শিরোনাম
ভারতীয় গণমাধ্যমে মিথ্যা সংবাদ, কড়া প্রতিক্রিয়া দেখাল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কক্সবাজার থেকে বান্দরবান পর্যন্ত এলাকাকে ‘মিলিটারি অপারেশনস জোন’ হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়েছে এমন সংবাদ ভারতীয় অনলাইন গণমাধ্যম ‘Northeast News’-এ প্রকাশিত খবরকে সরাসরি মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। রোববার (১ জুন) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
আইএসপিআর জানায়, এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বিনষ্টের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। বিশেষ করে প্রতিবেদনে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী বা বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীকে সমর্থন দেয়ার মতো গুরুতর ভিত্তিহীন অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে, যা একেবারেই অসত্য এবং বিদ্বেষমূলক অপপ্রচার।
আইএসপিআরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রতিবেদনে যে ধরনের অসত্য ও প্রমাণবিহীন দাবি তোলা হয়েছে, তা এক ধরনের কল্পনাপ্রসূত ষড়যন্ত্র এবং বাংলাদেশ সম্পর্কে আন্তর্জাতিকভাবে ভুল বার্তা ছড়ানোর অপচেষ্টা।
আইএসপিআর আরও জানিয়েছে, জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তারা সর্বদা পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও কোনো ষড়যন্ত্রের কাছে আপস না করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।
আরও পড়ুন: শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর
প্রতিবেদনে সেনাবাহিনীকে ঘিরে যেভাবে সন্দেহের পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছে, সেনাবাহিনীর মতে তা কোনোভাবেই সাংবাদিকতার মানদণ্ডে পড়ে না। বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত ও ধারাবাহিক কুৎসা রচনার অংশ, যা দেশের জনগণের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি এবং বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অপচেষ্টারই বহিঃপ্রকাশ।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পুনরায় জানিয়ে দিয়েছে-দেশের সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা ও সংবিধান রক্ষায় বাহিনী সর্বদা প্রস্তুত এবং এ ধরনের অপপ্রচারে তারা ভীত কিংবা বিচলিত নয়।
আগামীকাল শুরু হচ্ছে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার সংলাপ
জাতীয় ঐকমত্য কমিশন দ্বিতীয় দফায় রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ শুরু করতে যাচ্ছে। আগামীকাল বিকেল সাড়ে চারটায় রাজধানীর হেয়ার রোডে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস সংলাপের উদ্বোধন করবেন।
আজ ঢাকায় এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘সংস্কার প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত সকল রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এই সংলাপের মধ্যে দিয়ে জুলাই সনদ ঘোষণার চূড়ান্ত পর্যায়ে উপনীত হতে পারবে বলে আশা করছি।’
আজাদ মজুমদার জানান, ধারাবাহিকভাবে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ হবে। আগামীকাল ছাড়াও ঈদের আগে- পরে আরো ২/১ টি সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে।
ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম উপস্থিত ছিলেন।
রায়ের কপি পাওয়ার পর জামায়াত ও ইশরাক ইস্যুতে সিদ্ধান্ত: ইসি সচিব
রায়ের কপি হাতে পাওয়ার পর জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন, প্রতীক ও বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন। এমনটা জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
