ঢাকা, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

বন্যা কবলিতদের জন্য জরুরি মানবিক সহায়তায় কাজ করছে অক্সফ্যাম

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৪ আগস্ট, ২০২৪ ১৮:২৫
নিজস্ব প্রতিবেদক
বন্যা কবলিতদের জন্য জরুরি মানবিক সহায়তায় কাজ করছে অক্সফ্যাম

প্রতিবেশী দেশ ভারতের উজান থেকে আসা পানির ঢল, ভারী বর্ষণ আর উপচে পড়া নদীর পানিতে সৃষ্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় প্লাবিত হয়েছে বাংলাদেশের ১২টি জেলা। বিপর্যস্ত হয়েছে প্রায় ৫০ লাখ মানুষের জীবন, এবং প্রাণ হারিয়েছেন ১৮ জন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আটকে পড়া বন্যাকবলিত দুর্গতদের মাঝে জরুরি মানবিক সহায়তা নিশ্চিতে বৈশ্বিক সম্প্রদায়কে পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা অক্সফ্যাম।

স্মরণকালের ভয়াবহতম বন্যায় সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়া সত্ত্বেও, এই সংকটটের সময় বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে অক্সফ্যাম দুর্গতদের সহায়তায় কাজ করছে। প্রদান করছে জরুরি মানবিক সহায়তা। বন্যার পানিতে কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ বিভিন্ন জেলায় ঘরবাড়িসহ বিভিন্ন অবকাঠামোর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি। বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ফেনী জেলা, যেখানে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে বিশুদ্ধ খাবার পানি, খাদ্য ও চিকিৎসা সেবার সীমিত সুযোগের মধ্যে বেঁচে থাকার জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে।

অক্সফ্যাম ইন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর আশীষ দামলে বাংলাদেশের এই বন্যা পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ যতগুলো মারাত্বক বন্যার সম্মুখীন হয়েছে, এটি তার মধ্যে অন্যতম; যেখানে লাখ লাখ মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ও বন্যাকবলিতদের জীবন রক্ষাকারী মানবিক সহায়তা প্রদানে জরুরিভিত্তিতে আমরা বৈশ্বিক সম্প্রদায়কে পাশে চাই।’

আশীষ দামলে আরও বলেন, ‘ইতোমধ্যে অক্সফ্যাম মাঠ পর্যায়ে দুর্গতদের পাশে দাঁড়িয়েছে। আমরা ব্যক্তি, সংগঠন এবং সম্প্রদায়; সকল পক্ষকে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছি।’

আকস্মিক বন্যার শুরু থেকেই অক্সফ্যাম ইন বাংলাদেশ পার্টনারদের সাথে নিয়ে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছে এবং জরুরি মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অক্সফ্যাম এই সহায়তা কার্যক্রমের পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে, যেখানে বিশুদ্ধ খাবার পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি (ওয়াশ), নারী ও শিশুর সুরক্ষা, আশ্রয় প্রদান এবং জীবিকা সহায়তার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনগুলো পূরণ করা হবে। এগুলোর মধ্যে পরিচ্ছন্নতা সামগ্রী, শিশুখাদ্য, রান্না করা খাবার এবং হাইজিন কিট বিরতণ উল্লেখযোগ্য।

এই বন্যায় ১২ জেলার মোট দুই হাজার মোবাইল টাওয়ার ধসে গেছে এবং সড়ক ও রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে করে ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম মারাত্নকভাবে ব্যহত হচ্ছে। দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দুই লাখ মানুষ গৃহহীন হয়েছে, পানিবন্দী প্রায় সাড়ে ৯ লাখ মানুষ, বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে ১১ লাখ মানুষ। এছাড়াও ৩.৫ লাখ হেক্টরের বেশি ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা আগামী দিনের খাদ্য নিরাপত্তায় বড় হুমকি হতে পারে।

