শিরোনাম
সংস্কৃতিই একটি জাতির পরিচয়, অপসংস্কৃতি বিবেকের দরজায় তালা লাগায় : কাদের গনি চৌধুরী
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী বলেছেন, ‘সংস্কৃতিই একটি জাতির পরিচয়। সংস্কৃতিই একটি জাতিসত্তার অস্তিত্বের কারণ।’ শনিবার (৩১ মে) সন্ধ্যায় টেলিভিশন রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশে (ট্যাব) আয়োজিত ট্যাব মিডিয়া আইকনিক অ্যাওয়ার্ড-২০২৫ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন।
ট্যাব সভাপতি কাদের মনসুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুমা রহমান তানি, ডক্টর জাহাঙ্গীর আলম রুস্তম, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতির সভাপতি কামরুল হাসান দর্পণ, সানাউল হক বাবুল, এরফানুল হক নাহিদ, আবুল কালাম আজাদ, সুহৃদ জাহাঙ্গীর, দুলাল খান প্রমুখ।
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, ‘কোনো সভ্য সমাজে প্রচলিত রীতিনীতি হচ্ছে সংস্কৃতি। সংস্কৃতি মানুষের শুভ বোধ ও সুচিন্তার বিকাশের জন্য। যেনতেন প্রকারে আনন্দ বিনোদনের জন্য নয়।
অসংযত আমোদ-ফুর্তিকে তাই সংস্কৃতি বলা যায় না। তাকে আমরা বলব অপসংস্কৃতি। ভোগবাদী উচ্ছৃঙ্খল জীবনের যে আনন্দ, তা সংস্কৃতি নয়। মনে রাখবেন, জীবন ও সংস্কৃতি একে অপরের পরিপূরক।
সংস্কৃতি ছাড়া জীবন অসম্পূর্ণ। কোনো ব্যক্তি, কোনো সমাজ কিংবা কোনো জনগোষ্ঠীই তাদের নিজস্ব সংস্কৃতিকে অস্বীকার করতে পারে না।’
তিনি বলেন, ‘সংস্কৃতি যেখানে মানুষকে সুন্দরের পথ দেখায়, সেখানে অপসংস্কৃতি মানুষকে অসুন্দর করে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। অপসংস্কৃতি স্থায়ী নয়, তা ক্ষণিকের জন্য উত্তেজক। কোনো জাতি বা দেশের ভেতর একবার অপসংস্কৃতি ঢুকলে তা অপসারণ করা খুবই কঠিন।
অপসংস্কৃতি বিবেকের দরজায় তালা লাগায়। মানুষকে তার মা, মাটি ও দেশ থেকে দূরে সরিয়ে রাখে।’
সাংবাদিকদের এ নেতা বলেন, ‘সংস্কৃতির কাজ জীবনকে বিকশিত করা, চিত্তকে আনন্দিত করা, মানুষকে প্রেমবান করা। আর অপসংস্কৃতি মানুষের জীবনকে কলুষময় করে। চেতনাকে নষ্ট করে। জীবনকে নাশ করে। স্থায়ীভাবে মনোমুগ্ধকর, আকর্ষণীয়, মোহনীয় ও হৃদয়গ্রাহী হলেও এ থেকে কোনো ফল পাওয়া যায় না। অপসংস্কৃতি মূলত মানুষকে খারাপ কাজের দিকে টেনে নেয়।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের অনেকের ধারণা বিদেশি সংস্কৃতি মানেই অপসংস্কৃতি। এটা ঠিক নয়। যে সংস্কৃতি আমাদের জীবনকে বিপথে পরিচালিত করে সেটাই হলো অপসংস্কৃতি। সেটা দেশি বা বিদেশি হোক। কোনো সংস্কৃতি যখন ভালো কার্যকলাপে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে এবং নৈতিকতা বিবর্জিত হয় তখন তা অপসংস্কৃতি বলে চিহ্নিত হয়। এ অপসংস্কৃতির প্রভাবে জাতি তার নিজস্ব স্বকীয়তা হারিয়ে ফেলে এবং তরুণ সমাজ হয় বিপথগামী। চাল-চলন, পোশাক-পরিচ্ছদ, জীবন নির্বাহের যাবতীয় রীতিনীতি অপসংস্কৃতির কারণে অধঃপতন ঘটছে। কুরুচিপূর্ণ রচনা সাহিত্য অঙ্গনকে গ্রাস করছে।’
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, ‘অপসংস্কৃতি আজ সংস্কৃতি আসন দখল করে নিয়েছে। আজকাল অনেক তরুণকে মেয়েদের মতো হাতে বালা বা পিতলের কড়া এবং এক কানে দুল পরতে দেখা যায়। আবার মেয়েদের অনেক সময় ছেলেদের মতো শার্ট, টাইট জিন্স-প্যান্ট, চুলের বয়-কাট। ছেলেরা ফ্যাশন করে ছেঁড়া প্যান্ট পড়ে। এসব আনন্দ হলেও এটা কিন্তু অপসংস্কৃতির নামান্তর। আমাদের তরুণ সমাজ আজ অপসংস্কৃতির স্রোতে গা ভাসিয়ে দিয়ে জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে।’
