ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

৭২ কোটি ব্যয়ে নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ ধ্বস, আহত ১০

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
৩১ জুলাই, ২০২৫ ২০:৪৫
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
৭২ কোটি ব্যয়ে নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ ধ্বস, আহত ১০

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্মাণাধীন ছাত্র হলে বৃষ্টির সময় ছাদ ঢালাইয়ের সময় দুই তলার ছাদ ধ্বসে পড়ে অন্তত ১০ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন।


বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) বিকাল ৫টার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহত শ্রমিকদের উদ্ধার করে ত্রিশালের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নেয়া হয়।


সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান 'সি.এস. আই কন্সট্রাকশন লিঃ দি বিল্ডার্স ইন্জিনিয়ারস (জে.বি)' দশ তলা ভিতের উপর দশ তলা ছাত্র হলের নির্মাণের কাজ হাতে নেয় ২০২২ সালে। এই কাজের চুক্তিমূল্য ধরা হয়েছে ৭২ কোটি ৫ লক্ষ ৬৩ হাজার ৬৪ টাকা। কাজ প্রায় শেষের দিকেই ছিল। এরমধ্যেই আজ ভেঙে পড়ে ছাদটি। ছাদ ঢালাইয়ের সময় সাপোর্টিং বাশ বাঁধা হয়েছিল পাটের দড়ি দিয়ে। এছাড়া সাটারিংয়েও ব্যবহার করা হয়েছে বাঁশ। বৃষ্টির সময় করা হচ্ছিল ছাঁদ ঢালাইয়ের কাজ। শ্রমিকদের নিরাপত্তা সরঞ্জাম বলতে হেলমেট কিংবা সুরক্ষামূলক পোশাক কিছুই ছিল না।


প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বিকেল চারটার দিকে ছাদের পূর্ব-দক্ষিণ অংশে ঢালাই শুরু হলে হঠাৎ কাঠামো দুলতে থাকে এবং মুহূর্তেই ভেঙে পড়ে। এতে উপরে কাজ করা শ্রমিকরা নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন। তাদের কোমর, হাঁটু ও পিঠে আঘাত লেগেছে।


আহত শ্রমিকদের একজন জানান, দুপুরে ঢালাই কাজ শুরু হয়। বিরতির পর আবার কাজ চলছিল। এ সময় প্রায় ১৫ জন শ্রমিক ছিলেন, তাদের মধ্যে অন্তত ১০ জন আহত হন, যাদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা গুরুতর।


এ বিষয়ে এক শ্রমিক জানান, “আমি প্রায় ১০ বছর যাবৎ এ ধরনের নির্মাণকাজের সাথে যুক্ত। কিন্তু কখনও বৃষ্টির মধ্যে ছাদ ঢালাই করতে দেখিনি। কাজটি অত্যন্ত নিম্নমানেরভাবে পরিচালিত হচ্ছিল। ইঞ্জিনিয়ার স্যার কী ভেবে বৃষ্টির মধ্যে ছাদ ঢালাই করতে বলেছে, আমার জানা নেই।”


দুর্ঘটনার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. আশরাফুল আলম এবং প্রক্টর ড. মাহবুবুর রহমান ঘটনাস্থলে পৌঁছান।


বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মাহবুবুর রহমান জানান, “চার থেকে ছয়জন শ্রমিক আহত হয়েছেন, একজনের অবস্থা বেশ গুরুতর। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।”


বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের পরিচালক প্রকৌশলী মো. হাফিজুর রহমান জানান, "ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন (১ম সংশোধিত) প্রকল্পের আওতায় নির্মিতব্য হলের পোর্চের ঢালাই চলাকালে এই দুর্ঘটনা ঘটে।"


