ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

ইবিতে সাজিদকে শ্বাসরোধে হত্যা, মামলা দায়ের

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
৪ আগস্ট, ২০২৫ ১৯:৩০
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
ইবিতে সাজিদকে শ্বাসরোধে হত্যা, মামলা দায়ের
  • তদন্তভার দেওয়া হবে পিবিআইকে: ইবি ভিসি
  • উচ্চতর তদন্তের সুপারিশ ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির
  • সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে ধোঁয়াশা
  • বিক্ষোভে উত্তাল ইবি
  • জরুরি সিন্ডিকেট আহ্বান


ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আল কোরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহকে শ্বাসরোধ করে হত্যার ঘটনায় ইবি থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার বিকেলে সাজিদের বাবা আহসান হাবিবুল্লাহ বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান ।


জানা যায়, সাজিদ আব্দুল্লাহ'র হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে মামলা দায়ের করার সময় তার বাবার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তার ভগ্নিপতি আমিনুল ইসলাম। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান, সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল বারীসহ অন্যান্যরাও উপস্থিত ছিলেন। 


এসময় সাজিদের বাবা আহসান হাবিবুল্লাহ বলেন, পোস্টমর্টেম ও ফরেনসিক রিপোর্ট অনুযায়ী আমার ছেলেকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করা হয়েছে। এ মর্মে আমি ইবি থানাতে একটা মামলা দায়ের করেছি। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই। মামলার বিষয়ে ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, আজ সাজিদের বাবা বাদী হয়ে ইবি থানাতে একটি মামলা দায়ের করেছে। মামলার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।


এদিকে সাজিদ আব্দুল্লাহ'র হত্যাকাণ্ডের ঘটনা পিবিআইকে দিয়ে তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মুহাম্মদ নসরুল্লাহ। তিনি বলেন, এ ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আজ ৭টায় জরুরি সিন্ডিকেট বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।


এছাড়া গত ১৬ জুলাইয়ের নির্দিষ্ট সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ গায়েব নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দুষছেন শিক্ষার্থীরা। তবে সিসিটিভি ফুটেজ গায়েব হয়েছে বিষয়টি এমন নয় বলে জানিয়েছেন আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. শাহাজাহান। তিনি বলেন, অনেকগুলো সিসিটিভি নষ্ট হয়ে গেছে। কিছু সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা গেছে। বাকি সিসিটিভি ফুটেজগুলোর কি অবস্থা সেটি আমরা চেক করছি।


এর আগে রোববার সন্ধ্যায় ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বরাবর প্রতিবেদন জমা দেন। এরপর তারা জানান, আমরা প্রতিবেদনে যাবতীয় বিষয়গুলো উল্লেখ করেছি। তবে মৃত্যুর ঘটনাটি স্বাভাবিক নয়। তাই উচ্চোতর তদন্তের জন্য প্রশাসনকে সুপারিশ করা হয়েছে।


এদিকে সোমবার (৪ আগস্ট) বেলা ১১ টার দিকে সাজিদ আব্দুল্লাহ'র হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রশাসন ভবন চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। এতে উত্তাল হয়ে উঠে ক্যাম্পাস। এসময় শিক্ষার্থীরা বলেন, সাজিদকে নির্মমভাবে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। এটি কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, এটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। সাজিদ হত্যার বিচার নিশ্চিতের জন্য প্রশাসনের উদ্যোগে মামলা করতে হবে। একইসাথে নিরাপদ ক্যাম্পাস গঠনে প্রস্তাবিত ১৫ দফা দাবি বাস্তবায়নে প্রশাসনকে জবাব দিতে হবে। অন্যথায় পুরো ক্যাম্পাস শাটডাউনের ঘোষণা করা হবে। পরে বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ এ ঘটনার সর্বোচ্চ তদন্তের আশ্বাস দিলে কর্মসূচি স্থগিত করেন শিক্ষার্থীরা।

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    ৭ কলেজ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়: ৪০% ক্লাস অনলাইনে, ৬০% সশরীরে

    উচ্চমাধ্যমিক রেখেই চালু হচ্ছে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি

    অনলাইন ডেস্ক
    ৪ আগস্ট, ২০২৫ ১৭:৭
    অনলাইন ডেস্ক
    উচ্চমাধ্যমিক রেখেই চালু হচ্ছে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি

    ঢাকা মহানগরীর সরকারি সাত কলেজের জন্য প্রস্তাবিত ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০ শতাংশ ক্লাস হবে অনলাইনে, আর বাকি ৬০ শতাংশ ক্লাস সশরীরে অনুষ্ঠিত হবে।


    দেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েও চালু থাকবে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের পাঠদান। আর বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হবে চারটি অনুষদের অধীনে ২৩টি বিষয়ে স্নাতক পর্যায়ে।


    সোমবার সচিবালয়ে ঢাকা মহানগরীর সরকারি ৭ কলেজের জন্য প্রস্তাবিত ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন সংক্রান্ত কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের রুটিন দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত সচিব মো. মজিবর রহমান এ তথ্য জানান।


    নতুন এ বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈশিষ্ট্য ও পরিচালনা পদ্ধতি তুলে ধরে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাব্যবস্থা হবে ইন্টারডিসিপ্লিনারি ও হাইব্রিড ধরনের, যেখানে ৪০ শতাংশ ক্লাস অনলাইন এবং ৬০ শতাংশ অফলাইনে (সশরীরে) অনুষ্ঠিত হবে। সব ধরনের পরীক্ষা সশরীরে অনুষ্ঠিত হবে।


    তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে সব শিক্ষার্থী প্রথম চারটি সেমিস্টারে নন-মেজর কোর্স অধ্যয়ন করবেন। পরবর্তী চার সেমিস্টার ডিসিপ্লিন অনুযায়ী মেজর কোর্স অধ্যয়ন করবেন। তবে পঞ্চম সেমিস্টারে শর্তপূরণ সাপেক্ষে শিক্ষার্থীরা ইচ্ছানুযায়ী ডিসিপ্লিন পরিবর্তন করতে পারবেন। তবে ক্যাম্পাস পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে না।


    চার অনুষদে ২৩ বিষয়ে পাঠদান:


    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েও চালু থাকবে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের পাঠদান। আর বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হবে চারটি অনুষদের অধীনে ২৩টি বিষয়ে স্নাতক পর্যায়ে।


    ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ ও সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ—এই সাতটি প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত কাঠামোর ভিত্তিতে গড়ে উঠছে নতুন এই বিশ্ববিদ্যালয়।


    শুরুতেই চারটি অনুষদ, হাইব্রিড শিক্ষাব্যবস্থা


    নতুন প্রতিষ্ঠিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে প্রাথমিকভাবে চালু হচ্ছে চারটি অনুষদ বা স্কুল। এগুলো হলো- সায়েন্স; আর্টস অ্যান্ড হিউম্যানিটিজ; বিজনেস স্টাডিজ ও ল অ্যান্ড জাস্টিস।


    শিক্ষা কার্যক্রম হবে হাইব্রিড পদ্ধতিতে


    ৪০% ক্লাস হবে অনলাইনে, আর ৬০% অফলাইনে। তবে সব পরীক্ষা দিতে হবে সশরীরে। প্রথম চার সেমিস্টারে পড়ানো হবে নন-মেজর বিষয়, আর পরবর্তী চার সেমিস্টারে শিক্ষার্থীরা পড়বেন মেজর বিষয়ে। পঞ্চম সেমিস্টারে শর্তসাপেক্ষে ডিসিপ্লিন পরিবর্তনের সুযোগ থাকলেও কলেজ পরিবর্তন করা যাবে না।


    প্রতি বিষয়ে ভর্তি সীমিত, যুক্ত হচ্ছে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাও


    স্নাতক পর্যায়ে মোট ২৩টি বিষয়ের প্রতিটিতে সর্বোচ্চ ৪০ জন করে শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারবেন। রাজধানীর সাতটি সরকারি কলেজের মধ্যে পাঁচটিতে আগেই একাদশ শ্রেণির পাঠদান চালু ছিল, এবার ইডেন কলেজ ও সরকারি তিতুমীর কলেজেও উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণি চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে এবারই প্রথম উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার ধারাও যুক্ত হচ্ছে।


    একই ক্যাম্পাসে উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতকের শিক্ষার্থীরা সময়সূচি, স্থান ও সম্পদ ভাগাভাগির মাধ্যমে ক্লাস করবে।


