শিরোনাম
রাবির সাবেক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা
রাজশাহীর তালাইমারিতে অনুমতিবিহীন বহুতল ভবন নির্মাণ, ভবন থেকে পার্শ্ববর্তী বাড়িতে ময়লা-আবর্জনা নিক্ষেপ, প্রতিবাদে দুর্ব্যবহার এবং পরে একাধিক মিথ্যা মামলার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সাবেক শিক্ষার্থী রাশেদুল ইসলামের বড় ভাই তরিকুল ইসলাম।
শনিবার (৩ আগস্ট) দুপুর ১২টায় রাবির পরিবহন মার্কেটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ছানোয়ারুল ইসলাম রাঙা, যিনি বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশনের একজন কর্মকর্তা এবং ডায়মন্ড টাওয়ার নামক একটি ভবনের মালিক, তিনি তাদের পার্শ্ববর্তী স্থানে অনুমতি ছাড়া আটতলা একটি ভবন নির্মাণ করেন। অথচ ওই স্থানে ছয়তলা পর্যন্ত নির্মাণের অনুমোদন ছিল। কোনো ফাঁকা জায়গা না রেখেই ভবনটি নির্মাণ করায় আশপাশের বাসিন্দারা ঝুঁকিতে রয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।
তরিকুল বলেন, ভবনটি বর্তমানে একটি মহিলা ছাত্রাবাস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ছাত্রাবাসের জানালা ও বারান্দা থেকে প্রায়ই বিভিন্ন ধরনের ময়লা-আবর্জনা, এমনকি ব্যবহৃত স্যানিটারি ন্যাপকিন তাদের বাড়ির ছাদ, বারান্দা এবং আঙিনায় ছুঁড়ে ফেলা হয়। এ নিয়ে একাধিকবার ভবন মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও বরং তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, “বিশেষ করে ভবনের মালিকের স্ত্রী প্রায়ই আমাদের পরিবারের সদস্যদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। একবার রাশেদুলকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘মেসের মেয়েরা এসব আবর্জনা ফেলবে, আর তুই পরিষ্কার করবি।’”
এ অবস্থায় প্রতিকার চেয়ে রাশেদুল বোয়ালিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন, যা পরবর্তীতে তাদের অনুরোধে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। কিন্তু তাতেও সমস্যার কোনো সমাধান হয়নি।
তরিকুল জানান, এরপর তারা রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ)-এর কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। আরডিএ তদন্ত শেষে ২৬ জুন ছানোয়ারুল ইসলামের নামে একটি চিঠি ইস্যু করে এবং তাকে ৯ জুলাই শুনানির জন্য ডেকে পাঠায়। কিন্তু ছানোয়ারুল রাঙা সেই শুনানিতে উপস্থিত হননি।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, আরডিএর চিঠি পাওয়ার পর ভবনের মালিক ও তার স্ত্রী আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। তারা রাশেদুলকে আর্থিক সমঝোতার প্রস্তাব দেন, নানা রকম ভয়ভীতি দেখাতে শুরু করেন, এমনকি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মিথ্যা মামলার হুমকি দেন।
“সম্প্রতি ভবন মালিকের স্ত্রী হুমকি দিয়েছেন, ‘তোর নামে আমার ম্যানেজারের টাকা চুরির মামলা দেবো, জেলে পচবি।’ এরপর তারা রাশেদুলের বিরুদ্ধে তিন লাখ টাকা চাঁদাবাজির একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে,” বলেন তরিকুল।
তরিকুলের অভিযোগ, “এতে করেও সন্তুষ্ট না হয়ে আরেকটি পুরাতন চাঁদাবাজির মামলায় যেখানে ৩৬ জনের নাম রয়েছে, সেখানে কৌশলে রাশেদুলের নাম জুড়ে দেওয়া হয়েছে—যার সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই।”
এই মামলার জেরে গত ৩১ জুলাই রাত সাড়ে ৮টার দিকে তালাইমারির নিজ বাড়ি থেকে পুলিশ রাশেদুলকে আটক করে। এ সময় বাসায় কেবল তার মা উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দেখায়নি।
কেন্দ্রীয় নেতার পদত্যাগ , বাগছাসের দাবি অব্যাহতি
বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক নুরনবী পদত্যাগ করেছেন।
মন্ত্রিপাড়ায় বসে সংগঠন চালানো, আর্থিক অসংগতি, কোরামবাজির মাধ্যমে ক্ষমতা কুক্ষিগত সহ নানা অভিযোগ তুলে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি।
