ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

সিলেট সীমান্তে বিএসএফের পুশ ইন, বিজিবির জালে ৬৮ অনুপ্রবেশকারী

অনলাইন ডেস্ক
২৮ মে, ২০২৫ ১১:৪৯
অনলাইন ডেস্ক
সিলেট সীমান্তে বিএসএফের পুশ ইন, বিজিবির জালে ৬৮ অনুপ্রবেশকারী

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার দুটি পৃথক সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে পুশ ইন করা ৬৮ জনকে আটক করেছে বিজিবি।

বুধবার (২৮ মে) ভোররাতে উপজেলার মোকামপুঞ্জি ও মিনাটিলা সীমান্ত দিয়ে এ ঘটনা ঘটে।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, রাত আনুমানিক ৩টা ৩০ মিনিটে জৈন্তাপুরের মোকামপুঞ্জি সীমান্ত দিয়ে ১৩ শিশু, ১২ নারী ও ৭ পুরুষসহ মোট ৩২ জন বাংলাদেশে পুশ ইন করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। বিষয়টি টের পেয়ে ৪৮ বিজিবির আওতাধীন শ্রীপুর বিওপির টহল দল তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে।

পরে রাত ৪টা ২০ মিনিটে একই উপজেলার মিনাটিলা সীমান্ত দিয়ে আরও ৭ শিশু, ৭ নারী ও ৬ পুরুষসহ ২০ জন বাংলাদেশে প্রবেশ করে। মিনাটিলা বিওপির বিজিবি সদস্যরা সেখান থেকেও সবাইকে আটক করতে সক্ষম হন।

একই রাতে সুনামগঞ্জের নোয়াকোট বিওপির অধীনস্থ ছনবাড়ি সীমান্ত থেকে আরও ১৬ জন অনুপ্রবেশকারীকে আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে ৫ জন পুরুষ, ৫ জন নারী এবং ৬ শিশু রয়েছে। বিজিবি জানিয়েছে, তারা সবাই কুড়িগ্রাম জেলার ৫টি পরিবারের সদস্য।

শ্রীপুর বিওপির কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার মোহাম্মদ আবুল কাশেম ঢাকা পোস্টকে বলেন, রাতের নির্জনতার সুযোগে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) একাধিক দলে ভাগ হয়ে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে পুশ ইনের চেষ্টা চালায়। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ৬৮ জন অনুপ্রবেশকারীকে আটক করতে সক্ষম হই। ইদানীং সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের প্রবণতা বেড়েছে। এ বিষয়ে বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আটককৃতদের মধ্যে অধিকাংশের বাড়ি বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হলেও তারা ভারতের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    ড. ইউনূসের ৩৬০ ডিগ্রি কূটনীতি: বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশের বিশ্বসংযোগ

    অনলাইন ডেস্ক
    ২৭ মে, ২০২৫ ১৮:৫২
    অনলাইন ডেস্ক
    ড. ইউনূসের ৩৬০ ডিগ্রি কূটনীতি: বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশের বিশ্বসংযোগ

    চব্বিশে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের মধ্যদিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা এবং শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস তাঁর কুটনৈতিক সুনামকে কাজে লাগিয়ে এ দেশের মসৃণ এ পরিবর্তনের গতিশীলতাকে সামলে যাচ্ছেন নিপুণভাবে। তিনি তাঁর ভারসাম্যপূর্ণ ও বহুমুখী কূটনীতি দিয়ে বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতিতে উন্মোচন করেছেন এক নতুন দিগন্ত । 

    বিশ্লেষকরা একে বলছেন ‘৩৬০ ডিগ্রি কূটনীতি’, যেখানে পূর্ব-পশ্চিম, উত্তর-দক্ষিণ, সবদিকেই ছড়িয়েছে তাঁর কুটনৈতিক উদ্যোগ।

    আগের ভারতকেন্দ্রিক বৈদেশিক নীতির ধারা থেকে সরে এসে ইউনূস প্রশাসন আস্থা ও নিরপেক্ষতাকে ভিত্তি করে গড়ে তুলছে নতুন এক কুটনৈতিক বাস্তবতা। 

    আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের ধারণা ছিল, শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলের পর নতুন কোনো প্রশাসনের জন্য বৈদেশিক নীতিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা হবে চ্যালেঞ্জিং। কারণ, তাঁর সময়কালের কুটনৈতিক কাঠামো ছিল প্রবলভাবে ভারত নির্ভর। 

    কিন্তু নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অধ্যাপক ইউনূস সেই আশঙ্কা পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়ে তাঁর বৈশ্বিক খ্যাতি ও কুটনৈতিক দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে মসৃণ পরিবর্তনশীলতাকে সামলিয়ে পররাষ্ট্রনীতিকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ করে তুলেছেন।

    গত ২০২৪ সালের আগস্টে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ড. ইউনূস দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক উদ্যোগের মাধ্যমে উচ্চপর্যায়ের কুটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছেন। এর লক্ষ্য ছিল, দেশের অভ্যন্তরীণ সংবেদনশীল রূপান্তর এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল আঞ্চলিক ভূরাজনীতির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশকে বৈশ্বিক অঙ্গনে নতুন করে দৃঢ় অবস্থানে দাঁড় করানো।

    বৃহত্তর এই কুটনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে কাল বুধবার সকালে চারদিনের জাপান সফরে যাচ্ছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সেখানে তিনি টোকিওতে অনুষ্ঠেয় ৩০তম নিক্কেই ফোরামে অংশ নেবেন এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। 

    অধ্যাপক ইউনূসের চীন সফরে যাওয়ার আগেই জাপান সফরসূচি ঠিক করা হয়েছিল। এমনটি করা হয়েছে, যাতে বোঝানো যায়, বিশ্ব রাজনীতিতে দ্বন্দ্ব বেড়ে গেলেও তাঁর সরকার সব দেশের সঙ্গে ভারসাম্য রেখে কূটনীতি করতে চায়।

    দ্রুত পরিবর্তনশীল এবং কৌশলগতভাবে পুনর্বিন্যস্ত বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায়, ড. ইউনূসের পররাষ্ট্রনীতি সুস্পষ্ট বার্তা দেয় যে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গঠনমূলক এবং স্বাধীন ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে চায়।

    বাইডেন থেকে শি জিনপিং, শি থেকে মোদি, আঞ্চলিক রাজধানী থেকে আন্তর্জাতিক ফোরাম সব দিকেই ইউনূসের কূটনীতির হাত প্রসারিত হয়েছে। ‘৩৬০ ডিগ্রি কূটনীতি’ বলতে বোঝানো হয় একটি পূর্ণাঙ্গ, সামগ্রিক ও সুষম পররাষ্ট্রনীতি, যেখানে প্রতিটি দিক বিবেচনায় রাখা হয়।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বহুমুখী কূটনীতি বাংলাদেশের বৈদেশিক সম্পর্কের কৌশলগত পুনর্বিন্যাসকে নির্দেশ করে। এর মাধ্যমে ঐতিহ্যগত মিত্রদের পাশাপাশি নতুন জোটও গড়ে তোলা হচ্ছে। যার লক্ষ্য হলো রাজনৈতিক রূপান্তরের সময়ে জাতীয় স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং আন্তর্জাতিক বিশ্বে বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করা।

    প্রথম বড় কুটনৈতিক সাফল্য: সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশিদের ক্ষমা

    অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বে প্রথম গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সাফল্য আসে সংযুক্ত আরব আমিরাতে। ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় শতাধিক বাংলাদেশি শ্রমিককে সাজার আদেশ দিয়েছিল দেশটির আদালত। তবে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ও আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সরাসরি আলোচনার পর তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়।

    পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এই ঘটনাকে ‘অভূতপূর্ব’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি আরো বলেন, ‘এমন ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি।’ তৌহিদ হোসেন এই সাফল্যের কৃতিত্ব দেন অধ্যাপক ইউনূসের আন্তর্জাতিক মর্যাদা ও কৌশলী কূটনীতিকে। তাঁর মতে, এর মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেন যে এই বিক্ষোভ ছিল বাংলাদেশের সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং কোনো বিদেশি সরকারের বিরুদ্ধে নয়।

    পশ্চিমা বিশ্বে দৃঢ় বার্তা:

    ড. ইউনূস আন্তর্জাতিক কূটনীতিক হিসেবে তাঁর আত্মপ্রকাশ ঘটান ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের ৭৯তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে, সেখানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ  বৈঠক করেন। 

    সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে আলোচনা হয় বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরো জোরদার, গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে।

     

    বাইডেনের সঙ্গে বৈঠকের পর ক্লিনটন গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অংশ নেন ড. ইউনূস। সেখানে তিনি তাঁর দীর্ঘদিনের মিত্র সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে উভয়েই সামাজিক ব্যবসা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করেন।

    এরই ধারাবাহিকতায় গত বছর ২৬ সেপ্টেম্বর একদিনেই ১৬টি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে অংশ নেন প্রধান উপদেষ্টা, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থানকে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেয়।

    সেদিন তিনি পাকিস্তান, কানাডা ও ইতালির প্রধানমন্ত্রী, ব্রাজিল ও মরিশাসের প্রেসিডেন্ট, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার ভল্কার তুর্কের সঙ্গে বৈঠক করেন।

    জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে অধ্যাপক ইউনূস বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান ‘নতুন বাংলাদেশ’-এর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার। তিনি জানান, নতুন বাংলাদেশ সকল নাগরিকের জন্য স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

    চলতি বছরের শুরুর দিকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল পাঠান যা ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের প্রতি অন্যতম প্রধান একটি পশ্চিমা রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক সমর্থন নিশ্চিত করে।

    ব্রিটিশ প্রতিনিধিদল জানায়, যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের প্রতি তাদের অব্যাহত সমর্থন বজায় রাখবে। দলটি ঢাকার সাথে ব্রেক্সিট-পরবর্তী প্রেক্ষাপটে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরো গভীর করতে লন্ডনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে।

    আন্তর্জাতিক সমর্থনের সূচনা: মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা সফর

    বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অক্টোবরের শুরুতে প্রথম বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ঢাকা সফর করেন। এটি বহির্বিশ্বে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি দৃঢ় সমর্থনের বার্তা দেয়। 

    গত বছর ৪ অক্টোবর ৫৮ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল নিয়ে ঢাকায় আসেন আনোয়ার ইব্রাহিম। দলটিতে বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও শিল্প, পররাষ্ট্র, পরিবহণ এবং ধর্মবিষয়ক উপমন্ত্রীসহ সংসদ সদস্যরাও ছিলেন। এ সফর ছিল মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে ইউনূস সরকারের প্রতি শক্ত কুটনৈতিক সমর্থনের প্রতিফলন।