    প্রতি বিষয়ে ভর্তি হবে সর্বোচ্চ ৪০ জন


    স্নাতক পর্যায়ের ২৩টি বিষয়ের প্রতিটিতে সর্বোচ্চ ৪০ জন করে শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারবেন। সাতটি কলেজের মধ্যে পাঁচটিতে একাদশ শ্রেণির পাঠদান আগেও ছিল, এবার ইডেন ও সরকারি তিতুমীর কলেজও উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণির পাঠদান শুরুর প্রস্তাবনাও দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার ধারাও যুক্ত হলো। উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতকের শিক্ষার্থীরা টাইম, স্পেস ও রিসোর্স শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে।


    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      জুলাই বিপ্লব'ই আমাদের আগামী দিনের পথ নির্দেশিকা- ইবি উপাচার্য

      ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
      ৪ আগস্ট, ২০২৫ ১৫:১৮
      ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
      জুলাই বিপ্লব'ই আমাদের আগামী দিনের পথ নির্দেশিকা- ইবি উপাচার্য

      ইসলামী বিশ্ববিদ্যায়ের (ইবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেছেন, জুলাই আমাদের অস্তিত্ব, আদর্শ এবং প্রেরণা। জুলাই আগস্টের বিপ্লব'ই হলো আগামী দিনের পথ নির্দেশিকা। আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে সুন্দর বাংলাদেশ গড়ব, ফ্যাসিস্টকে আর ফিরতে দেব না। বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে ও সুশিক্ষিত সমাজ গড়তে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল স্টেকহোলডারকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।


      সোমবার (৪ আগস্ট) সকাল ৯ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের নিচে জুলাই-আগস্ট ১ম বর্ষপূর্তি উদযাপন কমিটি আয়োজিত ডিজিটাল প্লাটফর্ম ডকুমেন্টেশন প্রদর্শনী উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন তিনি। জানা যায়, এটি সকাল ৯ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত প্রদর্শন করা হবে।


      তিনি আরও বলেন, আজকে জুলাই বিপ্লব এই ডিজিটাল ডকুমেন্টেশন আমাদের হৃদয়ে সংগ্রহশালার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালায় আজীবন থাকবে যা বিশ্ববিদ্যালয় সকল শিক্ষার্থী এবং নতুন যারা আসবে সবাই জুলাই বিপ্লবকে উপলব্ধি ও ধারণ করবে। ফ্যাসিস্ট রিজ্যম নির্মুল করার জন্য ছাত্রজনতা যে অবদান রেখেছিল সে সম্পর্কে জানবে।


      উল্লেখ্য, এসময় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম ও জুলাই প্রথম বার্ষিকী বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড.মো. শাহিনুজ্জামান ও কমিটির উপদেষ্টা সদস্য অধ্যাপক ড. আ.ব.ম সিদ্দিকুর রহমান আশ্রাফী, অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন,অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        কুবিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে আলোচনা সভা

        ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
        ৪ আগস্ট, ২০২৫ ১২:৫৯
        ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
        কুবিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে আলোচনা সভা

        কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) ছাত্র-জনতার জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উদ্‌যাপন উপলক্ষে জুলাই অভ্যুত্থান ও গণতান্ত্রিক বিকাশে ছাত্র-জনতার ভূমিকা শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। 


        রবিবার (৩ আগস্ট) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।


        সহকারী প্রক্টর ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুতাসিম বিল্লাহ্'র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. হায়দার আলী, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য মাসুদা কামাল এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ সোলায়মান।


        এছাড়া অতিথি হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংখ্যা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম ও গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. গীতি আরা নাসরীন উপস্থিত ছিলেন।


        বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংখ্যা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম “প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ: জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও গণচেতনা” নিয়ে আলোচনা করেন।


        ড. গীতি আরা নাসরীন আলোচনায় অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে আমাদের দায়িত্ব এবং ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখেন।


        অনুষ্ঠানের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক মোতাসিম বিল্লাহ বলেন, “বর্তমান বাংলাদেশে প্রায় সব ক্ষেত্রে কমিশন রয়েছে, কিন্তু শিক্ষা কমিশন নেই, যা বিস্ময়কর। জুলাই আন্দোলনকে টেকসই করতে হলে প্রথমেই শিক্ষা ও শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠন করতে হবে। আমাদের দেশের শিক্ষিত সমাজের একটি অংশ লুটপাটে জড়িত, যার পেছনে বড় কারণ পাঠ্যসূচি। পাঠ্যসূচি আমাদের ধর্ম ও সংস্কৃতিকে ধারণ করে না। ব্রিটিশ আমল থেকে সৃষ্ট এই সংকট দূর করতে হলে পাঠ্যপুস্তকে গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত করতে হবে।”


        বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল বলেন, “জুলাই আন্দোলন ছিল স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে পুরো জাতির ঐক্য। প্রাইমারির শিক্ষার্থী থেকে রিকশাচালক পর্যন্ত সবাই আন্তরিকভাবে অংশ নিয়েছিল। তবে স্বৈরশাসকের পতনের পরও তার শিকড় সমাজ থেকে পুরোপুরি উপড়ে ফেলা যায়নি। তরুণদের সচেতন হতে হবে এবং সুন্দর গণতান্ত্রিক পরিবেশ গড়তে নেতৃত্ব দিতে হবে।”


        তিনি আরও বলেন, “জুলাইয়ের আগে যে অখণ্ড ঐক্য সৃষ্টি হয়েছিল, সেটিই বিপ্লবের মূল শক্তি ছিল। কিন্তু সেটি স্থায়ী হয়নি, যা দেশের জন্য অশনিসংকেত। গণতান্ত্রিক বিকাশের জন্য মূল্যবোধ ও জ্ঞানের প্রতি প্রতিশ্রুতি—এই দুটি দিকই গুরুত্বপূর্ণ, আর এর ভিত্তি গড়ে ওঠে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকেই।”  


        প্রধান অতিথি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ হায়দার আলী বলেন, এই আন্দোলন ছিল একটা স্বৈরাচার বনাম সারা দেশ। সারা জাতি একত্রিত হয়েছিলো এই স্বৈরাচার পতনের আন্দোলনে। এমন সন্ধিক্ষণ পৃথিবীতে খুব কমই হয়। এই আন্দোলনে প্রাইমারির শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে রিকশাচালক, দিনমজুর সবাই অংশগ্রহণ করেছিলো তাদের নিজেদের অন্তরের একটা আকাঙ্খা থেকে যা ছিল মিথ্যাচার, অন্যায় ও অপশাসনের বিরুদ্ধে। ছাত্র-জনতার ত্যাগের বিনিময়ে একজন স্বৈরশাসকের পতন ঘটলেও বিগত ১৬/১৭ বছরে তারা সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে যে শিকড় বিস্তার করেছিলো তা উপড়ে ফেলা সম্ভব হয়নি। এ কারণেই স্বৈরাচার পতনের ১ বছর পরেও আমরা তেমন কোনো সুফল দেখতে পাচ্ছি না। আমি তরুণদের বলবো আপনারা সচেতন হোন। আমি আশাবাদী আপনাদের নেতৃত্বে দেশে সুন্দর গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি হবে। দেশকে ভালোবাসে এমন মানুষ থাকবে নেতৃত্বে।


        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য

          খুবিতে আন্তর্জাতিক সম্মেলন, গবেষকদের মিলনমেলায় উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা

          ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
          ৪ আগস্ট, ২০২৫ ১২:৫৬
          ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
          খুবিতে আন্তর্জাতিক সম্মেলন, গবেষকদের মিলনমেলায় উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা

          খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানবিক স্কুলের উদ্যোগে ‘শান্তি প্রতিষ্ঠায় কলা ও মানবিকীবিদ্যা’ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মালয়েশিয়াসহ বাংলাদেশের শিক্ষক, গবেষক ও সাহিত্যিকরা।


          খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সড়ক সেজেছে বাহারি রঙের ফেস্টুনে। চারদিকে উৎসবের আমেজ। ছেলেরা শার্ট, কোট ও মেয়েরা শাড়ি পড়ে এসে ভিড় জমিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ও দুই নাম্বার একাডেমিকের সামনে। তাঁদের সবার চোখেমুখে উচ্ছ্বাস! কেউ ব্যস্ত অনুষ্ঠান আয়োজনে, কেউ ব্যস্ত হাসি-আড্ডায়, আবার কারও তাড়াহুড়া প্রবন্ধ উপস্থাপনের প্রস্তুতিতে। এরপর দিনভর বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার নানা বিভাগ নিয়ে কলা ও মানবিক বিদ্যার গল্প-আলোচনা। গত শনিবার থেকে এমন চিত্র দেখা যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানবিক স্কুলের আয়োজিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে।

