ঢাকা, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুরাদ গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৭ এপ্রিল, ২০২৫ ১৭:২৯
নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুরাদ গ্রেফতার

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. শাহে আলম মুরাদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর উত্তরা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ এ তথ্য জানানো হয়।

জানা গেছে,শাহে আলম মুরাদের বিরুদ্ধে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘটনায় মামলা রয়েছে।

 

(বাসস)

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    চিরিরবন্দরে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দুদকের অভিযানে ঘুষের টাকাসহ কাগজপত্র জব্দ

    নিজস্ব প্রতিবেদক
    ১৭ এপ্রিল, ২০২৫ ১৬:৫৮
    নিজস্ব প্রতিবেদক
    চিরিরবন্দরে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দুদকের অভিযানে ঘুষের টাকাসহ কাগজপত্র জব্দ

    জেলার চিরিরবন্দর উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দুদকের অভিযানে ঘুষের ৩৫ হাজার ৫ শত টাকাসহ কাগজপত্র জব্দ করা হয়েছে।

    দিনাজপুর সমন্বিত জেলা দুদক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. আতাউর রহমান সরকার গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ১১ টায় সাংবাদিকদের জানান, দলিল সম্পাদনের সময় ঘুষ গ্রহণের টাকা হাতেনাতে পাওয়ার অভিযোগে অফিস সহকারী দুলাল চন্দ্র রায়কে দিনাজপুর জেলা রেজিস্ট্রার গতকাল বুধবার রাতে সাময়িক বরখাস্ত করে।

    তিনি বলেন, দুদক সদর দপ্তরের অনুমতিক্রমে গতকাল বুধবার জেলার চিরিরবন্দর উপজেলা সাব রেজিস্ট্রার অফিসে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    গতকাল ১৬ এপ্রিল বুধবার বেলা দুটো থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত দিনাজপুর সমন্বিত দুদক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. আতাউর রহমান এর নেতৃত্বে এই দুর্নীতিবিরোধী এনফোর্সমেন্ট অভিযান চালানো হয়। চিরিরবন্দর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দুর্নীতি দমন কমিশন কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. আতাউর রহমান, সহকারি পরিচালক ইসমাইল হোসেন ও খাইরুল ইসলামের যৌথ অভিযানে অফিস সহকারী দুলাল রায়ের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণের নগদ ২৪ হাজার টাকা ও লুৎফর রহমানের কাছ থেকে সাড়ে ১১ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। এ সময় উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের অফিস সহকারি দুলাল রায়কে জেলা-রেজিস্ট্রার পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত এবং আরেক কর্মকর্তা লুৎফর রহমানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

    দুদক কর্তৃপক্ষ জানায়, কয়েকজন জমি ক্রেতা ও বিক্রেতা এবং নকল গ্রহীতারা অভিযান কালে দুদক কর্মকর্তাদের নিকট অভিযোগ করেন, চিরিরবন্দর সাব রেজিস্ট্রি অফিসের সাব-রেজিস্ট্রার মো. মেহেদী হাসান যোগদান করার পর থেকে, কয়েকজন দলিল লেখক, কয়েকজন নকল নবিশ, দলিল রেজিস্ট্রিসহ, দলিলের জাবেদা নকল উত্তোলনে বিভিন্ন ফিস- এর নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে থাকেন। সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের এসব স্টাফেরা বর্তমান সাব-রেজিস্ট্রার-এর জ্ঞাতসারে সরকারি বিধি অমান্য করে অতিরিক্ত টাকা ঘুষ হিসাবে গ্রহণ শুরু করেছেন। দলিল প্রতি সর্বনিম্ন ৩ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেয়া চালু করেছেন। এর ফলে জমি ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

    দুদক কার্যালয় সূত্রটি জানায়, এই বিষয়ে ১৫ দিন আগে থেকেই দিনাজপুর দুর্নীতি দমন কার্যালয়ের কর্মকর্তাগণ গোপনে ওই সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে নজরদারি শুরু করে। অবশেষে গতকাল বুধবার দুপুর দু'টা থেকে রাত ৯ টা পযন্ত দীর্ঘ ৭ ঘন্টাব্যাপী দুদক এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করে।

    এ বিষয়ে সাব-রেজিস্ট্রার মেহেদি হাসান এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে, তিনি এ বিষয় কোন বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানান। ফলে অভিযানের বিষয়ে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

    দিনাজপুর জেলা রেজিস্ট্রার মো. সাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘দুর্নীতি, অনিয়ম ও ঘুষ গ্রহণের সাথে যারা জড়িত রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে সরকারি বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

    দুদকের উপ-পরিচালক বলেন, ‘এনফোর্সমেন্ট অভিযানে প্রাপ্ত তথ্য প্রতিবেদনসহ দুদক সদর দপ্তরে প্রেরণ করা হবে। দুদক সদর দপ্তরের নির্দেশ অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

     

