শিরোনাম
জুলাই বিপ্লব'ই আমাদের আগামী দিনের পথ নির্দেশিকা- ইবি উপাচার্য
ইসলামী বিশ্ববিদ্যায়ের (ইবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেছেন, জুলাই আমাদের অস্তিত্ব, আদর্শ এবং প্রেরণা। জুলাই আগস্টের বিপ্লব'ই হলো আগামী দিনের পথ নির্দেশিকা। আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে সুন্দর বাংলাদেশ গড়ব, ফ্যাসিস্টকে আর ফিরতে দেব না। বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে ও সুশিক্ষিত সমাজ গড়তে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল স্টেকহোলডারকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।
সোমবার (৪ আগস্ট) সকাল ৯ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের নিচে জুলাই-আগস্ট ১ম বর্ষপূর্তি উদযাপন কমিটি আয়োজিত ডিজিটাল প্লাটফর্ম ডকুমেন্টেশন প্রদর্শনী উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন তিনি। জানা যায়, এটি সকাল ৯ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত প্রদর্শন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, আজকে জুলাই বিপ্লব এই ডিজিটাল ডকুমেন্টেশন আমাদের হৃদয়ে সংগ্রহশালার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালায় আজীবন থাকবে যা বিশ্ববিদ্যালয় সকল শিক্ষার্থী এবং নতুন যারা আসবে সবাই জুলাই বিপ্লবকে উপলব্ধি ও ধারণ করবে। ফ্যাসিস্ট রিজ্যম নির্মুল করার জন্য ছাত্রজনতা যে অবদান রেখেছিল সে সম্পর্কে জানবে।
উল্লেখ্য, এসময় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম ও জুলাই প্রথম বার্ষিকী বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড.মো. শাহিনুজ্জামান ও কমিটির উপদেষ্টা সদস্য অধ্যাপক ড. আ.ব.ম সিদ্দিকুর রহমান আশ্রাফী, অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন,অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
কুবিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে আলোচনা সভা
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) ছাত্র-জনতার জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উদ্যাপন উপলক্ষে জুলাই অভ্যুত্থান ও গণতান্ত্রিক বিকাশে ছাত্র-জনতার ভূমিকা শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
রবিবার (৩ আগস্ট) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।
সহকারী প্রক্টর ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুতাসিম বিল্লাহ্'র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. হায়দার আলী, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য মাসুদা কামাল এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ সোলায়মান।
এছাড়া অতিথি হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংখ্যা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম ও গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. গীতি আরা নাসরীন উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংখ্যা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম “প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ: জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও গণচেতনা” নিয়ে আলোচনা করেন।
ড. গীতি আরা নাসরীন আলোচনায় অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে আমাদের দায়িত্ব এবং ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক মোতাসিম বিল্লাহ বলেন, “বর্তমান বাংলাদেশে প্রায় সব ক্ষেত্রে কমিশন রয়েছে, কিন্তু শিক্ষা কমিশন নেই, যা বিস্ময়কর। জুলাই আন্দোলনকে টেকসই করতে হলে প্রথমেই শিক্ষা ও শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠন করতে হবে। আমাদের দেশের শিক্ষিত সমাজের একটি অংশ লুটপাটে জড়িত, যার পেছনে বড় কারণ পাঠ্যসূচি। পাঠ্যসূচি আমাদের ধর্ম ও সংস্কৃতিকে ধারণ করে না। ব্রিটিশ আমল থেকে সৃষ্ট এই সংকট দূর করতে হলে পাঠ্যপুস্তকে গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত করতে হবে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল বলেন, “জুলাই আন্দোলন ছিল