের স্পিরিট ধারণ করা সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও রাজনৈতিক প্রেশার গ্রুপের জুলাই ঐক্যের সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্যে ০২-০৯ জুলাই দেশব্যাপী অনলাইন ও সরাসরি গণসংযোগ।

    ০৩। ১০ জুলাই : সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত প্রতিনিধি সম্মেলন।

    ০৪। ১১ জুলাই : শহীদ পরিবার ও আহতদের সঙ্গে সাক্ষাৎ।

    ০৫। ১৫ জুলাই : রাত সাড়ে ৭টায় প্রতীকী কফিন মিছিল। (ঝিগাতলা পিলখানা গেইট- কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার)

    ০৬। ১৬ জুলাই : শহীদদের স্মরণে সারা দেশে দোয়া ও কবর জিয়ারত।

    ০৭। ১৭ - ৩২ জুলাই (১ আগস্ট) : দেশব্যাপী জুলাইয়ের শপথ।

    ০৮। ৩৩ জুলাই (২ আগস্ট) : দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে জুলাইয়ের গণশপথ (কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে)।

    ০৯। ৩৪ জুলাই (৩ আগস্ট) : জুলাইয়ের তথ্যচিত্র প্রকাশ।

    ১০। ৩৫ জুলাই (৪ অগস্ট) : জুলাইয়ের ভিডিও শেয়ার।

    ১১। ৩৬ জুলাই (৫ আগস্ট) : গণঅভ্যুত্থান ও নতুন বাংলাদেশ দিবস উদযাপন।

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      বাংলাদেশ থেকে দক্ষ কর্মী নিতে চায় জাপানি কোম্পানিগুলো

      অনলাইন ডেস্ক
      ১ জুলাই, ২০২৫ ২০:৫৩
      অনলাইন ডেস্ক
      বাংলাদেশ থেকে দক্ষ কর্মী নিতে চায় জাপানি কোম্পানিগুলো

      জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী সাইতামা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

      সোমবার (৩০ জুন) সাইতামা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিতে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। টোকিওর বাংলাদেশ দূতাবাস এ তথ্য জানায়।

      বৈঠকে রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে সম্ভাবনাময় সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং বাণিজ্য, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন খাতে সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।

      চেম্বারের প্রেসিডেন্ট কোজি মোচিদার নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে বাণিজ্য ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং জাপানি কোম্পানিগুলোতে দক্ষ বাংলাদেশি জনশক্তি নিয়োগে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন।

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        ফেব্রুয়ারি-এপ্রিলকে লক্ষ্য রেখে জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে কমিশন: সিইসি

        অনলাইন ডেস্ক
        ১ জুলাই, ২০২৫ ১৭:৫১
        অনলাইন ডেস্ক
        ফেব্রুয়ারি-এপ্রিলকে লক্ষ্য রেখে জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে কমিশন: সিইসি

        আগামী ফেব্রুয়ারি-এপ্রিল মাসকে লক্ষ্য রেখে নির্বাচন কমিশন জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। 

        মঙ্গলবার (১ জুলাই) নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই তথ্য জানান তিনি।

        এ সময় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সম্প্রতি সিইসির করা একান্ত বৈঠকের বিষয়ে জানতে চান সংবাদিকরা। 

        জবাবে সিইসি বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতির বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা জানতে চেয়েছেন। আমরা বলেছি, নির্বাচন কমিশন `ফুল গিয়ারে' প্রস্তুতি নিচ্ছে।

        তিনি আরও বলেন, প্রধান উপদেষ্টা চান ফ্রি, ফেয়ার এবং ক্রেডিবল নির্বাচন। উনি সুষ্ঠু ভোট করতে অনেক আন্তরিক। তবে জাতীয় নির্বাচনের নির্দিষ্ট তারিখের বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। নির্বাচনের তারিখ নির্ধারিত হলে নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমেই আপনারা জানতে পারবেন।

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য

          জুলাই সনদ কবে?

          অনলাইন ডেস্ক
          ১ জুলাই, ২০২৫ ১৬:১১
          অনলাইন ডেস্ক
          জুলাই সনদ কবে?