     

    চার দশকের বেশি সময় ধরে অধ্যাপক ইউনূসের ঘনিষ্ঠজন বলে পরিচিত আনোয়ার ইব্রাহিম। এবারের সফরেও গণতন্ত্র ও সামাজিক ন্যায়ের প্রতি ইউনূসের অবিচল অঙ্গীকারের প্রশংসা করেন তিনি। আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, বাংলাদেশকে আরো বেশি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অধিকারভিত্তিক ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে ইউনূসের সক্ষমতার ওপর তাঁর পূর্ণ আস্থা আছে।

    দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে মালয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট আরো বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে আপনাকে (ড. ইউনূস) চিনি। আমি জানি, আপনি নারী-পুরুষের জীবন, মানবাধিকার ও মর্যাদার জন্য কতটা নিবেদিত। আপনার অবস্থানকে পুরোপুরি সমর্থন জানাই।’

    এর দুই মাস পর, তিমুর লেস্তের প্রেসিডেন্ট রামোস-হোর্তা প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ সফর করেন এবং বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে যোগ দেন।

    আনুষ্ঠানিকতার বাইরেও এই সফরের তাৎপর্য ছিল গভীর। এটি মিয়ানমারে চলমান সংকটপূর্ণ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় কৌশলগত জোট গঠনের দিকে ঢাকার দৃষ্টিভঙ্গিকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

    এই সফরগুলোর কুটনৈতিক গুরুত্ব নিহিত আঞ্চলিক কৌশলগত হিসেব-নিকেশে। মিয়ানমারের ওপর আসিয়ানের বর্তমান চেয়ার হিসেবে মালয়েশিয়ার প্রভাব দিন দিন বাড়ছে এবং রোহিঙ্গা সংকটে নেপিডো’র ওপর চাপ সৃষ্টিতে এ সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

    একই সঙ্গে আসিয়ানের পূর্ণ সদস্যপদ লাভের পথে থাকা টিমর-লেস্টে ভবিষ্যতে জোটটির অভ্যন্তরীণ গতিশীলতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠ হিসেবে উঠে আসতে পারে। 

    জলবায়ু কূটনীতিতে ‘থ্রি জিরো’ তত্ত্ব:

    প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ২০২৪ সালের নভেম্বরে আজারবাইজানের বাকুতে অনুষ্ঠিত কোপ২৯ জলবায়ু সম্মেলনে অংশগ্রহণ করে ন্যায়ভিত্তিক নেতৃত্ব ও টেকসই উন্নয়নের পক্ষে বৈশ্বিক কণ্ঠস্বর হিসেবে তাঁর অবস্থান আরো সুদৃঢ় করেন।

    সম্মেলনে তিনি বিশ্ব নেতাদের সামনে একটি নতুন সাহসী বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন ‘থ্রি জিরো’ নামে। যার মূলনীতি হলো: শূন্য কার্বন নিঃসরণ, শূন্য দারিদ্র্য ও শূন্য বেকারত্ব।

    বিশ্ব নেতৃবৃন্দ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের উদ্দেশে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ইউনূস বলেন, ‘তিনটি শূন্যের একটি নতুন পৃথিবী গড়ার বহুদিনের স্বপ্ন আমি এবার আপনাদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চাই।’

    তাঁর এই ভাষণ বিশ্বজুড়ে প্রতিনিধিদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে। ইউনূস বাংলাদেশকে কেবল জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হিসেবেই নয়, বরং বিশ্বের কাছে পথপ্রদর্শক  হিসেবেও উপস্থাপন করেন।

    ভাষণের বাইরেও, ইউনূস সম্মেলনজুড়ে পূর্ণ মাত্রার কুটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রাখেন। তিনি ২০টিরও বেশি রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন। এর মধ্যে ছিলেন, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোয়ান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এবং পাকিস্তান, ভূটান, নেপাল, মালদ্বীপ, বেলজিয়াম, ঘানার প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট।

    প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠকে অধ্যাপক ইউনূস তুরস্ক সফরের আমন্ত্রণ পান এবং বাংলাদেশের চলমান সংস্কার প্রক্রিয়ায় আঙ্কারার পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাসও লাভ করেন।

    একই সম্মেলনে স্বল্পোন্নত দেশসমূহ (এলডিসি) বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে দেখা করেন। পরে ড. ইউনূস সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে, ব্রাজিলের ভাইস প্রেসিডেন্টের স্ত্রী লু আলকমিন এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) ও ফিফা প্রধানদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন।

    সম্মেলনের ফাঁকে আয়োজিত তরুণদের এক সংলাপে ইউনূস তরুণদের উদ্দেশে বলেন, ‘তোমরা সাহস করে স্বপ্ন দেখো, তাহলে জীবনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু যদি স্বপ্নই না দেখ, কিছুই ঘটবে না।’

    দূরদর্শী নীতি, তৃণমূল পর্যায়ে ক্ষমতায়ন এবং উচ্চপর্যায়ের কূটনীতির সমন্বয়ের মাধ্যমে অধ্যাপক ইউনূস কপ২৯ সম্মেলনে এমন এক বাংলাদেশকে উপস্থাপন করেছেন, যেখানে এ দেশ জলবায়ু বিপর্যয়ের সম্মুখভাগে থাকার পাশাপাশি নৈতিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক সংস্কারের চালকের ভূমিকাতেও অবতীর্ণ।

    ঢাকায় ইউনূসের সঙ্গে ইইউ এর ২৭ রাষ্ট্রদূতের ঐতিহাসিক বৈঠক

    নজিরবিহীন কুটনৈতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ঢাকা ও নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ২৭ সদস্য রাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত একযোগে বৈঠক করেন।

    বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত ও ইইউ প্রতিনিধিদলের প্রধান মাইকেল মিলারের নেতৃত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা-ইইউ সম্পর্ককে আরো গভীর করতে জোটের সম্মিলিত প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন এই বৈঠক।

     

    বর্তমান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক বাস্তবতায় এই বৈঠককে বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্কের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে আখ্যায়িত করেন ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

    যেখানে ঢাকায় মাত্র সাতজন ইইউ রাষ্ট্রদূত নিযুক্ত আছেন, সেখানে নয়াদিল্লি থেকে ২০ জন রাষ্ট্রদূতের অংশগ্রহণ আয়োজনটিতে ব্যতিক্রমী ও তাৎপর্যপূর্ণ মাত্রা যোগ করে।

    এটি বাংলাদেশের নেতৃত্ব ও বহুমাত্রিক সহযোগিতার প্রতি ইইউর আস্থা ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়ার স্পষ্ট বার্তা বহন করে।

    দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে সাহসী কূটনীতিতে উজ্জ্বল ইউনূস:

    চলতি বছরের জানুয়ারিতে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বার্ষিক সম্মেলনে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অংশগ্রহণ অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য ছিল আরেকটি গৌরবময় অর্জন। সম্মেলনের পাশাপাশি অধ্যাপক ইউনূস সেখানে ৪৭টি আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং বেশ কয়েকজন বিশ্বনেতার সঙ্গে বৈঠক করেন।

    সে সময় তিনি বৈঠক করেন জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস, জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস, ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লায়েন এবং টিমর-লেস্টে, মালয়েশিয়া, ফিনল্যান্ড ও থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে। 

     

    এসব প্ল্যাটফর্মে ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি, টেকসই উন্নয়নের পাশাপাশি ক্ষমতাচ্যুত সরকারের আমলে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত এনে বাংলাদেশের জন্য অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টা।

    ভূরাজনৈতিক বিভাজনের এই সময়ে, দাভোসে ৫০ জন রাষ্ট্রপ্রধান ও শীর্ষস্থানীয় সিইওদের পাশে ইউনূসের উপস্থিতি বাংলাদেশকে গঠনমূলক বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করে। 

    তিনি ‘স্টেট অব ক্লাইমেট অ্যান্ড ন্যাচার’ এর মতো উচ্চ পর্যায়ের ফোরামের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে ভাষণ দেন। এছাড়াও সামাজিক উদ্যোক্তাদের শোয়াব ফাউন্ডেশনে বক্তব্য রাখেন। তিনি মেটা, ডিপি ওয়ার্ল্ড, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, বিশ্বব্যাংক ও মার্স্কের নেতাদের সঙ্গেও বৈঠকে অংশ নেন।

    এছাড়াও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেন ইউনূস। সাক্ষাৎকার দেন রয়টার্স, সিএনবিসি ইন্টারন্যাশনাল এবং ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে।

    দাভোসে ড. ইউনূসের ঝড়ো কুটনৈতিক তৎপরতা শুধু বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের অবস্থানকেই উঁচু করেনি বরং এটিও স্পষ্ট করেছে যে তাঁর নেতৃত্বে ঢাকা এখন নীতিনিষ্ঠ বহুপাক্ষিকতায় ও বৈচিত্র্যময় কৌশলগত অংশীদারত্বের দিকে এগুচ্ছে।

    জাতিসংঘ মহাসচিবের ঢাকা সফর: রোহিঙ্গা সংকট ও সংস্কারে ইউনূসের বৈশ্বিক প্রভাবের স্বীকৃতি

    চলতি বছরের ১৩ থেকে ১৬ মার্চ জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বাংলাদেশ সফর করেন। এই সফরকে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের আন্তর্জাতিক মর্যাদা ও সক্রিয় কূটনীতির একটি শক্তিশালী স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হয়। দেশের ইতিহাসের অন্যতম জটিল, মানবিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময় তার গর্বিত নেতৃত্বের স্পষ্ট প্রতিফলন এই সফর।

    গুতেরেসের সফরের মূল প্রেক্ষাপট ছিল রোহিঙ্গাদের প্রতি সংহতি এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক মানবিক সহযোগিতায় বাংলাদেশের নেতৃত্বের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার স্বীকৃতি।

    কূটনীতির এক ব্যতিক্রমী উদাহরণ হিসেবে ইউনূস ও গুতেরেস একসঙ্গে কক্সবাজার সফর করেন। একইসঙ্গে সেখানে প্রায় এক লাখ রোহিঙ্গা ও স্থানীয় বাসিন্দার সঙ্গে ইফতার করেন। জাতিসংঘ কর্মকর্তারা একে ‘সংহতি মিশন’ হিসেবে অভিহিত করেন।

     

    সফরকালে গুতেরেস ইউনূসের নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, জাতীয় সংলাপ, সংস্কার ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশকে পূর্ণ সহায়তা দিতে প্রস্তুত জাতিসংঘ।

