শিরোনাম
আশুলিয়ায় লা-শ পো-ড়ানোর মামলায় কনস্টেবল মুকুল কারাগারে
ডেস্ক রিপোর্ট: বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে আশুলিয়ায় ৬ ছাত্রকে হত্যার পর লাশ পোড়ানোর মামলায় পুলিশ কনস্টেবল মুকুলকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
আজ বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) সকালে বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন ৩ সদস্যের ট্রাইব্যুনাল আজ এ আদেশ দেন। একইসঙ্গে, আগামী ২৬ জানুয়ারি এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।
সকালে পুলিশ কনস্টেবল মুকুলকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করে গ্রেফতারি পরোয়ানা চায় প্রসিকিউশন। এরপর শুনানি শেষে আসামিকে গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় মালেক নামে আরেক পুলিশ সদস্য গ্রেফতার আছে। তাকে যেকোনো দিন ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে।
আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানোর মামলায় বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) সকালে পুলিশ সদস্য মুকুলকে নবাবগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া, একই মামলায় উপপরিদর্শক (এসআই) মালেককে কিশোরগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করা হয়।
এর আগে, লাশ পোড়ানোর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক সাংসদ সাইফুল ইসলাম ও ৪ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল।
শেখ হাসিনা ও তার দোসরদের নথি চাওয়ার পর সচিবালয়ে আগুন: রিজভী
ডেস্ক রিপোর্ট: শেখ হাসিনা ও তার দোসরদের নথি চাওয়ার পর সচিবালয়ে ভয়াবহ আগুন লাগা ও অনেক নথি পুড়ে যাওয়া দেশের মানুষকে ভাবিয়ে তুলেছে বলে মন্তব্য করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক আলোচনা সভায় রিজভী বলেন, এই আগুনের ঘটনায় মানুষের মনে বিরাট প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
রিজভী বলেন, চারদিকের বিভিন্ন ঘটনায় আমরা ভয়ার্ত। ব্যক্তিগতভাবে নয়, রাষ্ট্রীয়ভাবে ভয়ার্ত। আমরা এর আগেও দেখেছি যখন কোনো মন্ত্রী-সচিবের বিরুদ্ধে জনগণের প্রতিবাদ আসে, তখন সচিবালয়ের ফাইল গায়েব হয়ে যায়। আগুন লেগে যায়।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ এই নেতা বলেন, গতকালই সংবাদপত্রে দেখেছি, অন্তর্বর্তী সরকার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নথি চেয়ে পাঠিয়েছে। নথি চাওয়ার পর আগুন নিয়ে জনগণের মনে বিরাট প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সচিবালয়ের আগুনের ঘটনায় উচ্চ পর্যায়ের একজন নিরপেক্ষ ব্যক্তিকে দিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানান রিজভী।
উল্লেখ্য, ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, তারা সচিবালয়ে আগুন লাগার খবর পায় গতকাল বুধবার দিবাগত রাত ১টা ৫২ মিনিটে। দিবাগত রাত ১টা ৫৪ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছান ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রথমে ফায়ার সার্ভিসের আটটি ইউনিট কাজ করে। পরে ইউনিটের সংখ্যা বাড়ানো হয়। সবশেষ ফায়ার সার্ভিসের ১৯টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছিল। আজ সকাল ৮টা ৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আর দুপুর পৌনে ১২টায় আগুন পুরোপুরি নিভিয়ে ফেলেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।
সচিবালয়ের আগুন পরিকল্পিত হতে পারে : নৌবাহিনী কর্মকর্তা
ডেস্ক রিপোর্ট: সচিবালয়ে লাগা আগুন পরিকল্পিত হতে পারে। কারণ আগুনটা লেগেছে ছয় তলা, নয় তলার পাশাপাশি মাঝেও। এভাবে বিভিন্ন স্থানে শর্ট সার্কিট থেকে আগুন কখনো লাগে না। এটা পরিকল্পনা মাফিক হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন নৌ-বাহিনীর সিনিয়র চিফ পেটি অফিসার (পিও) আমিনুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) সচিবালয়ের ৭ নম্বর ভবনে আগুন লাগার পর ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে সহায়তায় নৌ-বাহিনীর একটি টিম মোতায়েন করা হয়।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আমিনুল ইসলাম বলেন, "যেখানে আগুন লেগেছে, সবকিছু পুড়ে গেছে। আমরা এখনো সবকিছু সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে পারিনি, তবে তা করব। নৌ-বাহিনীর টিম এখানে কাজ করছে।
পরিকল্পিত অগ্নিকাণ্ডের সন্দেহের বিষয়ে তিনি আরও বলেন, শর্ট সার্কিটের আগুন সাধারণত এক জায়গা থেকে শুরু হয়ে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে আগুন একসঙ্গে বিভিন্ন স্থানে লেগেছে, যা অস্বাভাবিক।
