ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩
 
শিরোনাম

সাত উপাচার্যের অংশগ্রহণে গোবিপ্রবি'র নবম ব্যাচের শিক্ষা সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
৩০ জুলাই, ২০২৫ ২০:১
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
সাত উপাচার্যের অংশগ্রহণে গোবিপ্রবি'র নবম ব্যাচের শিক্ষা সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) নবম ব্যাচের (নবনীতক ৯) শিক্ষার্থীদের নিয়ে শিক্ষা সমাপনী-২০২৪ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থীদের বিদায় বেলায় এক মঞ্চে আসীন হন বাংলাদেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতিমান সাতজন উপাচার্য।


আজ বুধবার দুপুর ১২টায় একাডেমিক ভবন প্রাঙ্গণে আনন্দঘন পরিবেশে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখর ছাড়াও অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণকারী উপাচার্যবৃন্দ হলেন- ১. কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলী, ২. খুলনা কৃষি বিশ্বিবদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল আহসান, ৩. শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী, ৪. পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল ইসলাম, ৫. পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল আওয়াল, ৬. রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আতিয়ার রহমান ও ৭. শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুসলেহ উদ্দিন তারেক।


এক মঞ্চে একই সঙ্গে এতোজন উপাচার্যকে পেয়ে সমাপনী ব্যাচসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষার্থীরাও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথিরি বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখর অভ্যাগত উপাচার্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এসময় অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখর বলেন, শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা দেয়ার জন্যই আমাদের এই প্রয়াস। একই সঙ্গে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি তুলে ধরাও আমাদের লক্ষ্য। আমরা জানিয়ে দিতে চাই, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চায় এবং অচিরেই দাঁড়াবেই। আমরা ইতোমধ্যে ইউজিসির দুটি হিট প্রজেক্ট পেয়েছি এবং ভবিষ্যতে আরো প্রজেক্ট পাবো। আমরা আশা করছি, বি ক্যাটাগরি থেকে আগামী অর্থবছরের আগেই আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়টি এ ক্যাটাগরিতে উন্নীত হবে।


বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলী বলেন, এভাবে একসঙ্গে পুরো সেশনের শিক্ষা সমাপনী আয়োজনের আইডিয়াটি অত্যন্ত চমৎকার। এতে করে একটি ব্যাচের একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে প্রবেশ ঘটে। যেখানে সবার একসঙ্গে পরীক্ষা হয়, রেজাল্ট প্রকাশ হয় এবং কোনো সেশন জট থাকে না। আমি এই আইডিয়াটি আমার নিজ বিশ্ববিদ্যালয়েও বাস্তবায়নের চেষ্টা করবো।


খুলনা কৃষি বিশ্বিবদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল আহসান বলেন, আমরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যগণ এখানে এসেছি সংহতি জানানোর জন্য। আমি নবম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের জীবনে সফলতা কামনা করছি।


শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী, শিক্ষার্থীদের বিসিএস দেয়া, বিভিন্ন সেক্টরে কাজ করা বা ব্যবসা করার লক্ষ্য থাকে। তবে জীবনে কোনো না কোনো কিছু করতেই হবে। এক্ষেত্রে অবসর বলে কোনো শব্দ থাকে না।


পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, আমি যখন দেশের বাইরে পড়াশোনা করতাম, তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে আমি কখনোই দেখিনি। আর বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্চে কখনো একসাথে সাতজন উপাচার্যকেও বসতে দেখিনি; যা অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখর করে দেখিয়েছেন।

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল আওয়াল বলেন, আমরা যদি আন্তর্জাতিক পরিপ্রেক্ষিতে চিন্তা করি, আমাদের চাকরি খোঁজার পাশাপাশি এমন কিছু করার মানসিকতা রাখতে হবে, যা দেশ ও জাতির জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে।


রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আতিয়ার রহমান বলেন, শিক্ষা সমাপনী মানেই সব সম্পর্ক ছিন্ন করা নয়। বিশ্বে এমন অনেক নজির আছে, যেখানে এলামনাই থেকে ভাইস চ্যান্সেলর নিয়োগ হয়েছে। তাই নিজেকে বিস্তৃত পরিসরে মেলে ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখ উজ্জ্বল করার দায়িত্ব নিতে হবে।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুসলেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, নিজকে চেনাই সবচেয়ে বড়ো শিক্ষা। আর শিক্ষার্থীদের কর্মজীবনই বলে দেবে তারা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে কতোটা জ্ঞান অর্জন করেছে।  


অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসান বলেন, একসঙ্গে এতোজন ভাইস চ্যান্সেলরকে পেয়ে আমরা অনেক সম্মানিত বোধ করছি।

এ সময় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাজমুল আহসান বলেন, শিক্ষার্থীরা কখনো চলে যায় না। মাতৃসম প্রতিষ্ঠানে তাদের অবস্থান সবসময়ই থাকে।

এর আগে জুলাই শহিদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অনুষদের ডিন, রেজিস্ট্রার, বিভাগীয় সভাপতি ও প্রাধ্যক্ষগণ, প্রক্টর, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক, দপ্তর প্রধানগণ, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।


