ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

আলোচিত দুদক কর্মকর্তা শরীফ উদ্দিনের চাকরি জ্যেষ্ঠতাসহ পুনর্বহালের নির্দেশ

অনলাইন ডেস্ক
৯ জুলাই, ২০২৫ ১৩:৪৬
অনলাইন ডেস্ক
আলোচিত দুদক কর্মকর্তা শরীফ উদ্দিনের চাকরি জ্যেষ্ঠতাসহ পুনর্বহালের নির্দেশ

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) থেকে চাকরিচ্যুত উপসহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দিনের চাকরি ফেরত দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তাকে ফেরত দিতে বলা হয়েছে পাওনা সকল বেতন ও সুযোগ সুবিধাও। চাকরিচ্যুতির বৈধতা নিয়ে শরীফ উদ্দিনের করা রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে এ রায় দেওয়া হয়।

বিচারপতি মো. রেজাউল হাসান ও বিচারপতি বিশ্বজিৎ দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ বুধবার এ রায় দেন।

তিন বছর আগে ২০২২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি শরীফ উদ্দিনকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়। কোনো ধরনের কারণ দর্শানো ছাড়াই কোনো কর্মীকে চাকরি থেকে অপসারণ-সংক্রান্ত দুদক কর্মচারী বিধিমালার ৫৪ (২) বিধির বৈধতা নিয়ে ও চাকরিতে পুনর্বহালের নির্দেশনা চেয়ে একই বছরের ১৩ মার্চ শরীফ রিট করেন।

প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট রুল দেন। রুলে দুদকের উপসহকারী পরিচালক পদ থেকে শরীফ উদ্দিনকে চাকরিচ্যুতির আদেশ কেন বেআইনি হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। একই সঙ্গে বেতন, সব সুবিধাসহ তাঁকে চাকরিতে পুনর্বহাল করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা–ও জানতে চাওয়া হয় রুলে। দুদকসহ বিবাদীদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়।

রুলের ওপর গতকাল মঙ্গলবার শুনানি শেষে আদালত আজ রায়ের জন্য দিন রেখেছিলেন। রুল যথাযথ (অ্যাবসলিউট) ঘোষণা করে আজ রায় দেওয়া হলো।

রায়ের সময় শরীফ উদ্দিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রাম কার্যালয়ে কর্মরত থাকাকালে বেশকিছু বড় দুর্নীতি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন মো. শরীফ উদ্দিন। এরপরই একাধিক মহলের রোষানলে পড়েন বলে অভিযোগ ওঠে।

সর্বশেষ ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি পরিবারসহ হত্যার হুমকি পান শরীফ। পরিবারসহ হত্যার হুমকি পাওয়ায় কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আইয়ুব খান চৌধুরী ও তার সঙ্গীদের বিরুদ্ধে সিসি টিভির ফুটেজসহ চট্টগ্রামের খুলশী থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেন।

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    দুদকের মামলায় খালাস পেলেন হানিফ পরিবহনের মালিক

    অনলাইন ডেস্ক
    ৭ জুলাই, ২০২৫ ১৬:৩৪
    অনলাইন ডেস্ক
    দুদকের মামলায় খালাস পেলেন হানিফ পরিবহনের মালিক
    হানিফ পরিবহনের মালিক ছবি: সংগৃহীত

    সম্পদের হিসাব দাখিল না করার অভিযোগে দুদকের করা মামলায় হানিফ পরিবহনের মালিক হানিফ মিয়াকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। 

    সোমবার (৭ জুলাই) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক রবিউল আলম এ রায় দেন। এদিন রায় ঘোষণার সময় হানিফ মিয়া আদালতে উপস্থিত ছিলেন। 

    সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. বেলাল হোসেন খালাসের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    সম্পদের হিসাব বিবরণী জমা না দেওয়ায় ২০২১ সালে ৪ এপ্রিল দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এর উপ-পরিচালক আবু বকর সিদ্দিক বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

    মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামি মো. হানিফ মিয়া নিজ নামে ৩ কোটি ৩ লাখ ৫৬ হাজার ১৬৩ টাকা  টাকার স্থাবর সম্পদ ও ১ কোটি ৮০ হাজার ২০৯ টাকা অস্থাবর সম্পদসহ মোট চার কোটি ৪ লাখ ৩৬ হাজার ৩৭২ টাকার সম্পদ অর্জন করেন। এই সম্পদের মধ্যে জ্ঞাত আয়ের উৎস বহির্ভূত ১ কোটি ৭৫ লাখ ৩৬ হাজার ৭০৭ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬(১) ধারার বিধান মতে দুর্নীতি দমন স্থায়ী কমিশন ২০২০ সালের ২৯ নভেম্বর সম্পদ বিবরণী নোটিশ জারি করা হয়। একই বছরে ৯ ডিসেম্বর নোটিশ তামিল হয়। পরবর্তীতে তিনি ওই সময়ের মধ্যে জবাব দাখিল করতে ব্যর্থ হন।

    ২০২৩ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি দুদকের উপপরিচালক মোহাম্মদ ইব্রাহিম আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

    উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকায় আওয়ামী লীগের এক জনসভায় গ্রেনেড হামলা হয়। হামলায় ২৪ জন নিহত এবং তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনাসহ অনেকে আহত হন। ওই মামলায় রায়ে তাকে ফাঁসির দণ্ড প্রদান করা হয়। তিনি পলাতক থাকা অবস্থায় ওই রায় ঘোষণা করেন আদালত।  পরবর্তীতে উচ্চ আদালত ওই রায় বাতিল করে সব আসামিকে খালাস প্রদান করেন।

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      ছাত্রদের 'রাজাকারের বাচ্চা' বলেননি শেখ হাসিনা : ট্রাইব্যুনালে আইনজীবী

      অনলাইন ডেস্ক
      ৭ জুলাই, ২০২৫ ১৫:২৭
      অনলাইন ডেস্ক
      ছাত্রদের 'রাজাকারের বাচ্চা' বলেননি শেখ হাসিনা : ট্রাইব্যুনালে আইনজীবী

      গত বছরের জুলাই মাসে হওয়া কোটাবিরোধী আন্দোলনে ছাত্রদের রাজাকার বলেননি শেখ হাসিনা। এটির অপব্যাখ্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আইনজীবী মো. আমির হোসেন।

      আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শুনানিতে সোমবার (৭ জুলাই) এমন মন্তব্য করেন রাষ্ট্রীয় খরচে নিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন। এদিন জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল।

      এদিন জুলাই-আগস্টে সারাদেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে দেওয়া মামলায় হাসিনার অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন এই আইনজীবী।

      আদালতে শেখ হাসিনার আইনজীবী দাবি করেন, গত বছরের ১৪ জুলাই সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীদের রাজাকার বলে আখ্যায়িত করেননি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার এ বক্তব্যটির অপব্যাখ্যা করা হয়েছে। এছাড়া আসামিরা নির্দোষ। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। অতএব, মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার তাদের হক রয়েছে।

      শুনানিতে রাষ্ট্রের পক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম। শুনানি শেষে এ বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী ১০ জুলাই দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।

      এর আগে, ১ জুলাই এ মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন নিয়ে শুনানি শেষ করে প্রসিকিউশন। ওইদিন আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা পাঁচটি অভিযোগ তুলে ধরেন চিফ প্রসিকিউটর। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দেশের ৫৬ হাজার বর্গমাইলজুড়েই অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। পরিমাণে, সংখ্যায় ও স্থানের দিক দিয়ে এ অপরাধ ছিল বিস্তৃত-ব্যাপক। অপরাধ ছিল সিস্টেমেটিক বা পদ্ধতিগত।

      ট্রাইব্যুনালকে তাজুল ইসলাম বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে এসব সংঘটিত হয়েছে। তার নির্দেশের চেইন অব কমান্ড অনুসারে বাস্তবায়নের মাধ্যমে সব জায়গায় একই পদ্ধতিতে অপরাধ সংঘটন করেছে পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনী। এছাড়া সারাদেশে একই পদ্ধতিতে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। সুতরাং এসব অপরাধ মানবতাবিরোধী বলে প্রমাণিত হয়।

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        আদালত অবমাননা :

