শিরোনাম
আগামীকাল আসছেন কাতারের আমির, সই হচ্ছে ৬ চুক্তি ও ৫ স্মারক
কাতারের আমির শেখ তামিম বিন-হামাদ আল থানির আসন্ন বাংলাদেশ সফরে দুই দেশের মধ্যে ছয়টি চুক্তি এবং পাঁচটি সমঝোতা স্মারক সই হচ্ছে। এ ছাড়া ঢাকায় একটি সড়ক এবং একটি পার্কের নামকরণ কাতারের আমিরের নামে করা হবে। ঢাকায় কালশী এলাকায় বালুরমাঠে নির্মিতব্য পার্ক এবং ইসিবি চত্বর থেকে কালশী উড়ালসেতু পর্যন্ত সড়কটি কাতারের আমি শেখ তামিম বিন-হামাদ আল থানির নামে নামকরণ করা হবে। ২৩ এপ্রিল বিকালে কাতারের আমির নিজে উভয় স্থাপনার উদ্বোধন করবেন।
কাতারের আমির আগামীকাল সোমবার বিকালে বিশেষ বিমানযোগে ঢাকায় আগমন করবেন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবউদ্দিন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাবেন। এ সময় তাকে গার্ড অব অনার জানানো হবে।
সফরকালে যে ছয়টি চুক্তি সই হবে সেগুলো হলো— ১. দ্বৈতকর পরিহার ও কর ফাঁকি সংক্রান্ত চুক্তি, ২. আইনগত বিষয়ে সহযোগিতা সংক্রান্ত চুক্তি, ৩. সাগরপথে পরিবহণ সংক্রান্ত চুক্তি, ৪. উভয় দেশের পারস্পরিক বিনিয়োগ উন্নয়ন ও সুরক্ষাসংক্রান্ত চুক্তি, ৫. দুই দেশের দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বদলি সংক্রান্ত চুক্তি, ৬. যৌথ ব্যবসা পরিষদ গঠন সংক্রান্ত চুক্তি।
এ ছাড়া যে পাঁচটি সমঝোতা স্মারক সই হবে সেগুলো হলো- ১. শ্রমশক্তিবিষয়ক সমঝোতা স্মারক, ২. বন্দর পরিচালনা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক, ৩. উচ্চশিক্ষা ও বৈজ্ঞানিক গবেষণা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক, ৪. যুব ক্রীড়াক্ষেত্রে সমঝোতা স্মারক, ৫. কূটনৈতিক প্রশিক্ষণে সহযোগিতা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে আগামী ২২ ও ২৩ এপ্রিল কাতারের আমির শেখ তামিম বিন-হামাদ আল থানি এই সফর করছেন। তিনি একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে সরকার গঠনের পর মধ্যপ্রাচ্যের দেশসমূহ হতে এটি প্রথম উচ্চপর্যায়ের রাষ্ট্রীয় সফর।
বাংলাদেশ ও কাতারের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর, বন্ধুত্বপূর্ণ ও বহুমুখী। কাতার বঙ্গবন্ধুর সময়কালীন ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী অন্যতম মুসলিম রাষ্ট্র।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২৩ সালের মার্চ ও মে মাসে দুবার কাতার সফরের মাধ্যমে উভয় দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সুদৃঢ় অবস্থানে উপনীত হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় কাতারের আমির বাংলাদেশ সফর করছেন।
সাম্প্রতিককালে কাতারের সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও আলোচনার মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার পরিধি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, জ্বালানি, বিমান চলাচল, কৃষি, খাদ্যনিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন ইত্যাদি ক্ষেত্রসমূহ চিহ্নিত করা হয়েছে।