শনিবার (২ আগস্ট) শাহবাগ মোড়ে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমি মো. নুর নবী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান সমন্বয়ক। জুলাই অভ্যুত্থানে চলাকালে ১৯ জুলাই ডিবি কর্তৃক গুম ও স্বাধীনতার পর ৬ আগস্ট মুক্ত বাতাসে ফিরে আসি। এতদিন দায়িত্ব পালন করছিলাম বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে। কিন্তু জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা, কোরাম কেন্দ্রিক সংগঠন পরিচালনা এবং সাম্প্রতিক সময়ের কিছু গভীর ও নীতিহীন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদস্বরূপ এবং জুলাই অভ্যুত্থানের আদর্শিক অবস্থানকে অক্ষুণ্ন রাখতে আমি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের ঘোষণা দিচ্ছি।’
সংবাদ সম্মেলনে মো. নুর নবী বলেন, ‘আমার এই পদত্যাগের পেছনে যেসব কারণ রয়েছে, তা নিম্নরূপভাবে জাতির সামনে উপস্থাপন করছি-যেসব ছাত্রযোদ্ধা আন্দোলনের চূড়ান্ত মুহূর্তে পুলিশি দমন-পীড়ন, মামলা-হামলা সহ্য করে মাঠে ছিলেন, তাদের কোনো স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে না, শুধুমাত্র মতের অমিল থাকার কারণে। অভ্যুত্থান থেকে উঠে আসা এবং সেই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদের সংগঠন বলা হলেও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্বিদ্যালয় ও মাদ্রাসাসহ অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কোনো মূল্যয়ন এখানে করা হয়নি।
গণতান্ত্রিক ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্ব মন্ত্রিপাড়াকে তাদের সংংগঠনের মূল অফিস বানিয়ে রেখেছে। তারা জাতীয় স্বার্থবিরোধী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে জুলাই চেতনাকে বিক্রি করে দিয়েছে। বসুন্ধরা গ্রুপের মতো একটি প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় অনুষ্ঠান আয়োজিত হওয়া এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা নেওয়ার মাধ্যমে সংগঠনের বিশ্বাসযোগ্যতা হুমকির মুখে পড়েছে।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ-এর নাম করে তাদের পূর্বের সংগঠন ছাত্রশক্তি ‘কোরাম’ তৈরি করে সকল মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও প্রতিনিধিত্বের ভার নিজেদের কাছে কুক্ষিগত করে রেখেছে। এতে সাধারণ সদস্য ও কর্মীদের মতামত বা অংশগ্রহণ উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে। এই কোরামভিত্তিক ছাত্র রাজনীতি প্রকৃতপক্ষে স্বৈরাচারী প্রবণতার পরিচায়ক এবং গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থি। জুলাইকে রীতিমতো তাদের ব্যক্তিগত সম্পদে পরিণত করেছে। অথচ জুলাই আন্দোলন ছাত্রদের একটি গণ-আন্দোলন হিসেবে গড়ে উঠেছিল।
এখানে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন, সাধারন শিক্ষার্থী এবং সকল রাজনৈতিক সংগঠনের অংশগ্রহণ দিনের আলোর মত স্পষ্ট। কিন্তু এই সংগঠনের মূল নেতৃত্বে যারা অবস্থান করছে তাদের আচার আচরণে জুলাই বিপ্লবের সেই জাতীয় ঐক্য বার বার ধসে পড়ছে। তাদের জন্যই ছাত্র সংগঠনগুলো নিজেদের মধ্যে ক্রেডিট-ক্রেডিট খেলার অসুস্থ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছে। এই অভ্যুত্থানকে শুধু দলেরই নয় বরং কিছু নির্দিষ্ট নেতারাও তাদের ব্যক্তিগত সম্পদে পরিণত করেছে। পুরো আয়োজন এমনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে যেন এটি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর একক অর্জন, এবং বাকিদের অবদান খুবই সামান্য। আমি মনে করি তাদের মাধ্যমেই জুলাই গণ অভ্যুত্থানের ইতিহাস চরমভাবে বিকৃতি ঘটছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘উপরোক্ত অভিযোগসমূহের প্রেক্ষিতে আমি গভীর দুঃখ ও বেদনাবোধের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, আমি আর বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদদের বর্তমান কর্মকৌশল আদর্শের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারছি না। আমি জুলাই আন্দোলনে গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের সদস্যদের অবদানে বিশ্বাসী ছিলাম এবং থাকব, কিন্তু বাগছাস -এর বর্তমান বিপথগামী নেতৃত্বের অংশ হয়ে থাকতে পারি না। অতএব, আমি আনুষ্ঠানিকভাবে গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ থেকে পদত্যাগ করছি এবং একইসঙ্গে একটি আদর্শিক ও গণতান্ত্রিক ছাত্র আন্দোলনের স্বপ্ন নিয়ে নতুন পথচলা শুরু করার আহ্বান জানাচ্ছি।’