    বাসস

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধকে সুসংগঠিত করেছিল: উপদেষ্টা ফারুক ই আজম

      নিজস্ব প্রতিবেদক
      ১৭ এপ্রিল, ২০২৫ ১৬:৫২
      নিজস্ব প্রতিবেদক
      আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধকে সুসংগঠিত করেছিল: উপদেষ্টা ফারুক ই আজম

      মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম বলেছেন, মুজিবনগর সরকার ছিল আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি সাংবিধানিক সরকার। এটা আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে সুসংগঠিত করেছে। আন্তর্জাতিক বিশ্বের সঙ্গেও সংযোগ স্থাপন করেছে এ সরকার।

      আজ ১৭ এপ্রিল ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসে মুজিবনগর স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে উপদেষ্টা এ কথা বলেন।

      তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল আম বাগানে ঐতিহাসিক যে সরকার শপথ গ্রহণ করেছিল তা আমাদের জন্য এক বীরত্বের অধ্যায়।

      তখনকার নির্বাচিত যে নেতৃবৃন্দ ছিলেন, তারাই এ সরকার গঠন করেছেন। ১৭ এপ্রিল ছিল জাতির জন্য এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। আমরা গতকালে ফিরে যেতে পারব না। ইতিহাসের ওপর কোনো কিছু আরোপ করা যায় না।

      মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং মেহেরপুর জেলা প্রশাসন আয়োজিত মুজিবনগর দিবসে উপদেষ্টা আরো বলেন, ‘মুজিবনগর সরকারের নাম পরিবর্তনের কোনও ইচ্ছা এ সরকারের নেই। কারণ ইতিহাস কখনও মোছা যায় না। ইতিহাসকে ইতিহাসের জায়গায় রাখতে হয়। পরবর্তী নির্বাচিত সরকার এসে কী করবে এটি তাদের ব্যাপার।’

      তিনি বলেন, আমাদের অনেক গৌরবের বিষয় আছে, যেগুলো আমরা ইচ্ছে করে বিতর্কিত করতে চাই না। ইতিহাস অমোচনীয় থাকা উচিত।

      ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, যারা সত্যিকার মুক্তিযোদ্ধা তাঁরা প্রতিনিয়ত বিব্রতবোধ করছেন। মুক্তিযোদ্ধা না হয়েও অনেকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। এটি গ্লানিকর। এরই মধ্যে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে আমরা অনেক উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। বিভিন্ন রকমের প্রায় দুই হাজার ৭০০ এর অধিক মামলা আছে। এই মামলাগুলো নিষ্পত্তির প্রয়োজন আছে। আমরা আদালতের রায়ের অপেক্ষায় আছি।

      ভোর ৫টা ৪৩ মিনিটে গার্ড অব অনার ও জাতীয় সংগীতের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম, বীর প্রতীক। এ সময় ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল জাতীয় নেতৃবৃন্দকে গার্ড অব অনার প্রধানকারী দুই আনসার সদস্যকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। এরপর উপদেষ্টা মুজিবনগর স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

      এ সময় এখানে উপস্থিত ছিলেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইসরাত জাহান, মেহেরপুর জেলা প্রশাসক সিফাত মেহনাজ, পুলিশ সুপার মাকসুদা আক্তার খানমসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ।

      পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে উপদেষ্টা মুজিবনগর স্মৃতি কমপ্লেক্স ও আম্রকাননের বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেন।

       

      (বাসস)

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        সালমান এফ রহমানসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

        নিজস্ব প্রতিবেদক
        ১৬ এপ্রিল, ২০২৫ ১৯:২৯
        নিজস্ব প্রতিবেদক
        সালমান এফ রহমানসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

        মাত্র মাসখানেক আগে নিবন্ধিত একটি কোম্পানির মাধ্যমে এক হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং অর্থপাচারের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা ও আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি-র সাবেক চেয়ারম্যান সালমান এফ. রহমান ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাবেক চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলামসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছে।

        দুদকের সহকারী পরিচালক (বিশেষ তদন্ত-২) সাজ্জাদ হোসেন বাদী হয়ে কমিশনের অনুমোদনক্রমে এ মামলা দায়ের করেন। দুদকের নিয়মিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

        মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজশে অসৎ উদ্দেশ্যে আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি এবং অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে প্রস্তাবিত মর্টগেজ সম্পত্তির অস্বাভাবিক মূল্যায়নের মাধ্যমে একটি কৃত্রিম কোম্পানি শ্রীপুর টাউনশিপ লিমিটেড (এসটিএল) নামীয় বন্ডের মাধ্যমে ১ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করেন।

        ব্রিফিংয়ে জানায়, প্রকৃত ৮৭ কোটি টাকা মূল্যের জমিকে ১০২০ কোটি টাকা দেখিয়ে বন্ডের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ উত্তোলন করা হয়। পরে উক্ত অর্থ এসটিএল-এর চলতি হিসাব নং ০২১০২৬৪৩৩৭০০১-এ জমা করে, তার মধ্যে ২০০ কোটি টাকা এফডিআর করা হয় এবং বাকি ৮০০ কোটি টাকা বেক্সিমকো ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডসহ বেক্সিমকো গ্রুপ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন হিসাবে স্থানান্তর করা হয়।