স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে পুরো জাতির ঐক্য। প্রাইমারির শিক্ষার্থী থেকে রিকশাচালক পর্যন্ত সবাই আন্তরিকভাবে অংশ নিয়েছিল। তবে স্বৈরশাসকের পতনের পরও তার শিকড় সমাজ থেকে পুরোপুরি উপড়ে ফেলা যায়নি। তরুণদের সচেতন হতে হবে এবং সুন্দর গণতান্ত্রিক পরিবেশ গড়তে নেতৃত্ব দিতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “জুলাইয়ের আগে যে অখণ্ড ঐক্য সৃষ্টি হয়েছিল, সেটিই বিপ্লবের মূল শক্তি ছিল। কিন্তু সেটি স্থায়ী হয়নি, যা দেশের জন্য অশনিসংকেত। গণতান্ত্রিক বিকাশের জন্য মূল্যবোধ ও জ্ঞানের প্রতি প্রতিশ্রুতি—এই দুটি দিকই গুরুত্বপূর্ণ, আর এর ভিত্তি গড়ে ওঠে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকেই।”
প্রধান অতিথি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ হায়দার আলী বলেন, এই আন্দোলন ছিল একটা স্বৈরাচার বনাম সারা দেশ। সারা জাতি একত্রিত হয়েছিলো এই স্বৈরাচার পতনের আন্দোলনে। এমন সন্ধিক্ষণ পৃথিবীতে খুব কমই হয়। এই আন্দোলনে প্রাইমারির শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে রিকশাচালক, দিনমজুর সবাই অংশগ্রহণ করেছিলো তাদের নিজেদের অন্তরের একটা আকাঙ্খা থেকে যা ছিল মিথ্যাচার, অন্যায় ও অপশাসনের বিরুদ্ধে। ছাত্র-জনতার ত্যাগের বিনিময়ে একজন স্বৈরশাসকের পতন ঘটলেও বিগত ১৬/১৭ বছরে তারা সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে যে শিকড় বিস্তার করেছিলো তা উপড়ে ফেলা সম্ভব হয়নি। এ কারণেই স্বৈরাচার পতনের ১ বছর পরেও আমরা তেমন কোনো সুফল দেখতে পাচ্ছি না। আমি তরুণদের বলবো আপনারা সচেতন হোন। আমি আশাবাদী আপনাদের নেতৃত্বে দেশে সুন্দর গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি হবে। দেশকে ভালোবাসে এমন মানুষ থাকবে নেতৃত্বে।
খুবিতে আন্তর্জাতিক সম্মেলন, গবেষকদের মিলনমেলায় উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানবিক স্কুলের উদ্যোগে ‘শান্তি প্রতিষ্ঠায় কলা ও মানবিকীবিদ্যা’ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মালয়েশিয়াসহ বাংলাদেশের শিক্ষক, গবেষক ও সাহিত্যিকরা।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সড়ক সেজেছে বাহারি রঙের ফেস্টুনে। চারদিকে উৎসবের আমেজ। ছেলেরা শার্ট, কোট ও মেয়েরা শাড়ি পড়ে এসে ভিড় জমিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ও দুই নাম্বার একাডেমিকের সামনে। তাঁদের সবার চোখেমুখে উচ্ছ্বাস! কেউ ব্যস্ত অনুষ্ঠান আয়োজনে, কেউ ব্যস্ত হাসি-আড্ডায়, আবার কারও তাড়াহুড়া প্রবন্ধ উপস্থাপনের প্রস্তুতিতে। এরপর দিনভর বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার নানা বিভাগ নিয়ে কলা ও মানবিক বিদ্যার গল্প-আলোচনা। গত শনিবার থেকে এমন চিত্র দেখা যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানবিক স্কুলের আয়োজিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে।

সম্মেলনে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ দেশি-বিদেশি তিন শতাধিক গবেষক অংশগ্রহণ করেন। সাহিত্য, ইতিহাস গবেষণা এবং সমস্যার সমাধানসহ নানা বিষয়ের ওপর গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন তাঁরা। সেগুলোর খুঁটিনাটি জানতে আগ্রহী শিক্ষার্থীরা তাঁদের উদ্দেশে ছুড়ে দেন হরেক রকমের প্রশ্ন। গবেষকেরাও সাবলীলভাবে উত্তর দেন সেসব প্রশ্নের।
এ আয়োজনকে ঘিরে বেশ উচ্ছ্বসিত কলা ও মানবিক স্কুলের শিক্ষার্থীরা। তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জিহাদ হোসেন বলেন, ‘সম্মেলনে দেশি-বিদেশি গবেষকদের সান্নিধ্যে আসতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত। আমরা সরাসরি তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে পেরেছি, গবেষণার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করতে পেরেছি এবং নানা বিষয়ে নতুন তথ্য, গবেষণা ও মানবতা সম্পর্কে জানতে পেরেছি। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার ও তাঁদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। আশা করি, সামনের দিনগুলোতেও কলা ও মানবিক স্কুলের এ রকম সম্মেলন আয়োজনের ধারা অব্যাহত রাখবে।’
