ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

ভিসেরা রিপোর্টের প্রতিবেদন: শ্বাসরোধে মৃত্যু হয়েছে ইবি শিক্ষার্থী সাজিদের

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
৩ আগস্ট, ২০২৫ ২০:৫
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
ভিসেরা রিপোর্টের প্রতিবেদন: শ্বাসরোধে মৃত্যু হয়েছে ইবি শিক্ষার্থী সাজিদের

শ্বাসরোধে মৃত্যু হয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আল কোরআন এন্ড স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সাজিদ আবদুল্লাহ'র। রবিবার সজিদের মৃত্যুর চূড়ান্ত ভিসেরা রিপোর্ট কুষ্টিয়া আদালতের মাধ্যমে তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এতে শ্বাসরোধে সাজিদের মৃত্যু হয় বলে উল্লেখ করা হয়। 


রিপোর্ট বলা হয়, ‘শ্বাসরোধজনিত কারণে সাজিদের শ্বাসনালী বন্ধ হয়ে যায় এবং এটি হত্যাকাণ্ডের চিহ্নও বহন করে। এছাড়া সাজিদ আব্দুল্লাহ'র মরদেহ ময়নাতদন্তের ৩০ ঘন্টা আগে তার মৃত্যু হয় বলেও উল্লেখ করা হয়’। অর্থাৎ, গত ১৬ জুলাই বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে তার মৃত্যু হয়। এরপর গত ১৭ জুলাই সন্ধ্যার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আজিজুর রহমান হলের পুকুর থেকে সাজিদের লাশ উদ্ধার করা হয়।


ভিসেরা রিপোর্ট প্রকাশের পর সাজিদের বাবা বলেন, "আমরা শুরু থেকেই বলেছিলাম আমাদের ছেলে সাঁতার জানতো। সে ঐ পুকুরে ডুবে মরতে পারে না। আজ আমাদের সন্দেহ সত্য প্রমাণিত হলো। দোষীদের খুঁজে বের করা এখন কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। তবে এ ঘটনা কে বা কারা ঘটিয়েছে সেটি আমরা অবগত নই। আমরা এ মূহুর্তে কাউকে সন্দেহ করছি না।"


 এ বিষয়ে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, "পোস্টমর্টেম ও ভিসেরা রিপোর্টের ফলাফলে নিশ্চিত হওয়া গেছে এটি একটি হত্যা মামলা। আমরা এখন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও সাজিদের পরিবারের সঙ্গে পরামর্শ করে মামলা দায়ের ও পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করব।"



প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    ববি গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মো. ফরহাদ উদ্দীন

    ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
    ৩ আগস্ট, ২০২৫ ২০:২
    ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
    ববি গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মো. ফরহাদ উদ্দীন

    বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. ফরহাদ উদ্দীন।


    রোববার (৩ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. মুহসিন উদ্দীন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) থেকে আগামী তিন বছরের জন্য ফরহাদ উদ্দীনকে চেয়ারম্যানের দায়িত্বপালনের জন্য এ নির্দেশনা প্রদান করা হয়। তিনি বিভাগের বর্তমান চেয়ারম্যান সহকারী অধ্যাপক ইমরান হোসেন এর স্থলাভিষিক্ত হন।


    মো. ফরহাদ উদ্দিন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৯ সালের এপ্রিলে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন এবং ২০২২ সালে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন।


    তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি ক্যাম্পাস সাংবসদিকতায় যুক্ত ছিলেন এবং তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী প্রক্টর হিসেবে একাধিকবার দায়িত্ব পালন করেছেন জনাব মো. ফরহাদ উদ্দীন।


    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      ক্যাম্পাস শাটডাউনের হুঁশিয়ারি চবি ছাত্র অধিকার পরিষদের

      ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
      ৩ আগস্ট, ২০২৫ ১৯:৩৩
      ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
      ক্যাম্পাস শাটডাউনের হুঁশিয়ারি চবি ছাত্র অধিকার পরিষদের

      আগামী দুই কার্যদিবসের মধ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (চাকসু) এর তফসিল ঘোষণা না করলে শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে আমরণ অনশন ও ক্যাম্পাস শাটডাউনের ঘোষণা দিয়েছে চবি শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদ। 

       

      রোববার (৩ আগষ্ট) বিকাল ৩ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকসু ভবনের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন নেতৃবৃন্দ।


      চাকসু নির্বাচন, ক্যাম্পাসের বর্তমান পরিস্থিতি ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে সংগঠনটি। এ সময় নেতৃবৃন্দ চাকসুর তফসিল ঘোষণা চেয়ে আগামী দুই কার্যদিবসের মধ্যে তফসিল ঘোষনা না করলে আমরণ অনশন ও ক্যাম্পাস শাটডাউনের ঘোষণা দেন। 

