শিরোনাম
প্রয়োজনে ‘তাপমাত্রাজনিত জরুরি অবস্থা’ জারি হতে পারে
বেশ কয়েকদিন যাবৎ সারাদেশে তাপপ্রবাহ চলছে। ঢাকাসহ বেশিরভাগ জেলায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪২ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে। এমন পরিস্থিতিতে দেশে ‘তাপমাত্রা জরুরি অবস্থা’ জারি করা হতে পারে বলে জানিয়েছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়।
রোববার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে বিষয়টি জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার দীপংকর বর।
পরিবেশমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিনের বারত দিয়ে দীপংকর বর বলেন, মন্ত্রী মহোদয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। এমন কিছু ভাবা হচ্ছে। আবহাওয়া যদি আরও কিছুদিন এমন থাকে, তখন ‘তাপমাত্রাজনিত জরুরি অবস্থা’ জারি করা হতে পারে। এটি ভবিষ্যতের বিষয়। এখন আপাতত এই বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত হয়নি।
এদিকে শুধু ঢাকা নয়— প্রচণ্ড তাপমাত্রায় পুড়ছে ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লি ও পাকিস্তানের লাহোর শহর। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রা লক্ষ্য করা যাচ্ছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা এবং ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লিতে।
৪২ ডিগ্রি ছাড়াল চুয়াডাঙ্গার তাপমাত্রা, গলে যাচ্ছে রাস্তার পিচ!
চুয়াডাঙ্গায় চলছে অতি তীব্র তাপদহ। খেটে খাওয়া মানুষেরা পড়েছেন চরম বিপাকে। প্রচণ্ড রোদে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে মানুষের জীবন। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে রাস্তার পিচ গলে যেতে দেখা গেছে তাপদহের কারণে।
অপরদিকে অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না যাওয়ার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে মানুষকে সতর্ক করা হচ্ছে। এছাড়া হিট স্ট্রোক ও ডায়রিয়া রোগীদের চিকিৎসার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করতে সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম খান।
শনিবার (১৫ এপ্রিল) বিকেল ৩টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।
আগামী ২১ এপ্রিলের পর থেকে তাপদাহ কমতে পারে বলে জানিয়েছেন চুয়াডাঙ্গার প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের পর্যবেক্ষক জামিনুর হক।
আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ২১ মে চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২০০৫ সালের ২ জুন ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ২০১২ সালের ৪ জুন ৪২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ২০০৪ সালের ১৩ মে ৪২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২০০৯ সালের ২৭ এপ্রিল সর্বোচ্চ ৪১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।
এদিকে তীব্র তাপদাহে শ্রমিক, দিনমজুর, রিকশা-ভ্যানচালকরা অস্থির হয়ে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে কৃষক ও খেটে খাওয়া মানুষেরা। শহরের বেশ কিছু সড়কের পিচ গলে যেতে দেখা গেছে। প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া বাইরে না যেতে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহরের অলিগলি, গ্রাম-গঞ্জে মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে।
অনির্দিষ্টকালের জন্য নিউমার্কেট বন্ধ ঘোষণা
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত নিউমার্কেট বন্ধ ঘোষণা করেছেন ব্যবসায়ীরা। যদিও নিউ সুপার মার্কেটে আগুন লাগার পর সকাল থেকে পার্শ্ববর্তী চাঁদনী চক, গাউছিয়া, হকার্স মার্কেটসহ অনেক মার্কেটই বন্ধ রয়েছে।
শনিবার (১৫ এপ্রিল) গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নিউমার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিউমার্কেট বন্ধের ঘোষণা বলবৎ থাকবে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, নিউমার্কেটের সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়টি আমরা প্রাধান্য দিচ্ছি। সব দোকান মালিকদের নিয়ে এই জায়গায় অবস্থান করছি। যতক্ষণ পর্যন্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যাপ্ত না হবে অর্থাৎ সম্পূর্ণভাবে আগুন না নিভবে ততক্ষণ পর্যন্ত মার্কেট খোলা হবে না। সবার সঙ্গে বসেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নিউমার্কেট এলাকার মার্কেট বন্ধ, খুলবে ২টার পর
