শিরোনাম
সরকারি চাকরিতে কোটা পুনর্বহালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল
প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিল করে ২০১৮ সালে দেওয়া পরিপত্র সম্প্রতি অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্ট। এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।
রোববার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আবেদন করা হয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী। এ বিষয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে গত ৫ জুন প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলে ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর জারি করা পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন হাইকোর্ট। এর ফলে সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল থাকবে।
রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মোহাম্মদ (এসকে) সাইফুজ্জামান জামান ওইদিন জানান, এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল আবেদন করা হবে।
আদালতে ওই দিন রিটের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী মো. মুনসুরুল হক চৌধুরী। তার সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মোহাম্মদ (এসকে) সাইফুজ্জামান জামান।
সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলে ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর জারি করা পরিপত্র কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের সাতদিনের মধ্যে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছিল।
এ সংক্রান্ত রিটের শুনানি নিয়ে ২০২১ সালের ৬ ডিসেম্বর হাইকোর্টের বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।
নারী কোটা ১০ শতাংশ, মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০ শতাংশ এবং জেলা কোটা ১০ শতাংশ বাতিল করে ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর এ পরিপত্র জারি করা হয়।
তখন রিটকারীরা জানান, মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ কোটা নবম গ্রেড (পূর্বতন প্রথম শ্রেণি) এবং ১০ম থেকে ১৩তম গ্রেড (পূর্বতন দ্বিতীয় শ্রেণি) বাতিল করে (তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণি) ১৪ থেকে ২০তম গ্রেডে রাখা হয়েছে। যা বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরবর্তী প্রজন্মকে হেয়প্রতিপন্ন করার শামিল।
সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে ২০১৮ সালের ৩ অক্টোবর মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পদে ৫৬ শতাংশ কোটা বাতিল করা হয়। তবে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণিতে কোটা ব্যবস্থা বহাল রাখে সরকার।
ইউএনওকে ফুল না দেওয়ায় শিক্ষককে মারধর!
গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার কপালেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভায় ইউএনওকে ফুল দেওয়া হয়নি বলে শিক্ষককে মারপিটের অভিযোগ উঠেছে স্কুলের এক অভিভাবক সদস্য ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।
আহত শিক্ষক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক (৪৪)। তিনি কাপাসিয়া উপজেলার কপালেশ্বর গ্রামের ফাইজ উদ্দিন পালোয়ানের ছেলে। তিনি কপালেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক।
শনিবার বিকালে কপালেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এদিন রাত ১১টায় কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও কপালেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয় ম্যানেজিং কনিটি সভাপতি এ কে এম লুৎফর রহমান বলেন, আমি বিদ্যালয়ের সভাপতি। আামার সামনে শিক্ষককে মারপিট করা হয়েছে।
সভাপতিকে ফুল দেওয়া হয়নি বলে শিক্ষককে মারধর করেছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সভাপতি হিসেবে আমি ফুল প্রত্যাশা করিনি। তারপরও আামার সামনে অভিভাবক সদস্য বিল্লাল হোসেন শিক্ষককে মারধর করেছে। পরে আমি দু'পক্ষকে নিভৃত করার চেষ্টা করেও পারিনি। আমি থানা থেকে পুলিশ এনে পরিবেশ শান্ত করেছি।
বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক মো. আফজাল হোসাইন জানান, স্কুল অভিভাবক সদস্য বিল্লাল হোসেন আমাকে বলেছিলো ইএনও এর জন্য ফুল এর ব্যবস্থা করতে। আমি বলেছি, ইউএনও স্যারকে উপজেলায় ফুল দেওয়া হয়েছে। এরপরও ফুল দিতে চাপ দিলে আমি বুঝানোর চেষ্টা করেছি। আজ মিটিং এ বিষয়ে ইউএনও স্যারের সামনে বিল্লাল হোসেন আমাকে গালি দিলে মোজাম্মেল হক প্রতিবাদ করে। তখন বিল্লাল হোসেন, সাবেক সভাপতি ও তার লোকজন শিক্ষককে মেরে আহত করে। শিক্ষককে কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়েছে।