       

      সংবাদ সম্মেলনে শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক মোঃ তামজিদ উদ্দীন বলেন, "চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৩৬ বছর ধরে চাকসু নির্বাচন হয়নি। বর্তমান প্রশাসন রোডম্যাপ দেওয়ার কথা বললেও আজ পর্যন্ত তা প্রকাশ করেনি। চাকসু না হওয়ার পেছনে প্রশাসনের ব্যর্থতা রয়েছে। তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্পিরিট ধারণ করতে পারেনি। আমরা আর রোডম্যাপ চাই না, সরাসরি তফসিল চাই। আগামী দুই কার্যদিবসের মধ্যে তফসিল ঘোষণা না করলে আমরা আমরা আমরণ অনশনে বসব এবং ক্যাম্পাসে শাটডাউন পালন করব"। 

       

      তিনি আরও বলেন, ''বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অন্যতম বাহন শাটল ট্রেন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাহীনতার জায়গায় পরিণত হয়েছে। ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়ে শিক্ষার্থীরা ক্লাস মিস করছে। অনলাইন ব্যাংকিং চালু হলেও তার কার্যকর বাস্তবায়ন নেই। এছাড়াও হলগুলোতে নিম্নমানের খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে। এ বিষয়গুলোর প্রতি প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।''


      তিনি বলেন, "চাকসুতে ছাত্র অধিকার পরিষদ থেকে আমরা একক প্যানেল দেব"।

       

      যুগ্ম সদস্য সচিব মো. সবুজ বলেন, "ঢাবি, রাবি, জাবিতে তফসিল ঘোষণা হলেও চবিতে এ নিয়ে তেমন কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। চাকসু শিক্ষার্থীদের কথা বলার সাংবিধানিক অধিকার। চাকসু হলে প্রশাসন যাচ্ছেতাইভাবে চলতে পারবে না। আমরা চাই, অবিলম্বে চাকসুর তফসিল ঘোষণা করা হোক। অন্যথায়, শিক্ষার্থীদের নিয়ে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।''


      শাখা কমিটির কার্যকরী সদস্য ও আইন বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী মো: মেহেদী হাসান বলেন, "আমি বিশ্বাস করি চবি একটি শিক্ষার্থী বান্ধব বিশ্ববিদ্যালয়। আমি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিকট অনুরোধ করবো, আমাদের প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য চাকসুতে যেন একটি পদ সৃষ্টি করা হয়। পদ সৃষ্টি হলে আমাদের অধিকার সুনিশ্চিত হবে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা যেমন চাকসুতে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করছে, আমরাও আমাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চাই। এটি আমাদের মৌলিক অধিকার। আমরা সবার সাথে তাল মিলিয়ে রাজনীতির মূলস্রোতে যেতে চাই। এতে আমাদের মেধার বিকাশ ঘটাবে।''

       

      এসময় শাখা কমিটির সদস্য সচিব মো: রোমান রহমান চাকসুতে পূর্বের ১৮টি পদ থেকে বর্তমানে ২৮ টি করার জন্য প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানায়। পাশাপাশি প্রতিবন্ধীদের জন্য চাকসুতে পদ দাবি করেন। কিন্তু চাকসুতে এমফিল-পিএইচডি প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়ার বিরোধিতা করেন তিনি এবং প্রার্থীতার বয়স ৩০ থেকে কমিয়ে সর্বোচ্চ ২৮ করতে হবে বলে দাবি জানান।


      সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ আবু হানিফ, যুগ্ম সদস্য সচিব মোঃ মারুফ খান, যুগ্ম সদস্য সচিব মোঃ দিদার মাহমুদ ও কার্যকরী সদস্য রায়হান আব্দুল্লাহ

      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        রাবি প্রোভিসির ফেসবুক স্টোরিতে শিক্ষক নিয়োগে সুপারিশ ভাইরাল

        ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
        ৩ আগস্ট, ২০২৫ ১৭:১৮
        ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
        রাবি প্রোভিসির ফেসবুক স্টোরিতে শিক্ষক নিয়োগে সুপারিশ ভাইরাল

        রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দীন খানের ফেসবুক স্টোরিতে ভেসে উঠেছে শিক্ষক নিয়োগে জামায়াতের সাবেক এমপির সুপারিশ করা প্রবেশপত্র। স্টোরিটা ১৫ মিনিটের মতো স্থায়ী থাকলেও পরক্ষণে ডিলিট করে দেন অধ্যাপক ফরিদ। তবে স্টোরির স্ক্রিনশট নিয়ে দেশব্যাপী চলছে ব্যাপক সমালোচনা।