          সম্মেলনে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ দেশি-বিদেশি তিন শতাধিক গবেষক অংশগ্রহণ করেন। সাহিত্য, ইতিহাস গবেষণা এবং সমস্যার সমাধানসহ নানা বিষয়ের ওপর গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন তাঁরা। সেগুলোর খুঁটিনাটি জানতে আগ্রহী শিক্ষার্থীরা তাঁদের উদ্দেশে ছুড়ে দেন হরেক রকমের প্রশ্ন। গবেষকেরাও সাবলীলভাবে উত্তর দেন সেসব প্রশ্নের।


          এ আয়োজনকে ঘিরে বেশ উচ্ছ্বসিত কলা ও মানবিক স্কুলের শিক্ষার্থীরা। তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জিহাদ হোসেন বলেন, ‘সম্মেলনে দেশি-বিদেশি গবেষকদের সান্নিধ্যে আসতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত। আমরা সরাসরি তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে পেরেছি, গবেষণার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করতে পেরেছি এবং নানা বিষয়ে নতুন তথ্য, গবেষণা ও মানবতা সম্পর্কে জানতে পেরেছি। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার ও তাঁদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। আশা করি, সামনের দিনগুলোতেও কলা ও মানবিক স্কুলের এ রকম সম্মেলন আয়োজনের ধারা অব্যাহত রাখবে।’


          শনিবার সকাল ৯টায় শুরু হয় দুই দিনব্যাপী এ আয়োজন। এতে সর্বমোট ১৬৫টি গবেষণাপত্র উপস্থাপিত হয়। আলোচনায় আমন্ত্রিত বক্তা হিসেবে কলা ও মানবিক বিদ্যার নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেন

          ইউনিভার্সিটি সেইন্স মালয়েশিয়ার আর্টস অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মুহাম্মদ কামারুল কাবিলান বিন আব্দুল্লাহ, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আজম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্টস অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান খান। অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো: রেজাউল করিম, উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ হারুনর রশীদ খান। 


          কলা ও মানবিক স্কুলের ডিন প্রফেসর ড. মোঃ শাহজাহান কবীর এর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইংরেজি ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. আব্দুর রহমান শাহীন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলা ডিসিপ্লিন প্রধান প্রফেসর ড. মোঃ দুলাল হোসেন ও ইংরেজি ডিসিপ্লিনের সহযোগী অধ্যাপক হামালনা নিজাম।


          প্রথম দিনের শেষে আয়োজন করা হয় নৈশভোজ। সেখানে খুশিতে মেতে ওঠেন বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীরা। শেষ দিন আজ রবিবার আমন্ত্রিত অতিথি ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে দৃষ্টিনন্দন স্থান ভ্রমণ ও প্রেজেন্টেশন। 


          আয়োজকেরা মনে করেন, এ ধরনের সম্মেলন ভবিষ্যতে দেশ ও জাতির কল্যাণে বিভিন্ন সমস্যা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সম্মেলনের আহবায়ক কলা ও মানবিক স্কুলের ডিন প্রফেসর ড. মোঃ শাহজাহান কবীর কালবেলাকে বলেন, ‘এ ধরনের সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য মূলত শিক্ষার্থীদের গবেষণায় উৎসাহী করা এবং উপস্থাপিত গবেষণা যাতে ভবিষ্যতে দেশ ও বিশ্বের কল্যাণে ব্যবহৃত হয়, এমন সুযোগ করে দেওয়া। সম্মেলনে দেশ-বিদেশের বিখ্যাত গবেষক, শিক্ষক, সাহিত্যিক ও নীতিনির্ধারকেরা অংশ নিয়েছিলেন। এর মাধ্যমে তাঁদের সঙ্গে আমাদের শিক্ষার্থীদের যোগাযোগ এবং জ্ঞান আদান-প্রদানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী সবার সহযোগিতায় আমরা সফলভাবে সম্মেলন সম্পন্ন করতে পেরেছি। তাই তাঁদের প্রতি আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা রইল।’


          মন্তব্য
          সর্বশেষ সংবাদ
            সর্বাধিক পঠিত