    ঢাকায় জাতিসংঘ মহাসচিব তরুণ নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ, নাগরিক সমাজের সঙ্গে আলোচনা এবং জাতিসংঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশনের সুপারিশ সম্পর্কেও মতবিনিময় করেন, যা জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ।

    জাতিসংঘ মহাসচিবের এই সফরে অধ্যাপক ইউনূস রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বৈশ্বিক পর্যায়ে বাংলাদেশের অবস্থানকে জোরালোই করেননি, পাশাপাশি দেশের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সময়ে তার সরকারের কূটনৈতিক গ্রহণযোগ্যতাও আরো দৃঢ় করেন।

    চীনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার:

    এ বছরের ২৮ মার্চ বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে চীনা প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সেখানে তাঁকে সম্মান জানাতে কার্যালয় থেকে বেরিয়ে এসে নিজে অভ্যর্থনা জানান চীনা প্রেসিডেন্ট।

    বৈঠকে প্রেসিডেন্ট শি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি বেইজিংয়ের পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন এবং দু’দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা আরো বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন।

     

    অধ্যাপক ইউনূস বাংলাদেশের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, অবকাঠামো প্রকল্প এবং আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা গড়ার ক্ষেত্রে চীনা বিনিয়োগ আহ্বান করেন। জবাবে, এসব প্রস্তাব ইতিবাচকভাবে বিবেচনার আশ্বাস দেন প্রেসিডেন্ট শি। সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো জোরদারে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

    দুই নেতার মধ্যে আঞ্চলিক বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। এর মধ্যে ছিল নদী ব্যবস্থাপনা ও রোহিঙ্গা সংকট। ড. ইউনূস বাংলাদেশের জন্য একটি ৫০ বছরের সমন্বিত নদী ও পানি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রণয়নে চীনের সহায়তা চান।

    এই সফরে অধ্যাপক ইউনূস ঢাকা-বেইজিং সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছেন। বিশেষত চিকিৎসা সহযোগিতা ও কৌশলগত অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে এ সফরে।

    বাংলাদেশের রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে চীনের ইউনান প্রদেশের সহযোগিতার উদ্যোগকে স্বাগত জানায় ঢাকা। সম্প্রতি বাংলাদেশি রোগী, চিকিৎসক ও ট্রাভেল এজেন্টের একটি প্রতিনিধি দলের কুনমিং সফরের পর সেটি বাস্তব রূপ পায়। চিকিৎসা সহযোগীতায় প্রতিবেশী ভারতের ওপর দীর্ঘদিনের নির্ভরতা কমিয়ে নতুন দিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয় এই উদ্যোগ।

    সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে, চীনা কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশে আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণেও আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

    অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে, তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা ও পুনর্গঠন প্রকল্পে (টিআরসিএমআরপি) চীনের বিনিয়োগ আহ্বান করেন ইউনূস। এ সময় তিনি বৈচিত্র্যময় অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আঞ্চলিক সংযোগ ও পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা জোরদারে তাঁর প্রশাসনের অঙ্গীকার তুলে ধরেন।

    বিমসটেকের নেতৃত্ব গ্রহণ: ইউনূসের আঞ্চলিক দর্শন উপস্থাপন

    ২০২৫ সালের এপ্রিলে ব্যাংককে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ বিমসটেক (বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টিসেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কোঅপারেশন) শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। 

     

    তিনি সেখানে সংগঠনটির নেতৃত্ব গ্রহণ করেন এবং এক অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কার্যকর বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চল গঠনের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন, যা বাংলাদেশের আঞ্চলিক নেতৃত্বকে আরো সুদৃঢ় করে।

    বিমসটেক সম্মেলনে মোদির সঙ্গে ইউনূসের প্রথম বৈঠক, আঞ্চলিক সহযোগিতায় জোর

    বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাঁর প্রথম বৈঠক করেন। এটিই ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ-ভারত প্রথম উচ্চপর্যায়ের কুটনৈতিক সংলাপ।

    বৈঠকে অধ্যাপক ইউনূস তাঁর সরকারের পক্ষ থেকে ভারতের কাছে বহিষ্কৃত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধের বিষয়টি আবারও উত্থাপন করেন। একইসঙ্গে, তিনি গঙ্গা পানিচুক্তি নবায়ন ও তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন করতে আলোচনার আহ্বান জানান।

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা দুই দেশের মানুষের কল্যাণে সম্পর্ককে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে একসঙ্গে কাজ করতে চাই।’ জবাবে মোদি জানান, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে নয়াদিল্লি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখে।

    পাশাপাশি ইউনূস থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রার সঙ্গেও দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। সেখানে তিনি বাংলাদেশি নাগরিকদের, বিশেষ করে চিকিৎসা নিতে যাওয়া রোগীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার অনুরোধ জানান।

    বৈঠকে দুই নেতা বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করার উপায় নিয়েও আলোচনা করেন। চট্টগ্রাম-থাইল্যান্ড সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালুর প্রস্তাব দেন ড. ইউনূস। অতীতেও চট্টগ্রাম-চিয়াং মাই রুটে এয়ারএশিয়ার ফ্লাইট ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    বিমসটেকের চেয়ারম্যান হওয়ার জন্য অধ্যাপক ইউনূসকে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী সিনাওয়াত্রা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে তাঁর সক্ষমতার ওপর আস্থা প্রকাশ করেন।

    এছাড়াও, সম্মেলনের ফাঁকে ইউনূস শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী হারিনিয়া আমারাসুরিয়া, ভূটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে এবং বিমসটেক মহাসচিব ইন্দ্র মণি পান্ডের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে তিনি বাংলাদেশের আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। 

    ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতির পথে এগুচ্ছে বাংলাদেশ

    প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতাগুলো তাঁর ঘোষিত ৩৬০-ডিগ্রি কূটনীতিরই স্পষ্ট প্রতিফলন। যার লক্ষ্য বাংলাদেশকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অঙ্গনে গঠনমূলক, ভারসাম্যপূর্ণ এবং সক্রিয় অংশগ্রহণকারী রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।

    প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার পাশাপাশি বড় পরাশক্তিদের সঙ্গে গঠনমূলক অংশীদারিত্ব গড়ে তুলে বাংলাদেশে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সুযোগ বাড়াতে চান অধ্যাপক ইউনূস।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, ড. ইউনূসের এই কৌশল দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্বার্থকে সামনে রেখে বাংলাদেশে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বাস্তববাদী পররাষ্ট্রনীতির প্রতিফলন।

    কোনো একক শক্তিশালী জোটের প্রতি পক্ষপাত না দেখিয়ে, কোনো দেশের অন্তর্বর্তী সরকার বিশ্বের সব প্রধান শক্তি, আঞ্চলিক প্রতিবেশী এবং আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছে, যা ইতিবাচক।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা একে বলেন, ‘এটি সত্যিকারের ৩৬০-ডিগ্রি কূটনীতি।’ তাঁর ভাষায়, ‘ঢাকা এখন সবার সঙ্গে কথা বলছে, আবার নিজেদের স্বার্থও রক্ষা করছে। আমরা বিশ্বকে দেখাতে সক্ষম হয়েছি, বাংলাদেশ এখন একটি উন্মুক্ত, স্থিতিশীল এবং ভবিষ্যত প্রসারী রাষ্ট্র।’

    বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই কুটনৈতিক কৌশল অধ্যাপক ইউনূসের দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ও নৈতিক নেতৃত্বেরই প্রতিফলন। তাঁর রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা ও বিশ্বজোড়া পরিচিতির কারণে আন্তর্জাতিক মহল বর্তমানে ঢাকার রূপান্তর পর্বের সঙ্গেও প্রকাশ্যে যোগাযোগে আগ্রহী।

    মার্কিন কূটনীতিকদের ঢাকা সফর: অব্যাহত সম্পর্কের বার্তা

    প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন প্রশাসন ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে কিছুটা অনিশ্চয়তা দেখা দিলেও ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিকোল এ. চুলিক এবং অ্যান্ড্রু হ্যারাপ ঢাকা সফর করেন।

    তাঁরা ড. ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, রোহিঙ্গা সংকট, গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, শ্রম অধিকার এবং তথ্যপ্রযুক্তি ও তৈরি পোশাক খাতে মার্কিন বিনিয়োগ সম্প্রসারণ বিষয়ে আলোচনা করেন।

     

    এই সফরের মাধ্যমে ওয়াশিংটন বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনে নিজেদের অব্যাহত সমর্থন ও ইউনূসের নেতৃত্বের প্রশংসা করে। মূলত এ সফর ছিল বাংলাদেশকে কৌশলগতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্ব দেওয়ারই স্পষ্ট বার্তা।

    আরব বিশ্বের সঙ্গে সংলাপ: কাতারে ইউনূসের চারদিনের সফর

    কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানির আমন্ত্রণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস চারদিনের সরকারি সফরে দোহা যান। সে সময় তিনি কাতারের কাছ থেকে বাংলাদেশের পুনর্গঠনে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস পান।

    কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান বিন জাসিম আল-থানি ইউনূসকে বলেন, ‘আমরা আপনার নেতৃত্বের ওপর আস্থা রাখি। আমরা বিশ্বাস করি, আপনি যেভাবে সংস্কার চালিয়ে যাচ্ছেন, তা বাংলাদেশকে আরো শক্ত ভিত্তিতে দাঁড় করাবে। কাতার সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত।’

    জাপানে কৌশলগত সফর: অর্থনৈতিক কূটনীতির ওপর জোর

    বাংলাদেশের বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব নতুনভাবে সাজানোর অংশ হিসেবে ২৮ থেকে ৩১ মে মোট চারদিনের সরকারি সফরে জাপান যাচ্ছেন ড. ইউনূস।

    টোকিওতে তাঁকে দেওয়া হবে লালগালিচা সংবর্ধনা এবং ‘গার্ড অব অনার’। এতেই বোঝা যায়, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সম্পর্ককে জাপান কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে।

    আগামী ৩০ মে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন ইউনূস। বৈঠকের মূল লক্ষ্য, বাংলাদেশের বাজেট ঘাটতি মোকাবেলায় একশ কোটি মার্কিন ডলারের সহজ শর্তে ঋণ নিশ্চিত করা।

    এই সফরে সাতটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হবে, যার আওতায় থাকবে জ্বালানি সহযোগিতা, শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও মানবসম্পদ উন্নয়ন।

    আলোচনায় উঠে আসবে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, নিরাপত্তা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক নানা বিষয়।

    জাপান ইতোমধ্যেই বঙ্গোপসাগরীয় শিল্প প্রবৃদ্ধি অঞ্চল (বিগ-বি) এবং ফ্রি অ্যান্ড ওপেন ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজির অধীনে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা আরো গভীর করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

    এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো, উচ্চমানের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বাংলাদেশকে জাপানের উৎপাদন শৃঙ্খলের সঙ্গে যুক্ত করা, যাতে দু’দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো শক্তিশালী হয়।

    দ্বিপাক্ষিক কূটনীতির পাশাপাশি ইউনূস অংশ নেবেন ৩০তম নিক্কেই ফোরামেও। সেখানে তিনি লাওস ও পালাউয়ের প্রেসিডেন্ট এবং জাপান ও কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রীসহ বেশ কয়েকজন বৈশ্বিক নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। মূলত আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নীতিনির্ধারণে বাংলাদেশ আবারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ফেরার ইঙ্গিত দেবে অধ্যাপক ইউনূসের এ সফরের মাধ্যমে।

    রোহিঙ্গা সংকটে বৈশ্বিক মনোযোগ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ

    ব্যাপক কুটনৈতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে অধ্যাপক ইউনূস দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা সংকটের ওপর নতুন করে আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। এই সংকট বর্তমানে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে জটিল, মানবিক ও নিরাপত্তাজনিত চ্যালেঞ্জও বটে।

    জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ (ইউএনজিএ), বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ), কপ২৯ ও বিভিন্ন বিশ্বনেতার সঙ্গে বৈঠকেও তিনি বারবার মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদার সঙ্গে ফিরিয়ে নেওয়ার ওপর জোর দেন।

    বিশ্লেষকেরাও বলছেন, ইউনূসের প্রচেষ্টায় বিষয়টি আবারও বৈশ্বিক আলোচনায় স্থান পেয়েছে এবং অনেক উন্নয়ন সহযোগী দেশও বাংলাদেশের মানবিক প্রচেষ্টায় নতুন করে সমর্থন জানিয়েছে।

    অধ্যাপক ইউনূসের অনুরোধে জাতিসংঘ এ বছর নিউইয়র্কে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি বৈশ্বিক সেমিনার আয়োজনে সম্মত হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো, রোহিঙ্গা ইস্যুকে আন্তর্জাতিক পরিসরে আরো ব্যাপকভাবে তুলে ধরা এবং টেকসই প্রত্যাবাসন ও দায়িত্ব ভাগাভাগির জন্য রোডম্যাপ নির্ধারণ করা।

    ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, এই সেমিনার হবে বৈশ্বিক সংহতি পুনরায় নিশ্চিত, আন্তর্জাতিক সহায়তা আহ্বান এবং কূটনৈতিকভাবে নতুন সমাধানের পথ খোঁজার পথে গুরুত্বপূর্ণ এক মঞ্চ।

    অর্থনৈতিক কূটনীতিতে দৃশ্যমান সাফল্য: ঢাকায় গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্ট সামিট ২০২৫

    অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অর্থনৈতিক কূটনীতির অন্যতম বড় সাফল্য ছিল এ বছর ঢাকায় ‘বাংলাদেশ গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্ট সামিট’-এর সফল আয়োজন।

    এই আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলনে অংশ নেন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান ও উপসাগরীয় অঞ্চলের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা। এছাড়াও বৈশ্বিক কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান, পুঁজিপতি ও উন্নয়ন অর্থায়ন সংস্থার শীর্ষ নির্বাহীরাও এতে যোগ দেন।

    কূটনীতিকদের দাবি, রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের এই সময়েও ড. ইউনূসের আন্তর্জাতিক মর্যাদা ও গ্রহণযোগ্যতা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা বাড়িয়েছে। এই সম্মেলন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রতি বিশ্বের আস্থা বাড়াতে সহায়ক হবে বলেও মনে করেন তারা।

    সব মিলিয়ে অধ্যাপক ইউনূসের ৩৬০-ডিগ্রি কূটনীতি আজ বাংলাদেশের জন্য বিশ্ব সংযোগের এক নতুন চিত্র তৈরি করছে। এই পরিবর্তনের মূলে রয়েছে নিরপেক্ষ নেতৃত্ব, নৈতিক অবস্থান এবং উন্নয়ন ও ন্যায়বিচারভিত্তিক বৈশ্বিক অংশীদারত্বের প্রতি অঙ্গীকার। যা পরিবর্তনশীল নতুন বাংলাদেশকে আরও বেগবান ও মর্যাদাশীল করে তুলছে।

     

    (বাসস)/

    মন্তব্য

    ড. ইউনূসের ৩৬০ ডিগ্রি কূটনীতি: বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশের বিশ্বসংযোগ

    অনলাইন ডেস্ক
    ২৭ মে, ২০২৫ ১৮:৫২
    অনলাইন ডেস্ক
    ড. ইউনূসের ৩৬০ ডিগ্রি কূটনীতি: বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশের বিশ্বসংযোগ

    চব্বিশে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের মধ্যদিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা এবং শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস তাঁর কুটনৈতিক সুনামকে কাজে লাগিয়ে এ দেশের মসৃণ এ পরিবর্তনের গতিশীলতাকে সামলে যাচ্ছেন নিপুণভাবে। তিনি তাঁর ভারসাম্যপূর্ণ ও বহুমুখী কূটনীতি দিয়ে বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতিতে উন্মোচন করেছেন এক নতুন দিগন্ত । 

    বিশ্লেষকরা একে বলছেন ‘৩৬০ ডিগ্রি কূটনীতি’, যেখানে পূর্ব-পশ্চিম, উত্তর-দক্ষিণ, সবদিকেই ছড়িয়েছে তাঁর কুটনৈতিক উদ্যোগ।

    আগের ভারতকেন্দ্রিক বৈদেশিক নীতির ধারা থেকে সরে এসে ইউনূস প্রশাসন আস্থা ও নিরপেক্ষতাকে ভিত্তি করে গড়ে তুলছে নতুন এক কুটনৈতিক বাস্তবতা। 

    আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের ধারণা ছিল, শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলের পর নতুন কোনো প্রশাসনের জন্য বৈদেশিক নীতিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা হবে চ্যালেঞ্জিং। কারণ, তাঁর সময়কালের কুটনৈতিক কাঠামো ছিল প্রবলভাবে ভারত নির্ভর। 

    কিন্তু নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অধ্যাপক ইউনূস সেই আশঙ্কা পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়ে তাঁর বৈশ্বিক খ্যাতি ও কুটনৈতিক দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে মসৃণ পরিবর্তনশীলতাকে সামলিয়ে পররাষ্ট্রনীতিকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ করে তুলেছেন।

    গত ২০২৪ সালের আগস্টে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ড. ইউনূস দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক উদ্যোগের মাধ্যমে উচ্চপর্যায়ের কুটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছেন। এর লক্ষ্য ছিল, দেশের অভ্যন্তরীণ সংবেদনশীল রূপান্তর এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল আঞ্চলিক ভূরাজনীতির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশকে বৈশ্বিক অঙ্গনে নতুন করে দৃঢ় অবস্থানে দাঁড় করানো।

    বৃহত্তর এই কুটনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে কাল বুধবার সকালে চারদিনের জাপান সফরে যাচ্ছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সেখানে তিনি টোকিওতে অনুষ্ঠেয় ৩০তম নিক্কেই ফোরামে অংশ নেবেন এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। 

    অধ্যাপক ইউনূসের চীন সফরে যাওয়ার আগেই জাপান সফরসূচি ঠিক করা হয়েছিল। এমনটি করা হয়েছে, যাতে বোঝানো যায়, বিশ্ব রাজনীতিতে দ্বন্দ্ব বেড়ে গেলেও তাঁর সরকার সব দেশের সঙ্গে ভারসাম্য রেখে কূটনীতি করতে চায়।

    দ্রুত পরিবর্তনশীল এবং কৌশলগতভাবে পুনর্বিন্যস্ত বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায়, ড. ইউনূসের পররাষ্ট্রনীতি সুস্পষ্ট বার্তা দেয় যে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গঠনমূলক এবং স্বাধীন ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে চায়।

    বাইডেন থেকে শি জিনপিং, শি থেকে মোদি, আঞ্চলিক রাজধানী থেকে আন্তর্জাতিক ফোরাম সব দিকেই ইউনূসের কূটনীতির হাত প্রসারিত হয়েছে। ‘৩৬০ ডিগ্রি কূটনীতি’ বলতে বোঝানো হয় একটি পূর্ণাঙ্গ, সামগ্রিক ও সুষম পররাষ্ট্রনীতি, যেখানে প্রতিটি দিক বিবেচনায় রাখা হয়।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বহুমুখী কূটনীতি বাংলাদেশের বৈদেশিক সম্পর্কের কৌশলগত পুনর্বিন্যাসকে নির্দেশ করে। এর মাধ্যমে ঐতিহ্যগত মিত্রদের পাশাপাশি নতুন জোটও গড়ে তোলা হচ্ছে। যার লক্ষ্য হলো রাজনৈতিক রূপান্তরের সময়ে জাতীয় স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং আন্তর্জাতিক বিশ্বে বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করা।

    প্রথম বড় কুটনৈতিক সাফল্য: সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশিদের ক্ষমা

    অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বে প্রথম গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সাফল্য আসে সংযুক্ত আরব আমিরাতে। ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় শতাধিক বাংলাদেশি শ্রমিককে সাজার আদেশ দিয়েছিল দেশটির আদালত। তবে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ও আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সরাসরি আলোচনার পর তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়।

    পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এই ঘটনাকে ‘অভূতপূর্ব’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি আরো বলেন, ‘এমন ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি।’ তৌহিদ হোসেন এই সাফল্যের কৃতিত্ব দেন অধ্যাপক ইউনূসের আন্তর্জাতিক মর্যাদা ও কৌশলী কূটনীতিকে। তাঁর মতে, এর মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেন যে এই বিক্ষোভ ছিল বাংলাদেশের সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং কোনো বিদেশি সরকারের বিরুদ্ধে নয়।

    পশ্চিমা বিশ্বে দৃঢ় বার্তা:

    ড. ইউনূস আন্তর্জাতিক কূটনীতিক হিসেবে তাঁর আত্মপ্রকাশ ঘটান ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের ৭৯তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে, সেখানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ  বৈঠক করেন। 

    সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে আলোচনা হয় বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরো জোরদার, গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে।

     

    বাইডেনের সঙ্গে বৈঠকের পর ক্লিনটন গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অংশ নেন ড. ইউনূস। সেখানে তিনি তাঁর দীর্ঘদিনের মিত্র সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে উভয়েই সামাজিক ব্যবসা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করেন।