দুর্ঘটনা তদন্তে ছয় সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রক্টর ড. মাহবুবুর রহমানকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। সদস্যরা হলেন-ড. মো. বখতিয়ার উদ্দিন, ড. মো. আশরাফুল আলম, মো. অলি উল্লাহ, সৈয়দ মোফাছিরুল ইসলাম এবং সদস্য-সচিব প্রকৌশলী মো. মাহবুবুল ইসলাম। কমিটিকে পাঁচ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    জাবিপ্রবিতে ইইই বিভাগের কর্মশালা অনুষ্ঠিত

    ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
    ৩১ জুলাই, ২০২৫ ২০:৪০
    ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
    জাবিপ্রবিতে ইইই বিভাগের কর্মশালা অনুষ্ঠিত

    জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবিপ্রবি) ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের উদ্যোগে “The Evolving Landscape of EEE: Career Trends, Key Skills, and Global Opportunities” শীর্ষক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। 


    শনিবার (৩১ জুলাই ২০২৫) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের সভাকক্ষে এই কর্মশালা আয়োজিত হয়৷ 


    ইইই বিভাগের চেয়ারম্যান মো. সিজার রহমানের সভাপতিত্বে প্রভাষক আমিমুল ইসলামের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান এবং বিশেষ অতিথি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন উপস্থিত ছিলেন৷


    কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাবেক SREDA এর সহকারী পরিচালক ও EEE Academy by Rony Pervej এর প্রতিষ্ঠাতা মো. পারভেজুল ইসলাম। এতে বিভাগের শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। যেখানে আধুনিক ক্যারিয়ার ট্রেন্ড, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।


    কর্মশালায় বক্তারা বলেন, বর্তমান যুগে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং পেশাজীবীদের জন্য বিশ্বব্যাপী বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের শুধু একাডেমিক জ্ঞান নয়, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও উদ্ভাবনী চিন্তাশক্তি অর্জন করতে হবে।

    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      রাকসু থেকে উঠে এসে যারা দিয়েছেন জাতীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব

      ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
      ৩১ জুলাই, ২০২৫ ২০:৩০
      ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
      রাকসু থেকে উঠে এসে যারা দিয়েছেন জাতীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব

      দীর্ঘ ৩৫ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচন। ফলে নতুন নেতৃত্বের দিকে মুখিয়ে আছেন শিক্ষার্থীরা। এরইমধ্যে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে ছাত্রসংগঠনগুলো।


      রাকসু শুধু শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের সংগঠন নয়, এটি দেশের জাতীয় রাজনীতিতে নেতৃত্ব গঠনের একটি সংগঠন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১৯৬০–৮০ দশকে রাকসুর মাধ্যমে যারা উঠে এসেছেন পরে তাদের মধ্য থেকে অনেকেই নেতৃত্ব দিয়েছেন জাতীয় রাজনীতিতে।


      রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার তিন বছর পর প্রথম ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয় ১৯৫৬-৫৭ মেয়াদে। তখন এই সংসদের নাম ছিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (রাকসু)। ১৯৬২ সালে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ রাকসু নামে যাত্রা শুরু করে। এরপর ১৬ বার নির্বাচনের আয়োজন করা হয়েছে।


      ১৯৮৯ সালে রাকসুর সর্বশেষ নির্বাচন হলেও তার আগের কয়েক দশকে এখান থেকে উঠে এসেছেন বর্তমান জাতীয় রাজনীতির বেশ কয়েকজন পরিচিত মুখ। ইতিহাসের পাতায় তারা রাকসুতে যেভাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন, ঠিক তেমনই দৃঢ় ভূমিকা রেখেছেন জাতীয় রাজনীতির মঞ্চেও।


      রাকসু থেকে উঠা এসে পরবর্তীতে জাতীয় রাজনীতিতে ভুমিকা রেখেছেন এমন কয়েকজনের পরিচিতি নিম্নরূপ:


      ১. আবু সাইয়িদ

      ১৯৬৫-৬৬ শিক্ষাবর্ষে রাকসুর ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন আবু সাইয়িদ। মুক্তিযুদ্ধ পূর্ব সময়ে রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। স্বাধীনতার পর তিনি তথ্য প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সংসদ সদস্যও ছিলেন।