          দফায় দফায় মতবিনিময় করেও বহুল আলোচিত ‘জুলাই সনদ’ চূড়ান্ত করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করলেও বেশকিছু প্রস্তাবের সঙ্গে একমত হতে পারেনি রাজনৈতিক দলগুলো। ফলে জুলাই সনদও চূড়ান্ত হয়নি। এদিকে, দেখতে দেখতে আজ থেকেই শুরু হলো অভ্যুত্থান-পূর্ব আন্দোলনের ‘রক্তাক্ত জুলাই’ মাস। এখন প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে জুলাই সনদ কত দূর? এরই মধ্যে জুলাই সনদ নিয়ে আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন খোদ ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ। বিএনপির নীতিনির্ধারকরা বলছেন, তারা সনদের বিষয়ে যথেষ্ট আগ্রহী। তবে সনদের বিষয়বস্তু দেখেই তাতে সই করবেন।

          জামায়াতে ইসলামীসহ অন্য দলগুলো বলছে, জুলাই সনদের আলোকেই হতে হবে আগামী নির্বাচন। এমনকি বাংলাদেশ কোন পথে যাবে, তার রূপরেখাও থাকবে ওই সনদে। অন্যদিকে অভ্যুত্থানকারী শিক্ষার্থীদের দল এনসিপি বলছে, নব্বইয়ের তিন জোটের রূপরেখার মতো জুলাই সনদের পরিণতি দেখতে চায় না তারা। সরকার জুলাই সনদের ঘোষণাপত্র দিতে ব্যর্থ হলে এনসিপি নিজেরাই ওই ঘোষণাপত্র প্রকাশ করার কথা জানিয়েছে। এ ছাড়া জুলাই যোদ্ধা সংসদ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, সরকার প্রতিশ্রুতি পালন না করলে সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবে তারা। অর্থাৎ জুলাই ঘোষণাপত্র নিয়ে এখন পর্যন্ত একমত হতে পারেনি রাজনৈতিক সংগঠনগুলো। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থান মনে রাখতে এই সনদের বিকল্প নেই।

          ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট টানা ১৬ বছর রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। এরপর রাষ্ট্র সংস্কারের মাধ্যমে একটি নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের দাবি ওঠে সর্বত্র। ছাত্র-শিক্ষক, পেশাজীবীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাদের দাবি পূরণের দায়িত্ব দেয় অন্তর্বর্তী সরকারকে। স্বপ্নদ্রষ্টা হয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেন শান্তিতে নোবলেজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এর পরই শুরু হয় রাষ্ট্রযন্ত্র সংস্কারের নানা কার্যক্রম। অন্যদিকে, সবার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা আসে, ‘জুলাই সনদ’ তৈরি ও বাস্তবায়নের। এজন্য সময়সীমাও জানিয়ে দেওয়া হয়।

          গত ১০ মে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধের পর অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল দুজন ছাত্র উপদেষ্টাকে সঙ্গে নিয়ে জাতির উদ্দেশে ঘোষণা দেন যে, ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ প্রকাশ করা হবে। তবে কথা রাখতে পারেনি সরকার। ঘোষিত সময়সীমা শেষ হয় গত ২৫ জুন। ফের বাড়ানো হয় সময়। প্রধান উপদেষ্টাসহ সরকারের দায়িত্বশীলরা জানিয়েছেন, জুলাই সনদ ঘোষণা করা হবে জুলাই মাসের মধ্যেই। এজন্য জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের মৃত্যুবার্ষিকীর দিনটি বেছে নেওয়া হয়। কিন্তু দফায় দফায় সংলাপ করেও এখন পর্যন্ত সংবিধানের মূলনীতিসহ মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতেই রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য হয়নি। ফলে অনেকটা হতাশই হয়ে পড়েছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।

          এদিকে, গত ৬ জুন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে জুলাই মাসেই একটি ‘জুলাই সনদ’ প্রস্তুত করে জাতির সামনে উপস্থাপনের আশাবাদ প্রকাশ করেছেন। তিনি সেদিন বলেন, জুলাই সনদ হলো একটি প্রতিশ্রুতি। একটা জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র নির্মাণের জন্য সংস্কার কমিশন যে প্রস্তাবগুলো দিয়েছে, সেগুলোর মধ্য থেকে রাজনৈতিক দলগুলো যে কয়টিতে একমত হয়েছে, তার তালিকা থাকবে এই সনদে। জুলাই সনদে স্বাক্ষর করে তারা জাতির কাছে সেগুলো বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করবে।

          গণঅভ্যুত্থানের ফলে রাষ্ট্র পরিচালনায়র দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকার সম্ভাব্য সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে ১১টি বিষয়ে কমিশন গঠন করেছিল, প্রথমে ছয়টি এবং পরে আরও পাঁচটি। এরই মধ্যে কমিশনগুলোর সুপারিশ বা প্রস্তাবনা জমাও পড়েছে। প্রথম পর্যায়ের ছয়টি কমিশনের সুপারিশমালা নিয়ে তখনই জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া শুরু হয়। সুপারিশগুলোর কোথায় রাজনৈতিক দলগুলো সবাই একমত কিংবা ভিন্নমত আলোচনার মাধ্যমে মতভেদ দূর করার চেষ্টা চলছে এখন। যে ছয়টি কমিশনের সুপারিশমালা নিয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে, সেগুলো হচ্ছে—সংবিধান, নির্বাচন কমিশন, জনপ্রশাসন, বিচার বিভাগ, পুলিশ এবং দুর্নীতি দমন। অন্য যে পাঁচটি কমিশন কাজ করেছে, সেগুলো হচ্ছে—গণমাধ্যম, শ্রম খাত, নারী, স্বাস্থ্য খাত ও স্থানীয় সরকার সংস্কারবিষয়ক।

