শিরোনাম
আমার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ তিনজনই নারী: তারেক রহমান
ডেস্ক রিপোর্ট: বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিনজনই হচ্ছেন নারী।
শনিবার আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে তারেক রহমান লিখেছেন ‘আমার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ তিনজনই হচ্ছে নারী।’
তারেক রহমান তার পোস্টে লিখেছেন, ‘আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিন মানুষ হলেন আমার মা, স্ত্রী এবং একমাত্র কন্যা। তিন জন অসাধারণ নারী। আমি সবসময় তাদের জন্য প্রতিটি সম্ভাবনা, সাফল্য এবং সুখ নিশ্চিত করতে চেয়েছি। আমি নিশ্চিত যে, আপনারা যারা এটি পড়ছেন তাদের অনেকেই একই অনুভূতি লালন করেন।’
১/১১-এর পট পরিবর্তনের পর তৎকালীন সরকারের নির্যাতনে অসুস্থ হয়ে সুচিকিৎসার জন্য লন্ডন যান তারেক রহমান। সঙ্গে স্ত্রী জোবায়দা রহমান এবং মেয়ে জায়মা রহমান।
দীর্ঘ দেড় যুগের বেশি সময় ক্ষমতায় থাকা শেখ হাসিনার সরকারের নির্যাতনের শিকার হন বেগম খালেদা জিয়াও। সরকারের নির্যাতনে চিকিৎসা না পেয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন বিএনপি চেয়ারপারর্সন। জানুয়ারির প্রথম সাপ্তাহে উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনিও লন্ডনে যান এবং বর্তমানে ছেলের বাসায় আছেন।
ফেসবুক পোস্টে তারেক রহমান আরো লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের তরুণী এবং নারীরা চারপাশের মানুষের মাধ্যমে ক্ষমতায়িত এবং সমর্থন পাওয়ার অধিকার রাখেন। প্রতিটি নারীরই যেকোনো পুরুষের মতো একই মর্যাদা, সুরক্ষা এবং সুযোগ উপভোগ করা উচিত।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লিখেছেন, ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবসে আমি আবারো নিশ্চিত করছি যে, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে পরিচালিত পূর্ববর্তী বিএনপি সরকারের মতো আমরা একটি ন্যায়সঙ্গত, সহনশীল এবং সম্মানজনক সমাজ তৈরির জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করব। যেখানে লিঙ্গ, বর্ণ বা ধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্য থাকবে না।’
নারী-পুরুষের সমান অধিকারের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান লিখেছেন, ‘আমাদের মেয়েদেরও আমাদের ছেলেদের মতো সমান সুযোগ থাকা উচিত। তাদেরকে ঘর ছেড়ে বাইরে আসতে হবে, তারা যেন কোনো হয়রানি ছাড়াই ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারে এবং কোনো ভয়ভীতি ছাড়াই নিজেদের মত প্রকাশ করতে পারে।’
একটি নিরাপদ এবং সুরক্ষিত সমাজে নারীর সম্ভাবনাকে স্বীকৃতি দেওয়ার মধ্যেই বিএনপির নীতি প্রণয়ন গভীরভাবে প্রোথিত উল্লেখ করে তারেক রহমান লিখেছেন, ‘আমাদের ‘পরিবার কার্ড’ কর্মসূচি, নারী উদ্যোক্তাদের জন্য এসএমই ঋণ, তরুণীদের শিক্ষিত করার জন্য শিক্ষা এবং বৃত্তিমূলক প্রকল্পের মতো উদ্যোগ নারীর ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আসুন আমরা একসঙ্গে চ্যাম্পিয়ন নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষাকে এগিয়ে নিয়ে যাই।’
বিডিআর হ’ত্যাকাণ্ডে ১৫ ব্যক্তিকে সাক্ষ্য দেয়ার আহ্বান তদন্ত কমিশনের
ডেস্ক রিপোর্ট: ঢাকায় পিলখানায় বিডিআর সদর দপ্তরে (বর্তমানে বিজিবি) ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি সংঘটিত হত্যাকাণ্ড বিষয়ক জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন ঘটনার তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট ১৫ জন ব্যক্তিকে সাক্ষ্য দেয়ার আহ্বান জানিয়ে বিশেষ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।
সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে কমিশন উপরোক্ত ব্যক্তিদের সাক্ষ্য গ্রহণ কার্যক্রম এই বছরের ৩১ মার্চের মধ্যে সম্পন্ন করতে চায় বিধায় সাক্ষীগণকে তাদের সুবিধানুযায়ী বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ৭ দিনের মধ্যে প্রস্তাবিত সময়সূচি ফোন অথবা ই-মেইল অথবা পত্রের মাধ্যমে কমিশনের ঠিকানায় লিখিতভাবে জানানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে যাদের সাক্ষ্য গ্রহণ অপরিহার্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ফজলে নূর তাপস, গোপালগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ঢাকা-১৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, জামালপুর-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মির্জা আজম, ঢাকা-৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, ৪৪ রাইফেল ব্যাটালিয়নের তৎকালীন অধিনায়ক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মুহাম্মদ শামসুল আলম, সাবেক ডিজি ডিজিএফআই লে. জেনারেল (অব.) মোল্লা ফজলে আকবর, সাবেক সেনা প্রধান জেনারেল (অব.) মঈন উ আহমেদ, সাবেক সেনা প্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ, সাবেক ডিজি র্যাব ড. হাসান মাহমুদ খন্দকার, সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুল কাহ্হার আকন্দ, সাবেক পুলিশ মহা-পরিদর্শক নুর মোহাম্মদ, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি মনিরুল ইসলাম।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ কমিশনের কার্যালয়ে হাজির হয়ে সাক্ষ্য দিতে পারবেন। সাক্ষ্য দিতে আগ্রহী ব্যক্তিগণ +৮৮০১৭১৪০২৬৮০৮ মোবাইল নম্বরে সরাসরি যোগাযোগ করে অথবা commission@bdr-commission.org ই-মেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করে সাক্ষাতের সময়সূচি নির্ধারণ করে কমিশনের কার্যালয়ে হাজির হয়ে সাক্ষ্য দিতে পারবেন। এছাড়া, আগ্রহী ব্যক্তিগণ অনলাইনেও সাক্ষ্য দিতে পারবেন। সেক্ষেত্রে, +৮৮০১৭১৪০২৬৮০৮ মোবাইল নম্বরে সরাসরি যোগাযোগ করে অথবা commission@bdr-commission.org ই-মেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করে সাক্ষাতের সময়সূচি নির্ধারণ করে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সাক্ষ্য দিতে পারবেন।
কমিশনের সরাসরি যোগাযোগের ঠিকানা-বিআরআইসিএম, ভবন ৭ম তলা, (সায়েন্স ল্যাবরেটরি) ড. কুদরত-ইখুদা রোড, ধানমন্ডি, ঢাকা-১২০৫।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, সাক্ষীগণের অসহযোগিতার ক্ষেত্রে জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন আইন অনুযায়ী কার্যকরি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
প্রকাশ্যে ধর্ষণের বিচারের দাবি গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের
ডেস্ক রিপোর্ট: ধর্ষণের বিচার দ্রুত ও প্রকাশ্যে করার দাবি জানিয়েছে গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ। শনিবার (৮ মার্চ) টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের সামনে এক মানববন্ধনে এ কথা বলেন সংগঠনটির নেতারা।
শিক্ষার্থীরা বলেন, ধর্ষিতা বিছানায় কাতরালেও ধর্ষণকারী বাহিরে ঘুরে বেড়ায়। রাষ্ট্র কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়াতেই ধর্ষণকারীরা সাহস পাচ্ছে। পোশাক কখনও ধর্ষণের কারণ হতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তারা।
তারা আরও বলেন, তনু থেকে শুরু করে সকল ধর্ষণের বিচার করতে হবে। জড়িতদের বিচার প্রকাশ্যে করতে হবে। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর হওয়ার আহ্বানও জানান তারা।
একদিন নয়, নারী দিবসের চেতনা লালিত হোক প্রতিদিন