    এরই ধারাবাহিকতায় গত বছর ২৬ সেপ্টেম্বর একদিনেই ১৬টি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে অংশ নেন প্রধান উপদেষ্টা, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থানকে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেয়।

    সেদিন তিনি পাকিস্তান, কানাডা ও ইতালির প্রধানমন্ত্রী, ব্রাজিল ও মরিশাসের প্রেসিডেন্ট, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার ভল্কার তুর্কের সঙ্গে বৈঠক করেন।

    জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে অধ্যাপক ইউনূস বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান ‘নতুন বাংলাদেশ’-এর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার। তিনি জানান, নতুন বাংলাদেশ সকল নাগরিকের জন্য স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

    চলতি বছরের শুরুর দিকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল পাঠান যা ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের প্রতি অন্যতম প্রধান একটি পশ্চিমা রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক সমর্থন নিশ্চিত করে।

    ব্রিটিশ প্রতিনিধিদল জানায়, যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের প্রতি তাদের অব্যাহত সমর্থন বজায় রাখবে। দলটি ঢাকার সাথে ব্রেক্সিট-পরবর্তী প্রেক্ষাপটে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরো গভীর করতে লন্ডনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে।

    আন্তর্জাতিক সমর্থনের সূচনা: মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা সফর

    বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অক্টোবরের শুরুতে প্রথম বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ঢাকা সফর করেন। এটি বহির্বিশ্বে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি দৃঢ় সমর্থনের বার্তা দেয়। 

    গত বছর ৪ অক্টোবর ৫৮ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল নিয়ে ঢাকায় আসেন আনোয়ার ইব্রাহিম। দলটিতে বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও শিল্প, পররাষ্ট্র, পরিবহণ এবং ধর্মবিষয়ক উপমন্ত্রীসহ সংসদ সদস্যরাও ছিলেন। এ সফর ছিল মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে ইউনূস সরকারের প্রতি শক্ত কুটনৈতিক সমর্থনের প্রতিফলন।

     

    চার দশকের বেশি সময় ধরে অধ্যাপক ইউনূসের ঘনিষ্ঠজন বলে পরিচিত আনোয়ার ইব্রাহিম। এবারের সফরেও গণতন্ত্র ও সামাজিক ন্যায়ের প্রতি ইউনূসের অবিচল অঙ্গীকারের প্রশংসা করেন তিনি। আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, বাংলাদেশকে আরো বেশি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অধিকারভিত্তিক ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে ইউনূসের সক্ষমতার ওপর তাঁর পূর্ণ আস্থা আছে।

    দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে মালয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট আরো বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে আপনাকে (ড. ইউনূস) চিনি। আমি জানি, আপনি নারী-পুরুষের জীবন, মানবাধিকার ও মর্যাদার জন্য কতটা নিবেদিত। আপনার অবস্থানকে পুরোপুরি সমর্থন জানাই।’

    এর দুই মাস পর, তিমুর লেস্তের প্রেসিডেন্ট রামোস-হোর্তা প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ সফর করেন এবং বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে যোগ দেন।

    আনুষ্ঠানিকতার বাইরেও এই সফরের তাৎপর্য ছিল গভীর। এটি মিয়ানমারে চলমান সংকটপূর্ণ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় কৌশলগত জোট গঠনের দিকে ঢাকার দৃষ্টিভঙ্গিকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

    এই সফরগুলোর কুটনৈতিক গুরুত্ব নিহিত আঞ্চলিক কৌশলগত হিসেব-নিকেশে। মিয়ানমারের ওপর আসিয়ানের বর্তমান চেয়ার হিসেবে মালয়েশিয়ার প্রভাব দিন দিন বাড়ছে এবং রোহিঙ্গা সংকটে নেপিডো’র ওপর চাপ সৃষ্টিতে এ সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

    একই সঙ্গে আসিয়ানের পূর্ণ সদস্যপদ লাভের পথে থাকা টিমর-লেস্টে ভবিষ্যতে জোটটির অভ্যন্তরীণ গতিশীলতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠ হিসেবে উঠে আসতে পারে। 

    জলবায়ু কূটনীতিতে ‘থ্রি জিরো’ তত্ত্ব:

    প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ২০২৪ সালের নভেম্বরে আজারবাইজানের বাকুতে অনুষ্ঠিত কোপ২৯ জলবায়ু সম্মেলনে অংশগ্রহণ করে ন্যায়ভিত্তিক নেতৃত্ব ও টেকসই উন্নয়নের পক্ষে বৈশ্বিক কণ্ঠস্বর হিসেবে তাঁর অবস্থান আরো সুদৃঢ় করেন।

    সম্মেলনে তিনি বিশ্ব নেতাদের সামনে একটি নতুন সাহসী বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন ‘থ্রি জিরো’ নামে। যার মূলনীতি হলো: শূন্য কার্বন নিঃসরণ, শূন্য দারিদ্র্য ও শূন্য বেকারত্ব।

    বিশ্ব নেতৃবৃন্দ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের উদ্দেশে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ইউনূস বলেন, ‘তিনটি শূন্যের একটি নতুন পৃথিবী গড়ার বহুদিনের স্বপ্ন আমি এবার আপনাদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চাই।’

    তাঁর এই ভাষণ বিশ্বজুড়ে প্রতিনিধিদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে। ইউনূস বাংলাদেশকে কেবল জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হিসেবেই নয়, বরং বিশ্বের কাছে পথপ্রদর্শক  হিসেবেও উপস্থাপন করেন।

    ভাষণের বাইরেও, ইউনূস সম্মেলনজুড়ে পূর্ণ মাত্রার কুটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রাখেন। তিনি ২০টিরও বেশি রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন। এর মধ্যে ছিলেন, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোয়ান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এবং পাকিস্তান, ভূটান, নেপাল, মালদ্বীপ, বেলজিয়াম, ঘানার প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট।

    প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠকে অধ্যাপক ইউনূস তুরস্ক সফরের আমন্ত্রণ পান এবং বাংলাদেশের চলমান সংস্কার প্রক্রিয়ায় আঙ্কারার পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাসও লাভ করেন।

    একই সম্মেলনে স্বল্পোন্নত দেশসমূহ (এলডিসি) বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে দেখা করেন। পরে ড. ইউনূস সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে, ব্রাজিলের ভাইস প্রেসিডেন্টের স্ত্রী লু আলকমিন এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) ও ফিফা প্রধানদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন।

    সম্মেলনের ফাঁকে আয়োজিত তরুণদের এক সংলাপে ইউনূস তরুণদের উদ্দেশে বলেন, ‘তোমরা সাহস করে স্বপ্ন দেখো, তাহলে জীবনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু যদি স্বপ্নই না দেখ, কিছুই ঘটবে না।’

    দূরদর্শী নীতি, তৃণমূল পর্যায়ে ক্ষমতায়ন এবং উচ্চপর্যায়ের কূটনীতির সমন্বয়ের মাধ্যমে অধ্যাপক ইউনূস কপ২৯ সম্মেলনে এমন এক বাংলাদেশকে উপস্থাপন করেছেন, যেখানে এ দেশ জলবায়ু বিপর্যয়ের সম্মুখভাগে থাকার পাশাপাশি নৈতিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক সংস্কারের চালকের ভূমিকাতেও অবতীর্ণ।

    ঢাকায় ইউনূসের সঙ্গে ইইউ এর ২৭ রাষ্ট্রদূতের ঐতিহাসিক বৈঠক

    নজিরবিহীন কুটনৈতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ঢাকা ও নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ২৭ সদস্য রাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত একযোগে বৈঠক করেন।

    বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত ও ইইউ প্রতিনিধিদলের প্রধান মাইকেল মিলারের নেতৃত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা-ইইউ সম্পর্ককে আরো গভীর করতে জোটের সম্মিলিত প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন এই বৈঠক।

     

    বর্তমান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক বাস্তবতায় এই বৈঠককে বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্কের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে আখ্যায়িত করেন ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

    যেখানে ঢাকায় মাত্র সাতজন ইইউ রাষ্ট্রদূত নিযুক্ত আছেন, সেখানে নয়াদিল্লি থেকে ২০ জন রাষ্ট্রদূতের অংশগ্রহণ আয়োজনটিতে ব্যতিক্রমী ও তাৎপর্যপূর্ণ মাত্রা যোগ করে।

    এটি বাংলাদেশের নেতৃত্ব ও বহুমাত্রিক সহযোগিতার প্রতি ইইউর আস্থা ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়ার স্পষ্ট বার্তা বহন করে।

    দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে সাহসী কূটনীতিতে উজ্জ্বল ইউনূস:

    চলতি বছরের জানুয়ারিতে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বার্ষিক সম্মেলনে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অংশগ্রহণ অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য ছিল আরেকটি গৌরবময় অর্জন। সম্মেলনের পাশাপাশি অধ্যাপক ইউনূস সেখানে ৪৭টি আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং বেশ কয়েকজন বিশ্বনেতার সঙ্গে বৈঠক করেন।

    সে সময় তিনি বৈঠক করেন জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস, জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস, ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লায়েন এবং টিমর-লেস্টে, মালয়েশিয়া, ফিনল্যান্ড ও থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে। 

     

    এসব প্ল্যাটফর্মে ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি, টেকসই উন্নয়নের পাশাপাশি ক্ষমতাচ্যুত সরকারের আমলে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত এনে বাংলাদেশের জন্য অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টা।

    ভূরাজনৈতিক বিভাজনের এই সময়ে, দাভোসে ৫০ জন রাষ্ট্রপ্রধান ও শীর্ষস্থানীয় সিইওদের পাশে ইউনূসের উপস্থিতি বাংলাদেশকে গঠনমূলক বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করে। 

    তিনি ‘স্টেট অব ক্লাইমেট অ্যান্ড ন্যাচার’ এর মতো উচ্চ পর্যায়ের ফোরামের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে ভাষণ দেন। এছাড়াও সামাজিক উদ্যোক্তাদের শোয়াব ফাউন্ডেশনে বক্তব্য রাখেন। তিনি মেটা, ডিপি ওয়ার্ল্ড, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, বিশ্বব্যাংক ও মার্স্কের নেতাদের সঙ্গেও বৈঠকে অংশ নেন।

    এছাড়াও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেন ইউনূস। সাক্ষাৎকার দেন রয়টার্স, সিএনবিসি ইন্টারন্যাশনাল এবং ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে।

    দাভোসে ড. ইউনূসের ঝড়ো কুটনৈতিক তৎপরতা শুধু বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের অবস্থানকেই উঁচু করেনি বরং এটিও স্পষ্ট করেছে যে তাঁর নেতৃত্বে ঢাকা এখন নীতিনিষ্ঠ বহুপাক্ষিকতায় ও বৈচিত্র্যময় কৌশলগত অংশীদারত্বের দিকে এগুচ্ছে।

