ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

সরকারি চাকরি অধ্যাদেশ সংশোধন হচ্ছে

চাকরি থেকে অপসারণের পরিবর্তে যুক্ত হচ্ছে বাধ্যতামূলক অবসর

অনলাইন ডেস্ক
২৮ জুন, ২০২৫ ২০:৪
অনলাইন ডেস্ক
চাকরি থেকে অপসারণের পরিবর্তে যুক্ত হচ্ছে বাধ্যতামূলক অবসর

অবশেষে সরকারি চাকরি অধ্যাদেশ সংশোধন হচ্ছে। কর্মচারী সংগঠনগুলো অধ্যাদেশ বাতিলের আন্দোলন করলেও এখন তারা সংশোধনে সম্মত হয়েছে বলে জানা গেছে। উপদেষ্টা কমিটি ও কর্মচারী নেতারা ১৯৭৯ সালে সরকারি চাকরির (বিশেষ বিধান) যেসব ধারা সরকারি চাকরি অধ্যাদেশ, ২০২৫ এ ঢুকেছে- তা বাদ দেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছেন।

সরকারি চাকরি অধ্যাদেশে অনানুগত্যের যে ধারা নতুন করে যুক্ত হয়েছে- তা বাদ দিতে উভয়পক্ষ সম্মত হয়েছে। চাকরি থেকে অপসারণের যে ধারা অধ্যাদেশে ঢুকেছে তা-ও বাদ দেওয়ার বিষয়ে উভয়পক্ষ একমত হয়েছে। তবে বাধ্যতামূলক অবসরের ধারা যুক্ত হয়েছে। 

সরকারি চাকরি অধ্যাদেশ পর্যালোচনায় আইন উদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলকে আহ্বায়ক করে গঠন করা উপদেষ্টা কমিটি ও কর্মচারী নেতাদের মধ্যে গত ২৫ জুন অনুষ্ঠিত বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, গত ২৫ মে জারি করা সরকারি চাকরি অধ্যাদেশের ৩৭ দফা (ক) ধারায় বলা হয়েছে, কোনো কর্মচারী এমন কোনো কাজে লিপ্ত হওয়া যা অনানুগত্যের শামিল, যা অন্য কোনো কর্মচারীর মধ্যে অনানুগত্য সৃষ্টি করে, শৃঙ্খলা বিঘ্ন করে এবং কর্তব্য সম্পাদনে বাধার সৃষ্টি করে, তাহলে ইহা একটি গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এই ধারার বিষয়ে গত ২৫ জুন অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা কমিটি এবং কর্মচারী নেতাদের বৈঠকে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত ধারাটি বাতিল হবে। ‘তদস্থলে যদি কোনো কর্মচারী ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বৈধ আদেশ অমান্য করে, আইনসঙ্গত কারণ ব্যতিরেকে সরকারের কোনো আদেশ, পরিপত্র এবং নির্দেশনা অমান্য করেন, সরকারি আদেশ, পরিপত্র এবং নির্দেশনা বাস্তবায়নে বাধাগ্রস্ত করেন এবং এসব কাজে সরকারি কর্মচারীকে প্ররোচিত করে’- এই শব্দগুলো প্রতিস্থাপন হবে।

সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, গত ২৫ মে জারি করা সরকারি চাকরি অধ্যাদেশের ৩৭ (খ) উপধারায় বলা হয়েছে- যদি কোনো কর্মচারী অন্যান্য কর্মচারীর সঙ্গে সমবেতভাবে বা এককভাবে, ছুটি ব্যতিত বা কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া নিজ কর্ম থেকে অনুপস্থিত থাকেন বা বিরত থাকেন বা কর্তব্য সম্পাদনে ব্যর্থ হন, তাহলে ইহা একটি গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এই ধারাটির বিষয়ে গত ২৫ জুন উপদেষ্টা কমিটি ও কর্মচারী নেতাদের বৈঠকে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়েছে ধারাটি বাতিল করে তদস্থলে- দফা (ক) এ উল্লিখিত কার্যক্রম সম্পাদনের উদ্দেশ্যে ছুটি বা যুক্তিসঙ্গত কোনো কারণ ছাড়া অন্যান্য কর্মচারীর সঙ্গে সমবেতভাবে নিজ কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন বা বিরত থাকেন শব্দগুলো প্রতিস্থাপন হবে।