বন্যাকবলিত ফেনীর বাসিন্দা নজরুল ইসলামের ভাষায়, ‘আমাদের সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। আমাদের ঘর, যেখানে আমরা এতোদিন আশ্রয় নিয়েছি, বন্যায় তা পুরোপুরি তলিয়ে গেছে। আমাদের খাওয়ার জন্য খাবার নেই, বিশুদ্ধ পানি নেই, সাহায্য চাওয়ার কোনো জায়গা নেই। আমরা প্রতিটি দিন সংগ্রাম করে টিকে আছি আর দোয়া করছি কোনো সাহায্য আসবে এবং আমাদেরকে এই দুঃস্বপ্ন থেকে উদ্ধার করবে।’

অক্সফ্যাম জরুরিভাবে বৈশ্বিক সম্প্রদায়ের কাছে ৩ মিলিয়ন ইউরো তহবিল সংগ্রহের জন্য আহ্বান জানাচ্ছে, যা ১ লাখ ৭০ হাজার দুর্গত মানুষের কাছে পৌঁছানোর মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সহায়ক হবে। এছাড়াও দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসনের জন্য ৫ মিলিয়ন ইউরো প্রয়োজন, যা ফেনী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং মৌলভীবাজারের আরও ৩ লাখ মানুষের স্যানিটেশন, অবকাঠামো ও জীবিকা পুনর্গঠনে ব্যয় হবে।

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    ফেনীর দুর্গম এলাকায় ত্রাণ পৌঁছে ‍দিলেন শায়খ আহমাদুল্লাহ

    নিজস্ব প্রতিবেদক
    ২৪ আগস্ট, ২০২৪ ১৭:৫৪
    নিজস্ব প্রতিবেদক
    ফেনীর দুর্গম এলাকায় ত্রাণ পৌঁছে ‍দিলেন শায়খ আহমাদুল্লাহ

    স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় আক্রান্ত ফেনীতে বন্যাদুর্গতদের উদ্ধার ও সহায়তায় ত্রাণ বিতরণ করছেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ। দাগনভূঞা উপজেলায় বন্যার্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করে ট্রলার করে আরো দুর্গম এলাকায় যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

    আজ শনিবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে ত্রাণবাহী স্বেচ্ছাসেবী দল নিয়ে ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার একটি দুর্গম এলাকায় পৌঁছেন বলে ফেসবুক পেজে জানান তিনি।

    এ সময় ফেসবুক লাইভে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, ‘আমরা ফেনী থেকে দেড়-দুই ঘণ্টা ট্রাক্টর করে ধীরে ধীরে এখানে এসে পৌঁছেছি।

    এখান থেকে ট্রলার করে আরো দুর্গম অঞ্চলে আমাদের যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতিমধ্যে এখানে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেছি। এখানে একটি ওরফান সেন্টার রয়েছে। এখানে যারা আশ্রয় নিয়েছে তাদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে।

    এর আগে গতকাল শুক্রবার (২৩ আগস্ট) দিবাগত রাতে আরেক পোস্টে ৫০ হাজার পরিবারের জন্য ভারী খাবারের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন শায়খ আহমাদুল্লাহ। তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ২০ হাজার পরিবারের জন্য শুকনা খাবারের প্যাকেজের কিছু অংশের কাজ শেষ হয়েছে। এই কাজ শেষ হতে আরো দুই দিন লাগবে।

    তা ছাড়া ৪০ হাজার পরিবারের জন্য ভারী খাবারের পরিকল্পনা থাকলেও তা বৃদ্ধি করে ৫০ হাজার করা হয়েছে। ভারী খাবারের কিছু অংশের কাজও সম্পন্ন হয়েছে আজ। শায়খ আহমাদুল্লাহ আরো জানান, বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর চার হাজার পরিবারের পুনর্বাসনের পরিকল্পনা থাকলেও এখন তা বাড়িয়ে পাঁচ হাজার করা হয়েছে। ঘর হারানো পাঁচ হাজার পরিবারকে টিন ও নগদ অর্থ সহায়তা করা হবে ইনশাআল্লাহ।

    এর আগে গত ২২ আগস্ট এক ফেসবুক পোস্টে শায়খ আহমাদুল্লাহ জানান, বন্যাদুর্গতদের উদ্ধার ও সহায়তায় ৫০০ টন ত্রাণ নিয়ে পাশে দাঁড়াবে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন।

