শিরোনাম
ঐকমত্য কমিশনের সংলাপে যাচ্ছে না জামায়াত
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংলাপে যাচ্ছে না জামায়াতে ইসলামী। লন্ডনে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বৈঠকের পরে যৌথ বিবৃতিতে নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সূচি ঘোষণার পর এ ঘটনা ঘটলো।
আজ মঙ্গলবার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে দ্বিতীয় ধাপের সংলাপের মুলতবি অধিবেশনে সংলাপ শুরু হলেও জামায়াতের কোনো প্রতিনিধিদল যোগ দেয়নি। তবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে দলটির তিন সদস্যের প্রতিনিধিদল এবং এনসিপির তিন সদস্যের প্রতিনিধিদল সংলাপে যোগ দিয়েছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের সেক্রেটারি মতিউর রহমান আকন্দ সমকালকে বলেন, ‘আজ আমরা সংলাপে যাচ্ছি না।’
জামায়াতের একটি সূত্র বলছে, লন্ডনে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বৈঠককে তারা সাধুবাদ জানিয়েছে। কিন্তু যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণার মাধ্যমে তাদের ইগনোর করা হয়েছে, যা দৃষ্টিকটু। নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় দেশে এসে ঘোষণা করলে ভালো হতো বলে মনে করে তারা।
এনটিআরসিএর নিয়োগপ্রত্যাশীদের মিছিল নিয়ন্ত্রণে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ
বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) নিয়োগপ্রত্যাশীরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে মিছিল নিয়ে সচিবালয়ে প্রবেশের চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পাঁচটির বেশি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পুলিশ। তবে আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেডের সামনে অবস্থান ধরে রেখেছেন।
রোববার (১৫ জুন) দুপুর ১টা ২০ মিনিটের দিকে জাতীয় প্রেস ক্লাব এলাকায় এ ঘটনার সূত্রপাত হয়।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ সচিবালয় এবং প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় যে কোনো প্রকার সভা-সমাবেশ, গণজমায়েত, মিছিল ও শোভাযাত্রা ইত্যাদি নিষিদ্ধ করে গত ৮ জুন গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এতদ্বারা সর্বসাধারণের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, জনশৃঙ্খলা এবং প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অর্ডিন্যান্স (অর্ডিন্যান্স নং-III/৭৬) এর ২৯ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে আগামী ৯ জুন (সোমবার) থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ সচিবালয় এবং প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় (হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়, কাকরাইল মসজিদ মোড়, অফিসার্স ক্লাব মোড়, মিন্টু রোড) যেকোনো প্রকার সভা-সমাবেশ, গণজমায়েত, মিছিল ও শোভাযাত্রা ইত্যাদি নিষিদ্ধ করা হলো।
শপথ পড়ানোর দাবিতে চলমান আন্দোলন বিরতিহীনভাবে চলবে: ইশরাক
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র পদে শপথ পড়ানোর দাবিতে চলমান আন্দোলন বিরতিহীনভাবে চলবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন। তবে আন্দোলনের সময় নাগরিক সেবা চালু থাকবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
রোববার (১৫ জুন) সকাল থেকে ইশরাকের অনুসারীরা ডিএসসিসি নগরভবনে একত্রিত হয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন। পরে বেলা ১১টায় নগর ভবনে উপস্থিত হয়ে ইশরাক হোসেন এ ঘোষণা দেন।
ইশরাক হোসেন বলেন, সরকারকে আহ্বান জানাচ্ছি আপনারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করেন। তাহলে অচল অবস্থা কেটে যাবে। এই সমস্যা সুরাহা না করা পর্যন্ত এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। আমাদের এই আন্দোলন চলমান থাকবে। স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা সংবিধান লংঘন করেছেন। আন্দোলন চলমান থাকবে। এখান থেকে ফিরে আসার কোন সুযোগ নেই। এই লড়াই থেকে ফিরে আসার কোন সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টাকে আহ্বান জানাবো, তিনি যেন এই বিষয়টি সরাসরি নিজে তত্ত্বাবধান করে বিষয়টি দেখেন। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমরা নিয়মতান্ত্রিক রাষ্ট্র পরিচালনায় বিশ্বাস করি। এখন আমাদের আন্দোলন যেভাবে চলছে কোন অবস্থাতেই আমরা এখান থেকে ফিরে যেতে পারি না। আদালতের রায় জনগণের রায়কে আপনারা মেনে নিন।