আগামী ২৩ এপ্রিল সকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ কাতারের আমিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। তার পর গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাতারের আমিরের সঙ্গে প্রথমে একান্ত বৈঠক এবং পরে আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। বৈঠক শেষে দুই দেশের মধ্যে ছয়টি চুক্তি ও পাঁচটি সমঝোতা স্মারক সই হবে। রাষ্ট্রপ্রতি মো. সাহাবউদ্দিন বঙ্গভবনে কাতারের আমিরের সৌজন্যে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করবেন। ওই দিন সন্ধ্যায় বিশেষ বিমানযোগে তিনি ঢাকা ত্যাগ করবেন।
কাতারের আমিরের এই সফর তার এশিয়া সফরের অংশ। পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস সমৃদ্ধ কাতার সর্বোচ্চ গড় মাথাপিছু আয়ের দেশ। দেশটির শক্তিশালী অর্থনীতি, ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান ও কূটনৈতিক তাৎপরতা ও মধ্যস্থতার কারণে মধ্যপ্রাচ্যে একটি প্রভাবশালী দেশ হিসেবে বিবেচিত।কাতার মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের অন্যতম শ্রমবাজার যেখানে প্রায় চার লাখ বাংলাদেশি কর্মরত।
কেএনএফ এর সাথে গোলাগুলিতে সেনা সদস্য নিহত
হাসান মুরাদঃ বান্দরবানে যৌথ বাহিনীর সঙ্গে কুকি চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) গোলাগুলিতে এক সেনাসদস্য নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় বান্দরবান-রাঙামাটি সীমান্তে কেএনএফের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার সময় এই গোলাগুলি হয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
নিহত সেনাসদস্যের নাম রফিকুল ইসলাম। তিনি র্যাবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর বাড়ি নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার পশ্চিম সোশালিয়া গ্রামে।
রফিকুলের বড় ভাই মাসুদ রহমান বলেন, বান্দরবান থেকে ফোনে রফিকুলের এক সহকর্মী সেনাসদস্য কেএনএফের সঙ্গে সংঘর্ষে তাঁর ভাইয়ের মৃত্যুর খবর জানান।
রফিকুলের ছোট ভাই সবুজ আলম বলেন, ‘এখন আমরা চট্টগ্রাম সেনানিবাসে মরদেহ নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছি।’
চাটখিলের পরেকোট-দশঘরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাহার আলম মুন্সি বলেন, চাটখিল থানা থেকে রফিকুলের মৃত্যুর খবর জানানো হয়। এরপর ইউপি সদস্যের মাধ্যমে তাঁর পরিবারের কাছে খবর পাঠায়।
তবে এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন বা আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) সেনাসদস্য নিহতের বিষয়ে এখনও কিছু নিশ্চিত করেনি।
তিলকে তাল বানিয়ে উপস্থাপন করা হয়েছে: বেনজীর আহমেদ
পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ বলেছেন, ‘আমার পরিবার ও আমার নামে অসত্য তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। তিলকে তাল বানিয়ে উপস্থাপন করা হয়েছে।’ আজ শনিবার তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ‘আমার কিছু কথা’ শিরোনামে এক ভিডিও বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদ প্রসঙ্গে ভিডিও প্রকাশ করেন তিনি।
সবাইকে ঈদুল ফিতর ও বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘আপনারা জানেন যে আমি প্রায় দুই বছর আগে চাকরি থেকে অবসর নিয়েছি। এই অবসরকালীন সময়ে আমি নিরিবিলি জীবন কাটাচ্ছি। চাকরিকালীন সময় বিগত ২০১২ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত আমি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি গোষ্ঠী কর্তৃক অবিরত এবং ক্রমাগত অপপ্রচার এবং ব্যক্তিগত চরিত্রহননের অপচেষ্টার শিকার হয়েছি।’
বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘গোপালগঞ্জের পারিবারিক কৃষি খামারের ভূমির পরিমাণ যা উল্লেখ করা হয়েছে তা সঠিক নয়। জমির সকল তথ্য ট্যাক্স ফাইলে উল্লেখ আছে। এছাড়া আমার পরিবারের সদস্যদের জাতীয় পরিচয় পত্রসহ বেশ কিছু তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। যা আমাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার এবং পরিবারের ঢাকা ও ঢাকার বাহিরের সম্পত্তির তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা। বেতন ভাতার হিসাব কাল্পনিক এবং ভুল।’
তিনি জানান, সম্প্রতি পত্রিকায় আমি এবং আমার পরিবারের বিরুদ্ধে কিছু খুবই আপত্তিজনক, মানহানিকর, অসত্য এবং বিকৃত সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। সেই সংবাদের সূত্র ধরে অন্যান্য কতিপয় আউটলেট একই রকমের সংবাদ পুনরাবৃত্তি ক্রমে পরিবেশন করেছে। তবে দেশের মূলধারার প্রিন্ট এবং মিডিয়া এই অসত্য, মানহানিকর এবং বিকৃত সংবাদ পরিবেশনে কোন আগ্রহ দেখায়নি। এজন্য মূলধারার গণমাধ্যমগুলোর সাংবাদিক বন্ধুগণের প্রতি আমি এবং আমার পরিবারের অনেক অনেক কৃতজ্ঞতা।
সম্প্রতি প্রকাশিত এক জাতীয় দৈনিকের দাবি, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদের বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের খোঁজ মিলেছে। এরপর থেকেই বেশ আলোচনায় পুলিশের সাবেক এই আইজিপি।
জাতীয় ওই দৈনিকে ‘বেনজীরের ঘরে আলাদীনের চেরাগ’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে যেখানে তার নানা অর্থ সম্পদের বিবরণ তুলে ধরা হয়। বেনজীরের বিপুল সম্পদের মধ্যে রয়েছে গোপালগঞ্জের সাহাপুর ইউনিয়নে সাভানা ইকো রিসোর্ট নামের এক অভিজাত ও দৃষ্টিনন্দন পর্যটনকেন্দ্র। এছাড়াও তার স্ত্রী ও দুই মেয়ের নামে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ছয়টি কোম্পানির খোঁজ পাওয়া গেছে। পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের পরিমাণ ৫০০ কোটি টাকার বেশি হতে পারে।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, ঢাকার অভিজাত এলাকাগুলোতে বেনজীর আহমেদের দামি ফ্ল্যাট, বাড়ি আর ঢাকার কাছের এলাকায় বিঘার পর বিঘা জমি রয়েছে। দুই মেয়ের নামে বেস্ট হোল্ডিংস ও পাঁচতারা হোটেল লা মেরিডিয়ানের রয়েছে দুই লাখ শেয়ার। পূর্বাচলে রয়েছে ৪০ কাঠার সুবিশাল জায়গাজুড়ে ডুপ্লেক্স বাড়ি, যার আনুমানিক মূল্য কমপক্ষে ৪৫ কোটি টাকা। একই এলাকায় আছে ২২ কোটি টাকা মূল্যের আরও ১০ বিঘা জমি।
অথচ গত ৩৪ বছর সাত মাসের দীর্ঘ চাকরিজীবনে বেনজীর আহমেদ বেতন-ভাতা বাবদ মোট আয় এক কোটি ৮৪ লাখ ৮৯ হাজার ২০০ টাকার মতো হওয়ার কথা।
[video width="1280" height="720" mp4="https://therisingcampus.com/wp-content/uploads/2024/04/GICWmADM6QsenmwDALF4oRTcWzkZbmdjAAAF.mp4"][/video]
গরমে পুড়ছে দেশ, যা জানাল আবহাওয়া অধিদপ্তর
সারা দেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে তাপপ্রবাহ। এতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন। দেশের চার জেলায় এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি। বয়ে যাওয়া এ দাববাহ আগামী কয়েকদিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। এছাড়া সারা দেশে বইছে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ।