শনিবার সকাল ৯টায় শুরু হয় দুই দিনব্যাপী এ আয়োজন। এতে সর্বমোট ১৬৫টি গবেষণাপত্র উপস্থাপিত হয়। আলোচনায় আমন্ত্রিত বক্তা হিসেবে কলা ও মানবিক বিদ্যার নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেন
ইউনিভার্সিটি সেইন্স মালয়েশিয়ার আর্টস অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মুহাম্মদ কামারুল কাবিলান বিন আব্দুল্লাহ, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আজম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্টস অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান খান। অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো: রেজাউল করিম, উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ হারুনর রশীদ খান।
কলা ও মানবিক স্কুলের ডিন প্রফেসর ড. মোঃ শাহজাহান কবীর এর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইংরেজি ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. আব্দুর রহমান শাহীন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলা ডিসিপ্লিন প্রধান প্রফেসর ড. মোঃ দুলাল হোসেন ও ইংরেজি ডিসিপ্লিনের সহযোগী অধ্যাপক হামালনা নিজাম।
প্রথম দিনের শেষে আয়োজন করা হয় নৈশভোজ। সেখানে খুশিতে মেতে ওঠেন বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীরা। শেষ দিন আজ রবিবার আমন্ত্রিত অতিথি ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে দৃষ্টিনন্দন স্থান ভ্রমণ ও প্রেজেন্টেশন।
আয়োজকেরা মনে করেন, এ ধরনের সম্মেলন ভবিষ্যতে দেশ ও জাতির কল্যাণে বিভিন্ন সমস্যা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সম্মেলনের আহবায়ক কলা ও মানবিক স্কুলের ডিন প্রফেসর ড. মোঃ শাহজাহান কবীর কালবেলাকে বলেন, ‘এ ধরনের সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য মূলত শিক্ষার্থীদের গবেষণায় উৎসাহী করা এবং উপস্থাপিত গবেষণা যাতে ভবিষ্যতে দেশ ও বিশ্বের কল্যাণে ব্যবহৃত হয়, এমন সুযোগ করে দেওয়া। সম্মেলনে দেশ-বিদেশের বিখ্যাত গবেষক, শিক্ষক, সাহিত্যিক ও নীতিনির্ধারকেরা অংশ নিয়েছিলেন। এর মাধ্যমে তাঁদের সঙ্গে আমাদের শিক্ষার্থীদের যোগাযোগ এবং জ্ঞান আদান-প্রদানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী সবার সহযোগিতায় আমরা সফলভাবে সম্মেলন সম্পন্ন করতে পেরেছি। তাই তাঁদের প্রতি আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা রইল।’
অর্ধেক আসন কমিয়ে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির পূর্ণাঙ্গ ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ
২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা চলবে ১০ আগস্ট রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনক্রমে প্রস্তাবিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা সরকারি সাত (০৭)টি কলেজের বিদ্যমান অ্যাকাডেমিক কাঠামো অনুসারে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হবে এই সাতটি কলেজের কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান, বিজ্ঞান এবং ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের অধীনে চারটি অনুষদে।
প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পূর্বের শিক্ষাবর্ষের চেয়ে বর্তমান বর্ষে শিক্ষার্থী সংখ্যা কমছে অর্ধেকেরও বেশী।
সাত কলেজের বিজ্ঞান ইউনিটভুক্ত বিভিন্ন বিভাগে যেখানে আগে ৬৫৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি নেয়া হতো, সেখানে ১৭৭৭টি আসন কমিয়ে এবার ভর্তি নেয়া হবে মাত্র ৪৭৭৩ জন। যা আগের তুলনায় ২৭.১৩ শতাংশ কম।
অনুরূপভাবে, ব্যাবসায় শিক্ষা ইউনিটের অধীনে থাকা বাণিজ্য অনুষদের বিভিন্ন বিভাগে আগে আসন সংখ্যা ছিলো ৫৩১০ টি; নতুন শিক্ষাবর্ষে তা কমিয়ে আসন নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮৮৫টি। এই ইউনিটে আসন কমেছে ৩৪২৫টি, পূর্বের তুলনায় হ্রাস পেয়েছে ৬৪.৫২ শতাংশ।
কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটে বিগত শিক্ষাবর্ষে আসন ছিলো ৯৭০৩ টি, এবারে ৫২১১টি কমিয়ে আসন সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৪৯২টি। শতকরা হিসেবে আসন কমেছে ৫৩.৭১ শতাংশ।