ইশরাক বলেন, প্রধান উপদেষ্টাকে ভুল বুঝানো হয়েছে। শপথ পড়ানো হলে পূর্বের সরকারের অবৈধ নির্বাচন প্রমাণিত হবে। বিএনপি আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান চায়। বিএনপি গণতন্ত্রে বিশ্বাসী।
তিনি বলেন, আমরা যদি এখান থেকে পিছনের দিকে চলে যাই, তাহলে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হবে না। সরকারকে আহ্বান জানাবো আপনারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে এটা নিষ্পত্তি করেন। নইলে ডিএসসিসির এই সংকট চলবেই। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি ডিএসসিসির দৈনন্দিন কার্যক্রম চলবে, জনগণের যেনো ভোগান্তি না হয়। এগুলো আমাদের তত্ত্বাবধানে চলমান থাকবে।
ইশরাক বলেন, ‘জনগণের ভোগান্তি আমরা চাই না। তবে এই গণআন্দোলন চলমান থাকবে। এটা জনগণের দাবি। এমনি এমনি আন্দোলন থেমে যাবে না। কোনোভাবে আন্দোলন থামানোর সুযোগ নেই। বিরতিহীনভাবে আজ থেকে আন্দোলন চলবে।’
ইশরাক হোসেন বলেন, ‘সরকারের প্রতি আহ্বান দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করার। না হলে এ অচলাবস্থা কাটবে না। প্রধান ফটকের তালা খোলা হবে না। তবে জনগণের কাজ চলমান থাকবে।’ এসময় প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করলে অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে বলেও জানান ইশরাক।
ডিএসসিসির মেয়র পদে ইশরাক হোসেনকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার দাবিতে ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল থেকে নগর ভবনে অবস্থান ও বিক্ষোভ করছেন তার সমর্থক বিএনপির নেতা-কর্মীরা।
এদিকে তারা ‘শপথ শপথ শপথ চাই, ইশরাক ভাইয়ের শপথ চাই’; ‘মেয়র নিয়ে তালবাহানা, সহ্য করা হবে না’; ‘চলছে লড়াই চলবে, ইশরাক ভাই লড়বে’; ‘নগর পিতা ইশরাক ভাই, আমরা তোমার ভুলি নাই’ - এমন স্লোগান দিয়ে যাচ্ছে আন্দোলনকারীরা। তাদের স্লোগানে উত্তাল পুরো নগরভবন। তাদের আন্দোলনের ফলে বিরতির আগে ১৫ মে থেকে ৩ জুন পর্যন্ত নগর ভবন থেকে দেওয়া সব নাগরিক সেবা বন্ধ ছিল। ঈদের ছুটির পর আজ থেকে ফের তারা আন্দোলনে যোগ দিয়েছে ইশরাকের অনুসারীরা।
প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচন হয়। সেসময় আওয়ামী লীগের প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপসকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। নির্বাচনে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ফল বাতিল চেয়ে ২০২০ সালের ৩ মার্চ মামলা করেন ইশরাক। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গেল ২৭ মার্চ ঢাকার নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল সেই ফল বাতিল করে অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাককে মেয়র ঘোষণা করে।
এরপর ২৭ এপ্রিল ইশরাককে ডিএসসিসি মেয়র ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু তাকে যেন শপথ পড়ানো না হয় সেজন্য গত ১৪ মে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে মেয়রের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে গত ১৫ মে থেকে আন্দোলনে নামেন ইশরাক সমর্থকরা। তাদের আন্দোলনের কারণে ডিএসসিসি নগর ভবন কার্যত অচল হয়ে পড়ে। কিন্তু আইনি জটিলতার কথা বলে ইশরাকের শপথের আয়োজন থেকে বিরত থাকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। এরপর এ রিট মামলার ওপর কয়েক দফা শুনানির পর তা খারিজ করে আদেশ দেন হাইকোর্টের বেঞ্চ।
দেশে ফিরলেন প্রধান উপদেষ্টা
