শিরোনাম
মাভাবিপ্রবিতে গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে দিনব্যাপী কর্মসূচি পালিত
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) 'জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির সকল পর্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ারুল আজীম আখন্দ উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন।

৫ আগস্ট(মঙ্গলবার) ২০২৫ কর্মসূচির সূচনা হয় সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে প্রশাসনিক ভবন প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য বিজয় র্যালির মাধ্যমে। র্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে একাডেমিক ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণ করেন।

পরবর্তী কর্মসূচি হিসেবে দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। সেখানে গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় এবং আহতদের জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
দিনের তৃতীয় আয়োজন ছিল বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে মুক্তমঞ্চে আয়োজিত মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সংগীত, কবিতা ও নাট্য পরিবেশনা এবং বিখ্যাত ব্যান্ডদল কুঁরেঘর মাধ্যমে গণআন্দোলনের চেতনা তুলে ধরার আয়োজন করা হয়।
পরবর্তীতে রাত ৮ টা ৩০ মিনিটে দিনব্যাপী কর্মসূচির শেষ পর্ব হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল আবাসিক হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উন্নতমানের খাবার পরিবেশনের আয়োজন করা হয়।
এসব কর্মসূচিতে মাভাবিপ্রবির সকল ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়।
শিক্ষক সংকটে বাঙলা কলেজে ফাইন্যান্স ও মার্কেটিং বিভাগে ভর্তি বন্ধ
শিক্ষক সংকটের কারণে রাজধানীর সরকারি বাঙলা কলেজে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগ এবং মার্কেটিং বিভাগে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। উক্ত দুই বিভাগে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক না থাকায় এ ধরণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অন্তর্বর্তী প্রশাসনের পক্ষ থেকে৷
সম্প্রতি ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি'র(প্রস্তাবিত) অন্তর্বর্তী প্রশাসক অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস কর্তৃক স্বাক্ষরিত এক ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে সরকারি বাঙলা কলেজের উক্ত দুই বিভাগে মোট আসনসংখ্যা শূণ্য(০) দেখানো হয়েছে। রবিবার (৩রা আগস্ট) প্রকাশিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির পূর্ণাঙ্গ ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়টি লক্ষ্য করা যায়।
অন্তর্বর্তী প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “উক্ত দুই বিভাগে বর্তমানে পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি নেয়া হবে না। ফলে চলতি শিক্ষাবর্ষে উভয় বিভাগের জন্য আসনসংখ্যা ‘শূন্য’ দেখানো হয়েছে।”
কলেজ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই ফাইন্যান্স ও মার্কেটিং বিভাগে শিক্ষক সংকট চলছিল। বারবার চাহিদা জানানো সত্ত্বেও নতুন শিক্ষক নিয়োগ হয়নি। ফলে শিক্ষার্থীদের সুষ্ঠু পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। এ প্রেক্ষিতে প্রশাসন এই দুই বিভাগে সাময়িকভাবে ভর্তি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।
ভর্তি বন্ধের বিষয়টি ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, শিক্ষক সংকটের সমাধান না করে বরং বিভাগ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে, যা উচ্চশিক্ষা গ্রহণে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের জন্য চরম অস্বস্তিকর।