          ওদিকে ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ গত রোববার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমির দোয়েল হলে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দ্বিতীয় দফার সপ্তম দিনের আলোচনার শুরুতে বলেন, আমরা স্বপ্ন দেখেছিলাম, আবু সাঈদের শাহাদাতবার্ষিকীতে সবাই মিলে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করব। কিন্তু বাস্তবে সেটা কতটা সম্ভব হবে, তা নির্ভর করছে রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর। আমরা খানিকটা শঙ্কিত যে, সে জায়গায় আমরা যাব না। এর আগে গত সপ্তাহের বৈঠকে রাজনৈতিক দলগুলোকে ছাড় দিয়ে হলেও বিষয়গুলোতে ঐকমত্যে পৌঁছানোর আহ্বান জানান অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

          জুলাই সনদ কত দূর: ঐকমত্য কমিশনের চলমান সংলাপে দেখা যায়, কয়েক দফা সংলাপ, পর্যালোচনা ও মতবিনিময়ের পরও সংস্কার সংক্রান্ত কমিশনের ১৬৬টি প্রস্তাবের অন্তত অর্ধেক বিষয়েই এখনো রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য তৈরি হয়নি। বিশেষ করে মৌলিক ও কাঠামোগত সংস্কারের প্রশ্নে বিরোধ স্পষ্ট। কমিশনের জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল (এনসিসি) গঠন, সংসদের উচ্চকক্ষে আসন বণ্টনের পদ্ধতি, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমা, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া, সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন প্রক্রিয়া, এমনকি সংবিধানের মূলনীতির প্রায় প্রতিটি মৌলিক ইস্যুতেই রাজনৈতিক দলগুলো ভিন্ন অবস্থানে। কেউ বলছে নির্বাচন ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ছাড়া কোনো সংস্কারই টেকসই নয়, কেউ আবার ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনের আগেই কোনো আলোচনাকে অর্থহীন বলছে। এমন বাস্তবতায় প্রশ্ন উঠেছে—রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতৈক্য না হলে কীভাবে বাস্তবায়ন হবে ‘জুলাই সনদ’? নাকি মতবিরোধ, সংশয় আর রাজনৈতিক টানাপোড়েনের ভেতরেই হারিয়ে যাবে প্রতিশ্রুত পরিবর্তনের স্বপ্ন?

          ঐকমত্য কমিশনের গত দুই সপ্তাহের সংলাপ পর্যালোচনায় জানা যায়, প্রস্তাবিত দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের উচ্চকক্ষে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে আসন বণ্টন এবং প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা কমিয়ে একটি জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল (এনসিসি) গঠনের প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে বিএনপি। দলটির সঙ্গে এই অবস্থানে একমত রয়েছে সমমনা এলডিপি, এনডিএম, বাংলাদেশ লেবার পার্টি, ১২ দলীয় জোট এবং ১১ দলীয় জোট। তারা এ দুটি প্রস্তাবের বিরুদ্ধেই নিজেদের অনড় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে।

          দলগুলোর মতে, এই প্রস্তাবগুলো ভবিষ্যতে রাজনৈতিক ভারসাম্য ও ক্ষমতার কাঠামো নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। এনসিসি গঠনের মাধ্যমে নির্বাহী শাখার কর্তৃত্ব হ্রাস পাবে এবং ক্ষমতার ভারসাম্য বিঘ্নিত হতে পারে বলে মনে করছে বিএনপি। অন্যদিকে এনসিপি মনে করছে, যারা এনসিসি গঠনের বিরোধিতা করছেন, তারা মূলত ফ্যাসিবাদী কাঠামো থেকে বেরিয়ে আসতে চান না। এ ছাড়াও সংলাপে অংশ নেওয়া ৩০টি দল ও জোট শুধু ৭০নং অনুচ্ছেদ শিথিলের বিষয়ে শর্তসাপেক্ষে একমত হয়েছে। তবে এখানেও দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য স্পষ্ট। জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অর্থবিল ও আস্থা প্রস্তাবের বাইরে সংবিধান সংশোধনের সময়েও সংসদ সদস্যরা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দিতে পারবেন না। বিপরীতে বিএনপি বলেছে, যুদ্ধাবস্থাতেও সংসদ সদস্যদের দলীয় অবস্থানের বাইরে গিয়ে মতপ্রকাশের সুযোগ থাকা উচিত নয়।

          ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে এরই মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে মতানৈক্য দেখা দিয়েছে। বৈঠকে উঠে এসেছে ক্ষোভ, আসনবিন্যাস নিয়ে আপত্তি, কোনো কোনো দলের অতিরিক্ত সময় পাওয়া এবং একাধিক নেতাকে কথা বলার সুযোগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে অসন্তোষ। নিবন্ধনহীন দলের অংশগ্রহণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে কয়েকটি পক্ষ। গত ১৩ জুন লন্ডনে ঐকমত্য কমিশনের সভাপতি ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মধ্যে বৈঠকের পর নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে দেওয়া যৌথ বিবৃতির প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামী এ সংলাপ বয়কট করে। যদিও পরদিন দলটি সংলাপে ফিরে আসে; কিন্তু জামায়াতের ফিরে আসার দিনই দলটির প্রতি কমিশনের পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে সিপিবি, বাসদ, গণফোরাম এবং এলডিপির একাংশ সংলাপ বয়কট করে। পরে তারা আবার আলোচনায় যোগ দেয়। এই টানাপোড়েন, পরস্পরবিরোধী অবস্থান ও আস্থার সংকট রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ‘জুলাই সনদ’ তৈরির প্রক্রিয়াকে অনিশ্চয়তার পথে ঠেলে দিচ্ছে।

          বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের বলেন, সংস্কার জুলাইয়ের মধ্যেই শেষ করতে হবে। তার পর জুলাই সনদ হবে, সেখানে আমরা সাইন করব। কিন্তু অন্য কিছু বিষয়ে দলগুলো ঐকমত্য না হওয়ায় সেটি চূড়ান্ত হচ্ছে না।

          ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান কালবেলাকে বলেন, আমরা তো শুরু থেকেই জুলাই সনদের বিষয়ে বলে আসছি। কারণ জুলাই অভ্যুত্থান ঘিরে একটা প্রত্যাশা ছিল। জুলাই সনদ এজন্য হওয়া দরকার যে, সামনে যারাই ক্ষমতায় আসুক যাতে বিগত দিনের মতো একদলীয় শাসন কায়েম না করে। বিগত দিনের মতো স্বৈরাচারী ভূমিকা পালন না করে। সঠিকভাবে যাতে দেশ চলে।

          আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, জুলাই সনদ হলো জুলাই অভ্যুত্থানের একটা অঙ্গীকার। যা না করাটা হবে বিশাল আত্মত্যাগের সঙ্গে প্রতারণা। সব রাজনৈতিক দল বিশেষ করে বিএনপি সহযোগিতা করলে এই সনদ তৈরি সহজ হবে বলে আমি মনে করি।

          বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা বলেন, ঐকমত্য কমিশনের ভূমিকা ও মনোভাবে মনে হচ্ছে, সংস্কারের প্রশ্নে সবাইকেই শতভাগ ঐকমত্য পোষণ করতে হবে। তারা ভিন্ন কৌশলে অনেক কিছু চাপিয়ে দিতে বা এই আলোচনাটাকে প্রলম্বিত করতে চাচ্ছে। তারপরও আমরা আশাবাদী নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমরা জুলাইয়ের মধ্যেই জুলাই সনদে সবাই স্বাক্ষর করতে পারব।

          এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, এখনো পর্যন্ত জুলাই ঘোষণাপত্র তৈরিতে সরকারের কোনো উদ্যোগ নেই। সরকার জুলাই মাসের মধ্যে জুলাই ঘোষণাপত্র না করে তবে ৩ আগস্ট এনসিপি সমমনাদের নিয়ে জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করবে।

          এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, জুলাই মাসের মধ্যে জুলাই ঘোষণাপত্র অবশ্যই দিতে হবে। অন্যথায় সেটি জনগণ মেনে নেবে না।

          সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. সাহাবুল হক কালবেলাকে বলেন, আমরা ভেবেছিলাম সরকার দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে দ্রুততার সঙ্গে জুলাই সনদ ঘোষণা করবে; কিন্তু সেটি দৃশ্যমান নয়। কেননা, আগামী দিনের রাজনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য জুলাই সনদ অনেক গুরুত্বপূর্ণ। শাসনতান্ত্রিক কাঠামোয় কোন কোন বিষয় পরিবর্তন আনা হবে, সেটাই উল্লেখ থাকবে জুলাই সনদে, আর সেদিকেই এখন সবার দৃষ্টি।

          প্রাসঙ্গিক
            মন্তব্য
            সর্বশেষ সংবাদ
              সর্বাধিক পঠিত