দেশের দক্ষিণপূর্ব অঞ্চলের তুলনায় পশ্চিমাঞ্চলে এ তাপপ্রবাহ বেশি বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। এসময় আবহাওয়া নিয়ে ভালো কোনও খবর নেই সংস্থাটির কাছে। শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) গরম আরও বাড়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে সংস্থাটির পক্ষ থেকে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, বাগেরহাট, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলার ওপর দিয়ে তীব্র তাপপ্রবাহ এবং দিনাজপুর, রাঙ্গামাটি, চাঁদপুর, খুলনা, সাতক্ষীরা, বরিশাল ও পটুয়াখালী জেলাসহ ঢাকা ও রাজশাহী বিভাগের উপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে।
হিট ওয়েভের কবলে দেশ, বেশি আক্রান্ত হচ্ছে পশ্চিমাঞ্চল ৪১ দশমিক ৩ ডিগ্রি তাপমাত্রায় পুড়ছে চুয়াডাঙ্গা সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা বাড়লেও রাতে অপরিবর্তিত থাকতে পারে। জলীয়বাষ্পের আধিক্যের কারণে অস্বস্তি বাড়তে পারে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) চুয়াডাঙ্গায় ৪০ দশমিক ৪ ডিগ্রি, বুধবার (১৭ এপ্রিল) ৪০ দশমিক ৮ ডিগ্রি ও মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) ৪০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল। যা ছিল সারা দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।
এ তাপমাত্রা বেড়ে আগামী সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। চলমান তাপপ্রবাহ আজ (১৯ এপ্রিল) থেকে পরবর্তী ৭২ ঘণ্টা অব্যাহত থাকতে পারে বলে সতর্কবার্তা জারি করেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর।
পরিবার উন্নয়ন সংস্থার সহযোগিতায় বদলে যাচ্ছে ভোলার কৃষকদের জীবন
সাব্বির হোসেনঃ ভোলার চরফ্যাশনে পরিবার উন্নয়ন সংস্থা’র (এফডিএ) সহযোগিতায় দিন দিন উন্নত হচ্ছে স্থানীয় কৃষকদের জীবনমান। পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এর কারিগরি সহযোগিতা ও অর্থায়নে এবং পরিবার উন্নয়ন সংস্থা (এফডিএ) কর্তৃক বাস্তবায়িত সমন্বিত কৃষি ইউনিট (কৃষি খাত) এর আওতায় চরফ্যাশন উপজেলায় বিগত কয়েক বছর ধরে কৃষিকদের প্রযুক্তিগত বিভিন্ন সহযোগীতা করা হচ্ছে। ফলে বাড়ছে ফসল উৎপাদন, লাভবান হচ্ছে কৃষক। বর্তমানে চরফ্যাশনে কৃষকদের ট্রাইকো-কমপোস্ট সার, কোকোডাস্ট ও মালচিং পেপারসহ বেশ কয়েকটি প্রযুক্তিগত সহযোগীতা দিয়ে আসছে এফডিএ ও পিকেএসএফ। এর ফলে কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কম হচ্ছে, ফলন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং পাশাপাশি ফসল ব্যবস্থাপনায় যোগ করেছে ভিন্ন মাত্রা। তাই এসব প্রযুক্তি ব্যবহারে দিন দিন কৃষকদের মাঝে আগ্রহ সৃষ্টি হচ্ছে। ট্রাইকো কম্পোস্ট সার ব্যবহারে মাটির গঠন ও বুনট উন্নত করে পানি ধারণ ক্ষমতা বাড়ায়, পানির অপচয় রোধ করে। এ সার মাটির অম্লত্ব ও লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণ করে ফসলের উৎপাদন ও গুণগত মান বাড়িয়ে কৃষকের আয় বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। পাশাপাশি রোগ বালাই নিয়ন্ত্রণে এর রয়েছে বিশেষ ভূমিকা।