বিগত বছরগুলোতে যেখানে সাতটি কলেজে ২৩ হাজারেরও অধিক শিক্ষার্থী ভর্তি নেয়া হতো সেখানে এবার নেয়া হবে মাত্র ১১ হাজার ৯৫০ জন। যা পূর্বের তুলনায় অর্ধেকেরও কম।
প্রকাশিত ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভর্তি আবেদন শুরু হবে ৩ আগস্ট ২০২৫ দুপুর ১২টা থেকে এবং চলবে ১০ আগস্ট রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত। আবেদন করতে হবে https://collegeadmission.eis.du.ac.bd ওয়েবসাইটে। আবেদন ফি ৮০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে প্রদান করা যাবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে এসএসসি/সমমান এবং ২০২৩ বা ২০২৪ সালে এইচএসসি/সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। তবে যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজে ইতোমধ্যে আবেদন করেছেন, তাদের নতুন করে আবেদন করার প্রয়োজন নেই। আবেদন প্রত্যাহার করলে টাকা ফেরত দেওয়া হবে। কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটের পরীক্ষা আগামী ২২ আগস্ট শুক্রবার, বিকেল ৩টা–৪টা, বিজ্ঞান ইউনিটের ২৩ আগস্ট শনিবার, সকাল ১১টা–১২টা, ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের ২৩ আগস্ট শনিবার, বিকেল ৩টা–৪টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
এ ছাড়া, আগামী ১৭ আগস্ট থেকে প্রবেশপত্র ডাউনলোড শুরু এবং ২০ আগস্ট থেকে আসন বিন্যাস প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের পক্ষ থেকে।
এস এম মঈন, সরকারি বাঙলা কলেজ প্রতিনিধি
শিক্ষকের সাথে অসদাচরণের অভিযোগে জবি রেজিস্ট্রারের পদত্যাগ দাবি
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবু রায়হান সিদ্দিকের সাথে অসদাচরণের অভিযোগে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. গিয়াস উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ চেয়ে মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থীরা।
রোববার (৩ আগস্ট) ভাষা শহীদ রফিক ভবনের সামনে এই মানববন্ধন করেন তারা। শিক্ষার্থীরা বলেন, তিনি শুধু শিক্ষার্থীদের সাথে নয়, আমাদের বিভাগের স্যারের সাথে বাজে ব্যবহার করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনকে বলতে চাই জুলাই পরবর্তী সময়ে এ রকম স্বৈরাচারী আচরণ মেনে হওয়া হবে না। তিনি যদি স্বৈরাচার হয়ে উঠতে চান তাহলে তার অবস্থা ভালো হবে না।
এ সময় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ইব্রাহিম খলিল বলেন, অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হয় আমরা যখন কোনো যৌক্তিক প্রশ্ন বা সমস্যা নিয়ে তার দপ্তরে যায় তখন তিনি আমাদের সাথে সহানুভূতির পরিবর্তে তিনি বিরূপ এবং অপমানজনক ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানান। একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার এমন আচরণ শুধুমাত্র একজন শিক্ষার্থী নয়, পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
খোজ নিয়ে জানা গেছে, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবু রায়হান সিদ্দিক ইউজিসি ফান্ডেড স্কলারশিপ পাওয়ার পর ইউজিসি প্রদত্ত শর্ত অনুযায়ী একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর নিতে গিয়ে রেজিস্ট্রারের নিকট গেলে বাজে আচরনের শিকার হন। ওই শিক্ষককে নানাভাবে হেনস্তা করেন রেজিস্ট্রার গিয়াসউদ্দিন আহমদ।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষক বলেন, ইউজিসি থেকে আমাকে দ্রুত সময়ে ত্রিপক্ষীয় চুক্তিপত্রের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বলা হয়। আশা করেছিলাম এ বিষয়ে রেজিস্ট্রার মহোদয়ের কাছে গেলে তিনি আন্তরিকতার সাথে স্বাক্ষর করে দিবেন। এরপরও কয়েক দফায় সারাদিন ঘুরে যখন ওনার স্বাক্ষরের জন্য শেষবার যাই আবার কেন গিয়েছি জানতে চেয়ে তিনি লাঞ্চ করবেন বলে কক্ষ থেকে চলে যেতে বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে তার এমন ব্যবহারে খুবই হতবাক ও মর্মাহত হয়েছি। এমন দায়িত্বশীল পদে থেকে কারো সঙ্গে এমন ব্যবহার করা সমীচীন নয়।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য