    তাৎক্ষণিক ১০ টন খেজুর, ১০ টন চিড়া, ৫ টন চিনি, ৫ টন লবণ ও অন্য ত্রাণসামগ্রী নিয়ে তিনটি ট্রাক ফেনীর উদ্দেশে চলে গেছে। আজ ও কাল সেসব মাল পাঁচ হাজার পরিবারের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      রাতেই ছাড়া হবে কাপ্তাই হ্রদের পানি, সতর্কতা জারি

      নিজস্ব প্রতিবেদক
      ২৪ আগস্ট, ২০২৪ ১৭:২৫
      নিজস্ব প্রতিবেদক
      রাতেই ছাড়া হবে কাপ্তাই হ্রদের পানি, সতর্কতা জারি

      উজানে থেকে নেমে আসা ঢল ও কয়েক দিনের প্রবল বৃষ্টিতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদ থেকে পানি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্র।

      শনিবার (২৪ আগস্ট) বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের এক জরুরি বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

      এতে বলা হয়, কাপ্তাই লেকের পানির উচ্চতা আজ বিকেল ৩টায় ১০৭ দশমিক ৬৬ ফুট এমএসএল, যা বিপৎসীমার কাছাকাছি হওয়ায় লেকের উজান ও ভাটি এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণে আজ (শনিবার) রাত ১০টায় স্পিলওয়ের ১৬টি গেট ছয় ইঞ্চি পরিমাণ উঠিয়ে পানি নিষ্কাশন শুরু করা হবে। এতে নয় হাজার সিএফএস পানি নিষ্কাশিত হবে।

      আরও জানানো হয়, বর্তমানে লেকের ইনফ্লো ও বৃষ্টিপাত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ইনফ্লো বেশি হলে, অর্থাৎ পানির লেভেল অস্বাভাবিক বাড়লে স্পিলওয়ে গেট খোলার পরিমাণ পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে। বর্তমানে পাঁচটি ইউনিটের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে, যার ফলে ৩২ হাজার সিএফএস পানি নিষ্কাশিত হচ্ছে।

      প্রসঙ্গত, কাপ্তাই বাঁধ বাংলাদেশের রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলায় অবস্থিত ও চট্টগ্রাম থেকে ৬৫ কিলোমিটার উজানে কর্ণফুলি নদীর উপর নির্মিত একটি বাঁধ। কাপ্তাই হ্রদ নামে পরিচিত এটির একটি কৃত্রিম জলাধার রয়েছে যার পানি ধারণক্ষমতা ৫২,৫১,০০০ একর (২১,২৫,০০০ হেক্টর)। বাঁধ ও হ্রদটি নির্মাণের প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিল জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা। ১৯৬২ সালে এটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়। বাঁধের সঞ্চিত পানি ব্যবহার করে কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। ১৯৬২ ও ১৯৮৮ সালের মধ্যে এখানে সর্বমোট ২৩০ মেগাওয়াট (৩,১০,০০০ অশ্বশক্তি) বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতাসম্পন্ন জেনারেটর বসানো হয়। এটি বাংলাদেশের বৃহত্তম বাঁধ ও একমাত্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র। এছাড়া এখানে ‘কাপ্তাই ৭.৪ মেগাওয়াট সোলার পিডি গ্রিড কানেকটেড বিদ্যুৎকেন্দ্র' নামে দেশের প্রথম সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপিত হয়। পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভেতরে বাঁধের পাশে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের এই সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের অবস্থান।

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        ত্রিপুরা প্রশাসনের দায়িত্বহীনতা ও খামখেয়ালিপনা বন্যার মূল কারণ: তারেক রহমান

        নিজস্ব প্রতিবেদক
        ২৪ আগস্ট, ২০২৪ ১৭:১৯
        নিজস্ব প্রতিবেদক
        ত্রিপুরা প্রশাসনের দায়িত্বহীনতা ও খামখেয়ালিপনা বন্যার মূল কারণ: তারেক রহমান

