শিরোনাম
৯০ বাংলাদেশির তালিকা হস্তান্তর
ইরান থেকে বাংলাদেশিদের ফেরাতে সহযোগিতা করতে রাজি পাকিস্তান
ইরান-ইসরায়েল সংঘাত অব্যাহত থাকায় তেহরান থেকে বাংলাদেশিদের পাকিস্তান হয়ে দেশে ফেরাতে চায় সরকার। বাংলাদেশের প্রস্তাবে নীতিগত সম্মতি আছে পাকিস্তানের। দেশটি ইরান থেকে বাংলাদেশিদের ফেরাতে সহযোগিতা করতে চায়। তবে এখনো বাংলাদেশিদের ফেরার প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি ইসলামাবাদ।
তেহরান-ইসলামাবাদের নির্ভরযোগ্য কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, তেহরানের বাংলাদেশ দূতাবাস সেখানকার পাকিস্তান দূতাবাসে কূটনৈতিক পত্র দিয়েছে। সেই পত্রে তেহরান থেকে পাকিস্তান হয়ে বাংলাদেশিদের দেশে ফেরানোসহ প্রাথমিকভাবে ৯০ বাংলাদেশির তালিকা হস্তান্তর করা হয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশিদের ফেরানো নিয়ে পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে যাচ্ছেন ইসলামাবাদে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. ইকবাল হোসাইন খান। বুধবার (১৮ জুন) পাকিস্তানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে তিনি এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন।
ইসলামাবাদের একটি নির্ভরযোগ্য কূটনৈতিক সূত্র জানায়, তেহরান থেকে বাংলাদেশিদের ফেরানোর প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে পাকিস্তান। এজন্য ইরান থেকে ফিরতে চাওয়া বাংলাদেশিদের অনলাইনে ভিসার জন্য আবেদন করতে বলা হয়েছে। তবে চলমান পরিস্থিতিতে ইন্টারনেট সংযোগ সীমিত থাকায় এটি সম্ভব নয় বলে পাকিস্তানকে জানানো হয়েছে।
তেহরানের একটি সূত্র জানায়, প্রাথমিকভাবে তেহরান থেকে বাংলাদেশিদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ায় গুরুত্ব দিচ্ছে দূতাবাস। তেহরানের বাংলাদেশ দূতাবাস সেখানকার পাকিস্তান দূতাবাসে প্রাথমিকভাবে ৯০ বাংলাদেশির একটি তালিকা হস্তান্তর করেছে। পাশাপাশি তেহরান থেকে বাংলাদেশিদের সীমান্ত অতিক্রম করাতে ইরান সরকারের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। এ অবস্থায় তেহরানে থাকা বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন অন্তর্বর্তী সরকার। ইরানের রাজধানী তেহরানে অবস্থানরত প্রায় ৪০০ বাংলাদেশির মধ্যে ১০০ জনের মতো দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তাদের প্রায় অর্ধেকের মতো তেহরান থেকে অনেক দূরে সরে গেছেন। ইরানের বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত, অন্য কূটনীতিকসহ দূতাবাসের কর্মকর্তা এবং তাদের পরিবারের সদস্য মিলিয়ে ৪০ জন নিরাপদ স্থানে সরে গেছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, তেহরান থেকে বাংলাদেশিদের স্থলপথে ইরান-পাকিস্তান সীমান্তে নেওয়া হতে পারে। এরপর পাকিস্তান থেকে তাদের করাচি-দুবাই হয়ে ঢাকায় ফেরত আনার পরিকল্পনা করছে সরকার।
ইসলামাবাদের বাংলাদেশ হাইকমিশনের একটি সূত্র জানায়, তেহরান থেকে পাকিস্তান সীমান্তে বাংলাদেশিদের প্রবেশ করতে পাকিস্তান সরকার ভিসার জন্য অনলাইনে আবেদন করতে বলেছে। কিন্তু ইন্টারনেট সীমিত থাকায় অনলাইনে ভিসার আবেদন কঠিন হওয়ায় বিকল্প ব্যবস্থায় বা বিশেষ কোনো বিবেচনার অনুরোধ করা হয়েছে। নীতিগতভাবে পাকিস্তান বাংলাদেশিদের ফেরাতে রাজি হয়েছে। ফেরানোর প্রক্রিয়া নিয়ে আলাপ-আলোচনা করছে দেশটি। ইরান থেকে পাকিস্তানে প্রবেশের পর বাংলাদেশিরা দেশটিতে বেশি সময় অবস্থান করবেন না বলে পাকিস্তান সরকারকে নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে।