মোঃ আয়নুল ইসলাম: প্রতি বছর ৮ই মার্চ পালিত হয় আন্তর্জাতিক নারী দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও প্রতিবছর যথাযোগ্য সম্মানের সাথে এই দিনটি উদযাপিত হয়। ১৯১০ সালের ৮ই মার্চ ডেনমার্কের কোপেনহেগেন শহরে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলনে জার্মানের সমাজতান্ত্রিক নেত্রী ক্লারা জেটকিন ৮ই মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালন করার প্রস্তাব করেন। এরপর ১৯৭৫ সালে জাতিসংঘ ৮ই মার্চকে "আন্তর্জাতিক নারী দিবস" হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় সারা বিশ্বে দিবসটি উদযাপিত হয়ে আসছে।
এবারের আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় "অধিকার, সমতা, ক্ষমতায়ন নারী ও কন্যার উন্নয়ন"।
নারী দিবসে বলছি একজন সফল নারীর গল্প। তিনি রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডীন ও ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সূচনা আখতার। শিক্ষকতার পাশাপাশি যুক্ত রয়েছেন বেশকিছু সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের সাথে। ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে নানা প্রসঙ্গে দ্যা রাইজিং ক্যাম্পাসের প্রতিনিধি মোঃ আয়নুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। তাঁর সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশটুকু নিচে তুলে ধরা হল-
দ্যা রাইজিং ক্যাম্পাস: আপনার জন্মস্থান, বেড়ে উঠা,লেখাপড়া,কর্মজীবন সম্পর্কে জানতে চাই?
সূচনা আখতার: ঢাকা বিভাগের কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার চরদেহুন্দা গ্রামে।
নরসুন্দা নদীর পাড় ঘেঁষে গড়ে উঠা কৃষিজমির অবারিত রত্নভান্ডার সমৃদ্ধ ও সবুজে ঘেরা অপরুপ গ্রামে আমার ছোটবেলা কাটে। প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত গ্রামে পড়ার সুবাদে আমি পেয়েছি প্রকৃতির সান্নিধ্য, দেখেছি মানুষের বেঁচে থাকার লড়াই আর বড় হয়েছি সহজ-সরল মানুষগুলোর নিঃশর্ত ভালোবাসায়।
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে পড়াশুনা করি কিশোরগঞ্জ জেলার সদর উপজেলায় অবস্থিত এস ভি সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং পৌর মহিলা কলেজ থেকে।
২০০৬-২০০৭ সেশনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগে ভর্তি হই। সেখান থেকে বিবিএ এবং এইচ.আর.এম. বিষয়ে এমবিএ ডিগ্রী অর্জন করি। পরবর্তীতে আমি আমার প্রথম কর্মজীবন শুরু করি ঈশাঁখা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ এর বিজনেস ফ্যাকাল্টির প্রভাষক হিসেবে। সেখানে চাকরিরত থাকাকালীন আমি ২০১৪-২০১৫ সেশনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস ফ্যাকাল্টির অধীনে এম.ফিল. এ ভর্তি হই এবং ২০২১ সালে সনদপ্রাপ্ত হই।
২০১৫ সালের ১৪ অক্টোবর আমি রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগে প্রভাষক পদে যোগদান করি এবং বর্তমানে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছি। চাকরি জীবনের শুরু থেকেই পাঠদানের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। তার মধ্যে ছাত্রী হলের হাউজ টিউটর, সহকারী প্রক্টর, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, হলের প্রভোষ্ট, আই.কিউ.এ.সি. সেলের অতিরিক্ত পরিচালক এবং ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডীন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও বেশকিছু সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছি ছাত্র জীবন থেকেই।
দ্যা রাইজিং ক্যাম্পাস: আপনার ছেলেবেলার কোনো মধুর স্মৃতি, যা আপনাকে আজও আলোড়িত করে। সে সম্পর্কে যদি কিছু বলেন?