        শেখ হাসিনার ৬ মাসের কারাদণ্ড

        অনলাইন ডেস্ক
        ২ জুলাই, ২০২৫ ১৩:৫০
        অনলাইন ডেস্ক
        শেখ হাসিনার ৬ মাসের কারাদণ্ড

        ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনাকে ৬ মাসের এবং গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের শাকিল আকন্দ বুলবুলকে দুই মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করা, মামলার বাদী ও সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখানো এবং হুমকি দেওয়ায় ট্রাইব্যুনাল আইনে এই সাজা দেওয়া হয়েছে।

        আজ (বুধবার) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এই রায় দেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মোহিতুল হক চৌধুরী ও বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ।

        তারা আদালতে আত্মসমর্পণের পর বা যেদিন গ্রেপ্তার হবেন, সেদিন থেকে এই সাজা কার্যকর হবে। এই প্রথম কোনো মামলায় শেখ হাসিনাকে সাজা দিলেন বাংলাদেশের কোনো আদালত। দেশের পট পরিবর্তনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এটাই প্রথম সাজার রায়।

        আদালতে শেখ হাসিনা ও শাকিলের পক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন। অ্যামিক্যাস কিউরি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ ওয়াই মশিউজ্জামান। প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর তানভীর জোহা।

        এর আগে গত ১৯ জুন ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে পালিয়ে যাওয়া ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননা মামলার বিচারের স্বচ্ছতার স্বার্থে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ ওয়াই মশিউজ্জামানকে অ্যামিক্যাস কিউরি (আদালতের বন্ধু) নিয়োগ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

        বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এই আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের বাকি দুই সদস্য হলেন— বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

        শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হওয়া আদালত অবমাননার মামলার শুনানির জন্য আজ দিন ধার্য ছিল। এই মামলার অপর আসামি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের শাকিল আকন্দ বুলবুল ওরফে মো. শাকিল আলম (৪০)।

        ‘২২৬ জনকে হত্যার লাইসেন্স পেয়ে গেছি’, অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া এমন একটি অডিও বক্তব্য শেখ হাসিনার উল্লেখ করে তিনিসহ দুজনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

        গত ৩০ এপ্রিল এ-সংক্রান্ত শুনানিতে দুই আসামিকে ২৫ মে ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। ধার্য তারিখে তারা হাজির হননি। কিংবা আইনজীবীর মাধ্যমে ব্যাখ্যাও দেননি। সেদিন ট্রাইব্যুনাল দুই আসামিকে সশরীরে হাজির হয়ে অভিযোগের বিষয়ে জবাব দেওয়ার জন্য সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি দিতে নির্দেশ দেন। পরদিন দুটি সংবাদপত্রে এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। বিজ্ঞপ্তিতে দুজনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে অভিযোগের বিষয়ে জবাব দিতে বলা হয়।

        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য

          স্বীকার করছি আমি ডামি নির্বাচন করেছি: আউয়াল

          অনলাইন ডেস্ক
          ২৬ জুন, ২০২৫ ১৯:৪৯
          অনলাইন ডেস্ক
          স্বীকার করছি আমি ডামি নির্বাচন করেছি: আউয়াল
          সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল

          রাষ্ট্রদ্রোহ ও অন্যায় প্রভাব খাটিয়ে প্রহসনের নির্বাচন দেওয়ার অভিযোগে রাজধানীর শেরে বাংলা থানার মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। তিনি আদালতে ডামি নির্বাচন করার কথা স্বীকার করেছেন। 

          হাবিবুল আউয়াল আরও বলেন, ক্ষমতার লোভ শেখ মুজিবও সামলাতে পারেননি। বাংলাদেশের কোন নির্বাচন বিতর্কিত হয়নি? ১৯৭২-এর ডিসেম্বরে সংবিধান রচনার তিন মাস পর ৭৩-এর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে শেখ মুজিবের মতো নেতা নির্বাচনে কারচুপি করেছেন।

           

          এখানে সাধু সাজার সুযোগ নেই। আপনার নিজের অপরাধ ঢাকার সুযোগ নেই। অন্যরা অন্যায় করেছে এসব না বলে আপনি কি করেছেন সেটা বলেন। এ সময় পাশ থেকে এক আইনজীবী বলে ওঠেন- ‘এতগুলো ছেলে-মেয়ে মারা গেছে আপনার জন্য।’ এর উত্তরে হাবিবুল আউয়াল পালটা প্রশ্ন করেন- ‘আমার জন্য এতগুলো ছেলে-মেয়ে মারা গেছে?’

