শিরোনাম
রাজধানীর শেওড়াপাড়ায় আগুন
রাজধানীর মিরপুর শেওড়াপাড়ার শামীম সরণিতে একটি ভবনে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (২২ জুলাই) বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেছে।
ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সূত্রে আগুনের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, আগুন লাগা ওই ভবনটিতে ফ্যামিলি বাসা এবং মার্কেট উভয় রয়েছে। বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে হঠাৎ করে ভবনটিতে আগুন ধরে যায়, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে এখনো জানা যায়নি। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো সম্ভব হবে।
নিহতদের তথ্য প্রকাশসহ শিক্ষা উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ
রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে নিহতদের সঠিক নাম ও তথ্য প্রকাশসহ শিক্ষা উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবিতে ময়মনসিংহে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার সকালে বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা নগরীর গাঙ্গিনারপাড় ট্রাফিক মোড়ে জড়ো হয়ে প্রায় ঘণ্টা খানেক সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে অংশ নেয়।
এ সময় মধ্যরাতে শিক্ষা উপদেষ্টা এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা করায় তার পদত্যাগ দাবি করে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা মাইলস্টোন কলেজের ঘটনায় জড়িতদের বিচার দাবিতে নানা স্লোগান দেয়।
বিক্ষোভ চলাকালে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের শিক্ষার্থী রিশাদুল আলম প্রিন্স, রেদোয়ান ইসলাম তালুকদার, আনাস, সরকারি আনন্দমোহন কলেজের মোহতাসিম রেশাদ, শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজের সাব্বির আহমেদ শুভ, প্রবাল, নটরডেম কলেজের প্রথম ও ময়মনসিংহ কমার্স কলেজের শিক্ষার্থী আবির বক্তব্য রাখেন।
পরে গাঙ্গিনাপাড় ট্রাফিক মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে নগরীর টাউন হল জুলাই চত্বরে গিয়ে পুনরায় বিক্ষোভ করে।
বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, সরকার আহত, নিহত ও নিখোঁজের তথ্য গোপন করছে। অবিলম্বে নিহতদের সঠিক নাম ও তথ্য প্রকাশসহ ভুক্তভোগীদের সঠিক তালিকা দিতে হবে।
রাত ৩টার দিকে পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্তেও শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ। এ জন্য তারা শিক্ষা উপদেষ্টা ও শিক্ষা সচিবের পদত্যাগ দাবি করেন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তারা পদত্যাগ না করলে ব্লকেড কর্মসূচিসহ কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে হুমকি দেয়।
মাইলস্টোন ট্রাজেডি
বিমান বিধ্বস্তে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩১ : আইএসপিআর
ঢাকার উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩১ জনে দাঁড়িয়েছে। দুর্ঘটনায় আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতলে ভর্তি আছেন ১৬৫ জন।
মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দুপুরে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
আইএসপিআরের বিজ্ঞপ্তিতে বিভিন্ন হাসপাতালে নিহত ও আহতদের সংখ্যা তুলে ধরা হয়েছে—
- কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল : আহত ৮ জন, নিহত নেই
- জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউট : আহত ৪৬ জন, নিহত ১০
- ঢাকা মেডিকেল : আহত ৩, নিহত ১
- সিএমএইচ-ঢাকা : আহত ২৮, নিহত ১৬
- কুর্মিটোলা জেনারেল হসপিটাল : আহত ৩, নিহত নেই
- লুবনা জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড কার্ডিয়াক সেন্টার, উত্তরা : আহত ১৩, নিহত ২
- উত্তরা আধুনিক হসপিটাল : আহত ৬০, নিহত ১
- উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতাল : আহত ১, নিহত নেই
- শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল : আহত ১
- ০ উনাইটেড হাসপাতাল : আহত ২, নিহত ১
এর আগে সকালে প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় ২৭ জন নিহত হওয়ার তথ্য জানান। এর মধ্যে ২৫ জনই শিশু বলে জানান তিনি।
শিক্ষা উপদেষ্টা ও সচিবের পদত্যাগ দাবিতে সায়েন্সল্যাব মোড় অবরোধ
মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনার সঠিক তদন্ত ও নিহতের সঠিক তথ্য প্রকাশ এবং শিক্ষা উপদেষ্টা ও শিক্ষা সচিবের পদত্যাগ দাবিতে সায়েন্সল্যাব মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দুপুর ১২টার পর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এতে যানচলাচল সীমিত হয়ে পড়ে।
বিক্ষোভে ঢাকা কলেজ, ঢাকা সিটি কলেজ, আইডিয়াল কলেজ, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ কলেজ, বীরশ্রেষ্ঠ আব্দুর রউফ কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেছেন।
ডা. মো. সায়েদুর রহমান
নিহত ২৭ জনের মধ্যে ২৫ জনই শিশু
রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৭ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে ২৫ জনই শিশু।
প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান এ তথ্য জানিয়ে মঙ্গলবার (২২ জুলাই) সকালে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি।
তিনি বলেন, বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৭ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে দুইজন প্রাপ্ত বয়স্ক ছাড়া বাকি সবাই শিশু। প্রাপ্ত বয়স্কদের একজন পাইলট তৌকির ইসলাম ও একজন শিক্ষক মাহরীন চৌধুরী। এছাড়া বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ৭৮ জন।
অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান বলেন, আমাদের এখানে ভর্তি আছে ৪২ জন। সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে ২৮ জন। সেখানে সবমিলিয়ে ১৫ জনের মরদেহ ছিল। পাইলট তৌকিরের মরদেহ সিএমএইচে রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, ৬ জনের মরদেহের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি। তাদের ডিএনএ নেওয়া হয়েছ। এছাড়া ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একজন মারা গেছেন। সেখানে তিনজন এখন ভর্তি আছে, যাদের দুইজন আইসিইউতে আছে। এছাড়া ইউনাইটেড হাসপাতালে একজনের মরদেহ আনা হয়েছে। সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা ২৭ জন, হাসপাতালে ভর্তি আছে ৭৮ জন।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি থাকা আহতদের মধ্যে পাঁচজন আইসিইউতে আছে। তাদের মধ্যে দুইজনকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে। এ পাঁচজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
‘আমাদের এ হাসপাতালের সঙ্গে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা আছে। তার ভিত্তিতে কারিগরি সহায়তার জন্য বাংলাদেশ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। আহতদের কেইস সামারি তাদের পাঠানো হয়েছে। এই মুহূর্তে সিঙ্গাপুরে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সেই হাসপাতালে উপস্থিত আছেন। সেই হাসপাতালের চিকিৎসকরা কেইস স্টাডি দেখে যদি মনে করেন কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পাঠাবেন অথবা তাদের পরামর্শ অনুসারে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
রক্তদাতাদের হাসপাতালে ভিড় না করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, এখন ১০০ জনেরও কম রক্তদাতা প্রয়োজন। তাই নেগেটিভ গ্রুপের রক্তদাতা ছাড়া অন্যরা ভিড় করবেন না। আমাদের ব্যবস্থাপনা করতে অসুবিধা হয়।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত বার্ন ইনস্টিটিউট থেকে ১০ জন, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল থেকে ৮ জন, ইউনাইটেড হাসপাতাল থেকে একজন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে একজনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
কোন হাসপাতালে কারা ভর্তি আছেন তাদের নামের তালিকা পাবলিক ডোমেইনে দেওয়া আছে, স্বজনদের অনুরোধ করব তারা যেন তা জানার চেষ্টা করেন, বলেন ডা. সাইদুর।
ছেন।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য