        ৩ আগস্ট রাত ১২টার দিকে দেওয়া ওই স্টোরিতে দেখা যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রপ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগে প্রভাষক নিয়োগের প্রবেশপত্রে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সাবেক এমপি (জামায়াত) মো. লতিফুর রহমান সুপারিশ করেছেন। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের দুইবারের সাবেক এমপি। ১৯৮৬ ও ১৯৯১ সালের সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন।


        এদিকে ওই প্রার্থীর প্রবেশপত্র ভুলভাবে স্টোরিতে চলে এসেছে উল্লেখ করে অধ্যাপক ফরিদ খান ফেসবুকে লিখেছেন, আমার ফেসবুক স্টোরিতে একজন আবেদনকারীর প্রবেশপত্র কীভাবে আপলোড হয়েছে বুঝতে পারিনি। তবে মোবাইল ফোনটি নিয়ে আমার ছেলে বেশ কিছু সময় গেম খেলছিল। তখন হয়তো ভুলবশত স্টোরিতে এসে গেছে।

        তিনি আরো লিখেছেন, প্রতিদিনই কোনো না কোনো আবেদনকারী বা তাদের পক্ষে বিভিন্ন সূত্রে সাক্ষাৎ করতে এসে সিভি-প্রবেশপত্র দিয়ে যায়, আবার অনেকে ফোন করে আবেদনকারীর প্রবেশপত্র হোয়াটসঅ্যাপে সেন্ড করে, কেউ টেক্সট করে সুপারিশ পাঠায়। রুয়ার নির্বাচনের সময় একজন অ্যালামনাস যিনি সাবেক এমপি ছিলেন উনার সাথে পরিচয় হয়। কয়েকদিন আগে উনি ফোন করে উনার এলাকার একজন আবেদনকারীর কথা বলেন এবং তার প্রবেশপত্র সেন্ড করেন। 


        শুধু জামায়াত নেতাই নয়, বিভিন্ন সূত্রে এমন ডজনখানিক সুপারিশ করা হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরিচিত অনেকেই এরকম সুপারিশ করেন। তাদের মধ্যে ছাত্র, শিক্ষক, বন্ধু, সহকর্মী, রাজনীতিক অনেকেই আছেন। এই মুহূর্তে আমার অফিসে এবং মোবাইল ফোনে ডজনখানিক এরকম সুপারিশ আছে। তবে এগুলো কোনোভাবেই লিখিত এবং মৌখিক পরীক্ষায় প্রভাব ফেলে না। আশা করি বিষয়টি নিয়ে কেউ ভুল বুঝবেন না। ভুলবশত এই স্টোরির জন্য দুঃখপ্রকাশ করছি। ধন্যবাদ।


        সুপারিশ করা জামায়াতের সাবেক এমপি লতিফুর রহমান বলেন, "চাকুরীপ্রার্থীর প্রবেশ পত্রে সুপারিশ করা হয়েছে এ বিষয়ে আমি কিছু জানিনা। তবে এটা সত্য যে ওই প্রার্থীর বিষয়ে উপ-উপাচার্যকে ফোনে সুপারিশ করা হয়েছিলো। আমি তাকে বলেছিলাম, 'বিগত দিনে ভাইভাগুলোতে অনেক বাজে চর্চা হয়েছে। তবে বর্তমান সময়ে আমরা এটা চাই না। আপনি এই প্রার্থীর আবেদনপত্রটা দেখবেন। আবেদনকারীর বিভাগের ফলাফল অনেক ভালো।' এ বেশি আর কিছু বলতে পারছি না আমি অসুস্থ।"


        প্রবেশপত্রে করা সুপারিশ ও সিগনেচারটা কার জানতে চাইলে অধ্যাপক ফরিদ খান বলেন, যেভাবে স্টোরিতে থাকা ওই প্রবেশপত্র দেখা গেছে, আমার কাছে ওভাবেই এসেছিল। যিনি পাঠিয়েছেন তার লেখা কি না আমি নিশ্চিত নই। 


        ডজনখানিক প্রবেশপত্রে কারা সুপারিশ করেছে এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বাকিগুলো শিক্ষক, ছাত্র, আবেদনকারী নিজেও এসেছে দেখা করতে। তবে কোনো রাজনৈতিক দলের কেউ নয়। সুপারিশপত্র কেউ দেখা করতে এসে দিয়ে গেছে। কেউ হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়েছে।


        সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব বলেন, ‘চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থানে একটা পরিবর্তন এলেও আমাদের চিন্তাগত কোনো পরিবর্তন আসেনি। সত্য কথা হচ্ছে, বিভিন্ন দপ্তরে সুপারিশ, তদবির এগুলো কোনো কিছুই বন্ধ হয়নি।’


        মন্তব্য

        রাবির সাবেক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা

        ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
        ৩ আগস্ট, ২০২৫ ১৭:৮
        ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
        রাবির সাবেক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা

        রাজশাহীর তালাইমারিতে অনুমতিবিহীন বহুতল ভবন নির্মাণ, ভবন থেকে পার্শ্ববর্তী বাড়িতে ময়লা-আবর্জনা নিক্ষেপ, প্রতিবাদে দুর্ব্যবহার এবং পরে একাধিক মিথ্যা মামলার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সাবেক শিক্ষার্থী রাশেদুল ইসলামের বড় ভাই তরিকুল ইসলাম।


        শনিবার (৩ আগস্ট) দুপুর ১২টায় রাবির পরিবহন মার্কেটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।


        সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ছানোয়ারুল ইসলাম রাঙা, যিনি বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশনের একজন কর্মকর্তা এবং ডায়মন্ড টাওয়ার নামক একটি ভবনের মালিক, তিনি তাদের পার্শ্ববর্তী স্থানে অনুমতি ছাড়া আটতলা একটি ভবন নির্মাণ করেন। অথচ ওই স্থানে ছয়তলা পর্যন্ত নির্মাণের অনুমোদন ছিল। কোনো ফাঁকা জায়গা না রেখেই ভবনটি নির্মাণ করায় আশপাশের বাসিন্দারা ঝুঁকিতে রয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।


        তরিকুল বলেন, ভবনটি বর্তমানে একটি মহিলা ছাত্রাবাস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ছাত্রাবাসের জানালা ও বারান্দা থেকে প্রায়ই বিভিন্ন ধরনের ময়লা-আবর্জনা, এমনকি ব্যবহৃত স্যানিটারি ন্যাপকিন তাদের বাড়ির ছাদ, বারান্দা এবং আঙিনায় ছুঁড়ে ফেলা হয়। এ নিয়ে একাধিকবার ভবন মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও বরং তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়।


        তিনি অভিযোগ করেন, “বিশেষ করে ভবনের মালিকের স্ত্রী প্রায়ই আমাদের পরিবারের সদস্যদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। একবার রাশেদুলকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘মেসের মেয়েরা এসব আবর্জনা ফেলবে, আর তুই পরিষ্কার করবি।’”


        এ অবস্থায় প্রতিকার চেয়ে রাশেদুল বোয়ালিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন, যা পরবর্তীতে তাদের অনুরোধে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। কিন্তু তাতেও সমস্যার কোনো সমাধান হয়নি।


        তরিকুল জানান, এরপর তারা রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ)-এর কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। আরডিএ তদন্ত শেষে ২৬ জুন ছানোয়ারুল ইসলামের নামে একটি চিঠি ইস্যু করে এবং তাকে ৯ জুলাই শুনানির জন্য ডেকে পাঠায়। কিন্তু ছানোয়ারুল রাঙা সেই শুনানিতে উপস্থিত হননি।


        লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, আরডিএর চিঠি পাওয়ার পর ভবনের মালিক ও তার স্ত্রী আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। তারা রাশেদুলকে আর্থিক সমঝোতার প্রস্তাব দেন, নানা রকম ভয়ভীতি দেখাতে শুরু করেন, এমনকি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মিথ্যা মামলার হুমকি দেন।

        “সম্প্রতি ভবন মালিকের স্ত্রী হুমকি দিয়েছেন, ‘তোর নামে আমার ম্যানেজারের টাকা চুরির মামলা দেবো, জেলে পচবি।’ এরপর তারা রাশেদুলের বিরুদ্ধে তিন লাখ টাকা চাঁদাবাজির একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে,” বলেন তরিকুল।


        তরিকুলের অভিযোগ, “এতে করেও সন্তুষ্ট না হয়ে আরেকটি পুরাতন চাঁদাবাজির মামলায় যেখানে ৩৬ জনের নাম রয়েছে, সেখানে কৌশলে রাশেদুলের নাম জুড়ে দেওয়া হয়েছে—যার সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই।”


        এই মামলার জেরে গত ৩১ জুলাই রাত সাড়ে ৮টার দিকে তালাইমারির নিজ বাড়ি থেকে পুলিশ রাশেদুলকে আটক করে। এ সময় বাসায় কেবল তার মা উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দেখায়নি। 


        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য
          সর্বশেষ সংবাদ
            সর্বাধিক পঠিত