          পাবলিক প্রসিকিউটর

           

          বৃহস্পতিবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমানের আদালতে এসব কথা বলেন তিনি। এদিন ১০ দিনের রিমান্ড আবেদনের ওপর রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের শুনানি শেষে তার তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন বিচারক।

          বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা ২৫ মিনিটে কাজী হাবিবুল আউয়ালকে আদালতের কাঠগড়ায় তোলা হয়। এরপর বিচারক দুপুর দেড়টার দিকে এজলাসে আসেন।

          এরপর রাষ্ট্রপক্ষে পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা শুনানি করেন। পরে আসামিকে উদ্দেশ্য করে আদালত বলেন, আপনার কাছে জাতির প্রত্যাশা ছিল অনেক। কিন্তু বিতর্কমুক্ত নির্বাচন করতে পারেননি।

          এ সময় হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘স্বীকার করছি- আমি ডামি নির্বাচন করেছি। রাজনৈতিক সমঝোতার অভাবে একতরফা নির্বাচন হয়েছে। তবে এখানে আমাকে পয়সা দেওয়ার কোনো প্রশ্ন আসেনি। আমার জীবনে আমি অর্থ আত্মসাৎ বা দুর্নীতি করিনি।’

          আদালত বলেন, ‘সাধারণত নির্বাচনি কর্মকর্তাদের ২০-২৫ হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হতো। কিন্তু এ নির্বাচনে ৪-৫ লাখ টাকা করে দেওয়া হয়। এমনটি হওয়ার কারণ কী? তবে এ প্রশ্নের জবাবে নিজের দায় এড়িয়ে যান কাজী হাবিবুল আউয়াল। রাতের বেলার ভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যখন রাতের বেলায় ভোট হয়, তখন আমি গভীর নিদ্রায় নিমগ্ন।’

          বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সময় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের (চরমোনাই) সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করিমের ওপর হামলার প্রসঙ্গ রাষ্ট্রপক্ষ থেকে উত্থাপন করা হলে আমি বলেছি- তার (ফয়জুল করিম) ওপর হামলার ঘটনায় কথা বলতে গিয়ে আমি কথাপ্রসঙ্গে বলে ফেলেছি- ‘তিনি কি ইন্তেকাল করেছেন? আমার এ কথাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

          এ সময় তার দীর্ঘ বক্তব্যে বিরক্তি প্রকাশ করেন পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী। এসময় হাবিবুল আউয়াল বলেন- ‘জাস্টিফাই করার সুযোগ না দিলে একটা জীবনকে মেরে ফেলেন।’

          পরে পাবলিক প্রসিকিউটর বলেন ‘এখানে সাধু সাজার সুযোগ নেই। আপনার নিজের অপরাধ ঢাকার সুযোগ নেই। অন্যরা অন্যায় করেছে এসব না বলে আপনি কি করেছেন সেটা বলেন। এ সময় পাশ থেকে এক আইনজীবী বলে ওঠেন- ‘এতগুলো ছেলে-মেয়ে মারা গেছে আপনার জন্য।’ এর উত্তরে হাবিবুল আউয়াল পালটা প্রশ্ন করেন- ‘আমার জন্য এতগুলো ছেলে-মেয়ে মারা গেছে?’

          এদিন রিমান্ড শুনানিকালে পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, ‘২০২৪ সালের ডামি নির্বাচনের আগে তিনি (আসামি) শেখ হাসিনাকে বলেন, সমস্যা নেই। আমি আপনাকে বিজয়ী ঘোষণা করে দেব। আর আপনি যে টাকা দেবেন, তা পকেটে ঢুকিয়ে নেব।’

          প্রাসঙ্গিক
            মন্তব্য
            সর্বশেষ সংবাদ
              সর্বাধিক পঠিত