      ২. নুরুল ইসলাম ঠান্ডু

      তিনি ৭৩-৭৪ মেয়াদে রাকসুর ভিপি ছিলেন। পরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন এবং তার নিজ এলাকায় এমপি পদপ্রার্থী ছিলেন।


      ৩. ফজলুর রহমান পটল

      তিনি ১৯৭৪-৭৫ সালে রাকসু ভিপি ছিলেন। পরে জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে বিএনপির সাংসদ নির্বাচিত হন। ছাত্রজীবন থেকে তিনি রাজনীতিতে প্রতিভাবান ছিলেন।


      ৪. শামসুল হক টুকু

      সত্তরের দশকে রাকসুর জিএস ছিলেন বর্তমান আওয়ামী লীগ নেতা শামসুল হক টুকু। তিনি জাতীয় সংসদের সদস্য এবং সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।


      ৫. ফজলে হোসেন বাদশা

      ১৯৮০-৮১ শিক্ষাবর্ষে রাকসুর ভিপি ছিলেন তিনি। বাম রাজনীতির এই প্রবীণ নেতা বর্তমানে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক এবং আওয়ামী লীগের সাথে জোট নির্বাচনে অংশ নিয়ে রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন।


      ৬. রুহুল কবির রিজভী

      ১৯৮৯-৯০ সালে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ রাকসু নির্বাচনে ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন রিজভী। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পালনের পর কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল 

      (বিএনপি) সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র।


      ৭. রুহুল কুদ্দুস বাবু

      ১৯৮৯-৯০ সালের একই নির্বাচনে জেনারেল সেক্রেটারি (জিএস) পদে নির্বাচিত হন রুহুল কুদ্দুস বাবু। পরে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) রাজনীতিতে যুক্ত হন তিনি।


      ৮. নূরুল ইসলাম বুলবুল

      তিনি ১৯৯০ সালে রাকসু নির্বাচনে শহীদ শামসুজ্জোহা হলের জিএস নির্বাচিত হন। পরে বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি নির্বাচিত হোন এবং বর্তমানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নির্বাচিত আমীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সর্বোচ্চ ফোরাম কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর ৩ আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী।


      বিশ্ববদ্যালয় সূত্র জানায়, রাকসু নির্বাচন আগমাী ১৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। সোমবার (২৮ জুলাই) রাবির সিনেট ভবনে নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করেন রাকসুর নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক এনামুল হক।


      ঘোষণা অনুযায়ী, ৩১ জুলাই আচরণবিধি প্রকাশ, ৬ আগস্ট খসড়া ভোটার তালিকা, ৭ ও ১০-১২ আগস্ট ভোটার তালিকায় আপত্তি গ্রহণ ও নিষ্পত্তি, ১৪ আগস্ট চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।


      ১৭-১৯ আগস্ট মনোয়নপত্র বিতরণ, ২১ ও ২৪-২৫ আগস্ট মনোনয়নপত্র দাখিল, ২৭-২৮ আগস্ট মনোনয়নপত্র বাছাই, ৩১ আগস্ট প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ, ২ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার, ৪ সেপ্টেম্বর প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা এবং, ১৫ সেপ্টেম্বর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।


      শিক্ষার্থীরা বলছেন, জাতীয় নেতৃত্ব গঠনের এই ঐতিহাসিক প্ল্যাটফর্মটি ৩৫ বছর পর আবারও সক্রিয় হচ্ছে। এতে গণতান্ত্রিক চর্চা বাড়বে। পাশাপাশি ভবিষ্যতের নেতৃত্বও গড়ে উঠবে এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।


      এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বলছেন, জাতীয় নেতৃত্ব গঠনের এই ঐতিহাসিক প্ল্যাটফর্মটি ৩৫ বছর পর আবারও সক্রিয় হচ্ছে ফলে একদিকে যেমন গণতান্ত্রিক চর্চা বাড়বে, অন্যদিকে ভবিষ্যতের নেতৃত্বও গড়ে উঠবে এই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।


      বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মেহেদী সজীব বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কেন্দ্রীয় প্লাটফর্ম হিসেবে রাকসু কাজ করলেও এর একটি জাতীয় আবেদন রয়েছে। দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতোপূর্বেও রাকসুর নেতৃবৃন্দ গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করে ছিলো। রাকসু বাস্তবায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়, সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে পলিটিক্যাল আউটপুট পাওয়ারও সম্ভাবনা তৈরি হবে। আর তাই জাতীয় নেতৃত্ব তৈরির সূতিকাগার হতে পারে রাকসু।


      রাকসু নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, রাকসু ছিল এমন এক প্ল্যাটফর্ম, যা তরুণদের চিন্তা-ভাবনা, বক্তৃতা ও নেতৃত্বের ব্যতিক্রমী ক্ষেত্র তৈরি করত। রাকসুতে যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন, পরবর্তীকালে জাতীয় সংসদ, মন্ত্রিসভা বা দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে তাদের বিচরণ লক্ষণীয়।


      তবে দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে রাকসুর নির্বাচন না হওয়ায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এখন এমন নেতৃত্ব সৃষ্টির সুযোগ হারাচ্ছেন। নতুন প্রজন্মের অনেকেই রাকসুর নাম জানলেও, তার ইতিহাস ও গৌরব গাঁথা জানেন না। তবে আশার দিক রাকসু নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। 

      ফলে ৩৫ বছর পর চালু হচ্ছে রাকসু। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আরেকটু সময় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণের মাধ্যমে রাকসু নির্বাচন দিতে পারলে রাকসু হয়ে উঠবে সকল শিক্ষার্থীর প্রাণকেন্দ্র।


      প্রাসঙ্গিক
        মন্তব্য

        ‘রতন সরকার স্মৃতি পদক’ পেলেন উপকূলের সাংবাদিক তারিক লিটু

        নিজস্ব প্রতিবেদক
        ৩১ জুলাই, ২০২৫ ২০:১৯
        নিজস্ব প্রতিবেদক
        ‘রতন সরকার স্মৃতি পদক’ পেলেন উপকূলের সাংবাদিক তারিক লিটু

        সাংবাদিকতা শুধু খবরের পেছনে ছোটা নয় এটি দায়িত্ব, সাহস, সময়ের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করার একটি লড়াই। সেই লড়াইয়ে নিরন্তর সংগ্রাম করে, প্রান্তিক জনপদের বাস্তবতা তুলে ধরে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে নির্ভীকভাবে কলম চালিয়ে ‘চারণ সাংবাদিক রতন সরকার স্মৃতি পদক–২০২৪’ অর্জন করেছেন তরুণ সাংবাদিক তারিক লিটু।


        জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে বুধবার সন্ধ্যায় আয়োজিত এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে তারিক লিটুর হাতে এ সম্মাননা তুলে দেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ)-এর ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফর। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্টজনেরা বলেন, “তারিক লিটু শুধু একজন সাংবাদিক নন, তিনি মফস্বল সাংবাদিকতার এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবির সাহস, সততা ও দায়বদ্ধতার নাম।”


        বর্তমানে ইংরেজি দৈনিক লিবার্টি নিউজ-এর বার্তা সম্পাদক হিসেবে কর্মরত তারিক লিটু এর আগে দেশের প্রথম সারির গণমাধ্যম সমকাল, জাগো নিউজ, যায়যায়দিনসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানে সাংবাদিকতা করেছেন। তার প্রতিবেদনের মূল বিষয়বস্তু ছিল দুর্নীতি, প্রশাসনিক অনিয়ম, পরিবেশ ধ্বংস ও ভূমি দখলের মতো গুরুতর ইস্যু।


        গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে এসে সাংবাদিকতায় যুক্ত হন তারিক লিটু। ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠা করেন গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব। এরপরে নিজ এলাকায় খুলনার উপকূলবর্তী কয়রা উপজেলায় তৈরি করেন ‘কয়রা সাংবাদিক ফোরাম’। ছাত্রজীবনে সাংবাদিকতার সূচনা হলেও পেশাগতভাবে নিজেকে তুলে ধরেছেন একাগ্রতা, নিষ্ঠা ও নিরবচ্ছিন্ন শ্রমের মাধ্যমে।


        তারিক লিটুর সাংবাদিকতা কখনো ছিল না চেহারাভিত্তিক বা ইভেন্টনির্ভর। তিনি বরাবরই অনুসন্ধানকে গুরুত্ব দিয়েছেন। দুর্নীতিবাজ প্রভাবশালী, বনদস্যু, ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে একের পর এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে তৈরি করেছেন আলোচনার ঝড়। কখনো খুলনার কয়রায় লুটের চিত্র, কখনো উপকূলবাসীর দুর্ভোগ—তার প্রতিবেদনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল সবসময় জনস্বার্থ।


        এসব কারণে একাধিকবার তাকে হামলা ও হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে, মামলার আসামিও হতে হয়েছে। কিন্তু তিনি পিছু হঠেননি। বরং সত্য প্রকাশে আরও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়েছেন।


        তারিক লিটু শুধুই সাংবাদিক নয়, তিনি সামাজিক দায়িত্বও কাঁধে নিয়েছেন। খুলনার উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু সচেতনতা, মানবিক ত্রাণ কার্যক্রম, দুর্যোগপূর্ব প্রস্তুতি ও শিক্ষা সহায়তার বিভিন্ন উদ্যোগে সক্রিয়ভাবে যুক্ত আছেন তিনি। সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্কট এবং রাষ্ট্রীয় সহায়তার সীমাবদ্ধতা নিয়ে তিনি প্রতিবেদন যেমন করেছেন, তেমনি মাঠেও থেকেছেন।



        সম্মাননা গ্রহণের প্রতিক্রিয়ায় তারিক লিটু বলেন,

        "এই পদক শুধু আমার একার নয়, দেশের হাজারো মফস্বল সাংবাদিকের; যারা প্রতিদিন প্রতিকূলতার মধ্যে থেকেও কলম ধরে রাখেন। আমি বিশ্বাস করি, সাংবাদিকতা হবে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে, যেকোনো মূল্যে।” তিনি আরও বলেন, “আমরা যারা মাঠে কাজ করি, আমাদের সত্য বলার সুযোগ তৈরি করে দেওয়া দরকার। তাহলে রাষ্ট্রও উপকৃত হবে, সমাজও লাভবান হবে।”


        প্রাসঙ্গিক
          মন্তব্য

          নোবিপ্রবি উপাচার্যের সাথে তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহযোগীর সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত

          ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
          ৩১ জুলাই, ২০২৫ ২০:১৫
          ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
          নোবিপ্রবি উপাচার্যের সাথে তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহযোগীর সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত

          নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী জনাব ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যবের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করেছেন।


          আজ বুধবার (৩০ জুলাই ২০২৫) ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে উভয়ের মাঝে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। 


          সাক্ষাতকালে উপাচার্য প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারীকে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ আইটি ইনকিউবেশন সেন্টার নোবিপ্রবির নিকট হস্তান্তর করার অনুরোধ জানান। এছাড়াও উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ক্ষেত্রে অগ্রগতি সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করেন এবং তথ্য, প্রকৌশল ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ক্ষেত্রে তাঁর সহযোগিতা কামনা করেন। 


          এ সময় তিনি নোবিপ্রবি উপাচার্যকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহায়তার আশ্বাস প্রদান করেন।


          প্রাসঙ্গিক
            মন্তব্য
            সর্বশেষ সংবাদ
              সর্বাধিক পঠিত