শিরোনাম
অবশেষে মৃত থেকে জীবিত হলেন আবুল কাশেম
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার পঞ্চক্রোশী ইউনিয়নের বন্যাকান্দি গ্রামের মৃত কোরপ আলী প্রামাণিকের ছেলে আবুল কাশেম (৭৩)। তিনি জীবিত আছেন। তথাপি ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় তাকে মৃত দেখানো হয়। পরে আবেদনের প্রেক্ষিতে ‘জীবিত’ করা হয়েছে।
বিষয়টি নজরে আসে আবুল কাশেম যখন জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের তথ্যকেন্দ্রে বয়স্কভাতার আবেদন করতে যান, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জানানো হয় তিনি মৃত। তাই আবেদন করা যাবে না।
পরে মৃত আবুল কাশেম ছুটে যান উপজেলা নির্বাচন অফিসে।
নির্বাচন অফিস থেকে জানানো হয়, ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার সময় তাকে মৃত দেখানো হয়েছে।
এরপর নির্বাচন কর্মকর্তার পরামর্শে তিনি ‘জীবিত’ হতে আবেদন করেন। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (২৮ মার্চ) উপজেলা নির্বাচন অফিসে আবুল কাশেমকে জীবিত হিসেবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে নতুন ভোটার আইডি কার্ড প্রদান করে।
বুধবার (২৯ মার্চ) বিকেলে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাসুদ রানা এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, জীবিত মানুষকে ভোটার আইডি কার্ডে মৃত দেখানো দুঃখজনক। ওই সময় যারা ভোটার তালিকা হালনাগাদের দায়িত্বে ছিলেন এটি তাদের ভুলের কারণে হয়েছিল। তবে তার আবেদনের প্রেক্ষিতে সেটি সংশোধন করে নতুন ভোটার আইডি কার্ড দেওয়া হয়েছে।
নতুন ভোটার আইডি কার্ড হাতে পেয়ে আবুল কাশেম বলেন, একটু দেরিতে হলেও নতুন ভোটার আইডি কার্ড হাতে পেয়েছি। আগের ভোটার আইডি কার্ডে অনলাইনে আমার কোনো তথ্য পাওয়া যেতো না। যে কারণে বয়স্কভাতাও আমার ভাগ্যে জোটেনি।
উপজেলা পরিষদে ইউএনওদের ক্ষমতা কেড়ে নিলেন হাইকোর্ট
উপজেলা পরিষদে ইউএনওদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার পদ সংক্রান্ত উপজেলা পরিষদ আইনের ৩৩ ধারা বাতিল করেছেন হাইকোর্ট। আজ বুধবার (২৯ মার্চ) বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।
এই রায়ের ফলে উপজেলা চেয়ারম্যানদের ওপর ইউএনওদের একচ্ছত্র কর্তৃত্ব আর থাকবে না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। এখন থেকে উপজেলা পরিষদে ইউএনওরা সাচিবিক সহায়তা দেবেন।
আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কিউসি, ব্যারিস্টার হাসান এম এস আজিম। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মেহেদী হাছান চৌধুরী।
এর আগে ২০২১ সালের ১৬ অক্টোবর উপজেলা পরিষদ আইন ১৯৯৮ এর ধারা ১৩ (ক) ১৩ (খ) ও ১৩ (গ) কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন আদালত।
ডাব চুরি করতে গিয়ে গাছেই জ্ঞান হারাল কিশোর
ফরিদপুরে ডাব চুরি করতে গিয়ে অজ্ঞান হয়ে নারিকেল গাছেই আটকা পড়ে এক কিশোর। জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে ছয় ঘণ্টা পর তাকে উদ্ধার করেছেন পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।
মঙ্গলবার (২৮ মার্চ) রাতে মধুখালী পৌরসভার পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ‘রাত সাড়ে ৮টার দিকে ছোট ভাইকে নিচে রেখে ডাব চুরির উদ্দেশ্যে ওই কিশোর গাছে ওঠে। পরে আর নামতে পারেনি। ভয়ে সে গাছেই অজ্ঞান হয়ে পড়ে। সাড়া শব্দ না পেয়ে গাছের নিচে থাকা তার ছোট ভাই স্থানীয়দের জানালে তারা ৯৯৯-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে চার ঘণ্টার চেষ্টায় তাকে উদ্ধার করেন।’
মধুখালী পৌরসভার প্যানেল মেয়র আনিসুর রহমান লিটন বলেন, ডাব পাড়ার উদ্দেশ্যে ওই কিশোর গাছে উঠে আর নামতে পারছিল না। পরে গাছেই অজ্ঞান হয়ে পড়ে। স্থানীয়রা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করেন।
মধুখালী ফায়ার সার্ভিসের ফায়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া বলেন, রাত ১০টার দিকে ৯৯৯-এ কল পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। রাত দেড়টার দিকে ওই ছেলেকে উদ্ধার করা হয়। নারিকেল গাছটি বেশ বড় হওয়ায় আমাদের ফায়ার সার্ভিস অফিসে যাবতীয় সরঞ্জাম না থাকার কারণে ফরিদপুর জেলা ফায়ার সার্ভিস একটি ইউনিটের সাহায্য নেওয়া হয়।
সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বাংলাদেশির সংখ্যা বেড়ে ১৩