    জাতিসংঘ মহাসচিবের ঢাকা সফর: রোহিঙ্গা সংকট ও সংস্কারে ইউনূসের বৈশ্বিক প্রভাবের স্বীকৃতি

    চলতি বছরের ১৩ থেকে ১৬ মার্চ জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বাংলাদেশ সফর করেন। এই সফরকে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের আন্তর্জাতিক মর্যাদা ও সক্রিয় কূটনীতির একটি শক্তিশালী স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হয়। দেশের ইতিহাসের অন্যতম জটিল, মানবিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময় তার গর্বিত নেতৃত্বের স্পষ্ট প্রতিফলন এই সফর।

    গুতেরেসের সফরের মূল প্রেক্ষাপট ছিল রোহিঙ্গাদের প্রতি সংহতি এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক মানবিক সহযোগিতায় বাংলাদেশের নেতৃত্বের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার স্বীকৃতি।

    কূটনীতির এক ব্যতিক্রমী উদাহরণ হিসেবে ইউনূস ও গুতেরেস একসঙ্গে কক্সবাজার সফর করেন। একইসঙ্গে সেখানে প্রায় এক লাখ রোহিঙ্গা ও স্থানীয় বাসিন্দার সঙ্গে ইফতার করেন। জাতিসংঘ কর্মকর্তারা একে ‘সংহতি মিশন’ হিসেবে অভিহিত করেন।

     

    সফরকালে গুতেরেস ইউনূসের নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, জাতীয় সংলাপ, সংস্কার ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশকে পূর্ণ সহায়তা দিতে প্রস্তুত জাতিসংঘ।

    ঢাকায় জাতিসংঘ মহাসচিব তরুণ নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ, নাগরিক সমাজের সঙ্গে আলোচনা এবং জাতিসংঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশনের সুপারিশ সম্পর্কেও মতবিনিময় করেন, যা জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ।

    জাতিসংঘ মহাসচিবের এই সফরে অধ্যাপক ইউনূস রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বৈশ্বিক পর্যায়ে বাংলাদেশের অবস্থানকে জোরালোই করেননি, পাশাপাশি দেশের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সময়ে তার সরকারের কূটনৈতিক গ্রহণযোগ্যতাও আরো দৃঢ় করেন।

    চীনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার:

    এ বছরের ২৮ মার্চ বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে চীনা প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সেখানে তাঁকে সম্মান জানাতে কার্যালয় থেকে বেরিয়ে এসে নিজে অভ্যর্থনা জানান চীনা প্রেসিডেন্ট।

    বৈঠকে প্রেসিডেন্ট শি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি বেইজিংয়ের পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন এবং দু’দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা আরো বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন।

     

    অধ্যাপক ইউনূস বাংলাদেশের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, অবকাঠামো প্রকল্প এবং আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা গড়ার ক্ষেত্রে চীনা বিনিয়োগ আহ্বান করেন। জবাবে, এসব প্রস্তাব ইতিবাচকভাবে বিবেচনার আশ্বাস দেন প্রেসিডেন্ট শি। সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো জোরদারে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

    দুই নেতার মধ্যে আঞ্চলিক বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। এর মধ্যে ছিল নদী ব্যবস্থাপনা ও রোহিঙ্গা সংকট। ড. ইউনূস বাংলাদেশের জন্য একটি ৫০ বছরের সমন্বিত নদী ও পানি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রণয়নে চীনের সহায়তা চান।

    এই সফরে অধ্যাপক ইউনূস ঢাকা-বেইজিং সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছেন। বিশেষত চিকিৎসা সহযোগিতা ও কৌশলগত অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে এ সফরে।

    বাংলাদেশের রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে চীনের ইউনান প্রদেশের সহযোগিতার উদ্যোগকে স্বাগত জানায় ঢাকা। সম্প্রতি বাংলাদেশি রোগী, চিকিৎসক ও ট্রাভেল এজেন্টের একটি প্রতিনিধি দলের কুনমিং সফরের পর সেটি বাস্তব রূপ পায়। চিকিৎসা সহযোগীতায় প্রতিবেশী ভারতের ওপর দীর্ঘদিনের নির্ভরতা কমিয়ে নতুন দিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয় এই উদ্যোগ।

    সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে, চীনা কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশে আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণেও আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

    অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে, তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা ও পুনর্গঠন প্রকল্পে (টিআরসিএমআরপি) চীনের বিনিয়োগ আহ্বান করেন ইউনূস। এ সময় তিনি বৈচিত্র্যময় অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আঞ্চলিক সংযোগ ও পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা জোরদারে তাঁর প্রশাসনের অঙ্গীকার তুলে ধরেন।

    বিমসটেকের নেতৃত্ব গ্রহণ: ইউনূসের আঞ্চলিক দর্শন উপস্থাপন

    ২০২৫ সালের এপ্রিলে ব্যাংককে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ বিমসটেক (বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টিসেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কোঅপারেশন) শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। 

     

    তিনি সেখানে সংগঠনটির নেতৃত্ব গ্রহণ করেন এবং এক অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কার্যকর বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চল গঠনের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন, যা বাংলাদেশের আঞ্চলিক নেতৃত্বকে আরো সুদৃঢ় করে।

    বিমসটেক সম্মেলনে মোদির সঙ্গে ইউনূসের প্রথম বৈঠক, আঞ্চলিক সহযোগিতায় জোর

    বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাঁর প্রথম বৈঠক করেন। এটিই ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ-ভারত প্রথম উচ্চপর্যায়ের কুটনৈতিক সংলাপ।

    বৈঠকে অধ্যাপক ইউনূস তাঁর সরকারের পক্ষ থেকে ভারতের কাছে বহিষ্কৃত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধের বিষয়টি আবারও উত্থাপন করেন। একইসঙ্গে, তিনি গঙ্গা পানিচুক্তি নবায়ন ও তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন করতে আলোচনার আহ্বান জানান।

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা দুই দেশের মানুষের কল্যাণে সম্পর্ককে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে একসঙ্গে কাজ করতে চাই।’ জবাবে মোদি জানান, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে নয়াদিল্লি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখে।

    পাশাপাশি ইউনূস থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রার সঙ্গেও দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। সেখানে তিনি বাংলাদেশি নাগরিকদের, বিশেষ করে চিকিৎসা নিতে যাওয়া রোগীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার অনুরোধ জানান।

    বৈঠকে দুই নেতা বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করার উপায় নিয়েও আলোচনা করেন। চট্টগ্রাম-থাইল্যান্ড সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালুর প্রস্তাব দেন ড. ইউনূস। অতীতেও চট্টগ্রাম-চিয়াং মাই রুটে এয়ারএশিয়ার ফ্লাইট ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    বিমসটেকের চেয়ারম্যান হওয়ার জন্য অধ্যাপক ইউনূসকে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী সিনাওয়াত্রা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে তাঁর সক্ষমতার ওপর আস্থা প্রকাশ করেন।

    এছাড়াও, সম্মেলনের ফাঁকে ইউনূস শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী হারিনিয়া আমারাসুরিয়া, ভূটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে এবং বিমসটেক মহাসচিব ইন্দ্র মণি পান্ডের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে তিনি বাংলাদেশের আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। 

    ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতির পথে এগুচ্ছে বাংলাদেশ

    প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতাগুলো তাঁর ঘোষিত ৩৬০-ডিগ্রি কূটনীতিরই স্পষ্ট প্রতিফলন। যার লক্ষ্য বাংলাদেশকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অঙ্গনে গঠনমূলক, ভারসাম্যপূর্ণ এবং সক্রিয় অংশগ্রহণকারী রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।

    প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার পাশাপাশি বড় পরাশক্তিদের সঙ্গে গঠনমূলক অংশীদারিত্ব গড়ে তুলে বাংলাদেশে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সুযোগ বাড়াতে চান অধ্যাপক ইউনূস।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, ড. ইউনূসের এই কৌশল দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্বার্থকে সামনে রেখে বাংলাদেশে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বাস্তববাদী পররাষ্ট্রনীতির প্রতিফলন।

    কোনো একক শক্তিশালী জোটের প্রতি পক্ষপাত না দেখিয়ে, কোনো দেশের অন্তর্বর্তী সরকার বিশ্বের সব প্রধান শক্তি, আঞ্চলিক প্রতিবেশী এবং আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছে, যা ইতিবাচক।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা একে বলেন, ‘এটি সত্যিকারের ৩৬০-ডিগ্রি কূটনীতি।’ তাঁর ভাষায়, ‘ঢাকা এখন সবার সঙ্গে কথা বলছে, আবার নিজেদের স্বার্থও রক্ষা করছে। আমরা বিশ্বকে দেখাতে সক্ষম হয়েছি, বাংলাদেশ এখন একটি উন্মুক্ত, স্থিতিশীল এবং ভবিষ্যত প্রসারী রাষ্ট্র।’

    বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই কুটনৈতিক কৌশল অধ্যাপক ইউনূসের দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ও নৈতিক নেতৃত্বেরই প্রতিফলন। তাঁর রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা ও বিশ্বজোড়া পরিচিতির কারণে আন্তর্জাতিক মহল বর্তমানে ঢাকার রূপান্তর পর্বের সঙ্গেও প্রকাশ্যে যোগাযোগে আগ্রহী।

    মার্কিন কূটনীতিকদের ঢাকা সফর: অব্যাহত সম্পর্কের বার্তা

    প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন প্রশাসন ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে কিছুটা অনিশ্চয়তা দেখা দিলেও ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিকোল এ. চুলিক এবং অ্যান্ড্রু হ্যারাপ ঢাকা সফর করেন।

    তাঁরা ড. ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, রোহিঙ্গা সংকট, গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, শ্রম অধিকার এবং তথ্যপ্রযুক্তি ও তৈরি পোশাক খাতে মার্কিন বিনিয়োগ সম্প্রসারণ বিষয়ে আলোচনা করেন।

     

    এই সফরের মাধ্যমে ওয়াশিংটন বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনে নিজেদের অব্যাহত সমর্থন ও ইউনূসের নেতৃত্বের প্রশংসা করে। মূলত এ সফর ছিল বাংলাদেশকে কৌশলগতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্ব দেওয়ারই স্পষ্ট বার্তা।

    আরব বিশ্বের সঙ্গে সংলাপ: কাতারে ইউনূসের চারদিনের সফর

    কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানির আমন্ত্রণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস চারদিনের সরকারি সফরে দোহা যান। সে সময় তিনি কাতারের কাছ থেকে বাংলাদেশের পুনর্গঠনে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস পান।

    কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান বিন জাসিম আল-থানি ইউনূসকে বলেন, ‘আমরা আপনার নেতৃত্বের ওপর আস্থা রাখি। আমরা বিশ্বাস করি, আপনি যেভাবে সংস্কার চালিয়ে যাচ্ছেন, তা বাংলাদেশকে আরো শক্ত ভিত্তিতে দাঁড় করাবে। কাতার সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত।’

    জাপানে কৌশলগত সফর: অর্থনৈতিক কূটনীতির ওপর জোর

    বাংলাদেশের বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব নতুনভাবে সাজানোর অংশ হিসেবে ২৮ থেকে ৩১ মে মোট চারদিনের সরকারি সফরে জাপান যাচ্ছেন ড. ইউনূস।

    টোকিওতে তাঁকে দেওয়া হবে লালগালিচা সংবর্ধনা এবং ‘গার্ড অব অনার’। এতেই বোঝা যায়, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সম্পর্ককে জাপান কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে।

    আগামী ৩০ মে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন ইউনূস। বৈঠকের মূল লক্ষ্য, বাংলাদেশের বাজেট ঘাটতি মোকাবেলায় একশ কোটি মার্কিন ডলারের সহজ শর্তে ঋণ নিশ্চিত করা।

    এই সফরে সাতটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হবে, যার আওতায় থাকবে জ্বালানি সহযোগিতা, শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও মানবসম্পদ উন্নয়ন।

    আলোচনায় উঠে আসবে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, নিরাপত্তা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক নানা বিষয়।

    জাপান ইতোমধ্যেই বঙ্গোপসাগরীয় শিল্প প্রবৃদ্ধি অঞ্চল (বিগ-বি) এবং ফ্রি অ্যান্ড ওপেন ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজির অধীনে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা আরো গভীর করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

    এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো, উচ্চমানের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বাংলাদেশকে জাপানের উৎপাদন শৃঙ্খলের সঙ্গে যুক্ত করা, যাতে দু’দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো শক্তিশালী হয়।

    দ্বিপাক্ষিক কূটনীতির পাশাপাশি ইউনূস অংশ নেবেন ৩০তম নিক্কেই ফোরামেও। সেখানে তিনি লাওস ও পালাউয়ের প্রেসিডেন্ট এবং জাপান ও কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রীসহ বেশ কয়েকজন বৈশ্বিক নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। মূলত আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নীতিনির্ধারণে বাংলাদেশ আবারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ফেরার ইঙ্গিত দেবে অধ্যাপক ইউনূসের এ সফরের মাধ্যমে।

    রোহিঙ্গা সংকটে বৈশ্বিক মনোযোগ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ

    ব্যাপক কুটনৈতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে অধ্যাপক ইউনূস দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা সংকটের ওপর নতুন করে আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। এই সংকট বর্তমানে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে জটিল, মানবিক ও নিরাপত্তাজনিত চ্যালেঞ্জও বটে।

    জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ (ইউএনজিএ), বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ), কপ২৯ ও বিভিন্ন বিশ্বনেতার সঙ্গে বৈঠকেও তিনি বারবার মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদার সঙ্গে ফিরিয়ে নেওয়ার ওপর জোর দেন।

    বিশ্লেষকেরাও বলছেন, ইউনূসের প্রচেষ্টায় বিষয়টি আবারও বৈশ্বিক আলোচনায় স্থান পেয়েছে এবং অনেক উন্নয়ন সহযোগী দেশও বাংলাদেশের মানবিক প্রচেষ্টায় নতুন করে সমর্থন জানিয়েছে।

    অধ্যাপক ইউনূসের অনুরোধে জাতিসংঘ এ বছর নিউইয়র্কে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি বৈশ্বিক সেমিনার আয়োজনে সম্মত হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো, রোহিঙ্গা ইস্যুকে আন্তর্জাতিক পরিসরে আরো ব্যাপকভাবে তুলে ধরা এবং টেকসই প্রত্যাবাসন ও দায়িত্ব ভাগাভাগির জন্য রোডম্যাপ নির্ধারণ করা।

    ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, এই সেমিনার হবে বৈশ্বিক সংহতি পুনরায় নিশ্চিত, আন্তর্জাতিক সহায়তা আহ্বান এবং কূটনৈতিকভাবে নতুন সমাধানের পথ খোঁজার পথে গুরুত্বপূর্ণ এক মঞ্চ।

    অর্থনৈতিক কূটনীতিতে দৃশ্যমান সাফল্য: ঢাকায় গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্ট সামিট ২০২৫

    অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অর্থনৈতিক কূটনীতির অন্যতম বড় সাফল্য ছিল এ বছর ঢাকায় ‘বাংলাদেশ গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্ট সামিট’-এর সফল আয়োজন।

    এই আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলনে অংশ নেন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান ও উপসাগরীয় অঞ্চলের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা। এছাড়াও বৈশ্বিক কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান, পুঁজিপতি ও উন্নয়ন অর্থায়ন সংস্থার শীর্ষ নির্বাহীরাও এতে যোগ দেন।

    কূটনীতিকদের দাবি, রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের এই সময়েও ড. ইউনূসের আন্তর্জাতিক মর্যাদা ও গ্রহণযোগ্যতা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা বাড়িয়েছে। এই সম্মেলন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রতি বিশ্বের আস্থা বাড়াতে সহায়ক হবে বলেও মনে করেন তারা।

    সব মিলিয়ে অধ্যাপক ইউনূসের ৩৬০-ডিগ্রি কূটনীতি আজ বাংলাদেশের জন্য বিশ্ব সংযোগের এক নতুন চিত্র তৈরি করছে। এই পরিবর্তনের মূলে রয়েছে নিরপেক্ষ নেতৃত্ব, নৈতিক অবস্থান এবং উন্নয়ন ও ন্যায়বিচারভিত্তিক বৈশ্বিক অংশীদারত্বের প্রতি অঙ্গীকার। যা পরিবর্তনশীল নতুন বাংলাদেশকে আরও বেগবান ও মর্যাদাশীল করে তুলছে।

     

    (বাসস)/

    মন্তব্য

    দেশত্যাগের প্রস্তুতি ১৮ ভিআইপির

    অনলাইন ডেস্ক
    ২৭ মে, ২০২৫ ১৭:৫৪
    অনলাইন ডেস্ক
    দেশত্যাগের প্রস্তুতি ১৮ ভিআইপির

    দুটি গোয়েন্দা সংস্থা নেতিবাচক প্রতিবেদন দেওয়ার পরও সাধারণ পাসপোর্ট পেয়েছেন ভিআইপিরা

    প্রত্যেকেই শেখ হাসিনা সরকারের ভিআইপি

    হত্যার অভিযোগ, ক্ষমতা খাটিয়ে সম্পদশালী হওয়ার অভিযোগ, অর্থ পাচারের অভিযোগ এবং শেখ হাসিনার সরকারকে অন্ধভাবে সমর্থন জুগিয়ে সুবিধা পাওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত ভিভিআইপি-ভিআইপিরা ক্ষমতার পালাবদলের পরিপ্রেক্ষিতে দেশ থেকে পালাতে চাইছেন।

    অন্তর্বর্তী সরকার এ ব্যক্তিদের আইনের আওতায় নিতে তাদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট বাতিল করেছে। বর্তমান সরকারের সংশোধিত নীতিমালা অনুযায়ী, সাবেক এ ক্ষমতাবানদের সাধারণ পাসপোর্ট প্রাপ্তির আবেদন তখনই গ্রহণ করা হবে যখন তাদের বিষয়ে দুটি তদন্ত সংস্থা ইতিবাচক প্রতিবেদন দেবে; অথচ নেতিবাচক প্রতিবেদন দেওয়ার পরও আওয়ামী লীগের আমলের ১৮ ভিআইপি সাধারণ সবুজ পাসপোর্ট পেয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক বিচারপতি, সাবেক রাষ্ট্রদূত, সাবেক সেনা কর্মকর্তা, সাবেক সিনিয়র সচিব, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সাবেক ভিসি এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা ও তাদের স্ত্রীরা।

    গোয়েন্দা সংস্থা আপত্তি জানানোর পর বিষয়টির সুরাহা করার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়য়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগে পাঠায় পাসপোর্ট অধিদপ্তর। পুনঃতদন্তের বিধান থাকলেও সুরক্ষা সেবা বিভাগ তা না করে সরাসরি অনাপত্তি দেয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, এসব পাসপোর্টের আবেদনের বিষয়ে দুটি তদন্ত সংস্থা নেতিবাচক প্রতিবেদন দিয়েছিল মন্ত্রণালয়কে।

    সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী লাল পাসপোর্ট ফেরত দিয়ে সাধারণ পাসপোর্টের আবেদন জানালে তা দেওয়ার জন্য বর্তমান সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা এর পক্ষে তদবির করেন। এ নিয়ে  সংবাদ প্রকাশ হলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। গত ৮ মে সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ থাইল্যান্ডে যান। তার দেশত্যাগ নিয়ে নীতিনির্ধারকদের মধ্যে হইচই পড়ে যায়। গত ১৫ বছরে সরকারের সহযোগীদের বিচারের আওতায় নেওয়া এবং বিভিন্ন সেক্টরে সংস্কার ও সুষ্ঠু নির্বাচনকে অগ্রাধিকার হিসেবে নিয়েছে বর্তমান সরকার। সরকার যখন কঠোর অবস্থানে তখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের পাসপোর্ট পেতে সহায়তা করছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। কূটনৈতিক পাসপোর্ট প্রত্যাহার করে সাধারণ পাসপোর্ট ইস্যুর বিষয়ে নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সাবেক মন্ত্রিসভার সদস্য, সদ্যবিলুপ্ত জাতীয় সংসদের সদস্যসহ যারা পদের কারণে কূটনৈতিক পাসপোর্ট নিয়েছেন, নিয়োগ বা কর্মকাল শেষ হলে তাদের এবং তাদের স্ত্রীদের পাসপোর্ট অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। উল্লিখিতদের মধ্যে যারা সাধারণ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করবেন, অন্তত দুটি তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তাদের অনুকূলে সাধারণ পাসপোর্ট ইস্যু করা যেতে পারে।

