শিরোনাম
পরিবার উন্নয়ন সংস্থার সহযোগিতায় বদলে যাচ্ছে ভোলার কৃষকদের জীবন
সাব্বির হোসেনঃ ভোলার চরফ্যাশনে পরিবার উন্নয়ন সংস্থা’র (এফডিএ) সহযোগিতায় দিন দিন উন্নত হচ্ছে স্থানীয় কৃষকদের জীবনমান। পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এর কারিগরি সহযোগিতা ও অর্থায়নে এবং পরিবার উন্নয়ন সংস্থা (এফডিএ) কর্তৃক বাস্তবায়িত সমন্বিত কৃষি ইউনিট (কৃষি খাত) এর আওতায় চরফ্যাশন উপজেলায় বিগত কয়েক বছর ধরে কৃষিকদের প্রযুক্তিগত বিভিন্ন সহযোগীতা করা হচ্ছে। ফলে বাড়ছে ফসল উৎপাদন, লাভবান হচ্ছে কৃষক। বর্তমানে চরফ্যাশনে কৃষকদের ট্রাইকো-কমপোস্ট সার, কোকোডাস্ট ও মালচিং পেপারসহ বেশ কয়েকটি প্রযুক্তিগত সহযোগীতা দিয়ে আসছে এফডিএ ও পিকেএসএফ। এর ফলে কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কম হচ্ছে, ফলন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং পাশাপাশি ফসল ব্যবস্থাপনায় যোগ করেছে ভিন্ন মাত্রা। তাই এসব প্রযুক্তি ব্যবহারে দিন দিন কৃষকদের মাঝে আগ্রহ সৃষ্টি হচ্ছে। ট্রাইকো কম্পোস্ট সার ব্যবহারে মাটির গঠন ও বুনট উন্নত করে পানি ধারণ ক্ষমতা বাড়ায়, পানির অপচয় রোধ করে। এ সার মাটির অম্লত্ব ও লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণ করে ফসলের উৎপাদন ও গুণগত মান বাড়িয়ে কৃষকের আয় বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। পাশাপাশি রোগ বালাই নিয়ন্ত্রণে এর রয়েছে বিশেষ ভূমিকা।
এছাড়াও কোকোডাস্ট পদ্ধতিতে চারা উৎপাদনে সাফল্য পাচ্ছে এ অঞ্চলের কৃষকরা। বীজ তলায় চারা উৎপাদন করতে গিয়ে কৃষকরা বিভিন্ন ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়। কেবল ৫০-৬০% চারা অঙ্কুরিত হয়, আবার সে চারা ক্ষেতে রোপন করলে অনেক চারা মারা যায়। কোকোডাস্টের মাধ্যমে উৎপন্ন চারার শিকড় ক্ষতিগ্রস্ত হয় না বলে জমিতে রোপন করার পর কোন চারা মারা যায় না। আবার এ চারায় রোগজীবাণুর আক্রমণ কম হয় এবং গাছ দ্রুত সুস্থ সবল হয়ে বাড়তে থাকে। এ চারা রোপন করলে ১৫-২০ দিন আগে ফসল সংগ্রহ করা যায়। সরেজমিনে দেখা যায় শশিভূষণ ইউনিয়নে এক কৃষক কোডোকাস্ট পদ্ধতিতে এ মাসে প্রায় ৫০ হাজার শসা, মরিচ, ধুন্দুল, করলা, চিচিঙ্গার চারা উৎপাদন করেছেন। কৃষকরা তার নার্সারী হতে চারা ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছেন। তিনি আশা করছেন, চারা বিশ দিনের মধ্য বিক্রি হয়ে যাবে। মাটির স্পর্শ ছাড়া চারা উৎপন্ন করা হয় বলে এসব চারায় মাটি বাহিত রোগ জীবানু হয় না।
কৃষকদের ফসল উন্নয়নে আরেক যুগোপযোগী প্রযুক্তি হলো মালচিং পেপার পদ্ধতি। মালচিং পেপারের মাধ্যমে সূর্যের আলো ও তাপ নিয়ন্ত্রণে রেখে মাটিকে রাখে ফসলের জন্য আরও উপযোগী করে তোলে। এতে করে কৃষকের সেচ খরচের পাশাপাশি ফসল ব্যবস্থাপনা ও উৎপাদন খরচ প্রায় ৫০ শতাংশই কমে যায়। ফলে লাভবান হন কৃষকরা। আর এসব বিষয়ে কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহযোগীতা দিয়ে যাচ্ছে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এবং স্থানীয় পরিবার উন্নয়ন সংস্থা (এফডিএ)।
চরফ্যাশন উপজেলার কাশেমগঞ্জ গ্রামের কৃষক সোলেয়মান বলেন, পরিবার উন্নয়ন সংস্থা (এফডিএ) কৃষি কর্মকর্তা এর পরামর্শে ট্রাইকো কম্পোস্ট সার উৎপাদন শুরু করি। এটা জমিতে ব্যবহার করে ভালো ফলন পাচ্ছি। ফলন ভালো হওয়ায় অন্য কৃষকেরাও এটি নিয়ে তাঁদের জমিতে ব্যবহার করছেন।