তিনি বলেন, ‘এখন বিত্তবান ক্ষমতাশালীরা নিজেদের চিত্তবিনোদনের পথ পাল্টে ফেলেছেন। রুচিবিকৃতি নেমে গেছে চরম পর্যায়ে, যা থেকে আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে অনুসরণ করার মতো কিছুই দিয়ে যেতে পারছি না।’
বিএফইউজে মহাসচিব বলেন, ‘আমরা যে শিক্ষা গ্রহণ করি তা যদি দেশকে ভালোবাসতে না শেখায়, জীবনকে প্রেমময় না করে, মানুষের প্রতি দরদি না করে, তাহলে সে শিক্ষা হলো অপশিক্ষা আর অপশিক্ষার পথ ধরে অপসংস্কৃতি আমাদের সমাজে শিকড় গাড়ে। আমাদের সমাজের অভ্যান্তরে যে অপসংস্কৃতি হিংস্র থাবা বিস্তার করে আছে তা সহজেই অনুমেয়। বর্তমানে আমরা আমাদের রীতিনীতি, দেশের মূল্যবোধ বিসর্জন দিতে শুরু করেছি।’
নির্বাচনের জন্য দৃশ্যমান প্রস্তুতি নেওয়া উচিত সরকারের : ইসমাইল জবিউল্লাহ
আগামী জাতীয় নির্বাচনের দৃশ্যমান প্রস্তুতি অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন পলিসি ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রিসার্চ সোসাইটির (পিএমআরএস) চেয়ারম্যান ও সাবেক সচিব মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। তিনি বলেন, কেউ কেউ রাজনৈতিক দলগুলোকে সংস্কার ও বিচারের বিপক্ষ শক্তি হিসেবে দাঁড় করানোর অপচেষ্টা করছে।
শনিবার রাজধানীর ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়র্সে পিএমআরএসের উদ্যোগে ‘গণতন্ত্র, নির্বাচন ও সংস্কার; আশু করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে কি-নোট পেপার উত্থাপনকালে এসব কথা বলেন তিনি।
এ সময় জবিউল্লাহ বলেন, অল্প সংস্কার ও বড় সংস্কারের অভিনব শর্তের আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছে আগামী জাতীয় নির্বাচন। এসব কুতর্ক শুনলে হাসিনার আমলের ‘উন্নয়ন আগে, গণতন্ত্র পরে’ জাতীয় বস্তাপচা গল্পের কথা মনে পড়ে। সংস্কারের দোহাই নিয়ে নির্বাচন থামানো যাবে না। প্রকৃতপক্ষে সংস্কার নির্বাচন ও বিচার কেউ কারো বিরোধী নয়।

সাবেক এই সচিব বলেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী আমাদের প্রত্যাশা ছিল একটি নতুন বাংলাদেশ পাবো। কিন্তু প্রশাসনসহ সরকারের বিভিন্ন সেক্টরে ফ্যাসিবাদের দোসরদের স্বপদে বহাল রাখা, অন্যদিকে মানুষকে নতুন বাংলাদেশ উপহার দেওয়ার স্বপ্ন দেখানো- এই বৈপরীত্যের অবসান ঘটানো উচিত।
জবিউল্লাহ বলেন, ইতোমধ্যে যেসব বিষয়ে সংস্কার কমিশনের সঙ্গে ঐক্যমত্য হয়েছে তা দ্রুত প্রকাশ করা উচিত। তাহলে মানুষ জানতে পারবে রাজনৈতিক দলগুলো সংস্কারের ব্যাপারে সত্যিই ইতিবাচক। বর্তমান সরকারপ্রধান নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ইউনূসের মতো খ্যাতিমান ব্যক্তিত্বের মাধ্যমেই ভোটাধিকার ফিরে পাবে, এটিই মানুষের প্রত্যাশা।
পিএমআরএস চেয়ারম্যান বলেন, আমরা আশা করছি এই অর্ন্তবর্তী সরকারের নেতৃত্বেই আগামী ডিসেম্বরে নির্বাচন হবে। দেশে একটি জনকল্যাণ ও জবাবদিহিমূলক স্বচ্ছ নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে।
শেখ হাসিনাকে দিয়ে শুরু হলো জুলাই গণহত্যার বিচার
‘জুলাই গণহত্যা’ মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধান অভিযুক্ত করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছে প্রসিকিউশন টিম। এর মধ্যে দিয়ে জুলাই গণহত্যার বিচার শুরু হলো।
চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম রোববার দুপুর ১২টার পর ট্রাইবুনালে অভিযোগ দাখিল করেন।
এ বিষয়ে শুনানি সরাসরি সম্প্রচার করা হয় বাংলাদেশ টেলিভিশনে।
শেখ হাসিনা ছাড়াও এ মামলার অপর দুই আসামি হলেন- তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল–মামুন।