        বন্যার মূল কারণ প্রতিবেশী দেশ ভারতের দায়িত্বহীনতা ও খামখেয়ালিপনা বলে মন্তব্য করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের এই বন্যা দেশের অভ্যন্তরে উদ্ভূত কোনও কারণে নয়। বন্যা কবলিত অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত হলেও সেটি পূর্বাঞ্চলের বন্যার মূল কারণ নয়। বরং এবারের বন্যার মূল কারণ উজানের দেশ প্রতিবেশী ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য প্রশাসনের দায়িত্বহীনতা ও খামখেয়ালিপনা। হঠাৎ করে বাঁধ খুলে বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ এলাকা ডুবিয়ে দিলেও একটি বারের জন্যও বাংলাদেশকে আগাম কোনও সতর্কতা দেয়নি তারা। ফলে বিস্তীর্ণ এলাকা ভাসিয়ে নিলেও বন্যা মোকাবিলায় বাংলাদেশ সামান্যটুকু প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পর্যন্ত পায়নি।

        তিনি দেশের বন্যাদুর্গত মানুষদের সহায়তায় রাজনৈতিক বা ধর্মীয় পরিচয় না দেখতে তার দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

        শুক্রবার (২৩ আগস্ট) এক ভিডিও বার্তায় বন্যার কারণ জানিয়ে বিএনপির দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে এই আহ্বান জানান তিনি।

        নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, আপনারা সমন্বিতভাবে বন্যাকবলিত এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়ান। তাদের প্রতি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিন। বন্যাকবলিত অঞ্চলের মানুষের জন্য খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা ও ওষুধের সহায়তা দিন এবং ব্যবস্থা নিন। আপনাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানাব যে, দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচার দেশে মানুষে-মানুষে হিংসা-বিরোধী-বিভেদ তৈরি করেছিল। কিন্তু আপনাদের প্রতি একান্ত অনুরোধ, মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে আপনারা দয়া করে কারো রাজনৈতিক ও ধর্মীয় পরিচয়কে প্রাধান্য দেবেন না। একই সঙ্গে আপনারা ব্যক্তিগত ও দলীয় উদ্যোগের পাশাপাশি বন্যার্তদের সহায়তার জন্য সরকার ও প্রশাসন আপনাদের কাছে কোনও সহযোগিতা চাইলে দয়া করে সাধ্যমত সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিন।

        দেশবাসীর উদ্দেশ্যে তারেক রহমান বলেন, দলমত নির্বিশেষে আমরা যদি ঐক্যবদ্ধভাবে বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়াই, যার যার সাধ্যমত বিপদগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসি আল্লাহর রহমতে আমরা এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় সক্ষম হব, ইনশাআল্লাহ।

        তারেক রহমান বলেন, হঠাৎ করেই আকস্মিক বন্যায় দেশের উত্তর-পূর্ব এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। পূর্বাঞ্চলে জেলার পর জেলা প্লাবিত হওয়ায় মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন লাখ লাখ মানুষ। জীবন ও যানমালের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এরই মধ্যে জীবন গেছে কয়েকজন মানুষের। ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন।

        বন্যা কবলিত এলাকার মানুষগুলো এখন সহায়-সম্বল হারিয়ে লাখ লাখ মানুষ এখন নিদারুণ অসহায় বলে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এমন পরিস্থিতিতে কোনও অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ করে এখন সময় ক্ষেপণেরও সময় নেই। বিএনপি বিশ্বাস করে বন্যাকবলিত মানুষের জীবন ও সম্পদকে রক্ষা করাই এই মুহূর্তে প্রধান অগ্রাধিকার।

        দেশের বন্যা পরিস্থিতিতে আমি সারাদেশে বিশেষ করে যেসব এলাকা এখনো আক্রান্ত হয়নি, সেসব এলাকার বিএনপি ও এর অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, আপনারা সমন্বিতভাবে বন্যা কবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ান, সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিন। তাদের নিরাপত্তায় পাশে দাঁড়ান।