সূচনা আখতার: ছোটবেলার একটা স্মৃতি আমাকে এখনো আলোড়িত করে, কিন্তু, সেটা ঠিক মধুর না। একবার এক ঝড়ের কবলে আটকে পরেছিলাম আমার নানাভাই সহ। রাস্তার মাঝে হঠাৎ ঝড়ের আক্রমনে আশ্রয় নিয়েছিলাম ছোট একটা নড়বড়ে যাত্রী ছাউনি/কোন একটা চালা ঘর যার তিনটা বেড়াই ঝড়ে উড়িয়ে নিয়েছিলো। প্রচন্ড ঝড়ের মুখে ঐ ছাউনি আমাদের কে রক্ষা করতে পারবেনা বুঝতে পেরে সুযোগ বুঝে নানাভাই আমাদের কে নিয়ে কিছুটা দূরের একটা বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। অনেকক্ষন ঝড়ের তাণ্ডব চলার পর আমরা যখন আমাদের গন্তব্যের উদ্দেশ্যে পুনরায় যাত্রা শুরু করেছিলাম তখন দেখেছিলাম চারপাশে অনেক বড় বড় গাছ, বাড়িঘর ভেঙে পড়ে আছে। সবকিছু তছনছ করে দেওয়া সেই ঝড়ের পরেও ঐ নড়বড়ে ছাউনি ঘরটি কে দাড়িয়ে থাকতে দেখে আমার শিশু মন সেদিন নানা ভাইকে অনেক প্রশ্ন করেছিল। কিন্তু এই স্মৃতি আমার আজও মনে আছে,নযখনই সেই রাস্তা দিয়ে যাই তখনই সেই ঝড়ের কথা আমার মনে পড়ে। সেদিন না বুঝতে পারলেও আজ আমি বুঝতে পারি কেন সেই ঘরটি সেদিন টিকেছিলো। আর তা হলো- "Survival of the fittest"- যা আমার জীবনের এই যাত্রায় প্রতিনিয়তই আমাকে অনুপ্রেরণা যোগায়।
দ্যা রাইজিং ক্যাম্পাস: একজন নারীর সফলতার মূলে কোন অনুষঙ্গগুলো সহায়ক ভূমিকা পালন করে? সেক্ষেত্রে পরিবারের সহযোগিতা কতখানি দরকার বলে আপনি মনে করেন?
সূচনা আখতার: একজন নারীর সফলতার মূলে যে অনুষঙ্গগুলো সহায়ক ভূমিকা পালন করে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- তার নিজের মধ্যে ধারন করা অদম্য ইচ্ছাশক্তি, প্রতিকূলতা কে জয় করার মত সাহস, আর নিজের প্রতি বিশ্বাস। আর আমাদের সামাজিক প্রেক্ষাপটে একজন মেয়ের মধ্যে এই সমস্ত বৈশিষ্ট্য ধারন করার জন্য পরিবারের সহযোগিতার কোন বিকল্প নেই বলে আমি মনে করি।
দ্যা রাইজিং ক্যাম্পাস: আপনার আজকের সফলতার পেছনে অবশ্যই বাবা-মায়ের ভূমিকা রয়েছে। তাদের সম্পর্কে যদি কিছু বলেন?
সূচনা আখতার: আমি আজও সফল কিনা সেটি জানিনা, তবে আমার আজকের এই অবস্থানে আসার পেছনে আমার বাবা-মায়ের ভূমিকা হয়ত লিখেও শেষ করতে পারবো না। আমার বাবা ছিলেন সময়ের সাথে চলা একজন প্রগতিশীল মানুষ। পড়াশোনায় কোন উচ্চতর ডিগ্রী না থাকলেও তিনি আমাকে স্বপ্ন দেখিয়েছিলে বড় জায়গায় পড়ার,সকল অবস্থায় সাহসের সাথে মোকাবিলা করার আর যাই করি যেন দৃঢ়তার সাথে ঠিক কে ঠিক আর ভুল তে ভুল বলতে পারি।
আমার মা একজন গৃহিনী-কিন্তু তিনি আমাকে উৎসাহ দিয়েছেন সংসার-বাচ্চা সামলানো ছাড়াও মেয়েদের নিজেদের জীবনে আরও অনেক কিছু করার আছে। এখন পর্যন্ত তার জন্যই আমার বাচ্চাদের জন্য আমাকে চিন্তা করতে হয় না, সেজন্যই বিশ্ববিদ্যালয়ের এতগুলো দায়িত্ব পালনের সাহস করতে পারছি। এর বাহিরে আমার স্বামী,শ্বশুরবাড়ি,আত্মীয়স্বজন, ছোটভাই সবাইকে আমি সর্বাবস্থায় আমার পাশে পেয়েছি।
দ্যা রাইজিং ক্যাম্পাস: পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে আপনি দায়িত্ব পালন করছেন। এই অবস্থানে আসার শুরুটা আপনার কীভাবে হয়েছিল?