জুলাই-আগস্টজুড়ে সারা দেশে যে গণহত্যা হয় তাতে শেখ হাসিনাকে প্রধান নির্দেশদাতার দায়ে গত ১২ মে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিল করে তদন্ত সংস্থা।
আসাদুজ্জামান খান কামাল ও চৌধুরী আবদুল্লাহ আল–মামুনের বিরুদ্ধেও আনা হয় পাঁচটি অভিযোগ।
এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, আমরা বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ডিসেম্বরের মধ্যে জুলাই আগস্টের হত্যাযজ্ঞের বিচার দৃশ্যমান হবে। এ সময়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যাবে। বিচার এমনভাবে করা হবে কেউ যেন মান নিয়ে প্রশ্ন তুলতে না পারে।
শেখ হাসিনাকে ‘গুম ও আয়নাঘরের নিউক্লিয়াস’ বলে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, বিচারের কাজ পুরোদমে এগোচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ করতে যুক্তিসংগত সময় লাগবে।
সপ্তাহ দেড়েক আগে এক সংবাদ সম্মেলনে তাজুল ইসলাম জানান, জুলাইয়ে সংগঠিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ‘উসকানিদাতা’ হিসেবে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এক নম্বর অভিযোগ আনা হয়েছে।
আগামী অর্থবছরে ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা সরকারি ব্যয় নির্ধারণ : আসিফ মাহমুদ
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া জানিয়েছেন, আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকারি ব্যয় ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
উপদেষ্টা আসিফ তার ভেরিফাইড ফেসবুকে এক পোস্টে বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণসহ সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে চলতি বাজেটের চেয়েও ছোট বাজেট দিতে যাচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকারি ব্যয় ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা চলতি বাজেটের চেয়ে ৭ হাজার কোটি টাকা কম।’
জুলাইয়ে ছাত্র জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। অবসান হয় শেখ হাসিনার নেতৃত্বে টানা প্রায় ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের। গত ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। এরপর নোবেল জয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে শপথ গ্রহণ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এ সরকারের এটি প্রথম বাজেট।
বদলে যাওয়া বাংলাদেশের ভিন্ন বাস্তবতায় এবার সংসদের বাইরে বাজেট উপস্থাপন করা হবে ভিন্ন আঙ্গিকে। সংসদ না থাকায় ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের বাজেট এবার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম বিটিভিসহ অন্যান্য বেসরকারি গণমাধ্যমে একযোগে প্রচার করা হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামীকাল ২ জুন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জাতির উদ্দেশ্যে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করবেন। কাল বিকেল ৪টায় ধারণকৃত বাজেট বক্তৃতা বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে প্রচারিত হবে। এছাড়া বাংলাদেশ টেলিভিশন থেকে ‘ফিড’ নিয়ে অন্যান্য সব বেসরকারি টেলিভিশন ও বেতারে একই সময়ে জাতীয় বাজেট বক্তব্য প্রচারের অনুরোধ করা হয়েছে এক তথ্য বিবরণীতে।
এর আগে সংসদের বাইরে বাজেট দেওয়া হয়েছিল ২০০৮ সালে। তখন দেশের দায়িত্বে ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার। বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে সম্প্রচার করা হয়েছিল তখনকার অর্থ উপদেষ্টা মির্জ্জা আজিজুল ইসলামের বাজেট বক্তব্য (২০০৮-২০০৯ অর্থবছর)।