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য

          সাতক্ষীরায় ৪ শহীদ পরিবারের সম্মানে দোয়া ও নগদ অর্থ প্রদান

          নিজস্ব প্রতিবেদক
          ২৪ আগস্ট, ২০২৪ ১৬:৪৩
          নিজস্ব প্রতিবেদক
          সাতক্ষীরায় ৪ শহীদ পরিবারের সম্মানে দোয়া ও নগদ অর্থ প্রদান

          মোঃ কামরুজ্জামান,  সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, দেশের জনগণ ১৫টি বছর ধরে হত্যা, খুন, গুম সহ চরম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। আহত হয়েছেন, চোখ হারিয়েছেন, পা হারিয়েছেন, পঙ্গু হয়েছেন, ব্যবসা হারিয়েছেন, সম্পদ হারিয়েছেন। আমরা যেটি দীর্ঘদিন যাবৎ করতে পারিনি এই ছাত্র আন্দোলন এক মাসেই তা করে দেখিয়েছে। তাই নির্বাচন নিয়ে কোন ব্যস্ততা নয়। দেশি-বিদেশি সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে বর্তমান সরকার সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। তাদেরকে সহযোগী করা আমাদের প্রত্যেকের নৈতিক দায়িত্ব। শনিবার সকাল ১০টায় সাতক্ষীরা শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শাহাদাত বরণকারী ৪ শহীদ পরিবারের সম্মানে আয়োজিত দোয়া ও নগদ অর্থ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

          সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমীর মুহাদ্দিস রবিউর বাশারের সভাপতিত্বে এবং জেলা সেক্রেটারী মাওলানা আজিজুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারী ও খুলনা অঞ্চল পরিচালক মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ও মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানী। এছাড়া অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, সাবেক এমপি গাজী নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশ মসজিদ মিশনের জেলা সভাপতি মাওলানা আব্দুল বারী, শহর ছাত্র শিবিরের সভাপতি আল মামুন, জেলা শিবিরের সভাপতি ইমামুল ইসলাম, শহর জামায়াতের আমীর মোঃ জাহিদুল ইসলাম, সদর উপজেলা জামায়াতের আমীর মাও. শাহাদাৎ হুসাইন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমস্বয়ক রিফাত হোসেন, নাজমুল ইসলাম রনি, নাহিদ হাসান এবং ছাত্র আন্দোলনে শহীদ আসিফ হুসাইনের গর্বিত পিতা মাহবুবুল আলম। এসময় শহীদ আলম সরদার, হাফেজ আনাছ বিল্লাহ এবং আদম আলীর পরিবার উপস্থিত ছিলেন।

          অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে জেলা নায়েবে আমীর শেখ নুরুল হুদা, সহকারী সেক্রেটারী মাহবুবুল আলম, অধ্যাপক গাজী সুজায়াত আলী, প্রভাষক ওমর ফারুক, কর্মপরিষদ জামশেদ আলম, রুহুল আমিন, এড আব্দুস সুবহান মুকুল, মাওলানা ওসমান গণি, সমন্বয়ক সুহাইল মাহদীন সাদি, সদর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারী মাও. মোশাররফ হুসাইন, শহর জামায়াতের সেক্রেটারী খোরশেদ আলম, কলারোয়া উপজেলা জামায়াতের আমীর মাও. কামরুজ্জামান, আশাশুনি উপজেলা জামায়াতের আমীর তারিকুজ্জামান তুষার, সেক্রেটারী মাও. মোশাররফ হুসাইন, দেবহাটা উপজেলা জামায়াতের আমীর মাও. ওলিউল ইসলাম, সেক্রেটারী হাফেজ এমদাদুল হক, কালিগঞ্জ উপজেলা জামায়াতে আমীর মাও. আব্দুল ওহাব সিদ্দিকী, শ্যামনগর উপজেলা জামায়াতের আমীর মাও. আব্দুর রহমান, সেক্রেটারী মাও. গোলাম মোস্তফা, শহর নায়েবে আমীর মাওলানা মুস্তাফিজুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারী হাবিবুর রহমান, এড. আবু তালেব, মাষ্টার বদিউজ্জামান, আনিছুর রহমানসহ অনেকে।