শনিবার ভোর ৫টা ৪০ মিটিটের দিকে রাজধানীর ঢাকা নিউ সুপার মার্কেটে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় নিউমার্কেট এলকার প্রায় সকল দোকান বন্ধ রেখেছে ব্যবসায়ীরা। মার্কেটগুলো হচ্ছে- নিউমার্কেট, গাউছিয়া মার্কেট, নুরজাহান মার্কেট ও ধানমন্ডি হকার্স মার্কেট। ইতোমধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
এছাড়া অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বন্ধ রয়েছে নিউমার্কেট এলাকার যানচলাচলও। আগুন নেভানোর কাজে সহযোগিতার জন্য দোকান বন্ধ রেখেছেন ব্যবসায়ীরা।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, আগুন লাগার কারণে মার্কেট বন্ধ রয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। বেলা ২ টার পর থেকে মার্কেট খুলতে শুরু করবে।
শনিবার ভোর ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে আগুনের খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। খবর পাওয়ার তিন মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। একে একে আগুন নিয়ন্ত্রণে যোগ দেয় ফায়ারের ৩০টি ইউনিট।
ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাইন উদ্দিনের দাবি- ৯টা ১০ মিনিটের দিকে নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে এ আগুন নির্বাপণ করতে আরও সময় লাগবে। আগুন নেভানোর কাজে সহায়তা করেছে সেনা, নৌ, বিমান বাহিনী, বিজিবি ও র্যাব সদস্যরা।
হাওর পাড়ে কুমড়ার বাম্পার ফলন: কৃষকের মুখে হাসি
তিমির বনিক, মৌলভীবাজারঃ মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলা হাকালুকি হাওর পাড়ের কৃষকরা সাধারণত ধান চাষে অভ্যস্ত ছিলেন। সম্প্রতি তারা সবজি চাষে ব্যাপক সফলতা পান। দুই মৌসুম ধরে তারা চাষ করছেন মিষ্টি কুমড়ার। এই ফলনই তাদের মুখে হাসি ফোটাচ্ছে।
জানা গেছে, নিজের জমি, বসত ঘর, পুকুরে পাড়সহ আশপাশের খালি জায়গায় কুমড়া ফলাচ্ছেন হাকালুকি হাওর পাড়ের চাষিরা। বাদ নেই হাওরের উন্মুক্ত প্রান্তর। মাঠের পর মাঠ কুমড়ার চাষ করছেন তারা। কিন্তু কিছু দিন আগেও জুড়ী উপজেলার হাওর পাড়ের কৃষকরা শুধু ধান চাষ করতেন। তাদের অপর চাষ ছিল মাছের। হাওরের সচ্ছল পানিতে তারা প্রাকৃতিক উপায়ে মাছ চাষ করতেন। নতুন করে তাদের চাষে যোগ হয় বিভিন্ন প্রজাতির সবজির। শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা- প্রতিটি ঋতুতেই তারা এখন সবজির চাষ করছেন। বর্ষা মৌসুমে হাকালুকি হাওর হয়ে যায় মাছের অভয়ারণ্য। শীত-গ্রীষ্মে ধান, সবজি ইত্যাদি।
সবজির পাশাপাশি এ হাওর এলাকায় বাদাম ও ভুট্টার চাষও হয়। এবার জুড়ী উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলের প্রায় ৯৪ হেক্টর জমিতে মিষ্টি কুমড়ার বাম্পার ফলন হয়েছে। আর এর প্রায় সবটুকুই হাকালুকি হাওর ঘিরে।
চাষিরা বলছেন, কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় তারা মিষ্টি কুমড়া চাষে ঝুঁকছেন। মাটি ও মাচা পদ্ধতিতে এ চাষ করছেন তারা। ফলন আসার পর নির্দিষ্ট সময়ে বাজারজাত করতে পারছেন তারা। তাদের কষ্ট সফল হচ্ছে ন্যায্যমূল্য পাওয়ায়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বাজারে মিষ্টি কুমড়ার বিক্রি প্রায় শেষ পর্যায়ে বলেও জানান তারা।
উপজেলার চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২ বিঘা জমিতে মিষ্টি কুমড়া চাষে সবসহ খরচ প্রায় ৮ হাজার টাকা। এবার এ খরচের তুলনায় ফলন বেশি। অন্যান্য বছরের তুলনায়ও ভালো। প্রতিদিন পাইকাররা জমি থেকে মিষ্টি কুমড়া কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এবার একেক জন চাষি ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকার মিষ্টি কুমড়া বিক্রি করেছেন। কেউ কেউ দুই-তিন লাখ টাকার মিষ্টি কুমড়া বিক্রি করেছেন বলেও জানান চাষিরা।
জুড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেন, উপজেলায় এবার ৯৪ হেক্টর জমিতে মিষ্টি কুমড়ার চাষ হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে চাষিদের প্রযুক্তিগত পরামর্শ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এতেই ভালো ফলাফল এসেছে। বাম্পার ফলনে চাষিরা অনেক খুশি।
কৃষি কর্মকর্তা আরও বলেন, মিষ্টি কুমড়ার পাশাপাশি কৃষকরা হাকালুকিতে প্রায় ১৫ হেক্টর জমিতে বাদাম ও ২০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ সব ধরনের ফসল ভালো হয়েছে। কৃষকদের পাশে আমরা সর্বদা আছি আগামীতে ও সব সময় আমাদের যে কোন পরামর্শে পাবেন।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য