এ বিষয়ে ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থী শাওন আহমেদ সৈকত বলেন, “শিক্ষক সংকট সমস্যার সমাধান ভর্তি বন্ধ করে দেওয়া নয়। সমাধান হওয়া উচিত ছিলো শিক্ষক নিয়োগের ব্যাবস্থা করা। নানা সময়ে শিক্ষকেরা আসার আগ্রহ প্রকাশ করলেও মন্ত্রণালয় তাদের বাঙলা কলেজে পদায়ন না করে ইউজিসি কে ভর্তি বন্ধ করার সুযোগ দিয়েছে। সাত কলেজের অন্য কোনো কলেজ এবং বিভাগে ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ না হলেও বাঙলা কলেজের ২ বিভাগের ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ করার সিদ্ধান্তকে ফাইন্যান্স & ব্যাংকিং বিভাগের একজন শিক্ষার্থী হিসেবে প্রত্যাখ্যান করছি।”
অপরদিকে মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী শাকিল রানা হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “বর্তমান শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা না করে ইউজিসি ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু হওয়া উচিত ছিলো শিক্ষকবিহীন বিভাগগুলো তে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া। আমরা অনতিবিলম্বে শিক্ষকবিহীন বিভাগগুলোতে শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে নতুন সেশনে ভর্তি চালু রাখার দাবি জানাচ্ছি। এর কোনো বিকল্প নেই। যদি ইউজিসি এর বিকল্প খুজে তবে আমরাও বিকল্প খুজে নিবো বাঙলা কলেজ থেকে।”
এ বিষয়ে সাত কলেজের অন্তর্বর্তী প্রশাসনের প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে ভবিষ্যতে আবারও উক্ত বিভাগগুলোতে ভর্তি চালু করা যেতে পারে।
উল্লেখ্য, সরকারি বাঙলা কলেজ ঢাকার প্রাচীণ সরকারি কলেজগুলোর মধ্যে অন্যতম। অতীতে কলেজটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ছিলো।
সম্প্রতি সরকারি বাঙলা কলেজসহ রাজধানীর সাতটি সরকারি কলেজ নিয়ে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই কলেজগুলোর নজরদারি সহ সার্বিক দেখভালের দায়িত্বে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন(ইউজিসি)।
ইবিতে সাজিদকে শ্বাসরোধে হত্যা, মামলা দায়ের
- তদন্তভার দেওয়া হবে পিবিআইকে: ইবি ভিসি
- উচ্চতর তদন্তের সুপারিশ ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির
- সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে ধোঁয়াশা
- বিক্ষোভে উত্তাল ইবি
- জরুরি সিন্ডিকেট আহ্বান
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আল কোরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহকে শ্বাসরোধ করে হত্যার ঘটনায় ইবি থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার বিকেলে সাজিদের বাবা আহসান হাবিবুল্লাহ বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান ।
জানা যায়, সাজিদ আব্দুল্লাহ'র হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে মামলা দায়ের করার সময় তার বাবার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তার ভগ্নিপতি আমিনুল ইসলাম। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান, সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল বারীসহ অন্যান্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
এসময় সাজিদের বাবা আহসান হাবিবুল্লাহ বলেন, পোস্টমর্টেম ও ফরেনসিক রিপোর্ট অনুযায়ী আমার ছেলেকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করা হয়েছে। এ মর্মে আমি ইবি থানাতে একটা মামলা দায়ের করেছি। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই। মামলার বিষয়ে ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, আজ সাজিদের বাবা বাদী হয়ে ইবি থানাতে একটি মামলা দায়ের করেছে। মামলার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।
এদিকে সাজিদ আব্দুল্লাহ'র হত্যাকাণ্ডের ঘটনা পিবিআইকে দিয়ে তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মুহাম্মদ নসরুল্লাহ। তিনি বলেন, এ ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আজ ৭টায় জরুরি সিন্ডিকেট বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