ইসলামাবাদের বাংলাদেশ হাইকমিশনের এক কর্মকর্তা বলেন, পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চলছে। তারা এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি। ইরানে ইন্টারনেট সীমিত থাকায় আমাদের দিক থেকে অনলাইনে ভিসার আবেদন না করে সরাসরি পাসপোর্ট সাবমিট বা অন-অ্যারাইভাল বা বিশেষ বিবেচনায় পাকিস্তানে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। যাদের কাগজপত্র আছে তারা আসতে পারবে, সমস্যা হবে না। বৈধ ভিসাধারী এবং কূটনৈতিক পাসপোর্টধারীদের আগে আনা হবে। তবে অবৈধদের নিয়ে ঝামেলা হতে পারে। নীতিগত সিদ্ধান্ত– পাকিস্তান সহযোগিতা করবে, কাজ চলছে।
চলমান পরিস্থিতিতে ইরানের আকাশপথ বন্ধ রয়েছে। ইরান থেকে বাংলাদেশিদের ফেরাতে হলে স্থলপথে ফেরাতে হবে। এক্ষেত্রে পাকিস্তান ও তুরস্ক হয়ে বাংলাদেশিদের ফেরানোর সুযোগ রয়েছে। এটি করতে গেলে প্রথমে ইরান সীমান্ত পার হয়ে পাকিস্তান বা তুরস্কে যেতে হবে। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় তুরস্ক সহযোগিতার হাত বাড়বে কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
তবে বাংলাদেশিদের পাকিস্তান হয়ে ফেরানো সম্ভব। সেক্ষেত্রে স্থলপথে পাকিস্তানে যেতে প্রথমে ইরান সীমান্ত অতিক্রম করতে হবে। এরপর বেলুচিস্তান সীমান্ত পার হয়ে পাকিস্তানে প্রবেশ করতে হবে। পাকিস্তান থেকে ঢাকায় সরাসরি ফ্লাইট না থাকায় করাচি-দুবাই হয়ে বাংলাদেশিদের ঢাকায় ফেরাতে চায় সরকার।
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান সংঘাতের মধ্যে গত রোববার (১৫ জুন) নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে তুরবত, পাঞ্জগুর ও গোয়াদার জেলায় ইরানের সঙ্গে থাকা সব সীমান্ত ও ক্রসিং পয়েন্ট অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে পাকিস্তানের প্রাদেশিক সরকার।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানে বাংলাদেশ দূতাবাসে রাষ্ট্রদূত, দুজন কর্মকর্তা, পাঁচজন কর্মচারী এবং তাদের পরিবারসহ প্রায় ৪০ জন রয়েছেন। রেডিও তেহরানে আটজন বাংলাদেশি ও তাদের পরিবারসহ রয়েছেন ২৭ জন। তেহরানে শিক্ষার্থী রয়েছেন ১০ থেকে ১২ জন। পেশাজীবী আছেন প্রায় ১০ জন। এ ছাড়া ২৮ জন বাংলাদেশির গত ১৩ জুন দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা আটকা পড়েছেন। সবমিলিয়ে তেহরানে ৪০০ বাংলাদেশি রয়েছেন।
ইরানের অন্যান্য জায়গায় প্রায় ৬০০ বাংলাদেশি আছেন, তারা ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে সে দেশে বসবাস করছেন। সেখানে বিয়ে করে তারা স্থায়ী হয়েছেন। এর বাইরে আরও প্রায় ৮০০ বাংলাদেশি ১০ বছরের বেশি সময় ধরে অবৈধভাবে ইরানে অবস্থান করে বিভিন্ন সেক্টরে চাকরিতে নিয়োজিত আছেন। ২০০-এর মতো শিক্ষার্থী বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছেন। এ ছাড়া মানবপাচারের ট্রানজিট দেশ হিসেবে ইরানে সবসময় ৩০০ থেকে ৫০০ বাংলাদেশি অবস্থান করেন অন্য দেশে পাচার হওয়ার অপেক্ষায়।
সিটিজেন পারসেপশনের সার্ভে
এক বছরে বেশি দুর্নীতি বিআরটিএ অফিসে, দ্বিতীয় পুলিশে
সরকারি সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে ঘুষ-দুর্নীতি বিষয়ে গত ১ বছরে যে সব নাগরিক সরকারি সেবা গ্রহণ করেছেন তাদের মধ্যে ৩১.৬৭% নাগরিক ঘুষ-দুর্নীতির শিকার হয়েছেন। এরমধ্যে সেবা নিতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতির শিকার হতে হয়েছে বিআরটিএ অফিসে, এক্ষেত্রে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তথা পুলিশ বাহিনী।
আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রকাশিত সিটিজেন পারসেপশন সার্ভেতে (সিপিএস) এসব তথ্য উঠে এসেছে।
জরিপে বলা হচ্ছে, সরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে নাগরিকদের সর্বাধিক ঘুষ-দুর্নীতির শিকার হওয়া প্রতিষ্ঠানসমূহ যথাক্রমে বিআরটিএ (৬৩.২৯%), আইন প্রয়োগকারী সংস্থা (৬১.৯৪%), পাসপোর্ট অফিস (৫৭.৪৫%) ও ভূমি রেজিস্ট্রি অফিস (৫৪.৯২%)।
৮৪.৮১% নাগরিক সন্ধ্যার পর নিজ এলাকার আশপাশে একা চলাফেরা করতে নিরাপদ বোধ করেন। রাজনৈতিক প্রভাব বিষয়ের ক্ষেত্রে মাত্র ২৭.২৪% নাগরিক মনে করেন, তারা দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সরকারের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে মতামত প্রকাশ করতে পারেন।
এখন থেকে ৫ আগস্ট সরকারি ছুটি থাকবে : ফারুকী
এখন থেকে ৫ আগস্ট সরকারি ছুটি পালন করা হবে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান দিবস হিসেবে এদিন ছুটি থাকবে। আগামী সোমবার এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই কথা জানান।
তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ঘিরে আগামী ১ জুলাই থেকে কর্মসূচি শুরু হবে, চলবে ৫ আগস্ট পর্যন্ত। ১৪ জুলাই থেকে মূল আয়োজন চলবে। আন্দোলনে যেভাবে দেশ ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল, সেভাবে কর্মসূচি করা হবে।
এখন থেকে ৫ আগস্ট সরকারি ছুটি থাকবে জানিয়ে ফারুকী বলেন, আগামী রবিবার উপদেষ্টা পরিষদ বৈঠকে ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলন দিবস জাতীয় দিবস হিসেবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
গুমের শিকার ব্যক্তিদের সম্ভাব্য ৪ ধরনের পরিণতি হয়েছে : গুম কমিশন সভাপতি
গুমের শিকার ব্যক্তিদের সম্ভাব্য ৪ ধরনের পরিণতি হয়েছে। গুমসংক্রান্ত কমিশন অফ ইনকোয়ারির সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত বিচারক মইনুল ইসলাম চৌধুরী একথা জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তিদের সম্ভাব্য ৪ ধরনের পরিণতি হয়েছে। এগুলো হলো- এক. গুমের শিকার ব্যক্তিকে হত্যা করা। দুই. বিচারের আগেই মিডিয়ার সামনে উপস্থাপন করে জঙ্গি তকমা দিয়ে বাংলাদেশেই বিচারাধীন বা নতুন ফৌজদারি মামলায় গ্রেফতার দেখানো। তিন. তাকে সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাঠিয়ে সে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মাধ্যমে গ্রেফতারের ব্যবস্থা করা। চার. ভাগ্য সুপ্রসন্ন হলে, অল্পসংখ্যক ক্ষেত্রে মামলা না দিয়ে ছেড়ে দেওয়া।
গুম কমিশনের ২য় অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর, দুপুরে রাজধানীর গুলশানে গুম সংক্রান্ত কমিশন অফ ইনকোয়ারির কার্যালয়ে আজ এক সংবাদ সম্মেলনে মইনুল ইসলাম চৌধুরী এ কথা বলেন।