    কূটনৈতিক পাসপোর্টধারী ভিআইপিরা হলেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য হাসিবুর রশীদ ও তার স্ত্রী রেহানা বেগম; সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও তার স্ত্রী সাকিন রহমান চৌধুরী; পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স ইউনিটের কর্তা খুরশেদ আলমের স্ত্রী জাবীন আলম; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপকমিটির সদস্য এএসএম মাকসুদ কামালের স্ত্রী ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের ইংরেজি বিভাগের ডিন অধ্যাপক সৈয়দা আফসানা ফেরদৌসী; জ্বালানি ও বিদ্যুৎ গবেষণা কাউন্সিলের সাবেক চেয়ারম্যান সত্যজিৎ কর্মকার; পরিকল্পনা কমিশনের সাবেক সিনিয়র সচিব মোছাম্মৎ নাসিমা বেগম; বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক মেজর জেনারেল এ কে এম নাজমুল হাসান ও তার স্ত্রী মনোয়ারা বেগম; আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলাম ও তার স্ত্রী মারিয়াম খানম; কানাডার অটোয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের সাবেক হাইকমিশনার খলিলুর রহমান ও তার স্ত্রী নাজনীন আক্তার; বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ ও তার স্ত্রী শান্তি ঘোষ; আবুধাবিতে দায়িত্ব পালন করা রাষ্ট্রদূত মো. আবু জাফরের স্ত্রী সালমা আহমেদ, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) সাবেক নির্বাহী চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন মিয়া ও তার স্ত্রী খোদেজা বেগম; বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য দ্বীন মোহাম্মদ নুরুল হক ও তার স্ত্রী রোজিনা হক; বুয়েটের সাবেক উপাচার্য সত্য প্রসাদ মজুমদার; যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মো. আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী বিলকিস ফেরদৌসী এবং সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি কাশেফা হোসেন।

    বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. হাসিবুর রশিদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা রয়েছে, যার তদন্ত চলছে।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব খুরশেদ আলম ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের প্রতিবাদে পদত্যাগ করেন। সমুদ্রসীমা নির্ধারণবিষয়ক আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা পরিচালনাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন ও অন্যান্য সফলতার জন্য তাকে ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধু পদক দেওয়া হয়।

    কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্যের বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় সাবেক দুই উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান ও অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামাল এবং প্রক্টর গোলাম রব্বানীসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

    পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য মোছাম্মৎ নাসিমা বেগমের বিরুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত ১৫ লাখ পরিবারের কাছে বরাদ্দের টাকা না পৌঁছানোর অভিযোগ রয়েছে।

    একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা ও নির্যাতনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সাবেক বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলাম।

    বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী নির্যাতনের ঘটনায় সাবেক উপাচার্য ড. সত্য প্রসাদ মজুমদার, বুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেলসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে শাহবাগ থানায়।

    শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে গত আগস্টে পদত্যাগ করেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন।

    বিচারপতিদের আন্দোলনে পদত্যাগে বাধ্য হন বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি কাশেফা হোসেন। প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানও পদত্যাগে বাধ্য হন।

    বিগত সরকারের সময়ের এসব ভিআইপিকে সাধারণ পাসপোর্ট কেন দেওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্তি সচিব (নিরাপত্তা ও বহিরাগমন) শামীম খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নির্দেশনা মেনে পাসপোর্ট দিতে অনাপত্তি দেওয়া হয়েছে।’

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      দেশত্যাগের প্রস্তুতি ১৮ ভিআইপির

      অনলাইন ডেস্ক
      ২৭ মে, ২০২৫ ১৭:৫৪
      অনলাইন ডেস্ক
      দেশত্যাগের প্রস্তুতি ১৮ ভিআইপির

      দুটি গোয়েন্দা সংস্থা নেতিবাচক প্রতিবেদন দেওয়ার পরও সাধারণ পাসপোর্ট পেয়েছেন ভিআইপিরা

      প্রত্যেকেই শেখ হাসিনা সরকারের ভিআইপি

      হত্যার অভিযোগ, ক্ষমতা খাটিয়ে সম্পদশালী হওয়ার অভিযোগ, অর্থ পাচারের অভিযোগ এবং শেখ হাসিনার সরকারকে অন্ধভাবে সমর্থন জুগিয়ে সুবিধা পাওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত ভিভিআইপি-ভিআইপিরা ক্ষমতার পালাবদলের পরিপ্রেক্ষিতে দেশ থেকে পালাতে চাইছেন।

      অন্তর্বর্তী সরকার এ ব্যক্তিদের আইনের আওতায় নিতে তাদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট বাতিল করেছে। বর্তমান সরকারের সংশোধিত নীতিমালা অনুযায়ী, সাবেক এ ক্ষমতাবানদের সাধারণ পাসপোর্ট প্রাপ্তির আবেদন তখনই গ্রহণ করা হবে যখন তাদের বিষয়ে দুটি তদন্ত সংস্থা ইতিবাচক প্রতিবেদন দেবে; অথচ নেতিবাচক প্রতিবেদন দেওয়ার পরও আওয়ামী লীগের আমলের ১৮ ভিআইপি সাধারণ সবুজ পাসপোর্ট পেয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক বিচারপতি, সাবেক রাষ্ট্রদূত, সাবেক সেনা কর্মকর্তা, সাবেক সিনিয়র সচিব, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সাবেক ভিসি এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা ও তাদের স্ত্রীরা।

      গোয়েন্দা সংস্থা আপত্তি জানানোর পর বিষয়টির সুরাহা করার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়য়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগে পাঠায় পাসপোর্ট অধিদপ্তর। পুনঃতদন্তের বিধান থাকলেও সুরক্ষা সেবা বিভাগ তা না করে সরাসরি অনাপত্তি দেয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, এসব পাসপোর্টের আবেদনের বিষয়ে দুটি তদন্ত সংস্থা নেতিবাচক প্রতিবেদন দিয়েছিল মন্ত্রণালয়কে।

      সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী লাল পাসপোর্ট ফেরত দিয়ে সাধারণ পাসপোর্টের আবেদন জানালে তা দেওয়ার জন্য বর্তমান সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা এর পক্ষে তদবির করেন। এ নিয়ে দেশ রূপান্তরে সংবাদ প্রকাশ হলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। গত ৮ মে সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ থাইল্যান্ডে যান। তার দেশত্যাগ নিয়ে নীতিনির্ধারকদের মধ্যে হইচই পড়ে যায়। গত ১৫ বছরে সরকারের সহযোগীদের বিচারের আওতায় নেওয়া এবং বিভিন্ন সেক্টরে সংস্কার ও সুষ্ঠু নির্বাচনকে অগ্রাধিকার হিসেবে নিয়েছে বর্তমান সরকার। সরকার যখন কঠোর অবস্থানে তখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের পাসপোর্ট পেতে সহায়তা করছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। কূটনৈতিক পাসপোর্ট প্রত্যাহার করে সাধারণ পাসপোর্ট ইস্যুর বিষয়ে নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সাবেক মন্ত্রিসভার সদস্য, সদ্যবিলুপ্ত জাতীয় সংসদের সদস্যসহ যারা পদের কারণে কূটনৈতিক পাসপোর্ট নিয়েছেন, নিয়োগ বা কর্মকাল শেষ হলে তাদের এবং তাদের স্ত্রীদের পাসপোর্ট অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। উল্লিখিতদের মধ্যে যারা সাধারণ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করবেন, অন্তত দুটি তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তাদের অনুকূলে সাধারণ পাসপোর্ট ইস্যু করা যেতে পারে।

      কূটনৈতিক পাসপোর্টধারী ভিআইপিরা হলেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য হাসিবুর রশীদ ও তার স্ত্রী রেহানা বেগম; সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও তার স্ত্রী সাকিন রহমান চৌধুরী; পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স ইউনিটের কর্তা খুরশেদ আলমের স্ত্রী জাবীন আলম; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপকমিটির সদস্য এএসএম মাকসুদ কামালের স্ত্রী ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের ইংরেজি বিভাগের ডিন অধ্যাপক সৈয়দা আফসানা ফেরদৌসী; জ্বালানি ও বিদ্যুৎ গবেষণা কাউন্সিলের সাবেক চেয়ারম্যান সত্যজিৎ কর্মকার; পরিকল্পনা কমিশনের সাবেক সিনিয়র সচিব মোছাম্মৎ নাসিমা বেগম; বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক মেজর জেনারেল এ কে এম নাজমুল হাসান ও তার স্ত্রী মনোয়ারা বেগম; আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলাম ও তার স্ত্রী মারিয়াম খানম; কানাডার অটোয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের সাবেক হাইকমিশনার খলিলুর রহমান ও তার স্ত্রী নাজনীন আক্তার; বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ ও তার স্ত্রী শান্তি ঘোষ; আবুধাবিতে দায়িত্ব পালন করা রাষ্ট্রদূত মো. আবু জাফরের স্ত্রী সালমা আহমেদ, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) সাবেক নির্বাহী চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন মিয়া ও তার স্ত্রী খোদেজা বেগম; বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য দ্বীন মোহাম্মদ নুরুল হক ও তার স্ত্রী রোজিনা হক; বুয়েটের সাবেক উপাচার্য সত্য প্রসাদ মজুমদার; যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মো. আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী বিলকিস ফেরদৌসী এবং সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি কাশেফা হোসেন।

      বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. হাসিবুর রশিদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা রয়েছে, যার তদন্ত চলছে।

      পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব খুরশেদ আলম ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের প্রতিবাদে পদত্যাগ করেন। সমুদ্রসীমা নির্ধারণবিষয়ক আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা পরিচালনাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন ও অন্যান্য সফলতার জন্য তাকে ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধু পদক দেওয়া হয়।

      কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্যের বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় সাবেক দুই উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান ও অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামাল এবং প্রক্টর গোলাম রব্বানীসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

      পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য মোছাম্মৎ নাসিমা বেগমের বিরুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত ১৫ লাখ পরিবারের কাছে বরাদ্দের টাকা না পৌঁছানোর অভিযোগ রয়েছে।

      একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা ও নির্যাতনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সাবেক বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলাম।

      বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী নির্যাতনের ঘটনায় সাবেক উপাচার্য ড. সত্য প্রসাদ মজুমদার, বুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেলসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে শাহবাগ থানায়।

      শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে গত আগস্টে পদত্যাগ করেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন।

      বিচারপতিদের আন্দোলনে পদত্যাগে বাধ্য হন বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি কাশেফা হোসেন। প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানও পদত্যাগে বাধ্য হন।

      বিগত সরকারের সময়ের এসব ভিআইপিকে সাধারণ পাসপোর্ট কেন দেওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্তি সচিব (নিরাপত্তা ও বহিরাগমন) শামীম খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নির্দেশনা মেনে পাসপোর্ট দিতে অনাপত্তি দেওয়া হয়েছে।’

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য
        সর্বশেষ সংবাদ
          সর্বাধিক পঠিত