আহত শিক্ষক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক জানান, আজ শনিবার দুপুরের পরে বিদ্যালয়ের ইউএনও উপস্থিতিতে ম্যানেজিং কমিটির মিটিং বসে। মিটিংয়ে বিল্লাল হোসেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আফজাল হোসাইন এর প্রতি ক্ষিপ্ত হয়। আমি ন্যায় সঙ্গতভাবে তাদের শান্ত হতে বলি।
তারা অধিক মাত্রায় ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ আরম্ভ করে। এক পর্যায়ে বিল্লাল হোসেন আমার নাকে, মুখে সহ শরীরের বিভিন্নস্থানে এলোপাথারি কিল, ঘুষি আরম্ভ করে। অন্যান্যরা আমার পিছন দিক হইতে এলোপাথারি কিল, ঘুষি মেরে জখম করে। আমি আইনগত ব্যবস্থা নিব।
অভিভাবক সদস্য বিল্লাল হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাকে ফোন করলে তিনি ফোন ধরেননি।
সৌদি পৌঁছেছেন ৭২৪১৫ জন হজযাত্রী
পবিত্র হজ পালন করতে আজ শনিবার (৮ জুন) পর্যন্ত সৌদি আরব পৌঁছেছেন ৭২ হাজার ৪১৫ জন হজযাত্রী। মোট ১৮৫টি ফ্লাইটে তারা সৌদিতে পৌঁছান।
রোববার (৯ জুন) হজ সম্পর্কিত সবশেষ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। এয়ারলাইনস, সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ হজ অফিস ঢাকা এবং সৌদি আরব সূত্রে এ তথ্য জানিয়েছে হেল্পডেস্ক।
হেল্পডেস্কের তথ্যমতে, এ পর্যন্ত মোট ১৮৫টি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৯৭টি, সৌদি এয়ারলাইনসের ৬২টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস ২৬টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। গতকাল পর্যন্ত মোট ফ্লাইটের ৮৭ দশমিক ৫ শতাংশ, আর মোট হজযাত্রীদের মধ্যে ৮৭ শতাংশ সৌদি পৌঁছেছেন।
হজ পালন করেতে গিয়ে এবার এখন পর্যন্ত ১২ জন মারা গেছেন। সর্বশেষ ৬ জুন মক্কায় শেখ আরিফুল ইসলাম (৫৭) নামে একজন মারা গেছেন। মারা যাওয়া হজযাত্রীদের মধ্যে ৯ জন পুরুষ ও একজন মহিলা। চলতি হজ মৌসুমে সৌদি আরবে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে গত ১৫ মে মো. আসাদুজ্জামান নামে এক হজযাত্রী মারা যান।
এ বছর সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় গাইডসহ হজ পালনে সৌদি আরব যাবেন ৮৫ হাজার ২৫২ জন। এর মধ্যে সরকারিভাবে নিবন্ধন করেছেন ৪ হাজার ৫৬২ জন। আর বেসরকারিভাবে নিবন্ধন করেছেন ৮০ হাজার ৬৯৫ জন।
কুমিল্লা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত
মিল্লার বুড়িচং উপজেলায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে মো. আনোয়ার হোসেন (৫০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
রোববার (৯ জুন) সকাল ৮টায় উপজেলার বাকশীমুল ইউনিয়নের জামতলা এলাকায় ভারতীয় সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আনোয়ার হোসেন বাকশীমুল ইউনিয়নের মীরপুর গ্রামের মরহুম চারু মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য মো. আবুল কাশেম বলেন, জামতলা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে মো. আনোয়ার হোসেন নিহত হয়েছেন। মরদেহ কাঁটাতার-সংলগ্ন এলাকায় রয়েছে।
বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু হাসনাত খন্দকার বলেন, মরদেহটি ভারতীয় সীমান্তে পড়ে আছে। বিজিবি-বিএসএফের পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে মরদেহ নিয়ে আসা হতে পারে।
এবার প্রেমের টানে শ্রীলঙ্কান তরুণী চট্টগ্রামে
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে এসে মোহাম্মদ মোরশেদ নামের এক যুবককে বিয়ে করেছেন পচলা নামের শ্রীলঙ্কান এক তরুণী।
শুক্রবার (৭ই জুন) রাতে বিয়ে পরবর্তী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় ফটিকছড়ি পৌরসভার বারৈহাট এলাকায় ম্যারেজ পার্ক নামের একটি কমিউনিটি সেন্টারে। এর আগে, বৃহস্পতিবার তাদের আকদ সম্পন্ন।
জানা যায়, মোরশেদ দুবাই প্রবাসী। সেখানে থাকাকালীন গত ২-৩ বছর আগে পচলা নামের এক সুন্দরী তরুণীর সঙ্গে পরিচয় হয়। পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন।
বিয়ে উপলক্ষ্যে পচলা এবং তার পরিবার বাংলাদেশে আসেন। বিয়ের পর নবদম্পতিকে দেখতে ভিড় করেন আত্মীয় স্বজনরা। তবে জনতার ভিড় হবে বলে বিষয়টি মিডিয়া কিংবা স্থানীয়দের কাছ থেকে একটু আড়ালে রাখা হয়।
মোহাম্মদ মোরশেদ ফটিকছড়ি পৌরসভার ৫নং মুনাফখিল এলাকার মোহাম্মদ এজাহার মিয়ার ছেলে। মোরশেদের ছোট ভাই রাকীব বলেন, ভাবীর বাড়ি শ্রীলঙ্কা, তাদের দুবাইয়ে পরিচয়। বিয়ের জন্য ভাবীর পরিবারও বাংলাদেশে এসেছে। এ দম্পতির বিয়ের কাবিন ধরা হয়েছে ১ লাখ ১ টাকা।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য