এদিকে বাগছাসের ভেরিভাইড পেইজ থেকে জানানো হয় সংগঠনের কার্যক্রমে নিজেকে অনুপস্থিত রাখার কিছুদিন পূর্বে নূর নবীকে কারন দর্শনের নোটিশ জানানো হয়৷ এবং সাধারণ সভায় বিনা কারণে অনুপস্থিতির জন্য তাকে সাংগঠনিক কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক সকল ধরনের কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
বেরোবিতে ২০২৪-২৫ সেশনের চূড়ান্ত ভর্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ
গুছ অধিভুক্ত রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) এর প্রথম বর্ষের স্নাতক ২০২৪-২৫ সেশনের চূড়ান্ত ভর্তি আগামীকাল ৩ আগস্ট ২০২৫ হতে শুরু হয়ে ৭ আগস্ট ২০২৫ পর্যন্ত চলমান থাকবে ।
শুক্রবার (১ আগস্ট) রেজিস্টার স্বাক্ষরিত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, https://sims.brur.ac.bd/signup/ এ registration ও sign up শেষে registration ও id number সংগ্রহ করে শিক্ষার্থীদের এককালীন ভর্তি ফি নগদ অথবা বিকাশের মাধ্যমে জমা দিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট www.brur.ac.bd তে চূড়ান্ত ভর্তি প্রক্রিয়ার সব তথ্য প্রদান করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গুচ্ছ ভর্তি প্রক্রিয়ার পঞ্চম মাইগ্রেশন শেষে চূড়ান্ত ভর্তির লক্ষে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদন করেছেন। তাদের চূড়ান্ত ভর্তির জন্য এসএসসি এবং এইচএসসির মূল সনদপত্রসহ, ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্রের ৩ কপি ফটোকপি,পূরণকৃত ভর্তি ফরম ৩ কপি,প্রাথমিক ভর্তি ফি ৫০০০/- টাকা জমাদানের রশিদের ৩টি ফটোকপি,অবশিষ্ট কেন্দ্রীয় ভর্তি ফি জমাদানের রশিদের ৩ টি ফটোকপি, এসএসসি/সমমান ও এইচএসসি/সমমান পরীক্ষা পাশের ট্রান্সক্রিপ্টের ৩টি ফটোকপি,পাসপোর্ট সাইজের ৩ কপি রঙিন ছবি নিজ বিভাগে জমা দিতে হবে।
এছাড়া গুচ্ছ ভুক্ত অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থী,যারা মূল নম্বর পত্র বেরোবিতে জমা দিয়েছেন, এমন শিক্ষার্থীদের কে ৩১ আগস্ট,২ আগস্ট হতে ৫ আগস্ট পর্যন্ত বেরোবি থেকে নিজ দায়িত্বে মূল নম্বর পত্র সংগ্রহ করার জন্য বলা হয়েছে।
কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ছাত্রদল সভাপতির, ভিসি-প্রোভিসি বলছেন ‘মিথ্যাচার’
সম্প্রতি এক বক্তব্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, ‘উপাচার্য শিক্ষার্থীদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করে নিয়োগের নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।’ এই বক্তব্যের ফটোকার্ড নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে শেয়ারও করেন রাহী। রাহীর এ বক্তব্যকে মিথ্যা, মনগড়া মন্তব্য, অনাকাঙ্ক্ষিত ও অসম্মানজনক বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মোহা. ফরিদ উদ্দীন খান।
সুলতান আহমেদ রাহীর ফটোকার্ড শেয়ার করার ছবি স্ক্রিনশট দিয়ে ফেসবুকে নিজের টাইমলাইনে শেয়ার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ফরিদ উদ্দীন খান ফেসবুকে লিখেছেন, রাবির একজন সাবেক ছাত্রের কাছ থেকে এ ধরনের মিথ্যা ও মনগড়া মন্তব্য অনাকাঙ্ক্ষিত এবং অসম্মানজনক! সাবেক এই শিক্ষার্থীর নিকট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উচিত এই মন্তব্যের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা চাওয়া।
একই সাথে শাখা ছাত্রদলের সভাপতির বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদ। তিনিও সুলতান আহমেদ রাহীর ফটোকার্ড শেয়ার করার ছবি স্ক্রিনশট দিয়ে ফেসবুকে নিজের টাইমলাইনে শেয়ার করে লিখেছেন, একজন প্রাক্তন ছাত্রের কাছে তার প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেই প্রতিষ্ঠান প্রধানের বিরুদ্ধে এ ধরনের মিথ্যাচার অত্যন্ত গর্হিত কাজ। ভিসি মহোদয়ের শত্রুরাও এ অভিযোেগ বিশ্বাস করবে না! এ ধরনের অভিযোগের প্রমাণ দিতে হবে অভিযোগকারীকে। অন্যথা এ মানহানিকর বক্তব্যের দায় নিতে হবে।