এছাড়াও কোকোডাস্ট পদ্ধতিতে চারা উৎপাদনে সাফল্য পাচ্ছে এ অঞ্চলের কৃষকরা। বীজ তলায় চারা উৎপাদন করতে গিয়ে কৃষকরা বিভিন্ন ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়। কেবল ৫০-৬০% চারা অঙ্কুরিত হয়, আবার সে চারা ক্ষেতে রোপন করলে অনেক চারা মারা যায়। কোকোডাস্টের মাধ্যমে উৎপন্ন চারার শিকড় ক্ষতিগ্রস্ত হয় না বলে জমিতে রোপন করার পর কোন চারা মারা যায় না। আবার এ চারায় রোগজীবাণুর আক্রমণ কম হয় এবং গাছ দ্রুত সুস্থ সবল হয়ে বাড়তে থাকে। এ চারা রোপন করলে ১৫-২০ দিন আগে ফসল সংগ্রহ করা যায়। সরেজমিনে দেখা যায় শশিভূষণ ইউনিয়নে এক কৃষক কোডোকাস্ট পদ্ধতিতে এ মাসে প্রায় ৫০ হাজার শসা, মরিচ, ধুন্দুল, করলা, চিচিঙ্গার চারা উৎপাদন করেছেন। কৃষকরা তার নার্সারী হতে চারা ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছেন। তিনি আশা করছেন, চারা বিশ দিনের মধ্য বিক্রি হয়ে যাবে। মাটির স্পর্শ ছাড়া চারা উৎপন্ন করা হয় বলে এসব চারায় মাটি বাহিত রোগ জীবানু হয় না।
কৃষকদের ফসল উন্নয়নে আরেক যুগোপযোগী প্রযুক্তি হলো মালচিং পেপার পদ্ধতি। মালচিং পেপারের মাধ্যমে সূর্যের আলো ও তাপ নিয়ন্ত্রণে রেখে মাটিকে রাখে ফসলের জন্য আরও উপযোগী করে তোলে। এতে করে কৃষকের সেচ খরচের পাশাপাশি ফসল ব্যবস্থাপনা ও উৎপাদন খরচ প্রায় ৫০ শতাংশই কমে যায়। ফলে লাভবান হন কৃষকরা। আর এসব বিষয়ে কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহযোগীতা দিয়ে যাচ্ছে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এবং স্থানীয় পরিবার উন্নয়ন সংস্থা (এফডিএ)।
চরফ্যাশন উপজেলার কাশেমগঞ্জ গ্রামের কৃষক সোলেয়মান বলেন, পরিবার উন্নয়ন সংস্থা (এফডিএ) কৃষি কর্মকর্তা এর পরামর্শে ট্রাইকো কম্পোস্ট সার উৎপাদন শুরু করি। এটা জমিতে ব্যবহার করে ভালো ফলন পাচ্ছি। ফলন ভালো হওয়ায় অন্য কৃষকেরাও এটি নিয়ে তাঁদের জমিতে ব্যবহার করছেন।
শশীভূষন ইউনিয়নের জুয়েল সিকদার জানান, “কৃষককে ভালো মানের চারা উৎপন্ন করার জন্য পরিবার উন্নয়ন সংস্থা (এফডিএ) সব সময় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। আমার নার্সারী হতে বহু কৃষক চারা ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি কোডোকাস্টের মাধ্যমে চারা উৎপাদনে চারায় রোগ কম হচ্ছে।”
এ বিষয়ে পরিবার উন্নয়ন সংস্থা (এফডিএ) এর কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মনিরুল ইসলাম বলেন, “প্রান্তিক কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে ও কৃষিজ ফলনের উন্নয়নে পরিবার উন্নয়ন সংস্থা’র (এফডিএ) প্রচেষ্টা সবসময়ই অব্যাহত রয়েছে। কৃষকদের কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ায় অধিক ফলনের মাধ্যমে কৃষক লাভবান হয়। এ কারনেই দিন দিন কৃষকদের পিকেএসএফ ও এফডিএ এর প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে।”
চরফ্যাশন উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান বলেন, উন্নত ফলন এবং রোগমুক্ত চারা উৎপাদনে পরিবার উন্নয়ন সংস্থা কতৃক বাস্তবায়িত প্রযুক্তি অত্যন্ত ফলপ্রসূ। এর ফলে এসব প্রযুক্তি ব্যবহারে কৃষকেরা লাভবান হচ্ছেন এবং কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি এ সকল পদ্ধতিতে চাষাবাদের জন্যও কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য