গুম কমিশনের সভাপতি বলেন, বিগত কর্তৃত্ববাদী সরকারের আমলে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি ও ভিন্ন মতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে পদ্ধতিগত দমন নীতির অংশ হিসেবে গুমকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পরেও বহু অপরাধী ও তাদের শুভাকাঙ্ক্ষীরা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকায় অনেক জোরালো প্রমাণ ও নিদর্শন ধ্বংস, অনেক ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক অসহযোগিতা, সাক্ষীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ নানারকম ভীতিকর ও আতঙ্কজনক পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। তবুও বহু ভুক্তভোগী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাদের অভিযোগ ও অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন। তারা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বিস্তারিতভাবে সে কাহিনি তুলে ধরেছেন।
গুম সংক্রান্ত কমিশন অফ ইনকোয়ারির সভাপতি আরো বলেন, বিগত সরকারের শাসনামলে গুম একটি সুশৃঙ্খল ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপে ‘জঙ্গিবাদবিরোধী’ অভিযানের ছায়াতলে ইসলামি উগ্রবাদের হুমকিকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করা, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন ও শাসন দীর্ঘায়িত করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়েছিল। এদের মধ্যে ছিলেন- মেধাবী শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক কর্মী ও সাংবাদিক থেকে সাধারণ জনগণ।
মইনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, এ প্রক্রিয়ায় তারা ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থাকে অস্ত্র বানিয়েছিল। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও নিরাপত্তা বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবাধীন করে এবং নির্যাতন ও গোপন আটকের সংস্কৃতি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে চালু করেছিল। এমনকি সাধারণ নাগরিকদের বেআইনি পন্থায় বারবার ভারতীয় বাহিনীর হাতেও তুলে দেওয়া হয়েছিল।
কমিশন অফ ইনকোয়ারি এ্যাক্ট-এর ধারা ১০ এ(১) ও (২) অনুযায়ী কমিশনে দাখিলকৃত ১৩১টি অভিযোগের বিষয়ে আইন মোতাবেক জিডি রেকর্ড পূর্বক ভিকটিমদের সন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পুলিশ মহাপরিদর্শক বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, গোপন আটক কেন্দ্রের অস্তিত্ব এখন আর অস্বীকার করা যায় না। সকল ক্ষেত্রেই ভুক্তভোগীরা প্রায় একই ধরনের প্রক্রিয়ার শিকার হয়েছেন। পদ্ধতিগত নির্যাতন, সন্ত্রাসী হিসেবে প্রচার, একই ধরনের আইন অনুযায়ী অভিযোগ দায়ের ও একই ধরনের ভাষায় বর্ণনা। বিভিন্ন পটভূমি থেকে আসা ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতার এই সামঞ্জস্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্যকে স্পষ্ট করে।
তিনি বলেন, প্রতিবেদনে ১৯% ফেরত না আসা ১২ জন ভিকটিমের বিষয়ে অগ্রগতি তুলে ধরেছি, যাদের বিষয়ে প্রাথমিকভাবে অনুসন্ধান সম্পন্ন হয়েছে। তাদের গুমের জন্য কারা দায়ী, তা প্রাথমিকভাবে আমরা শনাক্ত করতে পেরেছি। চলমান অনুসন্ধানের স্বার্থে এই মুহূর্তে এর চেয়ে বেশি প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না।
ফিরে না আসা ভিকটিমদের বিষয়ে অপরাধী ও গুমের অপরাধ সংঘটনের স্থানসহ নানাবিধ বিষয়ে তথ্যের ঘাটতি বা পুরোনো কললিস্ট না পাওয়াসহ নানারকম বিলম্বঘটিত প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হলেও কমিশন আন্তরিকতার সঙ্গে অনুসন্ধান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
প্রতিবেদনে কমিশন সন্ত্রাসবিরোধী যে সব মামলায় অপব্যবহার হয়েছে, তা ন্যায় বিচারের মানদণ্ড বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতনের সঙ্গে আলোচনার প্রেক্ষিতে মালয়েশিয়া-ইন্দোনেশিয়ার মতো উপযুক্ত কাউন্টার টেরোরিজম মেথড বের করার জন্য দুটি সুপারিশ করা হয়।