সরকারি চাকরি অধ্যাদেশের ৩৭ দফা(গ)-এ বলা হয়েছে, যদি কোনো কর্মচারী অন্য যেকোনো কর্মচারীকে তাহার কর্ম হইতে অনুপস্থিত থাকিতে বা বিরত থাকিতে বা তাহার কর্তব্য পালন না করার জন্য উসকানি দেন বা প্ররোচিত করেন, তাহলে ইহা একটি গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ ধারার বিষয়ে গত ২৫ জুন অনুষ্ঠিত বৈঠকে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়েছে ধারাটি বাতিল করা হবে। তদস্থলে যেকোনো কর্মচারীকে তাহার কর্মে উপস্থিত হইতে বা কর্তব্য সম্পাদনে বাধাগ্রস্ত করেন শব্দগুলো প্রতিস্থাপন হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, উল্লিখিত অপরাধগুলোর যেকোনো একটি যদি কোনো কর্মচারী করেন, তাহলে ২৫ মে জারি করা সরকারি চাকরি অধ্যাদেশে তিন ধরনের শাস্তির বিধান উল্লেখ রয়েছে। যেমন- নিম্নপদ বা নিম্ন বেতন গ্রেডে অবনমিতকরণ, চাকরি থেকে অপসারণ এবং চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে। শাস্তির বিষয়ে উপদেষ্টা কমিটি এবং কর্মচারী নেতাদের বৈঠকে আগের একটি শাস্তি বাতিল করে নতুন একটি শাস্তি প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। অর্থাৎ চাকরি থেকে অপসারণের পরিবর্তে বাধ্যতামূলক অবসরের ধারাটি যুক্ত হবে। 

সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, ২৫ জুন জারি করা অধ্যাদেশে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ ছিল না। তদন্তের ব্যবস্থা ছিল না। উপদেষ্টা কমিটি ও কর্মচারী নেতাদের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুসারে কোনো কর্মচারী উল্লিখিত অপরাধ করলে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি তিন দিন অর্থাৎ ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত করে সরকারের কাছে প্রতিবেদন দেবে। তদন্ত কমিটির কাছে অভিযুক্ত কর্মচারী আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাবেন। উল্লিখিত অপরাধ যদি কোনো কর্মজীবী নারী করে বসেন, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার পর তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি অভিযোগ তদন্ত করবে। কমিটিতে আবশ্যিকভাবে একজন নারী সদস্য থাকবেন। ফলে নারী কর্মজীবীর নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ৭ দিনের মধ্যে অভিযোগ গঠন, ১৪ দিনের মধ্যে শুনানি সম্পন্ন হবে। অধ্যাদেশে ৭ দিনের মধ্যে শুনানি শেষ করার বিধান রয়েছে। ৩০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতির কাছে আপিলের সুযোগ আগের মতো বহাল থাকবে। তবে আরোপিত দণ্ডের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা যাবে। উচ্চ আদালতে আপিল রাষ্ট্রপতির রায়ের বিরুদ্ধে নয়, বরং যে কর্তৃপক্ষ শাস্তি দিয়েছে ওই কর্তৃপক্ষের রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিলের সুযোগ থাকবে। রাষ্ট্রপতির কাছে যা করা হবে- তা হচ্ছে মূলত শাস্তি মওকুফের আবেদন করা।

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    দেশে করোনায় আরও দুইজনের মৃত্যু

    অনলাইন ডেস্ক
    ২৮ জুন, ২০২৫ ১৯:৩৬
    অনলাইন ডেস্ক
    দেশে করোনায় আরও দুইজনের মৃত্যু

    শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত (একদিনে) করোনায় আক্রান্ত আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে নতুন করে সাতজনের শরীরে করোনাভাইরাস পাওয়া গেছে। এ নিয়ে এ বছর এখন পর্যন্ত মোট ৫৩৫ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, মৃত্যু হয়েছে ২২ জনের।

    শনিবার (২৮ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ১৮১ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ৭ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। একইসঙ্গে ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এ বছর এখন পর্যন্ত মোট ২২ জনের মৃত্যু হলো। এর মাধ্যমে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশে মোট মৃতের সংখ্যা (২০২০ থেকে) বেড়ে ২৯ হাজার ৫২১ জনে দাঁড়িয়েছে।

    সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ২ জনের মধ্যে একজনের বাড়ি সিলেটে, অপরজন চট্টগ্রামের বাসিন্দা।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশে করোনাভাইরাস মহামারির শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ০৪ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ৩ দশমিক ৮৭ শতাংশ।

    প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে প্রথম ৩ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ওই বছরের ১৮ মার্চ দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়। ২০২১ সালের ৫ ও ১০ আগস্ট দু-দিন করোনায় সর্বাধিক ২৬৪ জন করে মারা যান। ২০২২ সাল থেকে করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা কমে আসতে থাকে। এক পর্যায়ে এটি শূণ্যে নেমে আসে।

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      একদিনে আরো ২৬২ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত, মৃত্যু ১

      অনলাইন ডেস্ক
      ২৮ জুন, ২০২৫ ১৯:২০
      অনলাইন ডেস্ক
      একদিনে আরো ২৬২ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত, মৃত্যু ১

      শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত (একদিনে) ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরো ২৬২ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৪১ জন আক্রান্ত হয়েছেন বরিশাল বিভাগে। এই সময়ে ডেঙ্গুতে আরো একজনের মৃত্যু হয়েছে।

      শনিবার (২৮ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

      বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বরিশাল বিভাগে ১৪১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৪০ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে) ১৮ জন, ঢাকা উত্তর সিটিতে ৮ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ৪০ জন, খুলনা বিভাগে ৬ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৬ জন এবং সিলেট বিভাগে ৩ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

      এদিকে গত একদিনে সারা দেশে ২১৮ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর ছাড়পত্র পেয়েছেন ৮ হাজার ৩৮০ জন।

      স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সবমিলিয়ে ৯ হাজার ৪৮৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বছরের এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ৪১ জনের।

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ

        অনলাইন ডেস্ক
        ২৮ জুন, ২০২৫ ১৩:৩৬
        অনলাইন ডেস্ক
        যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ

        যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক চুক্তি চূড়ান্ত করতে আলোচনা অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার সর্বশেষ দুদেশের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

        শনিবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়। 

        এতে বলা হয়, আলোচনায় বাংলাদেশের পক্ষে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে দেশটির সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডন লিঞ্চ নেতৃত্ব দেন।  

        জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সম্মেলনের (ইউএনসিটিএডি) সাবেক বাণিজ্য নীতি প্রধান রহমান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আমাদের আলোচনায় খুব ভালো অগ্রগতি হয়েছে। উভয় পক্ষই চুক্তিটি দ্রুত চূড়ান্ত করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

        জানা গেছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাড়তি ৩৭ শতাংশ শুল্ক থেকে রেহাই পেতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করতে যাচ্ছে সরকার। ইতোমধ্যে চুক্তির একটি খসড়া বাংলাদেশে পাঠিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। খসড়ার ওপর মতামত ওয়াশিংটনে পাঠিয়েছে ঢাকা। এর আলোকে বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে প্রধান উপদেষ্টার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির (ইউএসটিআর) বৈঠকটি হয়। দরকষাকষির পর ২৯ জুন রোববার উভয় দেশের মধ্যে আরও একটি বৈঠকের পর চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে। এ চুক্তির আওতায় বাড়তি শুল্ক কমানো সম্ভব বলে মনে করছে সরকার।

        ২ এপ্রিল বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বিভিন্ন দেশের ওপর পাল্টা শুল্কারোপ করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বাংলাদেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক ঘোষণা করা হয় ৩৭ শতাংশ। তবে ৯ এপ্রিল পাল্টা শুল্ক তিন মাসের জন্য স্থগিত করেন প্রেসিডেন্ট। এর মেয়াদ শেষ হবে আগামী ৮ জুলাই। যদিও সব দেশের ওপর ন্যূনতম ১০ শতাংশ বাড়তি শুল্ক কার্যকর করা হয়েছে। 

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য

          প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসের জন্মদিন আজ

          অনলাইন ডেস্ক
          ২৮ জুন, ২০২৫ ১৩:৩২
          অনলাইন ডেস্ক
          প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসের জন্মদিন আজ
          অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস

          অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ৮৫তম জন্মদিন আজ (শনিবার)। তিনি ১৯৪০ সালের ২৮ জুন চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী উপজেলার শিকারপুর ইউনিয়নের বাথুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। এই দিনে ড. ইউনূসকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন দেশ-বিদেশের বহু ব্যক্তি, সংগঠন ও শুভানুধ্যায়ী।