এছাড়া গত ১৬ জুলাইয়ের নির্দিষ্ট সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ গায়েব নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দুষছেন শিক্ষার্থীরা। তবে সিসিটিভি ফুটেজ গায়েব হয়েছে বিষয়টি এমন নয় বলে জানিয়েছেন আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. শাহাজাহান। তিনি বলেন, অনেকগুলো সিসিটিভি নষ্ট হয়ে গেছে। কিছু সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা গেছে। বাকি সিসিটিভি ফুটেজগুলোর কি অবস্থা সেটি আমরা চেক করছি।
এর আগে রোববার সন্ধ্যায় ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বরাবর প্রতিবেদন জমা দেন। এরপর তারা জানান, আমরা প্রতিবেদনে যাবতীয় বিষয়গুলো উল্লেখ করেছি। তবে মৃত্যুর ঘটনাটি স্বাভাবিক নয়। তাই উচ্চোতর তদন্তের জন্য প্রশাসনকে সুপারিশ করা হয়েছে।
এদিকে সোমবার (৪ আগস্ট) বেলা ১১ টার দিকে সাজিদ আব্দুল্লাহ'র হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রশাসন ভবন চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। এতে উত্তাল হয়ে উঠে ক্যাম্পাস। এসময় শিক্ষার্থীরা বলেন, সাজিদকে নির্মমভাবে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। এটি কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, এটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। সাজিদ হত্যার বিচার নিশ্চিতের জন্য প্রশাসনের উদ্যোগে মামলা করতে হবে। একইসাথে নিরাপদ ক্যাম্পাস গঠনে প্রস্তাবিত ১৫ দফা দাবি বাস্তবায়নে প্রশাসনকে জবাব দিতে হবে। অন্যথায় পুরো ক্যাম্পাস শাটডাউনের ঘোষণা করা হবে। পরে বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ এ ঘটনার সর্বোচ্চ তদন্তের আশ্বাস দিলে কর্মসূচি স্থগিত করেন শিক্ষার্থীরা।
৭ কলেজ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়: ৪০% ক্লাস অনলাইনে, ৬০% সশরীরে
উচ্চমাধ্যমিক রেখেই চালু হচ্ছে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি
ঢাকা মহানগরীর সরকারি সাত কলেজের জন্য প্রস্তাবিত ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০ শতাংশ ক্লাস হবে অনলাইনে, আর বাকি ৬০ শতাংশ ক্লাস সশরীরে অনুষ্ঠিত হবে।
দেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েও চালু থাকবে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের পাঠদান। আর বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হবে চারটি অনুষদের অধীনে ২৩টি বিষয়ে স্নাতক পর্যায়ে।
সোমবার সচিবালয়ে ঢাকা মহানগরীর সরকারি ৭ কলেজের জন্য প্রস্তাবিত ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন সংক্রান্ত কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের রুটিন দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত সচিব মো. মজিবর রহমান এ তথ্য জানান।
নতুন এ বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈশিষ্ট্য ও পরিচালনা পদ্ধতি তুলে ধরে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাব্যবস্থা হবে ইন্টারডিসিপ্লিনারি ও হাইব্রিড ধরনের, যেখানে ৪০ শতাংশ ক্লাস অনলাইন এবং ৬০ শতাংশ অফলাইনে (সশরীরে) অনুষ্ঠিত হবে। সব ধরনের পরীক্ষা সশরীরে অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে সব শিক্ষার্থী প্রথম চারটি সেমিস্টারে নন-মেজর কোর্স অধ্যয়ন করবেন। পরবর্তী চার সেমিস্টার ডিসিপ্লিন অনুযায়ী মেজর কোর্স অধ্যয়ন করবেন। তবে পঞ্চম সেমিস্টারে শর্তপূরণ সাপেক্ষে শিক্ষার্থীরা ইচ্ছানুযায়ী ডিসিপ্লিন পরিবর্তন করতে পারবেন। তবে ক্যাম্পাস পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে না।
চার অনুষদে ২৩ বিষয়ে পাঠদান:
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েও চালু থাকবে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের পাঠদান। আর বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হবে চারটি অনুষদের অধীনে ২৩টি বিষয়ে স্নাতক পর্যায়ে।
ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ ও সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ—এই সাতটি প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত কাঠামোর ভিত্তিতে গড়ে উঠছে নতুন এই বিশ্ববিদ্যালয়।