এ সময় গুম সংক্রান্ত কমিশন অফ ইনকোয়ারির সদস্য অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত বিচারক মো. ফরিদ আহমেদ শিবলী, মানবাধিকার কর্মী নূর খান, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কমিশনের সদস্য নাবিলা ইদ্রিস, মানবাধিকার কর্মী ও কমিশনের সদস্য সাজ্জাদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
গুম কমিশনে ২৫৩ জনের অভিযোগ প্রমাণিত: মইনুল ইসলাম
গুম কমিশনে আসা ২৫৩ জনের অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন কমিশনের সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) সকালে গুলশানে সংবাদ সম্মেলনে গুম কমিশনের অবসরপ্রাপ্ত সভাপতি বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী এ কথা জানান।
তিনি বলেন, ১ হাজার ৮৫০টি অভিযোগ বিশ্লেষণের মধ্যে থেকে গুম হওয়া ২৫৩ জনের তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। এতে স্পষ্ট হয় যে, বিগত সরকারের শাসনামলে গুম একটি সুশৃঙ্খল ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপে ‘জঙ্গিবাদবিরোধী’ অভিযানের ছায়াতলে ইসলামি উগ্রবাদের হুমকিকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করা, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন এবং শাসন দীর্ঘায়িত করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়েছে। যার ভুক্তভোগী ছিল মেধাবী শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক কর্মী, সাংবাদিক, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ারসহ বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি পেশাজীবী। এ প্রক্রিয়ায় তারা ফৌজদারি বিচারব্যবস্থাকে অস্ত্র বানিয়েছে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও নিরাপত্তা বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবাধীন করেছে এবং নির্যাতন ও গোপনে আটকের সংস্কৃতি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে চালু করেছে। এমনকি সাধারণ নাগরিককে বেআইনি পন্থায় বারবার ভারতীয় বাহিনীর হাতেও তুলে দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ব্যাপারটা মোটেও এমন নয় যে একটি জঙ্গিবাদ দমন অভিযানে দু-একজন অসাবধানি কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্তৃক কিছু মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। বরং এটি ছিল একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দমনযন্ত্র, যা জঙ্গিবাদবিরোধী প্রচারণাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে।
গুম কমিশনের সভাপতি বলেন, গুম থেকে ফিরে না আসা ১২ জনের বিষয়ে প্রাথমিক অনুসন্ধান সম্পন্ন হয়েছে এবং তাদের গুমের জন্য কারা দায়ী তা প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করতে পেরেছি। চলমান অনুসন্ধানের স্বার্থে এই মুহূর্তে এর চেয়ে বেশি প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না।
মইনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, গুমের সঙ্গে র্যাব সবচেয়ে বেশি জড়িত। এছাড়া বাংলাদেশের গোয়েন্দাদের পাশাপাশি ভারতীয় গোয়েন্দা বাহিনীরাও জড়িত। বাংলাদেশে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভারতীয় যারা জড়িত তাদের বিষয়ে আমরা কিছু করতে পারব না।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য