সূচনা আখতার: পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে বর্তমান অবস্থান পর্যন্ত আসার যাত্রাটা আগেই উল্লেখ করেছি। কিন্তু আমার স্বপ্নটা ছোটবেলা থেকে এমন ছিলো না। এমন কি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়েও শিক্ষক হতে হবে, ভালো রেজাল্ট করতে হবে এমনটা ভাবিনি। যখন চাকরি জীবন শুরু করি তখন একবার নিজের সক্ষমতা যাচাই করতে চেয়েছিলাম শিক্ষক হিসবে। কিছুদিন পর দেখলাম ক্লাসরুমে পড়ানোটা আমাকে আনন্দ দিচ্ছে, শিক্ষার্থীদের সাথে আমার ছাত্রজীবনকে আবার উপলব্ধি করার সুযোগ পাচ্ছি আর সর্বোপরি কর্মজীবনেও আমার নিজস্বতা নিয়ে কাজ করার এই সহজ প্লাটফর্মটা তখন সিরিয়াস ভাবেই আমার জীবনের লক্ষ্য হয়ে উঠলো। এম.ফিল. এ ভর্তি হওয়ার পর বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্টারভিউ দিতে থাকলাম, তারপর একদিন সৃষ্টিকর্তা রিযিক লিখে দিলেন-রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। তবে এ যাত্রায় আমাকে অনেক কঠিন পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। নিজের পরিচিত পরিবেশ, সমমনা পরিজনের বাইরে এসে আমাকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে আমার প্রচন্ড ইচ্ছা শক্তির জন্যই হয়ত।
দ্যা রাইজিং ক্যাম্পাস: এই পথ পাড়ি দিতে কোনো বাঁধার সম্মুখীন কি হয়েছেন?
সূচনা আখতার: যদি বলি কি কি বাধার সম্মুখীন হয়েছি তাহলে তা হয়ত অনেকের জন্য ব্যক্তিগত আক্রমন হতে পারে অথবা প্রাতিষ্ঠানিক অবমাননা হতে পারে তাই সেদিকে যাচ্ছি না। তবে সত্যি একটা কথা বলতে চাই, "যে মেয়েটা সমান রাস্তায় হেঁটে বড় হয়েছে সে যখন উচুনিচু রাস্তায় সমান তালে হাঁটে- বুঝতে হবে তার মধ্যে অজেয়কে জয় করার মত অদম্য স্পৃহা রয়েছে।" আমি সৃষ্টিকর্তার দরবারে কৃতজ্ঞ তিনি আমার মধ্যে এই স্পৃহাটুকু দিয়েছেন। আর প্রার্থনা করি যেন সর্বাবস্থায় তিনি আমার সম্মান রক্ষা করেন।
দ্যা রাইজিং ক্যাম্পাস: আপনার অবসর কীভাবে কাটে, আপনার শখ সম্পর্কে যদি কিছু বলেন?
সূচনা আখতার: অবসর কাটে নেটওয়ার্কিং করে। কাজের সময়ে আত্মীয়স্বজনের খোজ নিতে পারিনা, চাইলেই সকল পারিবারিক বা সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে পারিনা। তাই অবসর সময়ে তার কম্পেনসেশন দেওয়ার চেষ্টা করি।
আর শখ- রান্না করা, ঘুরে বেড়ানো, মিউজিক শোনা।
দ্যা রাইজিং ক্যাম্পাস: নারী দিবস নিয়ে আপনার ভাবনা কী?