শুরুতেই চারটি অনুষদ, হাইব্রিড শিক্ষাব্যবস্থা
নতুন প্রতিষ্ঠিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে প্রাথমিকভাবে চালু হচ্ছে চারটি অনুষদ বা স্কুল। এগুলো হলো- সায়েন্স; আর্টস অ্যান্ড হিউম্যানিটিজ; বিজনেস স্টাডিজ ও ল অ্যান্ড জাস্টিস।
শিক্ষা কার্যক্রম হবে হাইব্রিড পদ্ধতিতে
৪০% ক্লাস হবে অনলাইনে, আর ৬০% অফলাইনে। তবে সব পরীক্ষা দিতে হবে সশরীরে। প্রথম চার সেমিস্টারে পড়ানো হবে নন-মেজর বিষয়, আর পরবর্তী চার সেমিস্টারে শিক্ষার্থীরা পড়বেন মেজর বিষয়ে। পঞ্চম সেমিস্টারে শর্তসাপেক্ষে ডিসিপ্লিন পরিবর্তনের সুযোগ থাকলেও কলেজ পরিবর্তন করা যাবে না।
প্রতি বিষয়ে ভর্তি সীমিত, যুক্ত হচ্ছে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাও
স্নাতক পর্যায়ে মোট ২৩টি বিষয়ের প্রতিটিতে সর্বোচ্চ ৪০ জন করে শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারবেন। রাজধানীর সাতটি সরকারি কলেজের মধ্যে পাঁচটিতে আগেই একাদশ শ্রেণির পাঠদান চালু ছিল, এবার ইডেন কলেজ ও সরকারি তিতুমীর কলেজেও উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণি চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে এবারই প্রথম উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার ধারাও যুক্ত হচ্ছে।
একই ক্যাম্পাসে উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতকের শিক্ষার্থীরা সময়সূচি, স্থান ও সম্পদ ভাগাভাগির মাধ্যমে ক্লাস করবে।
প্রতি বিষয়ে ভর্তি হবে সর্বোচ্চ ৪০ জন
স্নাতক পর্যায়ের ২৩টি বিষয়ের প্রতিটিতে সর্বোচ্চ ৪০ জন করে শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারবেন। সাতটি কলেজের মধ্যে পাঁচটিতে একাদশ শ্রেণির পাঠদান আগেও ছিল, এবার ইডেন ও সরকারি তিতুমীর কলেজও উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণির পাঠদান শুরুর প্রস্তাবনাও দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার ধারাও যুক্ত হলো। উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতকের শিক্ষার্থীরা টাইম, স্পেস ও রিসোর্স শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে।
জুলাই বিপ্লব'ই আমাদের আগামী দিনের পথ নির্দেশিকা- ইবি উপাচার্য
ইসলামী বিশ্ববিদ্যায়ের (ইবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেছেন, জুলাই আমাদের অস্তিত্ব, আদর্শ এবং প্রেরণা। জুলাই আগস্টের বিপ্লব'ই হলো আগামী দিনের পথ নির্দেশিকা। আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে সুন্দর বাংলাদেশ গড়ব, ফ্যাসিস্টকে আর ফিরতে দেব না। বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে ও সুশিক্ষিত সমাজ গড়তে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল স্টেকহোলডারকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।
সোমবার (৪ আগস্ট) সকাল ৯ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের নিচে জুলাই-আগস্ট ১ম বর্ষপূর্তি উদযাপন কমিটি আয়োজিত ডিজিটাল প্লাটফর্ম ডকুমেন্টেশন প্রদর্শনী উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন তিনি। জানা যায়, এটি সকাল ৯ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত প্রদর্শন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, আজকে জুলাই বিপ্লব এই ডিজিটাল ডকুমেন্টেশন আমাদের হৃদয়ে সংগ্রহশালার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালায় আজীবন থাকবে যা বিশ্ববিদ্যালয় সকল শিক্ষার্থী এবং নতুন যারা আসবে সবাই জুলাই বিপ্লবকে উপলব্ধি ও ধারণ করবে। ফ্যাসিস্ট রিজ্যম নির্মুল করার জন্য ছাত্রজনতা যে অবদান রেখেছিল সে সম্পর্কে জানবে।
উল্লেখ্য, এসময় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম ও জুলাই প্রথম বার্ষিকী বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড.মো. শাহিনুজ্জামান ও কমিটির উপদেষ্টা সদস্য অধ্যাপক ড. আ.ব.ম সিদ্দিকুর রহমান আশ্রাফী, অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন,অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য