এছাড়াও শিক্ষা সমাপনী উপলক্ষে আজ বুধবার ছাত্রদের কালার ফেস্ট ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা এবং আগামীকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় একটি কনসার্টের আয়োজন করা হয়েছে।


প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য

দ্রুত চাকসুর তফসিল ঘোষণার দাবি

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
৩০ জুলাই, ২০২৫ ১৯:১
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
দ্রুত চাকসুর তফসিল ঘোষণার দাবি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) দ্রুত তফসিল ঘোষণার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা।


বুধবার (৩০ জুলাই) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।


মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা ‘হয় মোদের চাকসু দে, নইলে গদি ছাইড়া দে’, ‘ডাকসু হলো, রাকসু হলো, চাকসু কেন থেমে গেল’, ‘চাকসু মোদের অধিকার, রুখে দেওয়ার সাধ্য কার’—এমন স্লোগান দেন। 


বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের (বাগছাস) কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক ও নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থী খান তালাত মাহমুদ রাফি বলেন, “দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এরইমধ্যে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষিত হলেও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে। আমরা এতদিন রোডম্যাপ চেয়েছিলাম, এখন আর রোডম্যাপ নয়—তফসিল চাই।”


তিনি আরো বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল সমস্যার একমাত্র সমাধান হচ্ছে সক্রিয় ছাত্র সংসদ। তাই আগামী আগস্টের প্রথম সপ্তাহে তফসিল এবং সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে নির্বাচন চাই।”


আইন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন রিয়াদ বলেন, “জুলাই মাসে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ হওয়ার ঘটনাগুলো আমাদের জানা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন শিক্ষার্থীও সে সময় শহীদ হয়েছিলেন। এই বিশ্ববিদ্যালয়েই সবার আগে চাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার কথা ছিল, কিন্তু এখনও কোনো অগ্রগতি নেই। অথচ ডাকসু, রাকসু, জাকসুর তফসিল ঘোষণা হয়েছে।”


তিনি আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে আগামী ১ আগস্ট সিন্ডিকেট সভায় চাকসুর নীতিমালা অনুমোদনের বিষয়টি চূড়ান্ত হবে। এরপর আগস্টের প্রথম সপ্তাহেই তফসিল ঘোষণার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। “যদি তা না হয়, তাহলে আমরা দুর্বার ছাত্রআন্দোলনের দিকে যাব,” বলেন তিনি।


এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন বলেন, “আগামী ১ আগস্ট সিন্ডিকেট সভায় চাকসুর নীতিমালা চূড়ান্ত হলে নির্বাচন কমিশনার তফসিল ঘোষণা করবেন।”

প্রাসঙ্গিক
    মন্তব্য

    কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ গঠনে কমিটি গঠন

    ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
    ৩০ জুলাই, ২০২৫ ১৪:২৬
    ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
    কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ গঠনে কমিটি গঠন

    কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (কুকসু) প্রতিষ্ঠার দাবির প্রেক্ষিতে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণের লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।  


    ২৯ জুলাই ( মঙ্গলবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে কমিটি গঠনের বিষয়টি জানানো হয়। 


    শিক্ষার্থীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট কমিঠি গঠন করা হয়। গঠিত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যপক ড. এম. এম. শরীফুল করীম এবং সদস্য সচিব হিসেবে আছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা ও গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ আবদুল্লাহ আল মাহবুব। 


    কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মুহম্মদ আহসান উল্যাহ, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিজয়-২৪ হলের প্রভোস্ট ড. মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান খান, একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও সহকারী প্রক্টর মুতাসিম বিল্লাহ।


    উল্লেখ্য, এই কমিটি আগামী ৩ মাসের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের নিকট সুপারিশসহ প্রতিবেদন দাখিল করবে।


    প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      স্বীকৃতি পেলো বাঙলা কলেজের ‘শহীদ সাগর ছাত্রাবাস’

      ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
      ৩০ জুলাই, ২০২৫ ১৩:৫৭
      ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
      স্বীকৃতি পেলো বাঙলা কলেজের ‘শহীদ সাগর ছাত্রাবাস’

      সরকারি বাঙলা কলেজের নবনির্মিত ছাত্রাবাসের নামকরণ করা হয়েছে ‘শহীদ সাগর ছাত্রাবাস’। সোমবার (২৮ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সরকারি কলেজ-৪ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।


      ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হওয়া শিক্ষার্থী সাগরের স্মৃতি রক্ষার্থে নবনির্মিত ছাত্রাবাসের নামকরণ শহীদ সাগরের নামে করার দাবিতে বার বার আবেদন করেছিলেন সরকারি বাঙলা কলেজের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের একাধিক দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কলেজ প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে।


      এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সরকারি বাঙলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো: কামরুল হাসান বলেন, “এই নামকরণ কেবল একটি আবাসনের নাম নয়, এটি একটি আদর্শের প্রতীক। সাগরের মৃত্যু আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, ন্যায়ের জন্য প্রতিবাদ কখনো বৃথা যায় না। শহীদ সাগর আমাদের প্রতিষ্ঠানের গর্ব, আমাদের বাংলাদেশের গর্ব। সাগর আমাদের মাঝে অমর হয়ে থাকবেন চিরকাল।”


      নামকরণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, “সাগরের সহপাঠী এবং কলেজের অন্যান্য শিক্ষার্থীরা আমাদের কাছে আবেদন করেছিলো নতুন ছাত্রাবাসটা যেনো সাগরের নামে হয়। তার প্রেক্ষিতে কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলে আমরা প্রস্তাব উত্থাপন করি। সেই প্রস্তাব একাডেমির কাউন্সিলে পাশ হলে আমরা যথাযথ কর্তৃপক্ষ বরাবর আবেদন করি। দীর্ঘদিন পর সরকারি বাঙলা কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আশা পূর্ণ হয়েছে; মন্ত্রণালয় কর্তৃক আমাদের নতুন ছাত্রাবাসের নাম ‘শহীদ সাগর ছাত্রাবাস’ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত হয়েছে। আজ আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।”


      উল্লেখ্য, বিগত ২০২৪ সালের ১৯শে জুলাই(শুক্রবার), বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন মিরপুর-১০ গোলচত্বরে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন সরকারি বাঙলা কলেজের শিক্ষার্থী মো: সাগর। তিনি কলেজটির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক(সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যায়নরত ছিলেন। সাগরের নিজ বাড়ি রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার বিলটাকাপোড়া গ্রামে। 


      সাগরের মৃত্যু শিক্ষার্থীদের মাঝে গভীর ক্ষোভ ও বেদনার জন্ম দেয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে দাবি ওঠে—নতুন ছাত্রাবাস যেন তার নামে নামকরণ করা হয়, যাতে তার আত্মত্যাগ অমর হয়ে থাকে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তাকে মনে রাখে একজন সংগ্রামী ছাত্র হিসেবে।


      প্রতীকী কর্মসূচী হিসেবে ২০২৪ সালের ৭ই আগস্ট শিক্ষার্থীরা নবনির্মিত ছাত্রাবাসের সম্মুখে ‘শহীদ সাগর ছাত্রাবাস’ লেখা নামফলক স্থাপন করে।


      মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তকে শিক্ষার্থীরা নিজেদের একটি তাৎপর্যপূর্ণ জয় হিসেবে দেখছেন। শহীদ সাগরের এক সহপাঠী বলেন, “সাগরের নামে হলের নামকরণ আমাদের সম্মিলিত দাবির বাস্তব প্রতিফলন। এটি শুধু একজন শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নয়, বরং বৈষম্যের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের লড়াইয়ের স্বীকৃতিও বটে।”


      এই নামকরণের মধ্য দিয়ে সরকারি বাঙলা কলেজের ইতিহাসে একজন বিপ্লবীর নাম স্থায়ীভাবে যুক্ত হলো; যিনি বৈষম্যের বিরুদ্ধে আমৃত্যু লড়াই করে প্রমাণ করেছেন, ছাত্রসমাজ কখনো অন্যায়ের সাথে আপোষ করে না। 

      এস এম মঈন, সরকারি বাঙলা কলেজ প্রতিনিধি

      প্রাসঙ্গিক
      মন্তব্য

      ছাত্র সংসদ না থাকলে রাজনীতি পেশিশক্তির হাতে চলে যাবে : নূরুল হক

      ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
      ২৯ জুলাই, ২০২৫ ২১:৪৫
      ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
      ছাত্র সংসদ না থাকলে রাজনীতি পেশিশক্তির হাতে চলে যাবে : নূরুল হক

      ছাত্র সংসদ না থাকলে রাজনীতি পেশিশক্তির হাতে চলে যাবে মন্তব্য করে জাতীয় নির্বাচনের আগে ছাত্রসংসদ নির্বাচন দেবার আহবান জানিয়েছেন গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূর।


      মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) দুপুরে কবি নজরুল সরকারি কলেজে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে কলেজ ছাত্র অধিকার পরিষদ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। 


      নূরুল হক নূর বলেন, অনেক রাজনৈতিক দল মুখে সংস্কারের কথা বললেও অন্তরে ফ্যাসিবাদ লালন করছে।


      নূর আরো বলেন, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ কমিশনগুলো স্বাধীনভাবে পরিচালনা করতে হবে, নইলে প্রশাসনে দুর্নীতি কখনও কমবে না। সরকারি চাকরিতে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নিয়োগ এবং শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার বাস্তবায়নের দাবিও জানান তিনি।


      বর্তমান সরকার প্রধানের বিশ্বজুড়ে খ্যাতি থাকলেও গত ১ বছরে দেশে বাস্তব কোন পরিবর্তন আসেনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


      অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা বলেন, শুধু আবু সাঈদ নয়, তার মতো সব শহিদদেরই রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিতে হবে। এছাড়া শহিদদের পরিবার থেকে দ্রুত বিচারের দাবি জানানো হয়।


      কবি নজরুল কলেজ ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি নাহিদ হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসান, গণ অধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদের সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ প্রমুখ।


      মন্তব্য
      সর্বশেষ সংবাদ
        সর্বাধিক পঠিত