          ড. মুহাম্মদ ইউনূস ১৯৪০ সালের ২৮ জুন চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী উপজেলার শিকারপুর ইউনিয়নের বাথুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা দুলা মিঞা সওদাগর ছিলেন একজন মহুরী এবং মাতা সুফিয়া খাতুন গৃহিণী। তার সহধর্মিণী অধ্যাপক দিনা আফরোজ, দাম্পত্য জীবনে তাদের দুই কন্যা সন্তান রয়েছে।

          ড. ইউনূস এবং তার প্রতিষ্ঠিত ‘গ্রামীণ ব্যাংক’ যৌথভাবে ২০০৬ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হন। তিনি প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এই সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেন। নোবেল ছাড়াও তিনি বিশ্ব খাদ্য পুরস্কারসহ বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন, যা তাকে বিশ্বমঞ্চে একজন মানবকল্যাণে নিবেদিত সামাজিক উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠা দিয়েছে।

          মুহাম্মদ ইউনূস পড়াশোনায় ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। চট্টগ্রামের কলিজিয়েট স্কুল থেকে মেট্রিকুলেশন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রায় ৩৯ হাজার পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৬তম স্থান অর্জন করেন। এরপর তিনি চট্টগ্রাম কলেজে অধ্যয়ন করেন এবং পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৬১ সালে তিনি চট্টগ্রাম কলেজে অর্থনীতির প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন এবং পরবর্তীতে অধ্যাপক পদে উন্নীত হন।

          ১৯৬৫ সালে তিনি ফুলব্রাইট স্কলারশিপে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার সুযোগ লাভ করেন। সেখানে তিনি ভ্যান্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রাম ইন ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট-এ অধ্যয়ন করে ১৯৭১ সালে অর্থনীতিতে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মিডল টেনেসি স্টেট ইউনিভার্সিটিতে অর্থনীতির সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন।

          মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়, ১৯৭১ সালে ড. ইউনূস আমেরিকায় অবস্থানকালেই একটি নাগরিক কমিটি গঠন করেন। তিনি অন্যান্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মিলে ‘বাংলাদেশ ইনফরমেশন সেন্টার’ পরিচালনার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত ও সমর্থন গড়ে তোলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

          দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৪ সালে দুর্ভিক্ষের প্রেক্ষাপটে ড. মুহাম্মদ ইউনূস দারিদ্র্য ও সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করেন। সেই সময় তিনি গ্রামীণ অর্থনৈতিক প্রকল্প চালু করেন, যার মূল লক্ষ্য ছিল দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে আর্থিক সহায়তা প্রদান। ১৯৭৬ সালে চট্টগ্রামের পার্শ্ববর্তী জোবরা গ্রামে পরীক্ষামূলকভাবে ‘গ্রামীণ ব্যাংক প্রকল্প’ চালু করেন তিনি। পরবর্তীতে ১৯৮৩ সালে এই প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে ‘গ্রামীণ ব্যাংক’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

          গ্রামীণ ব্যাংক মডেল আজ বাংলাদেশের অধিকাংশ গ্রামে বিস্তৃত, এবং এটি বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি পেয়েছে। বাংলাদেশের বাইরে আমেরিকাসহ প্রায় ৪০টি দেশে এই মডেল অনুসরণ করা হচ্ছে। দারিদ্র্য বিমোচন ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে তার অবদানের জন্য ড. ইউনূস দেশি-বিদেশি অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। ১৯৮৭ সালে তিনি স্বাধীনতা পুরস্কার পান। এ ছাড়া তিনি সেই অল্পসংখ্যক ব্যক্তির একজন যিনি নোবেল শান্তি পুরস্কার, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম এবং কংগ্রেশনাল গোল্ড মেডেল- এই তিনটি মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক সম্মাননা অর্জন করেছেন।

          গত বছরের জুলাই মাসে কোটা সংস্কার আন্দোলনের মাধ্যমে ছাত্র-জনতা রাজপথে সক্রিয় হয়। এই আন্দোলন ক্রমেই সরকারের পদত্যাগের একদফা দাবিতে রূপ নেয়। ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা পরে ভারতে আশ্রয় নেন। এর পরপরই, ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়, যেখানে তিনি এখন প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করছেন।

          প্রাসঙ্গিক
            মন্তব্য
            সর্বশেষ সংবাদ
              সর্বাধিক পঠিত