এর আগে, মধ্যরাতে সচিবালয়ের ৭ নম্বর ভবনে এ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। অগ্নিকাণ্ডের শুরুতে রাত ১টা ৫৪ মিনিট থেকে সচিবালয়ে অবস্থিত ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা করে। তবে তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় পর্যায়ক্রমে ১৯টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ করে।
এদিকে, আগুন নেভানোর কাজ করতে গিয়ে ট্রাকচাপায় সোহানুজ্জামান নয়ন নামে ফায়ার সার্ভিসের এক সদস্য নিহত হয়েছেন।
জানা গেছে, পানির পাম্প থেকে লাইনের সংযোগ দিতে সড়ক পার হওয়ার সময় ট্রাকের ধাক্কায় সোহানুজ্জামান নয়ন আহত হন। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সচিবালয়ে আগুনের ঘটনা তদন্তে ৭ সদস্যের কমিটি গঠন
ডেস্ক রিপোর্ট: রাজধানীর সেগুনবাগিচায় সচিবালয়ের ৭ নম্বর ভবনে আগুনের ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (জেলা ও মাঠপ্রশাসন) মোহাম্মদ খালেদ রহীমকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। এ কমিটির সদস্য-সচিব হবেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি (যুগ্মসচিব পদমর্যাদার নিচে নয়)।
সদস্য হিসেবে থাকবেন- জননিরাপত্তা বিভাগের প্রতিনিধি (যুগ্মসচিব পদমর্যাদার নিচে নয়), দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি (যুগ্মসচিব পদমর্যাদার নিচে নয়), স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রতিনিধি (যুগ্মসচিব পদমর্যাদার নিচে নয়), ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রতিনিধি এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের প্রতিনিধি।
সাত সদস্যের ওই কমিটিকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কমিটির কার্যপরিধিতে বলা হয়, অগ্নিকাণ্ডের উৎস ও কারণ উদঘাটন, অগ্নি দুর্ঘটনার পেছনে কারো ব্যক্তিগত বা পেশাগত দায়দায়িত্ব আছে কি না তা উদ্ঘাটন, এ জাতীয় দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করতে সুপারিশ প্রেরণ। কমিটি প্রয়োজনে এক বা একাধিক সদস্য কো-অপ্ট করতে পারবে।
বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ১টা ৫২ মিনিটে সচিবালয়ের ৭ নম্বর ভবনে আগুনের ঘটনা ঘটে। এতে ভবনের ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম ও নবম তলা পুড়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের ১৯টি ইউনিটের চেষ্টায় সাড়ে ৬ ঘণ্টা পর আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি।
হাসিনার দালালরা অপকর্মের ফাইল পুড়িয়ে দিল : সারজিস
ডেস্ক রিপোর্ট: সচিবালয়ে ঘাপটি মেরে থাকা হাসিনার দালালেরা বিভিন্ন অপকর্মের ফাইলগুলো আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠক ও জুলাই শহিদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সারজিস আলম।
বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে আইডি থেকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সারজিস আলম লিখেছেন, বিগত ১৬ বছরে আওয়ামী লীগের যারা চাটার দল ছিল তাদের মধ্যে অন্যতম একটা অংশ এই আমলারা। এদের ওপর ভর দিয়েই হাসিনা এই দেশে তার ক্ষমতা কুক্ষিগত করেছিল।
তিনি আরও লেখেন, যখনই বিপ্লবীরা হাসিনার অপকর্ম, চুরি, লুটপাট, দুর্নীতির দিকে নজর দিয়েছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে তখনই সচিবালয়ে ঘাপটি মেরে থাকা হাসিনার দালালেরা বিভিন্ন অপকর্মের ফাইলগুলোকে আগুনে পুড়িয়ে দিল।
সারজিস আরও লেখেন, রাষ্ট্র সংস্কার করতে হলে সবার আগে আমলাতন্ত্র ও প্রশাসনে যেসব চাটার দল এখনো ঘাপটি মেরে লুকিয়ে আছে তাদের শেকড় থেকে উপড়ে ফেলতে হবে।
সবশেষে তিনি লেখেন, সাবধান করার সময় আর নেই।
প্রসঙ্গত, দুই হাজার ছাত্র-জনতার প্রাণের বিনিময়ে স্বৈরাচার পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জনগণের যে প্রত্যাশা তার তেমন কিছুই পূরণ করতে পারছে না। উল্টো পূর্ববর্তী সরকারের অনেক কিছুই বহাল রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসররাই সুবিধা পাচ্ছে। অথচ গণহত্যার বিচার হচ্ছে না সঠিকভাবে। আসামিদের গ্রেফতার করা হচ্ছে না।
ফলে সরকার গঠনের পর থেকে প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো অঘটন ঘটছে। সর্বশেষ বাংলাদেশের প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার পরই এমন মন্তব্য করলেন সারজিস আলম।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য