          প্রধান অতিথির বক্তব্যে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, কোন অনুষ্ঠান করতে গেলে পুলিশ বাধা দিতো, স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার পতনের পর সেই পুলিশ ফোন করে খোজ খবর নিচ্ছে। এর জন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করতে হবে। তিনি আরো বলেন, পতনের ৪ দিন আগে হাসিনা জামায়াতকে নিষিদ্ধ করেছিল। হাসিনা ভেবেছিল জামায়াত শিবির নিষিদ্ধ করে বাঁচতে পারবে। কিন্তু সে বাঁচতে পারে নাই বরং তাকেই দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে। তুমি জামায়াত নিষিদ্ধ করেছো? অন্য দিকে বাংলাদেশের মানুষ তোমাকে নিষিদ্ধ করেছে। জামায়াতকে সম্মান দিয়েছে দেশের জনগন।

          মিয়া গোলাম পরওয়ার সাতক্ষীরার গণমানুষের তাগের কথা স্বীকার করে বলেন ১৫ বছরের আন্দোলনে জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্র শিবিরের প্রায় অর্ধশতাধিক ভাইকে শহীদ করা হয়েছে, আহত করা হয়েছে দেড় শতাধিক। ২৫৬টি বাড়ি ঘরে হামলা, ভাংচুর, লুটপাট করে ছাত্রলীগ যুবলীগের সন্ত্রাসীরা।

          সাতক্ষীরা জামায়তে ইসলামীর প্রাণপুরুষ কাজী শামসুর রহমান সাহেবের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন তার অবদান আজকের এই জামায়াতে ইসলামের বর্তমান অবস্থা। সাবেক এমপি আব্দুল খালেক মন্ডল এর কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, জেলখানায় থাকাকালিন তিনি কুরআনের হাফেজ হয়েছেন এবং সেখানেই তাকে তিলে তিলে হত্যা করা হয়েছে। তাঁর এ ত্যাগ সাতক্ষীরাবাসি স্মরণ রাখবে।

          গোলাম পরওয়ার আরো বলেন, শেখ হাসিনার পেটুয়া বাহিনীর হাতে প্রায় ১০০০ ছাত্র জনতা শহীদ হয়েছেন। কয়েক হাজার আহত হয়েছেন। আহতরা হাত হারিয়ে পা হারিয়ে চোখ হারিয়ে বিছানায় চোখের পানি ফেলছে তাদের চোখের পানি এখনো শুকায়নি। এখন ভোটের জন্য আপনারা ব্যন্ত হবেন না। কারণ আওয়ামী ষড়যন্ত্রকারীরা সক্রিয় না থাকলেও বিদেশে বসে তারা ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখে তারা দুই দুইবার পাল্টা অভ্যুত্থানের চেষ্টা করেছিল। দেশের জনগণ তা প্রতিহত করেছে।

          শহীদ পরিবারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন আপনি সন্তান হারিয়েছেন, স্বামী হারিয়েছেন, স্বজন হারিয়েছেন মন খারাপ করবেন না, আপনি সারা বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষের কাছে গর্বিত ও সম্মানিত। দেশ ও জাতির স্বার্থে আপনার সন্তান প্রিয়জন শাহাদাত বরণ করেছেন তারা আল্লাহর কাছে অবশ্যই শহীদের মর্যাদা পাবেন। বাংলাদেশ আপনার স্বজনদের রক্তের বিনিময়ে পূরনায় স্বাধীন হয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি আপনাদের পাশে ছিল, আছে এবং থাকবে ইনশাল্লাহ। শহিদ পরিবারের অভাব অভিযোগ অবশ্যই দূর হবে।

          এরপর সেক্রেটারি জেনারেল সাতক্ষীরায় কোটা আন্দোলনে শহীদ চারজন ভাইয়ের রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করেন। দোয়া মোনাজাতে তিনি বন্যার্তদের জন্য আল্লাহর কাছে সহযোগিতা কামনা করেন প্রতিবেশী দেশ শত্রুতা করে দেশের মানুষকে ভাসিয়ে দিতে চায়। আল্লাহ তুমি তাদেরকে ষড়যন্ত্র থেকে বিরত রাখ। আমীন

          বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারী ও খুলনা অঞ্চল পরিচালক মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক বলেন, শেখ হাসিনা পালাই না কিন্তু এ কথা বলার পরদিনই দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। জামায়াতে ইসলামী পালাই না জামায়াতের নেতারা হাসি মুখে ফাঁশির রশিকে চুম্বন করেছে। এদেশের জনগণ তাদেরকে আর কোন ষড়যন্ত্র করতে দেবে না। তিনি শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, যেখানের মাল সেখানে চলে গেছে। ছাত্র আন্দোলনে আহতদের স্মরণে তিনি বলেন এই জীবন্ত শহীদদের রক্তে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি এখনো তাদের শরীর থেকে বুলেট বের করা সম্ভব হয়নি। তিনি জনশক্তিকে উদ্দেশ্য করে বলেন আমীরে জামায়াত বলেছেন আমরা প্রতশোধ নেবে না তবে যারা সন্তান হারিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে, সেসকল ভিকটিমরা মামলা করতে চাইলে আমরা অবশ্যই তাদেরকে সহযোগিতা করব। আইন হাতে তুলে নেবেন না পুলিশকে সহযোগিতা করুন, পুলিশের উপর চড়াও হবেন না। আপনারা যেভাবে হিন্দুদের মন্দির পাহারা দিয়েছেন আগামীতে তাদের বড় উৎসব এই উৎসবের দিনগুলোতে তাদের মন্দির এবং তাদের নিরাপত্তা দায়িত্বে আপনাদেরকে পালন করতে হবে। আইন হাতে তুলে নেবেন না। আপনাদের সমস্যা থাকলে দেশের গর্বিত সন্তান সেনাবাহিনী দায়িত্ব হচ্ছে তাদেরকে বলুন। ডিসি সাহেবকে বলুন। এসপি সাহেবকে বলুন। আমরা তাদের মাধ্যমে আপনাদের সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করব।

          মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানী তার বক্তব্যে কুরআনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন স্বৈরাচার সরকার চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র করেছিলো আল্লাহ তাদের সকল চক্রান্ত ষড়যন্ত্রে তাদেরকেই গ্রাস করেছে।

          কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ মাওলানা আবুল কালাম আজাদ তার বক্তব্যে বলেন আল্লাহর কাছে দুটি জিনিস সবচাইতে প্রিয় ১. শহীদের এক ফোটা রক্ত এবং মুত্তাকির এক ফোটা চোখের পানি। স্কুল-কলেজের কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের অশ্রুসিক্ত চোখ নিয়ে বলেছিল এই সরকার স্বৈরাচার সরকারকে আমরা চাই না আল্লাহ তাদের এই দোয়াকে কবুল করেছেন।

          অনুষ্ঠানের সভাপতি মুহাদ্দিস রবিউল বাশার বলেন. বাংলাদেশ নতুনভাবে স্বাধীন হয়েছে এই স্বাধীনতা রক্ষা করার জন্য আমরা অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করব দেশের শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখব।

          অনুষ্ঠানে শহর জামায়াতের আমির জাহিদুল ইসলাম তার বক্তব্য বলেন মুগ্ধের মত রক্ত দিয়ে হলেও আবু সাঈদের মত বুক পেতে দিয়ে হলেও আগামীর যে কোন ষড় যন্ত্র রুখে দেবো ইনশাআল্লাহ। সদর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা শাহাদাত হোসেন বলেন, ভোট ও ভাতের অধিকারের জন্য আমরা ৭১ সালে স্বাধীন হয়েছিলাম শেখ হাসিনা সেটাকে ধ্বংস করেছে। আমাদেরকে উপহার দিয়েছে আয়না ঘর।

          প্রাসঙ্গিক
            মন্তব্য
            সর্বশেষ সংবাদ
              সর্বাধিক পঠিত