সৌদি আরবে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৩ বাংলাদেশি ওমরাহ যাত্রী নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। এছাড়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বেশ কয়েকজন।
বুধবার (২৯ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।
নিহত ১৩ বাংলাদেশি হলেন- নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার শাহীদুল ইসলাম, কুমিল্লার মুরাদনগরের মামুন মিয়া ও রাসেল মোল্লা, নোয়াখালীর মো. হেলাল, লক্ষ্মীপুরের সবুজ হোসাইন, কক্সবাজারের মো. আসিফ ও মোহাম্মদ হোসেন, গাজীপুরের টঙ্গীর মো. ইমাম হোসাইন রনি, চাঁদপুরের রুকু মিয়া, কক্সবাজারের মহেশখালীর সিফাত উল্লাহ, কুমিল্লার গিয়াস হামিদ, যশোরের মোহাম্মদ নাজমুল ও রনি।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাংলাদেশিরা হচ্ছেন- চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের সালাহউদ্দিন, ভোলার আল আমিন ও বুরহান উদ্দিন, লক্ষীপুরের মিনহাজ ও রিয়াজ, চাঁদপুরের কচুয়ার জুয়েল, মাগুরার আফ্রিদি মোল্লা ও মিজানুর রহমান, নোয়াখালীর মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন, কুমিল্লার ইয়ার হোসাইন ও জাহিদুল ইসলাম এবং যশোরের মোশাররফ হোসাইন।
এছাড়া চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন আব্দুল হাই, রানা, সেলিম, দেলোয়ার হোসাইন, হোসাইন আলী ও কুদ্দস।
সোমবার মক্কায় ওমরাহ পালনের জন্য যাওয়ার সময় সৌদির দক্ষিণাঞ্চলীয় আসির প্রদেশের আকাবা শার নামক স্থানে একটি সেতুর সঙ্গে সংঘর্ষে বাস উল্টে গিয়ে আগুন ধরে ২০ জন নিহত ও ২৯ জন আহত হন।
সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত শহীদুল ও হেলালের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম
নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত নোয়াখালীর শহীদুল ও হেলালের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। তারা ছিলেন তাদের পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস। তাদের মৃত্যুতে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ।
নিহতরা হলেন, জেলার চাটখিল উপজেলার নাহারখিল ইউনিয়নের ৫নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম রামনারায়ণপুর গ্রামের ভূঁইয়াজি বাড়ির মৃত মো. হুমায়ুন কবিরের ছেলে মো. হেলাল উদ্দিন (৩৪) ও সেনবাগ উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ মোহাম্মদপুর মালেক মোল্লার বাড়ির শরিয়ত উল্লাহর ছেলে মো. শহীদুল ইসলাম ওরেফ শাহেদ (২৭) ।
জানা যায়, এক বছর আগে জীবিকার সন্ধ্যানে পরিবারের বড় ছেলে মো. হেলাল উদ্দিন সৌদি আরবে পাড়ি জমান। এরপর তিনি একটি রোঁস্তেরায় চাকরি নেন। তার হাজাবি নামে তিন বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
এসব তথ্য নিশ্চিত করেন নিহতের ছোট ভাই মো.রিপন। তিনি বলেন, ভাইয়া সহ আরো ৪জন ওমরা করার জন্য এক সঙ্গে মক্কা নগরীর উদ্দেশে যাত্রা করে। যাত্রা পথে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ জনই মারা যান। শোকার্ত ভাই রিপন আরো জানান, তাদের পরিবারে শোকের মাতম চলছে। এ শোকে পরিবারের সদস্যরা পাথর হয়ে পড়েছে।
অপরদিকে,গত বছরের এপ্রিল মাসে পরিবারের বড় ছেলে শহীদুল ইসলাম ওরফে শাহেদ জীবিকার তাগিদে সৌদি আরব যান। সেখানে তিনি একটি দোকানে কর্মরত ছিলেন। গতকাল ওমরাহ পালনের উদেশ্যে কর্মস্থল থেকে রওনা হলে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান তিনি।
মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ফিরোজ আলম রিগান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন,শোকে পাথর হয়ে গেছে গোটা পরিবার। পরিবারের একমাত্র চালিকাশক্তিকে হারিয়ে, সবাই এখন দিশেহারা। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
উল্লেখ্য,গতকাল মঙ্গলবার (২৭ মার্চ) সৌদি আরবে স্থানীয় সময় বিকেলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ওমরাহযাত্রীদের বহনকারী একটি বাস ইয়েমেন সীমান্তবর্তী আসির প্রদেশের আকাবা শার এলাকায় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। দুর্ঘটনার কবলে পড়া বাসে ৪৭ জন যাত্রী ছিলেন। তাদের মধ্যে ৩৫ জন বাংলাদেশী। দুর্ঘটনায় ২২ জনের প্রাণহানি ঘটে। নিহতদের মধ্যে ৮জন বাংলাদেশী ছিল এবং তাদের মধ্যে নোয়াখালীর প্রবাসী শহীদুল ও হেলাল ছিলেন।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য