ঈদের দিন বৃষ্টি হবে কিনা, যা জানাল আবহাওয়া অফিস
ঈদুল ফিতরের লম্বা ছুটির পর এবার কুরবানির ঈদেও ছুটি নিয়ে সুখবর দিয়েছে সরকার। ঈদুল আজহা উপলক্ষে টানা ১০ দিন ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ঈদের ছুটিতে আবহাওয়া কেমন থাকবে তা জানা থাকা দরকার। আবহাওয়াবিদ জানিয়েছেন, ২ জুনের পর সপ্তাহ জুড়ে সারা দেশেই হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার বৃষ্টিপাত হবে। রাজশাহী ও রংপুরে বৃষ্টিপাতের তীব্রতা তুলনামূলক কম থাকবে।
রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে কয়েক দিন ধরে টানা বা থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। আট বিভাগেই আকাশের একই অবস্থা বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বৃষ্টি এমন এক সময় হচ্ছে যখন কুরবানির ঈদ উদযাপন করতে গ্রামে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে অনেকে। ঈদের ছুটি শুরু হলেই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কর্মকর্তারা নিজ নিজ জেলায় ফিরতে শুরু করবেন।
গত ২৭ মে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে যে লঘুচাপ তৈরি হয়েছিল, তার প্রভাবেই সারা দেশে বৃষ্টি হচ্ছে বলে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে।
লঘুচাপটি পরে আর ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়নি, বরং গভীর নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার পর তা গত বৃহস্পতিবার রাতে বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম করেছে।
শনিবার দুপুরে আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক জানিয়েছেন, বাংলাদেশে আগামী কয়েক দিনে ঘূর্ণিঝড় বা লঘুচাপ সৃষ্টির কোনো আভাস নেই। তবে এখন যেহেতু দেশব্যাপী মৌসুমি বায়ু বইছে, তাই আগামী কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে থেমে থেমে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও তিনি জানান।
তিনি বলেন, ঢাকায় আজ সকাল থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে।
আগামীকালও ঢাকাসহ সিলেট, বরিশাল, খুলনা, চট্টগ্রামের কিছু কিছু জায়গায় এক-দুই পশলা বৃষ্টি হবে।
এই আবহাওয়াবিদ জানান, ২ জুনের দিকে বৃষ্টিপাত কমে আসবে। কিন্তু একেবারে থেমে যাবে না। এ সপ্তাহ জুড়ে সারা দেশেই হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার বৃষ্টিপাত হবে। তবে উত্তরাঞ্চলের বিভাগ রাজশাহী ও রংপুরে বৃষ্টিপাতের তীব্রতা তুলনামূলক কম থাকবে।
আবুল কালাম মল্লিক জানান, ঈদের দিন সারা দেশেই বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে। তবে তিন দিন আগে আরো স্পেসিফিক করে বলা সম্ভব। এই পুরো সময়টা জুড়ে ভ্যাপসা গরম থাকবে। কারণ বাতাসে জলীয় বাষ্পের আধিক্য থাকবে বলে গরম পড়বে। মূলত বাতাসে যখন জলীয় বাষ্পের উপস্থিতি বেশি থাকে, তখন গরম অনুভূত হয়।
এই আবহাওয়াবিদ আরও জানান, আগামী ২ তারিখের পর গরম কিছুটা বাড়বে এবং আগামী ৭ জুনের পর ৩২ থেকে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মাঝে ওঠানামা করবে।
এদিকে আজ শনিবার সকাল ৯টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসেও বলা হয়েছে, এ সপ্তাহের শেষের দিকে সারা দেশেই তাপমাত্রা বাড়তে পারে।
তাতে আরও বলা হয়েছে, আজ সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দুই এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বিদ্যুৎ চমকানো বা হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য