রোববার (১ জুন) দুপুরে নির্বাচন কমিশন ভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী ও ইশরাকের বিষয়ে আদালতের রায়ের কপি এখনও হাতে পায়নি কমিশন। রায়ের কপি পেলে উচ্চ আদালতের নির্দেশ মত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
প্রসঙ্গত, আজ রোববার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল করে দেয়া হাইকোর্টের রায় বাতিল ঘোষণা করে। পাশাপাশি নিবন্ধন ফিরিয়ে দিতে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশও দেন আদালত। তবে দলটির প্রতীক দাঁড়িপাল্লার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন।
এদিকে, গত ২৯ মে ইশরাককে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ঘোষণার গেজেট স্থগিত চেয়ে করা লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি করে ইসিকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বলেন আদালত। কমিশনের গেজেট অনুযায়ী দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদের শেষদিন আজ রোববার।
সংস্কৃতিই একটি জাতির পরিচয়, অপসংস্কৃতি বিবেকের দরজায় তালা লাগায় : কাদের গনি চৌধুরী
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী বলেছেন, ‘সংস্কৃতিই একটি জাতির পরিচয়। সংস্কৃতিই একটি জাতিসত্তার অস্তিত্বের কারণ।’ শনিবার (৩১ মে) সন্ধ্যায় টেলিভিশন রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশে (ট্যাব) আয়োজিত ট্যাব মিডিয়া আইকনিক অ্যাওয়ার্ড-২০২৫ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন।
ট্যাব সভাপতি কাদের মনসুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুমা রহমান তানি, ডক্টর জাহাঙ্গীর আলম রুস্তম, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতির সভাপতি কামরুল হাসান দর্পণ, সানাউল হক বাবুল, এরফানুল হক নাহিদ, আবুল কালাম আজাদ, সুহৃদ জাহাঙ্গীর, দুলাল খান প্রমুখ।
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, ‘কোনো সভ্য সমাজে প্রচলিত রীতিনীতি হচ্ছে সংস্কৃতি। সংস্কৃতি মানুষের শুভ বোধ ও সুচিন্তার বিকাশের জন্য। যেনতেন প্রকারে আনন্দ বিনোদনের জন্য নয়।
অসংযত আমোদ-ফুর্তিকে তাই সংস্কৃতি বলা যায় না। তাকে আমরা বলব অপসংস্কৃতি। ভোগবাদী উচ্ছৃঙ্খল জীবনের যে আনন্দ, তা সংস্কৃতি নয়। মনে রাখবেন, জীবন ও সংস্কৃতি একে অপরের পরিপূরক।
সংস্কৃতি ছাড়া জীবন অসম্পূর্ণ। কোনো ব্যক্তি, কোনো সমাজ কিংবা কোনো জনগোষ্ঠীই তাদের নিজস্ব সংস্কৃতিকে অস্বীকার করতে পারে না।’
তিনি বলেন, ‘সংস্কৃতি যেখানে মানুষকে সুন্দরের পথ দেখায়, সেখানে অপসংস্কৃতি মানুষকে অসুন্দর করে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। অপসংস্কৃতি স্থায়ী নয়, তা ক্ষণিকের জন্য উত্তেজক। কোনো জাতি বা দেশের ভেতর একবার অপসংস্কৃতি ঢুকলে তা অপসারণ করা খুবই কঠিন।
অপসংস্কৃতি বিবেকের দরজায় তালা লাগায়। মানুষকে তার মা, মাটি ও দেশ থেকে দূরে সরিয়ে রাখে।’
সাংবাদিকদের এ নেতা বলেন, ‘সংস্কৃতির কাজ জীবনকে বিকশিত করা, চিত্তকে আনন্দিত করা, মানুষকে প্রেমবান করা। আর অপসংস্কৃতি মানুষের জীবনকে কলুষময় করে। চেতনাকে নষ্ট করে। জীবনকে নাশ করে। স্থায়ীভাবে মনোমুগ্ধকর, আকর্ষণীয়, মোহনীয় ও হৃদয়গ্রাহী হলেও এ থেকে কোনো ফল পাওয়া যায় না। অপসংস্কৃতি মূলত মানুষকে খারাপ কাজের দিকে টেনে নেয়।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের অনেকের ধারণা বিদেশি সংস্কৃতি মানেই অপসংস্কৃতি। এটা ঠিক নয়। যে সংস্কৃতি আমাদের জীবনকে বিপথে পরিচালিত করে সেটাই হলো অপসংস্কৃতি। সেটা দেশি বা বিদেশি হোক। কোনো সংস্কৃতি যখন ভালো কার্যকলাপে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে এবং নৈতিকতা বিবর্জিত হয় তখন তা অপসংস্কৃতি বলে চিহ্নিত হয়। এ অপসংস্কৃতির প্রভাবে জাতি তার নিজস্ব স্বকীয়তা হারিয়ে ফেলে এবং তরুণ সমাজ হয় বিপথগামী। চাল-চলন, পোশাক-পরিচ্ছদ, জীবন নির্বাহের যাবতীয় রীতিনীতি অপসংস্কৃতির কারণে অধঃপতন ঘটছে। কুরুচিপূর্ণ রচনা সাহিত্য অঙ্গনকে গ্রাস করছে।’