চার দিনের যুক্তরাজ্য সফর শেষে দেশে ফিরলেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শনিবার (১৪ মে) সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের পাঠানো এ বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগে প্রধান উপদেষ্টা ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইন্সের ফ্লাইটটি শুক্রবার (১৩ জুন) লন্ডনের স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে হিথরো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে।
গত ৯ জুন সোমবার সন্ধ্যায় চার দিনের সরকারি সফরে যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। পরদিন মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৫ মিনিটে লন্ডন হিথ্রো বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি।
বাকিংহাম প্যালেসে ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও রাজা চার্লসের হাত থেকে ‘কিংস চার্লস হারমনি অ্যাওয়ার্ড’ গ্রহণ করতে প্রধান উপদেষ্টা যুক্তরাজ্য গেলেও সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়ে যাওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা আদায়।
চার দিনের সফরে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন অধ্যাপক ইউনূস। সফরের প্রথম দিন মঙ্গলবার কমনওয়েলথ মহাসচিব শার্লি আয়োরকর বচওয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধান উপদেষ্টা। কমনওয়েলথ মহাসচিব শার্লি আয়র্কর বোচওয়ে আগামী বছরের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক সংস্কারে বাংলাদেশকে সহায়তায় আগ্রহ প্রকাশ করেন।
এয়ারবাসের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়াউটার ভ্যান ওয়ার্শ ড. ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সঙ্গে অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে এবং প্রতিষ্ঠানটিকে লাভজনক করে তুলতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। একই দিনে যুক্তরাজ্যের সর্বদলীয় পার্লামেন্টারি গ্রুপের ব্যানারে সংসদ সদস্যদের একটি প্রতিনিধিদল প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
বুধবার ব্রিটিশ পার্লামেন্টে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেন যুক্তরাজ্যের ব্যবসা ও বাণিজ্যমন্ত্রী এবং বোর্ড অব ট্রেডের প্রেসিডেন্ট জনাথন রেনল্ডস। যুক্তরাজ্যের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জনাথন পাওয়েল ড. ইউনূসের সঙ্গে তার হোটেলে সাক্ষাৎ করেন।
এদিন চ্যাথাম হাউজের রয়্যাল ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স আয়োজিত ‘অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে আলাপচারিতা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে অংশ নেন ড. ইউনূস।
কিং চার্লস তৃতীয় হারমনি অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’ সম্মাননা পেয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বৃহস্পতিবার লন্ডনের সেন্ট জেমস প্যালেসে এক অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লসের পক্ষ থেকে এই অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়।
বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকালে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস লন্ডনের সেন্ট জেমস প্যালেসে কিং চার্লস তৃতীয় হারমোনি অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করেন। এদিন সকালে ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে একান্তে বৈঠক করেন তিনি। সেখানে তারা বাংলাদেশের চলমান সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করেন। বিকালে লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টারে যুক্তরাজ্যের হাউস অব কমন্সের স্পিকার স্যার লিন্ডসে হোয়েলের সঙ্গে বৈঠক হয় প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের।
শুক্রবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ‘ওয়ান টু ওয়ান’ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সংস্কার ও গণহত্যার বিচারের অগ্রগতি সাপেক্ষে আগামী রমজানের আগে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের ব্যাপারে একমত হন তারা।