শশীভূষন ইউনিয়নের জুয়েল সিকদার জানান, “কৃষককে ভালো মানের চারা উৎপন্ন করার জন্য পরিবার উন্নয়ন সংস্থা (এফডিএ) সব সময় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। আমার নার্সারী হতে বহু কৃষক চারা ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি কোডোকাস্টের মাধ্যমে চারা উৎপাদনে চারায় রোগ কম হচ্ছে।”
এ বিষয়ে পরিবার উন্নয়ন সংস্থা (এফডিএ) এর কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মনিরুল ইসলাম বলেন, “প্রান্তিক কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে ও কৃষিজ ফলনের উন্নয়নে পরিবার উন্নয়ন সংস্থা’র (এফডিএ) প্রচেষ্টা সবসময়ই অব্যাহত রয়েছে। কৃষকদের কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ায় অধিক ফলনের মাধ্যমে কৃষক লাভবান হয়। এ কারনেই দিন দিন কৃষকদের পিকেএসএফ ও এফডিএ এর প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে।”
চরফ্যাশন উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান বলেন, উন্নত ফলন এবং রোগমুক্ত চারা উৎপাদনে পরিবার উন্নয়ন সংস্থা কতৃক বাস্তবায়িত প্রযুক্তি অত্যন্ত ফলপ্রসূ। এর ফলে এসব প্রযুক্তি ব্যবহারে কৃষকেরা লাভবান হচ্ছেন এবং কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি এ সকল পদ্ধতিতে চাষাবাদের জন্যও কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
ঘুমন্ত স্বামীর পুরুষাঙ্গ কেটে পালালেন স্ত্রী
টাঙ্গাইলের ভুঞাপুরে ঘুমন্ত স্বামীর পুরুষাঙ্গ কেটে পালিয়েছেন স্ত্রী। বুধবার (১৭ এপ্রিল) সকালে উপজেলার রাউৎবাড়ি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
পরে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঘটনার পর থেকে তার স্ত্রী জাকিয়া পলাতক আছেন। আহত স্বামী ফিরোজ (২৫) ওই গ্রামের শাহজাহানের ছেলে।
ফিরোজের মামা আরজু বলেন, বিয়ের পর থেকেই স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। সকালের দিকে আমার ঘুমন্ত ভাগিনার পুরুষাঙ্গ কেটে তার স্ত্রী পালিয়ে যায়। লোকজন চিৎকার শুনে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী মেডিকেল অফিসার কাজল তালুকদার বলেন, পুরুষাঙ্গের পুরো অংশ কেটে ফেলা হয়েছে। প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ভুঞাপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসান উল্লাহ বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। এই বিষয়ে এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি।
ট্রাক-প্রাইভেটকার-অটোরিকশার ত্রিমুখী সংঘর্ষে নিহত ১২
ঝালকাঠিতে ট্রাক, অটোরিকশা ও প্রাইভেটকারের ত্রিমুখী সংঘর্ষে ১২ জন নিহত হয়েছেন।
বুধবার দুপুরে ঝালকাঠি গাবখান সেতু এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন।
তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের পরিচয় জানা যায়নি।
গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এডিশনাল পুলিশ সুপার ঝালকাঠি সদর সার্কেল মুহিদুল ইসলাম।
তিনি বলেন, এই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলে ৮ জন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর ৪ জনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
ফরিদপুরে বাস-পিকআপ সংঘর্ষে নিহত ১৩