সূচনা আখতার: আন্তজাতিক নারী দিবস হিসেবে ৮ই মার্চ বিশ্বব্যাপী নানান প্রতিপাদ্যে প্রতিবছর পালিত হয় এই দিবসটি। কিন্তু তার, পরই আবার সবকিছু, যথারীতি চলে । এই জিনিসটুকু আমার ঠিক যথার্থ মনে হয় না। প্রতিটি ধর্মেই নারী উচ্চ আসনে থাকলেও বিভিন্ন সামাজিক,রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নারী তার যথাযোগ্য মর্যাদা পায় না- এটাই চরম বাস্তবতা। আমি বলছি না নারী পুরুষ সমান, কিন্তু একজন নারী তার নিজের শরীরে আর একটি প্রাণ ধারন করতে পারে- সৃষ্টিকর্তার দেওয়া এই মর্যাদার যদি আমরা সঠিক উপলব্ধি করতে পারতাম। তাহলে আজকে নারীদের অধিকার আদায়ের জন্য এত লড়াই, আন্দোলন করতে হতো না।
এই নারী দিবসে আমি শুভেচ্ছা জানাচ্ছি সবাইকে এবং আহ্বান জানাচ্ছি, শুধু একটি দিনে সীমাবদ্ধ না থেকে বছরের অন্যান্য দিনগুলোতেও আমরা যেন একে অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হই, সহমর্মী হই এবং সংবেদনশীল হয়ে ঘরে বাইরে কাজ করে যাই।
মাগুরার শিশুটির মাকে সহযোগিতার আশ্বাস তারেক রহমানের
ডেস্ক রিপোর্ট: মাগুরায় নির্যাতনের শিকার শিশুটির মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ সময় ওই শিশুর বর্তমান পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন এবং সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
শনিবার (০৮ মার্চ) সেই শিশুর মায়ের সঙ্গে কথা বলে শিশুটির শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন তিনি। এ সময় শিশুটির মাকে ন্যায়বিচার পেতে সব ধরনের সহযোগিতার কথা বলেন।
ফোনালাপে তারেক রহমান বলেন, মাগুরায় বিএনপির যত নেতাকর্মীরা আছেন, তারা সবাই শিশুটির পাশে থাকবেন।
ন্যায়বিচার পাওয়ার আশ্বাস দিয়ে তারেক রহমান বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে সব ধরনের চেষ্টা করব। শিশুটির সঙ্গে যারা অন্যায় করেছে তারা যেন আইন অনুযায়ী শাস্তি পায়।
এ সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আরও বলেন, শিশুটির চিকিৎসার জন্য যা প্রয়োজন আমরা চেষ্টা করব, আমাদের দলের অবস্থান থেকে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে সাংবাদিকদের কাছে শিশুটির মা তারেক রহমানের সঙ্গে ফোনে কথা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এসময় শিশুটির মা তার মেয়ের ওপর পাশবিক নির্যাতনের বর্ণনা তুলে ধরেন তারেক রহমানের কাছে। এটা শুনে তিনি আবারও বলেন, আমরা আমাদের অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব শিশুটি যাতে ন্যায়বিচার পায়।
পরে দলের নেতারা সবসময় পাশে থাকবে বলে আবারও আশ্বস্ত করেন তারেক রহমান। সবশেষে তিনি শিশুটির দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
এর আগে, শনিবার (০৮ মার্চ) দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, শিশুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক। ভেন্টিলেটর যন্ত্রের সাহায্যে তার শ্বাসপ্রশ্বাস চলছে।
আসাদুজ্জামান আরও বলেন, পাশবিক নির্যাতনের কারণে শিশুটির যৌনাঙ্গে ক্ষত রয়েছে। তার গলার আঘাত গুরুতর। শিশুটির চিকিৎসায় গাইনি ও অ্যানেসথেসিওলজি বিভাগের চিকিৎসকদের নিয়ে মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। তাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য