এ ছাড়া আজ লন্ডনে জরিপ জাহাজ এইচএমএস এন্টারপ্রাইজ সম্পর্কে ব্রিফ করার জন্য অ্যাডমিরাল ডেপুটি জেরেমি চার্চার এবং কমোডর হোয়্যালি প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দেখা করেন। তারা বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জন্য কেনা নৌ, সমুদ্রবিজ্ঞান এবং জরিপ জাহাজ এইচএমএস এন্টারপ্রাইজ সম্পর্কে তাকে অবহিত করেন।
এদিন লন্ডনে তার হোটেলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এক ইন্টারেক্টিভ অধিবেশনে যোগ দেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
এছাড়া এই চার দিনের সরকারি সফরে প্রধান উপদেষ্টা যুক্তরাজ্যের হাউস অব কমন্সের স্পিকার ছাড়াও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন এবং বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
ড. ইউনূস-তারেক রহমানের বৈঠকে যেসকল আলোচনা
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বহুল আলোচিত বৈঠকটি শেষ হয়েছে। শুক্রবার (১৩ জুন) লন্ডনের হোটেল ডোরচেস্টারে বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টার দিকে শুরু হয় সাড়ে ৩টার দিকে শেষ হয়।
এ সময় প্রধান উপদেষ্টার এই অবস্থানকে তারেক রহমান স্বাগত জানান এবং দলের পক্ষ থেকে প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানান। প্রধান উপদেষ্টাও তারেক রহমানকে ফলপ্রসূূ আলোচনার জন্য ধন্যবাদ জানান।
বৈঠক শেষে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানান। এতে ব্রিফ করেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
বৈঠকে তারেক রহমান প্রধান উপদেষ্টার কাছে আগামী বছরের রমজানের আগে নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রস্তাব করেন। দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াও মনে করেন ওই সময় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে ভালো হয়।
সব প্রস্তুতি শেষ হলে ২০২৬ সালের পবিত্র রমজানের আগের সপ্তাহেও নির্বাচন আয়োজন করা যেতে পারে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
প্রেস উইং জানায়, তারেক রহমান প্রধান উপদেষ্টার কাছে আগামী বছরের রমজানের আগে নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রস্তাব করেন। দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াও মনে করেন ওই সময় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে ভালো হয়।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, তিনি আগামী বছরের এপ্রিলের প্রথমার্ধের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়েছেন। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা গেলে ২০২৬ সালের রমজান শুরু হওয়ার আগের সপ্তাহেও নির্বাচন আয়োজন করা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে সেই সময়ের মধ্যে সংস্কার ও বিচারের বিষয়ে পর্যাপ্ত অগ্রগতি অর্জন করা প্রয়োজন হবে।
এ সময় প্রধান উপদেষ্টার এই অবস্থানকে তারেক রহমান স্বাগত জানান এবং দলের পক্ষ থেকে প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানান। প্রধান উপদেষ্টাও তারেক রহমানকে ফলপ্রসূূ আলোচনার জন্য ধন্যবাদ জানান।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তারেক রহমানের বহুল আলোচিত বৈঠকটি শুক্রবার (১৩ জুন) লন্ডনের হোটেল ডোরচেস্টারে বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টার দিকে শুরু হয়েছিল।
অন্যদিকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার হাই রিপ্রেজেনটেটিভ খলিলুর রহমান যৌথ বিবৃতির উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, শিগগিরই নির্বাচন কমিশন (ইসি) তারিখ নির্বাচন ঘোষণা করবে।
খলিলুর রহমান বলেন, নির্বাচনের তারিখ নিয়ে আমরা কোনো সমস্যা দেখি না। নির্বাচন নিয়ে দুপক্ষই যৌথ বিবৃতিতে আমরা বলে দিয়েছি। আমরা আশা করব, নির্বাচন কমিশন শিগগিরই তারিখ ঘোষণা করবে।
শেখ হাসিনার হত্যাযজ্ঞ ও তাকে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি নির্বাচনী রূপরেখার সঙ্গে এটা প্রভাব ফেলবে কি না, এমন প্রশ্নে খলিলুর রহমান বলেন, সংস্কার ও বিচার নিয়েও যৌথ বিবৃতিতে বলা আছে। আমরা মোটামুটি কনফিডেন্ট, নির্বচানের আগেই আমরা এর অগ্রগতি দেখতে পাব।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য