শিরোনাম
বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত কবি হেলাল হাফিজ
ডেস্ক রিপোর্ট: রাজধানীর মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় কবি হেলাল হাফিজের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (১৪ বিকেল ৩টার দিকে শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে এই খ্যাতিমান কবিকে সমাহিত করা হয়।
এর আগে বাংলা একাডেমিতে কবির প্রথম জানাজা ও জাতীয় প্রেসক্লাবে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন কবির আত্মীয়-স্বজন ও ভক্ত-অনুরাগীসহ বিশিষ্টজনেরা।
শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর শাহবাগে অবস্থিত সুপার হোমের বাথরুমে পড়ে গিয়ে রক্তক্ষরণ হয় হেলাল হাফিজের। এসময় সুপার হোম কর্তৃপক্ষ বাথরুমের দরজা ভেঙে তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে। পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কবি হেলাল হাফিজ দীর্ঘদিন ধরে গ্লুকোমায় আক্রান্ত ছিলেন। পাশাপাশি কিডনি জটিলতা, ডায়বেটিস ও স্নায়ু জটিলতায় ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। ১৯৪৮ সালের ৭ অক্টোবর নেত্রকোনায় জন্মগ্রহণ করেন কবি হেলাল হাফিজ।
বিজয় দিবসে বুটেক্সে উদযাপন হবে হল ফিস্ট
ডেস্ক রিপোর্ট: বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুটেক্স) আয়োজিত হতে যাচ্ছে হল ফিস্ট-২০২৪। সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলে এবং মেয়েদের চারটি হলে একযোগে হল ফিস্ট অনুষ্ঠিত হবে। এতদিন পর হল ফিস্টের দেখা পেয়ে উচ্ছ্বাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক শিক্ষার্থীরা।
শহীদ আজিজ হলের শিক্ষার্থী সাঈফ মাহমুদ বলেন, হলে থাকলেও ক্লাস, ল্যাব এবং পরীক্ষার চাপে সিনিয়র-জুনিয়রদের সঙ্গে তেমন দেখা বা কথা বলা হয় না, ডাইনিংয়ে খাওয়ার সময় ছাড়া। কিন্তু হল ফিস্টের এই আয়োজন আমাদের জন্য এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা। এটি একটি উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করেছে।
গতকাল রাত ৩টা পর্যন্ত আমরা সবাই মিলে ক্রিকেটের জন্য নিলাম করেছি—সিনিয়র ও জুনিয়র একসঙ্গে। একসঙ্গে খেলছি, প্রোগ্রামের জন্য আয়োজন করছি। এসব অভিজ্ঞতা আমাদের পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করে এবং স্মৃতির পাতায় দাগ কাটে। সিনিয়ররা যখন হল ছেড়ে চলে যাবে, তখন এই স্মৃতিগুলোই আমাদের মনে থাকবে। জুনিয়ররা যখন আসবে, তখন এ ধরনের আয়োজন তাদের নতুনভাবে অনুপ্রাণিত করবে। এই ধরনের উৎসব হলজীবনকে আরও রঙিন ও অর্থবহ করে তোলে।
জি. এম. এ. জি. ওসমানী হলের শিক্ষার্থী ইমরান খান ফাহিম বলেন, ফিস্ট মানেই আনন্দ-উৎসব, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সিনিয়র-জুনিয়র মিলে আড্ডা-গল্প, খাওয়া-দাওয়া খেলাধুলার টুর্নামেন্ট আয়োজন—এবার সেটাই হতে যাচ্ছে ভেবে অন্যরকম এক অনুভূতি কাজ করছে। সেই সঙ্গে আমাদের ৪৫তম ব্যাচের ভাইয়েরা বর্ণিল এক ‘হলজীবন’ শেষ করে এখন পদার্পণ করবেন চাকরিজীবনে। হলের করিডোরে যাদের নিয়মিত দেখতাম আর শুনতাম, ‘কিরে, কেমন আছিস? সব ঠিকঠাক?’ এই ভ্রাতৃত্ববোধের শব্দগুলো শুনতে পাব না ভেবে মনে বিষণ্ণতাও কাজ করছে। ৪৫তম ব্যাচের ভাইদের জন্য অনেক দোয়া ও শুভকামনা থাকবে সবসময়। আশা করি হল ফিস্টের মাধ্যমে নিয়মিত ক্লাস, সিটি, ল্যাব, ভাইভা দিয়ে একঘেয়েমি রুটিনে ছুটে চলা জীবনে প্রশান্তির পাশাপাশি আমাদের সবার মাঝে পারস্পরিক সম্পর্কগুলো ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরও সুন্দর ও দৃঢ় হবে। সর্বোপরি, আমাদের জীবনে যুক্ত হবে হলজীবনের কিছু দারুণ স্মৃতি।”
জি. এম. এ. জি. ওসমানী হলের প্রভোস্ট ড. মো: সাইদুজ্জামান বলেন, প্রতি বছরের মতো এবারও আয়োজিত হচ্ছে হল ফিস্ট। বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী হল জি. এম. এ. জি. ওসমানী হল অত্যন্ত জাঁকজমকভাবে আয়োজন করছে এবারের হল ফিস্ট-২০২৪। নানারকম ইভেন্টে অংশগ্রহণের মাধ্যমে অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে ওসমানী হলে। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ৪৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে।
শহীদ আজিজ হলের প্রভোস্ট ড. মো: ইমদাদ সরকার বলেন, শহীদ আজিজ হলের ফিস্ট ১৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যা জুলাই বিপ্লবের পর প্রথম হল ফিস্ট। প্রভোস্ট টিম বিভিন্ন কমিটি গঠন করেছে, যারা স্বাধীনভাবে কাজ করে প্রোগ্রামটিকে সফল করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।
ফিস্টে হলের সকল বৈধ শিক্ষার্থীদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা থাকবে এবং অ্যালামনাইরা নির্দিষ্ট ফি দিয়ে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। ইনডোর ও আউটডোর গেম, পুরস্কার বিতরণ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও থাকবে। আশা করি, সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করবে।
নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনীতিবিদদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে সরে যাব: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
ডেস্ক রিপোর্ট: নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনীতিবিদদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে আমরা সরে যাবো বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন।
শনিবার দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে বেলাব উপজেলার সকল কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিগণের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি। সভার শুরুতে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে চূড়ান্তভাবে একটি নিরপেক্ষ এবং সঠিক নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর। এটা নিয়ে সন্দেহের কোনো সুযোগ নেই। আমাদের প্রথম কাজ হচ্ছে দেশে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা।
বাংলাদেশ ভারতের বর্তমান পরিস্থিতি বিষয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আমরা সব দেশের সঙ্গে সু- সম্পর্ক চাই সম্মানের ভিত্তিতে সমতার ভিত্তিতে। সেই লক্ষ্যেই এই সরকার কাজ করে যাচ্ছে। ভারতকে আমরা স্পষ্ট বার্তা দিয়েছি আমরা ভালো সম্পর্ক চাই। তবে সেটা দু'পক্ষেরই স্বার্থের ভিত্তিতে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল করিমের সভাপতিত্বে এসময় উপস্থিত ছিলেন সেতু বিভাগের সাবেক সচিব জাহিদ হোসেন, এম আর ডি আই এর অ্যাডভাইজার সাহিদ হোসেন, বাংলাদেশ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ গবেষণা কাউন্সিল (বিইপিআরসি) চেয়ারম্যান (সিনিয়র সচিব) মোহাম্মদ ওয়াহিদ হোসেন এনডিসি, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সাবেক এয়ারকোমডর খালিদ হোসেন, সহকারী পুলিশ সুপার (রায়পুরা সার্কেল) আফসান আল আলম, সহকারী কসিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ নাজমুল হোসেন, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আহসান হাবীব বিপ্লব, সাবেক সভাপতি অ্যাড. অলিউর রহমান কাওসার প্রমুখ।
বিচারের জন্য শহীদের লাশ তুলতে হবে কেন? প্রশ্ন সারজিসের
ডেস্ক রিপোর্ট: ২৪-এর গণহত্যার বিচারের জন্য শহীদদের লাশ কবর থেকে কেন তুলতে হবে-এমন প্রশ্ন রেখেছেন নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।
শনিবার(১৪ ডিসেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এ প্রশ্ন তোলেন তিনি।
সারজিস আলম তার পোস্টে বলেছেন, ‘শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার বিচারের জন্য তার লাশ যদি কবর থেকে তোলা না লাগে তাহলে ২৪-এর গণহত্যার বিচারের জন্য শহীদ হওয়া ভাই-বোনদের লাশ কবর থেকে কেন তুলতে হবে?’
প্রসঙ্গত, জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে শহীদ হওয়া অনেকের মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে কয়েকজনের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্ত করা হয়েছে।
কবিতাই কবি হেলাল হাফিজকে বাঁচিয়ে রাখবে : ফারুকী
কবি হেলাল হাফিজের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে ঢালিউড নির্মাতা ও সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেছেন, কবিরা তার কবিতার মাধ্যমে বেঁচে থাকবে। হেলাল হাফিজও তার কবিতার মাধ্যমেই বেঁচে থাকবে।
আজ শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) বাংলা একাডেমির নজরুল মঞ্চ প্রাঙ্গণে কবি হেলাল হাফিজের প্রথম জানাজা শেষে ফারুকী এ মন্তব্য করেন। এসময় কবির পরিবার, ভক্ত-অনুরাগীসহ বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন।
কবি হেলাল হাফিজের একাকী জীবন নিয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, তিনি তার পছন্দ অনুযায়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। তিনি এই জীবনেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন। আমার মনে হয় না, এ জীবন নিয়ে তার কোনো আক্ষেপ বা অভিযোগ ছিলো।
কবি হেলাল হাফিজকে মরণোত্তর কোনো পদক দেয়া হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ফারুকী বলেন, কবি কখনও পুরস্কার বা পদকের জন্য লেখেন না। তবে, কবির প্রতি কৃতজ্ঞতা হিসেবে জাতির পুরস্কার দেয়া উচিৎ। আমাদের দুর্ভাগ্য যে, আমরা বেঁচে থাকা অবস্থায় তাকে একুশে পদক বা স্বাধীনতা পদকের মতো কোনো পুরস্কারে ভূষিত করতে পারিনি। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় কাজ করবে বলেও জানান তিনি।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য