        এ ছাড়াও ব্যাংকিং নিয়মনীতি উপেক্ষা করে সন্দেহজনক লেনদেনের মাধ্যমে এই অর্থ নগদে উত্তোলন এবং স্থানান্তর ও লেয়ারিং-এর মাধ্যমে মানি লন্ডারিং করা হয়।

        অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্তদের এই কর্মকাণ্ড দণ্ডবিধির ৪০৯/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/৪৭৭(ক)/১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১৮-এর ৪ ধারা লঙ্ঘন করেছে।

        মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন : আইএফআইসি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমান, সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: শাহ আলম সারোয়ার, বিএসইসি’র সাবেক চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলামসহ অন্যান্য ব্যাংক কর্মকর্তা, শ্রীপুর টাউনশীপ লিমিটেডের পরিচালক, সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির সিইওসহ মোট ৩০ জন।

        দুদক জানায়, প্রাথমিক অনুসন্ধানে উক্ত অভিযোগগুলোর সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়।

         

        (বাসস)

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য

          ঠিকাদার পলাতক, চরম ভোগান্তিতে এলাকাবাসী

          নিজস্ব প্রতিবেদক
          ১৬ এপ্রিল, ২০২৫ ১৯:৮
          নিজস্ব প্রতিবেদক
          ঠিকাদার পলাতক, চরম ভোগান্তিতে এলাকাবাসী

          কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার কয়রা উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের গ্র্যাজুয়েট মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে হায়াতখালি বাজার পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প ২০২৩ সালের এপ্রিলে শুরু হলেও, দীর্ঘ এক বছর পেরিয়ে গেলেও কাজের অগ্রগতি নেই বললেই চলে। সড়কের শুরুতে কিছু নিম্নমানের খোয়া ও বালু ফেলে কাজ শুরু করলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এস আর ট্রেডার্স হঠাৎই গা ঢাকা দেয় গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে।

          স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, শুধু বালির কাজ করেই প্রায় ১ কোটি ৫৫ লাখ টাকার বিল উত্তোলন করেছে ঠিকাদার মো. শহিদুল ইসলাম সোহেল (ওরফে পিল সোহেল)। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের প্রভাব খাটিয়ে এবং অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে বিল আদায় করেন তিনি। নিম্নমানের কাজের প্রতিবাদ করলে স্থানীয়দের হুমকি ও চাঁদাবাজি মামলার ভয় দেখানো হতো বলেও অভিযোগ তাদের।

          সরেজমিনে দেখা গেছে, ৩.৭৭৫ কিমি দীর্ঘ সড়কজুড়ে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে এসব গর্তে পানি জমে চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। শুকনো মৌসুমে ধুলার কারণে নাকাল হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও ছোট শিশুরা প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মধ্যে পথ চলতে বাধ্য হচ্ছে।

          মঠবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা মাস্টার হারুন অর রশিদ বলেন, “অনেক বছর ধরে এই রাস্তায় যাতায়াত করি, কিন্তু এমন দুরবস্থা আগে কখনো দেখিনি। বর্ষায় কাদা, শুকনোয় ধুলো। কাজের নামে মানুষকে বিপদে ফেলেছে ওরা।”

          স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রকল্পটির জন্য ৪ কোটি ৭৩ লাখ ৭৬ হাজার ৭৪৪ টাকার চুক্তি হয়। কাজ শেষ করার নির্ধারিত সময় ছিল ৫ এপ্রিল ২০২৪। তবে এলজিইডির তথ্যমতে, একাধিকবার তাগিদ ও ২৮ দিনের চূড়ান্ত নোটিশ দিয়েও কোনো সাড়া মেলেনি ঠিকাদারের পক্ষ থেকে। ফলে এলজিইডি ইতোমধ্যে কাজ বাতিলের সুপারিশ করেছে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে।

          ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মালিক মো. শহিদুল ইসলাম সোহেল বর্তমানে একাধিক মামলার পলাতক আসামি। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে।

          এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত এ সড়কটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করে তাদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটানো হোক এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

          কয়রা উপজেলা প্রকৌশলী মো. দারুল হুদা বলেন, কাজ শেষ করতে আমরা ঠিকাদারকে বার বার তাগিদপত্র ও ২৮ দিনের চূড়ান্ত নোটিশ দেয়ার পরও ঠিকাদার কোন উদ্যোগ গ্রহন করেনি। ফলে আমরা কাজটি বাতিলের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট সুপারিশও করেছি।

          প্রাসঙ্গিক
            মন্তব্য
            সর্বশেষ সংবাদ
              সর্বাধিক পঠিত