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, ‘অপসংস্কৃতি আজ সংস্কৃতি আসন দখল করে নিয়েছে। আজকাল অনেক তরুণকে মেয়েদের মতো হাতে বালা বা পিতলের কড়া এবং এক কানে দুল পরতে দেখা যায়। আবার মেয়েদের অনেক সময় ছেলেদের মতো শার্ট, টাইট জিন্স-প্যান্ট, চুলের বয়-কাট। ছেলেরা ফ্যাশন করে ছেঁড়া প্যান্ট পড়ে। এসব আনন্দ হলেও এটা কিন্তু অপসংস্কৃতির নামান্তর। আমাদের তরুণ সমাজ আজ অপসংস্কৃতির স্রোতে গা ভাসিয়ে দিয়ে জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে।’
তিনি বলেন, ‘এখন বিত্তবান ক্ষমতাশালীরা নিজেদের চিত্তবিনোদনের পথ পাল্টে ফেলেছেন। রুচিবিকৃতি নেমে গেছে চরম পর্যায়ে, যা থেকে আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে অনুসরণ করার মতো কিছুই দিয়ে যেতে পারছি না।’
বিএফইউজে মহাসচিব বলেন, ‘আমরা যে শিক্ষা গ্রহণ করি তা যদি দেশকে ভালোবাসতে না শেখায়, জীবনকে প্রেমময় না করে, মানুষের প্রতি দরদি না করে, তাহলে সে শিক্ষা হলো অপশিক্ষা আর অপশিক্ষার পথ ধরে অপসংস্কৃতি আমাদের সমাজে শিকড় গাড়ে। আমাদের সমাজের অভ্যান্তরে যে অপসংস্কৃতি হিংস্র থাবা বিস্তার করে আছে তা সহজেই অনুমেয়। বর্তমানে আমরা আমাদের রীতিনীতি, দেশের মূল্যবোধ বিসর্জন দিতে শুরু করেছি।’
নির্বাচনের জন্য দৃশ্যমান প্রস্তুতি নেওয়া উচিত সরকারের : ইসমাইল জবিউল্লাহ
আগামী জাতীয় নির্বাচনের দৃশ্যমান প্রস্তুতি অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন পলিসি ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রিসার্চ সোসাইটির (পিএমআরএস) চেয়ারম্যান ও সাবেক সচিব মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। তিনি বলেন, কেউ কেউ রাজনৈতিক দলগুলোকে সংস্কার ও বিচারের বিপক্ষ শক্তি হিসেবে দাঁড় করানোর অপচেষ্টা করছে।
শনিবার রাজধানীর ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়র্সে পিএমআরএসের উদ্যোগে ‘গণতন্ত্র, নির্বাচন ও সংস্কার; আশু করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে কি-নোট পেপার উত্থাপনকালে এসব কথা বলেন তিনি।
এ সময় জবিউল্লাহ বলেন, অল্প সংস্কার ও বড় সংস্কারের অভিনব শর্তের আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছে আগামী জাতীয় নির্বাচন। এসব কুতর্ক শুনলে হাসিনার আমলের ‘উন্নয়ন আগে, গণতন্ত্র পরে’ জাতীয় বস্তাপচা গল্পের কথা মনে পড়ে। সংস্কারের দোহাই নিয়ে নির্বাচন থামানো যাবে না। প্রকৃতপক্ষে সংস্কার নির্বাচন ও বিচার কেউ কারো বিরোধী নয়।

সাবেক এই সচিব বলেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী আমাদের প্রত্যাশা ছিল একটি নতুন বাংলাদেশ পাবো। কিন্তু প্রশাসনসহ সরকারের বিভিন্ন সেক্টরে ফ্যাসিবাদের দোসরদের স্বপদে বহাল রাখা, অন্যদিকে মানুষকে নতুন বাংলাদেশ উপহার দেওয়ার স্বপ্ন দেখানো- এই বৈপরীত্যের অবসান ঘটানো উচিত।
জবিউল্লাহ বলেন, ইতোমধ্যে যেসব বিষয়ে সংস্কার কমিশনের সঙ্গে ঐক্যমত্য হয়েছে তা দ্রুত প্রকাশ করা উচিত। তাহলে মানুষ জানতে পারবে রাজনৈতিক দলগুলো সংস্কারের ব্যাপারে সত্যিই ইতিবাচক। বর্তমান সরকারপ্রধান নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ইউনূসের মতো খ্যাতিমান ব্যক্তিত্বের মাধ্যমেই ভোটাধিকার ফিরে পাবে, এটিই মানুষের প্রত্যাশা।
পিএমআরএস চেয়ারম্যান বলেন, আমরা আশা করছি এই অর্ন্তবর্তী সরকারের নেতৃত্বেই আগামী ডিসেম্বরে নির্বাচন হবে। দেশে একটি জনকল্যাণ ও জবাবদিহিমূলক স্বচ্ছ নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য