ফরিদপুরের কানাইপুরে বাস ও পিকআপ ভ্যানের সংঘর্ষে ১৩ জন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে ফরিদপুরের কানাইপুরের দিকনগর এলাকায় ফরিদপুর–খুলনা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া সংঘর্ষের ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৮ জন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহতেরা সবাই পিকআপের যাত্রী। তবে নিহতদের এখনো পরিচয় পাওয়া যায়নি।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, যাত্রীবাহী বাসটি ফরিদপুর থেকে যশোরের উদ্দেশে যাচ্ছিল। দিকনগরে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
করিমপুর হাইওয়ে থানার ওসি সালাউদ্দিন চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতদের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে হতাহতদের নাম ঠিকানা জানা সম্ভব হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে- একটি পরিবারের লোকজন পিকআপ ভাড়া করে ঈদের ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরছিলেন।
গোপনে বড় সন্তানকে নিয়ে বাংলাদেশ ছেড়েছেন জাপানি মা এরিকো
বড় কন্যা সন্তান জেসমিন মালিকাকে নিয়ে বাংলাদেশ ছেড়ে জাপানে চলে গেছেন জাপানি নাগরিক নাকানো এরিকো। গত ৯ এপ্রিল বিকেল সাড়ে ৩টায় এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইটে তিনি বাংলাদেশ ছেড়ে যান। সেখান থেকে পরে তিনি জাপানে চলে গেছেন। জাপানি শিশুদের বাংলাদেশি বাবা ইমরান শরীফ এমন অভিযোগ করেছেন।
গণমাধ্যমকে ইমরান শরীফ বলেন, আদালতের স্থিতাবস্থা থাকার পরও নাকানো এরিকো আদেশ অমান্য করে জেসমিন মালিকাকে নিয়ে বাংলাদেশ ছেড়ে চলে গেছেন।
গত ১৩ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট রায় দেন জাপানি শিশু জেসমিন মালিকা (বড়) ও তার ছোট বোন সোনিয়া তাদের জাপানি মা নাকানো এরিকোর কাছে থাকবে। মেজ মেয়ে লাইলা লিনা তাদের বাংলাদেশি বাবা ইমরান শরীফের কাছে থাকবে। তবে ৯ এপ্রিল আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত হাইকোর্টের রায়ের ওপর স্থিতাবস্থা জারি করেন। একইসঙ্গে পরবর্তী শুনানির জন্য ১৫ এপ্রিল দিন ধার্য করেছিলেন। কিন্তু ৯ এপ্রিল বিকেলে নাকানো এরিকো বড় সন্তানকে নিয়ে জাপানে চলে যান।
এদিকে আদেশ অমান্য করার অভিযোগে নাকানো এরিকোর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন করেছেন শিশুদের বাবা ইমরান শরীফ। চেম্বার আদালতে আজ এই আবেদনের ওপর শুনানি হয়েছে। আদালত আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য আগামী ২১ এপ্রিল দিন ধার্য করেছেন। ইমরান শরীফের আইনজীবী ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম বলেন, সন্তানদের দেশের বাইরে যেতে আদালতের স্থিতাবস্থা ছিল। তা স্বত্বেও বড় সন্তানকে নিয়ে নাকানো এরিকো চলে গেছেন। এ কারণে আমরা আদালত অবমাননার আবেদন করেছি।
গত বছরের ৯ মার্চ জাপানি দুই শিশু জেসমিন মালিকা ও লাইলা লিনাকে বিদেশে নিয়ে যেতে জাপানি মায়ের আবেদন নাকচ করেন আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে দুই শিশু কার জিম্মায় থাকবে এ সংক্রান্ত আপিল জেলা জজ আদালতকে তিন মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন আদালত। এ সময় পর্যন্ত দুই শিশু জেসমিন মালিকা ও লাইলা লিনা যেভাবে আছেন সেভাবেই থাকবে।
প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন ৭ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য