নিয়োগ বাণিজ্যে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগের কোনো প্রমাণ আছে কি না জানতে চাইলে সুলতান আহমেদ বলেন, আমি তো আর আদালত না। সাংবাদিকদের সংবাদের উপর ভিত্তি করে আমি বক্তব্য দেই। সাংবাদিকদের সুবাদে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে আমি এই বক্তব্যটা দিয়েছি। আজ দেখলাম স্যারেরা ফেসবুকে আমার বক্তব্যের ব্যাখ্যা চেয়েছেন। আমিও চাই প্রশাসন আমার কাছে ব্যাখ্যা চাক। এর ব্যাখ্যা দিতে আমি প্রস্তুত আছি।
নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ছাত্রদলের এ নেতা আরো বলেন, আমরা জাসদ ছাত্রলীগের নেতাকে নিয়োগ দেওয়ার নিউজ দেখেছি। আওয়ামী লীগের সভাপতির জামাইকে নিয়োগের বিষয়টা দেখেছি। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদস্যের স্ত্রীর নিয়োগের বিষয়টা দেখেছি। বিভিন্ন টেন্ডার বাণিজ্যের অনিয়ম হয়েছে, ইন্টার পাশে নবম গ্রেডের চাকরি দেওয়ার বিষয়ে দেখেছি। এমন ভুরি ভুরি অভিযোগ আমাদের কাছে আছে।
ছাত্রদল নেতার এমন মন্তব্যের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ্ হাসান নকীব বলেন, এটা সম্পূর্ণ মিথ্যাচার। তিনি সম্পূর্ণ মিথ্যাবাদী ও অপবাদকারী। কোটি কোটি টাকা তো দূরের কথা, একটি পয়সাও আমার বা আমাদের তরফ থেকে দুর্নীতি হয়নি।
খুবিতে ‘জুলাই জাগরণ
জুলাই অভ্যুত্থানে খুবির অনলাইন প্ল্যাটফরমগুলো জোরালো ভূমিকা রেখেছে : উপাচার্য
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) অনলাইন প্ল্যাটফর্মসমূহের উদ্যোগে ‘জুলাই জাগরণ: আমরাই মিডিয়া’ শীর্ষক তথ্যচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ ০১ আগস্ট (শুক্রবার) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়া প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম।
উপাচার্য বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আমরা দেখেছি কীভাবে তরুণ সমাজ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। জুলাই আন্দোলনের সময় মূলধারার গণমাধ্যম অনেকটাই নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকলেও, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং দেশব্যাপী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জোরালো ভূমিকা রেখেছে।
তিনি আরও বলেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরিচালিত অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলো সবসময় ক্যাম্পাসের নানা ঘটনা, সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে- যা ইতিবাচক। তবে এগুলোর মাধ্যমে কাউকে হেয়প্রতিপন্ন না করে সমাধানের পথ খুঁজতে হবে, যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন না হয়।
অনুুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বিষয়ক পরিচালক প্রফেসর ড. মোঃ নাজমুস সাদাত। তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী রাষ্ট্র গঠনে অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে একতা হারালে জনসম্পৃক্ততা হারিয়ে যাবে। তাই গুজব, চরিত্র হনন ও মব সৃষ্টির মতো ঘটনার বিষয়ে সকলকে সতর্ক থাকতে হবে।
অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য রাখেন থটস বিহাইন্ড দ্য কেইউ’র প্রতিনিধি মাহফুজুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কেইউ ইনসাইডার্স’র প্রতিনিধি আল মামুন। জুলাই আন্দোলনে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন প্লাটফরমসমূহের ভূমিকা তুলে ধরেন জুলাই আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী আল শাহরিয়ার, সাঈফ নেওয়াজ ও মো. মুহিব্বুল্লাহ। আরও বক্তব্য রাখেন থটস বিহাইন্ড দ্য কেইউ’র প্রতিনিধি কাজী রিফাত মোর্শেদ, কেইউ ইনসাইডার্স’র প্রতিনিধি জোহরা বনানী ও কেইউ টকিস’র প্রতিনিধি তাইয়েবা জামান নৈঋতা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ফারজানা জাহান ও তৌকির জামান শুভ।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী ছাত্র বিষয়ক পরিচালকবৃন্দ, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


মন্তব্য